| ক্রম | ঘটনা/আলামত | বিস্তারিত বর্ণনা |
|---|---|---|
| ১ | পৃথিবীতে জুলুম ও ফিতনা | মানুষ ধর্ম থেকে দূরে সরে যাবে, অন্যায় ও হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে, মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি। |
| ২ | আরব অঞ্চলে যুদ্ধ ও অস্থিরতা | মক্কা, মদিনা ও সিরিয়ার চারপাশে বড় যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা। |
| ৩ | খলিফার মৃত্যু ও উত্তরাধিকার বিরোধ | একজন খলিফা মারা যাবে, উত্তরাধিকারের বিষয়ে মতভেদ ও বিবাদ সৃষ্টি হবে। |
| ৪ | কালো পতাকা ও খোরাসান বাহিনী | পূর্ব দিক থেকে কালো পতাকা উত্থিত হবে, যা ইমাম মাহদীর আগমনের সংকেত। |
| ৫ | সাফিয়ানির আবির্ভাব | সিরিয়ার একজন দুষ্ট নেতা (সাফিয়ানি) বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। |
| ৬ | ইমাম মাহদীর আগমন | মক্কায় মানুষ তাঁকে বায়াত করবে, তিনি পৃথিবীতে ন্যায় ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করবেন। |
| ৭ | দাজ্জালের আবির্ভাব | দাজ্জাল ফিতনা ছড়াবে, মানুষের ঈমান নষ্ট করার চেষ্টা করবে। |
| ৮ | নবী ঈসা (আ.)-এর অবতরণ | ঈসা (আ.) আকাশ থেকে অবতরণ করবেন, মাহদীর পেছনে নামাজ আদায় করবেন এবং দাজ্জালকে পরাজিত করবেন। |
| ৯ | শান্তি ও ন্যায়পরায়ণ শাসন | পৃথিবীতে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সম্পদ সমৃদ্ধি। ইসলাম সর্বত্র বিস্তার লাভ করবে। |
| ১০ | শাসনকাল | মাহদীর শাসনকাল সাধারণত ৭–৯ বছর, কিছু বর্ণনায় আরও বেশি। |
সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ইমাম মাহাদী আগমন বিস্তারিত বর্ণনা
দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়
হাদিসে খুব স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। নিচে মূল বিষয়গুলো দিলাম—
📖 ১. সূরা কাহফ পাঠ করা
- রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে।"
(সহিহ মুসলিম)
👉 অন্য বর্ণনায় আছে: সূরা কাহফের শেষের ১০ আয়াত পাঠ করলেও দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।
সূরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত (আরবি, উচ্চারণ ও অর্থসহ) দিচ্ছি। এগুলো মুখস্থ ও নিয়মিত পাঠ করলে দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।
📖 সূরা কাহফ (১৮:১-১০)
১.
ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ ٱلَّذِيٓ أَنزَلَ عَلَىٰ عَبۡدِهِ ٱلۡكِتَـٰبَ وَلَمۡ يَجۡعَل لَّهُۥ عِوَجَاۜ ١
উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আঞ্জালা ‘আলা ‘আবদিহিল কিতাবা, ওয়া লাম ইয়াজ‘আল লাহূ ‘ইওয়াজা।
অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।
২.
قَيِّمٗا لِّيُنذِرَ بَأۡسٗا شَدِيدٗا مِّن لَّدُنۡهُ وَيُبَشِّرَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٱلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ أَنَّ لَهُمۡ أَجۡرًا حَسَنٗا ٢
উচ্চারণ: কাইয়্যিমান লিইউনযিরা বা’সান শাদীদাম মিন লাদুনহু, ওয়া ইউবাশশিরাল মুমিনীনাল্লাযীনা ইয়ামালুনাস-সালিহাতি আন্না লাহুম আজরান হাসানা।
অর্থ: সোজাসাপ্টা (গ্রন্থ), যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে কঠিন শাস্তির সতর্কতা দিতে পারেন এবং সৎকর্মশীল মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিতে পারেন যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম পুরস্কার।
৩.
مَّـٰكِثِينَ فِيهِ أَبَدٗا ٣
উচ্চারণ: মাকিসীনা ফীহি আবাদা।
অর্থ: তারা তাতে চিরকাল অবস্থান করবে।
৪.
