শিরোনাম
Loading latest headlines...
প্রশ্নোত্তর/ফাতাওয়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রশ্নোত্তর/ফাতাওয়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

প্রশ্ন: নামাজে সেজদা থেকে ওঠার সময় টুপি তুলে মাথায় দেই, তা হলে কি নামাজের কোনো ক্ষতি হবে?

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে

 


প্রশ্ন: নামাজে সেজদা থেকে ওঠার সময় মাথা থেকে টুপি পড়ে যায়। এতে আমার খুব অস্বস্তি লাগে। এই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য আমি যদি সেজদা থেকে ওঠার সময় টুপি তুলে মাথায় দেই, তা হলে কি নামাজের কোনো ক্ষতি হবে?

উত্তর: আপনার প্রশ্নটি খুবই প্রাসঙ্গিক এবং এমন সমস্যা অনেক নামাজিরই হয়ে থাকে। নামাজে একাগ্রতা বজায় রাখার জন্য এ ধরনের ছোটখাটো বিষয়গুলো জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।


আপনার ক্ষেত্রে, সেজদা থেকে ওঠার সময় বা বসা অবস্থায় যদি মাথা থেকে পড়ে যাওয়া টুপি এক হাত দিয়ে মাথায় তুলে নেন, তা হলে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না। বরং এমন পরিস্থিতিতে এক হাত ব্যবহার করে টুপি ঠিক করে নেওয়াই উত্তম। এতে আপনার অস্বস্তিও দূর হবে এবং নামাজে মনোযোগ ধরে রাখতে পারবেন।


তবে এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। টুপি ঠিক করার জন্য কখনোই দুই হাত ব্যবহার করা যাবে না। কারণ, নামাজের মধ্যে অপ্রয়োজনে দুই হাত ব্যবহার করলে তা ‘আমলে কাছির’ (বেশি নড়াচড়া) হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা নামাজ ফাসেদ বা নষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে।

অতএব, নির্দ্বিধায় এক হাত দিয়ে টুপি তুলে মাথায় দিতে পারেন, আপনার নামাজে কোনো সমস্যা হবে না।


তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি ১/১৫৭; শরহুল মুনইয়া ৪৪২-৪৪৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৮৫৬৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০৮




মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

পথ চলার আদব ও সুন্নত সমূহ পর্ব--৫

মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে
চলার আদব ও সুন্নত সমূহ



অষ্টম হক : ভালো কথা বলা_ 

পথে একে অন্যের সাথে দেখা হয়, কথা হয়। কুশলাদি বিনিময় হয়। এক্ষেত্রে  সহাস্য বদনে সুন্দরভাবে কথা বলা উচিত। কারণ, অনর্থক, অশালীন, অন্যায় কথার কারণে অনেক সময় পথে ফ্যাসাদ হয়। আর মুমিনের শানই হল ভালো কথা বলা; অন্যথায় চুপ থাকা। হাদীস শরীফে এসেছে

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ.

যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমান রাখে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। *(সহীহ বুখারী, হাদীস ৬০১৮)*

আর সবচেয়ে ভালো কথা হল, আল্লাহর দিকে মানুষকে আহ্বান করা। ভালো কাজের প্রতি আহ্বান করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন

وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِمَّنْ دَعا إِلَى اللهِ.

কথায় কে উত্তম ঐ ব্যক্তির চেয়ে, যে মানুষকে আল্লাহর প্রতি আহ্বান করে। *(সূরা হা-মীম আসসাজদাহ (৪১) : ৩৩)*
 _নবম হক : হাঁচির জবাব দেয়া_ 

সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণ এটি মুসলিমের একটি বৈশিষ্ট্য। দৈনন্দিন জীবনের মাসনূন দুআগুলো আল্লাহর স্মরণের মাধ্যম। হাঁচি আসা, এটি আল্লাহর রহমত। এর মাধ্যমে শরীর থেকে অনেক জীবাণু বের হয়ে যায়। তাই হাঁচি এলে মুমিন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলে, আলহামদু লিল্লাহ। হাদীস শরীফে একেও পথ চলার হক বলা হয়েছে। সুতরাং পথেও এ সুন্নতের প্রতি খেয়াল রাখা কর্তব্য। 
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে

إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلْيَرُدَّ عَلَيْهِ مَنْ حَوْلَهُ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ، وَلْيَرُدَّ عَلَيْهِمْ: يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ.

কেউ হাঁচি দিলে বলবে, আলহামদু লিল্লাহ। এর জবাবে আশপাশে যারা থাকবে, বলবে ইয়ারহামুকাল্লাহ। প্রতি উত্তরে হাঁচিদাতা বলবে ইয়াহদীকুমুল্লাহু ওয়া ইউছলিহু বা-লাকুম। *(সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৭১৫)*


 _দশম হক : দম্ভভরে পথ না চলা_ 

দম্ভভরে পথচলার বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। 
 রাস্তায় কাউকে পাশ না দেয়া। অন্যের চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করা। 
অন্যের যানবাহন আটকে রেখে নিজের পথ সুগম করা। 
বুক ফুলিয়ে ও মাথা উঁচু করে হাঁটা ইত্যাদি। এ সবই বর্জনীয়। 
কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন

 وَ لَا تَمْشِ فِی الْاَرْضِ مَرَحًا  اِنَّكَ لَنْ تَخْرِقَ الْاَرْضَ وَ لَنْ تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُوْلًا .

ভূপৃষ্ঠে দম্ভভরে চলো না। তুমি তো পদভারে ভূমিকে বিদীর্ণ করে ফেলতে পারবে না এবং উচ্চতায় পাহাড় পর্যন্তও পৌঁছতে পারবে না। *(সূরা বনী ইসরাঈল (১৭) : ৩৭)*

আল্লাহ তাআলা আমলের তাওফীক দান করুন। আমিন।


সোমবার, ১০ জুন, ২০২৪

নামাজের সুফল লাভের উপায়

সোমবার, জুন ১০, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে


নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর সময়ের ভিত্তিতে ফরজ করা হয়েছে

মহান আল্লাহ কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, ‘জমিন ও আসমানের সকল প্রশংসা একমাত্র তারই। অতএব তোমরা আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করো (নামাজ পড়ো) সন্ধ্যায় (মাগরিব ও এশা) ও প্রত্যুষে (ফজর) এবং বিকেলে (আসর) ও দ্বিপ্রহরে (জোহর)।’ -(সুরা আর রূম : ১৭-১৮)

নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায়
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর সময়ের ভিত্তিতে ফরজ করা হয়েছে।’ -(সুরা আন নিসা : ১০৩)

কোরআনে কারিমে আরও ইরশাদ হয়েছে,
 ‘নামাজ কায়েম করো দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের কিছু অংশে। অবশ্যই পুণ্যকাজ পাপকে দূর করে দেয়। 
যারা শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের জন্য এটি উত্তম উপদেশ।’ –(সুরা হুদ : ১১৪)


 _নামাজের মাধ্যমে হেদায়েত লাভ_ 

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কোরআন সেই মুত্তাকিদেরকে মুক্তির পথ দেখাবে যারা জীবনে নামাজ কায়েম করে।’ -(সুরা বাকারা : ২-৩)

তিনি আরও বলেন,
 ‘এটা হেদায়েত ও সুসংবাদ ওই মুমিনদের জন্য, 
যারা নামাজ কায়েম করে, 
জাকাত দেয় এবং আখেরাতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।’ -(সুরা নামল : ২-৩)

কোরআনে কারিমে আরও ইরশাদ হয়েছে,
 ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, 
জাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য করো।
 আশা করা যায়, তোমাদের ওপর রহম করা হবে।’ -(সুরা নূর : ৫৬)

সন্তানদের নামাজের নির্দেশ
হজরত আমর বিন শোয়াইব (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের সন্তানদেরকে নামাজের নির্দেশ দাও যখন তারা সাত বছরে উপনীত হয়। আর দশ বছর হলে নামাজের জন্য প্রয়োজনে প্রহার করো এবং বিছানা পৃথক করো।’ –(সুনানে আবু দাউদ : ২৭২)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে অন্য জুমা, এক রমজান থেকে অন্য রমজান কাফফারা হয় সে সব গোনাহর জন্য, যা এ সবের মধ্যবর্তী সময়ে ঘটে থাকে, যদি কবিরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।’

 _নামাজ না পড়ার পরিণতি_ 

নামাজ না পড়া কঠিন শাস্তির কারণ। 
এ ছাড়া নামাজ না পড়ার কারণে আরও যেসব শাস্তি দেওয়া হবে এর অন্যতম হলো- তার চেহারা মলিন হবে।
 আল্লাহতায়ালা বলেন, 
‘কিয়ামতের দিন তার চেহারা উদাস ও অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে, 
যে কোরআনকে মেনে নেয়নি এবং নামাজ আদায় করেনি।’ -(সুরা কিয়ামা : ৩১)

 _আখেরাতে নামাজের হিসাবই প্রথমে হবে_ 

হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে নামাজের হিসাব সর্বপ্রথম নেওয়া হবে। যদি তা সঠিক হয় তাহলে সে সফল হবে, নাজাত পাবে। আর তা যদি খারাপ হয় তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। -(সুনানে তিরমিজি)

 _ইসলাম ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী_ 

হজরত জাবির (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আনুগত্য ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ।’ –(সহিহ মুসলিম)

মানবজীবনে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম।
 কোরআন মাজিদে অন্তত বিরাশি জায়গায় নামাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
কোরআন ও হাদিস ভালোভাবে অধ্যয়ন করলে বুঝা যায়, নিম্নোক্ত ছয়টি কাজ করলে নামাজের উদ্দেশ্য সফল হয়।

১. জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়।
২. সহি-শুদ্ধভাবে নামাজ আদায়।
৩. ধীরে ধীরে নামাজ আদায়।
৪. বিনীত ও বিনম্রভাবে নামাজ আদায়।
৫. বুঝে বুঝে নামাজ আদায়।
৬. নামাজের আলোকে জীবন গড়া।

আসলে নামাজ জামাতের সঙ্গে ফরজ হয়েছে, 
একা একা নয়। যাতে সমাজে চিন্তার ঐক্য ও চরিত্রের মাধুর্য সৃষ্টি হয় এবং পারস্পরিক যোগাযোগ, 
ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। 
তাই শুধু নামাজ পড়লেই হবে না, তার শিক্ষা মেনে চলতে হবে।

(মো. লুৎফর রহমান, অতিথি লেখক, ইসলাম)


রবিবার, ২ জুন, ২০২৪

পথ চলার আদব ও সুন্নত সমূহ পর্ব-০৪

রবিবার, জুন ০২, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে
চলার আদব ও সুন্নত সমূহ



পঞ্চম হক : পথহারাকে পথ দেখিয়ে দেওয়া_ 

পথ চলতে এমন অনেক মানুষ পাওয়া যায়, যারা পথ চেনে না। এমন পথিকদের পথ দেখিয়ে দেওয়া মহৎ নেক কাজ। এর গুরুত্ব কেবল পথহারা লোকেরাই উপলদ্ধি করতে পারে।  এটিকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদাকা বলে গণ্য করেছেন। তিনি বলেছেন

وَإِرْشَادُكَ الرَّجُلَ فِي أَرْضِ الضَّلاَلِ لَكَ صَدَقَةٌ.

পথ না চেনা ব্যক্তিকে পথ দেখিয়ে দেয়া তোমার জন্য একটি সদাকা। *(জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯৫৬)*

এলাকার বাইরে থেকে কোনো লোক কোনো এলাকায় এল। সে ঠিকানা বলতে পারে বা ব্যক্তির নাম বলতে পারে, কিন্তু তার বাড়ি চেনে না বা খুঁজে পাচ্ছে না। আমি এলাকার সব চিনি, শুধু একটু আন্তরিকতা থাকলেই তাকে পেরেশানী থেকে বাঁচাতে পারি।

হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত. তিনি হযরত আবু যর রা. থেকে তাঁর ইসলাম গ্রহণের পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। সে দীর্ঘ ঘটনার মাঝে রয়েছে যে, হযরত আবু যর রা. বলেন, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পুরোপুরি খোঁজ-খবর নিতে আমি নিজেই মক্কা শহরে পৌঁছলাম। কিন্তু তাঁকে চিনলাম না। কাউকে যে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব সে সাহসও হচ্ছিল না। ফলে আমি মসজিদে বসে রইলাম। হযরত আলী রা. আমাকে দেখে বুঝলেন আমি মুসাফির। সাথে করে বাসায় নিয়ে গেলেন। পানাহারের ব্যবস্থা করলেন। কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। দ্বিতীয় দিনও তিনি আমাকে মসজিদে ঐরকম দেখতে পেলেন, ফলে আগমনের উদ্দেশ্য জানতে চাইলেন। আমি কাউকে কিছু না বলার শর্তে তা জানালাম। তিনি আমাকে বললেন

أَمَا إِنَّكَ قَدْ رَشَدْتَ، هَذَا وَجْهِي إِلَيْهِ فَاتَّبِعْنِي، ادْخُلْ حَيْثُ أَدْخُلُ.

