শিরোনাম
Loading latest headlines...
রোযা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রোযা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২০ মার্চ, ২০২৪

রমজানে সেহরির গুরুত্ব ফজিলত

বুধবার, মার্চ ২০, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে



রমযানের রোজা ও তারাবির পাশাপাশি আরো যে উপলক্ষ ও ইবাদত ব্যাপকভাবে সমাজকে স্পর্শ করে তা হল সেহরি ও ইফতার।

রোজার প্রস্তুতি ঘোষণা করতে হয় সেহরির মাধ্যমে এবং সমাপ্তি ঘোষণা করতে হয় ইফতারের মাধ্যমে।

পবিত্র কোরআন-হাদিসের আলোকে সেহরির  আলোচনা এখানে সন্নিবেশিত করা হলো-

সেহরির গুরুত্ব ও ফজিলত:-

রোজা রাখার উদ্দেশ্যে আমরা সুবহে সাদিকের আগে সেহরি খেয়ে থাকি। রোজা পালনের জন্য সেহরি খাওয়া সুন্নাত ও অধিক পুণ্যের কাজ।

ক্ষুধা না থাকলেও সামান্য একটু পানি পান করাকেও সেহরি হিসেবে গণ্য করা হয়।

সেহরি খাওয়ার মধ্যে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এর সুন্নাহর অনুসরণ করা হয়। অন্যদিকে সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে রোজা রাখার শক্তি অর্জিত হয়।

সেহরি খেলে রোজাদার সহজে দুর্বল ও মনোবলহীন হয়ে পড়েন না, সারাদিন দীর্ঘ সময়ের উপবাস বা অনাহারে থাকলেও কর্মঠ থাকার প্রাণশক্তি আসে এবং রোজা পালন সহ্যসীমার মধ্যে থাকে।

যতোক্ষণ পর্যন্ত সুবহে সাদিক না হয় অর্থাৎ পূর্ব দিগন্তে সাদা বর্ণ না দেখা যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত সেহরি খাওয়ার অনুমতি আছে। সুবহে সাদিক হয়ে গেলে তারপর আর কিছু খাওয়াদাওয়ার সুযোগ নেই।

সেহরি খাওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর তোমরা পানাহার করো, যতোক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো।
 (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৭)

রাসূলুল্লাহ (সা.) সেহরি খেতে আদেশ করেছেন। বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।

রাসূল (সা.) কখনো সেহরি থেকে বিরত থাকতেন না। সাহাবায়ে কেরামকেও সেহরির ব্যাপারে তাগিদ দিতেন এবং নিজের সঙ্গে শরিক করতেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে একজন সাহাবী এলেন যখন তিনি সেহরি খাচ্ছিলেন। রাসূল (সা.) তাকে দেখে বললেন, এ খাবার বরকতের। আল্লাহ পাক বিশেষভাবে তোমাদের তা দান করেছেন। কাজেই তোমরা সেহরি খাওয়া ছেড়ে দিওনা। (নাসাঈ)

মুসলিম শরীফে হযরত আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমাদের এ সিয়াম/রোজা ও আহলে কিতাবদের (ইহুদী ও খৃষ্টান) রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যেসব মুসলমান ভোরের এ সময়ে জেগে আল্লাহ পাকের হুকুম মেনে সেহরি খেতে বসে, আল্লাহ পাক খুশি হয়ে তাদের জন্য বিশেষ রহমত অবতীর্ণ করেন এবং মহান আল্লাহর ফেরেশতারা সেহরি গ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ দোয়া করতে থাকেন। (মুসনাদে আহমদ)

সেহরি খাওয়ার উত্তম সময়ও নির্দিষ্ট করা আছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমরা রাতের অন্ধকার প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত পানাহার কর। (বাকারা-১৮৭)

দেশ ও অঞ্চলভেদে সেহরিতে খাবারের ধরন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবুও প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) সেহরির সময় খেজুরকে সর্বোত্তম খাদ্যদ্রব্য বলেছেন।

আবু দাউদ শরীফে এক বর্ণনায়- খেজুরকে সর্বোত্তম সেহরি বলেছেন রাসূল (সা.)।

এজন্য সেহরির সময় দু-একটি খেজুর খেলে এ সুন্নত আদায় হবে। এ ছাড়া আধুনিককালের স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে, খেজুরের ভেতর যে শক্তি ও পুষ্টিগুণ রয়েছে তা রোজাদারের জন্য অনেক বেশি শক্তিদায়ক এবং বিশেষ উপকারী।

অনেকে তারাবির পর খানা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন, অলসতা করে সেহরি খাওয়ার জন্য পুনরায় জাগ্রত হওয়াকে বোঝা মনে করেন তাদের জেনে রাখা দরকার যে, এটা সুন্নতের পরিপন্থী কাজ।

এতে সেহরির ফজিলত ও বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। সেহরির সময় একটু আগেভাগে উঠে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করা বড় সৌভাগ্যের বিষয়।

সেহরি খাওয়ার পর রোজার নিয়ত অন্তরে করাই যথেষ্ট, মুখেও যদি বলে তাহলে ভালো ‘আমি আগামীকাল রমযান মাসের রোজা রাখার নিয়ত করলাম’। (জাওয়াহিরুল ফিকহ)

সেহরি খাওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা সেহরি খাওয়া বান্দার ওপর রহমত নাজিল করেন।

সেহরি খাওয়া যেহেতু সুন্নত, তাই সুন্নতের ওপর আমল করার জন্য ক্ষুধা না হলেও পানি বা অন্য কিছু খেয়ে নেয়া উচিত।

কারণ হাদিস শরিফে এসেছে ‘তোমরা সেহরি খাও, কেননা সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ সেহরি দেরিতে খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এতো বিলম্ব না করা উচিত, যার কারণে রোজার মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়ে পড়ে।

হযরত ইয়ালা বিন মুররাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহতায়ালার কাছে তিনটি বস্তু অধিক পছন্দনীয়।

 ১. সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাড়াতাড়ি ইফতার করা। 
২.সেহরি দেরিতে খাওয়া।( মানে শেষ রাতের দিকে )
৩.নামাজে হাত বেঁধে আল্লাহর ধ্যান-খেয়ালে আদবের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা।

সেহরির মধ্যে বিলম্ব করা মুস্তাহাব। সেহরি খাওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব করার অর্থ হলো, ততক্ষণ পর্যন্ত পানাহার করা বৈধ যতক্ষণ শুভ্র রেখা উদিত না হয়। যখন শুভ্র রেখা উদিত হয়ে যায় তখন পানাহার বর্জন করা চাই।(সংগৃহীত)

আল্লাহপাক মেহেরবানী করে আমাদের সকলকে জেনে বুঝে আমল করার তৌফিক দান করুন।আমীন।


রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২২

১ম রমজানের দোয়া

রবিবার, এপ্রিল ২৪, ২০২২ 0
বার দেখা হয়েছে

 

১ম রমজানের দোয়া

দোয়া :اَللّهُمَّ اجْعَلْ صِيامي فيهِ صِيامَ الصّائِمينَ وَ قِيامي فيِهِ قِيامَ القائِمينَ ، وَ نَبِّهْني فيهِ عَن نَوْمَةِ الغافِلينَ ، وَهَبْ لي جُرمي فيهِ يا اِلهَ العالمينَ ، وَاعْفُ عَنّي يا عافِياً عَنِ المُجرِمينَ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমার আজকের রোজাকে প্রকৃত রোজাদারদের রোজা হিসেবে গ্রহণ কর। আমার নামাজকে কবুল কর প্রকৃত নামাজীদের নামাজ হিসেবে। আমাকে জাগিয়ে তোলো গাফিলতির ঘুম থেকে। হে জগত সমূহের প্রতিপালক! এদিনে আমার সব গুনাহ মাফ করে দাও। ক্ষমা করে দাও আমার যাবতীয় অপরাধ। হে অপরাধীদের অপরাধ ক্ষমাকারী।



লাইলাতুল ক্বাদরে রাত্রি যাপন

রবিবার, এপ্রিল ২৪, ২০২২ 0
বার দেখা হয়েছে
লাইলাতুল ক্বাদরে রাত্রি যাপন


আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে নেকির আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত্রি জাগবে, তার পূর্বের গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (সহীহ বুখারী , অধ্যায়ঃ ২, হাদিস নম্বরঃ ৩৫)।


বুধবার, ১০ জুন, ২০২০

রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থভাবে সিয়াম সাধনা করব কিভাবে?

