শিরোনাম
Loading latest headlines...

রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্পর্কিত আকিদাঃ খাতেমুন নাবিয়্যিন

রবিবার, জুলাই ০৪, ২০২১ 0
বার দেখা হয়েছে

☛১. হযরত আবূ হুরাইরাহ্ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেন, আঁমি এবং আঁমার পূর্ববর্তী নবীগণের অবস্থা এমন,এক ব্যক্তি যেন একটি গৃহ নির্মাণ করল; তাকে সুশোভিত ও সুসজ্জিত করল, কিন্তু এক পাশে একটি ইটের জায়গা খালি রয়ে গেল। অতঃপর লোকজন এর চারপাশে ঘুরে আশ্চর্য হয়ে বলতে লাগল ঐ শূন্যস্থানের ইটটি লাগানো হল না কেন? নবী (ﷺ) বলেন, আঁমিই সে ইট। আর আঁমিই সর্বশেষ নবী।

তথ্যসূত্রঃ

১. মুসলিম ৪৩/৭ হাঃ ২২৮৬

২. আহমাদ ৭৪৯০

৩. সহীহ বুখারী (মূল)-৩৫৩৫ আধুনিক প্রকাশনী: ৩২৭১, ইসলামী ফাউন্ডেশন:৩২৮০

☛২. হযরত কাব আহবার (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন যখন সৃষ্টি জগত সৃজন করার ইচ্ছা করলেন তখন মাটিকে সস্প্রসারিত করলেন,আকাশকে উঁচু করলেন এবং আঁপন নূর হতে এক মুষ্ঠি নূর গ্রহন করলেন। তারপর উক্ত নূরকে নির্দেশ দিলেন‘ তুঁমি মুহাম্মাদ হয়ে যাও।’অতএব সে নূর স্তম্ভের ন্যায় উপরের দিকে উঠতে থাকল এবং মহত্বের পর্দা পর্যন্ত পৈাছে সিজদায় পরে বলল, ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ তখন আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে ইরশাদ হল,এজন্যই তোঁমাকে সৃষ্টি করেছি আর তোঁমার নাম মুহাম্মাদ রেখেছি। তোঁমার হতেই সৃষ্টি কাজ শুরু করব এবং তোঁমাতেই রিসালাতের ধারা সমাপ্ত করব ।

[সিরাতুল হালাভিয়া ১ম খন্ড,পৃঃ ৫০]

☛৩. হাদিস শরীফে আরও ইরশাদ হয়েছে।

عن العرباض بن ساريه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه قال انى عند الله مكتوب خاتم النبيين وان ادم لمنجدل فى طينته وساخبركم باول امرى دعوة ابراهيم وبشارة عيسى ورؤيا امى التى رأت حين وضعتنى وقد خرج لها نور اضاءلها منه قصور الشام- رواه فى شرح السنة ورواه احمد عن ابى امامة من قوله ساخبركم الى اخره- (دلائل النبوة ومعرفة احوال صاحب الشريفة للبيهقى ص ۲/۱۳٠ (مشكوة شريف ص ۵۱۳)

হযরত ইরবাদ্ধ ইবনে সারিয়া(رضي الله عنه) হতে বর্ণিত।তিনি রাসূল (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন: “নিশ্চয় আঁমি আল্লাহ তায়ালার নিকট নবীগনের (আঃ) পরিসমাপ্তিকারী হিসেবে লিপিবদ্ধ এবং তখন হযরত আদম (আঃ) মাটির সাথে মিশ্রীত ছিলেন।আঁমি শ্রীঘ্রই তোমাদেরকে আঁমার প্রাথমিক অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ দেবো।আর তা হচ্ছে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এঁর দোয়া এবং হযরত ঈসা (আঃ) এঁর সুসংবাদ এবং আঁমার মহিয়সী আম্মাজানের অবলোকন যা তিঁনি আঁমাকে প্রসবকালীন দেখেছেন এবং এমন একটি নূর বের হল যা দ্বারা সিরিয়ার বা শ্যাম প্রাসাদ সমূহ আলোকিত হয়ে গেল।

তথ্যসূত্রঃ

১.মিশকাত শরীফ ৫১৩ পৃষ্ঠা,হাদিস নং ৫৭৫৯

২.ইবনে হিশাম: আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ(বৈরুত: দারু ইয়াহইয়ায়িত তুরাসিল’আরবী,৩য় সং,১৪২১ হিঃ,১ম খণ্ড, ১৯৪-১৯৫ পৃঃ

৩.ঈমাম আহমদ ঈবনে হাম্বল(رحمة الله): আল মুসনাদ ৫ম খণ্ড, ২৬২ পৃঃ 

৪.মোল্লা আলী ক্বারী: মিরকাতুল মাফাতীহ, ১০ম খণ্ড, ২৯ পৃঃ

৫. ডঃ আলী মুহাম্মদ সাল্লাবী: আস- সিরাতুন নববীয়্যাহ,(কায়রুঃ দারুল ফজর লিত-তুরাস,১ম সং,১৪২৪ হিঃ/২০০৩ খৃ:) ১ম খণ্ড, ৫৯ পৃঃ

