শিরোনাম
Loading latest headlines...
পরিবার ও সমাজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পরিবার ও সমাজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫

জাবালে রহমত” (আরাফাতের পাহাড়) সম্পর্কে ইসলামি ঐতিহ্য ও ইতিহাস

শনিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে

 


“জাবালে রহমত” (আরাফাতের পাহাড়) সম্পর্কে ইসলামি ঐতিহ্য ও ইতিহাস সংক্রান্ত সবচেয়ে معتبر দৃষ্টিভঙ্গা নিচে তুলে ধরা হলো — যদি চান, পয়েন্ট আকারে সংক্ষিপ্ত সারমর্মও দিতে পারি।


🕌 “জাবালে রহমত”-এর পরিচিতি

  • আরাফাত ময়দান-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একটি পাহাড়, যাকে আরবি ভাষায় বলা হয় جبل الرحمة (Jabal ar-Rahmah), অর্থ “রহমতের পাহাড়।”

  • মক্কা শহর থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত। হজ্বের নবি (সা.)-এর বিদায় হজ্বের ভাষণও এই আরাফাত ময়দানের এমন একটি অংশ থেকে দেওয়া হয়েছিল। 


📜 ইসলামি ঐতিহাসিক ও শাস্ত্রগত তথ্য

  • “জাবালে রহমত” বাংলা ভাষায় “রহমতের পাহাড়” নামে বেশি পরিচিত; আরবীতে তা “Jabal ar-Rahmah” বা “Jabal ar-Rahmah/Jabal ar-Rahma” বলা হয়। 

  • হাদিস বা কোরআনিক উৎসে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত নেই যে, নবী মুহাম্মদ (সা.) এই পাহাড়ে আরোহণ করেছেন বা এর চূড়ায় বিশেষভাবে দোয়া-অনুরোধ করেছিলেন যা হজ্বের অবশ্যই পালনীয় রীতিতে পরিণত হয়েছে। 

  • অনেক সাধারণ মুসলিমরা হজ্বের সময় এই পাহাড়ে যায় এবং উপরে উঠতে চায়, দোয়া করে। তবে ইসলামী আইন ও শাস্ত্রবিদরা বলছেন, এই কাজ কোনো প্রমাণিত সুন্নত নয় এবং কোনো শংসাপত্র নেই যে, পাহাড়ে ওঠা হয় একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত হিসেবে। 

↔️ কিংবদন্তি ও লোক বিশ্বাস

  • একটি প্রচলিত বিশ্বাস আছে যে, হযরত আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ) প্রথমে উত্তরা হয়ে পাথরের এই পাহাড়ে মিলিত হয়েছিল পৃথিবীতে নেমে আসার পর। 

  • একইভাবে, অনেক হাজি ও অন্যান্য মুসলমান এই পাহাড়ে গিয়ে অতিরিক্ত দোয়া ও ইবাদত করার চেষ্টা করেন, বিশেষত ‘আরাফার দিন’–এ, কারণ তারা মনে করেন এটি দোয়া কবুল হওয়া স্থানগুলোর মধ্যে একটি। 


⚠️ ইসলামিক আইন-দৃষ্টিকোণ থেকে সতর্কতা

  • ইসলামের শিক্ষাবিদগণ সাধারণভাবে মনে করেন যে, পাহাড়ে উঠা ও সেটাকে কোন রীতি বা আনুষ্ঠানিক প্রয়োজনীয় অংশ বানানো (হজ্বের ক্ষেত্রে) ইনোভেশন (বেদনাদায়ক নতুন সংস্কার) হবে যদি এটি বিশ্বাস করা হয় যে, পাহাড়ে ওঠা বাধ্যতামূলক বা বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ কাজ। (

  • ইমাম নাওয়াওয়ী এবং অন্যান্য স্কলাররা বলেছেন, “জাবালে রহমত”-এর প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয় সাধারণ মানুষের মধ্যে — এমনকি কেউ কেউ ভাবেন যে আরাফাতে হজ্ব করা হলে যদি জাবালে রহমত-এ দোয়া না করে তবে হজ্ব সম্পূর্ণ হয় না — যা শাস্ত্রগত ভিত্তিহীন ধারণা। 


✅ শিক্ষা ও সারমর্ম

  1. বিশ্বাস ও ইতিহাসের পার্থক্য বুঝতে হবে — লোককথা ও প্রচলিত বিশ্বাস সব সময় শাস্ত্রের সঙ্গে মেলে না।

  2. আনুষ্ঠানিক হাদিস বা শেয়খানি প্রমাণ ছাড়া কোনো কাজকে রীতিতে পরিণত করা উচিত নয়।

  3. আরাফাত ময়দান সম্পূর্ণভাবে নিজেই গুরুত্ব রাখে — দাঁড়িয়ে থাকা (وقفۃ আরাফা) হজ্বের অন্যতম নিয়ামত — অতিরিক্ত কোনো স্থান-বিশেষের দৃষ্টিভঙ্গা দাওয়াতের মৌলিক উদ্দেশ্য থেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

  4. ভক্তি ও দোয়া করতে অংশগ্রহণ করা ভালো, তবে সেটা যেন কোন বাধ্যবাধকতা বা সূন্নাতের প্রতি অতিরিক্ত বিশ্বাসে রূপান্তরিত না হয়।



নিশ্চয়ই 🌿
নিচে “জাবালে রহমত (রহমতের পাহাড়)” বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ, ইসলামিক ও শ্রুতিমধুর প্রবন্ধ দেওয়া হলো — যা মসজিদে আলোচনা, স্কুল-কলেজে ইসলামিক পাঠ, বা দাওয়াতি লেকচারে পাঠের উপযোগী ভাষায় লেখা হয়েছে।


🌸 জাবালে রহমত (রহমতের পাহাড়)

— এক করুণাময় স্মৃতি ও শিক্ষা


🌄 ভূমিকা

পৃথিবীর বুকে কিছু স্থান আছে যেগুলো শুধু ভৌগোলিক দিক থেকে নয়, বরং আধ্যাত্মিক দিক থেকেও অসীম মর্যাদার অধিকারী।
তেমনই এক ঐশী স্থান হলো “জাবালে রহমত”, অর্থাৎ রহমতের পাহাড়।
এটি অবস্থিত আরাফাত ময়দানে, মক্কা শরিফের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে।
প্রতি বছর লাখো হাজি এই ময়দানে এসে আল্লাহর দরবারে অশ্রুসিক্ত হয়ে দাঁড়ান, আর তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।


🕋 জাবালে রহমতের ইতিহাস

আরবী শব্দ “জাবাল” মানে পাহাড়, আর “রহমত” মানে করুণা বা দয়া।
ইতিহাসবিদদের মতে, এই পাহাড়েই আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম করুণায় আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ)-কে পৃথিবীতে অবতরণের পর পুনর্মিলনের সুযোগ দেন।
সেই মিলন ছিল অনুতাপ, ক্ষমা প্রার্থনা ও রহমতের প্রতীক।
এই কারণেই পাহাড়টির নাম হয় জাবালে রহমত — রহমতের পাহাড়।


🌤️ নবী করিম ﷺ ও জাবালে রহমত

হজ্বের শেষ এবং মহান মুহূর্ত — “ইয়াওমে আরাফা”-তে নবী মুহাম্মদ ﷺ আরাফাত ময়দানে দাঁড়িয়ে মানবজাতির জন্য ঐতিহাসিক “বিদায় হজ্বের ভাষণ” প্রদান করেন।
এই ভাষণে তিনি মানবাধিকার, নারী-পুরুষের মর্যাদা, সম্পদ-রক্তের নিরাপত্তা, এবং তাওহীদের বার্তা ঘোষণা করেন।

যদিও নবী ﷺ নির্দিষ্টভাবে জাবালে রহমতের চূড়ায় ওঠেননি —
তবুও আরাফাত ময়দান এবং এর আশপাশের এই পাহাড় তাঁর দোয়া ও রহমতের স্মৃতি বহন করে।


🌧️ রহমতের পাহাড়ের প্রতীকী তাৎপর্য

এই পাহাড় আমাদের মনে করিয়ে দেয় —
যখন মানুষ ভুল করে, তওবা করে ফিরে আসে, তখন আল্লাহর দরজা কখনো বন্ধ থাকে না।
যেভাবে আল্লাহ আদম (আঃ)-কে ক্ষমা করেছিলেন, সেভাবেই তিনি আজও তাঁর বান্দাদের জন্য “রহমতের দরজা” উন্মুক্ত রেখেছেন।

কুরআনে আল্লাহ বলেন:

“হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ! আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গোনাহ ক্ষমা করেন।”
— (সূরা আজ-যুমার, ৩৯:৫৩)


🕊️ ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নির্দেশনা

ইসলামী শাস্ত্রে স্পষ্টভাবে বলা আছে — হজ্বের জন্য “আরাফাতে অবস্থান” (ওকুফ) করা ফরজ,
কিন্তু “জাবালে রহমতের চূড়ায় ওঠা” কোনো ফরজ বা সুন্নত নয়।

অনেকে আবেগে পাহাড়ে ওঠেন, দোয়া করেন, কিন্তু এটা কেবল দোয়ার জায়গা —
কোনো বিশেষ ইবাদতের স্থান নয়।

ইমাম নাওয়াবী (রহঃ) বলেন:

“আরাফাতে দাঁড়ানোই হজ্বের মূল। পাহাড়ে ওঠা বা নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়ানো কোনো শরয়ি বিধান নয়।”


🌿 শিক্ষণীয় বার্তা

১️⃣ আল্লাহর রহমত সীমাহীন — যত বড় গুনাহই হোক, তওবা করলে ক্ষমা সম্ভব।
২️⃣ ইবাদতে সংযম ও শুদ্ধতা জরুরি — আবেগ নয়, দলিলই আমাদের পথনির্দেশক।
৩️⃣ মানবতার ঐক্য ও পরিশুদ্ধি — আরাফা ও জাবালে রহমতের বার্তা হলো ঐক্য, অনুতাপ ও নৈতিক শুদ্ধি।
৪️⃣ নবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণই হজ্বের আসল সৌন্দর্য।


🪔 উপসংহার

জাবালে রহমত শুধু একটি পাহাড় নয় —
এটি মানবজাতির জন্য আল্লাহর অসীম ক্ষমা, মমতা ও ভালোবাসার প্রতীক।
প্রত্যেক মুসলমানের হৃদয়ে এই পাহাড় স্মরণ করিয়ে দেয়—
যে বান্দা ভুল করেও ফিরে আসে,
আল্লাহ তার জন্য দরজা খোলা রাখেন,
এবং বলেন:

“আমার রহমত সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করেছে।”
— (সূরা আল-আ’রাফ, ৭:১৫৬)




সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

বেশ বৈচিত্র্যময় সাহাবিদের যুগে বিয়ে ছিল

সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে

 



সাহাবিদের যুগে বিয়ে ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। বিয়ের আয়োজন ছিল সাদামাটা, প্রস্তুতি ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টার। সকালবেলা একজন সাহাবি ছিলেন অবিবাহিত। কবে বিয়ে করবেন, কাকে বিয়ে করবেন, সেটা সকালেও জানা ছিল না। সন্ধ্যায় তিনি সংসার শুরু করতেন! বিয়ের কারণে পাড়াপড়শির নির্ঘুম বিরক্তি সাহাবিদের যুগে ছিল না।


বিয়ের প্রথম ধাপ হচ্ছে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া। পুরুষ সাহাবিরা নিজেদের বিয়ের প্রস্তাব সরাসরি পাত্রীপক্ষের কাছে নিয়ে যেতেন। আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে নিজের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যান। তিনি প্রথমে সংকোচ বোধ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে অভয় দেন। এরপর নবী–কন্যা ফাতেমাকে (রা.) বিয়ে করেন আলী (রা.)।



সম্ভ্রান্ত নারীরাও কারও মাধ্যমে নিজেদের বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে পারতেন। খাদিজা (রা.) তাঁর বান্ধবী নাফিসা (রা.)-র মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। এমনকি কয়েকজন নারী সাহাবিও সরাসরি এসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এমন একজন প্রস্তাবকারী ছিলেন খাওলা বিনতে হাকিম (রা.)। তাঁর স্বামী উসমান ইবনে মাজউন (রা.) ইন্তেকালের পর তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বিয়ে করেননি।


একজন নারীর রাসুল (সা.)–কে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা চৌদ্দ শ বছর পর বিস্ময়কর মনে হতে পারে, কিন্তু সাহাবিদের সময় এটা ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সাহাবিরা যখন তাঁদের সন্তানদের কাছে ঘটনাটি বলেন, তাঁরা অবাক বিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করেন, সেই নারী কীভাবে রাসুল (সা.)–কে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন!



