শিরোনাম
Loading latest headlines...

বুধবার, ২০ মার্চ, ২০২৪

রমজানে সেহরির গুরুত্ব ফজিলত

বুধবার, মার্চ ২০, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে



রমযানের রোজা ও তারাবির পাশাপাশি আরো যে উপলক্ষ ও ইবাদত ব্যাপকভাবে সমাজকে স্পর্শ করে তা হল সেহরি ও ইফতার।

রোজার প্রস্তুতি ঘোষণা করতে হয় সেহরির মাধ্যমে এবং সমাপ্তি ঘোষণা করতে হয় ইফতারের মাধ্যমে।

পবিত্র কোরআন-হাদিসের আলোকে সেহরির  আলোচনা এখানে সন্নিবেশিত করা হলো-

সেহরির গুরুত্ব ও ফজিলত:-

রোজা রাখার উদ্দেশ্যে আমরা সুবহে সাদিকের আগে সেহরি খেয়ে থাকি। রোজা পালনের জন্য সেহরি খাওয়া সুন্নাত ও অধিক পুণ্যের কাজ।

ক্ষুধা না থাকলেও সামান্য একটু পানি পান করাকেও সেহরি হিসেবে গণ্য করা হয়।

সেহরি খাওয়ার মধ্যে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এর সুন্নাহর অনুসরণ করা হয়। অন্যদিকে সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে রোজা রাখার শক্তি অর্জিত হয়।

সেহরি খেলে রোজাদার সহজে দুর্বল ও মনোবলহীন হয়ে পড়েন না, সারাদিন দীর্ঘ সময়ের উপবাস বা অনাহারে থাকলেও কর্মঠ থাকার প্রাণশক্তি আসে এবং রোজা পালন সহ্যসীমার মধ্যে থাকে।

যতোক্ষণ পর্যন্ত সুবহে সাদিক না হয় অর্থাৎ পূর্ব দিগন্তে সাদা বর্ণ না দেখা যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত সেহরি খাওয়ার অনুমতি আছে। সুবহে সাদিক হয়ে গেলে তারপর আর কিছু খাওয়াদাওয়ার সুযোগ নেই।

সেহরি খাওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর তোমরা পানাহার করো, যতোক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো।
 (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৭)

রাসূলুল্লাহ (সা.) সেহরি খেতে আদেশ করেছেন। বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।

রাসূল (সা.) কখনো সেহরি থেকে বিরত থাকতেন না। সাহাবায়ে কেরামকেও সেহরির ব্যাপারে তাগিদ দিতেন এবং নিজের সঙ্গে শরিক করতেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে একজন সাহাবী এলেন যখন তিনি সেহরি খাচ্ছিলেন। রাসূল (সা.) তাকে দেখে বললেন, এ খাবার বরকতের। আল্লাহ পাক বিশেষভাবে তোমাদের তা দান করেছেন। কাজেই তোমরা সেহরি খাওয়া ছেড়ে দিওনা। (নাসাঈ)

মুসলিম শরীফে হযরত আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমাদের এ সিয়াম/রোজা ও আহলে কিতাবদের (ইহুদী ও খৃষ্টান) রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যেসব মুসলমান ভোরের এ সময়ে জেগে আল্লাহ পাকের হুকুম মেনে সেহরি খেতে বসে, আল্লাহ পাক খুশি হয়ে তাদের জন্য বিশেষ রহমত অবতীর্ণ করেন এবং মহান আল্লাহর ফেরেশতারা সেহরি গ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ দোয়া করতে থাকেন। (মুসনাদে আহমদ)

সেহরি খাওয়ার উত্তম সময়ও নির্দিষ্ট করা আছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমরা রাতের অন্ধকার প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত পানাহার কর। (বাকারা-১৮৭)

দেশ ও অঞ্চলভেদে সেহরিতে খাবারের ধরন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবুও প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) সেহরির সময় খেজুরকে সর্বোত্তম খাদ্যদ্রব্য বলেছেন।

আবু দাউদ শরীফে এক বর্ণনায়- খেজুরকে সর্বোত্তম সেহরি বলেছেন রাসূল (সা.)।

এজন্য সেহরির সময় দু-একটি খেজুর খেলে এ সুন্নত আদায় হবে। এ ছাড়া আধুনিককালের স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে, খেজুরের ভেতর যে শক্তি ও পুষ্টিগুণ রয়েছে তা রোজাদারের জন্য অনেক বেশি শক্তিদায়ক এবং বিশেষ উপকারী।

