শিরোনাম
Loading latest headlines...

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০

তাহাজ্জুদ নামায ন্যুনতম কয় রাকাত? কত রাকাত করে নিয়ত করতে হয়?

বৃহস্পতিবার, জুন ০৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে


প্রশ্নঃ
তাহাজ্জুদ এর নামায কি নুন্যতম চার রাকাত? এই নামাযের নিয়ত চার রাকাত নামাযের নিয়তের মত নাকি দুই রাকাত নামাযের নিয়তের মত করা উচিত? জানালে উপকৃত হবো।

অনেক ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
জাওয়াব
আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আয়েশা রা. কে জিজ্ঞাসা করেন যে, রমযানে নবীজীর নামায কেমন হত? তিনি উত্তরে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে এবং রমযানের বাইরে এগার রাকাতের বেশি পড়তেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না! এরপর আরও চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা তো বলাই বাহুল্য! এরপর তিন রাকাত (বিতর) পড়তেন।–{সহীহ বুখারী ১/১৫৪, হাদীস ১১৪৭; সহীহ মুসলিম ১/২৫৪, হাদীস ৭৩৮; সুনানে নাসায়ী ১/২৪৮, হাদীস ১৬৯৭; সুনানে আবু দাউদ ১/১৮৯, হাদীস ১৩৩৫; মুসনাদে আহমদ ৬/৩৬, হাদীস ২৪০৭৩}

আব্দুল্লাহ ইবনে আবী কাইস বলেন-
قلت لعائشة : بكم كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يوتر؟ قالت: كان يوتر بأربع وثلاث, وست وثلاث, وثمان وثلاث, وعشر وثلاث, ولم يكن يوتر بأنقص من سبع, ولا بأكثر من ثلاث عشرة.

অর্থাৎ আমি হযরত আয়েশা রা.-এর কাছে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবীজী বিতরে কত রাকাত পড়তেন? উত্তরে তিনি বলেন, চার এবং তিন, ছয় এবং তিন, আট এবং তিন, দশ এবং তিন। তিনি বিতরে সাত রাকাতের কম এবং তের রাকাতের অধিক পড়তেন না। -{সুনানে আবু দাউদ ১/১৯৩, হাদীস ১৩৫৭ (১৩৬২); তহাবী শরীফ ১/১৩৯; মুসনাদে আহমদ ৬/১৪৯, হাদীস ২৫১৫৯}

তাহাউল্লেখিত বর্ণনা দ্বারা বুঝা গেল রাসূল সাঃ কখনো তাহাজ্জুদ নামায চার রাকাত পড়তেন, কখনো ছয় রাকাত পড়তেন। কখনো আট রাকাত পড়তেন। কখনো দশ রাকাত পড়তেন।

সুতরাং তাহাজ্জুদের নামায ১০ রাকাত পর্যন্ত পড়া রাসূল সাঃ থেকে আমরা সহীহ হাদীসে পাই। এর চে’বেশি পড়া যাবে না। এমন নয়। যেহেতু এটি নফল নামায তাই যত বেশি পড়া যায় ততই সওয়াব। তাই ইচ্ছেমত পড়া যায়।

সেই সাথে চার রাকাতের কম পড়লে তা তাহাজ্জুদ হবে না, বিষয়টি এমনও নয়। তাই দুই রাকাত পড়লেও তা তাহাজ্জুদ নামায হিসেবেই গণ্য হবে। সময় কম থাকলে দুই রাকাত পড়ে নিলেও তাহাজ্জুদ নামায পড়া হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে।

রাতের এবং দিনের নফল নামাযের নিয়ত চার রাকাত করেও নিয়ত করা যায়, এমনিভাবে দুই রাকাত করেও নিয়ত করা যায়। কোন সমস্যা নেই।

তাই আপনি তাহাজ্জুদ নামাযের নিয়ত চাইলে ২ রাকাতের নিয়ত করে ২ রাকাত ২ রাকাত করে পড়তে পারেন। অথবা ৪ রাকাত ৪ রাকাত নিয়ত করে ৪ রাকাত করে পড়তে পারেন। {ফাতওয়ায়ে শামী-২/৪৫৫, তাবয়ীনুল হাকায়েক-১/১৭২, আল বাহরুর রায়েক-২/৫৩, ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-১১/২৮৭}