বিয়ের মোহরানা ছিল একেক জনের একেক রকম। যাঁর যাঁর সামর্থ্য ও পাত্রীর সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী মোহরানা নির্ধারিত হতো। এক সাহাবির মোহরানা দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। তাঁর মুখস্থ কোরআনকে মোহরানা হিসেবে ধার্য করা হয়, যা তিনি স্ত্রীকে শেখাবেন।


সাহাবিদের যুগে পাত্রীরাও চাইলে মোহরানার প্রস্তাব দিতে পারতেন। রুমাইসা বিনতে মিলহান (রা.) আবু তালহা (রা.)-কে বিয়ে করার সময় নিজের মোহরানা নির্ধারণ করেন স্বামীর ইসলাম গ্রহণ। তিনি শর্ত জুড়ে দেন, তাঁকে বিয়ে করতে চাইলে আবু তালহাকে ইসলাম গ্রহণ করতে হবে। আবু তালহা কয়েক মিনিট চিন্তা করে বিয়েতে রাজি হন।


আলী ও ফাতেমা (রা.)-র বিয়ের মোহরানা ছিল ৪৬০ দিরহাম। সাহাবিদের যুগের ৪৬০ দিরহাম বর্তমান সময়ে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা।


সে যুগে মেয়েদের জোর করে বিয়ে দেওয়া হতো না। বিয়েতে মেয়ের মতামতকে অসম্ভব গুরুত্ব দেওয়া হতো। এমনকি বিয়ের পরও যদি পাত্রী জানাতেন যে সে বিয়েতে অসম্মত ছিলেন, তাহলে রাসুলুল্লাহ (সা.) সে বিয়ে বাতিল করে দিতেন।


নারীরা নিজেদের বিয়ে নিয়ে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারতেন। কোনো কারণে পাত্র পছন্দ না হলে ‘না’ করে দিতে পারতেন। পাত্র ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক মর্যাদার অধিকারী হলেও নারীদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হতো।


ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবি, খলিফাতুল মুসলিমিন। তিনি আবু বকর (রা.)-র মেয়ে উম্মে কুলসুম (রাহি.)-কে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ওমরের (রা.) মেজাজের কারণে সে নারী বিয়েতে রাজি না হয়ে সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব পরে অন্য এক উম্মে কুলসুমকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন আলীর (রা.) মেয়ে উম্মে কুলসুম বিনতে আলী (রাহি.)।


সাহাবিদের বিয়েতে প্রথমদিকে মোহরানা অনেক কম ছিল। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) খলিফা হওয়ার পর মুসলমানদের অর্থনৈতিক জীবনে আমূল পরিবর্তন আসে। তখন বিয়েতে মোহরানার পরিমাণ বেড়ে যায়। খলিফা মোহরানা কমানোর জন্য রাষ্ট্রীয় ফরমান জারি করতে চেয়েছিলেন। তাতে এক নারী আপত্তি জানান। তিনি কোরআনের একটি আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এটা তিনি করতে পারেন না। খলিফা সেই নারীর আপত্তি আমলে নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ মোহরানা নির্ধারণ করা থেকে বিরত থাকেন।


তিনি উম্মে কুলসুম বিনতে আলীকে বিয়ে করার সময় মোহরানা হিসেবে ৪০ হাজার দিরহাম দেন। সাহাবিদের যুগে ১২ দিরহাম দিয়ে একটি ভেড়া কেনা যেত।


সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম ধনী সাহাবি আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) স্ত্রীকে মোহরানা বাবদ ৩০ হাজার দিরহাম দিয়েছিলেন।



সাবিত ইবনে কায়স (রা.) তাঁর স্ত্রীকে মোহরানা হিসেবে একটি বাগান দেন, যা সেই যুগ হিসেবে মোটা অঙ্কের মোহরানা।


সাহাবিদের যুগে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ছিল সীমিত। এ কারণে বিয়ে ছিল সহজ। বিয়েতে সবাইকে দাওয়াত দিতে হবে, না দিলে কে কী মনে করবেন—এমন মনোভাব তখন ছিল না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সাহাবিদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি। তাই বলে রাসুলুল্লাহকে (সা.) প্রত্যেক সাহাবিই বাধ্যতামূলকভাবে বিয়েতে দাওয়াত দিতেন না। কখনো কখনো এমনও হতো, কোনো সাহাবির বিয়ের কয়েক দিন পর রাসুলুল্লাহ (সা.) সে খবর পেতেন। এমনটা হয়েছিল আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) এবং জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রা.)-র সঙ্গে।


রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও মোটেই এ প্রত্যাশা করতেন না যে প্রত্যেক সাহাবিই তাঁকে বিয়ের দাওয়াত দেবেন বা তাঁকে জানিয়ে বিয়ে করবেন। এ যুগে যেসব সামাজিক বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে আমরা বিয়ের আয়োজন করি, সে সময় মোটেও সেসব ছিল না।


আরিফুল ইসলাম: লেখক



মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

পথ চলার আদব ও সুন্নত সমূহ পর্ব--৫

মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে
চলার আদব ও সুন্নত সমূহ



অষ্টম হক : ভালো কথা বলা_ 

পথে একে অন্যের সাথে দেখা হয়, কথা হয়। কুশলাদি বিনিময় হয়। এক্ষেত্রে  সহাস্য বদনে সুন্দরভাবে কথা বলা উচিত। কারণ, অনর্থক, অশালীন, অন্যায় কথার কারণে অনেক সময় পথে ফ্যাসাদ হয়। আর মুমিনের শানই হল ভালো কথা বলা; অন্যথায় চুপ থাকা। হাদীস শরীফে এসেছে

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ.

যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমান রাখে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। *(সহীহ বুখারী, হাদীস ৬০১৮)*

আর সবচেয়ে ভালো কথা হল, আল্লাহর দিকে মানুষকে আহ্বান করা। ভালো কাজের প্রতি আহ্বান করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন

وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِمَّنْ دَعا إِلَى اللهِ.

কথায় কে উত্তম ঐ ব্যক্তির চেয়ে, যে মানুষকে আল্লাহর প্রতি আহ্বান করে। *(সূরা হা-মীম আসসাজদাহ (৪১) : ৩৩)*
 _নবম হক : হাঁচির জবাব দেয়া_ 

সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণ এটি মুসলিমের একটি বৈশিষ্ট্য। দৈনন্দিন জীবনের মাসনূন দুআগুলো আল্লাহর স্মরণের মাধ্যম। হাঁচি আসা, এটি আল্লাহর রহমত। এর মাধ্যমে শরীর থেকে অনেক জীবাণু বের হয়ে যায়। তাই হাঁচি এলে মুমিন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলে, আলহামদু লিল্লাহ। হাদীস শরীফে একেও পথ চলার হক বলা হয়েছে। সুতরাং পথেও এ সুন্নতের প্রতি খেয়াল রাখা কর্তব্য। 
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে

إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلْيَرُدَّ عَلَيْهِ مَنْ حَوْلَهُ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ، وَلْيَرُدَّ عَلَيْهِمْ: يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ.

কেউ হাঁচি দিলে বলবে, আলহামদু লিল্লাহ। এর জবাবে আশপাশে যারা থাকবে, বলবে ইয়ারহামুকাল্লাহ। প্রতি উত্তরে হাঁচিদাতা বলবে ইয়াহদীকুমুল্লাহু ওয়া ইউছলিহু বা-লাকুম। *(সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৭১৫)*


 _দশম হক : দম্ভভরে পথ না চলা_ 

দম্ভভরে পথচলার বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। 
 রাস্তায় কাউকে পাশ না দেয়া। অন্যের চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করা। 
অন্যের যানবাহন আটকে রেখে নিজের পথ সুগম করা। 
বুক ফুলিয়ে ও মাথা উঁচু করে হাঁটা ইত্যাদি। এ সবই বর্জনীয়। 
কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন

 وَ لَا تَمْشِ فِی الْاَرْضِ مَرَحًا  اِنَّكَ لَنْ تَخْرِقَ الْاَرْضَ وَ لَنْ تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُوْلًا .

ভূপৃষ্ঠে দম্ভভরে চলো না। তুমি তো পদভারে ভূমিকে বিদীর্ণ করে ফেলতে পারবে না এবং উচ্চতায় পাহাড় পর্যন্তও পৌঁছতে পারবে না। *(সূরা বনী ইসরাঈল (১৭) : ৩৭)*

আল্লাহ তাআলা আমলের তাওফীক দান করুন। আমিন।


সোমবার, ১০ জুন, ২০২৪

নামাজের সুফল লাভের উপায়

সোমবার, জুন ১০, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে


নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর সময়ের ভিত্তিতে ফরজ করা হয়েছে

মহান আল্লাহ কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, ‘জমিন ও আসমানের সকল প্রশংসা একমাত্র তারই। অতএব তোমরা আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করো (নামাজ পড়ো) সন্ধ্যায় (মাগরিব ও এশা) ও প্রত্যুষে (ফজর) এবং বিকেলে (আসর) ও দ্বিপ্রহরে (জোহর)।’ -(সুরা আর রূম : ১৭-১৮)

নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায়
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর সময়ের ভিত্তিতে ফরজ করা হয়েছে।’ -(সুরা আন নিসা : ১০৩)

কোরআনে কারিমে আরও ইরশাদ হয়েছে,
 ‘নামাজ কায়েম করো দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের কিছু অংশে। অবশ্যই পুণ্যকাজ পাপকে দূর করে দেয়। 
যারা শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের জন্য এটি উত্তম উপদেশ।’ –(সুরা হুদ : ১১৪)


 _নামাজের মাধ্যমে হেদায়েত লাভ_ 

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কোরআন সেই মুত্তাকিদেরকে মুক্তির পথ দেখাবে যারা জীবনে নামাজ কায়েম করে।’ -(সুরা বাকারা : ২-৩)

তিনি আরও বলেন,
 ‘এটা হেদায়েত ও সুসংবাদ ওই মুমিনদের জন্য, 
যারা নামাজ কায়েম করে, 
জাকাত দেয় এবং আখেরাতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।’ -(সুরা নামল : ২-৩)

কোরআনে কারিমে আরও ইরশাদ হয়েছে,
 ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, 
জাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য করো।
 আশা করা যায়, তোমাদের ওপর রহম করা হবে।’ -(সুরা নূর : ৫৬)

সন্তানদের নামাজের নির্দেশ
হজরত আমর বিন শোয়াইব (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের সন্তানদেরকে নামাজের নির্দেশ দাও যখন তারা সাত বছরে উপনীত হয়। আর দশ বছর হলে নামাজের জন্য প্রয়োজনে প্রহার করো এবং বিছানা পৃথক করো।’ –(সুনানে আবু দাউদ : ২৭২)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে অন্য জুমা, এক রমজান থেকে অন্য রমজান কাফফারা হয় সে সব গোনাহর জন্য, যা এ সবের মধ্যবর্তী সময়ে ঘটে থাকে, যদি কবিরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।’

 _নামাজ না পড়ার পরিণতি_ 

নামাজ না পড়া কঠিন শাস্তির কারণ। 
এ ছাড়া নামাজ না পড়ার কারণে আরও যেসব শাস্তি দেওয়া হবে এর অন্যতম হলো- তার চেহারা মলিন হবে।
 আল্লাহতায়ালা বলেন, 
‘কিয়ামতের দিন তার চেহারা উদাস ও অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে, 
যে কোরআনকে মেনে নেয়নি এবং নামাজ আদায় করেনি।’ -(সুরা কিয়ামা : ৩১)

 _আখেরাতে নামাজের হিসাবই প্রথমে হবে_ 

হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে নামাজের হিসাব সর্বপ্রথম নেওয়া হবে। যদি তা সঠিক হয় তাহলে সে সফল হবে, নাজাত পাবে। আর তা যদি খারাপ হয় তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। -(সুনানে তিরমিজি)

 _ইসলাম ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী_ 

হজরত জাবির (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আনুগত্য ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ।’ –(সহিহ মুসলিম)