অনেকে তারাবির পর খানা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন, অলসতা করে সেহরি খাওয়ার জন্য পুনরায় জাগ্রত হওয়াকে বোঝা মনে করেন তাদের জেনে রাখা দরকার যে, এটা সুন্নতের পরিপন্থী কাজ।

এতে সেহরির ফজিলত ও বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। সেহরির সময় একটু আগেভাগে উঠে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করা বড় সৌভাগ্যের বিষয়।

সেহরি খাওয়ার পর রোজার নিয়ত অন্তরে করাই যথেষ্ট, মুখেও যদি বলে তাহলে ভালো ‘আমি আগামীকাল রমযান মাসের রোজা রাখার নিয়ত করলাম’। (জাওয়াহিরুল ফিকহ)

সেহরি খাওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা সেহরি খাওয়া বান্দার ওপর রহমত নাজিল করেন।

সেহরি খাওয়া যেহেতু সুন্নত, তাই সুন্নতের ওপর আমল করার জন্য ক্ষুধা না হলেও পানি বা অন্য কিছু খেয়ে নেয়া উচিত।

কারণ হাদিস শরিফে এসেছে ‘তোমরা সেহরি খাও, কেননা সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ সেহরি দেরিতে খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এতো বিলম্ব না করা উচিত, যার কারণে রোজার মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়ে পড়ে।

হযরত ইয়ালা বিন মুররাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহতায়ালার কাছে তিনটি বস্তু অধিক পছন্দনীয়।

 ১. সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাড়াতাড়ি ইফতার করা। 
২.সেহরি দেরিতে খাওয়া।( মানে শেষ রাতের দিকে )
৩.নামাজে হাত বেঁধে আল্লাহর ধ্যান-খেয়ালে আদবের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা।

সেহরির মধ্যে বিলম্ব করা মুস্তাহাব। সেহরি খাওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব করার অর্থ হলো, ততক্ষণ পর্যন্ত পানাহার করা বৈধ যতক্ষণ শুভ্র রেখা উদিত না হয়। যখন শুভ্র রেখা উদিত হয়ে যায় তখন পানাহার বর্জন করা চাই।(সংগৃহীত)

আল্লাহপাক মেহেরবানী করে আমাদের সকলকে জেনে বুঝে আমল করার তৌফিক দান করুন।আমীন।


বুধবার, ৬ মার্চ, ২০২৪

রমজানে তারাবি নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলতঃ

বুধবার, মার্চ ০৬, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে


শুরু হতে যাচ্ছে রহমত,মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজান। এই মাসের প্রধান দুইটি আমল হলো সিয়াম ও কিয়াম। সিয়াম বা রোজা হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, দাম্পত্য মিলন ও রোজা ভঙ্গ হওয়ার সব বিষয় থেকে বেঁচে থাকা।

আর কিয়াম হলো রাতের তারাবির নামাজ। তারাবিহ শব্দটি আরবি তারভিহাতুন থেকে এসেছে। এর অর্থ বিশ্রাম করা, প্রশান্তি লাভ করা।

তারাবি নামাজে যেহেতু প্রতি চার রাকাত পরপর একটু বিশ্রাম নিয়ে তাসবিহ ও দোয়া পাঠ করা হয়। তাই এই নামাজকে সালাতুত তারাবিহ বা তারাবিহ নামাজ বলা হয়। তারাবিহর নামাজ এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর এবং বিতিরের আগে আদায় করা হয়। তারাবিহর নামাজ সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। যেটা গুরুত্বের দিক থেকে ওয়াজিবের কাছাকাছি।

তারাবির ফজিলত সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা:) বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে নেকীর আশায় কিয়ামুল লাইল তথা তারাবি আদায় করবেন তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (বুখারী ও মুসলিম)

রাসুল (সা:) তারাবি কে কতটুকু গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তারাবি যেন ফরজ না হয়ে যায় যেটা আদায়ে উম্মতের কষ্ট হতে পারে। সেটা রাসূল (সা:) এর একটি হাদিসে থেকেই বোঝা যায়।