৬. বায়হাকি: দালায়েলুন নবুয়ত :১/৮৩

৭. তাফসীরে ইবনে কাসীর :৪/৩৬০

৮. হাকেম : মুসতাদরিক: ৩/৬১৬

৯. নূর তত্ব, ৬৯ পৃঃ

☛৪. হযরত আবু হুরায়রা(رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, নবীজী (ﷺ) ইরশাদ করেন:

كنت اول النبيين في الخلق واخرهم في البعث

‘আঁমি হলাম সৃষ্টিতে নবীদের প্রথম এবং প্রেরণের দিক থেকে নবীদের শেষ।’

তথ্যসূত্রঃ

(ক.) ইমাম দায়লামী, আল-ফিরদাউস: ৩/২৮২

(খ.) ইমাম সুয়ূতী,খাছায়েছুল কুবরা: ১/৫

(গ.) ইবনু কাছীর,তাফসীরে ইবনে কাছির: ৩/৪৭০

(ঘ.) ইমাম ইবনে আদি,তারীখুল কামেল: ৩/৩৭৩

☛৫. হাদিস শরীফে আরও বর্নিত হয়েছে:

عن حضرت ابي هريرت رضي الله عنه قال قال رسول صلي الله عليه و سلم كنت اول النبين في الخلق واخرهم في البعث.

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্নিত, হুজুর পাক (ﷺ) ইরশাদ করেন, সৃষ্ট জীবের মধ্যে আঁমি সর্বপ্রথম নবী হিসাবে সৃষ্টি হয়েছি। কিন্তু আঁমি প্রেরিত হয়েছি ( যমীনে প্রকাশ পেয়েছি) সব নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের শেষে।”

তথ্যসূত্রঃ

১. তাফসীরে বাগবী ৫/২০২

২. দূররে মানছুর ৫/১৮৪

৩. শেফা শরীফ ১/৪৬৬

৪. মানাহিলুচ্ছফা ৫/৩৬

৫. কানযুল উম্মাল, ৩১৯১৬

৬. ইমাম দায়লামী,আল-ফিরদাউস: ৩/২৮২

৭. ইমাম সুয়ূতী,খাছায়েছুল কুবরা: ১/৫

৮.ইবনু কাছীর,তাফসীরে ইবনে কাছির: ৩/৪৭০

৯.ইমাম ইবনে আদি,তারীখুল কামেল: ৩/৩৭৩

১০. তাফসীরে রুহুল মায়ানী ২১/১৫৪

১১. জাওয়াহিরুল বিহার ৪/২৩৪ ১২. সুবহুল হুদা ওয়ার রাশাদ ১/৭১

☛৬. হযরত ইরবায বিন সারিয়্যা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-আমি রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তিঁনি বলেছেন “নিশ্চয় আঁমি আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বশেষ নবী হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিলাম তখন, যখন আদম (আঃ) মাটিতে মিশ্রিত ছিলেন। অপর সহিহ বর্ননায় আছে, যখন আদম (আঃ) রুহ ও দেহের মধ্যে ছিলেন।”

তথ্যসূত্রঃ

(ক.) সহীহ ইবনে হিব্বান,হাদীস নং-৬৪০৪

(খ.) মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭১৬৩

(গ.) মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৪১৯৯

(ঘ.) মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-১৪৫৫

(ঙ.) শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩২২২

(চ.)মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদীস নং-৫৭৫৯

(ছ.)আল মু’জামুল কাবীর,হাদীস নং-৬৩১

☛৭. এ প্রসংগে আরো এরশাদ হয়েছে :