মানবজীবনে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম।
 কোরআন মাজিদে অন্তত বিরাশি জায়গায় নামাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
কোরআন ও হাদিস ভালোভাবে অধ্যয়ন করলে বুঝা যায়, নিম্নোক্ত ছয়টি কাজ করলে নামাজের উদ্দেশ্য সফল হয়।

১. জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়।
২. সহি-শুদ্ধভাবে নামাজ আদায়।
৩. ধীরে ধীরে নামাজ আদায়।
৪. বিনীত ও বিনম্রভাবে নামাজ আদায়।
৫. বুঝে বুঝে নামাজ আদায়।
৬. নামাজের আলোকে জীবন গড়া।

আসলে নামাজ জামাতের সঙ্গে ফরজ হয়েছে, 
একা একা নয়। যাতে সমাজে চিন্তার ঐক্য ও চরিত্রের মাধুর্য সৃষ্টি হয় এবং পারস্পরিক যোগাযোগ, 
ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। 
তাই শুধু নামাজ পড়লেই হবে না, তার শিক্ষা মেনে চলতে হবে।

(মো. লুৎফর রহমান, অতিথি লেখক, ইসলাম)


রবিবার, ২ জুন, ২০২৪

পথ চলার আদব ও সুন্নত সমূহ পর্ব-০৪

রবিবার, জুন ০২, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে
চলার আদব ও সুন্নত সমূহ



পঞ্চম হক : পথহারাকে পথ দেখিয়ে দেওয়া_ 

পথ চলতে এমন অনেক মানুষ পাওয়া যায়, যারা পথ চেনে না। এমন পথিকদের পথ দেখিয়ে দেওয়া মহৎ নেক কাজ। এর গুরুত্ব কেবল পথহারা লোকেরাই উপলদ্ধি করতে পারে।  এটিকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদাকা বলে গণ্য করেছেন। তিনি বলেছেন

وَإِرْشَادُكَ الرَّجُلَ فِي أَرْضِ الضَّلاَلِ لَكَ صَدَقَةٌ.

পথ না চেনা ব্যক্তিকে পথ দেখিয়ে দেয়া তোমার জন্য একটি সদাকা। *(জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯৫৬)*

এলাকার বাইরে থেকে কোনো লোক কোনো এলাকায় এল। সে ঠিকানা বলতে পারে বা ব্যক্তির নাম বলতে পারে, কিন্তু তার বাড়ি চেনে না বা খুঁজে পাচ্ছে না। আমি এলাকার সব চিনি, শুধু একটু আন্তরিকতা থাকলেই তাকে পেরেশানী থেকে বাঁচাতে পারি।

হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত. তিনি হযরত আবু যর রা. থেকে তাঁর ইসলাম গ্রহণের পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। সে দীর্ঘ ঘটনার মাঝে রয়েছে যে, হযরত আবু যর রা. বলেন, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পুরোপুরি খোঁজ-খবর নিতে আমি নিজেই মক্কা শহরে পৌঁছলাম। কিন্তু তাঁকে চিনলাম না। কাউকে যে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব সে সাহসও হচ্ছিল না। ফলে আমি মসজিদে বসে রইলাম। হযরত আলী রা. আমাকে দেখে বুঝলেন আমি মুসাফির। সাথে করে বাসায় নিয়ে গেলেন। পানাহারের ব্যবস্থা করলেন। কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। দ্বিতীয় দিনও তিনি আমাকে মসজিদে ঐরকম দেখতে পেলেন, ফলে আগমনের উদ্দেশ্য জানতে চাইলেন। আমি কাউকে কিছু না বলার শর্তে তা জানালাম। তিনি আমাকে বললেন

أَمَا إِنَّكَ قَدْ رَشَدْتَ، هَذَا وَجْهِي إِلَيْهِ فَاتَّبِعْنِي، ادْخُلْ حَيْثُ أَدْخُلُ.

আপনি সঠিকের সন্ধান পেয়েছেন। আমিও সেদিকেই যাচ্ছি। আপনি আমার সাথে চলুন। আমি যেখানে প্রবেশ করব আমার সাথে সাথে প্রবেশ করবেন।

অতপর হযরত আলী রা. আমাকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছে দিলেন। *(সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৫২৮)*

এ ছিল দুনিয়া ও আখেরাতের পথহারাকে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় পথের সন্ধান দান।

এ আদবের অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হল, অন্ধ, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধিদের রাস্তা পারাপারে সাহযোগিতা করা।

 
 _ষষ্ঠ হক : মযলুম ও বিপদগ্রস্তের সাহায্য করা_ 

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। অনেকসময়ই রাস্তা-ঘাটে মানুষ যুলুমের শিকার হয়। বিপদের সম্মুখীন হয়। ফলে অন্যের সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। আমি অন্যের সাহায্যে এগিয়ে গেলে আল্লাহ আমার সাহায্য করবেন। আমি অপর ভাইকে বিপদ থেকে উদ্ধার করলে আল্লাহ কিয়ামতের দিন আমাকে মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করবেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন

 الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ، وَلَا يُسْلِمُهُ، مَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ فَإِنَّ اللَّهَ فِي حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ بِهَا كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

মুসলমানগণ পরস্পর ভাই ভাই। কেউ কারো প্রতি যুলুম করে না এবং শত্রুর কাছে হস্তান্তর করে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করবে আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করবেন। যে কোনো মুসলমানের একটি কষ্ট লাঘব করবে আল্লাহ তার কেয়ামতের দিনের একটি কষ্ট লাঘব করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটিও গোপন রাখবেন। *(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৮৯৩)*

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেন, একদা পথে এক ব্যক্তির খুবই তৃষ্ণা পেয়েছিল। সে একটি কূপ দেখতে পেয়ে তাতে নামল এবং পানি পান করে উঠে আসল। তখন দেখতে পেল, একটি কুকুর তৃষ্ণার জ্বালায় জিহ্বা বের করে হাঁপাচ্ছে এবং তৃষ্ণা মেটাতে কাদামাটি খাচ্ছে। তখন লোকটি মনে মনে বলল; আমার যেমন ভীষণ তৃষ্ণা পেয়েছিল, এ কুকুরেরও ঠিক তেমনি তৃষ্ণা পেয়েছে। সে কূপে নেমে চামড়ার মোজা ভরে পানি নিয়ে এল এবং কুকুরকে পান করাল। ফলে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন

يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَإِنَّ لَنَا فِي البَهَائِمِ لَأَجْرًا؟ فَقَالَ: فِي كُلِّ ذَاتِ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرٌ.

ইয়া রাসূলাল্লাহ! গবাদী পশুর ক্ষেত্রেও কি আমাদের জন্য প্রতিদান রয়েছে? উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রত্যেক প্রাণীতেই আজর-সওয়াব রয়েছে। *(সহীহ বুখারী, হাদীস ২৪৬৬)*

হযরত আবু মাসউদ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি পথে বিপদে পড়েছি (অর্থাৎ আমার বাহন মারা গেছে), আমার জন্য একটি বাহনের ব্যবস্থা করে দিন।
 নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাকে দেওয়ার মত কোনো বাহন আমার কাছে নেই। তবে তুমি অমুকের কাছে যাও। আশা করি সে তোমাকে বাহনের ব্যবস্থা করে দিবে। অতপর সে ঐ ব্যক্তির কাছে গেল এবং সে বাহনের ব্যবস্থা করে দিল। পুনরায় সে (পথিক) নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল এবং তা জানাল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি  (যে কোনো উপায়ে) কোনো সৎকর্মের পথ দেখাবে সে ঐ সৎকর্মকারীর সমান প্রতিদান পাবে। *(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫১২৯)*

 _সপ্তম হক :- বোঝা বহনকারীকে সহযোগিতা করা_ 

রাস্তায় চলাচলকারীদের মধ্যে কেউ থাকে খালি হাতে, কারো সাথে থাকে ভারি বোঝা। ভারি বোঝা যদিও একা বহন করা যায়, কিন্তু উঠানো বা নামানোর সময় কারো না কারো সাহায্যের প্রয়োজন পড়েই। যে ব্যক্তি এ কাজে সাহায্য করে তার জন্য বোঝা বহনকারীর হৃদয় থেকে দুআ আসে, এটাই স্বাভাবিক। আর আমি আল্লাহ্র সন্তুষ্টির নিয়তে কারো মাথা থেকে ভারি বোঝা নামিয়ে দিলাম তো হতে পারে এর অছিলায় আল্লাহ আমার গোনাহের বোঝা নামিয়ে দিবেন, মাফ করে দিবেন।

মাথায় করে ভারি বোঝা বহন করা কষ্টকর। এক্ষেত্রে যদি এমন হয়, আমার বাহনে আমি কারো ভারি বোঝা বহন করে দিলাম। সেটা উঠানো-নামানোর চেয়ে আরো বেশি ফযীলতের। তেমনি আমার বাহন আছে, আরেকজনের নেই। আমার বাহনে আরেকজনকে নিতে পারি। এক ভাইয়ের সাথে দেখা হল, আমি ও সে একই দিকে যাচ্ছি। সেক্ষেত্রে যদি আমার বাহনে তাকে উঠিয়ে নেইÑ এটা হবে অনেক বড় সওয়াবের কাজ।  হাদীস শরীফে এসেছে

وَتُعِينُ الرَّجُلَ فِي دَابَّتِهِ فَتَحْمِلُهُ عَلَيْهَا، أَوْ تَرْفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ.

কোনো ব্যক্তিকে সাওয়ারীতে ওঠানো বা তার সামানা বহনে সহযোগিতা করাও একটি সদাকা। *(সহীহ বুখারী, হাদীস ২৯৮৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০০৯)*

চলবে ইনশা'আল্লাহ


শনিবার, ১ জুন, ২০২৪

সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক সন্তানের কানে আজান ও সেবা-যত্ন নিয়ে অবহেলা নয়

শনিবার, জুন ০১, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে

সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক


 

নিয়ম হলো, সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক- ভূমিষ্ট হওয়ার পর ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত দেওয়া।  

কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, অনেকেই ছেলে সন্তান হলেই কেবল কানে আজান ইকামত দেয় কিন্তু মেয়ে সন্তান হলে আজান ইকামত দেয় না কিংবা শুধু আজান দেয়- ইকামত দেয় না।
 
এমন বৈষম্যমূলক চিন্তা ও কাজ ইসলামি শরিয়ত অনুমোদন করে না। এ ক্ষেত্রে ছেলে সন্তান বা মেয়ে সন্তানের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।
 
আবার অনেকেই এই আমলটির ব্যাপারে পুরোই অবহেলা করেন; এটাও অনুচিত।

কন্যা সন্তান হলে আজান ইকামত না দিয়ে এক ধরনের অসন্তুষ্টির কথা পরোক্ষভাবে প্রকাশ করা হয়।

যা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এমন চিন্তা জাহেলি যুগের চিন্তা।
যে যুগে কন্যা সন্তানের পিতা হওয়া ছিল ভীষণ লজ্জার বিষয়।
তাদের ওই অবস্থা তুলে ধরে কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয় তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শুনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে চেহারা লুকিয়ে রাখে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে রাখবে, না মাটির নিচে পুঁতে ফেলবে। শুনে রাখ, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট। ’ - *(সূরা নাহল: ৫৮-৫৯)*

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যা সন্তানকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হলো। ’ - *(সূর ইনফিতার: ৮-৯)*

এটা ছিল ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগের চিত্র। কিন্তু বর্তমান সময়! বর্তমান যুগ! এ তো শিক্ষা-দীক্ষার যুগ! সভ্যতার যুগ! বিজ্ঞান-প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার যুগ! এরপরও মানুষ কেন কন্যা সন্তানের জন্মে এমন আচরণ করবে?