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) একবার রমজান মাসে রাত্রিবেলায় মসজিদে নববীতে নামাজ (তারাবি) আদায় করলেন। উপস্থিত লোকজনও তাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করলেন। একইভাবে তাঁরা দ্বিতীয় দিনেও নামাজ আদায় করলেন এবং লোকসংখ্যা অনেক বেশি হলো। অতঃপর তৃতীয় এবং চতুর্থ দিনেও মানুষ একত্রিত হলো কিন্তু রাসুলুল্লাহ (স.) হুজরা থেকে বেরিয়ে তাদের কাছে এলেন না। অতঃপর সকাল হলে তিনি এলেন এবং বললেন, তোমাদের অপেক্ষা করার বিষয়টি আমি লক্ষ্য করেছি। কিন্তু শুধু এ ভয়ে আমি তোমাদের কাছে আসা থেকে বিরত থেকেছি যে, আমার আশঙ্কা হচ্ছিলো, না জানি তোমাদের ওপর উহা (তারাবি) ফরজ করে দেওয়া হয়। (বুখারী) তারাবি ২০ রাকাত সুন্নাত। এটা রাসুল (সা:), সাহাবী, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন এবং মুজতাহিদ ইমামদের আমল দ্বারা প্রমাণিত।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা:) রমজান মাসে ২০ রাকাত এবং বিতির পড়তেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা) সব সাহাবীদের আমল ও ২০ রাকাত ছিল। রাসূল (সা:) এর নাতি হজরত আলী ইবনে হাসান (রা:) থেকে বর্ণিত, হজরত ওমর (রা:) এর নির্দেশে লোকদের নিয়ে উবাই বিন কাব (রা:) ২০ রাকাত তারাবি পড়েছেন। (আবু দাউদ) এভাবে খলিফা ওমর, ওসমান, আলীসহ (রা:) সব সাহাবীদের ঐক্যমতে ২০ তারাবি পড়া হয়েছে।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ:) বলেন, মক্কা ও মদিনা শরীফে সাহাবায়ে কেরামের যুগ হতে আজ পর্যন্ত সবসময় ২০ রাকাত তারাবি খতমে কোরআনসহ জামাতের সঙ্গে পড়া হয়। তারাবি নামাজে পূর্ণ কোরআন তেলাওয়াত বা শ্রবণ করা ও সুন্নত।

রাসূল (সা:) বলেন, যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পাঠ করবে সে একটি নেকী অর্জন করবে এবং একটি নেকীকে দশগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। (তিরমিজি) কোরআনে কারীম তেলাওয়াতের নেয় শ্রবণ করাও একই সওয়াব। এজন্য তারাবি নামাজে পরিপূর্ণ আদবের সঙ্গে মনোযোগ দিয়ে কোরআন তেলাওয়াত শুনতে হবে।

২০ রাকাত না পড়ে ইমামকে রেখে মসজিদ ত্যাগ করা উচিত নয়। রাসুল (সা:) বলেন, যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কিয়ামুল লাইল তথা তারাবি আদায় করবে তার জন্য পুরো রাত সিয়াম পালনের সওয়াব লাভ হবে। (তিরমিজি)

মাহে রমজানের বিশেষ ফজিলত পূর্ণ আমল তারাবির নামাজে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। আসুন আমরা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে তারাবির নামাজ আদায় করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি। আল্লাহপাক আমাদেরকে তৌফিক দান করুন।(সংগৃহীত)
______________

(প্রতিনিয়ত ঈমান আমল সংক্রান্ত দ্বীনি এরকম ভিন্ন ভিন্ন উপকারী পোস্ট পেতে নিচের লিংকে জয়েন থাকুন।)
--------------
( মৃত্যু...❌

মৃত্যু আসিতেছে...❌
যেকোনো সময়...❌
যেকোনো জায়গায়...❌
যেকোনো অবস্থায়...❌
আমাকে থামিয়ে দিবে...❌

অথবা
আমার প্রিয়জনকে আমার থেকে কেড়ে নিবে...❌

আমি কি তৈরি...❓

আসুন আল্লাহকে ভয় করি... মৃত্যুকে স্মরণ রেখে পথ চলি... সুন্নতি জীবন গড়ি... )
--------------


ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png