وَيُنذِرَ ٱلَّذِينَ قَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ وَلَدٗا ٤
উচ্চারণ: ওয়া ইউনযিরাল্লাযীনা কালূত্তাখাযাল্লাহু ওয়ালাদা।
অর্থ: এবং তিনি তাদের সতর্ক করবেন যারা বলে, "আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।"
৫.
مَّا لَهُم بِهِۦ مِنۡ عِلۡمٖ وَلَا لِأٓبَآئِهِمۡۚ كَبُرَتۡ كَلِمَةٗ تَخۡرُجُ مِنۡ أَفۡوَٲهِهِمۡۚ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبٗا ٥
উচ্চারণ: মা লাহুম বিহি মিন ‘ইলমিন ওয়া লা লিআবাইহিম; কাবুরাত কালিমাতান তাকহারুজু মিন আফওয়াহিহিম; ইন্যা কূলূনা ইল্লা কাজিবা।
অর্থ: এ ব্যাপারে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, আর তাদের পূর্বপুরুষদেরও ছিল না। তাদের মুখ থেকে যে কথা বের হয় তা গুরুতর মিথ্যা। তারা শুধু মিথ্যাই বলে।
৬.
فَلَعَلَّكَ بَـٰخِعٞ نَّفۡسَكَ عَلَىٰٓ ءَاثَـٰرِهِمۡ إِن لَّمۡ يُؤۡمِنُواْ بِهَـٰذَا ٱلۡحَدِيثِ أَسَفًا ٦
উচ্চারণ: ফা-লা‘আল্লাকা বাখিঅুন নাফসাকা ‘আলা আ’সারিহিম ইল্লাম ইউমিনূ বিহাযাল হাদীসি আসাফা।
অর্থ: (হে মুহাম্মদ ﷺ) হয়তো তুমি এ কথায় দুঃখে নিজের প্রাণ ধ্বংস করে ফেলবে যদি তারা এতে ঈমান না আনে।
৭.
إِنَّا جَعَلۡنَا مَا عَلَى ٱلۡأَرۡضِ زِينَةٗ لَّهَا لِنَبۡلُوَهُمۡ أَيُّهُمۡ أَحۡسَنُ عَمَلٗا ٧
উচ্চারণ: ইন্না জা‘আলনা মা ‘আলাল আরদি জীনাতাল্লাহা লিনাবলুয়াহুম আয়্যুহুম আহসানু ‘আমালা।
অর্থ: আমি পৃথিবীর যা কিছু আছে তা সৌন্দর্য করেছি, যাতে আমি পরীক্ষা করতে পারি তাদের মধ্যে কে উত্তম কাজ করে।
৮.
وَإِنَّا لَجَـٰعِلُونَ مَا عَلَيۡهَا صَعِيدٗا جُرُزًا ٨
উচ্চারণ: ওয়া ইন্না লাজা‘ইলূনা মা ‘আলাইহা সা‘ঈদান জুরুজা।
অর্থ: আর অবশ্যই আমি তাতে যা কিছু আছে সবকে একদিন ধূলিসাৎ করে দেব।
৯.
أَمۡ حَسِبۡتَ أَنَّ أَصۡحَـٰبَ ٱلۡكَهۡفِ وَٱلرَّقِيمِ كَانُواْ مِنۡ ءَايَـٰتِنَا عَجَبًا ٩
উচ্চারণ: আম হাসিবতা আন্না আসহাবাল কাহফি ওয়ার রাকীমি কাআনূ মিন আয়াতিনা ‘আজাবা।
অর্থ: তুমি কি মনে করো যে গুহাবাসী ও রাকীম আমার নিদর্শনসমূহের মধ্যে আশ্চর্যজনক ছিল?
১০.