দেখুন, সন্তান দেওয়া, না দেওয়া, কিংবা মেয়ের পরিবর্তে ছেলে বা ছেলের পরিবর্তে মেয়ে সন্তান প্রসবে এখতিয়ার কোনো মায়ের নেই। এ বিষয়ে পূর্ণ এখতিয়ার ও ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।  

এর পরও যদি কোনো হতভাগা কন্যা সন্তান জন্মের অপরাধে নারী নির্যাতন করে, কন্যা শিশুর সেবা-যত্নে অবহেলা করে- তাহলে সে নিশ্চয়ই আল্লাহর সামনে অপরাধী হিসেবে উত্থিত হবে।


শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪

স্ত্রী হিসেবে নারীর প্রাপ্য ও অধিকার

শুক্রবার, মে ২৪, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে


_*"স্ত্রী হিসেবে নারীর প্রাপ্য ও অধিকার,"*_ 

 আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারীদের অধিকার বিষয়ে মানব ইতিহাসে সর্বপ্রথম সরব হয়েছে ইসলাম। ইসলাম মা হিসেবে, বোন হিসেবে, নিকটাত্মীয় হিসেবে এবং স্ত্রী হিসেবে দিয়েছে ভিন্ন ভিন্ন অধিকার। সেসব অধিকার সমাজে বাস্তবায়িত হলে পরিবার হয়ে উঠবে এক টুকরো জান্নাত। স্ত্রীদের অধিকার ও প্রাপ্য নিয়ে লিখেছেন বিশিষ্ট ফতোয়া গবেষক ও মুহাদ্দিস মুফতি মাহমুদ হাসান*_ 


 _স্ত্রী হিসেবে নারীর প্রাপ্য ও অধিকার_ 

ইসলাম সব মানুষকে নিজ নিজ কর্তব্য আদায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। এ উপলব্ধি অন্তরে জাগ্রত করার নির্দেশ দেয় যে আমার কারণে যেন কেউ কষ্ট না পায়, আমাকে কেউ কষ্ট দিলে আমি ক্ষমা করে দেব। তাইতো অন্যের ওপর নিজ অধিকার কামনার প্রতি ইসলাম তেমন জোর দেয়নি। এর বিপরীতে বর্তমান পৃথিবীটা হচ্ছে অধিকার আদায়ের যুগ।

সবাই নিজ নিজ অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। অন্যের কাছ থেকে অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে চলছে দুর্বার আন্দোলন, মিছিল-মিটিং ও হরতাল-অবরোধ। তবে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সবাই কতটুকু মনোযোগী? শ্রমিক মালিক থেকে নিজ অধিকার আদায়ে ব্যস্ত, আবার মালিকপক্ষ চাচ্ছে তাদের পূর্ণ অধিকার। পুরুষ নিজ অধিকার আদায় করে নিতে বদ্ধপরিকর, নারী দাবি করছে আমার অধিকার দাও।
কিন্তু কোনো আল্লাহর বান্দা এ চিন্তা করার সুযোগ পাচ্ছে না যে আমার ওপর যে দায়িত্বগুলো ছিল, সেগুলো আমি যথাযথ পালন করছি তো, না তাতে কোনো অবহেলা হচ্ছে?
মহান আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন যে সবাই নিজ নিজ দায়িত্বে সক্রিয় হলে তখন কারো অধিকার ভূলুণ্ঠিত হবে না, সবাই নিজ নিজ অধিকার সুরক্ষিত পাবে। মালিক যখন তার দায়িত্ব পালনে সচেতন হবে, তখন শ্রমিকের অধিকারও যথাযথ আদায় হবে। স্বামী কর্তব্যপরায়ণ হলে আর স্ত্রীর অধিকার বাধাগ্রস্ত হয় না; স্ত্রী নিজ দায়িত্বে যত্নবান হলে স্বামীর অধিকার ক্ষুণ্ন হবে না। সবাই নিজ নিজ অবস্থানে অধিকার বুঝে পাবে।

অধিকার আদায়ে সংগ্রামের প্রয়োজন হবে না।
ইসলামে যেভাবে নারীর অধিকার সংরক্ষিত হয়েছে, ঠিক তেমনি স্থান পেয়েছে স্বামীর অধিকারও। তাই যেভাবে কোরআন-হাদিসে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য ও অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে, ঠিক তেমনি আলোকপাত হয়েছে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য ও অধিকার প্রসঙ্গেও। উপরোক্ত দৃষ্টিভঙ্গিই দাম্পত্য জীবনের প্রাণশক্তি। তাই স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেককে মাত্রাজ্ঞানের পরিচয় দিতে হবে।
বুঝতে হবে অধিকারের পরিমাণ এবং দাম্পত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে করতে হবে সেই বোধের চর্চা।

 _স্ত্রীর মর্যাদা_ 

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো। আর যদি তাকে তোমার অপছন্দও হয়, তবু তুমি যা অপছন্দ করছ আল্লাহ তাতে সীমাহীন কল্যাণ দিয়ে দেবেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো মুমিন পুরুষ মুমিন মহিলার ওপর রুষ্ট হবে না, কেননা যদি তার কোনো কাজ খারাপ মনে হয়, তাহলে তার এমন গুণও থাকবে, যার ওপর সে সন্তুষ্ট হতে পারবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪৬৯) 

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নারীদের প্রতি ভালো আচরণের উপদেশ দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫১৮৪)

অন্য হাদিসে রয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১১৬২)

ইসলামী শরিয়তে স্বামীর ওপর স্ত্রীর জন্য যে অধিকার সাব্যস্ত করেছে,
 তার সার কথা হলো : 
১. পূর্ণ মোহরানা আদায় করে দেওয়া, 
২. প্রয়োজনমাফিক অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের ভালো ব্যবস্থা করা; 
৩. স্ত্রীর সঙ্গে সদাচরণ করা; 
৪. মাঝেমধ্যে মাহরাম আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া, 
৫. প্রয়োজনমাফিক দ্বিন শেখানোর ব্যবস্থা করা; 
৬. ইসলামী শরিয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত রাখা, 
৭. প্রয়োজনমতো সহবাস ও জৈবিক চাহিদা পূরণ করা ইত্যাদি। (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯; আল-কাবায়ের, জাহাবি, পৃষ্ঠা ১৭৫)

 _পূর্ণ মোহরানা আদায় করে দেওয়া_ 

বিবাহের পর কোনো ওজর ছাড়া মোহরানা আদায়ে কালবিলম্ব করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। বর্তমানে আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করে, মহর শুধু কাগজে লেখার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ, তা বাস্তবে আদায় করতে হয় না, শুধু বিবাহ ভেঙে গেলে তা পুরুষপক্ষ থেকে মহিলাপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করে আদায় করে নিতে হয়—এ ধারণা ও কর্মপন্থা সম্পূর্ণ ভুল। বরং মোহরানা আদায়ের নিয়তবিহীন শুধু কাগজে লেখার জন্য মোহরানা নির্ধারণ করা মারাত্মক অন্যায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা নারীদের সন্তুষ্টচিত্তে তাদের মহর দিয়ে দাও।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে পুরুষ কোনো নারীকে বিয়ের সময় মোহরানা নির্ধারণ করে, তবে আল্লাহ তাআলা তার অন্তরের খবর জানেন যে তার তা আদায় করার নিয়ত নেই। ফলে সে আল্লাহর হকের মধ্যে ওই নারীকে ধোঁকা দিল এবং তার লজ্জাস্থানকে অন্যায়ভাবে ভোগ করল। এমন ব্যক্তি কেয়ামতের দিবসে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে ব্যভিচারী হিসেবে।’
(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৮৯৩২)

 _স্ত্রীর ভরণ-পোষণের অধিকার_ 

ইসলামী শরিয়ত মতে, বিবাহের পর থেকেই স্বামীর ওপর স্ত্রীর জন্য যেসব অধিকার সাব্যস্ত হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো স্ত্রীর ব্যয়ভার গ্রহণ করা। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সন্তানের পিতার ওপর সন্তানের মায়ের জন্য অন্ন-বস্ত্রের উত্তম পন্থায় ব্যবস্থা করা একান্ত দায়িত্ব।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৩৩)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা স্ত্রীদের জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের ঘরে বাসস্থানের ব্যবস্থা করো।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৬)

হাদিস শরিফে স্ত্রীদের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষদের নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তুমি যখন খাবে, তাকেও খাওয়াবে এবং তুমি যখন পরবে, তাকেও পরাবে। চেহারায় কখনো প্রহার করবে না, অসদাচরণ করবে না।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২১৪২, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৮৫০১)

ভরণ-পোষণের পরিমাণ : ভরণ-পোষণের ব্যাপারে শরিয়ত নিরেট পরিমাপ নির্ধারিত করে দেয়নি। বরং ইসলামী শরিয়তের ভাষায় স্ত্রীকে প্রয়োজন পরিমাণ ভরণ-পোষণ দেওয়া স্বামীর কর্তব্য। এর পরিমাণটি পরিবেশ-পরিস্থিতি, অবস্থা ও স্বামীর সামর্থ্যনির্ভর। (আল মুহিতুল বুরহানি : ৩/৫২৯-৫৩০, ফাতহুল কাদির : ৩/১৯৪)

মহানবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণে দীর্ঘ বয়ানের একপর্যায়ে বলেছিলেন, ‘অতএব, তোমরা স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো, কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত ও প্রতিশ্রুতির সঙ্গে গ্রহণ করেছ এবং তোমরা আল্লাহর হুকুমেই তাদের লজ্জাস্থানকে হালাল হিসেবে পেয়েছ...।’
(সহিহ মুসলিম : হাদিস ১২১৮)

 _স্ত্রীর মন প্রফুল্ল রাখার চেষ্টা করা_ 

বৈধতার সীমারেখায় স্ত্রীকে যথাসম্ভব আনন্দে ও প্রফুল্ল রাখা হলো স্বামীর প্রতি শরিয়তের নির্দেশ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কর্মপদ্ধতি দ্বারাও তা প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মুসলমানের জন্য সব খেল-তামাশা নিষিদ্ধ, তবে তার ধনুক থেকে তীর চালনা, ঘোড়া চালনা, স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের রসিকতা, কেননা এগুলো ন্যায়সংগত।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৬৩৭)

আয়েশা (রা.) সূত্রে এক সফরে (একটি জনমানবহীন নির্জন উপত্যকায়) নবী (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। পরবর্তী সময় আমি স্বাস্থ্যবান হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পেছনে ফেলে দিয়ে বিজয়ী হলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এ বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৫৭৮)

আয়েশা (রা.) বলেন, একদা মসজিদের কাছে হাবশি ছেলেরা যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলা করছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আর আমি হাবশিদের খেলা দেখছিলাম। যতক্ষণ না আমার খেলা দেখার শখ পূর্ণ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ততক্ষণ কষ্ট করে আমার জন্য পূর্ণ সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তোমরা ভেবে দেখো! একজন অল্পবয়সী খেলাপাগল মেয়ে কতক্ষণে তার শখ পূরণ হবে? (বুখারি, হাদিস : ৫২৩৬)

 _স্বামী প্রয়োজনীয় খরচ না দিলে করণীয়_ 

স্বামী যদি বিহিত কারণ ছাড়া স্ত্রী-সন্তানের তথা সাংসারিক জরুরি খরচ না করে, তাহলে স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়াও স্বামীর সম্পদ থেকে প্রয়োজনমতো অপচয় না করে খরচ করতে পারবে। হাদিস শরিফে এসেছে, সাহাবিয়া হিনদ বিনতে উতবা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (আমার স্বামী) আবু সুফিয়ান সংসারের খরচে সংকীর্ণতাকারী, সে আমার ও আমার সন্তানের প্রয়োজন পরিমাণ খরচ দেয় না, তাহলে আমি কি তার অগোচরে তার থেকে কিছু নিতে পারি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, হ্যাঁ, তুমি তোমার ও তোমার সন্তানের প্রয়োজন পরিমাণ তার অগোচরে তার থেকে নিতে পারবে। (বুখারি : হাদিস : ৫২৬৪, বাদায়েউস সানায়ে : ২/২৭)

তবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মালিকানা ভিন্ন হওয়ায় অনুমতি ব্যতীত একে অপরের সম্পদ ব্যয় করা অবৈধ। স্বামী যদি নিয়মমাফিক ভরণ-পোষণ ও স্বাভাবিক হাতখরচের জরুরত পূরণ করে থাকে, তাহলে তার কাছ থেকে তার অগোচরে টাকা-পয়সা নিয়ে নেওয়া এবং তাকে না জানিয়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা বৈধ হবে না
(আল বাহরুর রায়েক : ৪/১৭৭)

 _স্ত্রীর বাসস্থান_ 

কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা স্ত্রীদের জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের ঘরে বাসস্থানের ব্যবস্থা করো।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৬)