বুধবার, জুন ১০, ২০২০ 1
বার দেখা হয়েছে

চলছে পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস। রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি। এটি অবশ্যই একজন সুস্থ মুসলিম মানুষের জন্য ফরয কিন্তু অসুস্থ এবং ভ্রমণরত মানুষের জন্য এটি আবশ্যক নয়। তথাপি কিছু শারীরিক নিয়মাবলী মেনে স্থিতিশীল অসুস্থ ব্যক্তিরা ও রোজা রাখতে পারেন। তবে গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য রোজা না রাখাই উত্তম।কারণ, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের উচিৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সে অনুযায়ী রোজা রাখা। দীর্ঘমেয়াদী রোগের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা, লিভার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীরা কিছু বিশেষ স্বাস্থ্য পরামর্শ মেনে চললে সুস্থভাবে রোজা রাখতে পারবেন। এক্ষেত্রে  বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হল-

ডায়াবেটিস
রোজা রাখার ফলে এটি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, রক্তে চর্বির পরিমাণ কমে যাওয়া, খাদ্যনালী ও পাকস্থলীকে বিশ্রাম দেয়াসহ আরও অনেক উপকার করে। রোজা রাখার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খালি ও ভরা পেটে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাপ, লিপিড প্রোফাইল, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, লিভার ফাংশন ইত্যাদি পরীক্ষা করে যদি রিপোর্ট স্বাভাবিক আসে তবে নিয়ন্ত্রিত খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং জীবনযাপনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগীও রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থভাবে এবং নির্বিঘ্নে রোজা রাখতে পারবেন। এক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন তা হল-
  • ভাজা পোড়া খাবার ও চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।
  • প্রচুর পরিমাণ পানি পান করা।
  • পরিমাণ মত নিয়ন্ত্রিত ডায়েট মেনে চলুন।
  • শাকসবজি, ফলমূল এবং আঁশযুক্ত  খাবার খাবেন।
ইনসুলিন ও ঔষধের মাত্রা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে ইফতার ও সেহরির মাঝামাঝি সময়ে নিয়মিত পথ্য গ্রহণ করুন। যেহেতু এখন কোভিড-১৯ মহামারী চলছে এবং তারা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে তাই, এ সময় একেবারেই ঘরের বাইরে বের হওয়া উচিৎ হবে না, তবে ঘরেই হালকা শরীর চর্চা করতে হবে। 

হৃদরোগ
যেসব রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল অর্থাৎ বারবার ওষুধ খেতে হয় না, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট নেই তারা রোজা করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে কিছু ব্যপারে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে-

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খাবার সময় এবং ডোজ পরিবর্তন করতে হবে।
ধূমপান সর্বদাই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। রোজার বিধিনিষেধ মানার জন্য হলেও ধূমপান ত্যাগ করতে হবে।
নিয়মিত রোজা রাখার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
অবশ্যই ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার, চিনিযুক্ত খাবার বর্জন করে সহজপাচ্য, আঁশ জাতীয় খাবার, শাকসবজি, ফলমূল খেতে হবে। বিশেষ করে পানি খেতে হবে প্রচুর। এতে আপনার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্ত চাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। 
গ্যাস্ট্রিক জনিত সমস্যা
রমজানে একটি দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তা বেড়ে যেতে পারে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত খাবার দাবারে অবশ্যই সহজপাচ্য, আঁশ জাতীয় খাবার, শাকসবজি, ফলমূল পানি খেতে হবে এবং ভাজা পোড়া খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। খাবার তালিকায় অ্যাপেল সিডার ভিনেগার, আনারস, রঙ্গিন শাক সবজি রাখুন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যাদের পেপটিক আলসার, পাকস্থলীর প্রদাহজনিত রোগ, ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি আছে তারা রোজা রাখার মাধ্যমে উপকৃত হন। রোজা রাখার কারণে পাকস্থলীতে এসিড কম তৈরি হয়। নিয়মিত ওষুধ খাবেন এবং ধূমপান, চা, কফি পান ইত্যাদি থেকে বিরত থাকবেন।

নিম্ন রক্তচাপ

যাদের স্বভাবতই রক্তচাপ কম থাকে এবং কোন অসুবিধা অনুভব করেন না তাদের ক্ষেত্রে চিন্তার কিছু নেই। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে হঠাৎ রক্তচাপ বেশি কমে গেলে শারীরিক নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা যায়। রোজায় সবারই উচিৎ হবে একটি ব্যলেন্স ডায়েট নির্বাচন করা। এবং এতে অবশ্যই সঠিক মাত্রায় লবণ ও  বেশি পরিমাণে ফ্লুয়িড থাকতে হবে।

অন্যান্য
রমজানে অনেকেরই মাংসপেশিতে খিচুনি, অবসাদ ইত্যাদির সমস্যা দেখা দেয় তাদের পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এছাড়াও কিডনি ও লিভারের রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখতে হবে এবং ঔষধ সেবন করতে হবে। উপযুক্ত ডায়েট অনুসরণ করে খাবার খেতে হবে।

মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত অসুস্থ ব্যক্তিদের রোজা না রাখাই উত্তম এবং এ ক্ষেত্রে ধর্মেও শিথিলতার বিধান রয়েছে। বৈশ্বিক মহামারীতে ঘরে থাকুন এবং শারীরিক যে কোন সমস্যায় মায়াতে প্রশ্ন করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন অথবা ডিজিটাল সাবসক্রিপশন কিনে ডাক্তারের সাথে সরাসরি কথা বলুন।  সুস্থভাবে এবং নির্বিঘ্নে সিয়াম সাধনা পালনের জন্য মায়া আপনার পাশে রয়েছে। 


রোজা রাখার ৭টি স্বাস্থ্য উপকারিতা - বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বুধবার, জুন ১০, ২০২০ 2
বার দেখা হয়েছে



মূলকথা:
ইনসুলিন রেজিসটেন্স কমিয়ে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে।
রক্তচাপ, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কোলেস্টেরল লেভেল সঠিক রেখে আপনার হৃৎপিণ্ডকে ভাল রাখতে সহায়তা করতে পারে।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলতে এবং নিউরোডিজেনারেটিভ ডিসঅর্ডারগুলি রোধ করতে পারে। ইসলামিক ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে পবিত্র মাস  হিসেবে বিবেচিত হয় রমজান মাস। আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় এসময় মুসলিমরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া, ধূমপান এবং যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেন। 

১,৪০০ বছর আগে মুসলমানদের রমজানে রোজা রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, প্রাচীন গ্রীকরা শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আজকাল কিছু বিশেষজ্ঞ বৈজ্ঞানিকভাবে মানসিক ও শারীরিক উপকারীতা খুঁজে পাওয়ায় মানুষকে রোজা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা এসব বিষয়ে অনেক প্রশ্ন দেখতে পাচ্ছি। মায়ার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মোতাবেক রোজার অনেক উপকারীতার মধ্যে কয়েকটি এখানে তুলে ধরছি-

১। ইনসুলিন রেজিসটেন্স কমিয়ে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ
একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, একটানা রোজা রাখার ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হ্রাস পেয়ে আপনার দেহের ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যায় , ফলে এটি আপনার রক্ত ​​প্রবাহ থেকে আপনার কোষে আরও দক্ষতার সাথে গ্লুকোজ স্থানান্তর করতে সহায়তা করে।

২। ওজন নিয়ন্ত্রণ
রোজা ওজন হ্রাস করার একটি নিরাপদ উপায় হতে পারে কারণ অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে বিরতিহীন রোজা – উপবাস অন্যান্য স্বাভাবিক ডায়েটিং এর চেয়ে শরীরের চর্বি পোড়াতে আরও বেশী কার্যকর।একটানা না খেয়ে থাকার ফলে দেহ শর্করার পরিবর্তে শক্তির প্রাথমিক উৎস হিসাবে চর্বিকে ব্যবহার করে।

৩। রোজা বিপাকীয় শক্তি বাড়ায়
রোজা আপনার পাচনতন্ত্রকে বিশ্রাম দেয় এবং এর ফলে এটি আরও কার্যকরভাবে ক্যালরি পোড়াতে সহায়তা করে। যদি আপনার হজম শক্তি দুর্বল হয়, তবে এটি খাদ্য বিপাকে এবং চর্বি পোড়াতে আপনার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। একটানা না খেয়ে থাকার ফলে আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, আপনার পরিপাকতন্ত্র ভালভাবে কাজ করে এবং এভাবে আপনার বিপাকীয় শক্তিও বেড়ে যায়।

৪। রোজা ক্ষুধামন্দা রোধ করেঃ
একবার ভাবুনতো! আপনি যদি প্রতি ২-৪ ঘণ্টা পরপর খাবার খান তাহলে সত্যিকার অর্থে আপনার ক্ষুধা লাগবে কিভাবে?