আপনি সঠিকের সন্ধান পেয়েছেন। আমিও সেদিকেই যাচ্ছি। আপনি আমার সাথে চলুন। আমি যেখানে প্রবেশ করব আমার সাথে সাথে প্রবেশ করবেন।

অতপর হযরত আলী রা. আমাকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছে দিলেন। *(সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৫২৮)*

এ ছিল দুনিয়া ও আখেরাতের পথহারাকে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় পথের সন্ধান দান।

এ আদবের অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হল, অন্ধ, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধিদের রাস্তা পারাপারে সাহযোগিতা করা।

 
 _ষষ্ঠ হক : মযলুম ও বিপদগ্রস্তের সাহায্য করা_ 

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। অনেকসময়ই রাস্তা-ঘাটে মানুষ যুলুমের শিকার হয়। বিপদের সম্মুখীন হয়। ফলে অন্যের সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। আমি অন্যের সাহায্যে এগিয়ে গেলে আল্লাহ আমার সাহায্য করবেন। আমি অপর ভাইকে বিপদ থেকে উদ্ধার করলে আল্লাহ কিয়ামতের দিন আমাকে মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করবেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন

 الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ، وَلَا يُسْلِمُهُ، مَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ فَإِنَّ اللَّهَ فِي حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ بِهَا كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

মুসলমানগণ পরস্পর ভাই ভাই। কেউ কারো প্রতি যুলুম করে না এবং শত্রুর কাছে হস্তান্তর করে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করবে আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করবেন। যে কোনো মুসলমানের একটি কষ্ট লাঘব করবে আল্লাহ তার কেয়ামতের দিনের একটি কষ্ট লাঘব করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটিও গোপন রাখবেন। *(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৮৯৩)*

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেন, একদা পথে এক ব্যক্তির খুবই তৃষ্ণা পেয়েছিল। সে একটি কূপ দেখতে পেয়ে তাতে নামল এবং পানি পান করে উঠে আসল। তখন দেখতে পেল, একটি কুকুর তৃষ্ণার জ্বালায় জিহ্বা বের করে হাঁপাচ্ছে এবং তৃষ্ণা মেটাতে কাদামাটি খাচ্ছে। তখন লোকটি মনে মনে বলল; আমার যেমন ভীষণ তৃষ্ণা পেয়েছিল, এ কুকুরেরও ঠিক তেমনি তৃষ্ণা পেয়েছে। সে কূপে নেমে চামড়ার মোজা ভরে পানি নিয়ে এল এবং কুকুরকে পান করাল। ফলে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন

يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَإِنَّ لَنَا فِي البَهَائِمِ لَأَجْرًا؟ فَقَالَ: فِي كُلِّ ذَاتِ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرٌ.

ইয়া রাসূলাল্লাহ! গবাদী পশুর ক্ষেত্রেও কি আমাদের জন্য প্রতিদান রয়েছে? উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রত্যেক প্রাণীতেই আজর-সওয়াব রয়েছে। *(সহীহ বুখারী, হাদীস ২৪৬৬)*

হযরত আবু মাসউদ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি পথে বিপদে পড়েছি (অর্থাৎ আমার বাহন মারা গেছে), আমার জন্য একটি বাহনের ব্যবস্থা করে দিন।
 নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাকে দেওয়ার মত কোনো বাহন আমার কাছে নেই। তবে তুমি অমুকের কাছে যাও। আশা করি সে তোমাকে বাহনের ব্যবস্থা করে দিবে। অতপর সে ঐ ব্যক্তির কাছে গেল এবং সে বাহনের ব্যবস্থা করে দিল। পুনরায় সে (পথিক) নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল এবং তা জানাল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি  (যে কোনো উপায়ে) কোনো সৎকর্মের পথ দেখাবে সে ঐ সৎকর্মকারীর সমান প্রতিদান পাবে। *(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫১২৯)*

 _সপ্তম হক :- বোঝা বহনকারীকে সহযোগিতা করা_ 

রাস্তায় চলাচলকারীদের মধ্যে কেউ থাকে খালি হাতে, কারো সাথে থাকে ভারি বোঝা। ভারি বোঝা যদিও একা বহন করা যায়, কিন্তু উঠানো বা নামানোর সময় কারো না কারো সাহায্যের প্রয়োজন পড়েই। যে ব্যক্তি এ কাজে সাহায্য করে তার জন্য বোঝা বহনকারীর হৃদয় থেকে দুআ আসে, এটাই স্বাভাবিক। আর আমি আল্লাহ্র সন্তুষ্টির নিয়তে কারো মাথা থেকে ভারি বোঝা নামিয়ে দিলাম তো হতে পারে এর অছিলায় আল্লাহ আমার গোনাহের বোঝা নামিয়ে দিবেন, মাফ করে দিবেন।

মাথায় করে ভারি বোঝা বহন করা কষ্টকর। এক্ষেত্রে যদি এমন হয়, আমার বাহনে আমি কারো ভারি বোঝা বহন করে দিলাম। সেটা উঠানো-নামানোর চেয়ে আরো বেশি ফযীলতের। তেমনি আমার বাহন আছে, আরেকজনের নেই। আমার বাহনে আরেকজনকে নিতে পারি। এক ভাইয়ের সাথে দেখা হল, আমি ও সে একই দিকে যাচ্ছি। সেক্ষেত্রে যদি আমার বাহনে তাকে উঠিয়ে নেইÑ এটা হবে অনেক বড় সওয়াবের কাজ।  হাদীস শরীফে এসেছে

وَتُعِينُ الرَّجُلَ فِي دَابَّتِهِ فَتَحْمِلُهُ عَلَيْهَا، أَوْ تَرْفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ.

কোনো ব্যক্তিকে সাওয়ারীতে ওঠানো বা তার সামানা বহনে সহযোগিতা করাও একটি সদাকা। *(সহীহ বুখারী, হাদীস ২৯৮৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০০৯)*

চলবে ইনশা'আল্লাহ


শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪

কোন কোন ব্যক্তিকে শহীদ বলা যাবে, শহীদের মর্যাদা ও ফযীলত.

শুক্রবার, মে ২৪, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে

 


শহীদের পরিচয়

ইসলামে শহীদের মর্যাদা অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ। ইহা একটি ইসলামী পরিভাষা। যা কোনো সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিভাষা নয়। সুতরাং শহীদের মর্যাদা লাভের জন্য প্রথম ও প্রধান শর্ত হচ্ছে মুসলিম হতে হবে।

যদি দ্বীনের উপর অবিচল থাকার কারণে আল্লাহ পাকের কোনো বান্দা-বান্দীকে হত্যা করা হয়, অথবা দ্বীনের পথে জিহাদ ও মেহনত করতে গিয়ে কারো মৃত্যু হয়, তবে শরীয়তের পরিভাষায় তাকে শহীদ বলে। আল্লাহ পাকের দরবারে শহীদের অনেক অনেক মর্যাদা। কুরআনুল হাকিমে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ

'যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে, তাদেরকে অন্য মৃতদের মতো মনে করো না। বরং তারা বিশেষ হায়াত প্রাপ্ত এবং তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে বিভিন্ন রিযিক ও নেয়ামত প্রাপ্ত হচ্ছে।' সূরাহ আলে ইমরান, ৩/১৬৯

শহীদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে মুসলমান আল্লাহর কালেমাকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে লড়াই করবে, কেবলমাত্র সেই-ই আল্লাহর পথে লড়াই করল’ তাকে শহীদ বলা হয়। তাকে শহীদ এজন্য বলা হয় যে, সে জান্নাতে উপস্থিত হয়ে যায়। শহীদের মর্যাদায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন -

وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ ۚ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَٰكِنْ لَا تَشْعُرُونَ [٢:١٥٤

অর্থাৎ 'আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝ না।' (সূরাহ আল বাক্বারা : ১৫৩)

শহীদের মর্যাদা যে কত উর্দ্ধে ভাবতেও বুকে শিহরন ওঠে! আল্লাহু আকবার! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিম্নোক্ত হাদিসগুলোতে তার প্রমাণ পাওয়া যায়-

এক হাদীসে এসেছে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

مَا أَحَدٌ يَدْخُلُ الجَنَّةَ يُحِبُّ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، وَلَهُ مَا عَلَى الأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا الشَّهِيدُ، يَتَمَنَّى أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، فَيُقْتَلَ عَشْرَ مَرَّاتٍ لِمَا يَرَى مِنَ الكَرَامَةِ

'কোনো জান্নাতী এটা চাবে না যে, তাকে আবার দুনিয়াতে পাঠানো হোক, যদিও তাকে সারা পৃথিবীর মালিক বানিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু একজন শহীদ তাঁর জান্নাতী মর্যাদা প্রত্যক্ষ করে কামনা করতে থাকবে, তাকে অন্তত দশবার দুনিয়াতে পাঠানো হোক, যেন প্রতিবার সে শহীদ হয়ে আসতে পারে।' বুখারী, হাদীস নং ২৮১৭

স্বয়ং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শহীদী মৃত্যুর তামান্না করে ইরশাদ করেন,

وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ… لَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ، ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ، ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ

'ঐ সত্ত্বার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! আমার বড় ইচ্ছে হয়, আমি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হবো! আমাকে জীবিত করা হবে, আবার আমি নিহত হবো! পুনরায় আমাকে জিন্দা করা হবে এবং আমি আবার আল্লাহর রাস্তায় জীবন বিলিয়ে দিবো!' সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭২২৬

সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহিল আযীম! সুবহানাল্লাহি বিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আযীম! অবিহামদিহী আসতাগফিরুহূ! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজের জন্য শাহাদাতের মৃত্যু কামনা করেছেন! অথচ আমরা আজ কোথায়! আমাদের মৃত্যু থেকে পালিয়ে বাঁচার কি উদগ্র বাসনা! কি অন্যায় অভিলাষ! কি ফাঁকি দেয়ার মানসিকতা স্থান করে নিয়েছে আমাদের ঈমানের ঘরে! মরতে হবে এটা নির্ঘাত সত্য!

মরন থেকে যতই পালাও মরন তোমায় লইবে ঘিরি,

যদিও তুমি লুকাও গিয়ে আকাশ পানে লাগিয়ে সিড়ি।

যে মরন আসবেই, যে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী তাকে এত ভয় কেন? তাকে আলিঙ্গনে কেন এত দ্বিধা? কেন এত সঙ্কোচ? বরং সাহসের সাথে, ঈমানী শক্তিতে বলিয়ান হয়ে প্রতি দিনের প্রার্থনায় বরাবরই আমাদের কামনা থাকতে হবে, 'হে আল্লাহ, হে মহান দয়ালু দাতা, আপনি আমাকে শহীদের মৃত্যু দান করুন।'


আরেক হাদীসে হসেছে,

لِلشَّهِيدِ عِنْدَ اللَّهِ سِتُّ خِصَالٍ: يُغْفَرُ لَهُ فِي أَوَّلِ دَفْعَةٍ، وَيَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الجَنَّةِ، وَيُجَارُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَيَأْمَنُ مِنَ الفَزَعِ الأَكْبَرِ، وَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ تَاجُ الوَقَارِ، اليَاقُوتَةُ مِنْهَا خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، وَيُزَوَّجُ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ زَوْجَةً مِنَ الحُورِ العِينِ، وَيُشَفَّعُ فِي سَبْعِينَ مِنْ أَقَارِبِهِ

শহীদ আল্লাহ পাকের পক্ষ হতে বড়বড় ছয়টি পুরস্কার পাবে। পুরষ্কারগুলো হচ্ছে-

এক. তাকে তৎক্ষণাৎ ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং তাকে তার জান্নাতী নিবাস দেখনো হবে।

দুই. কবরের আযাব মাফ করে দেয়া হবে ।

তিন. হাশরের ময়দানে যখন ব্যতিক্রম ছাড়া সবাই সন্ত্রস্ত ও পেরেশান থাকবে, তখন আল্লাহ পাক তাকে সেই পেরেশানি ও বিভীষিকা থেকে মুক্ত রাখবেন।

চার. সেদিন তার মাথায় এমন একটি সম্মাননা মুকুট পরানো হবে, যার একেকটি হীরা ও মুক্তা দুনিয়া ও তার সব কিছু থেকে দামী হবে।

পাঁচ. স্ত্রী হিসাবে তাকে বাহাত্তর জন হুর দান করা হবে।

ছয়. তার নিকটজনদের মধ্যে হতে সত্তরজনের ব্যাপারে তার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৬৬৩

অন্য এক হাদীসে এসেছে,

يُغْفَرُ لِلشَّهِيدِ كُلُّ ذَنْبٍ إِلَّا الدَّيْنَ

প্রদেয় ঋণ ব্যতীত শহীদ ব্যক্তির সমস্ত গুনাহ আল্লাহ তাআলা মাফ করে দেবেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৮৬

বিশ্বনবীর ভাষায় শহীদ যারা

হযরত জাবের বিন আতিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করা ছাড়াও সাত প্রকার শহীদ রয়েছে। তারা হলো-

أن جابر بن عتيك أخبره :أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال الشهداء سبعة سوى القتل في سبيل الله المطعون شهيد والغرق شهيد وصاحب ذات الجنب شهيد والمبطون شهيد والحرق شهيد والذي يموت تحت الهدم شهيد والمرأة تموت بجمع شهيد