স্ত্রী যদি উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে হয়, তাহলে সে যদি স্বামীর যৌথ পরিবার থেকে ভিন্ন ঘরের দাবি করে, তাহলে স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে ভিন্ন ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। স্বামীর মা-বাবার সঙ্গে যৌথভাবে থাকতে স্ত্রী বাধ্য নয়। আর মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হলে তাকে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে একঘরে রাখা গেলেও তার পৃথক কক্ষ, টয়লেট, গোসলখানা, রান্নাঘরসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় জিনিস ভিন্ন করারও দাবি করতে পারবে। এ ক্ষেত্রেও স্বামীর পরিবারের সঙ্গে যৌথভাবে থাকতে স্ত্রীকে বাধ্য করা যাবে না। আর নিম্নবিত্ত পরিবারের হলে টয়লেট, গোসলখানা রান্নাঘর ইত্যাদি ভিন্ন দিতে বাধ্য না হলেও তার জন্য একটি পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে, যার হস্তক্ষেপ স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ করতে পারবে না। ওই কক্ষে স্বামীর মা-বাবা, ভাই-বোন বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করতে পারবে না। স্ত্রীর এ রকম কক্ষ দাবি করার অধিকার আছে। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২৩, রদ্দুল মুহতার : ৩/৬০১)

 _নিয়মিত হাতখরচ দেওয়া_ 

এখানে আরেকটি কথাও স্মর্তব্য যে ভরণ-পোষণের অর্থ শুধু এটিই নয় যে শুধু তাকে তিনবেলা খানা আর কাপড়-চোপড় ও থাকার ঘর দিলাম। বরং তাকে মাঝেমধ্যে প্রয়োজন পরিমাণে সামান্য হাতখরচও দেওয়া জরুরি। কেননা অনেক সময় দেখা যায়, এমন কিছু প্রয়োজন যা কারো কাছে চাইতে ইতস্তত বোধ হয়, তখন হাতখরচের টাকা দিয়ে পূরণ করতে পারবে। তাই স্বামীর এ ব্যাপারেও সচেতন হওয়া উচিত। তবে খরচের ক্ষেত্রে অপচয় থেকে বেঁচে থাকা সবার জন্য জরুরি। (বীবী কে হুকুক পৃ: ৪৯-৫০)

 _সদাচরণ করা_ 

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো। আর যদি তাকে তোমার অপছন্দও হয়, তবু তুমি যা অপছন্দ করছ, আল্লাহ তাতে সীমাহীন কল্যাণ দিয়ে দেবেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো মুমিন পুরুষ মুমিন নারীর ওপর রুষ্ট হবে না, কেননা যদি তার কোনো কাজ খারাপ মনে হয়, তাহলে তার এমন গুণও থাকবে, যার ওপর সে সন্তুষ্ট হতে পারবে।’ (সহিহ মুসলিম হাদিস : ১৪৬৯) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নারীদের প্রতি ভালো আচরণের উপদেশ দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫১৮৪)

অন্য হাদিসে রয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১১৬২)

 _শরিয়তে নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত রাখা_ 

রাসুলুল্লাহ (সা.) স্ত্রীদের সঙ্গে অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র ব্যবহার করতেন, তবে তাদের থেকে কোনো অন্যায় কথা বা কাজ প্রকাশ পেলে সঙ্গে সঙ্গে তা শুধরে দিতেন, এ ক্ষেত্রে কখনো শিথিলতা করতেন না এবং স্ত্রীদের ভালোবাসা তাঁর এ কাজে বাধা হতো না; বরং ভালোবাসার সঙ্গে সংশোধন করতেন।

হাদিস শরিফে এসেছে, ‘স্মরণ রেখো, তোমরা সবাই দায়িত্বপ্রাপ্ত, তোমরা সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, রাষ্ট্রপ্রধান তাঁর প্রজাদের হকের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবেন, পুরুষ তার পরিবার-পরিজনের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৮৯৩)

 _প্রয়োজনমাফিক শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা করা_ 

স্ত্রীর দ্বিন-দুনিয়ার প্রয়োজনমাফিক শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা করাও স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকার। এ ক্ষেত্রে কোরআনে নির্দেশ হলো, ‘তোমরা তোমাদের নিজেকে ও পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৬)

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তোমরা পরিবার-পরিজনকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দীক্ষা দাও। (তাফসিরে তাবারি : ২৩/৪৯১)

 _নেক আমলের প্রতি উৎসাহ দেওয়া_ 

হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে নিজে রাত্রি জাগরণ করে ইবাদত করতেন এবং স্বীয় পরিবারকেও জাগিয়ে দিতেন। (বুখারি, হাদিস : ২০২৪)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘ওই পুরুষকে আল্লাহ তাআলা রহম করুন, যে রাতে উঠে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও উঠিয়ে নামাজ পড়ায়, যদি সে উঠতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন তার চোখে কোমলতার সঙ্গে পানি ছিটিয়ে দেয়। ওই নারীকে আল্লাহ তাআলা রহম করুন, যে রাতে উঠে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে এবং তার স্বামীকেও উঠিয়ে নামাজ পড়ায়, যদি সে উঠতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন তার চোখে কোমলতার সঙ্গে পানি ছিটিয়ে দেয়।’
(আবু দাউদ, হাদিস : ১৩০৮)


 _শুধু আইনের বাঁধনে জীবন চলে না_ 

তবে শেষ কথা হলো, ইসলামে নৈতিকতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম তার অনুসারীদের আইনের ঊর্ধ্বে উঠে নৈতিকতার ওপর চলতেই উদ্বুদ্ধ করে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শুধু আইনের সম্পর্ক নয়; বরং তাদের সম্পর্ক হৃদয় ও আত্মার সম্পর্ক। শুধু আইনের বিশুদ্ধ উত্তাপের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারে না কোনো সুস্থ সমাজ। কল্যাণ তখনই আসবে, স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যখন আইনের গণ্ডি পেরিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের সুন্নতের ওপর চলতে সচেষ্ট হবে।


শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪

নারী সাহাবি উম্মে সুলাইমের অনন্য জীবন-আখ্যান*_

শনিবার, মে ১৮, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে


রুমাইছা বিনতে মিলহান আল-আনসারিয়্যা (রা.)। তার উপনাম উম্মে সুলাইম।

এ নামেই তিনি প্রসিদ্ধ। অনেক গুণ ও বৈশিষ্ট্যের আধার ছিলেন তিনি।
ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী সাহাবিদের অন্যতম। রাসুল (সা.) জান্নাতে তার উপস্থিতির শব্দ শুনেছেন।

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘স্বপ্নে আমি জান্নাতে প্রবেশ করি। হঠাৎ কারো নড়াচড়ার শব্দ শুনতে পাই।

ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তারা বললেন, রুমাইছা বিনতে মিলহান, আনাস ইবনে মালিকের মা। *(মুসলিম, হাদিস: ২৪৫৬; মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১১৯৫৫; তাবাকাতে ইবনে সাদ: ৮/৪২৯)*

জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আমি স্বপ্নে দেখলাম জান্নাতে প্রবেশ করেছি। হঠাৎ দেখি আমার সামনে আবু তলহার স্ত্রী রুমাইছা। *(বুখারি, হাদিস: ৩৬৭৯; মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১৫০০২; ইবনে হিববান, হাদিস: ৭০৮৪; সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৮১২৪)*

বৈবাহিক ও দাম্পত্য-জীবন
মালেক ইবনে নজরের সঙ্গে তার বিবাহ হয়েছিল। সেই ঘরেই আনাস (রা.) জন্মগ্রহণ করেন। তার ইসলাম গ্রহণ করায় ক্ষোভে স্বামী মালেক ইবনে নজর দেশত্যাগ করে সিরিয়ায় চলে যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। 
পরবর্তীতে তিনি সাহাবি আবু তালহা (রা.) এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
উম্মে সুলাইমের দ্বিতীয় বিবাহ সম্পর্কে আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, ইসলাম গ্রহণের পূর্বে হযরত আবু তালহা উম্মে সুলাইমকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। উত্তরে উম্মে সুলাইম (রা.) বলেন, আপনি কি জানেন, আপনি যে উপাস্যের পূজা করেন, তা জমি থেকে সৃষ্ট?
 তিনি বললেন, হ্যাঁ। উম্মে সুলাইম (রা.) বলেন, গাছ-গাছালির পূজা করতে আপনার লজ্জা করে না? আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। আপনি যদি আমার ধর্মের অনুসরণ করেন, তবেই আমি আপনাকে বিবাহ করবো। আপনার ইসলাম গ্রহণ করাটাই আমার জন্য মোহর হবে। আমি এছাড়া আর কোনো মোহর চাই না। তিনি বললেন, ঠিক আছে। আমি ভেবে দেখি। তারপর তিনি ফিরে এসে বললেন, আমিও আপনার ধর্মের অনুসারী। কালিমা পড়ে তিনি মুসলমান হয়ে গেলেন এবং উম্মে সুলাইমকে বিবাহ করেন। *(সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৩৩৪০; মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস: ১০৪১৭)*




যে ১৫ আমলে অবিরত রিজিক বাড়ে

শনিবার, মে ১৮, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে



মহান আল্লাহ বান্দার প্রতি অনেক দয়াশীল। তিনি মানুষের প্রতি দয়া করে কিছু আমলের বরকতে রিজিক বাড়িয়ে দেন। সমাজে অবহেলার কারণে অনেক মানুষ সাধারণত এসব কাজ থেকে বিরত থাকে। কুরআন-সুন্নাহর ঘোষণায় রিজিক বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি আমল আছে। সেগুলো কী...?

বরকত মানুষের জন্য জরুরি বিষয়। এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা দীর্ঘ হায়াত পেয়েছেন, সে হিসেবে ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি কিংবা আমল-ইবাদতেও বরকত নেই। আবার অনেকে কঠোর পরিশ্রম করেন কিন্তু প্রাপ্তি সেভাবে আসে না। কাজে কোনো বরকত নেই।

পক্ষান্তরে এমন অনেক লোক আছেন, যারা কম হায়াত পেয়েছেন কিন্তু ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্তুতি, আমল-ইবাদতে বরকত লাভ করেছেন। অনেক অল্প পূজিতে ব্যবসা এবং অল্প বেতনে চাকরি করার পরও তার রিজিকের অভাব নেই। পরিবারে অফুরন্ত বরকত।

সুতরাং সব কাজে বরকত অনেক জরুরি বিষয়। আর বান্দার রিজিক বৃদ্ধির কার্যকরী উপায়গুলো হলো-

১. নিয়মিত তাওবাহ-ইসতেগফার:
হরজত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যারা বেশি বেশি তাওবাহ-ইসতেগফার করে; তাদের সামনে যত সংকটই (অভাব) থাকুক না কেন, মহান আল্লাহ তাআলা তা সমাধান করে দেন।’ (মুসতাদরেকে হাকেম)

সুতরাং বেশি বেশি তাওবাহ-ইসেতগফার করা-

> أَستَغْفِرُ اللهَ

উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’

অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

> أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।‘

অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি।

> رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ

উচ্চারণ : 'রাব্বিগ্ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা (আংতাত) তাওয়্যাবুর রাহিম।'

অর্থ : 'হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবাহ কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়।'

> أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ : 'আস্‌তাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি।'

অর্থ : 'আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তাওবাহ করে) ফিরে আসি।'

২. আল্লাহর রাস্তায় দান বা ব্যয় করা

যারা আল্লাহর রাস্তায় দান করে, আল্লাহ তাআলা তাদের বেশুমার রিজিক দান করেন মর্মে মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে এভাবে ঘোষণা করেন-

قُلۡ اِنَّ رَبِّیۡ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِهٖ وَ یَقۡدِرُ لَهٗ ؕ وَ مَاۤ اَنۡفَقۡتُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَهُوَ یُخۡلِفُهٗ ۚ وَ هُوَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ

‘(হে রাসুল! আপনি)বলুন, নিশ্চয়ই আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সঙ্কুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় কর তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই উত্তম রিজিকতা।’ (সুরা সাবা : আয়াত ৩৯)

৩. তাকওয়ার ওপর অটল থাকা

আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং তাকে ভয় করলে তিনি বান্দার প্রতি বরকত বা কল্যাণ দান করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

> وَ مَنۡ یَّتَّقِ اللّٰهَ یَجۡعَلۡ لَّهٗ مَخۡرَجًا  - وَّ یَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَحۡتَسِبُ ؕ وَ مَنۡ یَّتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰهِ فَهُوَ حَسۡبُهٗ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بَالِغُ اَمۡرِهٖ ؕ قَدۡ جَعَلَ اللّٰهُ لِکُلِّ شَیۡءٍ قَدۡرًا

