শিরোনাম
Loading latest headlines...
নও মুসলিম জীবনি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নও মুসলিম জীবনি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২১

মহানবী (সাঃ)র জীবনী পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ৮০ বছর বয়সী এক নারী

বুধবার, নভেম্বর ১৭, ২০২১ 0
বার দেখা হয়েছে


মহানবী (সা.)’র জীবনী পড়ে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন বুলগেরিয়ান নারী স্পাস্কা ইভানোভা। মহানবীর জীবনী পড়ে তিনি অভিভূত হয়ে ৮০ বছর বয়সে গ্রহণ করলেন ইসলাম ধর্ম।
বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) তুরস্ক ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন পড়াশোনার পর বুলগেরিয়ার পর্যটক স্পাস্কা ইভানোভা ইসলাম গ্রহণ করেন। এর আগে মহানবী (সা.)’র জীবনী পড়ে তিনি খুবই প্রভাবিত হন। ইসলাম গ্রহণের পর নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ফাতেমা।
এক বিবৃতিতে তিনি জানান, কয়েকবছর যাবত ইসলাম ধর্ম বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা পাঠ করছিলেন তিনি। এ সময় তিনি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনী গভীর মনোযোগ দিয়ে পাঠ করেন। যা তার অন্তরে গভীরভাবে রেখাপাত করে। যার ফলে তিনি ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন


রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মার্কিন নারী আমিনা এসলিমি খৃষ্টধর্ম প্রাচারে গিয়ে নিজেই ইসলাম গ্রহণ করেন

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

 

আমিনা এসলিমি’ নামের একজন মার্কিন নও-মুসলিম মহিলার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কথা অনেকেরই জানা। তবে তার আত্মকথা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। এখানে সেই কাহিনী তুলে ধরা হল। পবিত্রতা ও শান্তিপিয়াসী মানুষ ধর্মমুখী হচ্ছেন। ধর্ম মানুষের প্রকৃতিগত বিষয়। তাই তা ইতিহাস ও ভৌগলিক সীমারেখার গন্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ধর্ম নানা জাতি, গোত্র ও শ্রেণীর মধ্যে গড়ে তুলে ঐক্য ও সম্পর্ক। তাই যারা নিজের সত্যপিয়াসী প্রকৃতির দিকে ফিরে যেতে চান, ধর্ম তাদেরকে ফিরিয়ে দেয় পবিত্রতা ও শান্তি আর এমনই পবিত্রতা ও শান্তি পাচ্ছেন সর্বশেষ ও পরিপূর্ণ ঐশী ধর্ম ইসলামের মধ্যে আমিনা এসলিমির মত সত্যপ্রিয় পশ্চিমা নাগরিকরা। পেশায় সাংবাদিক মিসেস আমিনা এসলিম ছিলেন একজন গোঁড়া খৃস্টান ও খৃস্ট ধর্মের প্রচারক। পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি প্রচার করতেন খৃস্ট ধর্ম। তিনি মনে করতেন, ইসলাম একটি কৃত্রিম ধর্ম এবং মুসলমানেরা হল অনুন্নত ও পশ্চাদপদ একটি জাতি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটারের একটি ভুল তার জীবনের মোড় পুরোপুরি বদলে দেয়। বর্তমানে তিনি বিশ্ব মুসলিম নারী রক্ষার কাজে মশগুল ।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর মার্কিন নওমুসলিম আমিনা এসলিমি এখন সম্পূর্ন ভিন্ন ধরণের মানুষ। এক সময়ের খৃস্ট ধর্ম প্রচারক এই নারী আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু মানুষের মনে জ্বালাতে পেরেছেন ইসলামের প্রোজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত আলোর শিখা। তিনি বলেছেন ইসলাম আমার হৃদয়ের স্বপন্দন ও আমার শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত রক্তধারা এবং আমার সমস্ত প্রেরণার উৎস হ’ল এই ইসলাম। এ ধর্মের সুবাদে আমার জীবন হয়েছে অপরূপ সুন্দর ও অর্থপূর্ণ। ইসলাম ছাড়া আমি কিছুই নই। মার্কিন নও-মুসলিম আমিনা এসলিমি কম্পিউটারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নতুন টার্মের ক্লাশে ভর্তি হওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে গিয়ে একটি ভুল বিষয়ের ক্লাশে ভর্তি হন। কিন্তু এই সময় সফরে থাকায় তিনি তার এই ভুল বুঝতে পারেননি। পরে যখন এই বিষয় সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন জানতে পারেন যে, এই বিষয়ের ক্লাশে যোগ দেয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। আর ওই ক্লাশের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই আরব মুসলমান। যদিও মিসেস এসলিমি আরব মুসলমানদের ঘৃণা করতেন, কিন্তু বৃত্তির অর্থ বাঁচানোর জন্য তাদের সহপাঠী হওয়া ছাড়া আর কোন পথ খোলা ছিল না তার। এ অবস্থায় তার মন খুব বিষন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু তার স্বামী যখন বললেন, হয়তো স্রষ্টা এটাই চেয়েছিলেন এবং তিনি হয়তো তোমাকে আরব মুসলমানদের মধ্যে খৃস্ট ধর্ম প্রচারের জন্য মনোনীত করেছেন; তখন খৃস্ট ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্য নিয়েই মিসেস এসলিমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই ক্লাশে গেলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলমান সহপাঠীদের সাথে যোগাযোগ হলেই নানা অজুহাতে তাদের কাছে খৃস্ট ধর্মের দাওয়াত দিতেন মিসেস এসলিমি। তারা যেন নিজেদের মুক্তি নিশ্চিত করেন। কারণ, ঈসা মাসীহ মানুষকে মুক্তি দেয়ার জন্যই নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। অবশ্য তারাও অর্থাৎ আরব মুসলিম শিক্ষার্থীরাও বেশ ভদ্রতা ও সম্মান দেখিয়ে মিসেস এসলিমির কথা শুনতেন। কিন্তু তাদের মধ্যে এইসব কথার কোন প্রভাব পড়ত না। এ অবস্থায় মিসেস এসলিমি ভিন্ন পথ ধরতে বাধ্য হন। তিনি এ পুস্তক দিয়েই তাদের কাছে এ ধর্মের ভুল চিন্তা-বিশ্বাস প্রমাণ করব। এই উদ্দেশ্যে আমার বন্ধুদের বললাম, তারা যেন আমার জন্য পবিত্র কুরআনের একটি কপিসহ কিছু ইসলামী বই-পুস্তক নিয়ে আসেন, যাতে এটা দেখানো যায় যে, ইসলাম ধর্ম একটি মিথ্যা ধর্ম এবং তাদের নবীও আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ নয়। এভাবে মার্কিন সাংবাদিক মিসেস এসলিমি বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া পবিত্র কুরআন পড়া শুরু করেন। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে পাওয়া দুটি ইসলামী বইও পড়েন তিনি। এ সময় তিনি ইসলামী বই-পুস্তক পড়ায় এত গভীরভাবে নিমজ্জিত হন যে, দেড় বছরের মধ্যে তিনি পনেরটি ইসলামী বই পড়েন এবং পবিত্র কুরআন দুইবার পড়া শেষ করেন। চিন্তাশীল হয়ে উঠা মিসেস এসলিমি বদলে যেতে থাকেন। মদ্যপান ও শূকরের মাংস খাওয়া ছেড়ে দেন তিনি। সব-সময়ই পড়াশুনায় মশগুল থাকতেন এবং নারীপুরুষের অবাধ-মেলামেশার সুযোগ থাকত এমন সব পার্টি বা উৎসব অনুষ্ঠান বর্জনের চেষ্টা করতেন। সে সময়কার অবস্থা সম্পর্কে মিসেস এসলিমি বলেছেন- কখনও ভাবিনি যে, ইসলাম সম্পর্কে পড়াশুনা করতে গেলে বিশেষ ঘটনা ঘটবে এমনকি আমার প্রাত্যহিক জীবন-ধারাও বদলে যাবে। সে সময়ও এটা কল্পনাও করতে পারিনি যে, খুব শিগগিরই আমি আমার হৃদয়ের প্রশান্তির পাখাগুলো ও ঘুমিয়ে থাকা ঈমান নিয়ে ইসলামী বিশ্বের সৌভাগ্যের আকাশে উডডয়ন করব ।