১- মহামারীতে মৃত্যুবরণকারী,

২- পানিতে নিমজ্জিত ব্যক্তি,

৩- শয্যাশায়ী অবস্থায় মৃত শহীদ,

৪- পেটের রোগে মৃত্যুবরণকারী,

৫-আগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণকারী,

৬- যে ব্যক্তি ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে মারা যায়,

৭- প্রসবকালীন সময়ে মৃত্যুবরণকারী নারী। (মুয়াত্তা মালিক, হাদিস নং-৫৫৪, ৮০২, আল মু’জামুল কাবীর, হাদিস নং-১৭৮০, সহীহ কুনুজু সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ, হাদিস নং-২৩)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য হাদিসে আরো বলেন-

১. যে ব্যক্তি তার দ্বীনের (ইসলাম) জন্য নিহত হয়;

২. যে ব্যক্তি তার জীবন রক্ষার্থে নিহত হয়;

৩. যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়;

৪. যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ। (মুসলিম, মিশকাত)

হাদিসের নির্ভরযোগ্য কিতাব মুসনাদে আহমাদে আরো এসেছে- ‘যে ব্যক্তি অত্যাচারের স্বীকার হয়ে (মজলুম তথা নির্যাতিত অবস্থায়) নিহত হয়, তিনিও শহীদ।’

তবে ইসলামের জন্য রক্তদানকারী শহীদের সঙ্গে এ সব শহীদের পার্থক্য হলো, দুনিয়াতে তাদের গোসল ও জানাযা সবই হবে। কিন্তু এ সব মুমিনগণ পরকালে শহীদের নেকী ও মর্যাদা লাভ করবেন।

উল্লেখিত ঘটনাবলীতে মৃত্যুবরণকারীগন হাদিসের পরিভাষায় যেহেতু শহীদের মর্যাদাপ্রাপ্ত, সুতরাং, তাদের মৃত্যুতে তাদের জন্য হাহুতাশ বা আফসোস না করে আল্লাহ তাআলার দরবারে শহীদী মর্যাদা লাভের জন্য দোয়া করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

শহীদদের আরও যেসব শ্রেণীতে ভাগ করা যায়

১. যারা দুনিয়া ও আখিরাতে শহীদ। তাঁরা হলেন- অবিশ্বাসীদের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত মুমিন ব্যক্তি;

২. আখিরাতে শহীদ। তারা হলো উপরে বর্ণিত দ্বীনের (ইসলামের)জন্য ব্যতিত অন্যান্য শহীদগণ;

৩. দুনিয়াতে শহীদ, আখিরাতে নয়। তারা হলো- যুদ্ধের ময়দানে গণীমতের মাল আত্মসাৎকারী অথবা জিহাদ থেকে পলাতক অবস্থায় নিহত ব্যক্তি।’ (ফিক্বহুস সুন্নাহ)

হায়! দুনিয়াতে যদি আল্লাহর রাস্তায় আমাদের সঙ্গেও জুলুম করা হতো!

শহীদের মতো আল্লাহ পাকের রাস্তায় কেউ যদি কষ্টের সম্মুখীন হয়, কারো শ্লীলতা হানি হয়, ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হয়, তবে আল্লাহ তাআলার দরবারে এমন ব্যক্তিও অনেক বড় বড় সম্মান প্রাপ্ত হয়, যা দেখে ওলী-বুযুর্গরাও ঈর্ষা করে। দুনিয়াতে এ নিয়ম আছে যে, সরকারের অনুগত সৈনিকেরা যদি বীরত্ব প্রদর্শন করে এবং রাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষায় হতাহত হয়, তবে তাদেরকে রাষ্ট্রের পক্ষ হতে বড় বড় পুরস্কার ও খেতাব দেওয়া হয়। তেমনি যারা আল্লাহর দ্বীনের কাজ করার অপরাধে প্রহৃত হয়, লাঞ্ছিত হয়, এবং নানা ধরনের ক্ষতি ও বঞ্চনার শিকার হয়, আল্লাহ পাক কেয়ামতের দিন তাদেরকে জনসমক্ষে এমন এমন সম্মান আর মর্যাদা দান করবেন যে, অন্যরা তা দেখে আক্ষেপ করবে, হায়! দুনিয়াতে যদি আল্লাহর রাস্তায় আমাদের সঙ্গেও জুলুম করা হতো, লাঞ্ছনা আর গঞ্জনার আচরণ করা হতো, তাহলে এই পুরস্কার ও সম্মান লাভ করে আমরাও আজ ধন্য হতাম!

আয় আল্লাহ! এমন সুযোগ যদি আমাদের জীবনে আসে, তবে আমাদেরকে আপনি দৃঢ়পদ রাখুন, আপনার নুছরত আমাদের সাথী করুন, আপনার মুহাব্বতের বহ্নিশিখা আমাদের হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত করে দিন।

ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক, প্রত্যেক মানুষকে অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ তাআ'লা উম্মাতে মুসলিমাকে শহিদী মৃত্যু দান করুন। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজের জন্য যেভাবে শাহাদাতের মৃত্যুর তামান্না পোষন করতেন, আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেককে তাদের হৃদয়-মনেও তেমনি শাহাদাতের তামান্নাকে জিন্দা করে দিন। শহীদের মর্যাদা লাভের ইচ্ছা ও আকাঙ্খা পোষণ করার তাওফিক দান করুন। সবাইকে শহীদী মৃত্যু নসিব করুন। আমিন।

পুনশ্চ: এই নিবন্ধটি লেখার পেছনে ছোট্ট একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। আর সেটি হচ্ছে, গত দু'এক দিন পূর্বে জনৈক ভদ্রলোক আমার নিকট একটি বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, আমাদের দেশের সাবেক একাধিক রাষ্টপতিসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি যারা মৃত্যুবরন করেছেন এবং যাদের নামের সাথে শহীদ কথাটি ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। এরকম অনেক ব্যক্তির নামের সাথে শহীদ শব্দটি কেন ব্যবহার করা হয়? ইসলামী দৃষ্টিকোন বিবেচনায় কাউকে শহীদ হিসেবে গন্য করার শর্ত কি কি?


ভদ্রলোকের প্রশ্নের উত্তর লিখতে গিয়েই মূলত: এই নিবন্ধের সূত্রপাত। তাকে ধন্যবাদ দিতে হয়। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা। ভদ্রলোকের প্রশ্নের উত্তর নিবন্ধের ভেতরে আশা করি এসে গেছে। কষ্ট করে খুঁজে নেয়ার দায়িত্ব জ্ঞানী পাঠকবৃন্দের উপরে।


আমাদের ধারনা, এমনসব প্রশ্নের উদ্রেক অনেকের মনে স্বাভাবিকভাবেই হয়ে থাকে। বরং হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এসব ক্ষেত্রে উত্তর জানার সুযোগ হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে না। অনেকের সেই কৌতুহল মেটানোর জন্যই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আল্লাহ পাক আমাদের সকল নেক আমল কবুল করুন। শুভকামনা সকলের জন্য। সকলে ভালো থাকুন



শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪

সূরা আল-বাকারার ফজিলত

শনিবার, মে ১৮, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে



শয়তান প্রবেশ করতে পারে না যে ঘরে সূরা আল-বাকারাহ পাঠ করা হয়।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)বলেছেন,
“যে ব্যক্তি রাতের বেলা সূরা আল-বাকারার শেষ দুটি আয়াত তেলাওয়াত করে সে তার পক্ষে যথেষ্ট হবে।” (বুখারী)

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করার দুই হাজার বছর পূর্বে একটি গ্রন্থে লিখেছিলেন এবং সূরা আল-বাকারার সাথে সমাপ্ত করার জন্য তিনি এর থেকে দুটি আয়াত নাযিল করেছিলেন।
যদি কোন বাড়িতে সূরা আল-বাকারা তেলাওয়াত করা হয় তবে কোনও শয়তান এর কাছে আসতে পারবে না।” (তিরমিযী)

সূরা আল-বাকারাহ পাঠকারীর জাদুবিদ্যা ও খারাপ কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারে না।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের ঘরকে কবরে পরিণত করো না। নিশ্চয় শয়তান যে ঘরে সূরা বাকারা পাঠ করা হয় সেখানে প্রবেশ করে না” । (তিরমিযী)

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, “কুরআন তিলাওয়াত কর, কারণ কেয়ামতের দিন এটি তেলাওয়াতকারীদের জন্য সুপারিশকারী হিসাবে আসবে।
দুটি উজ্জ্বল,সূরা আল বাকারা এবং সূরা আল ইমরান তেলাওয়াত কর, কারণ কিয়ামতের দিন তারা দুটি মেঘ বা দুটি ছায়া,
বা পাখির দুটি ঝাঁক হয়ে আসবে যারা তাদের আবৃত্তি করবে তাদের জন্য অনুরোধ করবে। সূরা বাকারার তিলাওয়াত কর,
এ থেকে শরণাপন্ন হওয়া আশীর্বাদ এবং তা ত্যাগ করা দুঃখের কারণ এবং যাদুকররা এর মোকাবিলা করতে পারে না।” (মুসলিম)

(সূরা বাকারার সুফল)
২৮6 টি আয়াত রয়েছে এবং হ্যাঁ এটি কোরআনের দীর্ঘতম সূরা এবং এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বলেছেন:
“সূরা বাকারাহ শিখুন, কারণ এটি শেখার মধ্যে দোয়া রয়েছে, এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দুঃখ রয়েছে, এবং যাদুকররা এটিকে মুখস্ত করতে পারে না”।
এবং সূরা আল বাকারা কিয়ামতের দিন প্রদীপের অন্যতম আলো হবে
তবে, আপনি যখন এটি শিখেন, পড়েন বা হাফাজ করেন তখন উপকারিতা রয়েছে .. এবং ….
সুবিধাগুলি হ’ল:

১- শাইতান যে ঘরে সূরা বাকারা তেলাওয়াত হয় সে ঘরে প্রবেশ করবে না ..
মুসনাদে আহমাদ,

সহীহ মুসলিম আত-তিরমিযী ও আন-নাসা -এ বর্ণিত আছে যে, আবু হুরায়রাহ হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।

“আপনার ঘরগুলিকে কবরে পরিণত করবেন না। নিশ্চয় শয়তান সেই ঘরে প্রবেশ করবে না যেখানে সূরা বাকারা পাঠ করা হয়”।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা
“শয়তান যে বাড়ি থেকে সূরা আল-বাকারা শোনা যায় সেখান থেকে পালিয়ে যায়”
২- যারা সূরা বাকারার দশটি আয়াত তেলাওয়াত করে, শয়তান তার বা তার পরিবারের নিকটবর্তী হয় না, বা তাকে অপছন্দিত কোন কিছুতেই তাকে স্পর্শ করা যায় না … দশটি আয়াতটি হ’ল:
1. প্রথম থেকে চারটি = 4
2. একটি আয়াত 255 (আয়াত আল-কুরসি) = 1
৩. দুটি পদ (256-257) = 2 4. শেষ তিনটি আয়াত=3=10
৩- শয়তান তিন রাত / দিন ঘরে প্রবেশ করবে না।
সালাহ ইবনে সা’দ হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“প্রত্যেক কিছুর উঁচু উঁকি আছে এবং আল-বাকারা হ’ল কোরআনের উঁচু উঁকি। যে ব্যক্তি তার ঘরে রাতে আল-বাকারার তিলাওয়াত করবে, তখন শয়তান তিন রাত্রি সেই বাড়িতে প্রবেশ করবে না।
তার বাড়িতে, শয়তান তিন দিনের জন্য সেই বাড়িতে প্রবেশ করবে না ”

৪- ফেরেশতারা আপনাকে সূরা বাকারার তেলাওয়াত শুনে নিকটে আসবে।
আল বুখারী রেকর্ড করেছেন যে উসাইদ বিন হুদায়ের বলেছেন,
যে তিনি একবার সুরা বাকারা পাঠ করছিলেন যখন তার ঘোড়া তার পাশে বাঁধা ছিল। ঘোড়া কিছু আওয়াজ করতে লাগলো।
তিনি যখন তেলাওয়াত করা বন্ধ করলেন, ঘোড়া চলাচল বন্ধ করে দিল। তিনি যখন পড়া চালিয়ে যান,
ঘোড়াটি আবার চলতে শুরু করে। তারপরে যখন সে থামল, ঘোড়া থামল। তিনি যখন আবার এটি আবৃত্তি করেন, তখন ঘোড়াটি আবার সরে যায়।

এদিকে তার ছেলে ইয়াহিয়া ঘোড়ার কাছাকাছি ছিল। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে ঘোড়াটি তার উপরে উঠে পড়বে।

তিনি যখন আকাশের দিকে তাকালেন এবং আলোকিত মেঘ দেখতে পেলেন, তখন তিনি তাঁর পুত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন।
পরের দিন সকালে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলেন এবং যা ঘটেছে তা জানিয়েছিলেন।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি জানো যে এটি কি ছিল?”