‘আর যে কেউ আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন। আর তাকে তার ধারণাতীত উৎস হতে রুযী দান করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করবে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট হবেন। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা পূরণ করবেনই। আল্লাহ সবকিছুর জন্য স্থির করেছেন নির্দিষ্ট মাত্রা।’ (সুরা তালাক : আয়াত ২-৩)

> وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُواْ وَاتَّقَواْ لَفَتَحْنَا عَلَيْهِم بَرَكَاتٍ مِّنَ السَّمَاء وَالأَرْضِ وَلَـكِن كَذَّبُواْ فَأَخَذْنَاهُم بِمَا كَانُواْ يَكْسِبُونَ

‘আর যদি সে জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং পরহেযগারী অবলম্বন (তাকে ভয়) করত, তবে আমি তাদের প্রতি আসমানি ও দুনিয়ার নেয়ামতসমূহ উম্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। সুতরাং আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি তাদের কৃতকর্মের বদলাতে।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৯৬)

সুতরাং শিরক, কুফর ও নেফাক থেকে নিজেদের ঈমানকে হেফাজত করতে হবে। সব হারাম থেকে বেঁচে থাকতে হবে। আল্লাহকে সব বিষয়ে বেশি বেশি ভয় করতে হবে। তবেই আল্লাহ তাআলা ওই বান্দার জন্য আসমানি ও জমিনের সব রিজিকে বরকতের দুয়ার খুলে দেবেন।

৪. আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা

আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে বরকত ও কল্যাণ নেমে আসে। এটি অনেক পরীক্ষিত একটি আমল। আত্মীয়-স্বজন তথা মা-বাবা, ভাই-বোন তথা রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা। হাদিসে এসেছে-

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কামনা করে যে, তার রিজিক বাড়াতে চায় বা প্রশস্ত করতে চায়; তার হায়াত বা আয়ুকে দীর্ঘ করতে সে যেন আত্মীয়-স্বজন, পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

৫. বার বার ওমরাহ করা

যারা অভাব কমাতে চায়, গোনাহ কমাতে চায় তাদের জন্য বার বার ওমরাহ করা জরুরি। হাদিসে এসেছে-

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ওমরাহ করে; ওমরাহ তার গোনাহ, তার অভাব অনেক দূরে পাঠিয়ে দেয়।’ (তিরমিজি)

৬. বিয়ে করা

রিজিক বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকরী আমল বিয়ে করা। যারা অবিবাহিত তারা নেক নিয়তে বিয়ে করলে মহান আল্লাহ তাদের অভাব দূর করে দেবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِن يَكُونُوا فُقَرَاء يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ

‘তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩২)

৭. আল্লাহর কাছে বেশি বেশি প্রার্থনা করা

অভাব থেকে মুক্ত থাকতে চাইলে, রিজিকে বরকত পেতে চাইলে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়ার বিকল্প নেই। যে কোনো বিষয়ে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করার কথা মহান আল্লাহ এভাবে বলেছেন-

وَ قَالَ رَبُّکُمُ ادۡعُوۡنِیۡۤ اَسۡتَجِبۡ لَکُمۡ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ عَنۡ عِبَادَتِیۡ سَیَدۡخُلُوۡنَ جَهَنَّمَ دٰخِرِیۡنَ

‘তোমাদের প্রতিপালক বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা অহংকারে আমার উপাসনায় বিমুখ, ওরা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা গাফির/মুমিনুন : আয়াত ৬০)

৮. অসহায়দের প্রতি সদয় আচরণ ও দান করা

দান ও সদাচরণে রিজিক বাড়ে। রিজিক বাড়াতে চাইলে অসহায়-অভাবিদের প্রতি সদয় আচরণ করা। অভাবিদের প্রতি দয়া করলে আল্লাহ রিজিক বাড়িয়ে দেন। হাদিসে এসেছে-

অসাহয়ের প্রতি দান ও সদাচরণে এ তাগিদ দিয়েছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ‘দান করার কিছু যদি না থাকে তবে একটি খেজুরের অংশ দিয়ে হলেও দান করার মাধ্যমে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা কর।’

৯. ইবাদতের জন্য নিজেকে ব্যস্ত রাখা

ইবাদত তথা নামাজে খুব বেশি মনোযোগী হওয়া। নিজে যেমন প্র্যত্যেক ওয়াক্তর নামাজ পড়তে হবে তেমনি পরিবারের লোকদের নামাজ পড়ানো ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। আর তাতে আল্লাহ রিজিক বাড়িয়ে দেবেন বলে এভাবে ঘোষণা করেছেন-

وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى

‘আপনি আপনার পরিবারের লোকদেরকে নামাজের আদেশ দিন এবং নিজেও এর ওপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোনো রিজিক চাই না। আমি আপনাকে রিজিক দেই এবং আল্লাহকে ভয় করার পরিণাম শুভ তথা কল্যাণকার।’ (সুরা ত্বাহা : আয়াত ১৩২)

১০. যে কোনো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন খাবার খায় আর যদি বিসমিল্লাহ বলে; তবে শয়তান ওই খাবারে অংশ নিতে পারে না। যেটুতু খাবার আছে তা (পরিমাণে কম হলেও) তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।

অনুরূপভাবে কেউ যদি ঘরে প্রবেশ করার সময় বিসমিল্লাহ বলে তখনও শয়তান তার সঙ্গে বাসায় ঢুকতে পারে না। এভাবে বান্দা যখন সব কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করে, তখন শয়তান সব কাজ থেকে মাহরুম হয়। আর আল্লাহ তাআলা সব কাজেই বরকত দান করেন।

১১. কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো

কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো খুবই জরুরি। কুরআন তেলাওয়াত, অধ্যয়ন এবং কুরআন অনুযায়ী জীবন গড়া। যে যতবেশি কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে তার জন্য ততবেশি বরকত নেমে আসবে।

যে ঘরে কুরআন তেলাওয়াত হবে, কুরআনের চর্চা হবে, কুরআনের ওপর আমল করা হবে, সে ঘরেই নেমে আসবে আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত ও কল্যাণ। আল্লাহ তাআলা একাধিক আয়াতে বলেন-

> وَهَـذَا كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُواْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

‘এটি এমন একটি কিতাব, যা আমি অবতীর্ণ করেছি, খুব মঙ্গলময়, অতএব, এর অনুসরণ কর এবং ভয় কর; যাতে তোমরা করুণাপ্রাপ্ত হও।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১৫৫)

> وَهَـذَا كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ مُّصَدِّقُ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَلِتُنذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالآخِرَةِ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَهُمْ عَلَى صَلاَتِهِمْ يُحَافِظُونَ

‘এ কুরআন এমন কিতাব, যা আমি নাজিল করেছি; বরকতময়, আগের গ্রন্থের সত্যতা প্রমাণকারী এবং যাতে আপনি মক্কাবাসী ও পাশ্ববর্তীদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন। যারা পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তার স্বীয় নামাজ সংরক্ষণ করে।’ (সুরা আনআম: আয়াত ৯২)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা এ কিতাব (কুরআন) দিয়ে বহু মানুষকে (বরকতের মাধ্যমে) ওপরে ওঠাবেন। আবার বহু মানুষকে নিচে নামাবেন।’(মুসলিম)

অর্থাৎ যা কুরআনুল কারিমে অনুসরণ করবেন, তাদের জন্য এ কিতাব হবে বরকতের কারণ। আর যারা এ থেকে দূরে সরে যাবে তা হবে তাদের জন্য অমঙ্গলজনক হওয়ার কারণ।

১২. সকালবেলা কাজ শুরু করা

দিনের শুরুতে কাজ শুরু করা। যদি কারো অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য একটু বেলা করে হয় তাতে কোনো অসুবিধা নেই। বরং নিজ ঘরের কাজ দিয়ে হলেও সকাল সকাল কাজ শুরু করা। কেননা সকালবেলার কাজে আল্লাহ তাআলা বরকত দান করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করেছেন-

اللَّهُمَّ بَارِكْ لِأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا

হে আল্লাহ! আপনি আমার উম্মতকে সকালবেলা বরকত দান করবেন।

অন্য বর্ণনায় এসেছে- তিনি বলেছেন, আমার উম্মতের জন্য সকালবেলার সময়টাতে বরকত দেয়া হয়েছে।

সুতরাং কেউ যদি সকালের সময়টিতে ঘুমিয়ে থাকে তবে কিভাবে বরকত আসবে। এ কারণেই দিনের শুরুতে মহান আল্লাহর নাম নিয়ে কাজ শুরু করার মাধ্যমে বরকত ও কল্যাণ করা জরুরি।

১৩. আল্লাহর ওপর ভরসা করা

বরকত লাভের অন্যতম চাবি বা আমল হলো আল্লাহর ওপর ভরসা করা। মুমিন যত বেশি আল্লাহর ওপর ভরসা করবে ততবেশি তাকে সাহায্য করবেন। পক্ষান্তরে আল্লাহর প্রতি আস্থা, নির্ভরতা বা ভরসা যতি বেশি কমবে, সে ততবেশি অপমাণিত ও লাঞ্ছিত হবে। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘আল্লাহর প্রতি যেরকম ভরসা বা আস্থা রাখা দরকার, তোমরা যদি সেই মাপের আস্থা রাখতে পার, তাহলে আল্লাহ তাআলা পাখিকে যেভাবে রিজিক দেন তোমাদেরও সেভাবে রিজিক দেবেন।’

১৪. সালামের ব্যাপক প্রচলন করা

পরিপূর্ণ, সুস্পষ্ট বিশুদ্ধ সালামের ব্যাপক প্রচলন করা বরকত লাভের অন্যতম মাধ্যম। পরিপূণ সালাম হলো-

اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَ رَحْمَةُ اللهِ وَ بَرَكَاتُهُ

উচ্চারণ : ‘আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।’

অর্থ : ‘আপনার উপর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।’

এ সালের পুরোটাই শান্তি, রহমত ও বরকতের দোয়া। যারা নিয়মিত বেশি বেশি সালামের ব্যাপক প্রচালন করার চেষ্টা করেন। ঠিক সালামের উত্তরদানকারী ব্যক্তিও ঠিক একই দোয়া করেন-

‘আপনার ওপরও শান্তি, রহমত ও বরকত নাজিল হোক।’

সুতরাং জীবনে বরকত লাভে সহজ ও প্রচলিত এ আমলগুলোর প্রতি একটু খেয়াল রাখলেই বা যত্নবান হলেই জীবনে নেমে আসবে অবিরত রহমত, বরকত।

১৫. আল্লাহর জন্য হিজরত করা

আল্লাহ তাআলা অনেক নেয়ামত দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে রেখেছেন, তা অনুসন্ধানে হিজরত বা দেশে-বিদেশ ভ্রমণ করা। আল্লাহ তাআলা দুনিয়াব্যাপী ভ্রমণ তথা রিজিকের তালাশ করা।

উল্লেখিত কাজগুলো যথাযথভাবে আদায় করতে পারলে মহান আল্লাহ বান্দার সব অভাব দূর করে দেবেন। রিজিকে বরকত দেবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সহজ এ আমলগুলোর মাধ্যমে রিজিকে বেশি বেশি বরকত লাভের তাওফিক দান করুন। উল্লেখিত আমলগুলো নিয়মিত পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

_*আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক*_
 _শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা"_ 
*তিরমিযীঃ২৬৭৪*


বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

মাত্র ৪০ দিনে নিজের জীবন পরিবর্তনের ২০টি চ্যালেঞ্জ

বুধবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৩ 0
বার দেখা হয়েছে



মাত্র ৪০ দিনে নিজের জীবন পরিবর্তনের ২০টি চ্যালেঞ্জ-

১. ঘুমানোর আগে তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়ত করা।
২. ঘুম থেকে উঠার পর দোয়া পড়া, মেসওয়াক করা।
৩. ওযুর করার পড়ে কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করা।

৪. রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া।
৫.ফযরের আগে গোসল করা।
৬. আযান শোনা ও আযানের উত্তর দেওয়া।

