শিরোনাম
Loading latest headlines...

শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০

প্রশ্নঃ মরণাপন্ন ব্যক্তির কাছে উপস্থিত ব্যক্তির করণীয় কি? আর মরণাপন্ন ব্যক্তির নিকট সূরা ইয়াসিন পড়া কি সুন্নাতসম্মত?

শুক্রবার, অক্টোবর ০২, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
উত্তরঃ

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। সমস্ত প্রশংসা মহান রব্বুল আলামীনের জন্য, দরূদ এবং সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবীর প্রতি, তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি এবং সকল ছাহাবীর প্রতি। রোগী দেখতে যাওয়া মুসলিমদের পারস্পরিক অধিকার। আর যে রোগী দেখতে যাবে, তার জন্য উচিৎ হবে রোগীকে তওবা, যরূরী অছিয়ত এবং সর্বদা আল্লাহ্‌র যিক্‌র করার কথা স্বরণ করিয়ে দেওয়া। কেননা রোগী এ সময় এ জাতীয় বিষয়ের খুব বেশী মুখাপেক্ষী থাকে। অনুরূপভাবে রোগী যদি মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তার কাছে উপস্থিত ব্যক্তি যদি নিশ্চিত হয় যে, তার মৃত্যু এসে গেছে, তাহলে তার উচিৎ তাকে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ পড়ার কথা স্বরণ করিয়ে দেওয়া, যেমনটি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন।[1]

সে শুনতে পায় এমন শব্দে তার নিকট আল্লাহ্‌র যিকর করবে। ফলে সে স্মরণ করবে এবং আল্লাহ্‌র যিকর করবে। বিদ্বানগণ বলেন, মুমূর্ষু ব্যক্তিকে লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ পড়ার জন্য আদেশ করা উচিৎ নয়। কেননা তার মনটা ছোট হয়ে যাওয়া এবং তার এই কঠিন অবস্থার কারণে সে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলতে অস্বীকার করে বসতে পারে। আর অস্বীকার করে বসলেই তার শেষ ভাল হবে না। সেজন্য তার শয্যাপাশে লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ পড়ে তাকে এই কালিমা স্বরণ করাবে। [অর্থাৎ তাকে বলবেনা যে, হে অমুক! লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ পড়]।

এমনকি বিদ্বানগণ বলেছেন, যদি তাকে স্বরণ করিয়ে দেওয়ার পর সে স্বরণ করে এবং ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ পড়ে, তাহলে তখন চুপ হয়ে যাবে এবং তার সাথে আর কোনো কথা বলবে না- যাতে দুনিয়াতে তার সর্বশেষ কথাটি হয় ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’। কিন্তু মুমূর্ষু ব্যক্তি যদি তারপর আবার অন্য কোন কথা বলে ফেলে, তাহলে আবার তাকে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ স্বরণ করাবে- যাতে তার শেষ কালেমাটি হয় ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’।

আর মরণাপন্ন ব্যক্তির নিকট সূরা ইয়াসীন তেলাওয়াতকে অনেক বিদ্বান সুন্নাত বলেছেন। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা মরণাপন্ন ব্যক্তির নিকট সূরা ইয়াসীন পড়’।[2] তবে কেউ কেউ হাদীছটি যঈফ বলেছেন। সুতরাং যার দৃষ্টিতে হাদীছটি ছহীহ, তার নিকট সুরা ইয়াসীন পড়া সুন্নাত। পক্ষান্তরে যার দৃষ্টিতে হাদীছটি যঈফ, তার নিকট সূরাটি পড়া সুন্নাত নয়।[3]


[1]. ইমাম মুসলিম আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু রোগীদেরকে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ স্বরণ করাও’ (‘জানাযা’ অধ্যায়, হা/৯১৬)।

[2]. আবু দাঊদ, ‘জানাযা’ অধ্যায়, হা/৩১২১; ইবনু মাজাহ, ‘জানাযা’ অধ্যায়, হা/১৪৪৮; আহমাদ, ৫/২৬, ২৭।