——————–
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
——————————–


শাওয়াল মাসের ছয় রোযার বিশেষ ফজীলত ও নিয়ম

বৃহস্পতিবার, জুন ০৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

রামাজানের রোযার পর শাওয়ালের ছয় রোযায় সারা বছরের রোযার ছাওয়াব

রামাজান মাসের পরের মাসের নাম হচ্ছে ‘শাওয়াল’। শাওয়ালের বিশেষ আমল হলো–শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা রাখা। শাওয়াল মাসের ১ তারিখ হচ্ছে ঈদুল ফিতর। সেদিন ঈদ হিসেবে রোযা রাখা যায় না। এর পরদিন থেকে শাওয়ালের সেই ছয় রোযা রাখা যায়। এ রোযাকে “শাওয়ালের ছয় রোযা” বলা হয়।

মাহে রামাজানের ফরজ রোযা পালনের পর শাওয়াল মাসে এ ছয়টি রোযা রাখা নফল বা মুস্তাহাব। তবে এ রোযা রাখা নফল বা মুস্তাহাব হলেও এর ফজীলতকে রামাজানের রোযার সাথে যুক্ত করে এক বছরের রোযার ছাওয়াবের কথা হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এ ছয় রোযার অনন্য ফজীলতের তথা রামাজানের রোযার ন্যায় ফজীলত লাভের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

শাওয়ালের এ ছয় রোযার ফজীলত সম্পর্কে হাদীস শরীফে রয়েছে–
عن أبي أيوب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من صام رمضان ثم أتبعه ستا من شوال كان كصيام الدهر
হযরত আবু আইয়ূব আনসারী (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন–“যে ব্যক্তি রামাজানের রোযা রাখল, অতঃপর তার পিছে পিছে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযা রাখল, তা পূর্ণবছর রোযা রাখার মতো গণ্য হবে। ”

(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬৪/ জামি‘ তিরমিযী, হাদীস নং ৭৫৯/ সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৩৩ প্রভৃতি)

অন্য হাদীসে রয়েছে–
عن ثوبان رضي الله عنه مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من صام ستة أيام بعد الفطر كان تمام السنة من جاء بالحسنة فله عشر أمثالها
হযরত ছাওবান (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাز) ইরশাদ করেন–“যে ব্যক্তি মাহে রামাজানের রোযা শেষ করে (শাওয়াল মাসে) ছয়দিন রোযা রাখবে, তা পুরো বছর রোযা গণ্য হবে। (আল্লাহ তা‘আলা বলেন,) যে ব্যক্তি নেক আমল করবে, তার জন্য সেই আমলের দশগুণ লাভ হবে।”

(মুসনাদে আহমাদ, ৫ম খণ্ড, ২৮০ পৃষ্ঠা/ সুনানে দারিমী, হাদীস নং ১৭)

অপর হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন–
صيام شهر رمضان بعشرة أشهر وصيام ستة أيام بشهرين فذلك صيام السنة
“রামাজানের রোযা ১০ মাসের রোযার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোযা দুই মাসের রোযার সমান। এই হলো এক বছরের রোযা।”

(সুনানে ইবনে মাজাহ)

এ হাদীসসমূহে বর্ণিত উক্ত রামাজান ও শাওয়ালের রোযাসমূহের ছাওয়াব এভাবে নির্ণিত হয় যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সূরাহ আন‘আমের ১৬০ নং আয়াতে ইরশাদ করেছেন–
من جاء بالحسنة فله عشر أمثالها
“যে ব্যক্তি নেক কর্ম করবে, তার জন্য তার দশ সমতুল্য প্রতিদান রয়েছে।”