৭.ফযরের সুন্নত ও ফরজ আদায় করা।
৮. সূর্যোদ্বয়ের আগে কোরআন তিলাওয়াত করা।
৯. সূর্যোদ্বয়ের পরে ইশরাকের নামাজ আদায় করা।

১০. প্রতিদিন ১২ রাকাত সুন্নাত নামাজ আদায় করা।
১১. সালাতুল দোহা আদায় করা।
১২. সময়মতো ফযর, যোহর, আছর,
মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করা।

১৩. প্রতি ফরয নামাজের পর আয়াতুল কুরসি, ৩ কুল পাঠ করা।
১৪.প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার সুন্নত রোজা রাখা।
১৫. প্রতিমাসে আইয়ামে বীজের রোজা রাখা।
১৬. প্রতি শুক্রবার সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা।

১৭. প্রতিদিন সূরা ওয়াকিয়াহ ও সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করা।
১৮. প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে সূরা মূলক ও
সূরা বাক্কারার শেষ ২ আয়াত তিলাওয়াত করা।
১৯.প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে আল্লাহর কাছে
ক্ষমা চাওয়া। আর সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া।

২০. দিনে অন্তত ৭০ বার ইস্তেগফার করা।
আল্লাহ সবাইকে হেদায়েত দান করুন এবং সবাইকে
বেশি বেশি আমল করার তৌফিক দান করুন। আ-মীন।


_*শুধুমাত্র বিশ্বাসী সেইসব ব্যক্তিবর্গের জন্যই এই পোস্ট যারা ভালোবেসে সুন্নাতকে নিজেদের জীবনে ধারণ করেন। এর বাইরে যারা এই পোস্ট পাঠ করবেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং শুভকামনা।*_




প্রতিবেশী

বুধবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৩ 0
বার দেখা হয়েছে






“হে মুসলিম রমনীগণ! কোনো প্রতিবেশিনী যেন অপর প্রতিবেশিনীকে তুচ্ছজ্ঞান না করে, এমনকি বকরীর একটি ক্ষুর উপঢৌকন পাঠালেও নয়।” *(বুখারী, হাদিস নং- ২৪২৭)*

“হে আবূ যর! যখন তুমি তরকারি পাকাও, তখন তাতে একটু বেশি পানি দিয়ে ঝোল বাড়াও এবং তোমার প্রতিবেশিকে পৌঁছাও।” *(মুসলিম, হাদিস নং- ৬৮৫৫)*

আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ্য করে বললেন: আমার তো দুইজন প্রতিবেশী আছে, আমি তাদের কার কাছে উপঢৌকন পৌঁছাবো? 
তখন তিনি বললেন:
“উভয়ের মধ্যে যার ঘর তোমার বেশি কাছে হয়, তার কাছে পাঠাও।” *(বুখারী, হাদিস নং- ২১৪০)*

এক মহিলা খুব নামাজ পড়ে। রোজা রাখে। দান-সদকাও করে। কিন্তু কথা বলার সময় প্রতিবেশীকে খোঁচা মেরে কথা বলে। কষ্ট দেয়। এমন মহিলার ব্যাপারে আপনার কী অভিমত ইয়া রাসূলাল্লাহ?
- সে জাহান্নামি!
আরেক মহিলা কোনো মতো ফরজ ইবাদতগুলো করে। অল্পই দান-সদকার সামর্থ্য রাখে। কিন্তু সে কাউকে খোঁচা মেরে কথা বলে না। এ মহিলার ব্যাপারে আপনার কী অভিমত ইয়া রাসূলাল্লাহ?
- সে জান্নাতি! *[আল-আদাবুল মুফরাদ, ইমাম বুখারী (১১৯); সহিহ ইবনে হিব্বান, (৫৭৬৪)*

অথচ আজকাল ঠেস দিয়ে কথা বলাটা একটা 'যোগ্যতা' জ্ঞান করা হয়। আমরা যতটা ভালো মুসলিম তার জীবন্ত সাক্ষী আমাদের স্বভাব-চরিত্র।


করজে হাসানা উত্তম ইবাদত

বুধবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৩ 0
বার দেখা হয়েছে





আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের আশায়, সওয়াবের নিয়তে বিনা শর্তে কাউকে ঋণ দিলে তাকে ‘করজে হাসানা’ বা উত্তম ঋণ বলে। উত্তম ঋণ মূলত সেই ঋণ, যা ঋণগ্রহীতাকে চাপে ফেলে না। অর্থাৎ এই ঋণের মূল পয়েন্টই হচ্ছে ঋণদাতা কোনোভাবেই ঋণগ্রহীতাকে ঋণ আদায় করার জন্য তাগাদা দেবে না। যেমনটি সুরা বাকারায় ইরশাদ হয়েছে— ‘যদি ঋণগ্রহীতা অভাবগ্রস্ত হয়, তবে তার সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেওয়া উচিত। আর যদি ক্ষমা করে দাও, তবে তা খুবই উত্তম। যদি তোমরা উপলব্ধি কর।’ (সুরা বাকারা: ২৮০)


গ্রহীতাকে ঋণ পরিশোধের জন্য যত বেশি সময় দেওয়া হয়, ততই ঋণদাতার আমলনামায় সওয়াব যোগ হয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে পুরো ঋণ শোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে—এমন ঋণগ্রস্তকে যে ঋণ পরিশোধ করার জন্য সময় দেয়, ওই ব্যক্তিকে এমন সওয়াব দেওয়া হবে, যেন সে প্রতিদিনই সমপরিমাণ টাকা সদকা করছে। আর ঋণ পরিশোধের সময় চলে যাওয়ার পরও যে ঋণগ্রস্তকে সময় বাড়িয়ে দেয়; তাতে অতিরিক্ত প্রতিটি দিনের জন্য তাকে এমন সাওয়াব দেওয়া হবে, যেন সে প্রতিদিন ধার দেয়া টাকার চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা সদকা করছে।’ (মুসনাদে আহমদ)

কোরআন হাদিসে করজে হাসানার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সদকা বা দান ইসলামে সৎকর্ম হিসেবে বিবেচিত হলেও এর চেয়েও উত্তম হচ্ছে করজে হাসানা দেওয়া। আর এ কারণে খোদ সৃষ্টিকর্তাই করজে হাসানা চেয়েছেন তাঁর বান্দাদের কাছ থেকে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে— ‘কে আছো, যে আল্লাহকে করজে হাসানা প্রদান করবে? তিনি তাহার জন্য ইহা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন’ (সুরা বাকারা: ২৪৫)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করো, তবে তিনি তোমাদের জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী ও ধৈর্যশীল।’ (সুরা তাগাবুন: ১৭)

আল্লাহ তাআলা করজে হাসানা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আরও ইরশাদ করেছেন, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি; তোমরা যদি সালাত কায়েম করো, জাকাত দাও, আমার রাসুলদের ওপর ঈমান আনো ও সম্মান করো এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ (করজে হাসানা) প্রদান করো, তাহলে তোমাদের পাপ অবশ্যই মোচন করব এবং নিশ্চয়ই তোমাদের দাখিল করব জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। এরপরও কেউ কুফরি করলে সে তার সরল পথ হারাবে। (সুরা মায়েদা: ১২)

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করে তার দরজায় একটি লেখা দেখতে পেল যে, সদকার নেকি ১০ গুণ বৃদ্ধি করা হয় এবং ঋণ দানের নেকি ১৮ গুণ বৃদ্ধি করা হয়।’ (সিলসিলা সহিহাহ: ৩৪০৭)

দান বা খয়রাত ফেরত দিতে হয় না কিন্তু করজে হাসানা ফেরত দিতে হয়। এরপরেও প্রায় দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়ার কারণ কী? মূলত আল্লাহপাক প্রতিটি মানুষকে স্বাবলম্বী করার ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন। এটি স্বাবলম্বী করারই নিদর্শন। হজরত আবু দারদা (রা.) বলেন, ‘কাউকে দুই দিনার ঋণ দেওয়া আমার কাছে এই দুই দিনার সদকা করার চেয়ে বেশি প্রিয়’ (ইবনে আবি শায়বা: ২২৬৮২)

যদিও অনন্যোপায় হলে তবেই ঋণ নেওয়া উচিত, এর আগে নয়। কেননা রাসুল (স.) ঋণ নেওয়া থেকে নিজেকে যতদূর সম্ভব বিরত রাখতেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুসলমানরা, তালির ওপর তালিযুক্ত ছিন্নবস্ত্র পরিধান করা, ঋণ গ্রহণ অপেক্ষা উত্তম, যদি তা শোধ করার শক্তি না থাকে। (মুসনাদ আহমদ)। রাসুলুল্লাহ (স.) আরও বলেছেন, হে মুসলমানরা ঋণ গ্রহণ থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, ঋণ রাত্রীকালে মর্ম বেদনা ও দুঃশ্চিন্তা সৃষ্টি করে এবং দিনের বেলায় অপমান ও লাঞ্চনায় লিপ্ত করে। (বায়হাকি)

এরপরও করজে হাসানা আর্থিক ইবাদতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। কোরআনে কারিমে ব্যবহৃত করজে হাসানা (উত্তম ঋণ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- আল্লাহ তাআলার রাস্তায় খরচ করা, অভাবী, এতিম ও বিধবাদের ব্যয়ভার বহন করা, ঋণী ব্যক্তিদের ঋণ পরিশোধে সাহায্য করা এবং নিজ সন্তানাদি ও পরিবারের ওপর খরচ করা। মোটকথা, মানবকল্যাণের যত দিক আছে সবগুলোই এর অন্তর্ভুক্ত। এমনিভাবে কোনো অভাবী ও চিন্তাগ্রস্থকে এই নিয়তে ঋণ দেওয়া যে, ওই ব্যক্তি যদি স্বীয় সামর্থ্য ও চিন্তার দরূণ ঋণ পরিশোধ করতে না পারে, তবে তার কাছে আর চাওয়া হবে না। এটাও করজে হাসানার অন্তর্ভুক্ত।

ইসলামি আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় করজে হাসানার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই দানশীল নর-নারী, যারা আল্লাহকে উত্তমরূপে ধার দেয়, তাদের দেয়া হবে বহুগুণ। তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।’ (সুরা হাদিদ: ১৮)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অন্য মুসলমানের বিপদে-আপদে উত্তম ঋণ দেওয়ার মানসিকতা দান করুন। ঋণগ্রহীতাকে ঋণ পরিশোধের তাওফিক দান করুন। আমিন। (সূত্র- সংগৃহীত)
________ ______

( মৃত্যু...❌

মৃত্যু আসিতেছে...❌
যেকোনো সময়...❌
যেকোনো জায়গায়...❌
যেকোনো অবস্থায়...❌
আমাকে থামিয়ে দিবে...❌

অথবা
আমার প্রিয়জনকে আমার থেকে কেড়ে নিবে...❌

আমি কি তৈরি...❓

আসুন আল্লাহকে ভয় করি... মৃত্যুকে স্মরণ রেখে পথ চলি... সুন্নতি জীবন গড়ি...) 