এর পরের ঘটনা বলতে গিয়ে মিসেস এসলিমি বলেছেন, আমার আচরণে কিছু পরিবর্তন আসা সত্ত্বেও নিজেকে তখনও মনে করতাম। একদিন একদল মুসলমানের সঙ্গে সংলাপের সময় আমি যতই তাদের প্রশ্ন করছিলাম, তারা অত্যন্ত দৃঢ়তা ও দক্ষতার সঙ্গে সে সবের জবাব দিচ্ছিলেন। পবিত্র কুরআন সম্পর্কে আমার অদ্ভুত সব মন্তব্য ও বক্তব্যের জন্য তারা আমাকে একটুও পরিহাস করেন নি। এমনকি ইসলাম সম্পর্কে আমার তীব্র আক্রমনাত্মক বক্তব্য শুনেও তারা মোটেও দুঃখিত ও ক্রুদ্ধ হননি। তারা বলতেন, জ্ঞান মুসলমানের হারানো সম্পদ। আর প্রশ্ন হ’ল জ্ঞান অর্জ
র একটি পথ। তারা যখন চলে গেলেন মনে হ’ল আমার ভিতরে যেন কিছু একটা ঘটে গেছে। এরপর থেকে মুসলমানদের সঙ্গে মিসেস এসলিমির যোগাযোগ বাড়তে থাকে। আমি যখনই নতুন কিছু প্রশ্ন করতাম তখনই তারা আমার কাছে আরও কিছু নতুন প্রসঙ্গ তুলে ধরতেন। এ অবস্থায় একদিন একজন মুসলিম আলেমের সামনে

সাক্ষ্য দিলাম- আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ (ছাঃ) আল্লাহর রাসূল। মুসলমান হওয়ার পর হিজাব বা পর্দা বেছে নেন মিসেস এসলিমি। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের ও সন্তানের মালিকানারাও প্রশ্ন চলে আসে। এমনকি বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বিচারক তাকে তার দুই সন্তান ও ইসলামের মধ্যে একটি বেছে নিতে বললে মহাদ্বিধা-দ্বন্দের পড়েন মিসেস এসলিমি। একজন মমতাময়ী মায়ের জন্য সন্তানের দাবী ত্যাগ করা তো দূরের কথা, তাদের কাছ থেকে একদিনের জন্যও দূরে থাকাও বিশেষ কঠিন। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইসলামের প্রতি ও মহান আল্লাহর প্রতি ভালবাসার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন মার্কিন নও-মুসলিম মিসেস এসলিমি। দুই বছর ধরে ইসলাম সম্পর্কে তার গবেষণা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতাই তাকে শক্তি যুগিয়েছে। তার মনে পড়ে কুরআনে উল্লিখিত হযরত ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম ) এর সন্তান কুরবানী দেয়ার জন্য আল্লাহর নির্দেশ পালনের ঘটনা। মনে পড়ে কুরআনের এই আয়াত- যে ব্যক্তি আল্লাহর ইচ্ছার অনুগত, সে কি ঐ ব্যক্তির সমান হতে পারে, যে । আল্লাহর ক্রোধ অর্জন করেছে? বস্তুতঃ তার ঠিকানা হল দোযখ আর তা কতইনা নিকৃষ্ট আবাসস্থল। মার্কিন নওমুসলিম মিসেস এসলিমি মুসলমান হওয়ার পর আমেরিকায় ইসলাম প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। কয়েক বছরের প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের জন্য আরবী ভাষায় ঈদের শুভেচ্ছার সরকারী স্ট্যাম্প প্রকাশ করতে মার্কিন সরকারকে সম্মত করেন।