إِذۡ أَوَى ٱلۡفِتۡيَةُ إِلَى ٱلۡكَهۡفِ فَقَالُواْ رَبَّنَآ ءَاتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحۡمَةٗ وَهَيِّئۡ لَنَا مِنۡ أَمۡرِنَا رَشَدٗا ١٠
উচ্চারণ: ইয আওয়াল ফিতইয়াতু ইলাল কাহফি ফাকালূ রাব্বানা আ-তিনা মিল্লাদুনকা রাহমাতাও ওয়া হাইই লানা মিন আমরিনা রাশাদা।
অর্থ: যখন ওই যুবকেরা গুহায় আশ্রয় নিল, তখন তারা বলল: “হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের প্রতি তোমার পক্ষ থেকে দয়া বর্ষণ কর এবং আমাদের ব্যাপারে সঠিক পথ প্রস্তুত করে দাও।”
🌿 এগুলো প্রতিদিন পড়া ও মুখস্থ করার চেষ্টা করলে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।
🤲 ২. দোয়া পাঠ করা
নবী করীম ﷺ প্রতিটি নামাজের শেষে (তাশাহ্হুদের পরে) এই দোয়া পড়তে বলেছেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
উচ্চারণ:
"আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিন ‘আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন ‘আযাবিল কবর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল।"
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাই তোমার কাছে জাহান্নামের শাস্তি থেকে, কবরের শাস্তি থেকে, জীবিত থাকা ও মৃত্যুকালের ফিতনা থেকে, আর মসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে।
(সহিহ মুসলিম, সহিহ বুখারি)
🕋 ৩. মক্কা-মদিনায় দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না
- রাসূল ﷺ বলেছেন, মদিনার পথে ফেরেশতারা পাহারা দেবে। তাই দাজ্জাল কখনোই মক্কা ও মদিনায় ঢুকতে পারবে না।
🛡 ৪. দৃঢ় ঈমান রাখা
- দাজ্জাল মানুষের ঈমান নষ্ট করার চেষ্টা করবে। তাই আল্লাহর তাওহীদে দৃঢ় বিশ্বাস ও রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ অনুসরণ করা সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
✨ সারকথা:
দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচতে চাইলে —
- সূরা কাহফের প্রথম বা শেষ ১০ আয়াত পড়া/মুখস্থ রাখা
- প্রতিদিন নামাজ শেষে দোয়া পড়া
- দৃঢ় ঈমান বজায় রাখা
দাজ্জালের আগমন সম্পর্কিত কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত লক্ষণগুলো সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো
📌 দাজ্জালের বৈশিষ্ট্য
- এক চোখ অন্ধ থাকবে – হাদিসে এসেছে, তার ডান চোখ অন্ধ হবে এবং অন্য চোখ আঙুরের মতো বের হবে।
- কপালে লেখা থাকবে "কাফির (ك ف ر)" – মুমিনরা সেটা সহজেই চিনতে পারবে, অশিক্ষিত হলেও।
- বিশাল দেহ ও অস্বাভাবিক শক্তি থাকবে।
- অলৌকিক ক্ষমতা প্রদর্শন করবে – যেমন বৃষ্টি নামানো, ফসল ফলানো, বা মানুষকে ধন-সম্পদ দেওয়া।
- নিজেকে খোদা দাবি করবে।
📌 দাজ্জালের আগমনকালে অবস্থা
- পৃথিবীতে ভয়াবহ ফিতনা দেখা দেবে।
- খরা ও দুর্ভিক্ষ হবে – মানুষ পানীয় জল ও খাদ্যের জন্য কষ্ট পাবে।
- দাজ্জাল মানুষকে প্রতারণা করবে—যারা তার অনুসারী হবে তাদের খাওয়া-দাওয়া দিবে, আর যারা অস্বীকার করবে তাদের কষ্ট পেতে হবে।
📌 দাজ্জালের আগমন সম্পর্কিত স্থান
- হাদিসে এসেছে, দাজ্জাল খোরাসান অঞ্চলের (বর্তমান ইরান/আফগানিস্তান) দিক থেকে বের হবে।
- সে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করবে, মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না।
📌 দাজ্জালের মৃত্যু
- অবশেষে ঈসা (আঃ) পৃথিবীতে অবতীর্ণ হবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন।
- স্থানটি হবে লুদ দ্বারে (বর্তমান ফিলিস্তিনে)।
🔖 হাদিস সূত্র:
- সহিহ মুসলিম, সহিহ বুখারি, আবু দাউদ, তিরমিজি প্রভৃতি গ্রন্থে দাজ্জালের উল্লেখ আছে।
👉 সংক্ষেপে: দাজ্জাল এখনো আসেনি, তবে হাদিস অনুযায়ী তার আগমন হবে কিয়ামতের বড় নিদর্শনগুলোর একটি।