রোজায় অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে আপনার শরীরে কিছু হরমোন নিঃসরণ হয় যা আপনাকে সত্যিকার ক্ষুধা অনুভব করতে সহায়তা করে। অতিরিক্ত মোটা যারা তারা খাওয়ার পরও অনেকসময় বুঝতে পারে না তাদের পেট ভর্তি হয়েছে নাকি।

রোজা রাখার ফলে শরীরের হরমোনগুলো সঠিক মাত্রায় নিঃসরণের ফলে ইফতারের পর আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার পেটভর্তি হয়েছে কিনা।

৫। রোজা আপনার খাদ্যাভাস ঠিক করে

যারা সঠিক খাদ্যাভাসের অভাবে ভুগছেন এবং যারা কাজ এবং অন্যান্য অগ্রাধিকারের কারণে সঠিক খাদ্যাভাস স্থাপন করতে অসুবিধা বোধ করছেন তাদের জন্য রোজা একটি সহায়ক অনুশীলন হতে পারে।

এর মাধ্যমে আপনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর ক্যালরি বুঝে ডায়েট প্লান করে খাবার খেতে পারেন এবং বাকিটা সময় আপনি না খেয়ে থাকবেন। এর ফলে আপনার বাজে খাবার যেমন- ফাস্ট ফুড, স্নাক্স ইত্যাদি খাবার অভ্যাসটাও পরিবর্তিত হয়ে যাবে।

৬। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি
রোজা রাখার ফলে মস্তিষ্ক থেকে নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (বিডিএনএফ) নামক একটি প্রোটিনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

বিডিএনএফ মস্তিষ্কের স্টেম সেলগুলিকে নতুন নিউরনে রূপান্তরিত করে সক্রিয় করতে, এবং স্নায়ুস্বাস্থ্যের উন্নতি করে এমন আরও অনেক কেমিক্যাল নিঃসরণ করে। এই প্রোটিন আপনার মস্তিষ্কের কোষগুলিকে আলঝাইমার এবং পার্কিনসন রোগের সাথে সম্পর্কিত পরিবর্তনগুলি থেকেও রক্ষা করে। 

৭। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
রোজা রাখার ফলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় কারণ এটি ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ প্রতিরোধ করে, প্রদাহজনিত অসঙ্গতিগুলো দূর করে এবং শরীরে ক্যান্সার কোষ তৈরিতে বাঁধা প্রদান করে। 

রোজা রাখার ফলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রতঙ্গ বিশ্রাম নিতে পারে। ফলে রোগ প্রতিরোধে এরা আরও দ্রুত এন্টিবডি তৈরিতে ভুমিকা রাখে।

এছাড়াও, খালি পেটে এবং সতেজ মস্তিস্কে আপনি আপনার কাজ এবং আশেপাশের পরিবেশে আরও বেশি মনোযোগী হতে পারবেন। আপনি দীর্ঘমেয়াদী কোন রোগে আক্রান্ত থাকলে আমার আগের লেখাটি পড়ে রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে রোজা রাখতে পারেন। এছাড়াও রোজায় সঠিক ডায়েট প্লান এবং শারীরিক ও মানসিক যে কোন সমস্যায় সমাধান পেতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ  নিন । রোজা রাখুন, সুস্থ থাকুন এবং আমাদের সাথেই থাকুন।  
 সংগ্রহ-মায়া 



বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০

শাওয়াল মাসের ছয় রোযার বিশেষ ফজীলত ও নিয়ম

বৃহস্পতিবার, জুন ০৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

রামাজানের রোযার পর শাওয়ালের ছয় রোযায় সারা বছরের রোযার ছাওয়াব

রামাজান মাসের পরের মাসের নাম হচ্ছে ‘শাওয়াল’। শাওয়ালের বিশেষ আমল হলো–শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা রাখা। শাওয়াল মাসের ১ তারিখ হচ্ছে ঈদুল ফিতর। সেদিন ঈদ হিসেবে রোযা রাখা যায় না। এর পরদিন থেকে শাওয়ালের সেই ছয় রোযা রাখা যায়। এ রোযাকে “শাওয়ালের ছয় রোযা” বলা হয়।

মাহে রামাজানের ফরজ রোযা পালনের পর শাওয়াল মাসে এ ছয়টি রোযা রাখা নফল বা মুস্তাহাব। তবে এ রোযা রাখা নফল বা মুস্তাহাব হলেও এর ফজীলতকে রামাজানের রোযার সাথে যুক্ত করে এক বছরের রোযার ছাওয়াবের কথা হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এ ছয় রোযার অনন্য ফজীলতের তথা রামাজানের রোযার ন্যায় ফজীলত লাভের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

শাওয়ালের এ ছয় রোযার ফজীলত সম্পর্কে হাদীস শরীফে রয়েছে–
عن أبي أيوب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من صام رمضان ثم أتبعه ستا من شوال كان كصيام الدهر
হযরত আবু আইয়ূব আনসারী (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন–“যে ব্যক্তি রামাজানের রোযা রাখল, অতঃপর তার পিছে পিছে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযা রাখল, তা পূর্ণবছর রোযা রাখার মতো গণ্য হবে। ”

(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬৪/ জামি‘ তিরমিযী, হাদীস নং ৭৫৯/ সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৩৩ প্রভৃতি)

অন্য হাদীসে রয়েছে–
عن ثوبان رضي الله عنه مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من صام ستة أيام بعد الفطر كان تمام السنة من جاء بالحسنة فله عشر أمثالها
হযরত ছাওবান (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাز) ইরশাদ করেন–“যে ব্যক্তি মাহে রামাজানের রোযা শেষ করে (শাওয়াল মাসে) ছয়দিন রোযা রাখবে, তা পুরো বছর রোযা গণ্য হবে। (আল্লাহ তা‘আলা বলেন,) যে ব্যক্তি নেক আমল করবে, তার জন্য সেই আমলের দশগুণ লাভ হবে।”

(মুসনাদে আহমাদ, ৫ম খণ্ড, ২৮০ পৃষ্ঠা/ সুনানে দারিমী, হাদীস নং ১৭)

অপর হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন–
صيام شهر رمضان بعشرة أشهر وصيام ستة أيام بشهرين فذلك صيام السنة
“রামাজানের রোযা ১০ মাসের রোযার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোযা দুই মাসের রোযার সমান। এই হলো এক বছরের রোযা।”

(সুনানে ইবনে মাজাহ)

এ হাদীসসমূহে বর্ণিত উক্ত রামাজান ও শাওয়ালের রোযাসমূহের ছাওয়াব এভাবে নির্ণিত হয় যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সূরাহ আন‘আমের ১৬০ নং আয়াতে ইরশাদ করেছেন–
من جاء بالحسنة فله عشر أمثالها
“যে ব্যক্তি নেক কর্ম করবে, তার জন্য তার দশ সমতুল্য প্রতিদান রয়েছে।”

সে হিসেবে রামাজানের ৩০ রোযায় ৩০০ রোযার বা রামাজানের ১ মাসে ১০ মাসের রোযার ছাওয়াব হয়। আর মাহে শাওয়ালের ছয় রোযায় ৬০ রোযার বা ২ মাসের রোযার ছাওয়াব লাভ হয়। এভাবে (রামাজানের ৩০ রোযা এবং শাওয়ালের ৬ রোযা মোট ৩৬ রোযা দশ দিয়ে গুণ দিলে) ৩৬০ রোযার সমান হয়ে যায়। আর চান্দ্র বর্ষ অনুযায়ী প্রায় ৩৬০ দিনে (বা ৩৫৪ দিনের কিছু বেশী) এক বছর হয়। সুতরাং এর মাধ্যমে পূর্ণ এক বছর রোযা রাখার ছাওয়াব লাভ হয় । অথবা এভাবে হিসাব করা যায় যে, রামাজানের এক মাসের রোযার দ্বাারা দশ মাসের রোযার ছাওয়াব লাভ হয় এবং শাওয়ালের ছয়দিনের রোযার দ্বারা দুই মাসের রোযার ছাওয়াব অর্জিত হয়। এভাবে সেই দুই আমল দ্বারা মোট ১২ মাস বা এক বছরের রোযার ছাওয়াব লাভ হয়।

তবে উল্লেখ্য যে, কেবল মাত্র তারাই শাওয়ালের ৬ রোযার ছাওয়াব পরিপূর্ণভাবে লাভ করবেন তথা রামাজানের রোযার পর শাওয়ালের রোযা রাখার দ্বারা একবছরের রোযার ছাওয়াব লাভ তারাই লাভ করবেন–যারা রামাজানের রোযা সঠিকভাবে পালন করে তারপর শাওয়ালের রোযা রাখবেন। হাদীস শরীফে ثُمَّ أَتْبَعَهُ বলে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাই যে ব্যক্তির রামাজানের রোযার কাজা আছে, তিনি প্রথমে রামাজানের সেই কাজা রোযা আদায় করে নিবেন। তারপর শাওয়ালের ছয় রোযা রাখবেন। তাহলেই উক্ত রোযার পরিপূর্ণ ফজীলত লাভ করবেন। তবে যদি কোন সঙ্গত উজরের কারণে তা সেভাবে আদায় করা সম্ভব না হয়, সেটা ভিন্ন কথা। সেই অবস্থায় শাওয়ালের রোযা এ শাওয়ালের ভিতরে রেখে রামাজানের কাজা রোযা অন্য মাসে রাখতে পারবেন। অবশ্য সেক্ষেত্রে সেই একবছরের রোযার ছাওয়াবের ফজীলত সেই কাজা রোযা আদায় পূর্ণ করার পর লাভ হবে।