মিসেস আমিনা এসলিমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ও শহরে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে তার অনুভূতি তুলে ধরে বক্তব্য বা ভাষণ দিয়েছেন। হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা এইসব ভাষণ শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এইসব প্রচেষ্টার অন্যতম সুফল হিসেবে একদিন তার দাদী ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর তার বাবা, মা, বোনও মুসলমান হন। এর কিছুকাল পর তার সাবেক স্বামীও জানান যে, তিনি তার তাদের মেয়েরা মায়ের ধর্মই অনুসরণ করুক। তিনি মেয়েদেরকে কেড়ে নেয়ার জন্য তার কাছে ক্ষমাও চান। আর এসলিমিও তাকে ক্ষমা করে দেন। এভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের অপরাধে একদিন যারা তাকে ত্যাগ করেছিল, তারা সবাই তাদের ভুল বুঝতে সক্ষম হয় এবং সত্যকে স্বীকার করে নেয়। প্রাণপ্রিয় সন্তানদের ফিরে পাওয়াকে এসলিমি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য আরও একটি বড় বিজয় বলে মনে করেন। এভাবে আল্লাহ যাকে চান তাকে ঈমানের মহা সম্পদে সমৃদ্ধ করেন। তিনি জানেন কারা সত্যের ও আল্লাহর প্রেমিক।

– সাদিয়া আহমদ আনিকা



বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২০

সুখ খুঁজতে গিয়ে ইসলাম খুঁজে পেয়েছি : মেলানিয়া জর্জিয়াস

বুধবার, জানুয়ারি ০৮, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে


সুখ খুঁজতে গিয়ে- মেলানিয়া জর্জিয়াস তাঁর পুরো নাম। ওনি ডিয়ামস নামেই অত্যধিক পরিচিত। ছিলেন ফ্রান্সের প্রথম র‍্যাপ গায়িকা। ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে প্রায় চার মিলিয়ন রেকর্ড বিক্রি হয়েছিল তাঁর। ২০০৮ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে ইসলাম গ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তাঁর সেই বক্তব্যের চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো। ২০০৭ সালে তাঁর একক বেশ কিছু অ্যালবাম প্রচুর জনপ্রিয়তা পায়। রেকর্ড বোর্ডেও নিয়ে আসে বিভিন্ন পরিবর্তন।
কিন্তু এত সাফল্য ও সুখকর জীবন সত্ত্বেও তিনি ভীষণ উৎকণ্ঠা ও গভীর উদ্বেগ বোধ করেছিলেন। খুঁজে ফিরছিলেন সুখ নামের ‘সোনার হরিণ’। সুখের সন্ধান করতে গিয়ে খুঁজে পান ইসলাম। অর্থবিত্ত, সাফল্য ও প্রভাব-প্রতিপত্তি—সব ছিল তাঁর জীবনে। তিনি বলেন, ‘অর্থ, সাফল্য ও শক্তি আমাকে খুশি-সুখী করতে পারেনি। সুখের সন্ধানে আমি অস্থির ছিলাম। আমি অনেক বেশি দুঃখ ভারাক্রান্ত ছিলাম। নিজেকে খুব একাকী ও নিঃসঙ্গ অনুভূত হতো।

আমি জানতাম না, আল্লাহর সঙ্গে আমার কথা বলতে হবে। আমি যখন কোনো সুখের বিষয় কিংবা দুঃখের বিষয়ের মুখোমুখি হই তখন আল্লাহ আমার দোয়া-প্রার্থনা শোনেন। যেদিন হিজাব পরিহিত তাঁর ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, সেই দিনটি কেমন ছিল সে সম্পর্কে ডিয়ামস বলেন, ফরাসিদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা ছিল। আমি কিভাবে এত পরিবর্তিত হলাম, এটি ভেবে তারা অবাক হয়েছিল। বাস্তবেই হিজাব তাদের কাছে অস্বাভাবিক একটি বিষয়। কারণ তারা শুধু আমাকে একজন গায়িকা হিসেবেই দেখে।

সৌদি আরবের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই ফরাসি গায়িকা জানান, ইসলাম গ্রহণের পর প্রথম প্রথম তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলতেন না। কারণ তখন কী বলতে হবে, তা তিনি জানতেন না। তিনি বলেন, আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে যখন আমার আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস তৈরি হলো, তখনো আমি একজন খ্রিস্টান ছিলাম। উপরন্তু আমি জানতাম না আমার কী করণীয়।’

তিনি বলেন, ‘এসব জিনিস, অর্থ, সাফল্য ও শক্তি আমাকে সুখ ও আনন্দ দিতে পারেনি। আমি সুখের সন্ধান করছিলাম। আমি খুব, খুব দুঃখ ভারাক্রান্ত ছিলাম। শত মানুষের মাঝেও নিঃসঙ্গ ও একা ছিলাম। ২০০৮ সালে তাঁর দুটি সংগীত সর্বাধিক বিক্রি হয়। এটি তাঁর অন্যতম সফল বছর। এ বছর তিনি সেরা ফরাসি শিল্পী হিসেবে এমটিভি ইউরোপীয় সংগীত পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি সেরা শিল্পী, সেরা অ্যালবাম ও সেরা সংগীত ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে এনআরজেড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন।