[3]. হাদীছটিকে ইমাম আলবানী ‘যঈফ’ বলেছেন (আলবানী, সুনানে আবূ দাঊদ, ‘জানাযা’ অধ্যায়, হা/৩১২১)। তিনি ‘ইরওয়াউল গালীল’-এ বলেছেন, হাদীছটিতে তিনটি ত্রুটি রয়েছে: ১. (হাদীছটির একজন বর্ণনাকরী) আবূ উছমান ‘মাজহূল’ বা অপরিচিত, ২. তার পিতাও ‘মাজহূল এবং ৩. হাদীছটিতে ‘ইযত্বিরাব’ রয়েছে (৩/১৫১, হা/৬৮৮)। সেজন্য শায়খ ইবনে বায (রহেমাহুল্লাহ)কে এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, হাদীছটিতে যেহেতু একজন ‘মাজহূল’ বা অপরিচিত বর্ণনাকারী রয়েছে, সেহেতু মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট সূরা ইয়াসীন তেলাওয়াত করা উত্তম নয়। অবশ্য তার নিকট পবিত্র ক্বুরআন পড়া ভাল। কিন্তু সূরা ইয়াসীনকে নির্দিষ্ট করে নেওয়ার কোন যুক্তি নেই (মাজমূউ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৩/৯৫)।–অনুবাদক।





সূরা ফাতিহা পড়ে অন্য সূরা পড়ার সময় কিছু অংশ ভুল পড়ে ফেলেছি এতে কি সাহূ সিজদা দিতে হবে?

শুক্রবার, অক্টোবর ০২, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

 অনেক সময় এটা আমাদের অনেকেরই হয়ত হয়ে থাকে যে সালাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর অন্য সূরা পড়ার সময় কোন এক লাইন মাঝে ছুটে গেছে বা কোন আয়াত ভুল পড়ে ফেলেছি। এখন এই ভুলের জন্য সাহু সিজদা দিতে হবে কি?

আসুন ছোট এই ভিডিওটি থেকে জেনে নিই করণীয় কি।



ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?

শুক্রবার, অক্টোবর ০২, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

 উত্তরঃ

লাঠি অথবা এজাতীয় কোনো বিষয়, যেমন ধনুক, তরবারি ইত্যাদির উপর ভর দিয়ে খুতবা দেয়া বিষয়ে শরিয়তবিদদের দুটি অভিমত রয়েছে:
প্রথম অভিমত: এরূপ করা মুস্তাহাব, মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাবের অধিকাংশ উলামা এ মতের পক্ষে গিয়েছেন।
ইমাম মালেক র. বলেন,’খুতবা দেন এমন ইমামদের জন্য এরূপ করা মুস্তাহাব। অর্থাৎ তারা লাঠিতে ভর করা অবস্থায় খুতবা দেবেন। এরূপই আমরা দেখেছি ও শুনেছি।‘ [ আল মুদাউওয়ানাতুল কুবরা :১/১৫১] মালিকি মাযহাবের পরবর্তী যুগের কিতাবপত্রে এ অভিমতকেই নির্ভরযোগ্য বলা হয়েছে। [ দেখুন: জাওয়াহেরুল ইকলীল: ১/৯৭ ও হাশিয়াতুদ্দাসুকি: ১/৩৮২ ]

ইমাম শাফেয়ি র. বলেন,’যে খুতবা প্রদান করবেন – তা যে প্রকৃতিরই হোক না কেন- তিনি  কোনো কিছুর উপর ভর দেবেন, এটাই আমার কাছে পছন্দনীয়।‘ [ আল উম্ম:১২৭২] এ বিষয়ে শাফেয়ি মাযহাবের ফতোয়া এটাই। [ দ্র: নিহায়াতুল মুহতাজ : ২/৩২৬ ও হাশিয়াতু কালয়ুবি:১/২৭২ ]

হাম্মলি মাযহাবের ইমাম বাহুতি র. বলেন,’যে কোনো হাত দিয়ে  তরবারি, ধনুক বা লাঠির উপর ভর দিয়ে খুতবা দেয়া সুন্নত।‘ [ কাশশাফুলকেনা:২/৩৬, আরো দ্র: আল ইনসাফ: ২/৩৯৭ ]

এই অভিমত যারা ব্যক্ত করেছেন তাদের কথা হল, লাঠির উপর ভর দিয়ে খুতবা দেয়া রাসূলুল্লাহ থেকে বহু হাদিসে প্রমাণিত। তন্মধ্যে একটি হল হাকাম ইবনে হাযামের হাদিসে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন (লাঠি অথবা ধনুকের উপর ভর দিয়ে খুতবা দিয়েছেন, অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করেছেন…) [ আবু দাউদ: ১০৯৬, ইমাম নববি আল মাজমু গ্রন্থে হাদিসটি হাসান বলেছেন, (৪/৫২৬) সহিহু আবি দাউদ গ্রন্থে আলবানি র. হাদিসটিকে হাসান বলে আখ্যায়িত করেছেন। অবশ্য শরিয়তবিদদের কেউ কেউ হাদিসটি যয়িফ বলেছেন। ইবনে কাছির র. ইরশাদুল ফকিহ গ্রন্থে (১/১৯৬) বলেন,’এই হাদিসের সনদটি শক্তিশালী নয়।‘

