শিরোনাম
Loading latest headlines...

শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫

জাবালে রহমত” (আরাফাতের পাহাড়) সম্পর্কে ইসলামি ঐতিহ্য ও ইতিহাস

 


“জাবালে রহমত” (আরাফাতের পাহাড়) সম্পর্কে ইসলামি ঐতিহ্য ও ইতিহাস সংক্রান্ত সবচেয়ে معتبر দৃষ্টিভঙ্গা নিচে তুলে ধরা হলো — যদি চান, পয়েন্ট আকারে সংক্ষিপ্ত সারমর্মও দিতে পারি।


🕌 “জাবালে রহমত”-এর পরিচিতি

  • আরাফাত ময়দান-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একটি পাহাড়, যাকে আরবি ভাষায় বলা হয় جبل الرحمة (Jabal ar-Rahmah), অর্থ “রহমতের পাহাড়।”

  • মক্কা শহর থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত। হজ্বের নবি (সা.)-এর বিদায় হজ্বের ভাষণও এই আরাফাত ময়দানের এমন একটি অংশ থেকে দেওয়া হয়েছিল। 


📜 ইসলামি ঐতিহাসিক ও শাস্ত্রগত তথ্য

  • “জাবালে রহমত” বাংলা ভাষায় “রহমতের পাহাড়” নামে বেশি পরিচিত; আরবীতে তা “Jabal ar-Rahmah” বা “Jabal ar-Rahmah/Jabal ar-Rahma” বলা হয়। 

  • হাদিস বা কোরআনিক উৎসে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত নেই যে, নবী মুহাম্মদ (সা.) এই পাহাড়ে আরোহণ করেছেন বা এর চূড়ায় বিশেষভাবে দোয়া-অনুরোধ করেছিলেন যা হজ্বের অবশ্যই পালনীয় রীতিতে পরিণত হয়েছে। 

  • অনেক সাধারণ মুসলিমরা হজ্বের সময় এই পাহাড়ে যায় এবং উপরে উঠতে চায়, দোয়া করে। তবে ইসলামী আইন ও শাস্ত্রবিদরা বলছেন, এই কাজ কোনো প্রমাণিত সুন্নত নয় এবং কোনো শংসাপত্র নেই যে, পাহাড়ে ওঠা হয় একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত হিসেবে। 

↔️ কিংবদন্তি ও লোক বিশ্বাস

  • একটি প্রচলিত বিশ্বাস আছে যে, হযরত আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ) প্রথমে উত্তরা হয়ে পাথরের এই পাহাড়ে মিলিত হয়েছিল পৃথিবীতে নেমে আসার পর। 

  • একইভাবে, অনেক হাজি ও অন্যান্য মুসলমান এই পাহাড়ে গিয়ে অতিরিক্ত দোয়া ও ইবাদত করার চেষ্টা করেন, বিশেষত ‘আরাফার দিন’–এ, কারণ তারা মনে করেন এটি দোয়া কবুল হওয়া স্থানগুলোর মধ্যে একটি। 


⚠️ ইসলামিক আইন-দৃষ্টিকোণ থেকে সতর্কতা

  • ইসলামের শিক্ষাবিদগণ সাধারণভাবে মনে করেন যে, পাহাড়ে উঠা ও সেটাকে কোন রীতি বা আনুষ্ঠানিক প্রয়োজনীয় অংশ বানানো (হজ্বের ক্ষেত্রে) ইনোভেশন (বেদনাদায়ক নতুন সংস্কার) হবে যদি এটি বিশ্বাস করা হয় যে, পাহাড়ে ওঠা বাধ্যতামূলক বা বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ কাজ। (

  • ইমাম নাওয়াওয়ী এবং অন্যান্য স্কলাররা বলেছেন, “জাবালে রহমত”-এর প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয় সাধারণ মানুষের মধ্যে — এমনকি কেউ কেউ ভাবেন যে আরাফাতে হজ্ব করা হলে যদি জাবালে রহমত-এ দোয়া না করে তবে হজ্ব সম্পূর্ণ হয় না — যা শাস্ত্রগত ভিত্তিহীন ধারণা। 


✅ শিক্ষা ও সারমর্ম

  1. বিশ্বাস ও ইতিহাসের পার্থক্য বুঝতে হবে — লোককথা ও প্রচলিত বিশ্বাস সব সময় শাস্ত্রের সঙ্গে মেলে না।

  2. আনুষ্ঠানিক হাদিস বা শেয়খানি প্রমাণ ছাড়া কোনো কাজকে রীতিতে পরিণত করা উচিত নয়

  3. আরাফাত ময়দান সম্পূর্ণভাবে নিজেই গুরুত্ব রাখে — দাঁড়িয়ে থাকা (وقفۃ আরাফা) হজ্বের অন্যতম নিয়ামত — অতিরিক্ত কোনো স্থান-বিশেষের দৃষ্টিভঙ্গা দাওয়াতের মৌলিক উদ্দেশ্য থেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

  4. ভক্তি ও দোয়া করতে অংশগ্রহণ করা ভালো, তবে সেটা যেন কোন বাধ্যবাধকতা বা সূন্নাতের প্রতি অতিরিক্ত বিশ্বাসে রূপান্তরিত না হয়।



নিশ্চয়ই 🌿
নিচে “জাবালে রহমত (রহমতের পাহাড়)” বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ, ইসলামিক ও শ্রুতিমধুর প্রবন্ধ দেওয়া হলো — যা মসজিদে আলোচনা, স্কুল-কলেজে ইসলামিক পাঠ, বা দাওয়াতি লেকচারে পাঠের উপযোগী ভাষায় লেখা হয়েছে।