জর্জিয়াসের জীবনে পরিবর্তন আসে তাঁর সৌসৌ নামের এক বান্ধবীর মাধ্যমে। যখন জর্জিয়াস তাঁর বাড়িতে বেড়াতে যান তখন তাঁর জীবনে দারুণ একটা প্রভাব পড়ে। সেই সময় সৌসৌর জর্জিয়াসকে অনুরোধ করেন, সন্ধ্যায় কয়েক মিনিটের জন্য নামাজ পড়তে যেতে। তখন জর্জিয়াস হঠাৎ করেই তাঁর বন্ধুর সঙ্গে প্রার্থনায় যোগ দেন। মুসলমানরা কিভাবে নামাজ আদায় করে, তা জর্জিয়াসের জানা ছিল না।

এর পরও তিনি সৌসৌকে অনুসরণ করে ইবাদত করেন এবং জীবনে প্রথমবারের মতো আল্লাহর সামনে সিজদা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন তার সঙ্গে নামাজ পড়লাম তখন আল্লাহর সঙ্গে অলৌকিক যোগাযোগ অনুভব করেছি। আমি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছি যে নিশ্চয় আল্লাহর অস্তিত্ব রয়েছে। আমি যখন নিজে নিজে সিজদা করলাম তখন আমি প্রভুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনুভব করি। এ ছাড়া আমি যত বেশি কোরআন পড়ি আমার বিশ্বাস তত পোক্ত হয়।’

জর্জিয়াসের বন্ধু এর পরই তাঁকে পবিত্র কোরআনের একটি কপি উপহার দিয়েছিলেন। মরিশাস ভ্রমণের সময় জর্জিয়াস এটি পড়তে শুরু করেন। জর্জিয়াস বলেন, ‘এটি একটি প্রত্যাদেশ ছিল। আমি গভীরভাবে নিশ্চিত হয়েছি যে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব রয়েছে। আমি যত বেশি পড়ছিলাম তত বেশি দৃঢ়প্রত্যয়ী হয়ে উঠি। ততক্ষণে আমি এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি। তবে আমি মনে মনে খ্রিস্টান ছিলাম। তখন দুঃখ ও মনঃকষ্টে ভুগছিলাম।’

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জর্জিয়াস ইসলাম গ্রহণ করেন। মেলানিয়ার জীবন তখন সাফল্য-কীর্তি মধ্যগগনে। কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর হঠাৎ করে সব ধরনের গানের দৃশ্য ও জনসাধারণের দৃষ্টি থেকে পুরোপুরি আড়ালে চলে যান তিনি। কিন্তু ২০০৯ সালে ফটোগ্রাফার তাঁকে পেয়ে বসেন। তখন তিনি ফ্রান্সের জেনিভিলিয়ার্সের একটি মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। হিজাব পরিহিত ও মাথা থেকে পা পর্যন্ত আপাদমস্তক একটি বোরকায় নিজের শরীর আবৃত করে রেখেছিলেন তিনি। ফটোগ্রাফার যখন তাঁর ছবি তোলেন তখন তিনি নিজেকে দ্রুত সরিয়ে নেন।

ছবিগুলো প্যারিস ম্যাচ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হলে ফ্রান্সের মানুষ ও অন্য দেশে তাঁর ভক্তরা খুব অবাক হয়েছিল। কারণ ফরাসি সমাজ তাঁকে চিনত হিপ হপ সংগীতের আইকন হিসেবে, যিনি টাইট প্যান্ট ও ট্যাংক-টপ পরে সংগীত পরিবেশন করেন। ওই সময়টাতে জনসাধারণের জন্য ব্যবহৃত উন্মুক্ত জায়গায় হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞার একটি আইন পাস বিষয়ে ফ্রান্সে বিতর্ক চলছিল। ছবিগুলো সেই ‘বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালে’। জর্জিয়াস তখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। ফলে তিনি জনবিদ্বেষের রোষানলে পড়েন।

২০০৯ সালের নভেম্বরে জর্জিয়াস মনে করেন, ইসলামের প্রতি তাঁর মনোনিবেশের কথা ভক্তদের কাছে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কী কারণে জীবনে পরিবর্তন এসেছে, তা স্পষ্ট করাও জরুরি। তখন শেষবারের মতো তিনি সংগীতে ফিরে এসে তাঁর একক অ্যালবাম ‘এসওএস’ থেকে ‘মরুভূমির শিশু’ গানটি প্রকাশ করেন। গানে তিনি ফ্রান্সের সমাজের অসহিষ্ণুতা বর্ণনা করেন। পাশাপাশি উল্লেখ করেন যে তিনি ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর সমাজ তাঁকে সমর্থন না করে অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছিল।

এবং তিনি অনুভূতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা না করে কোথাও একটি নতুন জীবন খুঁজছিলেন। এ ছাড়া একজন মুসলিম হিসেবে আত্মপ্রকাশের সময় তিনি কী অনুভব করছিলেন, তা তুলে ধরেন। মুসলিম হওয়ার পর সামাজিকভাবে ঝামেলা সত্ত্বেও তিনি তাঁর জীবনের অন্য সময়ের চেয়ে শান্তিতে ছিলেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলাম গ্রহণের আগে আমি আমার জীবনে খুব দুঃখ অনুভব করেছি।

কারণ আমি বুঝতে পারিনি যে আমার প্রভুর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন আমার আবশ্যকীয় কর্তব্য ছিল। এখন আমার জীবনে ভালো-মন্দ যা কিছু হোক, আমি জানি আমার এমন আল্লাহ আছেন, যিনি আমার কথা শোনেন এবং আমার প্রার্থনার উত্তর দেন। ২০১৭ সালে জর্জিয়াস তাঁর স্বামী (ফ্রান্স-তিউনিশিয়ার সাবেক র‌্যাপ শিল্পী) ফৌজি তরখানির সঙ্গে সৌদি আরবে চলে আসেন। ফ্রান্সে চলমান ইসলাম ফোবিয়া এবং অন্যান্য অসুবিধা-কষ্ট থেকে দূরে থাকতে তাঁরা সৌদিতে বাড়ি তৈরি করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