এবং তিনি “না” বলেছিলেন
তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তারা ফেরেশতারা ছিল, তারা তোমার কণ্ঠ শুনে (সুরা বাকারা পাঠ করল)

কাছে এসেছিল এবং আপনি যদি পড়তে থাকতেন, সকাল হলে লোকেরা ফেরেশতাদের দেখতে সক্ষম হত, এবং ফেরেশতারা তাদের চোখ থেকে আড়াল হবে না “।


বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

করজে হাসানা উত্তম ইবাদত

বুধবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৩ 0
বার দেখা হয়েছে





আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের আশায়, সওয়াবের নিয়তে বিনা শর্তে কাউকে ঋণ দিলে তাকে ‘করজে হাসানা’ বা উত্তম ঋণ বলে। উত্তম ঋণ মূলত সেই ঋণ, যা ঋণগ্রহীতাকে চাপে ফেলে না। অর্থাৎ এই ঋণের মূল পয়েন্টই হচ্ছে ঋণদাতা কোনোভাবেই ঋণগ্রহীতাকে ঋণ আদায় করার জন্য তাগাদা দেবে না। যেমনটি সুরা বাকারায় ইরশাদ হয়েছে— ‘যদি ঋণগ্রহীতা অভাবগ্রস্ত হয়, তবে তার সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেওয়া উচিত। আর যদি ক্ষমা করে দাও, তবে তা খুবই উত্তম। যদি তোমরা উপলব্ধি কর।’ (সুরা বাকারা: ২৮০)


গ্রহীতাকে ঋণ পরিশোধের জন্য যত বেশি সময় দেওয়া হয়, ততই ঋণদাতার আমলনামায় সওয়াব যোগ হয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে পুরো ঋণ শোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে—এমন ঋণগ্রস্তকে যে ঋণ পরিশোধ করার জন্য সময় দেয়, ওই ব্যক্তিকে এমন সওয়াব দেওয়া হবে, যেন সে প্রতিদিনই সমপরিমাণ টাকা সদকা করছে। আর ঋণ পরিশোধের সময় চলে যাওয়ার পরও যে ঋণগ্রস্তকে সময় বাড়িয়ে দেয়; তাতে অতিরিক্ত প্রতিটি দিনের জন্য তাকে এমন সাওয়াব দেওয়া হবে, যেন সে প্রতিদিন ধার দেয়া টাকার চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা সদকা করছে।’ (মুসনাদে আহমদ)

কোরআন হাদিসে করজে হাসানার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সদকা বা দান ইসলামে সৎকর্ম হিসেবে বিবেচিত হলেও এর চেয়েও উত্তম হচ্ছে করজে হাসানা দেওয়া। আর এ কারণে খোদ সৃষ্টিকর্তাই করজে হাসানা চেয়েছেন তাঁর বান্দাদের কাছ থেকে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে— ‘কে আছো, যে আল্লাহকে করজে হাসানা প্রদান করবে? তিনি তাহার জন্য ইহা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন’ (সুরা বাকারা: ২৪৫)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করো, তবে তিনি তোমাদের জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী ও ধৈর্যশীল।’ (সুরা তাগাবুন: ১৭)

আল্লাহ তাআলা করজে হাসানা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আরও ইরশাদ করেছেন, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি; তোমরা যদি সালাত কায়েম করো, জাকাত দাও, আমার রাসুলদের ওপর ঈমান আনো ও সম্মান করো এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ (করজে হাসানা) প্রদান করো, তাহলে তোমাদের পাপ অবশ্যই মোচন করব এবং নিশ্চয়ই তোমাদের দাখিল করব জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। এরপরও কেউ কুফরি করলে সে তার সরল পথ হারাবে। (সুরা মায়েদা: ১২)

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করে তার দরজায় একটি লেখা দেখতে পেল যে, সদকার নেকি ১০ গুণ বৃদ্ধি করা হয় এবং ঋণ দানের নেকি ১৮ গুণ বৃদ্ধি করা হয়।’ (সিলসিলা সহিহাহ: ৩৪০৭)

দান বা খয়রাত ফেরত দিতে হয় না কিন্তু করজে হাসানা ফেরত দিতে হয়। এরপরেও প্রায় দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়ার কারণ কী? মূলত আল্লাহপাক প্রতিটি মানুষকে স্বাবলম্বী করার ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন। এটি স্বাবলম্বী করারই নিদর্শন। হজরত আবু দারদা (রা.) বলেন, ‘কাউকে দুই দিনার ঋণ দেওয়া আমার কাছে এই দুই দিনার সদকা করার চেয়ে বেশি প্রিয়’ (ইবনে আবি শায়বা: ২২৬৮২)

যদিও অনন্যোপায় হলে তবেই ঋণ নেওয়া উচিত, এর আগে নয়। কেননা রাসুল (স.) ঋণ নেওয়া থেকে নিজেকে যতদূর সম্ভব বিরত রাখতেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুসলমানরা, তালির ওপর তালিযুক্ত ছিন্নবস্ত্র পরিধান করা, ঋণ গ্রহণ অপেক্ষা উত্তম, যদি তা শোধ করার শক্তি না থাকে। (মুসনাদ আহমদ)। রাসুলুল্লাহ (স.) আরও বলেছেন, হে মুসলমানরা ঋণ গ্রহণ থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, ঋণ রাত্রীকালে মর্ম বেদনা ও দুঃশ্চিন্তা সৃষ্টি করে এবং দিনের বেলায় অপমান ও লাঞ্চনায় লিপ্ত করে। (বায়হাকি)

এরপরও করজে হাসানা আর্থিক ইবাদতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। কোরআনে কারিমে ব্যবহৃত করজে হাসানা (উত্তম ঋণ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- আল্লাহ তাআলার রাস্তায় খরচ করা, অভাবী, এতিম ও বিধবাদের ব্যয়ভার বহন করা, ঋণী ব্যক্তিদের ঋণ পরিশোধে সাহায্য করা এবং নিজ সন্তানাদি ও পরিবারের ওপর খরচ করা। মোটকথা, মানবকল্যাণের যত দিক আছে সবগুলোই এর অন্তর্ভুক্ত। এমনিভাবে কোনো অভাবী ও চিন্তাগ্রস্থকে এই নিয়তে ঋণ দেওয়া যে, ওই ব্যক্তি যদি স্বীয় সামর্থ্য ও চিন্তার দরূণ ঋণ পরিশোধ করতে না পারে, তবে তার কাছে আর চাওয়া হবে না। এটাও করজে হাসানার অন্তর্ভুক্ত।

ইসলামি আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় করজে হাসানার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই দানশীল নর-নারী, যারা আল্লাহকে উত্তমরূপে ধার দেয়, তাদের দেয়া হবে বহুগুণ। তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।’ (সুরা হাদিদ: ১৮)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অন্য মুসলমানের বিপদে-আপদে উত্তম ঋণ দেওয়ার মানসিকতা দান করুন। ঋণগ্রহীতাকে ঋণ পরিশোধের তাওফিক দান করুন। আমিন। (সূত্র- সংগৃহীত)
________ ______

( মৃত্যু...❌

মৃত্যু আসিতেছে...❌
যেকোনো সময়...❌
যেকোনো জায়গায়...❌
যেকোনো অবস্থায়...❌
আমাকে থামিয়ে দিবে...❌

অথবা
আমার প্রিয়জনকে আমার থেকে কেড়ে নিবে...❌

আমি কি তৈরি...❓

আসুন আল্লাহকে ভয় করি... মৃত্যুকে স্মরণ রেখে পথ চলি... সুন্নতি জীবন গড়ি...) 



গোপন গুনাহ থেকে বাঁচার উপায়

বুধবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৩ 0
বার দেখা হয়েছে




গোপন পাপ ধ্বংস ডেকে আনে। এর থেকে বাঁচার উপায় হলো-

১. আল্লাহ তাআলার কাছে বেশি বেশি কান্নাকাটি করে দোয়া করা। তিনি যেন তার অবাধ্যতা, নাফরমানি ও সব ধরনের গুনাহ থেকে রক্ষা করেন।

২. নফস তথা আত্মার সঙ্গে লড়াই করা, মনের কুমন্ত্রণা দূর করা এবং আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করা।

৩. কিয়ামতের দিন গোপন গুনাহকারীদের আমলগুলো ধূলিকণার মতো উড়িয়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করা।
হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, মহানবী (সা.) বলেন, ‘আমি আমার উম্মতের কিছু মানুষ সম্পর্কে জানি, যারা কিয়ামতের দিন তিহামার (বিখ্যাত পাহাড়) শুভ্র পর্বতমালা সমতুল্য নেক আমল নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু আল্লাহ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন। সাওবান (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করুন, যাতে অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই।

তিনি বললেন, তারা তোমাদেরই ভ্রাতৃগোষ্ঠী এবং তোমাদের সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতোই ইবাদত করবে। কিন্তু তারা এমন লোক, যারা একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত কর্মে (গোপন গুনাহ) লিপ্ত হবে। ’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪১৮)

৪. আল্লাহ তাআলার উপস্থিতির কথা চিন্তা করা।তিনি আমাকে সর্বদা দেখছেন এবং এ ব্যাপারে তাঁকে ভয় করা। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘...নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক। ’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১)

৫. গুনাহ করার সময় এ কথা চিন্তা করা, কেউ কি দেখলে আমি এমন গুনাহ করতে পারতাম? এভাবে নিজের ভেতরের লজ্জাবোধ জাগ্রত করা। এ বিষয়ে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি তোমার পরিবারের কোনো প্রভাবশালী সদস্যকে যেমন লজ্জা পাও, আল্লাহকে (কমপক্ষে) তেমন লজ্জা করো। ’ (মুসনাদুল বাজ্জার : ৭/৮৯)

৬. এ চিন্তা করা, গুনাহরত অবস্থায় যদি আমার মৃত্যু হয়, তাহলে কিভাবে আমি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করব? মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তিকে (কিয়ামতের দিন) ওই অবস্থায় ওঠানো হবে, যে অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করেছে।
’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২০৬)

৭. অবসরে জিকির ও ফিকিরে থাকার চেষ্টা করা। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে নিদর্শনাবলি রয়েছে বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষের জন্য। যারা দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে আর বলে, হে আমাদের রব! আপনি এগুলো নিরর্থক সৃষ্টি করেননি। আপনি পবিত্র। আপনি আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯০-১৯১)।

মহান আল্লাহপাক আমাদের সকল গোপন গুনাহ থেকে বাঁচার তাওফিক দান করুন।
(সংগৃহীত)
_______ _______

( মৃত্যু...❌

মৃত্যু আসিতেছে...❌
যেকোনো সময়...❌
যেকোনো জায়গায়...❌
যেকোনো অবস্থায়...❌
আমাকে থামিয়ে দিবে...❌

অথবা
আমার প্রিয়জনকে আমার থেকে কেড়ে নিবে...❌ 

আমি কি তৈরি...❓ 

আসুন আল্লাহকে ভয় করি... মৃত্যুকে স্মরণ রেখে পথ চলি... সুন্নতি জীবন গড়ি...) 
-------------
{ প্রতিনিয়ত ঈমান আমল সংক্রান্ত দ্বীনি এরকম ভিন্ন ভিন্ন উপকারী পোস্ট পেতে আমাদের পেইজে  জয়েন থাকুন।


জুমআর দিনের অত্যন্ত দামী একটি সুন্নত আমল।

বুধবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৩ 0
বার দেখা হয়েছে



১) “আল্ল-হুম্মা সল্লি 'আলা মুহাম্মাদ, ওয়া 'আলা আ~লি মুহাম্মাদ”

২) “আল্ল-হুম্মা সল্লি'আলা মুহাম্মাদ, আল্ল-হুম্মা বা-রিক 'আলা মুহাম্মাদ”

৩) “আল্ল-হুম্মা সল্লি ওয়াসাল্লিম 'আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ”

৪) “ওয়াস সলাতু ওয়াস সালামু 'আলা রসূলিল্লাহ”

৫) “সল্লল্ল-হু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম”

⭕ কমপক্ষে ১ বার পড়ুন সকল দরুদ গুলি ইনশাআল্লাহ।

⭕ মহান আল্লাহ্ পাক বলেন আমি আল্লাহ্ নিজে ও আমার ফেরেস্তাগন দুরুদ পাঠ করি রাসূল (স.) ওপর সুবহানাল্লাহ্। 

নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবির প্রতি সালাত (দরূদ) পেশ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত (দরূদ) পেশ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’
(সুরা আহজাব : আয়াত ৫৬)

⭕ তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।
 (আবু দাউদ: ১০৪৭)


যে পাপে নিমজ্জিত বেশির ভাগ মানুষ

বুধবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৩ 0
বার দেখা হয়েছে



গিবত সমাজের বহুল প্রচলিত পাপ। 
এই পাপ নীরব ঘাতকের মতো।
মনের অজান্তেই এটা ব্যক্তির ভালো কাজ বিনষ্ট করে দেয়।
এটি ব্যভিচার ও মরা মানুষের পচা গোশত খাওয়ার চেয়েও নিকৃষ্টতম কাজ।