শাওয়াল মাসে ঈদুল ফিতরের পরদিন থেকে নিয়ে পুরো মাসে যখন ইচ্ছা সেই ছয়টি নফল রোযা রাখা যায়। তবে উত্তম হল, উক্ত ছয় রোযাকে রামাজানের ঈদের পর পরই রাখা এবং লাগাতারভাবে রাখা। কেননা, এতে বর্ণিত হাদীসের উপর পুরোপুরিভাবে আমল হয়। তবে কেউ যদি রামাজানের ঈদের পর পরই না রেখে আরো পরে সেই রোযা রাখেন এবং ছয় রোযা একসঙ্গে না রেখে কিছুদিন পর পর করে বা পুরো শাওয়াল মাস ভরে রোযাগুলো রাখেন, তাতেও সেই ফজীলত লাভের আশা করা যায়।

মোট কথা, যার যার সুযোগ-সুবিধা মত এক সাথে ছয় রোযা বা আলাদা আলাদা করেও রাখা জায়িয আছে। অর্থাৎ শাওয়ালের ভিতরে ছয়টি রোযা রাখলেই হবে। অবশ্য শাওয়াল মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে, তখন সেই ছয় রোযা রাখলে, তাতে হাদীসে বর্ণিত ফজীলত পুরোপুরি লাভ হবে না। তবে কেউ তখন রাখলে, কুরআনের বর্ণনানুযায়ী প্রতিটি নেক আমলের ১০ গুণ ছাওয়াব হিসেবে ভিন্নভাবে ৬০টি রোযা রাখার ছাওয়াব লাভ হবে।

আর এ হিসেবেই রামাজান ও শাওয়ালের রোযা ছাড়াও প্রতিমাসে তিনদিন তথা চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে (আইয়্যামে বীজ-এর) রোযা রাখার দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে একবছরের রোযার সমান ছাওয়াব লাভ হবে বলে হাদীসে রয়েছে। তেমনিভাবে প্রতি সপ্তাহে দুইদিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখার বিশেষ ফজীলতের বর্ণনা হাদীস শরীফে রয়েছে।



সোমবার, ১৮ মে, ২০২০

কেন রমজানের শেষ দশক অধিক গুরুত্বপূর্ণ?

সোমবার, মে ১৮, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

মিশকাত শরীফের হাদিস আমাদেরকে নিশ্চিত করে, রমজানের তিন দশক তিন ভাগে বিভক্ত: রহমত, মাগফেরাত ও নাজাত। তুলনামূলকভাবে রহমত ও মাগফেরাতের চেয়ে নাজাতের গুরুত্ব বেশি।

বাকি দুই দশকের সাথে নাজাতের পার্থক্য কী? নাজাতের বিশেষত্ব কী? নাজাতের বিশেষত্ব নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। তিনটি পয়েন্টে আমাদের এ আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকবে।

শবে কদরের নেয়ামত প্রাপ্তির সুযোগ
রমজানের শেষ দশক তথা নাজাতের দশ দিন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ববহ হবার প্রধান কারণ শবে কদর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিচ্ছেন, “তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল-কদর তালাশ করো”। (বুখারী শরীফ: ২০২০) আরও স্পষ্ট করেছেন অন্য বর্ণনায়, “তোমরা রমজানের শেষ দশকের বে-জোড় রাতসমূহে লাইলাতুল-কদর তালাশ করো”।

(বুখারী শরীফ: ২০১৭)বুখারী শরীফের বর্ণনার মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের জবান থেকে খোশ-খবর শোনা যায়, “যে ব্যক্তি লাইলাতুল-কদরের রাতে ইমান ও সোয়াবের আশা নিয়ে ইবাদত-বন্দেগী করবে তাঁর অতীতের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে”।

হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, শবে কদরের রাত নির্দিষ্ট নয়; তবে আমরা কীভাবে তালাশ করবো? কবে কদর তালাশ করতে আমাদের শেষ দশকে অধিকতর একনিষ্ঠতার সহিত বিরতিহীনভাবে ইবাদত-বন্দেগী করা জরুরী।

আরও স্পষ্ট করে বললে, রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি বে-জোড় রাত্রিতে আমাদের ইবাদতে লিপ্ত থাকা এক প্রকার আবশ্যক। সেজন্য, শবে কদরের মহা-মর্যাদাবান রাতের পূর্ণ ফযিলত হাসিল করতে আমাদেরকে অবশ্যই রমযানের শেষ দশকে ইবাদত এবং একনিষ্ঠতায় অধিক গুরুত্ব দেওয়া ব্যতীত গত্যান্তর নেই।

শেষ দশকে অধিক ইবাদত করা সুন্নত
রমজানের শেষ দশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য দশকের তুলনায় অধিক পরিমাণে ইবাদত করতেন। একাধিক হাদিস শরীফ থেকে রাসূলে খোদার এ সুন্নত প্রমাণিত। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন:“রমজানের শেষ দশকে প্রিয় নবী যত পরিশ্রম করতেন, অন্য দশকে তা করতেন না” অর্থাৎ, তিন দশকের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি পরিশ্রম করতেন শেষ দশকে, আর তা অবশ্যই ইবাদতের মাধ্যমে।

(মুসলিম শরীফ: ১১৭৫) আম্মাজান আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা অন্য বর্ণনায় ইরশাদ ফরমান: “শেষ দশক আরম্ভ হলে প্রিয় নবী পূর্ণরাত জেগে থাকতেন, পরিবারের সবাইকে ঘুম থেকে ডেকে দিতেন এবং নিজে কোমর-বেঁধে ইবাদতে মগ্ন হতেন”। (বুখারী শরীফ: ২০২৪)

উক্ত দু’টি হাদিস শরীফ থেকে অত্যন্ত প্রকট যে, শেষ দশকে অধিক পরিমাণে ইবাদত করা সুন্নত। আর প্রিয় নবী যা করেছেন তাতে যে বিশেষ মঙ্গল নিহিত আছে এ ব্যাপারে মুসলমান-মাত্রই নিঃসন্দিহান।

আমাদের অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে শেষ দশকে ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত এবং পরিবারের সদস্যদেরকে ও এ সুন্নতের বরকত অর্জনে শামিল করা উচিত।

নাজাতের সওগাত পেতে
রমযানের শেষ দশকে আল্লাহ তায়ালা অধিক পরিমাণে গুনাহগার বান্দাদেরকে ক্ষমা তথা নাজাত দেন বলেই মূলত এ দশকের নামকরণ ‘নাজাত’ হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা তো মাধ্যম বা কারণ ছাড়া কিছু করেন না।

তো এ সূত্রে আমাদেরকে অবশ্যই নাজাত পাবার জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে; রমজানের শেষ দশকে নাজাতী বান্দার পরিমাণ বেশি থাকে বলেই এ দশকে আমাদেরকে বেশি বেশি আল্লাহর ইবাদত করতে হবে এবং কায়মনো বাক্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

আর এ দশকের মধ্য দিয়েই রমজান আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেয়। পরবর্তী এক বছর পূর্বে আর রমজানের দেখা আর আমরা পাইনা। পরবর্তী রমজানে বেঁচে থাকবো কি-না সে নিশ্চয়তাও কারোরই নেই; সব মিলিয়ে রমজানকে বিদায় দেওয়ার দিনগুলোতে রমজানের প্রতি এক ধরনের আপ্লুতকর, মর্মস্পর্শী অনুভূতি আমাদের ধর্মবোধে প্রগাঢ় হয়।

এ প্রগাঢ় মর্মস্পর্শী অনুভূতির দাবিতেই রমজানকে সর্বোচ্চ একনিষ্ঠতাপূর্ণ ইবাদতের মাধ্যমে বিদায় জানানো উচিত। মুসনাদে আহমদের হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে খোশ-খবর দেন, “রমজান কেয়ামতে রোজাদারের জন্য সুপারিশ কারী হবে”। (মুসনাদে আহমদ: ৬৬২৬)। সূত্রঃ চ্যানেল আই। সম্পাদনা র/ভূঁ। ম ১৬০৫/২৫


শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

মাহে রমজানের শেষ দশকে মেহনত-মুজাহাদা

শুক্রবার, মে ১৫, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

পাঠ সংক্ষেপ
খুতবায় যা থাকছে : (ক)মাহে রমজানের শেষ দশকে মেহনত-মুজাহাদা, (খ)রমজানের শেষ দশক যাপনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ কি তা উল্লেখ করা, (গ)আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক মজবুত করা ও তার নৈকট্য লাভে মেহনত-মুজাহাদা
 
প্রথম খুৎবা
اَلْحَمْدُ لِلَّهِ مُعَزِّ مَنْ أَطَاعَهُ وَاتَّقَاهُ، مُجِيْبِ دَعْوَةَ الدَّاعِيْ إِذَا دَعَاهُ وْهَادِيِ مَنْ تَوَجَّهَ إِلَيْهِ وَاسْتَهَدَاهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ نَبِيَّنَا مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسْولُهُ صَلَّىَ اللهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيِنِ، أَمَّا بَعْدُ:

প্রিয় মুসল্লিয়ান! মাহে রমজানের মুবারক দিনগুলো বিদায় নিচ্ছে এক-এক করে। পবিত্র রজনীগুলোও এক-এক করে পরিণত হচ্ছে বিগত ইতিহাসে। মাহে রমজানের বরকতময় রাত ও দিনগুলো চলে যাচ্ছে আমাদের আমলের সাক্ষী হয়ে। আমরা যা গচ্ছিত রাখছি তার সংরক হিসেবে। মাহে রমজানে দিন-রাতগুলো আমাদের আমলের গুদামঘর, আমাদের আমলের সঞ্চয়-ব্যাংক যা কিয়ামতের ময়দানে হাজির হবে আমাদের সঞ্চিত আমলের পুঙ্খানুপুঙ্খ রেকর্ড নিয়ে। আর সেদিন রাব্বুল আলামীন ডেকে বলবেন:
( يَا عِبَادِيْ إِنَّمَا هِيَ أَعْمَالُكُمْ أُحْصِيْهَا لَكُمْ ثُمَّ أُوَفِّيْكُمْ إِيَّاهَا، فَمَنْ وَجَدَ خَيْراً فَلْيَحْمَدِ اللهَ، وَمَنْ وَجَدَ غَيْرَ ذَلِكَ فَلَا يَلُوْمَنَّ إِلَّا نَفْسَهُ )

‘হে আমার বান্দারা! এগুলো তো তোমাদের আমল, যা আমি তোমাদের জন্য হিসাব করছি। অতএব যে ভালো পাবে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, আর যে অন্যরকম পাবে সে যেন নিজকে ছাড়া অন্য কাউকে দোষারোপ না করে’ (মুসলিম)।

ভাইয়েরা আমার ! পবিত্র মাহে রমজান বিদায়ের ঘন্টা বাজাচ্ছে। রমজানের শেষ দশক আমাদের দ্বার প্রান্তে। যদি আমরা বিগত দিনগুলোতে সিয়াম সাধনার যথার্থতা রায় অলসতা করে থাকি, তাহলে সামনের দিনগুলোতে যারপরনাই চেষ্টা করে যাওয়ার প্রত্যয় পোষণ করতে হবে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশক যেভাবে যাপন করেছেন সেভাবে যাপনের সাধনা করতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের প্রথম বিশ দিনের রাতগুলো নামাজ ও নিদ্রা উভয়টির মধ্যদিয়ে কাটাতেন, আর শেষ দশ দিন কাটাতেন অস্বাভাবিক পরিশ্রম করে। এ দশ দিন তিনি বিছানা পরিত্যাগ করতেন, স্ত্রীসঙ্গ পরিত্যাগ করতেন, বরং স্ত্রীগণকেও ইবাদাতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। আলী ও ফাতিমা রাযি. এর দরজায় কড়া নাড়তেন এবং বলতেন, ‘তোমারা কি উঠবে না? নামাজ পড়বে না?’ তিনি দরজায় কড়া নাড়তেন এবং বলতেন:
{ وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصلاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لاَ نَسْأَلُكَ رِزْقاً نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى }

আর তোমার পরিবার-পরিজনকে সালাত আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার উপর অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে কোন রিযক চাই না। আমিই তোমাকে রিযক দেই আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য’ (সূরা তা-হা, আয়াত ১২০)।

তিনি তাঁর স্ত্রীদের ঘরে যেতেন এবং ডেকে বলতেন, ‘ওঠো হে ঘরবাসিনী! দুনিয়ায় পোশাকে আচ্ছাদিতদের অনেকেই কিয়ামতের দিন হাজির হবে বিবস্ত্র হয়ে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও মাহে রমজানের শেষ দশকে ইবাদাতের মাধ্যমে রাত্রিযাপন করতেন, পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যারা সক্ষম তাদের কাউকে না জাগিয়ে ক্ষ্যান্ত হতেন না।

প্রিয় শ্রোতামণ্ডলী! কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন, রাত জেগে কিয়ামুল লাইলের নামাজ পড়া ফরজ ওয়াজিবের বাইরে একটা অতিরিক্ত আমল। আর আমি তো আমার জিম্মায় থাকা আবশ্যিক নামাজগুলো যথার্থরূপেই আদায় করছি। এতটকু কি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়? উত্তরে বলা যায় যে, আবশ্যিক নামাজগুলো তো বাধ্যতামূলকভাবে পড়তেই হবে। তবে এ নামাজগুলো যে যথার্থরূপে আদায় হচ্ছে, এতে কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি হচ্ছে না, এ ব্যাপারে কি কেউ গ্যারান্টি দিতে পারবে? এখান থেকেই তো সুন্নত-নফলের নামাজের প্রয়োজনীয়তার কথা আসে। কেননা সুন্নত-নফল নামাজ ফরজ নামাজের অপূর্ণতাগুলো শুধরিয়ে পরিপূর্ণতা দান করে। সুনানে আবু দাউদের এক বর্ণনায় এসেছে: আল্লাহ তাআলা বলবেন:
( انْظُرُوْا فِيْ صَلَاةِ عَبْدِيْ أَتَمَّهَا أَمْ نَقَصَهَا؟ فَإِنْ كَانَتْ تَامَّةً كُتِبَتْ لَهُ تَامَّةً وَإِنْ كَانَ انْتَقَصَ مِنْهَا شَيْئاً قَالَ انْظُرُوْا هَلْ لِعَبْدِيْ مِنْ تَطَوُّعٍ فَإِنْ كَانَ لَهُ تَطَوٌّعٌ قَالَ أَتِمُّوْا لِعَبْدِيْ فَرِيْضَتَهُ مِنْ تَطَوُّعِهِ ثُمَّ تُؤْخَذُ الْأَعْمَالُ عَلَى ذَاكُمْ )

‘আমার বান্দার নামাজ পরখ করে দেখো, সে কি তা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করেছে, না কি অপূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করেছে? যদি তার নামাজ পূর্ণাঙ্গ হয়ে থাকে, তাহলে তা পূর্ণাঙ্গরূপেই লেখা হবে। আর যদি তাতে কোনো অপূর্ণতা থেকে থাকে, তবে দেখো, আমার বান্দার কোনো নফল নামাজ আছে কি না। যদি নফল নামাজ থেকে থাকে, তাহলে তা দিয়ে আমার বান্দার ফরজ নামাজ পরিপূর্ণ করে দাও। অতঃপর অন্যান্য আমল এভাবেই নেয়া হবে (আবু দাউদ, সহীহ)।

ফরজ নামাজ পরিপূর্ণরূপে আদায় করার ব্যাপারে নিশ্চিত হলেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে আমাদেরকে নফল নামাজের প্রতি আগ্রহী হতে হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।

রমজানে শেষ দশকের বিশেষ একটি ফযীলত এই যে, এ দশ দিনে শবে কদরের সাক্ষাৎ পাওয়ার আশা করা যায়। আর লায়লাতুল কদর এক হাজার মাস থেকেও উত্তম। ইমাম নখঈ রহ. বলেন: লায়লাতুল কদর এক হাজার রাত থেকে উত্তম হওয়ার অর্থ- লায়লাতুল কদরের আমল লায়লাতুল কদর ছাড়া এক হাজার মাসের আমল থেকে উত্তম। এক হাজার মাস হিসেব করলে তিরাশি বছর চার মাস দাঁড়ায়। তাহলে বুঝতেই পারছেন লায়লাতুল কদর কত বেশি মর্যাদাবান, কত বেশি দামি। সুবহানাল্লাহ!

লায়লাতুল কদর সম্পর্কে বুখারী ও মুসলিমে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
( مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيْمَاناً وَاحْتِسَاباً غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ )

‘যে ব্যক্তি ঈমানসহ আল্লাহর কাছে ছাওয়াব প্রাপ্তির আশায় কদরের রাতে ইবাদত করল, তার অতীত জীবনের সকল গুনাহ মা করে দেয়া হলো’ (বুখারী ও মুসলিম)।

অধিক নির্ভরযোগ্য মতানুসারে লায়লাতুল কদর মাহে রমজানের শেষ দশকের একটি রাত। আল্লাহ তাআলা এ রাতের ইলম বান্দাদের থেকে গোপন করে রেখেছেন তাদের প্রতি রহমতস্বরূপ। যাতে তারা মাহে রমজানের শেষ দশ রজনীতে লায়লাতুল কদর অনুসন্ধান করতে গিয়ে অধিক ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল হয়। নামাজ, দু‘আ ও যিকরের মাধ্যমে রাত্রিযাপন করে। অতঃপর এ দশ রাতের মেহমনতে আল্লাহর অধিক নৈকট্য অর্জনের সুযোগ পায়। তিনি লায়লাতুল কদরকে বান্দাদের পরীার উদ্দেশ্যেও গোপন করেছেন যাতে লায়লাতুল কদর অনুসন্ধনে কে অধিক নিবেদিত ও ঐকান্তিক তা পরিস্কার হয়ে যায়।