তিনি এখন স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সৌদিতে থাকতে পেরে অনেক খুশি ও আনন্দ প্রকাশ করেন। সৌদিতে তিনি সাংসারিক কাজকর্মের পাশাপাশি লেখালেখি ও বিগ আপ প্রজেক্ট নামে নিজের একটি প্রকল্পে কাজ করছেন। প্রকল্পটির মাধ্যমে আফ্রিকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তা করা হয়।আরবনিউজ, আলজাজিরা অ্যারাবিক ও লে প্যারিসিয়েন অবলম্বনে মুফতি মুহাম্মাদ মিনহাজ উদ্দিন। সূত্র: কালেরকন্ঠ।


শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

ইসলামের আলোয় আলোকিত করলেন হিন্দু থেকে মুসলিম সিন্ধুর দ্বীন মোহাম্মদ শেখ

শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে
ইসলামের আলোয় আলোকিত করলেন হিন্দু থেকে মুসলিম সিন্ধুর দ্বীন মোহাম্মদ শেখ

আলোচিত এই ব্যক্তি হলেন পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের দ্বীন মোহাম্মদ শেখ। ১৯৪২ সালে একটি হিন্দু পরিবারে জন্ম নেয়া এ ব্যক্তি ১৯৮৯ সালে ৪৭ বছর বয়সে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এরপর থেকেই তিনি উদ্যোগী হন দ্বীনপ্রচারে। ইতিমধ্যেই তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন প্রায় ১ লাখ ৮ হাযার মানুষ।

জন্মগতভাবে ইসলাম সম্পর্কে ছিল তার ব্যাপক আগ্রহ। ইসলামের প্রতি এমন অনুরাগ দেখে তার মা ১৫ বছর বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের পরও ইসলাম সম্পর্কে তার কৌতুহল একটুও কমেনি। ইসলাম সম্পর্কে জানতে তিনি এক মুসলিম উস্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তার নিকটে নিয়মিত কুরআন ও হাদীছের বাণী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন দ্বীন মুহাম্মাদ। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, তাঁর দাওয়াতে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮ হাযার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

দ্বীন মুহাম্মদ শেখ স্থানীয় আল্লাহওয়ালী জামে মসজিদের সভাপতি। তিনি অসহায় ইসলাম গ্রহণকারীদের আবাসনের জন্য প্রায় ৯ একর জায়গারও ব্যবস্থা করেছেন।

তাঁর ধর্ম প্রচারের কথা পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ায় অনেক দূর-দূন্ত থেকে মানুষ তার কাছে এসেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তাই বাড়ির মসজিদে নও মুসলিম শিশু-কিশোর ও নারী- পুরুষের জন্য ১৫ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ছালাত ও কুরআন তেলাওয়াত শেখার ব্যবস্থা রেখেছেন তিনি।



মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৯

ইসলামের সম্মানে মুগ্ধ মার্কিন নারী

মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৫, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে
সবচেয়ে গতিশীল ও দ্রুত বিকাশমান ধর্ম হিসেবে বিবেচিত ইসলামের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর জন্য নানা ধরণের প্রচার মাধ্যমে ইসলাম-বিদ্বেষী প্রচারণা জোরদার করেছে এই মহান ধর্মের শত্রুরা। গল্প, সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও এমনকি কম্পিউটার গেমসকেও তারা অপব্যবহার করছে এই হীন উদ্দেশ্যে। কিন্তু তা সত্ত্বেও পাশ্চাত্যে প্রতিদিনই ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছেন অনেক সত্য-পিয়াসী নরনারী। আজ আমরা এমনই একজন সৌভাগ্যবতী মার্কিন নও-মুসলিম নারী কারিমা রাজির অভিজ্ঞতা তুলে ধরব।
ইসলাম নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে গবেষণা ও অনুসন্ধানের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন কারিমা রাজি। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন: “ইসলাম গ্রহণ কয়েক বছর আগেও আমার কাছে ছিল একটি অবিশ্বাস্য বিষয়। কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে সুপথ প্রদর্শন স্থায়ী ও বিচিত্র বিষয়। এরই আলোকে এটা এখন আমার কাছে স্পষ্ট যে, আমার পুরো জীবন এগিয়ে যাচ্ছিল এই স্পর্শকাতর মুহূর্তের দিকে। আর এই পথ-পরিক্রমার তিনটি বছর একদিকে ছিল কঠিন ও অন্যদিকে আনন্দের। এই সময়ে নিজের ব্যাপারে ও বিশ্ব সম্পর্কে আমার চিন্তাধারায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। আমার কোনো কোনো ধারণা শক্তিশালী হয়েছে এবং কোনো কোনো ধারণা বা বিশ্বাস পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়েছে।”
মার্কিন নও-মুসলিম নারী কারিমা রাজি আরো বলেছেন, কখনও কখনও এটা অনুভব করতাম যে নিজেকে হারিয়ে ফেলছি, আবার কখনও এমনও মনে হত যে, এই পথ আমার জন্য আগেই ঠিক করা হয়েছে। তাই এ পথকে আমি স্বাগত জানাতাম। সেই কয়েক বছরে ইসলামের কোনো কোনো দিক আমাকে খুব আকৃষ্ট করেছিল। পড়াশুনা ও গবেষণা ধীরে ধীরে আমাকে সেই দিনটির দিকে নিয়ে গেল যেদিন আমি পাঠ করলাম শাহাদাতাইন তথা ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (সা.) হলেন তাঁর প্রেরিতপুরুষ বা রাসূল’।
মিসেস রাজি আরো বলেছেন,
‘ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হওয়া আগেই জীবনে আধ্যাত্মিক পরিতৃপ্তির সন্ধান করতাম। কিন্তু গ্রহণযোগ্য বা পাওয়া সম্ভব এমন কিছুই আমার সামনে কিংবা কাছে ছিল না। আরো ভালোভাবে বলতে গেলে বলতে হয় আমি ছিলাম একজন স্যেকুলার বা ধর্ম-নিরপেক্ষ ব্যক্তি। আমি নৈতিকতার ওপর জোর দিতাম,কিন্তু কখনও সেগুলোকে আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত করতাম না। জীবনের কোনো লক্ষ্য আছে কিনা তাও জানতাম না। আমার পরিবার, বন্ধু ও সঙ্গীরা আমাকে সমর্থন করত।
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিষয়ে আনন্দ পেতাম। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ সফল ছিলাম। কিন্তু ঘটনাক্রমে মুসলমানদের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে ইসলাম সম্পর্কে পড়াশুনা শুরু করি। আমি যতই মুসলমানদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলাম ততই তাদের অভ্যন্তরীণ প্রশান্তি ও সুদৃঢ় ঈমান আমাকে আকৃষ্ট করছিল। প্রথমে ভাবতাম যে, ইসলাম সহিংসতা ও লিঙ্গ বৈষম্যের ধর্ম। কিন্তু মুসলমানদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর আমার এই ধারণা পরিবর্তিত হয়। ফলে ইসলাম সম্পর্কে ধীরে ধীরে আরো জানার সিদ্ধান্ত নেই।’
মার্কিন নও-মুসলিম নারী কারিমা রাজি ছিলেন একজন নারীবাদী বা কথিত নারী অধিকারের কট্টর সমর্থক। তাই ইসলাম নারীকে কিভাবে দেখে তা ছিল তার জন্য গভীর আগ্রহের বিষয়। রাজি এ প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আমি ভাবতাম যে ইসলাম নারীর অধিকারকে পদদলিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শুনেছিলাম যে মুসলিম নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় না এবং তাদেরকে মাথায় ওড়না পরতে বাধ্য করা হয়। আমার কাছে এটাও মনে হত যে, পর্দা বা হিজাবের অজুহাতে পুরুষরা নারীর অধিকার লঙ্ঘন করছে। অথচ বাস্তবতা হল হিজাব নারীর বিনম্রতা ও ব্যক্তিত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যম।
পড়াশুনার মাধ্যমে আমি সবিস্ময়ে এটা জানলাম যে, ইসলাম নারীর অধিকারকে তো ধ্বংস করেই না, বরং বাস্তবে তাদেরকে পাশ্চাত্যের চেয়েও বেশি স্বাধীনতা দিয়েছে। ইসলাম সেই খ্রিস্টিয় সপ্তম শতকেই নারীকে এমন অধিকার দিয়েছে যে, আমরা কেবল বর্তমান শতকে তা অর্জন করেছি। যেমন, নারীর সম্পদ ও মালিকানার অধিকার, ভোট দেয়ার অধিকার, তালাক বা বিয়ে বিচ্ছেদের অধিকার, বিয়ের ক্ষেত্রে নারীর অনুমতি বা নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার ইত্যাদি। অবশ্য পশ্চিমা সূত্রগুলো ইসলামকে অত্যন্ত কঠোর ও বাস্তবতা-বিবর্জিত ধর্ম বলে প্রচার করে আসছে।’
মার্কিন নও-মুসলিম নারী কারিমা রাজি ইসলামের অন্য কিছু আকর্ষণীয় দিক প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘নারী অধিকারের প্রতি ইসলামের বিস্ময়কর উদারতা ও সম্মানের বিষয়টি আবিষ্কারের পর ইসলামের নবী ও কুরআন সম্পর্কে পড়াশুনা শুরু করি। আমার প্রশ্ন ছিল এটা যে, মুহাম্মাদ (সা.) কি কেবল একজন ব্যতিক্রমধর্মী নেতাই ছিলেন? নবী হওয়ার আগেই তিনি ছিলেন দয়ালু। নিজের ও ভবিষ্যত যুগ সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট দিক-নির্দেশনা আমার পূর্ব-ধারণাগুলো পাল্টে দেয়। শত্রুকে মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্য ও দৃঢ়তা এবং বিজয়ের সময় বিনম্রতা তাঁকে পরিণত করেছে এক অতুলনীয় মহামানবে।
তিনি চূড়ান্ত বিজয়ের সময়ও যখন দুনিয়ার সম্পদকে পরিপূর্ণভাবে ভোগ করতে পারতেন তখনও তা করতেন না এবং নিজ অনুসারীদের মধ্যে যে ছিল সবচেয়ে দরিদ্র তার চেয়েও কম ছিল মুহাম্মাদ (সা.)’র সম্পদ। এরপর পবিত্র কুরআন সম্পর্কেও আরো গভীর জ্ঞান অর্জন করলাম। নিজেকে তখন প্রশ্ন করেছিলাম,সাধারণ কোনো মানুষ কি এমন উচ্চ পর্যায়ের বইকে বুঝতে সক্ষম? প্রকৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তি সম্পর্কে কুরআনের বর্ণনাগুলো আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। বিশ্বনবী (সা.)’র বিস্ময়কর জীবন সম্পর্কেও অনেক কিছু জানতে পারলাম। এও স্পষ্ট হল যে ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও এ ধর্ম তাদের অধিকারকে সমান বলে মনে করে।’
মার্কিন নও-মুসলিম নারী কারিমা রাজি আরো বলেছেন: ইসলাম কেবল নারী-পুরুষের সাম্যেই নয়, সব জাতি ও সমাজের সব শ্রেণীর মধ্যেই সমান অধিকারে বিশ্বাসী। ইসলামের দৃষ্টিতে খোদাভীতি বা তাকওয়ার দিকটি ছাড়া মানুষের মধ্যে কেউ কারো চেয়ে বড় নয়। এভাবে নিজের প্রতি ও নিজের সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি আস্থাশীল বা আত্মবিশ্বাসী হলাম।
বৈপ্লবিক ধর্ম ইসলাম ও এর বৈপ্লবিক বিধানগুলো অজ্ঞতার নিন্দা জানায় এবং ঈমান ও নৈতিকতাকে ছড়িয়ে দেয়। ইসলামের শিক্ষাগুলো মানুষের নানা চাহিদা মেটায় ও সেগুলো মানুষের প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ায় এ ধর্ম কালোত্তীর্ণ ও সার্বজনীন হয়েছে। চির-সজীব ও প্রাণবন্ত এই ধর্ম সম্পর্কে পড়াশুনার পর এ ধর্মকে পরিপূর্ণ এবং সার্বজনীন দেখতে পেয়ে কারিমা রাজি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন,
‘আমার জীবনের দিনগুলো খুব দ্রুত কেটে যাচ্ছিল। তাই ভাবলাম আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক বিশ্বাস না নিয়ে মৃত্যু বরণ করা উচিত নয়। আমার বুদ্ধিবৃত্তি বা বিবেক এটা বলে যে, ইসলামের সত্যতার নিদর্শন রয়েছে পবিত্র কুরআনে ও বিশ্বনবী (সা.)’র জীবনে। আর এইসব নিদর্শন বা প্রমাণ এত শক্তিশালী যে তা উপেক্ষা করা যায় না।
এভাবে তখনই ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য মনে মনে পুরোপুরি প্রস্তুতি নেই এবং কয়েক দিন পর শাহাদাতাইন পড়ে মুসলমান হয়ে যাই। আমি আমাদের ম্যাগাজিনে এটা লিখি যে, অবশেষে আমি ইসলামের মধ্যে আধ্যাত্মিক আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য খুঁজে পেয়েছি। মহান আল্লাহকে ধন্যবাদ দিলাম এ জন্য যে তিনি আধ্যাত্মিকতা ও চিন্তার স্বাধীনতার মাধ্যমে আমাকে ইসলামকে বেছে নেয়ার সুযোগ দিয়েছেন।’
সূত্র : আই আর আই বি