সমাজের বেশির ভাগ মানুষ এই পাপে নিমজ্জিত।
গিবত শব্দের অর্থ পরনিন্দা করা, 
দোষচর্চা করা, 
কুৎসা রটনা, 
পেছনে সমালোচনা করা, 
কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ অন্যের সামনে তুলে ধরা।
গিবতের পরিচয় সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, 
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, 
তোমরা কি জানো গিবত কী? সাহাবিরা বলেন, 
এ ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সর্বাধিক অবগত। 
তখন নবী (সা.) বলেন, (গিবত হচ্ছে) তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে এমন কিছু বলা, 
যা সে অপছন্দ করে।
জিজ্ঞেস করা হলো,
‘আমি যা বলছি,
তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, 
তাহলে আপনার অভিমত কী?’
তিনি বলেন, 
তুমি তার (দোষ-ত্রুটি) সম্পর্কে যা বলছ, সেটা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহলে তুমি তার গিবত করলে। 
আর যদি সেই (ত্রুটি) তার মধ্যে না থাকে, তাহলে তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে। *(আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৭৪; তিরমিজি, হাদিস : ১৯৩৪)*

 _গিবতের মূল মাধ্যম চারটি :_ 

১. জিহ্বার গিবত : 
গিবতের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো জিহ্বা। আলাপচারিতা, কথাবার্তা ও বক্তৃতায় জবানের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি গিবত হয়।

২. অন্তরের গিবত : 
কুধারণা করা, হিংসা, অহংকার এবং কেউ গিবত করলে সেটা অন্তর দিয়ে মেনে নেওয়া বা তা সমর্থন করার মাধ্যমে অন্তরের গিবত হয়।

৩. ইশারা-ইঙ্গিতের গিবত : কখনো কখনো চোখ, হাত ও মাথার ইশারার মাধ্যমেও গিবত হয়ে থাকে।

৪. লেখার মাধ্যমে গিবত : মানুষের মনের ভাব ও মতামত প্রকাশের একটি বড় মাধ্যম হলো লেখা। তাই লেখার মাধ্যমেও গিবত হতে পারে। 
ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, ‘লেখার মাধ্যমেও গিবত হয়ে থাকে।
কেননা কলম দুই ভাষার একটি।’ *(ইহয়াউ উলুমিদ্দিন : ৩/১৪৫)*

 _গিবতের বিধান_ 
গীবত করার বিধান দুই ভাগে বিভক্ত। 
(১) গিবত করার বিধান। 
(২) গিবত শোনার বিধান।

১. গিবত করার বিধান : গিবত একটি জঘন্য পাপ। গিবতের মাধ্যমে হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়।

২. গিবত শোনার বিধান : গিবত করা যেমন মহাপাপ, তেমনি খুশি মনে পরনিন্দা শোনাও পাপ। 
মহান আল্লাহ মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন, 
‘তারা যখন অসার বাক্য শ্রবণ করে তখন যেন তা উপেক্ষা করে।’ *(সুরা : কাসাস, আয়াত : ৫৫)*

ওলামায়ে কেরাম বলেন, গিবতকারী ও গিবত শ্রবণকারী উভয়ই সমান পাপী। *(মাওসুআতুল আখলাক : ২/৪০৭)*

 _গিবতের ভয়াবহতা_ 
 _গিবত করা কবিরা গুনাহ_ : 

অন্যান্য পাপের তুলনায় গিবতের প্রভাব ও পরিণাম বেশি ভয়ংকর।
 রাসুলুল্লাহ (সা.) গিবতের ভয়াবহতা বুঝাতে যে উপমা দিয়েছেন, অন্য কোনো মহাপাপের ব্যাপারে এত শক্তভাবে বলেননি।
 যেমন আয়েশা (রা.) বলেছেন, 
আমি একবার ছাফিয়া [রাসুল (সা.)-এর স্ত্রী]-এর দিকে ইশারা করে বললাম, 
সে তো বেঁটে নারী। 
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 
তুমি তো তার গিবত করে ফেললে। *(মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২৫৭০৮)*

অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, তুমি এমন একটি কথা বলেছ, যদি তা সমুদ্রে মিশিয়ে দেওয়া হয়, তবে সমুদ্রের পানির রং পাল্টে যাবে। *(তিরমিজি, হাদিস : ২৫০২)*

 _মানুষের গোশত খাওয়ার চেয়েও নিকৃষ্ট পাপ_ 
মানুষের গোশত খাওয়া হারাম। 
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ গিবত করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
 ইরশাদ হয়েছে, 
‘আর তোমরা ছিদ্রান্বেষণ করো না এবং পরস্পরের পেছনে গিবত করো না। 
তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করে? 
আসলে তোমরা সেটি অপছন্দ করে থাক।’ *(সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)*

 _ব্যভিচার ও সুদের চেয়েও নিকৃষ্ট পাপ_ 

সমাজে প্রচলিত পাপগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানীয় জঘন্য পাপ হলো ব্যভিচার ও সুদ। আর ব্যভিচার ও সুদের চেয়েও ক্ষতিকর ও নিকৃষ্ট পাপ হলো গিবত। বারা ইবনে আজেব (রা.) থেকে বর্ণিত, 
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, গিবতের ৭২টি দরজা আছে। তন্মধ্যে নিকটবর্তী দরজা হলো কোনো পুরুষ কর্তৃক তার মায়ের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া। আর সবচেয়ে বড় সুদ হলো অন্য ভাইয়ের সম্মানহানি করা (অর্থাৎ গিবত করা)। *(সহিহুল জামে, হাদিস : ৩৫৩৭)*

 _গিবতকারী কবরে শাস্তি পাবে_ 
মৃত্যুর পর থেকেই গিবতকারীর পরকালীন শাস্তি শুরু হয়ে যায়। ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) একদা দুটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন।
 এ সময় তিনি বলেন, 
এদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো গুরুতর অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব থেকে সতর্ক থাকত না। আর অন্যজন চোগলখুরি করে বেড়াত। *(বুখারি, হাদিস : ২১৮)*

অন্যত্র রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তাদের একজন মানুষের গিবত করত। আর অপরজন পেশাবের (ছিটার) ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না। *(আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৭৩৫)*

 _কিয়ামতের দিন অন্যের পাপের বোঝা নিজের কাঁধে চাপে_ 
কিয়ামতের দিন গিবতের বদলা নেওয়া হবে। যার গিবত করা হয়েছে তার পাপের বোঝা গিবতকারীর কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা কি বলতে পার, 
নিঃস্ব কে? 
সাহাবিরা বললেন, ‘আমাদের মধ্যে যার টাকা-কড়ি ও আসবাবপত্র নেই, সেই তো নিঃস্ব।’ তখন তিনি বলেন, আমার উম্মতের মধ্যে সেই প্রকৃত নিঃস্ব, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন সালাত, সিয়াম ও জাকাতের আমল নিয়ে উপস্থিত হবে; অথচ সে এই অবস্থায় আসবে যে, একে গালি দিয়েছে, একে অপবাদ দিয়েছে, এর সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, একে হত্যা করেছে ও একে মেরেছে। এরপর একে তার নেক আমল থেকে দেওয়া হবে, ওকে নেক আমল থেকে দেওয়া হবে। এরপর তার কাছে (পাওনাদারের) প্রাপ্য তার নেক আমল থেকে পূরণ করা না গেলে তাদের পাপের একাংশ তার প্রতি নিক্ষেপ করা হবে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। *(মুসলিম, হাদিস : ৬৪৭৩)*

 _জান্নাতে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত_ 

গিবতকারী মুসলিম যদি গিবত থেকে তাওবা না করে মারা যায়, তবে সে প্রথম সুযোগে জান্নাতে যেতে পারবে না;
 বরং তাকে গিবতের শাস্তি পাওয়ার জন্য প্রথমে জাহান্নামে প্রবেশ করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে অপমান করার উদ্দেশ্যে তাকে দোষারোপ করবে, মহান আল্লাহ তাকে জাহান্নামের সেতুর ওপর আটক করবেন, যতক্ষণ না তার কৃতকর্মের ক্ষতিপূরণ হয়। *(আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৮৩)*

 _এই মহাপাপ থেকে আমরা সকলেই বেঁচে থাকার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে গীবত থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন।আমিন_ ।


শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

হাউযে কাউসার

শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০২৩ 0
বার দেখা হয়েছে


بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ الحَوْضِ

حدثنا أحمد بن محمد بن علي بن نيزك البغدادي، حدثنا محمد بن بكار الدمشقي، حدثنا سعيد بن بشير، عن قتادة، عن الحسن، عن سمرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " إن لكل نبي حوضا وإنهم يتباهون أيهم أكثر واردة وإني أرجو أن أكون أكثرهم واردة " . قال أبو عيسى هذا حديث غريب . وقد روى الأشعث بن عبد الملك هذا الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا ولم يذكر فيه عن سمرة وهو أصح .

হাউযে কাউসার।

২৪৪৬. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নীযাক বাগদাদী (রাহঃ) ...... সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীরই একটি হাওয আছে। কার হাওযে কত বেশী পিপাসার্তের আগমন হবে এই নিয়ে তারা পরস্পর গৌরব করবেন। আমি আশা করি আমার হাওযেই সর্বাধিক সংখ্যক লোকের আগমন ঘটবে।

Samurah narrated the Messenger of Allah (s.a.w)said:
"Indeed there is a Hawd for every Prophet, and indeed they compete to see which of them has the most arriving at it. Indeed I hope that mine will be the one with the most arrival."

নোট:
হাদীসটি গারীব। আশআছ ইবনে আবদুল মালিক (রাহঃ) এ হাদীসটিকে হাসান (রাহঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন। এতে সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উল্লেখ নাই। এটিই অধিক সহীহ।

—জামে' তিরমিযী, হাদীস নং ২৪৪৩ (আন্তর্জাতিক নং ২৪৪৩)

তাহকীক: বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ) (মৃত্যু ৫৮ হিজরী)


بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ أَوَانِي الحَوْضِ

حدثنا محمد بن إسماعيل، حدثنا يحيى بن صالح، حدثنا محمد بن المهاجر، عن العباس، عن أبي سلام الحبشي، قال بعث إلى عمر بن عبد العزيز فحملت على البريد . قال فلما دخل عليه قال يا أمير المؤمنين لقد شق على مركبي البريد . فقال يا أبا سلام ما أردت أن أشق عليك ولكن بلغني عنك حديث تحدثه عن ثوبان عن النبي صلى الله عليه وسلم في الحوض فأحببت أن تشافهني به . قال أبو سلام حدثني ثوبان عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " حوضي من عدن إلى عمان البلقاء ماؤه أشد بياضا من اللبن وأحلى من العسل وأكاويبه عدد نجوم السماء من شرب منه شربة لم يظمأ بعدها أبدا أول الناس ورودا عليه فقراء المهاجرين الشعث رءوسا الدنس ثيابا الذين لا ينكحون المتنعمات ولا تفتح لهم السدد " . قال عمر لكني نكحت المتنعمات وفتح لي السدد ونكحت فاطمة بنت عبد الملك لا جرم أني لا أغسل رأسي حتى يشعث ولا أغسل ثوبي الذي يلي جسدي حتى يتسخ . قال أبو عيسى هذا حديث غريب من هذا الوجه . وقد روي هذا الحديث عن معدان بن أبي طلحة عن ثوبان عن النبي صلى الله عليه وسلم . وأبو سلام الحبشي اسمه ممطور وهو شامي ثقة .

হাউযে কাউসারের পাত্রের বর্ণনা।

২৪৪৭. মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আবু সাল্লাম হাবশী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) (তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে) সংবাদ পাঠালেন। আমাকে খচ্চরে আরোহণ করতে হল। পরে তিনি যখন তার কাছে এলেন তখন বললেনঃ হে আমীরুল মু‘মিনীন, খচ্চরে আরোহণ করতে আমার বেশ কষ্ট হয়েছে।

তিনি বললেনঃ হে আবু সাল্লাম, আমি আপনাকে কষ্ট দিতে চাইনি। কিন্তু আমার কাছে খবর পৌছেছে যে হাওযে কাউছার সম্পর্কে একটি হাদীস ছাওবান (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আপনি বর্ণনা করে থাকেন সেটি আপনি আমার কাছে জবাণী শুনাবেন তাই আমি বহু পছন্দ করি।

আবু সাল্লাম (রাহঃ) বলেন, ছাওবান (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার হাওয হল আদন থেকে আম্মান আল-বালকা পর্যন্ত বড়। এর পানি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধু থেকেও মিঠা আকাশের তারার সংখ্যার ন্যায় এর পানপাত্র। যে ব্যক্তি তা থেকে এক ঢোক পানি পান করবে পরে সে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না। এতে সর্বপ্রথম পানি পান করতে আসবে দরিদ্র মুহাজিরগণ-যাদের মাথার চুল উস্কু-খুস্কু, কাপড় চোপড় ধুলিমলিন, যারা ধনবতী মহিলাদের পানি গ্রহণ করেনি, যাদের জন্য দরজা খোলা হয় না।

উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) বললেনঃ কিন্তু আমি তো ধনবতী মহিলা বিয়ে করেছি, আমার জন্য তো দ্বার খোলে দেওয়া হয়। (উমাইয়া খলীফা) আব্দুল মালিকের কন্যা ফাতিমাকে আমি বিয়ে করেছি (যা হোক) উস্কু খুস্কু না হওয়া পর্যন্ত আমি আমার মাথা ধৌত করব না এবং আমার শরীরের কাপড়ও ময়লা না হওয়া পর্যন্ত ধৌত করব না।

Al-’Abbas narrated from Abu Sallam Al-Habashi who said:
"’Umar bin ’Abdul-’Aziz summoned me so I got a ride on a mule." [He said:] "When he entered upon him, he said: ’O Commander of the Beleivers! My riding mule was troublesome for me.’ So he said: ’O Abu Sallam!I did not want to trouble you, but a Hadith which you narrated-from Thawban, from the Prophet (s.a.w) about the Hawd-was conveyed to me,and I wanted you to narrate it directly to me."’Abu Sallam said: "Thawban narrated to me from The Messenger of Allah (s.a.w) who said ’My Hawd (is as large as) from ’Adan to ’Amman of Al-Balqa’, its water is whiter than milk and sweeter than honey. Its cups are as numerous as the stars, whoever drinks one drink from it, he will never be thirsty after that again. The first people to arrive at it are the poor among the Muhajirin with disheveled heads, dirty clothes, those whom the women of favor would not marry, nor would the doors be open for them.’ ’Umar said: ’But I have married a women of favor and the doors are open for me. I married Fatimah bint ’Abdul-Malik. I shall certainly not wash my head until it is disheveled, nor wash my garment which touches my body until it becomes dirty."