প্রিয় মুসল্লিয়ান! লায়লাতুল কদর চেনার কিছু আলামতও রয়েছে। এসব আলামতের মধ্যে বিশুদ্ধ আলামত হলো: কদরের রাতান্তে যখন সকাল হবে, সেদিনকার সূর্যোদয় হবে সাদা হয়ে কিরণহীন অবস্থায়। উবায় ইবনে কাব রাযি. থেকে সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
( وَأَمَارَتُهَا أَنْ تَطْلُعَ الْشَّمْسُ فِيْ صَبِيّحَةِ يَوْمِهَا بَيْضَاءَ لَا شُعَاعَ لَهَا )

‘আর তার আলামত হলো সেদিনকার সকালের সূর্যোদয় ঘটবে সাদা আকারে, যার কোনো কিরণ থাকবে না (মুসলিম)।

অবশ্য এ আলামতটিও কদরের রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পর সকাল বেলায় জানা যাবে। এর হেকমতও লায়লাতুল কদর অনুসন্ধানে বান্দাদেরকে অধিক পরিশ্রমী করে তোলা, এবং যারা এ রাতের ফযীলত পাওয়ার জন্য পরিশ্রম করেছে তাদেরকে আনন্দিত করা।

হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী সত্যস্বপ্নের মাধ্যমেও লায়লাতুল কদর কবে তার জ্ঞান লাভ করা যেতে পারে। ইবনে উমর রাযি. থেকে বুখারী ও মুসলিমের একটি বর্ণনায় এসেছে। তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কয়েকজন সাহাবী নিদ্রারত অবস্থায় দেখেন যে, লায়লাতুল কদর রমজানের শেষ সাত দিনের মধ্যে অবস্থিত। রাসালুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আমি দেখছি যে তোমাদের স্বপ্ন লায়লাতুল কদর রমজানের শেষ সাত দিনে হওয়ার ব্যাপারে এক হয়েছে। অতঃপর যে ব্যক্তি লায়লাতুল কদর তালাশ করতে চায় সে যেন এই সাত দিনে তালাশ করে’ (মুসলিম)।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লায়লাতুল কদর কবে তা দেখানো হয়েছিল। হাদীসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
( إنِّي أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، ثُمَّ أُنْسِيتُهَا أَوْ نُسِّيتُهَا، فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فِي الْوَتْرِ )

‘আমাকে লায়লাতুল কদর দেখানো হয়েছিল, এরপর তা আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়। তাই রমজানের শেষ দশকে বেজোড় (রাতে) তোমরা লায়লাতুল কদর তালাশ করো। আর আমি নিজকে দেখেছি পানি ও কাদায় সিজদা দিতে (বুখারী) ।

প্রিয় মুসল্লিয়ান! রমজানের শেষ দশকের একটি আমল হলো ইতিকাফ করা। ইতিকাফ হলো এই মুবারক দিনগুলোয় ইবাদত-বন্দেগীর উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান ও রাতযাপন করা। ইতিকাফ শরীয়তসম্মত একটি আমল হওয়ার ব্যাপারে আল কুরআনে ইঙ্গিত রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে :
{ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ }

‘এ অবস্থায় যে তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত’ (সূরা আল বাকারা:১৮৭)।

ইতিকাফ বিষয়ে সহীহ বুখারীতে বর্ণিত দীর্ঘ এক হাদীসের শেষাংশে রয়েছে :
( مَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعِي فَلْيَعْتَكِفْ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ فَقَدْ أُرِيْتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ ثُمَّ أُنْسِيْتُهَا )

‘যে আমার সাথে ইতিকাফ করতে চায় সে যেন শেষ দশকে ইতিকাফ করে, কেননা এই রাত আমাকে দেখানো হয়েছিল, পরে আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে (বুখারী)।

তাই যার শক্তি সামর্থ্য আছে তার উচিত হবে ইতিকাফে বসে শেষ দশকের রাতগুলো যাপন করা। ইতিকাফকারী নিজকে দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর আনুগত্য, দুআ-মুনাজাত, যিকর ইত্যাদির জন্য সে নিজকে মসজিদে আঁটকে ফেলে। দুনিয়াবী সকল দৌড়ঝাঁপ থেকে মুক্ত হয়ে সে মসজিদের পবিত্র আবহে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলে। মন ও শরীর উভয়টাকেই সে নিরঙ্কুশভাবে রাব্বুল আলামীনের দরবারে সঁপে দেয়। যা কিছু আল্লাহকে সন্তষ্ট করে শুধু তাতেই নিজকে সংশ্লিষ্ট করে নেয়। আর এভাবে সে শুধুই আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। যা করলে আল্লাহ রাযি হন শুধু তাতেই নিজকে নিয়োজিত করে।

সুপ্রিয় মুসল্লিয়ান! ইতিকাফের তাৎপর্য হলো, সৃষ্টজীব থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সুনির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে নিজকে আবদ্ধ করে নেয়া। আর আল্লাহ সম্পর্কে বান্দার জ্ঞান যত বাড়বে, আল্লাহর মহব্বত হৃদয়ে যত পোক্ত হবে, আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে যতটুকু অগ্রসর হবে, দুনিয়ার প্রতি প্রেম ভালোবাসা ততই অর্ন্তহিত হবে।

ইতিকাফ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে পালিত জিবরীল আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত। জিবরীল আ. প্রতি রমজানেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কুরআন শুনাতেন এবং নিজেও তাঁর থেকে শুনতেন। আর যে বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওয়াফাত হয় সে বছর তিনি দু’বার কুরআন শুনান এবং শোনেন (বুখারী ও মুসলিম)।

ইবনে আব্বাস রাযি.এর বর্ণনায় বুখারীতে আরো এসেছে :
( كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُوْنُ فِيْ رَمَضَانَ حِيْنَ يَلْقَاهُ جِبْرِيْلُ، فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ وَكَانَ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلامُ يَلْقَاهُ كُلَّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ، فَلَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِيْنَ يَلْقَاهُ جِبْرِيْلُ أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ )

‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অধিক দানকারী ছিলেন, তবে তিনি সবচে’ বেশি দান করতেন যখন জিবরীল আ. তাঁকে কুরআন শুনাতেন। আর জিবরীল আ. রমজানের প্রতি রাতেই তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁকে কুরআন শেখাতেন। যখন জিব্রিল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি বেগবান বাতাস থেকেও অর্থকড়ি ব্যয়ের ক্ষেত্রে অধিক দানশীল হতেন’ (বুখারী ও মুসলিম)।

ইতিকাফের ফযীলত

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোর যেকোনো একটিতে শবে কদর রয়েছে। আর শবে কদরের ইবাদত তিরাশি বছর চার মাস ইবাদত করার চেয়েও উত্তম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শবে কদর প্রাপ্তির আশা নিয়েই ইতিকাফ করতেন। তিনি প্রথম দশকেও ইতিকাফ করেছেন, মধ্য দশকেও করেছেন, এরপর শেষ দশকে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন: ‘আমি প্রথম দশকে ইতিকাফ করেছি, এরপর মধ্য দশকে, এরপর আমাকে দেয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, তা শেষ দশকে। অতএব তোমাদের মধ্যে যার ইতিকাফ করা পছন্দ হয় সে যেন ইতিকাফ করে (মুসলিম)।

بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآن ِالْعَظِيْمِ وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْر ِالحْكِيْمِ، أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ إِنَّهُ هُو َالْغَفُور ُالرَّحِيْمْ .
 
দ্বিতীয় খুৎবা
اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، أَحْمَدُهُ سُبْحَانَهُ وَأَشْكُرُهُ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ نَبِيَّنَا مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، صَلَى اللهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الْدِّيِن، أَمَّا بَعْدُ:

প্রিয় মুসল্লিয়ান! রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফ করা কখনো বাদ দেননি। তিনি প্রতি বছর দশ দিন ইতিকাফ করতেন। আর যে বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়াফাত ফরমান, সে বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেন। উপরন্তু যখন তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করতে প্রতিযোগিতা শুরু করলেন, তিনি ইতিকাফ করা ছেড়ে দিলেন এবং তা শাওয়ালের প্রথম দশকে কাজা করে নিলেন (বুখারী)।

ইতিকাফ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন বিষয় থেকে নিজকে দূরে রেখেছেন, যা তার জন্য বৈধ ছিল। যেমন স্ত্রীসঙ্গ ও নিদ্রাগমন। রমজানের শেষ দশকে কঠোর মেহনতি হওয়া এবং লুঙ্গি বেঁধে নেয়ার ব্যাপারে আয়েশা রাযি. থেকে যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তার অর্থ এটাই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণও ইতিকাফ করতেন। এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওয়াফাতের পরও তাঁরা ইতিকাফ করেছেন। এমনকি আয়েশা রাযি. থেকে এক বর্ণনায় এসেছে যে, জনৈকা ইস্তেহাযাগ্রস্তা স্ত্রী একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এ অবস্থায় ইতিকাফ করলেন যে, তিনি রক্তিম ও হরিদ্রা বর্ণের রক্ত দেখতে পাচ্ছিলেন। তিনি যখন নামাজ পড়তেন আমরা তখন হয়তো তাঁর নিচে প্লেট রেখে দিতাম।