জার্মানি সাংবাদিক পিটার শ্যুট এর ইসলাম গ্রহনের গল্প

মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৫, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে
 ৩০ বছর চেষ্টার পর ইসলাম গ্রহণ করেছি: জার্মানি সাংবাদিক পিটার শ্যুট
বেশ কয়েকটি বইয়ের রচয়িতা ও সাবেক কমিউনিস্ট রাজনৈতিক হিসেবে পরিচিতি জার্মান সাংবাদিক ও লেখক পিটার শ্যুট। জন্ম ১৯৩৯ সালের ১০ ডিসেম্বর। লেটস গো ইস্ট, ব্ল্যাক পয়েম্স ও জার্নি টু সাইবেরিয়া ইত্যাদি তার আলোচিত বই। সামাজিক কার্যক্রমে তিনি বেশ কর্মোচ্ছ্বল ও সক্রীয়।
সংবাদমাধ্যমকে পিটার জানিয়েছেন, মুসলমান হওয়ার জন্য তাকে কেউ কখনো চাপ দেয়নি। বরং শৈশব থেকেই তিনি ইসলামের প্রতি অনুপ্রাণিত ছিলেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও নিজের সদিচ্ছায় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তার ইসলাম গ্রহণের সংক্ষিপ্ত গল্প পাঠকদের জন্য অনুবাদ করে দেওয়া হলো।
সত্যের সন্ধানে বহুদূর…
জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় আমি ব্যয় করেছি, সত্য ধর্মের সন্ধানে। আমার জন্ম লুথেরান পরিবারে। বয়স যখন উনিশ, তখন আমি ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করেছিলাম। কারণ আমি আমার লুথেরানীয় পরিবারের সংকীর্ণতা থেকে দূরে সরে যেতে চাচ্ছিলাম। তখন আমার অনেক বেশি আধ্যাত্মিকতার প্রয়োজন অনুভব হচ্ছিল।
এটাই ছিল আমার জীবনে সত্যের পথে যাত্রার মাধ্যম। কারণ আসলেই এটি আমার জীবনের ফারাক-ফাটল আমাকে বুঝিয়ে দেয়। এর ত্রিশ বছর পরে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলাম। তবে ইসলাম গ্রহণ আমার জীবনে কোনো ফাটল-বিচ্ছেদ তৈরি করেনি। বরং এটি ছিল আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টি ও উপলব্ধি অর্জনের জন্য আমার অনুসন্ধান-প্রচেষ্টার চূড়ান্ত ফলাফল।
ইসলামী প্রার্থনার নিয়ম-নীতি পর্যবেক্ষণ
সত্যি বলতে কি, আমি খুব ছোট থেকেই ইসলামের প্রতি মুগ্ধ ছিলাম। আমি যুদ্ধোত্তর জার্মানির একটি ছোট্ট গ্রামে বড় হয়েছি। আমরা জার্মানির যে অংশে বাস করতাম, সেটি ব্রিটিশদের দখলকৃত অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তৎকালীন ব্রিটিশ-ভারত থেকে আগত সৈনিকরা মুসলমান ছিলেন। তারা এখানকার বাচ্চাদের প্রতি খুব সদয় ও দয়ার্দ্র ছিলেন। তারা আমাদের খেজুর ও ডুমুর ফল ইত্যাদি খেতে দিতেন।
শৈশবে তখন আমরা তাদের ইবাদত-প্রার্থনা পালন দেখতাম। তাদের প্রার্থনা পর্যবেক্ষণে আমি খুব আগ্রহী ছিলাম। ইসলামী রীতিতে নামাজ-প্রার্থনার শৈশব-শিশিরের এই স্মৃতি আমার সঙ্গে এখনো বয়ে বেড়ায়।
মক্কা নগরী ও হজযাত্রার প্রতি আমার আগ্রহ
আমাদের গ্রামের কাছেই একটি প্রাচীন গির্জা ছিল। তাতে আমি খ্যাতিমান জার্মানদের দেখেছিলাম, যারা ইসলামের প্রতি আগ্রহী ছিল। চার্চের যাজক আমাকে সেই বিখ্যাত জার্মানদের সম্পর্কে বলেছিলেন, যারা ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ কার্স্টেন নিবুহরের কথা বলা যায়, বিখ্যাত জার্মান কবি গ্যোথে তাকে প্রথম জার্মান হাজি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। (কবি গ্যোথের ইসলাম ধর্মের প্রতি আগ্রহ সুবিদিত।)
এই গল্পগুলো আমার হৃদয়-উদ্যান উত্তেজনা ও কৌতূহলে পূর্ণ করে দেয়। আমি ‘মক্কা’ নামক বিশেষ জায়গাটি সম্পর্কে ও লোকেরা কেন সেখানে পৌঁছানোর জন্য দূর-দূরান্তে ভ্রমণ করে তা সম্পর্কে আমি বেশ অবাক ও অনিসন্ধিৎসু ছিলাম।
মুক্তির ধর্মতত্ত্ব আবিষ্কার
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় আমি ইসলামের সংস্পর্শে এসেছি। এসময় আমি প্রাচ্যের শিল্প-সংস্কৃতিতে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেছি। ছাত্রাবাসে ইরান, মিশর ও নাইজেরিয়ার মুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমি একই ঘরে থাকতাম। ধর্ম-বিশ্বাস ও তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করতে করতে আমরা অনেক রাত কাটিয়েছি। ক্যাম্পাসে আন্তঃ-ধর্মীয় সংলাপ ফোরামের আয়োজনও করেছি।
সেই সময়ে আমি ইসলামকে তৃতীয় বিশ্বের মানুষের মুক্তির ধর্মতত্ত্ব হিসেবে দেখতে পেয়েছি। আমি তখন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলাম এবং ছাত্র-বিদ্রোহে অংশও নিয়েছিলাম।