নোট:
হাদীসটি এ সূত্রে গারীব। মা‘দান ইবনে আবু তালহা-ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রেও নবী (ﷺ) থেকে হাদীসটি বর্ণিত আছে। আবু সাল্লাম হাবশী (রাহঃ) এর নাম হল মামতুর। তিনি শাম দেশের অধিবাসী এবং বিশ্বস্ত।

—জামে' তিরমিযী, হাদীস নং ২৪৪৪ (আন্তর্জাতিক নং ২৪৪৪)

তাহকীক: বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)

বর্ণনাকারী: বিবিধ


بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ أَوَانِي الحَوْضِ

حدثنا محمد بن بشار، حدثنا أبو عبد الصمد العمي عبد العزيز بن عبد الصمد، حدثنا أبو عمران الجوني، عن عبد الله بن الصامت، عن أبي ذر، قال قلت يا رسول الله ما آنية الحوض قال " والذي نفسي بيده لآنيته أكثر من عدد نجوم السماء وكواكبها في ليلة مظلمة مصحية من آنية الجنة من شرب منها شربة لم يظمأ آخر ما عليه عرضه مثل طوله ما بين عمان إلى أيلة ماؤه أشد بياضا من اللبن وأحلى من العسل " . قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب . وفي الباب عن حذيفة بن اليمان وعبد الله بن عمرو وأبي برزة الأسلمي وابن عمر وحارثة بن وهب والمستورد بن شداد . - وروي عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " حوضي كما بين الكوفة إلى الحجر الأسود " .

হাউযে কাউসারের পাত্রের বর্ণনা।

২৪৪৮. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলেছিলামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, হাওযের পাত্রের পরিমাণ কি? তিনি বললেনঃ যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, হাওযের পাত্র হবে জান্নাতের পাত্র এবং তার সংখ্যা হবে মেঘমুক্ত আধাঁর রাতের তারার চেয়েও বেশী। এ থেকে যে ব্যক্তি পানি পান করবে সে আর পিপাসার্ত হবে না। এর দৈর্ঘ্য-প্রস্ত সমান। তা হল আম্মান থেকে আয়লা পর্যন্ত বড়। এর পানি দুধ থেকেও সাদা এবং মধু থেকেও মিঠা।

Abu Dharr narrated:
"I said: ’O Messenger of Allah! What about the vessels of the Hawd?’ He said: ’By the one in Whose Hand is my soul! Its vessels number more than the stars of the heavens and the planets on a clear dark night. (They are) among the vessels of Paradise, whoever drinks from them, he will never be thirsty again. Its longest breadth is the same as its length, like that which is between ’Amman to Aylah, its water is whiter than milk and sweeter than honey.’"

নোট:
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। এ বিষয়ে হুযাইফা ইবনে ইয়ামান, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, আবু বারযা আসলামী, ইবনে উমর, হারিছা ইবনে ওয়াহব, মুস্তাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার হাওয হল কুফা থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত বড়।

—জামে' তিরমিযী, হাদীস নং ২৪৪৫ (আন্তর্জাতিক নং ২৪৪৫)

তাহকীক: বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ) (মৃত্যু ৩২ হিজরী)


শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৩

বাড়িঘরের ৫টি স্থানে শয়তান অনেক সময় ‘বসত’ গাড়ে

শুক্রবার, নভেম্বর ১৭, ২০২৩ 0
বার দেখা হয়েছে


আমাদের বাড়িঘরের ৫টি স্থানে শয়তান অনেক সময় ‘বসত’ গাড়ে। এসব স্থান সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরী। ঘরে ঘরে নানাবিধ সমস্যা এবং বিশেষ করে ঘরে ছোট সন্তান থাকলে তাদের উপর ক্ষতিকর প্রভাব দূর করতে সতর্ক থাকা আরো জরুরী। 

১) দীর্ঘদিন যাবত যে বিছানায় কেউ শোয়নি। 
শয়তান এমন বিছানা দখল করে বসে। নবীজি (ﷺ) বলেছেন, পুরুষের জন্য একখানা চাদর, তার স্ত্রীর জন্য একখানা চাদর এবং তৃতীয়টি অতিথির জন্য। আর চতুর্থটি শয়তানের জন্য (মুসলিমঃ ২০৮৪)।

▪️বাসীরাহঃ এজন্য অব্যবহৃত বিছানা ভাঁজ করে রাখা নিরাপদ। ভাঁজ না করতে পারলে নিয়মিত বিছানা ঝাড়া উচিত। অথবা আয়াতুল কুরসি ও রুকইয়ার আয়াত পড়ে ফুঁ দেয়া পানি ছিটানো উচিত। দুই বা তিনদিন পরপরই এমনটি করা উচিত।(লম্বা সময়ের জন্য বাড়ি বন্ধ রেখে সফরে গেলে উপরের চাদর ভাঁজ করে বা গুটিয়ে রেখে যাওয়া উচিৎ)

২) হাম্মাম (বাথরুম)। 
এটা সবার জানা আছে। হাম্মামে সবচেয়ে দুষ্ট আর খবিস প্রকৃতির শয়তানরাই থাকে। জ্বিন শয়তানও থাকে। এজন্য হাম্মামে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা ভীষণ জরুরী। নবীজি (ﷺ) বলেছেন, এসব পায়খানার স্থান হচ্ছে (জ্বিন ও শয়তানের) উপস্থিতির স্থান। সুতরাং যারা পায়খানায় যাবে তারা যেন এ দোয়া পড়েঃ 
‎أعوذُ باللهِ مِن الخُبُثِ والخبائثِ
অর্থাৎ- আমি নাপাক নর-নারী শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই (আবু দাউদঃ ০২)।

▪️বাসীরাহ: বের হওয়ার পরে "গুফরানাক" পড়ুন। যাদের এটাষ্ট বাথরুম তারা সদা দরজা বন্ধ রাখার অভ্যাস করুন। সন্ধ্যার আগে টয়লেটের ছোট জানালা পারলে বন্ধ করুন। প্রয়োজনে সন্ধ্যার পরে আবার খুলুন।

৩) দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা অব্যবহৃত, অধোয়া জামাকাপড়। 
আলমারি ওয়ার্ড্রবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা পোশাকাশাকও এই ঝুঁকির আওতামুক্ত নয়। নবীজি (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের জামাকাপড় ভাঁজ করে রাখো। কারণ, এসব জামাকাপড়ের কাছে দুষ্টজ্বিনেরা ফিরে ফিরে আসে। আর শয়তান ভাঁজ করা জামাকাপড় পড়েনা। মেলে দেয়া পোশাক পেলে পড়ে। (সিলসিলাহ যয়ীফাঃ ২৮০১)।

▪️বসীরাহঃ আমরা অনেকেই জামাকাপড় ঝুলিয়ে রাখি। হাতের নাগালে রেখে, যখন ইচ্ছা পরার সুবিধার্থে আমরা সাধারণত জামাকাপড় লটকে রাখি। দীর্ঘ সময় ব্যাপি ঝুলে থাকা কাপড় পড়ার সময় যে কোনো ক্ষতি-অনিষ্ট থেকে বাঁচতে হলে, এসব পোশাকে কুরআন পড়া /ফাতিহা পড়া পানি ছিটিয়ে দেয়া নিরাপদ। মাঝেমধ্যে আলমারি, ওয়ার্ড্রব খুলে জামাকাপড়ে সূরা ফাতিহা ও আয়াতুল কুরসি পড়ে ফুঁ দিতে পারি। পোশাক পরিধানের দূয়া আমাদের জন্য নিরাপত্তা কবচ। মাগরিবের আগেই বাহিরে মেলে দেয়া কাপড় শুকিয়ে গেলে উঠিয়ে নেয়া উত্তম। 

৪) প্রাণী বা মানুষের মূর্তি ও পুতুল। 
এসব পুতুল-মূর্তি ঘরে থাকলে, ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশের জন্য বাধা স্বরুপ। ফেরেশতার আগমন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে, এসব পুতুল-মূর্তির আড়ালে শয়তান (দুষ্ট জ্বিন) আশ্রয় গ্রহণ করে। নবীজি (ﷺ) বলেছেন, যে ঘরে কুকুর ও মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না (মুসলিমঃ ২১০৬)।

▪️বসীরাহঃ আরেক বর্ণনায় আছে, ঘরে  অংকিত বা লটকানো ‘ছবি’ থাকলেও ফেরেশতা প্রবেশ করে না। বাথরুমের শ্যাম্পু, টুথপেষ্ট এর গায়ে বিজ্ঞাপনের মডেলের ছবি মুছে ফেলা, দেয়ালের ক্যালেন্ডারে কি আছে খেয়াল করা জরুরী। 

৫) আগুন জ্বালানোর স্থান। 
উনুন-চুলা।এসব স্থান জ্বিন-শয়তানের খুবই প্রিয় জায়গা। কারণ তারা আগুনেরই সৃষ্টি। এজন্য যখনই আগুনের কাছে যাবো, রান্নাবান্নার কাজে চুলার কাছে যাবো, মুখে মনে আল্লাহর যিকির করার অভ্যেস গড়ে তুলব। ইন শা আল্লাহ।

▪️বাসীরাহ: চুলা জালাবার পূর্বে বিসমিল্লাহ বলা এবং মাঝে মাঝে সূরা ফাতিহা লবন মিশ্রিত পানিতে ফুঁকে ঘর-দোর মোছা উত্তম অভ্যাস।

নাউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজীম। ইয়া আল্লাহ, আমাদেরকে ও আমাদের সন্তান-সন্ততিকে জ্বিন-শয়তানের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

মূল লিখা- শায়েখ আতিকুল্লাহ হাফিজাহুল্লাহ। 
ইষ্যত পরিমার্জিত ও সম্পাদিত- সাইফুল্লাহ।
Abdul Hi Muhammad Saifullah


রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২২

মিথ্যা বলা মহাপাপ ? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হবো!

রবিবার, অক্টোবর ২৩, ২০২২ 1
বার দেখা হয়েছে
মিথ্যা বলা মহাপাপ ?


প্রশ্নঃ

মাননীয় মুফতী সাহেব

আমরা জানি যে মিথ্যা বলা মহাপাপ৷ কিন্তু জনৈক আলেম বলেছেনঃ তিন স্থানে মিথ্যা বলা পাপ নয় বরং উত্তম৷ তার কথা সঠিক কিনা? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হবো!