গোপন গুনাহ থেকে বাঁচার উপায়

বুধবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৩ 0
বার দেখা হয়েছে




গোপন পাপ ধ্বংস ডেকে আনে। এর থেকে বাঁচার উপায় হলো-

১. আল্লাহ তাআলার কাছে বেশি বেশি কান্নাকাটি করে দোয়া করা। তিনি যেন তার অবাধ্যতা, নাফরমানি ও সব ধরনের গুনাহ থেকে রক্ষা করেন।

২. নফস তথা আত্মার সঙ্গে লড়াই করা, মনের কুমন্ত্রণা দূর করা এবং আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করা।

৩. কিয়ামতের দিন গোপন গুনাহকারীদের আমলগুলো ধূলিকণার মতো উড়িয়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করা।
হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, মহানবী (সা.) বলেন, ‘আমি আমার উম্মতের কিছু মানুষ সম্পর্কে জানি, যারা কিয়ামতের দিন তিহামার (বিখ্যাত পাহাড়) শুভ্র পর্বতমালা সমতুল্য নেক আমল নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু আল্লাহ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন। সাওবান (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করুন, যাতে অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই।

তিনি বললেন, তারা তোমাদেরই ভ্রাতৃগোষ্ঠী এবং তোমাদের সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতোই ইবাদত করবে। কিন্তু তারা এমন লোক, যারা একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত কর্মে (গোপন গুনাহ) লিপ্ত হবে। ’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪১৮)

৪. আল্লাহ তাআলার উপস্থিতির কথা চিন্তা করা।তিনি আমাকে সর্বদা দেখছেন এবং এ ব্যাপারে তাঁকে ভয় করা। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘...নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক। ’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১)

৫. গুনাহ করার সময় এ কথা চিন্তা করা, কেউ কি দেখলে আমি এমন গুনাহ করতে পারতাম? এভাবে নিজের ভেতরের লজ্জাবোধ জাগ্রত করা। এ বিষয়ে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি তোমার পরিবারের কোনো প্রভাবশালী সদস্যকে যেমন লজ্জা পাও, আল্লাহকে (কমপক্ষে) তেমন লজ্জা করো। ’ (মুসনাদুল বাজ্জার : ৭/৮৯)

৬. এ চিন্তা করা, গুনাহরত অবস্থায় যদি আমার মৃত্যু হয়, তাহলে কিভাবে আমি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করব? মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তিকে (কিয়ামতের দিন) ওই অবস্থায় ওঠানো হবে, যে অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করেছে।
’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২০৬)

৭. অবসরে জিকির ও ফিকিরে থাকার চেষ্টা করা। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে নিদর্শনাবলি রয়েছে বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষের জন্য। যারা দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে আর বলে, হে আমাদের রব! আপনি এগুলো নিরর্থক সৃষ্টি করেননি। আপনি পবিত্র। আপনি আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯০-১৯১)।

মহান আল্লাহপাক আমাদের সকল গোপন গুনাহ থেকে বাঁচার তাওফিক দান করুন।
(সংগৃহীত)
_______ _______

( মৃত্যু...❌

মৃত্যু আসিতেছে...❌
যেকোনো সময়...❌
যেকোনো জায়গায়...❌
যেকোনো অবস্থায়...❌
আমাকে থামিয়ে দিবে...❌

অথবা
আমার প্রিয়জনকে আমার থেকে কেড়ে নিবে...❌ 

আমি কি তৈরি...❓ 

আসুন আল্লাহকে ভয় করি... মৃত্যুকে স্মরণ রেখে পথ চলি... সুন্নতি জীবন গড়ি...) 
-------------
{ প্রতিনিয়ত ঈমান আমল সংক্রান্ত দ্বীনি এরকম ভিন্ন ভিন্ন উপকারী পোস্ট পেতে আমাদের পেইজে  জয়েন থাকুন।


জুমআর দিনের অত্যন্ত দামী একটি সুন্নত আমল।

বুধবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৩ 0
বার দেখা হয়েছে



১) “আল্ল-হুম্মা সল্লি 'আলা মুহাম্মাদ, ওয়া 'আলা আ~লি মুহাম্মাদ”

২) “আল্ল-হুম্মা সল্লি'আলা মুহাম্মাদ, আল্ল-হুম্মা বা-রিক 'আলা মুহাম্মাদ”

৩) “আল্ল-হুম্মা সল্লি ওয়াসাল্লিম 'আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ”

৪) “ওয়াস সলাতু ওয়াস সালামু 'আলা রসূলিল্লাহ”

৫) “সল্লল্ল-হু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম”

⭕ কমপক্ষে ১ বার পড়ুন সকল দরুদ গুলি ইনশাআল্লাহ।

⭕ মহান আল্লাহ্ পাক বলেন আমি আল্লাহ্ নিজে ও আমার ফেরেস্তাগন দুরুদ পাঠ করি রাসূল (স.) ওপর সুবহানাল্লাহ্। 

নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবির প্রতি সালাত (দরূদ) পেশ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত (দরূদ) পেশ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’
(সুরা আহজাব : আয়াত ৫৬)

⭕ তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।
 (আবু দাউদ: ১০৪৭)


যে পাপে নিমজ্জিত বেশির ভাগ মানুষ

বুধবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৩ 0
বার দেখা হয়েছে



গিবত সমাজের বহুল প্রচলিত পাপ। 
এই পাপ নীরব ঘাতকের মতো।
মনের অজান্তেই এটা ব্যক্তির ভালো কাজ বিনষ্ট করে দেয়।
এটি ব্যভিচার ও মরা মানুষের পচা গোশত খাওয়ার চেয়েও নিকৃষ্টতম কাজ।

সমাজের বেশির ভাগ মানুষ এই পাপে নিমজ্জিত।
গিবত শব্দের অর্থ পরনিন্দা করা, 
দোষচর্চা করা, 
কুৎসা রটনা, 
পেছনে সমালোচনা করা, 
কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ অন্যের সামনে তুলে ধরা।
গিবতের পরিচয় সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, 
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, 
তোমরা কি জানো গিবত কী? সাহাবিরা বলেন, 
এ ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সর্বাধিক অবগত। 
তখন নবী (সা.) বলেন, (গিবত হচ্ছে) তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে এমন কিছু বলা, 
যা সে অপছন্দ করে।
জিজ্ঞেস করা হলো,
‘আমি যা বলছি,
তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, 
তাহলে আপনার অভিমত কী?’
তিনি বলেন, 
তুমি তার (দোষ-ত্রুটি) সম্পর্কে যা বলছ, সেটা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহলে তুমি তার গিবত করলে। 
আর যদি সেই (ত্রুটি) তার মধ্যে না থাকে, তাহলে তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে। *(আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৭৪; তিরমিজি, হাদিস : ১৯৩৪)*

 _গিবতের মূল মাধ্যম চারটি :_ 

১. জিহ্বার গিবত : 
গিবতের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো জিহ্বা। আলাপচারিতা, কথাবার্তা ও বক্তৃতায় জবানের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি গিবত হয়।

২. অন্তরের গিবত : 
কুধারণা করা, হিংসা, অহংকার এবং কেউ গিবত করলে সেটা অন্তর দিয়ে মেনে নেওয়া বা তা সমর্থন করার মাধ্যমে অন্তরের গিবত হয়।

৩. ইশারা-ইঙ্গিতের গিবত : কখনো কখনো চোখ, হাত ও মাথার ইশারার মাধ্যমেও গিবত হয়ে থাকে।

৪. লেখার মাধ্যমে গিবত : মানুষের মনের ভাব ও মতামত প্রকাশের একটি বড় মাধ্যম হলো লেখা। তাই লেখার মাধ্যমেও গিবত হতে পারে। 
ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, ‘লেখার মাধ্যমেও গিবত হয়ে থাকে।
কেননা কলম দুই ভাষার একটি।’ *(ইহয়াউ উলুমিদ্দিন : ৩/১৪৫)*

 _গিবতের বিধান_ 
গীবত করার বিধান দুই ভাগে বিভক্ত। 
(১) গিবত করার বিধান। 
(২) গিবত শোনার বিধান।

১. গিবত করার বিধান : গিবত একটি জঘন্য পাপ। গিবতের মাধ্যমে হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়।

২. গিবত শোনার বিধান : গিবত করা যেমন মহাপাপ, তেমনি খুশি মনে পরনিন্দা শোনাও পাপ। 
মহান আল্লাহ মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন, 
‘তারা যখন অসার বাক্য শ্রবণ করে তখন যেন তা উপেক্ষা করে।’ *(সুরা : কাসাস, আয়াত : ৫৫)*

ওলামায়ে কেরাম বলেন, গিবতকারী ও গিবত শ্রবণকারী উভয়ই সমান পাপী। *(মাওসুআতুল আখলাক : ২/৪০৭)*

 _গিবতের ভয়াবহতা_ 
 _গিবত করা কবিরা গুনাহ_ : 

অন্যান্য পাপের তুলনায় গিবতের প্রভাব ও পরিণাম বেশি ভয়ংকর।
 রাসুলুল্লাহ (সা.) গিবতের ভয়াবহতা বুঝাতে যে উপমা দিয়েছেন, অন্য কোনো মহাপাপের ব্যাপারে এত শক্তভাবে বলেননি।
 যেমন আয়েশা (রা.) বলেছেন, 
আমি একবার ছাফিয়া [রাসুল (সা.)-এর স্ত্রী]-এর দিকে ইশারা করে বললাম, 
সে তো বেঁটে নারী। 
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 
তুমি তো তার গিবত করে ফেললে। *(মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২৫৭০৮)*

অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, তুমি এমন একটি কথা বলেছ, যদি তা সমুদ্রে মিশিয়ে দেওয়া হয়, তবে সমুদ্রের পানির রং পাল্টে যাবে। *(তিরমিজি, হাদিস : ২৫০২)*

 _মানুষের গোশত খাওয়ার চেয়েও নিকৃষ্ট পাপ_ 
মানুষের গোশত খাওয়া হারাম। 
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ গিবত করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
 ইরশাদ হয়েছে, 
‘আর তোমরা ছিদ্রান্বেষণ করো না এবং পরস্পরের পেছনে গিবত করো না। 
তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করে? 
আসলে তোমরা সেটি অপছন্দ করে থাক।’ *(সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)*

 _ব্যভিচার ও সুদের চেয়েও নিকৃষ্ট পাপ_ 

সমাজে প্রচলিত পাপগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানীয় জঘন্য পাপ হলো ব্যভিচার ও সুদ। আর ব্যভিচার ও সুদের চেয়েও ক্ষতিকর ও নিকৃষ্ট পাপ হলো গিবত। বারা ইবনে আজেব (রা.) থেকে বর্ণিত, 
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, গিবতের ৭২টি দরজা আছে। তন্মধ্যে নিকটবর্তী দরজা হলো কোনো পুরুষ কর্তৃক তার মায়ের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া। আর সবচেয়ে বড় সুদ হলো অন্য ভাইয়ের সম্মানহানি করা (অর্থাৎ গিবত করা)। *(সহিহুল জামে, হাদিস : ৩৫৩৭)*

 _গিবতকারী কবরে শাস্তি পাবে_ 
মৃত্যুর পর থেকেই গিবতকারীর পরকালীন শাস্তি শুরু হয়ে যায়। ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) একদা দুটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন।
 এ সময় তিনি বলেন, 
এদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো গুরুতর অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব থেকে সতর্ক থাকত না। আর অন্যজন চোগলখুরি করে বেড়াত। *(বুখারি, হাদিস : ২১৮)*

অন্যত্র রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তাদের একজন মানুষের গিবত করত। আর অপরজন পেশাবের (ছিটার) ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না। *(আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৭৩৫)*

 _কিয়ামতের দিন অন্যের পাপের বোঝা নিজের কাঁধে চাপে_ 
কিয়ামতের দিন গিবতের বদলা নেওয়া হবে। যার গিবত করা হয়েছে তার পাপের বোঝা গিবতকারীর কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা কি বলতে পার, 
নিঃস্ব কে? 
সাহাবিরা বললেন, ‘আমাদের মধ্যে যার টাকা-কড়ি ও আসবাবপত্র নেই, সেই তো নিঃস্ব।’ তখন তিনি বলেন, আমার উম্মতের মধ্যে সেই প্রকৃত নিঃস্ব, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন সালাত, সিয়াম ও জাকাতের আমল নিয়ে উপস্থিত হবে; অথচ সে এই অবস্থায় আসবে যে, একে গালি দিয়েছে, একে অপবাদ দিয়েছে, এর সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, একে হত্যা করেছে ও একে মেরেছে। এরপর একে তার নেক আমল থেকে দেওয়া হবে, ওকে নেক আমল থেকে দেওয়া হবে। এরপর তার কাছে (পাওনাদারের) প্রাপ্য তার নেক আমল থেকে পূরণ করা না গেলে তাদের পাপের একাংশ তার প্রতি নিক্ষেপ করা হবে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। *(মুসলিম, হাদিস : ৬৪৭৩)*

 _জান্নাতে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত_ 

গিবতকারী মুসলিম যদি গিবত থেকে তাওবা না করে মারা যায়, তবে সে প্রথম সুযোগে জান্নাতে যেতে পারবে না;
 বরং তাকে গিবতের শাস্তি পাওয়ার জন্য প্রথমে জাহান্নামে প্রবেশ করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে অপমান করার উদ্দেশ্যে তাকে দোষারোপ করবে, মহান আল্লাহ তাকে জাহান্নামের সেতুর ওপর আটক করবেন, যতক্ষণ না তার কৃতকর্মের ক্ষতিপূরণ হয়। *(আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৮৩)*

 _এই মহাপাপ থেকে আমরা সকলেই বেঁচে থাকার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে গীবত থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন।আমিন_ ।


ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png