সে হিসেবে রামাজানের ৩০ রোযায় ৩০০ রোযার বা রামাজানের ১ মাসে ১০ মাসের রোযার ছাওয়াব হয়। আর মাহে শাওয়ালের ছয় রোযায় ৬০ রোযার বা ২ মাসের রোযার ছাওয়াব লাভ হয়। এভাবে (রামাজানের ৩০ রোযা এবং শাওয়ালের ৬ রোযা মোট ৩৬ রোযা দশ দিয়ে গুণ দিলে) ৩৬০ রোযার সমান হয়ে যায়। আর চান্দ্র বর্ষ অনুযায়ী প্রায় ৩৬০ দিনে (বা ৩৫৪ দিনের কিছু বেশী) এক বছর হয়। সুতরাং এর মাধ্যমে পূর্ণ এক বছর রোযা রাখার ছাওয়াব লাভ হয় । অথবা এভাবে হিসাব করা যায় যে, রামাজানের এক মাসের রোযার দ্বাারা দশ মাসের রোযার ছাওয়াব লাভ হয় এবং শাওয়ালের ছয়দিনের রোযার দ্বারা দুই মাসের রোযার ছাওয়াব অর্জিত হয়। এভাবে সেই দুই আমল দ্বারা মোট ১২ মাস বা এক বছরের রোযার ছাওয়াব লাভ হয়।

তবে উল্লেখ্য যে, কেবল মাত্র তারাই শাওয়ালের ৬ রোযার ছাওয়াব পরিপূর্ণভাবে লাভ করবেন তথা রামাজানের রোযার পর শাওয়ালের রোযা রাখার দ্বারা একবছরের রোযার ছাওয়াব লাভ তারাই লাভ করবেন–যারা রামাজানের রোযা সঠিকভাবে পালন করে তারপর শাওয়ালের রোযা রাখবেন। হাদীস শরীফে ثُمَّ أَتْبَعَهُ বলে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাই যে ব্যক্তির রামাজানের রোযার কাজা আছে, তিনি প্রথমে রামাজানের সেই কাজা রোযা আদায় করে নিবেন। তারপর শাওয়ালের ছয় রোযা রাখবেন। তাহলেই উক্ত রোযার পরিপূর্ণ ফজীলত লাভ করবেন। তবে যদি কোন সঙ্গত উজরের কারণে তা সেভাবে আদায় করা সম্ভব না হয়, সেটা ভিন্ন কথা। সেই অবস্থায় শাওয়ালের রোযা এ শাওয়ালের ভিতরে রেখে রামাজানের কাজা রোযা অন্য মাসে রাখতে পারবেন। অবশ্য সেক্ষেত্রে সেই একবছরের রোযার ছাওয়াবের ফজীলত সেই কাজা রোযা আদায় পূর্ণ করার পর লাভ হবে।

শাওয়াল মাসে ঈদুল ফিতরের পরদিন থেকে নিয়ে পুরো মাসে যখন ইচ্ছা সেই ছয়টি নফল রোযা রাখা যায়। তবে উত্তম হল, উক্ত ছয় রোযাকে রামাজানের ঈদের পর পরই রাখা এবং লাগাতারভাবে রাখা। কেননা, এতে বর্ণিত হাদীসের উপর পুরোপুরিভাবে আমল হয়। তবে কেউ যদি রামাজানের ঈদের পর পরই না রেখে আরো পরে সেই রোযা রাখেন এবং ছয় রোযা একসঙ্গে না রেখে কিছুদিন পর পর করে বা পুরো শাওয়াল মাস ভরে রোযাগুলো রাখেন, তাতেও সেই ফজীলত লাভের আশা করা যায়।

মোট কথা, যার যার সুযোগ-সুবিধা মত এক সাথে ছয় রোযা বা আলাদা আলাদা করেও রাখা জায়িয আছে। অর্থাৎ শাওয়ালের ভিতরে ছয়টি রোযা রাখলেই হবে। অবশ্য শাওয়াল মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে, তখন সেই ছয় রোযা রাখলে, তাতে হাদীসে বর্ণিত ফজীলত পুরোপুরি লাভ হবে না। তবে কেউ তখন রাখলে, কুরআনের বর্ণনানুযায়ী প্রতিটি নেক আমলের ১০ গুণ ছাওয়াব হিসেবে ভিন্নভাবে ৬০টি রোযা রাখার ছাওয়াব লাভ হবে।

আর এ হিসেবেই রামাজান ও শাওয়ালের রোযা ছাড়াও প্রতিমাসে তিনদিন তথা চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে (আইয়্যামে বীজ-এর) রোযা রাখার দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে একবছরের রোযার সমান ছাওয়াব লাভ হবে বলে হাদীসে রয়েছে। তেমনিভাবে প্রতি সপ্তাহে দুইদিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখার বিশেষ ফজীলতের বর্ণনা হাদীস শরীফে রয়েছে।



ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png