আমার মসজিদটি যেখানে…
শেষ পর্যন্ত ১৯৯১ সালে আমি ইসলাম গ্রহণ করি। হামবুর্গের আলস্টারের নিকটে ইসলামিক কেন্দ্রটি আমার মসজিদে পরিণত হয় তখন। এটি তখন এবং এখনও একটি আধুনিক মসজিদ হিসেবে পরিচিত। এটি কেবল ইবাদত-উপাসনার স্থান নয়; বরং বিভিন্ন বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ ও কার্যক্রমেরও স্থান।
আন্ত-ধর্মীয় সংলাপ ও আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ নিয়মিত ঘটনালির অন্যতম। বিশ্বের আলোচিত ও নন্দিত বক্তারা ইসলাম সম্পর্কে কথা বলতে এই কেন্দ্রে আসতেন। ঠিক তেমন এখানে একজন আসেন, যার নাম মেহেদী রাজভি। তিনি আমার এমন শিক্ষক ছিলেন যে, আমাকে ইসলামের প্রতি পরিচালিত করেছিলেন।
ধর্ম রূপান্তর ও সত্যিকার মুসলিম হতে…
শেষ সিদ্ধান্ত নিতে আমার জীবনের অর্ধেক সময় কেটে গেছে। এখন আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। এটি পুরোপুরি একটি নতুন পথে যাত্রা আমার।
আপনি একবার কালেমা শাহাদাত পাঠ করলে এবং ইসলাম গ্রহণের অর্থ বলতে পারলে, আপনি মুসলমান হয়ে যাবেন। তবে আপনার সারাটা মন-মস্তিষ্ক ও প্রাণ দিয়ে সত্যিকারের মুসলমান হতে চাইলে প্রতীকী-বিশ্বাসের উচ্চারণের চেয়েও বেশি কিছু প্রয়োজন।
একজন সত্যিকারের মুসলিম হওয়ার জন্য দীর্ঘকালীন অনুশীলন ও শিক্ষা-প্রক্রিয়া প্রয়োজন। প্রতিটি দিন আপনাকে নতুন করে শুরু করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য ও অধ্যবসায়। ১৯৬৭ সালে আমার শিক্ষক আমাদের ইসলামিক কেন্দ্রে ধারাবাহিকভাবে কোরআনের ব্যাখ্যা পড়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু তার উত্তরসূরিরাও এখনো পুরো কোরআন শেষ করতে পারেনি। কোরআন বোঝার জন্য যথেষ্ট সময় প্রয়োজন।
আমি মুসলিম হিসেবে জন্মগ্রহণ করিনি। আর আমাকে কেউ মুসলমান হওয়ার জন্য চাপও দেয়নি। রাতেও (অগোচরে) আমি ইসলামে দীক্ষিত হইনি। বরং সত্য খুঁজে পাওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ ছিল এটি। যদি আল্লাহ চান, আমি জীবনের প্রতিটি দিন কাটিয়ে সত্যের আরও নিকট থেকে নিকটতর হতে থাকবো ইনশাআল্লাহ।
ইনকিলাব



ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png