📖 উত্তরঃ

بسم الله الرحمن الرحيم


হা, উক্ত আলেমের কথা সঠিক৷ যেমন হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-

عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ لاَ يَحِلُّ الْكَذِبُ إِلاَّ فِي ثَلاَثٍ يُحَدِّثُ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ لِيُرْضِيَهَا وَالْكَذِبُ فِي الْحَرْبِ وَالْكَذِبُ لِيُصْلِحَ بَيْنَ النَّاسِ ‏”‏


আসমা বিনতু ইয়াযীদ রাযিঃ থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত মিথ্যা বলা বৈধ নয়।

(এক) স্ত্রীকে খুশি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলা৷

(দুই) যুদ্ধের সময় মিথ্যা বলা৷

(তিন) লোকদের পরস্পরের মাঝে সংশোধন করার জন্য মিথ্যা বলা।

সনদ সহীহ৷ (সুনানে তিরমিযী ১৯৩৯ হাদীস৷ সুনানে আবু দাউদ ৪৯২১ হাদীস৷)


এক) স্ত্রীর সঙ্গে মিথ্যা বলার অর্থ হলো- তাকে গুরুত্ব দেয়া, আপন করে নেয়া, অন্তরে যতটুকু ভালোবাসা আছে তার চেয়ে বেশি প্রকাশ করা, এর মাধ্যমে স্থায়ী সম্পর্কের প্রচেষ্টা করা এবং তার চরিত্র সংশোধনের চেষ্টা করা।


দুই) যুদ্ধক্ষেত্রে মিথ্যা বলার অর্থ হলো- নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করা, সঙ্গীদের মনোবল বাড়াতে উৎসাহব্যঞ্জক কথা বলা এবং এর মাধ্যমে শত্রুকে ধাঁধায় ফেলে দেয়া। এ কারণেই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যুদ্ধ ধোঁকার নাম।’


তিন) পরস্পরের মধ্যে সংশোধনের জন্য মিথ্যা বলার অর্থ হলো- দু ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসার জন্য মিথ্যা বলার বিষয়টি একজনের পক্ষ থেকে আরেকজনের কাছে কল্যাণ ও সৌন্দর্য হিসেবেই পৌঁছে৷ তাই মধ্যস্থতাকারী শুধু মীমাংসার জন্য প্রয়োজনে মিথ্যা বলতে পারে৷ (শারহুস সুন্নাহ ১৩/১১৯ পৃষ্ঠা৷)


উক্ত তিন জায়গা ব্যতীত অন্য কোন জায়গায় মিথ্যা বলা জায়েয নাই বরং হারাম৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৬/৪২৭ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ২/৬৩১ পৃষ্ঠা৷ খুলাসাতুল ফতোয়া ৪/৩৪৬ পৃষ্ঠা৷)


উল্লেখ্য, উপরোক্ত তিন জায়গাতেও এমন কোন মিথ্যা বলা জায়েয হবে না, যা ফেতনার আশংকা সৃষ্টি করে। যেমন, কোন কাজ করেছে কিনা জিজ্ঞেস করার পর কাজটি করা সত্ত্বেও ‘করে নি’ বলে দেয়া, যা স্পষ্টই মিথ্যা ও ধোঁকার অন্তর্ভুক্ত, এমন করা যাবে না। শুধুমাত্র আমরা যে ক্যাটাগরিগুলো বর্ণনা করলাম, সেভাবেই যদি কেউ অসত্য কথা বলে তাহলে জায়েয হবে ইনশাআল্লাহ।


والله اعلم بالصواب


উত্তর লিখনেঃ

মুফতী তাহমীদ শামী

আত তাহমীদ ইসলামীক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ৷

তারিখ- ১৮/৯/২০২২ ঈসায়ী৷



শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২২

দৃষ্টি সংযত রাখার মাহাত্ম্য ও মর্যাদা

শুক্রবার, অক্টোবর ১৪, ২০২২ 0
বার দেখা হয়েছে

 

দৃষ্টি সংযত রাখার মাহাত্ম্য ও মর্যাদা

ভাষান্তর: হামিদা মুবাশ্বেরা | সম্পাদনা: আব্‌দ আল-আহাদ

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেছেন: “(হে নবী) আপনি  মু’মিন পুরুষদের বলুন, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের  লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয়ই তারা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহ্‌  সম্যক অবহিত।” [সূরা আন-নূর; ২৪:৩০]


অতএব, আল্লাহ্‌ পবিত্রতা ও আত্মিক উন্নয়নকে দৃষ্টি সংযত রাখার এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করার প্রতিদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ নিষিদ্ধ বস্তু থেকে নিজের দৃষ্টি সংযত করার ফলে তিনটি উপকার হয় যেগুলো ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত মূল্যবান।


প্রথমত: ঈমানের মধুরতা আস্বাদন করা

যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র ভয়ে দৃষ্টি সংযত রাখে, তার কাছে ঈমানের সুমিষ্ট মাধুর্য এবং তা থেকে পাওয়া আনন্দ, নিষিদ্ধ বস্তু দেখে পাওয়া আনন্দের চেয়ে অনেক বেশি মনোহর। বস্তুত, “কেউ যদি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য কোনোকিছু পরিত্যাগ করে, তবে আল্লাহ্‌ আরও উত্তম কিছুর দ্বারা সেটির প্রতিস্থাপন করেন।”


প্রবৃত্তি হলো নিষিদ্ধকাজে প্রলুব্ধকারী এবং সুন্দর অবয়ব দেখতে ভালোবাসে। আর চোখ হলো হৃদয়ের দিশারী। হৃদয় তার দিশারীকে কোথায় কি আছে, তা খুঁজে দেখার দায়িত্ব দিয়ে বলে, ‘যাও! দেখো, কোথায় কী আছে।’ চোখ যখন সুন্দর কোনো দৃশ্যের খবর দেয়, হৃদয়ে তখন তা পাওয়ার জন্য ভালোবাসার শিহরণ এবং আকাঙ্ক্ষা জাগে। হৃদয় এবং চোখের এই অভ্যন্তরীণ দোলাচল উভয়কেই অনবরত ক্লান্ত করে থাকে। যেমনটি বলা হয়েছে :


চোখকে যেদিন দিশারী বানিয়ে করালে সন্ধান

তোমার চোখের লক্ষ্যবস্তু তোমায় করল হয়রান,

এমন কিছু দেখেলে যাতে ছিল না নিয়ন্ত্রণ,

আংশিকও নয়, নয় পুরোপুরিও;

বরং তোমার জন্য উত্তম ছিল ধৈর্যধারণ।


কাজেই দৃষ্টিকে যখন কোনোকিছু দেখা এবং নিরীক্ষণ করা থেকে সংযত রাখা হয়, হৃদয়ও তখন নিরর্থক অনুসন্ধান আর কামনার মতো ক্লান্তিকর কাজ থেকে বিশ্রাম পায়।


যে ব্যক্তি নিজের দৃষ্টিকে অবাধে বিচরণের সুযোগ দেবেন, তিনি প্রতিনিয়ত নিজেকে অবিরাম ক্ষতি এবং নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণার মাঝে আবিষ্কার করবেন। কারণ দৃষ্টিপাত থেকেই ভালোবাসার (মুহাব্বাহ্‌) জন্ম হয়, যার সূচনা হয় চোখ যা দেখেছে তার প্রতি মোহাবিষ্ট ও নির্ভরশীল হয়ে পড়ার মাধ্যমে। এই ভালোবাসা ক্রমেই আকুল আকাঙ্ক্ষায় (সাবাবাহ্‌) পরিণত হয়, যার দ্বারা হৃদয় তার কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি অসংশোধনীয় মাত্রায় মোহাবিষ্ট এবং নির্ভরশীল হয়ে যায়। এর মাত্রা বেড়ে ‘আসক্তি’র (গারামাহ্‌) রূপ নেয়। এই আসক্তি এমন এক শক্তি যা আসক্ত ব্যক্তির পেছনে তেমনিভাবে লেগে থাকে, যেভাবে কোনো পাওয়াদার ঋণ পরিশোধের জন্য ঋণীর পেছনে লেগে থাকে। এই আসক্তি আরও বাড়তে থাকে এবং ‘প্রেমাসক্তি’র (ইশ্‌ক) রূপ নেয় যা সকল প্রকার সীমা ছাড়িয়ে যায়। সবশেষে এর মাত্রা বেড়ে ‘প্রেমোন্মাদনা’র (শাগাফা) জন্ম হয় যা হৃদয়ের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশকেও বেষ্টন করে ফেলে। এই প্রেমোন্মাদনা ক্রমেই ‘আনুগত্যের ভালোবাসা’য় (তাতাইয়্যুমা) রূপ নেয়। তাতাইয়্যুমা’র অর্থই হলো ইবাদত। যখন বলা হয়, ‘তাইয়্যামা আল্লাহ্‌’, তখন তার অর্থ দাঁড়ায়, ‘সে আল্লাহ্‌র ইবাদত করেছে।’


এভাবেই হৃদয় এমন কিছুর উপাসনা করা শুরু করে, যার উপাসনা করা সমীচীন নয়। আর এসব কিছুর পেছনে একমাত্র কারণ একটি নিষিদ্ধ দৃষ্টিপাত। যে হৃদয় পূর্বে ছিল মনিব, তা এখন শিকলাবদ্ধ; যা ছিল মুক্ত ও স্বাধীন, তা এখন কারারুদ্ধ। এই হৃদয় চোখের দ্বারা নির্যাতিত এবং চোখের আছে অভিযোগ করলে, চোখ এখন বলে : ‘আমি তোমার দিশারী এবং আজ্ঞাবাহক। প্রথমে তুমিই আমাকে পাঠিয়েছিলে।’ এখানে যাকিছু বলা হলো, তার সবই এমন সব হৃদয়ের জন্যই সত্য, যেসব হৃদয় আল্লাহ্‌র প্রতি ভালোবাসা ও একনিষ্ঠতাকে পরিত্যাগ করেছে। কারণ ভালোবাসার জন্য হৃদয়ের এমনকিছু চায়, যার প্রতি হৃদয় নিজেকে নিবেদিত রাখতে পারে। সে কারণেই, হৃদয় যখন শুধুমাত্র আল্লাহ্‌কে ভালোবাসে না এবং শুধু তাঁকেই উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করে না, তখন নিশ্চিতভাবে সে অন্যকিছুর উপাসনায় লিপ্ত থাকে। আল্লাহ্‌ ইউসুফ (আ) সম্পর্কে বলেন: “এভাবেই যাতে আমি তার থেকে অনিষ্ট ও অশ্লীলতা দুর করে দেই। নিশ্চয়ই সে আমার নিষ্ঠাবান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা ইউসূফ; ১২:২৪]


আযীযের স্ত্রী একজন বিবাহতা নারী হওয়া সত্ত্বেও তার হৃদয়ে প্রেমাসক্তি প্রবেশ করেছিল। কারণ সে ছিল মুশরিকা। অন্যদিকে, ইউসুফ (আ) যুবক, অবিবাহিত এবং চাকর হওয়া সত্ত্বেও সেই অপকর্ম থেকে তাঁকে রক্ষা করা হয়েছিল। কারণ তিনি ছিলেন আল্লাহ্‌র একনিষ্ঠ গোলাম।


দ্বিতীয়ত : আলোকিত হৃদয়, স্বচ্ছ উপলব্ধিবোধ এবং তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি

ইবনু সুজা‘আ আল-কিরমানি বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিজের বাহ্যিক অবয়বকে সুন্নাহ্‌র আদলে এবং অভ্যন্তরীণ সত্ত্বাকে সর্বদা আল্লাহ্‌র চিন্তা-গবেষণা এবং তাঁর সচেতনতার আলোকে গড়ে তোলে, নিজের আত্মাকে প্রবৃত্তির অনুসরণ করা থেকে এবং নিষিদ্ধ বস্তু থেকে দৃষ্টিকে সংযত রাখে, সর্বদা হালাল রুজি ভক্ষণ করে, সেইব্যক্তির উপলব্ধি এবং অন্তর্দৃষ্টি কখনোই ভুল হবে না।”


আল্লাহ্‌ লূতের (আ) সম্প্রদায়কে কীভাবে শাস্তি দিয়েছিলেন, সে কথা উল্লেখ করে বলেছেন: “নিশ্চয়ই এতে ‘মুতাওয়াস্‌সিমীন’দের (স্বচ্ছ উপলব্ধিবোধ এবং তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন) জন্য রয়েছে নিদর্শনমালা।” [সূরা আল হিজ্‌র; ১৫:৭৫]


মুতাওয়াস্‌সিমীন হলেন তারাই যারা স্বচ্ছ উপলব্ধিবোধ এবং তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন। তারা হারাম বস্তুর প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না এবং অশ্লীল কর্ম সম্পাদন করা থেকে বিরত থাকেন। দৃষ্টি সংযত করা সম্পর্কিত আয়াতের পরবর্তী আয়াতেই আল্লাহ্‌ বলেছেন: “আল্লাহ্‌ আসমানসমুহ ও যমীনের নূর।…” [সূরা আন-নূর; ২৪:৩৫]


এর কারণ হলো, কর্ম যেমন, কর্মের প্রতিদানও তেমন হয়। অতএব, যে কেউ আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য নিষিদ্ধ বস্তু থেকে দৃষ্টিকে সংযত রাখবে, আল্লাহ্‌, আযযা ওয়া জাল্লা, সেইব্যক্তির জন্য নিষিদ্ধ বস্তুকে অনুরূপ অথচ তার চেয়ে অধিক উত্তম বস্তু দ্বারা প্রতিস্থাপন করবেন। তাই বান্দা যেহেতু তার চোখের আলোকে নিষিদ্ধ বস্তুর উপর পড়তে দেয়নি, আল্লাহ্‌ সেই বান্দার দৃষ্টি এবং অন্তরের আলোকে অনুগ্রহ দান করেন। ফলে ব্যক্তি সেইসব বিষয় বুঝতে এবং উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন, দৃষ্টি সংযত না করলে যেগুলো বুঝা এবং উপলব্ধি করা তার জন্য সম্ভব হতো না।


ব্যক্তি নিজের মধ্যে এই বিষয়টি আক্ষরিক অর্থেই উপলব্ধি করতে পারেন। কারণ হৃদয় একটা আয়নার মতো এবং পাশবিক প্রবৃত্তিগুলো সেই আয়নার উপর মরিচার মতো। এই আয়না যখন সচ্ছ এবং পরিষ্কার থাকে, তখন তাতে বাস্তবতার (হাকাইক) আক্ষরিক প্রতিফলন ঘটে। কিন্তু যদি তাতে মরিচা পড়ে থাকে, তাহলে তাতে সুষম প্রতিফলন তৈরি হয় না। ফলে হৃদয়ে অনুমান এবং সন্দেহ নির্ভর জ্ঞান ও অভিব্যক্তির উন্মেষ ঘটবে।