দ্বিতয় অভিমত;
এরূপ করা মাকরুহ, হানাফি মাযহাবের এটাই ফতোয়া, যদিও এ মাযহাবের কিছু ফকিহ এ মতের বিরুদ্ধে গিয়েছেন।
ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়াতে  আল মুহিতুল বুরহানি গ্রন্থের রচয়িতার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে:
খতিব যদি লাঠি অথবা ধনুকের উপর ভর দিয়ে খুতবা দেন, তবে তা জায়েজ, কিন্তু এরূপ করা মাকরুহ; কারণ তা সুন্নতের খেলাফ। [ ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া:২/৬১]

হানাফি মাযহাবের আরেকটি ফতোয়াগ্রন্থ, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়াতে এসেছে (১/১৪৮) :
ধনুক অথবা লাঠির উপর ভর দিয়ে খুতবা দেয়া মাকরুহ, খুলাসা  ও আল মুহিত গ্রন্থদ্বয়ে এরূপই এসেছে। আর যেসব দেশ যুদ্ধের মাধ্যমে জয় হয়েছে সেসব দেশে
খতিবগণ তরবারি ঝুলিয়ে খুতবা দিবে। তাহাবি গ্রন্থের ব্যাখ্যায় এরূপই রয়েছে।

ইমাম ইবনুল কাইয়েমের কথাও প্রমাণ করে যে মিন্বারে খুতবা দেয়ার সময় লাঠির উপর ভর দেয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত নয়।
তিনি বলেন:’ তিনি তরবারি বা অন্য কিছু নিয়ে খুতবা দিতেন না। মিন্বার নির্মাণের পূর্বে তিনি ধনুক অথবা লাঠির উপর ভর দিতেন। যুদ্ধের ময়দানে তিনি ধনুকের উপর ভর দিয়ে খুতবা দিতেন, আর মসজিদে লাঠির উপর। তরবারির উপর ভর দিয়ে খুতবা দিয়েছেন বলে কোনো বর্ণনায় নেই। কিছু মূর্খ লোক মনে করে থাকে যে তিনি সর্বদা তরবারির উপর ভর দিয়ে খুতবা দিয়েছেন-যা ইঙ্গিত করে যে এই দীনে-ইসলাম তরবারির দ্বারা কায়েম হয়েছে- চরম মূর্খতার ফলেই তারা এরূপ বলে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন কোনো বর্ণনা আসেনি যে তিনি তরবারি, ধনুক অথবা অন্য কিছু নিয়ে মিন্বারে উঠতেন। এমনকী মিন্বার নির্মাণের পূর্বেও যে তিনি তরবারি হাতে নিয়ে খুতবা দিয়েছেন, এ কথা কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায় না। মিন্বার নির্মাণের পূর্বে তিনি লাঠি বা ধনুকের উপর ভর দিতেন।‘ [ যাদুল মাআদ : ১/৪২৯ ]

শায়খ ইবনে উসাইমীন র. বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তরবারি, ধনুক অথবা লাঠির উপর ভর দিয়ে খুতবা দিতেন একথা প্রমাণের পক্ষে যে হাদিস উল্লেখ করা হয় তা সন্দেহযুক্ত। যদি ধরেও নিই যে হাদিসটি সহিহ, তবুও ইবনুল কাইয়েম র. বক্তব্য বিষয়টি পরিষ্কার করে দিচ্ছে। তিনি বলেছেন: মিন্বার নির্মাণের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কিছুর উপর ভর দিয়েছেন বলে কোনো বর্ণনায় আসেনি।

এর ব্যাখ্যায় বলা যায়:
কোনো কিছুর উপর ভর দেয়া প্রয়োজনের সময় হতে পারে। উদাহরণত খতিব যদি এমন দুর্বল হয় যে তাকে লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়াতে হবে, তবে সে লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়াবে। এবং এসময় তা সুন্নত বলে পরিগণিত হবে। কেননা তা দাঁড়ানোর ব্যাপারে সাহায্য করে। আর খুতবার সময় দাঁড়ানো সুন্নত। পক্ষান্তর যদি প্রয়োজন না থাকে তাহলে লাঠি বহনের আদৌ দরকার নেই। [ আশশারহুল মুমতে: ৫/৬২-৬৩ ]

শায়খ আলবানি র. ইবনুল কাইয়েম র. এর কথা সমর্থন করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দেয়ার সময় ধনুক অথবা লাঠির উপর ভর দিতেন এ কথা তিনি অস্বীকার করেছেন। [ দ্র: আসসিললাতুয যায়িফা : ৯৬৪ ]

আল্লাহই উত্তম জ্ঞানী।


– মুহাম্মাদ ছালেহ আল মুনাজ্জিদ



ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png