প্রিয় মুসুল্লিয়ান! আসুন এবার আমরা ইতিকাফের কিছু আহকাম ও মাসাইল নিয়ে আলোচনা করি।

১. রাসূল্ল্লুাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শের অনুসরণ করে ইতিকাফের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করা।

২. নিয়ত করে ইতিকাফ শুরু করে দেয়ার পর ইতিকাফ পূর্ণ করা জরুরী নয়।
৩. কমপে কত দিন ইতিকাফ করলে ইতিকাফ হিসেবে ধরা হবে, বিষয়টি অনির্দিষ্ট। তবে ইতিকাফকারী যেদিন থেকে ইতিকাফ শুরু করতে ইচ্ছুক, সেদিন সূর্যাস্তের পূর্বেই তাকে নিজ ইতিকাফের জায়গায় পৌঁছে যেতে হবে।
৪. নিজের জন্য একটা জায়গা বেছে নেয়া জরুরী, যেখানে নীরবে আল্লাহর যিকর-আযকার করতে পারবে। প্রয়োজনের সময় আরাম করতে পরবে। কাপড় পরিবর্তন করতে পারবে। পরিবারের কেউ এলে তার সাথে সাক্ষৎ করতে পারবে।
৫. ইতিকাফকারী মসজিদের বিভিন্ন প্রান্তে নফল নামাজ আদায় করতে পারবে। তবে ইতিকাফকারীর জন্য উত্তম হলো অধিক নড়াচড়া ও নফল নামাজ না পড়া। এর প্রথম কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিজকে লুকিয়ে রাখা যায়, মসজিদের অভ্যন্তরে এমন একটি জায়গা তৈরি করে নিতেন। আর দ্বিতীয় কারণ যখন কেউ নামাজ পড়ার জায়গায় বসে থাকে তখন ফেরেশতারা তার প্রতি রহমত বর্ষণের দু‘আ করতে থাকে (বুখারী)।
৬. ইতিকাফ অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী মিলিত হওয়া, চুম্বন,স্পর্শ নিষেধ। যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :
{ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِد }
‘তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হবে না’ (সূরা আল-বাকারা : ১৮৭)।

ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদ থেকে বের হওয়া না হওয়ার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে।
এক. মানবীয় প্রয়োজনে বের হওয়ার অনুমতি আছে। যেমন পায়খানা, প্রস্রাব, পানাহার - যদি তা মসজিদে পৌঁছে দেওয়ার মত কেউ না থাকে। অনুরূপভাবে যে মসজিদে ইতিকাফ করা হচ্ছে তাতে যদি জুমার নামাজ না হয়, তাহলে জুমা আদায়ের জন্য অন্য মসজিদে যাওয়ার অনুমতি আছে।

দুই. এমন সব নেক-আমল বা ইবাদত-বন্দেগীর জন্য বের হওয়া যাবে না, যা ইতিকাফকারীর জন্য অপরিহার্য নয়। যেমন রোগীর সেবা করা, জানাজায় অংশ নেয়া ইত্যাদি। তবে যদি ইতকিাফের শুরুতে এ জাতীয় কোনো শর্ত করে নেয়া হয়, তবে তার কথা ভিন্ন।

তিন. এমন সকল কাজের জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না যা ইতিকাফ বিরোধী। যেমন ক্রয়-বিক্রয়, চাষাবাদ ইত্যাদি। ইতিকাফ অবস্থায় এ সকল কাজের জন্য মসজিদ থেকে বের হলে ইতিকাফ বাতিল হয়ে যাবে।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আমাদের সমাজে একটা অশুভ চিত্র দেখা যায়, আর তা হলো, রমজানের শুরুতে তারাবীহ নামাজের সময় মসজিদ পূর্ণ থাকে। তবে যতই দিন যেতে থাকে ততই মুসল্লীদের সংখ্যা কমে যেতে থাকে। একজন মুমিনের জন্য এভাবে হিম্মত হারা হয়ে যাওয়া আদৌ উচিত নয়। রমজানের সওগাত কুড়াতে গিয়ে অলসতা একজন খাঁটি মুমিনের আচরণ হতে পারে না। তারাবীহ নামাজে অংশ না নিয়ে অনেকেই আবার খেল-তামাশায় মত্ত হয়ে পড়ে। এটা মাহে রমাজানের পবিত্রতার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন বই অন্য কিছু নয়। যারা গাফেল তাদের সতর্ক হওয়া উচিত। যারা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুরসরণের দাবি করে তাদেরকেও সচেতন হতে হবে। শবেকদর পাওয়ার জন্য রাত জেগে মেহনত করতে হবে। নামাজে মাশগুল হতে হবে। এটা সত্যিই অবর্ণনীয় ত্র“টি ও দুর্ভাগ্য যে এমন একটি রজনীর খবর দেয়া হল যার ইবাদত তিরাশি বছর ইবাদাতের সমান। অথচ এ রজনীকে পাওয়ার জন্য ইবাদত না করে হেলাফেলায় সময় কাটিয়ে দেওয়া হল।

যে ব্যক্তি মাহে রমজানকে উদ্যম-উৎসাহে শুরু করল, পুরো রমজান কাঙ্খিত সিয়াম সাধনায় কাটানোর প্রেরণা নিয়ে শুরু করল, অথচ কিছুদূর না এগোতেই হিম্মত হারিয়ে ফেলল, এরূপ ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নিবেদিত মুমিন হতে পারে না। আমাদের পূর্বসুরীদের ব্যাপারে তো আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
{ كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ، وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ. }

‘রাতের সামান্য অংশই এরা ঘুমিয়ে কাটাতো। আর রাতের শেষ প্রহরে এরা মা চাওয়ায় রত থাকত’ (সূরা আয-যারিয়াত:১৭-১৮)।

তাঁরা রাতের অধিকাংশ ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে কাটানোর পরও কেন ইসতেগফার করতেন, আল্লাহর কাছে মা চাইতেন? আল্লাহর হক আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ত্র“টি হয়ে গেল কি না এই অনুভূতি থেকেই তাঁরা এরূপ করতেন।

মুহতারাম হাযেরীন! আসুন আমরা সেই ব্যক্তিদের মতো হই যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
{ وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ. }

‘আর যারা যা দান করে তা ভীত-কম্পিত হৃদয়ে করে থাকে এজন্য যে, তারা তাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তনশীল’ (সূরা আল মুমিনূন:৬০)।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আপনি আমি ঈমানের যে নিয়ামত পেয়েছি, তা একমাত্র আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহেই। তাই আমাদের বলা উচিত :
{ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ }
‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এর জন্য আমাদেরকে হিদায়েত দিয়েছেন। আর আমরা হিদায়েত পাওয়ার ছিলাম না, যদি না আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়েত দিতেন’ (সূরা আল-আরাফ:৪৩)।

সকল নিয়ামত আল্লাহ তাআলার প হতে এবং তিনি ইচ্ছে করলে যেকোনো নিয়ামত মুহূর্তের মধ্যে ছিনিয়ে নিতে পারেন। এমনকি আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওহীর যে নিয়ামত দিয়েছেন তাও তিনি নির্দ্বিধায় ছিনিয়ে নিতে পারেন। ইরশাদ হয়েছে :
{ وَلَئِنْ شِئْنَا لَنَذْهَبَنَّ بِالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ بِهِ عَلَيْنَا وَكِيلًا }
‘আর আমি ইচ্ছা করলে তোমার কাছে ওহীর মাধ্যমে যা পঠিয়েছি তা অবশ্যই নিয়ে নিতে পারতাম অতঃপর এ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে তোমার জন্য কোনো কর্মবিধায়ক পেতে না। (সূরা আল ইসরা:৮৬)।

তাই ইবাদত-বন্দেগী করে দম্ভ ও গর্ব করার আদৌ কোন যৌক্তিকতা নেই। বরং আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে আমল কবুল না হওয়ার আশঙ্কা রাখতে হবে। কেননা আল্লাহর পাকড়াও সম্পর্কে তিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য কেউ নিরাপত্তাবোধ করে না। আর আল্লাহ তাআলা তো কেবল মুত্তাকী ব্যক্তিদের নেক-আমলই কবুল করেন।

তাই আমাদের উচিত, মাহে রমজানের বাকি দিনগুলোতে প্রচুর মেহনত করা। আমাদের আমল কবুল হচ্ছে কি না সে ব্যাপারে হৃদয়ে শঙ্কা ও ভয় রাখা। আল্লাহ যাদের আমল কবুল করেন তাদের পর্যায়ে নিজদেরকে নিয়ে যাওয়া। এ ব্যাপারে অকান্ত পরিশ্রম ও মেহনত করে যাওয়া।

প্রিয় মুসল্লিয়ান! শবেকদরের সাক্ষাৎ পেলে আমাদের উচিত হবে, আল্লাহর কাছে অধিক পরিমাণে মা চাওয়া। আয়েশা রাযি. কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দু‘আ শিখেয়েছেন তা পড়া। অর্থাৎ:
( اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ )
‘হে আল্লাহ! আপনি অতি মাশীল, আপনি মা করা পছন্দ করেন, তাই আমাকে মা করে দিন’ (তিরমিযী, সহীহ)।

اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ وَعَنْ آلِ نَبِيِّكَ الطِّيِّبِيْنَ الطَّاهِرِيْنَ وَعَنْ أَزْوَاجِهِ أُمُّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَعَنِ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ.
ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে মাহে রমজানের হক পুরোপুরি আদায় করার তাওফীক দান করুন। রমজানের বাকি দিনগুলো যেন উত্তমভাবে কাটাতে পারি সে তাওফীক আমাদেরকে দান করুন। শেষ দশকে যেন আমাদের প্রত্যেকেই অত্যন্ত মেহনত ও পরিশ্রম করতে পারি সে তাওফীক আমাদেরকে দান করুন। ইয়া রাব্বাল আলামীন! আপনার রাসূল যেভাবে রমজান যাপন করেছেন আমাদেরকে সেভাবে রমজান যাপনের তাওফীক দান করুন। আমাদেরকে ইতিকাফ করার তাওফীক দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে লায়লাতুল কদর পাওয়ার জন্য শেষ দশকে মেহনত করার তাওফীক দান করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের আহল ও আয়াল সবাইকে আপনি মাহে রমজানের নিয়ামতসামগ্রী উত্তমরূপে হাসিলের তাওফীক দিন। মুসলিম উম্মাহর উপর থেকে সকল প্রকার বালা-মুসীবত দূর করে দিন। মুসলিম উম্মাহকে হিফাযত করুন। আমাদের শাসকদেরকে আপনি যে পথে চললে রাযি খুশী হন সে পথে চলার তাওফীক দিন। দেশের কল্যাণে, ইসলামের কল্যাণে তাদেরকে কাজ করে যাওয়ার তাওফীক দিন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।
عبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله ِ:(إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.


বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০

লায়লাতুল কদর নামকরণের কারণ কি? বিস্তারিত আলোচনা!

বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে


- কদরের এক অর্থ সম্মান ইরশাদ হয়েছে :
(وَمَا قَدَرُواْ ٱللَّهَ حَقَّ قَدۡرِهِۦٓ ){আর তারা আল্লাহকে যথার্থ সম্মান দেয়নি}[ সূরা আল আনআম:৯১]
সে হিসেবে লায়লাতুল কদর অর্থ হবে সম্মানিত রাত; কেননা রাতে কুরআন নাযিল হয়েছে, রাতে ফেরেশতাগণ নেমে আসেন এবং রাতে রবকত-রহমত-মাগফিরাত নাযিল হয়

- কদরের আরেক অর্থ সংকীর্ণকরণ, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
(وَمَن قُدِرَ عَلَيۡهِ رِزۡقُهُۥ فَلۡيُنفِقۡ مِمَّآ ءَاتَىٰهُ ٱللَّهُۚ )
{আর যার রিয্ক সংকীর্ণ করা হয়েছে সে যেন আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা হতে ব্যয় করে} [ সূরা আত-তালাক:]
লায়লাতুল কদরের ক্ষেত্রে সংকীর্ণকরণের অর্থ হবে লায়লাতুল কদর সংঘটিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ গোপন করে রাখা

- কাদ্র কাদার থেকেও উৎকলিত হতে পারে, যার অর্থ হবে রাতে আল্লাহ তাআলা সে বছরের সকল আহকাম নির্ধারণ করেন আল্লাহ তাআলা বলেন:
(يُفۡرَقُ كُلُّ أَمۡرٍ حَكِيمٍ )
{সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়} [সূরা আদ-দুখান:]

লায়লাতুল কদরের ফজিলত মর্যাদা
- লায়লাতুল কদরেই পবিত্র কুরআন নাযিল করা হয়েছে

আল্লাহ তাআলা বলেন :
(إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةِ ٱلۡقَدۡرِ)
{নিশ্চয় আমি এটি নাযিল করেছিলাইলাতুল কদরে}[ সূরা আল কাদ্র:]

- লায়লাতুল কদর হাজার মাস থেকেও উত্তম
আল্লাহ তাআলা বলেন:
(لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ )
{লায়লাতুল কদর এক হাজার মাস থেকে উত্তম} [সূরা আল-কাদ্র:] অর্থাৎ লায়লাতুল কদরে আমল করা লায়লাতুল কদরের বাইরে এক হাজার মাস আমল করার চেয়েও উত্তম

- লায়লাতুল কদরে ফেরেশতা জিব্রীল এর অবতরণ

আল্লাহ তাআলা বলেন:
(تَنَزَّلُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذۡنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمۡرٖ )
{সে রাতে ফেরেশতারা রূহ (জিব্রীল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে}[ সূরা আল কাদ্র:]

আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘লায়লাতুল কদর হলো সাতাশ তারিখ অথবা ঊনত্রিশ তারিখের রাত, আর ফেরেশতাগণ রাতে পৃথিবীতে কঙ্করের সংখ্যা থেকেও বেশি থাকেন
- লায়লাতুল কদর হলো শান্তির রাত
আল্লাহ তাআলা বলেন :
(سَلَٰمٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطۡلَعِ ٱلۡفَجۡرِ ٥ )
{শান্তিময় সেই রাত, ফজরের সূচনা পর্যন্ত}[ সূরা আল কাদ্র:]
অর্থাৎ লায়লাতুল কদরের পুরোটাই ভালো, এর শুরু থেকে সুবেহ সাদেক পর্যন্ত আদৌ কোনো অনুত্তম বিষয় নেই

- লায়লাতুল কদর মুবারক রাত
আল্লাহ তাআলা বলেন:
(إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةٖ مُّبَٰرَكَةٍۚ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ ٣ )
{নিশ্চয় আমি এটি নাযিল করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী}
[ সূরা আদ-দুখান:]

উক্ত আয়াতেলায়লাতুম্ মুবারাকা’- এর অর্থ ইবনে আব্বাস রাযি. এর নিকটলায়লাতুল কদর - রাতে এক বছরের সকল প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়

আল্লাহ তাআলা বলেন:
(فِيهَا يُفۡرَقُ كُلُّ أَمۡرٍ حَكِيمٍ )
{সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়} [ সূরা আদ-দুখান:]

- যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করবে তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করল, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হলো’(বর্ণনায় ইবনে খুযায়মাহ)
কোন রাত লায়লাতুল কদর?

আল্লাহ তাআলা রাতকে গোপন করে রেখেছেন, যাতে মুসলিম ব্যক্তি রমজানের শেষ দশদিনে অধিক শ্রম ব্যয় করে, বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলোয় আর সেগুলো হলো ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ২৯ তারিখের রাত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশের বেজোড় রাতগুলোতে লায়লাতুল কদর অনুসন্ধান করো’(বর্ণনায় বুখারী মুসলিম)

আলেমদের কেউ কেউ বিভিন্ন দলিলের মাধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে বলেছেন, রাতগুলোর একেকটায় একেক সময় লায়লাতুল কদর সংঘটিত হয়ে থাকে(বর্ণনায় বুখারী মুসলিম)

লায়লাতুল কদরে যেসব আমল মুস্তাহাব
- ইতিকাফ : রমজানের শেষ দশকের পুরোটাতেই ইতিকাফ করতে হয়, শুধু লায়লাতুল কদরে নয় আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন
(বর্ণনায় বুখারী মুসলিম)

- ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাসসহ আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাসসহ আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করল, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হলো’(বর্ণনায় বুখারী মুসলিম)

- দুআ : আয়েশা রাযি. বলেন,‘ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যদি লায়লাতুল কদর পাই তবে কি দুআ করব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলো,‘ اللهم إنك عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُ الْعَفْوَ، فاعْفُ عَنِّي অর্থাৎ হে আল্লাহ, আপনি অতি ক্ষমাশীল দয়ালু, আপনি ক্ষমা করাকে পছন্দ করেন, তাই আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন
লায়লাতুল কদরের আলামত
- রাত বেশি ঠাণ্ডাও হয় না, বেশি গরমও হয় না, বরং তা হয় উজ্জ্বল
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে লায়লাতুল কদর দেখানো হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে রাত হলো রমজানের শেষ দশদিনের রাতগুলোয় রাত হলো মুক্ত উজ্জ্বল, যা ঠাণ্ডাও না গরমও না’(বর্ণনায় তিরমিযী)

- লায়লাতুল কদর শেষে সকালের সূর্য আলোকরশ্মি ব্যতীত সাদা হয়ে উদিত হয়
উবায় ইবনে কা রাযি. কে যখন লায়লাতুল কদরের আলামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় তখন তিনি বলেছেন,‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে নিদর্শনের কথা বলেছেন, তার দ্বারা আমরা লায়লাতুল কদর চিনতে পারি, অর্থাৎ ওইদিন সূর্যোদয় হয় রশ্মিবিহীন আকারে’ (বর্ণনায় ইবনে খুযায়মাহ)

সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, ‘আলোকরশ্মিবিহীন সাদা আকারে’ (বর্ণনায় তিরমিযী)



ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png