তৃতীয়ত : হৃদয় হবে শক্তিশালী, দৃঢ় এবং সাহসী

দৃষ্টির আলোর জন্য আল্লাহ্‌ যেভাবে চোখকে সুস্পষ্ট প্রমাণের সহায়ক শক্তি দিয়েছেন, হৃদয়ের দৃঢ়তার জন্যও তিনি হৃদয়কে সহায়ক শক্তি দান করবেন। এভাবে হৃদয়ে দুধরণের উপাদনের সমন্বয় ঘটবে। ফলে হৃদয় থেকে শয়তান বিতাড়িত হবে। হাদীসে উল্লেখ আছে, “কেউ যদি নিজের পাশবিক প্রবৃত্তির বিরোধিতা করে, ভয়ে শয়তান তার ছায়া থেকেও পালিয়ে বেড়ায়।”


একারণেই যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে নিজের মাঝে গ্লানিময় আত্মাকে খুঁজে পায় — যে আত্মা দুর্বল, শক্তিহীন, ঘৃণার যোগ্য। বস্তুত, যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌কে মান্য করেন, আল্লাহ্‌ তার জন্য উচ্চমর্যাদা নির্ধারণ করেন। আর তাঁকে অমান্যকারীর জন্য আল্লাহ্‌ লাঞ্ছনা নির্ধারণ করেন: “আর তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিত  হয়ো না, আর তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি মু’মিন হয়ে থাকো।” [সূরা আল–ইমরান; ৩:১৩৯]


“কেউ যদি সম্মান চায় (তবে তা যেন আল্লাহ্‌র কাছেই চায়), কেননা সকল সম্মান আল্লাহ্‌রই।” [সূরা ফাতির; ৩৫:১০]


অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র (আয্‌যা ওয়া জাল্লা) চেয়ে অবাধ্যতা এবং পাপকর্মকেই বেশি প্রাধান্য দেবে, আল্লাহ্‌ সেই বিরুদ্ধাচরণকারীকে লাঞ্ছিত করবেন। সালাফদের অনেকেই বলেছেন, “সম্মানের খোঁজে মানুষ রাজাদের দ্বারে যায়। অথচ আল্লাহ্‌র আনুগত্য ছাড়া কোনো সম্মান নেই।” কারণ যারা আল্লাহ্‌র আনুগত্য করে, তারা আল্লাহ্‌কে নিজেদের বন্ধু এবং রক্ষাকারী হিসেবে গ্রহণ করে। আর যারা আল্লাহ্‌কে তাদের রব এবং পৃষ্ঠপোষক হিসেবে গ্রহণ করে, আল্লাহ্‌ কখনোই তাদেরকে অসম্মানিত করেন না। একটি দো‘আ কুনূতে এ কথাগুলোই বলা হয়েছে: “যাকে আপনি বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন, সে অপমানিত হয় না আর যাকে আপনি শত্রু হিসেবে গ্রহণ করেন, সে সম্মানিত হয় না।”


(সূত্র : শায়েখ ইবনুল কায়্যিম, আল-মুন্‌তাকা মিন ইক্‌হাসাতুল লুফ্‌হান ফী মাসায়্যিদ আশ-শায়তান, পৃষ্ঠা ১০২-১০৫। পরিমার্জন : আলি হাসান।)



মুহাম্মাদ (সাঃ)-ই একমাত্র শাফা‘আঁতকারী

শুক্রবার, অক্টোবর ১৪, ২০২২ 0
বার দেখা হয়েছে

 

মুহাম্মাদ (সাঃ)-ই একমাত্র শাফা‘আঁতকারী

হযরত আনাস (রা:) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এরশাদ করেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন মুমিনগণকে (হাশরের ময়দানে স্ব স্ব অপরাধের কারণে) বন্দী রাখা হবে। তাতে তারা অত্যন্ত চিন্তিত ও অস্থির হয়ে পড়বে এবং বলবে, ‘যদি আমরা আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্‌ তা‘আলার নিকট কারো মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করি, যিনি আমাদের বর্তমান অবস্থা থেকে স্বস্তি দিবেন ।’সেই লক্ষ্যে তারা আদম (আঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলবে, ‘আপনি মানবজাতির পিতা আদম, আপনাকে আল্লাহ্‌ নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, জান্নাতে বসবাস করিয়েছেন, ফেরেশতা মন্ডলীকে দিয়ে আপনাকে সিজদা করিয়েছিলেন এবং তিনিই যাবতীয় বস্তুর নাম আপনাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন।আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের নিকট সুপারিশ করুন, যেন তিনি আমাদেরকে এই কষ্টদায়ক স্থান হ’তে মুক্ত করে প্রশান্তি দান করেন ।’তখন  আদম  (আঃ)  বলবেন,  ‘আমি  তোমাদের  এই  কাজের মোটেই উপযুক্ত নই’।


নবী করীম (সাঃ) বলেন, তখন তিনি গাছ হ’তে ফল খাওয়ার অপরাধের কথা স্মরণ করবেন, যা হ’তে তাঁকে নিষেধ করা হয়েছিল। [আদম (আঃ) বলবেন] ‘বরং  তোমরা  মানবজাতির  জন্য  আল্লাহ্‌  তা‘আলার  প্রেরিত  সর্বপ্রথম নবী নূহ (আঃ)-এর নিকট যাও’। তারা নূহ (আঃ)-এর কাছে গেলে  তিনি  তাদেরকে  বলবেন,  ‘আমি  তোমাদের  এ  কাজের  জন্য একেবারেই যোগ্য নই ।’ সাথে সাথে তিনি তাঁর ঐ অপরাধের কথা স্মরণ করবেন, যা অজ্ঞতাবশত: নিজের (অবাধ্য) ছেলেকে পানিতে  না ডুবানোর জন্য আল্লাহ্‌ কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। (তিনি বলবেন) ‘বরং তোমরা আল্লাহ্‌ খলীল হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর নিকটে যাও’।রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বলেন, এবার তারা হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর নিকটে যাবে। তখন তিনি বলবেন , ‘আমি তোমাদের এ কাজের জন্য কিছুই করার ক্ষমতা রাখি না ।’ সাথে সাথে তাঁর তিনটি মিথ্যা উক্তির কথা স্মরণ করবেন এবং বলবেন, ‘বরং তোমরা মূসা (আঃ)-এর কাছে যাও। তিনি আল্লাহ্‌র এমন এক  বান্দা,  যাকে  আল্লাহ্‌  তাওরাত  দান  করেছেন,  তার  সাথে বাক্যালাপ করেছেন এবং গোপন কথাবার্তার মাধ্যমে তাঁকে নৈকট্য দান করেছেন’।


রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, তখন তারা সকলে হযরত মূসা (আঃ) এর নিকটে আসলে তিনি বলবেন, ‘আমি তোমাদের জন্য সুপারিশের ক্ষেত্রে অপারগ।’তখন তিনি সেই প্রাণনাশের অপরাধের কথা স্মরণ করবেন, যা তাঁর হাতে সংঘটিত হয়েছিল এবং বলবেন, ‘বরং তোমরা আল্লাহ্‌র বান্দা ও তাঁর মনোনীত রাসূল, তাঁর কালেমা ও রূহ হযরত ঈসা (আঃ)-এর কাছে যাও।’নবী করীম (সাঃ) বলেন, তখন তারা সবাই হযরত ঈসা (আঃ)-এর কাছে গেলে তিনি বলবেন, ‘আমি তোমাদের এ কাজের উপযুক্ত নই।বরং তোমরা মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর কাছে যাও।তিনি আল্লাহ্‌ তা‘আলার এমন এক  বান্দা,  যার  আগের  ও  পরের  সমস্ত  গোনাহ  আল্লাহ্‌  ক্ষমা  করে দিয়েছেন।


রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘তারা আমার কাছে আসবে।আমি তখন আমার রবের কাছে তাঁর দরবারে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা  করব।অতঃপর আমাকে তাঁর নিকট যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।আমি যখন তাঁকে দেখব, তখনই তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদায় পড়ে যাব।আল্লাহ্‌  আমাকে যতক্ষণ চাইবেন সিজদা অবস্থায় রাখবেন’।অতঃপর বলবেন, ‘হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও।আর যা বলার বল, তোমর কথা শুনা হবে। শাফা‘আত কর, কবুল করা হবে।তুমি চাও, তোমাকে দেওয়া হবে ।’ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘তখন আমি মাথা উঠাব এবং আমার রবের এমনভাবে প্রশংসা বর্ণনা করব, যা তিনি আমাকে শিখিয়ে দিবেন। অতঃপর আমি শাফা‘আত করব। তবে এ ব্যাপারে আমার জন্য একটি সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।তখন আমি আল্লাহ্‌র দরবার হতে উঠে আসব এবং ঐ নির্ধারিত সীমার লোকদেরকে জাহান্নাম হ’তে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাব।তারপর আমি পুনরায় ফিরে এসে আমার প্রতিপালকের দরবারে হাযির হওয়ার জন্য আল্লাহ্‌ কাছে অনুমতি প্রার্থনা করব।আমাকে অনুমতি  দেওয়া হবে।আমি যখন তাঁকে দেখব, তখনই তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদায় পড়ে যাব এবং আল্লাহ্‌ যতক্ষণ চাইবেন আমাকে সিজদা অবস্থায় থাকতে দিবেন ।’ তারপর আল্লাহ্‌ বলবেন, ‘হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও। আর যা বলার বল, তোমার কথা শুনা হবে, সুপারিশ কর, কবুল করা হবে। তুমি প্রার্থনা কর, যা প্রার্থনা করবে তা দেওয়া হবে’।


রাসূল (সাঃ) বলেন, তখন আমি মাথা উঠাব এবং আমার রবের এমনভাবে প্রশংসা ও গুণকীর্তন বর্ণনা  করব, যা আমাকে শিখিয়ে দেওয়া হবে। এরপর আমি শাফা‘আত করব। তবে এ ব্যাপারে আমার জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। তখন আমি আমার রবের দরবার হ’তে উঠে আসব এবং ঐ নির্দিষ্ট লোকগুলিকে জাহান্নাম হ’তে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাব।অতঃপর তৃতীয়বার ফিরে আসব এবং আমার প্রতিপালক আল্লাহ্‌র দরবারে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করব।আমাকে তাঁর কাছে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।আমি যখন তাঁকে দেখব, তখনই সিজদায় পড়ে যাব।আল্লাহ্‌ যতক্ষণ ইচ্ছা আমাকে সিজদা অবস্থায় য় রাখবেন ।’ তারপর বলবেন, ‘হে মুহাম্মাদ!  মাথা উঠাও।তুমি যা বলবে তা শুনা হবে, সুপারিশ কর, কবুল করা হবে।প্রার্থনা কর, তা দেওয়া হবে।’রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘তখন আমি মাথা উঠাব এবং আমার রবের এমন হামদ ও ছানা বর্ণনা করব, যা তিনি আমাকে শিখিয়ে দিবেন।’ নবী করীম (সাঃ) বলেন, ‘তারপর আমি শাফা‘আত করব।এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌ তা‘আলা আমার জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিবেন। তখন আমি সেই দরবার থেকে বের হয়ে আসব এবং তাদেরকে জাহান্নাম হ’তে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাব’।


অবশেষে  কুরআন  যাদেরকে  আটকিয়ে  রাখবে  (অর্থাৎ  যাদের  জন্য কুরআনের ঘোষণা  অনুযায়ী চিরস্থায়ী  ঠিকানা  জাহান্নামে নির্ধারিত  হয়ে গেছে) তারা ব্যতীত আর কেউ জাহান্নামে অবশিষ্ট থাকবে না। বর্ণনাকারী ছাহাবী হযরত আনাস (রা:) বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কুরআনের এই আয়াতটি ‘আশা করা যায়, আপনার  প্রতিপালক  অচিরেই  আপনাকে  ‘মাকা‍‌মে মাহমূদে’ পৌঁছিয়ে  দেবেন’ [বনী ইসরাঈল ৭৯] তেলাওয়াত করলেন এবং বললেন, এটাই সেই ‘মাকামে মাহমূদ’ যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের নবীকে দেওয়া হয়েছে


[ছহীহ বুখারী হা/৭৪৪০ তাওহীদ’অধ্যায়, অনুচেছদ-২৪, মিশকাত হা/৫৫৭২ ‘কিয়ামতের অবস্থা ও সৃষ্টির সূচনা’অধ্যায়, ‘হাওযে কাওছার ও শাফা‘আত’অনুচেছদ]


শিক্ষা:

(১) সকল নবী-রাসলের উপর মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর শ্রেষ্ঠত্ব।

(২) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর শাফা‘আতে পরকালে কিছু জাহান্নামীকে আল্লাহ্‌ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এজন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘প্রত্যেক নবীর এমন একটি দো‘আ রয়েছে, যা (আল্লাহ্‌র্ নিকট) গৃহীত হয়, আর নবী সে দো‘আ করে থাকেন।আমার ইচ্ছা, আমি আমার সে দো‘আর অধিকার আখেরাতে আমার উম্মতের শাফা‘আতের জন্য মুলতবি রাখি’  (বুখারী হা/৬৩০৪, ‘দো‘আ সমূহ’অধ্যায়, অনুচেছদ-১)।

(৩) কোন পীর-ওলী পরকালে শাফা‘আতের অধিকার রাখবেন না।



ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png