🌸 জাবালে রহমত (রহমতের পাহাড়)

— এক করুণাময় স্মৃতি ও শিক্ষা


🌄 ভূমিকা

পৃথিবীর বুকে কিছু স্থান আছে যেগুলো শুধু ভৌগোলিক দিক থেকে নয়, বরং আধ্যাত্মিক দিক থেকেও অসীম মর্যাদার অধিকারী।
তেমনই এক ঐশী স্থান হলো “জাবালে রহমত”, অর্থাৎ রহমতের পাহাড়
এটি অবস্থিত আরাফাত ময়দানে, মক্কা শরিফের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে।
প্রতি বছর লাখো হাজি এই ময়দানে এসে আল্লাহর দরবারে অশ্রুসিক্ত হয়ে দাঁড়ান, আর তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।


🕋 জাবালে রহমতের ইতিহাস

আরবী শব্দ “জাবাল” মানে পাহাড়, আর “রহমত” মানে করুণা বা দয়া।
ইতিহাসবিদদের মতে, এই পাহাড়েই আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম করুণায় আদম (আঃ)হাওয়া (আঃ)-কে পৃথিবীতে অবতরণের পর পুনর্মিলনের সুযোগ দেন।
সেই মিলন ছিল অনুতাপ, ক্ষমা প্রার্থনা ও রহমতের প্রতীক।
এই কারণেই পাহাড়টির নাম হয় জাবালে রহমত — রহমতের পাহাড়।


🌤️ নবী করিম ﷺ ও জাবালে রহমত

হজ্বের শেষ এবং মহান মুহূর্ত — “ইয়াওমে আরাফা”-তে নবী মুহাম্মদ ﷺ আরাফাত ময়দানে দাঁড়িয়ে মানবজাতির জন্য ঐতিহাসিক “বিদায় হজ্বের ভাষণ” প্রদান করেন।
এই ভাষণে তিনি মানবাধিকার, নারী-পুরুষের মর্যাদা, সম্পদ-রক্তের নিরাপত্তা, এবং তাওহীদের বার্তা ঘোষণা করেন।

যদিও নবী ﷺ নির্দিষ্টভাবে জাবালে রহমতের চূড়ায় ওঠেননি —
তবুও আরাফাত ময়দান এবং এর আশপাশের এই পাহাড় তাঁর দোয়া ও রহমতের স্মৃতি বহন করে।


🌧️ রহমতের পাহাড়ের প্রতীকী তাৎপর্য

এই পাহাড় আমাদের মনে করিয়ে দেয় —
যখন মানুষ ভুল করে, তওবা করে ফিরে আসে, তখন আল্লাহর দরজা কখনো বন্ধ থাকে না।
যেভাবে আল্লাহ আদম (আঃ)-কে ক্ষমা করেছিলেন, সেভাবেই তিনি আজও তাঁর বান্দাদের জন্য “রহমতের দরজা” উন্মুক্ত রেখেছেন।

কুরআনে আল্লাহ বলেন:

“হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ! আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গোনাহ ক্ষমা করেন।”
— (সূরা আজ-যুমার, ৩৯:৫৩)


🕊️ ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নির্দেশনা

ইসলামী শাস্ত্রে স্পষ্টভাবে বলা আছে — হজ্বের জন্য “আরাফাতে অবস্থান” (ওকুফ) করা ফরজ,
কিন্তু “জাবালে রহমতের চূড়ায় ওঠা” কোনো ফরজ বা সুন্নত নয়।

অনেকে আবেগে পাহাড়ে ওঠেন, দোয়া করেন, কিন্তু এটা কেবল দোয়ার জায়গা —
কোনো বিশেষ ইবাদতের স্থান নয়।

ইমাম নাওয়াবী (রহঃ) বলেন:

“আরাফাতে দাঁড়ানোই হজ্বের মূল। পাহাড়ে ওঠা বা নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়ানো কোনো শরয়ি বিধান নয়।”


🌿 শিক্ষণীয় বার্তা

১️⃣ আল্লাহর রহমত সীমাহীন — যত বড় গুনাহই হোক, তওবা করলে ক্ষমা সম্ভব।
২️⃣ ইবাদতে সংযম ও শুদ্ধতা জরুরি — আবেগ নয়, দলিলই আমাদের পথনির্দেশক।
৩️⃣ মানবতার ঐক্য ও পরিশুদ্ধি — আরাফা ও জাবালে রহমতের বার্তা হলো ঐক্য, অনুতাপ ও নৈতিক শুদ্ধি।
৪️⃣ নবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণই হজ্বের আসল সৌন্দর্য


🪔 উপসংহার

জাবালে রহমত শুধু একটি পাহাড় নয় —
এটি মানবজাতির জন্য আল্লাহর অসীম ক্ষমা, মমতা ও ভালোবাসার প্রতীক।
প্রত্যেক মুসলমানের হৃদয়ে এই পাহাড় স্মরণ করিয়ে দেয়—
যে বান্দা ভুল করেও ফিরে আসে,
আল্লাহ তার জন্য দরজা খোলা রাখেন,
এবং বলেন:

“আমার রহমত সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করেছে।”
— (সূরা আল-আ’রাফ, ৭:১৫৬)


কোন মন্তব্য নেই:

ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png