ﺣﺪّﺛﻨﺎ ﺃﺑﻮ ﺟﻌﻔﺮ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ، ﺣﺪّﺛﻨﺎ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﺇﺳﺤﺎﻕ ﺑﻦ ﺻﺎﻟﺢ، ﺣﺪّﺛﻨﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺍﺑﻦ ﺻﺎﻟﺢ، ﺣﺪّﺛﻨﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺳﻨﺎﻥ ﺍﻟﻌﻮﻓﻲ، ﺣﺪّﺛﻨﺎ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺑﻦ ﻃﻬﻤﺎﻥ ﻋﻦ ﻳﺰﻳﺪ ﺑﻦ ﻣﻴﺴﺮﺓ، ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺳﻔﻴﺎﻥ، ﻋﻦ ﻣﻴﺴﺮﺓ ﻗﺎﻝ ﻗﻠﺖ : ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ، ﻣﺘﻰ ﻛﻨﺖ ﻧﺒﻴﺎً؟ ﻗﺎﻝ : « ﻟَﻤَّﺎ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻷﺭْﺽَ ﻭَﺍﺳْﺘَﻮَﻯ ﺇﻟَﻰ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﻓَﺴَﻮَّﺍﻫﻦَّ ﺳَﺒْﻊَ । ﺳَﻤَﻮﺍﺕٍ ﻭَﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻌَﺮْﺵَ ﻛَﺘَﺐَ ﻋَﻠَﻰ ﺳَﺎﻕِ ﺍﻟﻌَﺮْﺵِ ﻣُﺤَﻤَّﺪٌ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﺍِ ﺧَﺎﺗَﻢُ ﺍﻷﻧْﺒِﻴَﺎﺀِ ﻭَﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔَ ﺍﻟَّﺘﻲ ﺃﺳْﻜَﻨَﻬَﺎ ﺁﺩَﻡَ ﻭَﺣَﻮَّﺍﺀَ ﻓَﻜَﺘَﺐَ ﺍﺳْﻤِﻲ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻷﺑْﻮَﺍﺏِ ﻭَﺍﻷﻭْﺭَﺍﻕِ ﻭَﺍﻟﻘِﺒَﺎﺏِ ﻭَﺍﻟﺨِﻴَﺎﻡِ ﻭَﺁﺩَﻡُ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﺮُّﻭﺡِ ﻭﺍﻟﺠَﺴَﺪ.

হযরত মায়সারাহ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত , তিনি বলেন -আমি রাসূল (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলাম হে রাসূল (ﷺ)

আঁপনি কখন থেকে নবী ছিলেন?

নবীজি বললেন আল্লাহ তা’আলা যখন জমিন সৃষ্টি করলেন অতঃপর আসমানের দিকে মনোনিবেশ করলেন অতঃপর আসমানকে সাতটি স্তরে তৈরি করলেন অতঃপর আরশ তৈরি করলেন এবং আরশের খুটিতে লিখে দিলেন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সর্বশেষ নবী।অতঃপর আল্লাহ জান্নাত সৃষ্টি করলেন যেখানে হযরত আদম ও হাওয়া (আঃ) বাস করেছিল। আর আমার নাম জান্নাতের দরজা সমূহে,লিখে দেওয়া হয়েছিল। তখনো আদম রুহ ও শরীরে আলাদা ছিলো এবং (অামি তখনো নবী ছিলাম)।

[ইবনে জাওযি (رحمة الله) আল ওয়াফা ফি আহওয়ালিল মোস্তফা : পৃঃ ২৬]

☛ইমাম মুহাম্মদ ইউসুফ আল সালেহী (رحمة الله) বলেন-

ﻭﺭﻭﻯ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﺠﻮﺯﻱ ﺑﺴﻨﺪ ﺟﻴﺪ ﻻ ﺑﺄﺱ ﺑﻪ

ইবনে জাওযি (رحمة الله) অত্র হাদিস বর্ণনা করেছেন, এটির সনদ শক্তিশালী এবং এতে কোন ত্রুটি নেই।

[সুবুলুল হাদি ওয়ার রাশাদ, ১/৮৬]

☛৮. হাদিস শরীফে আরও ইরশাদ হয়েছে:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : ” لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ خَبَرَ آدَمُ بَنِيهِ فَجَعَلَ يَرَى فَضَائِلَ بَعْضِهِمْ عَلَى بَعْضٍ قَالَ : فَرَأَى نُورًا سَاطِعًا فِي أَسْفَلِهِمْ ، فَقَالَ : يَا رَبِّ مَنْ هَذَا ؟ قَالَ : هَذَا ابْنُكَ أَحْمَدُ هُوَ الأَوَّلُ ، وَهُوَ الآخِرُ ، وَهُوَ أَوَّلُ شَافِعٍ.

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, হুজুর পাক (ﷺ) তিনি ইরশাদ করেন, যখন মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করলেন, তখন উঁনার সন্তানদের দেখানো হলো। তখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম উঁনার সন্তানদের পারষ্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব দেখতে থাকেন। অবশেষে তিঁনি এক চমকপ্রদ নূর মুবারক দেখতে পেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, হে আঁমার রব! এই নূর মুবারক কার? মহান আল্লাহ ইরশাদ মুবারক করলেন, তিনি আঁপনার আওলাদ হবেন। অর্থাৎ শেষে আগমন করবেন। উনার নাম আসমানে আহমদ (ﷺ)। তিঁনি সৃষ্টিতে প্রথম, তিঁনি প্রেরনে শেষ, তিঁনি সর্বপ্রথম শাফায়াতকারী।

তথ্যসূত্রঃ

১. দালায়েলুন নবুওয়াত ৫/৪৮৩ ২. খাসায়েসুল কোবরা ১/৭০

৩. সুবহুল হুদা ওয়ার রাশাদ ১/৭১ ৪. শরহে মাওয়াহেব ১/৪৩

☛৯. হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (رضي الله عنه) থেকে বর্নিত।

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أذنب آدم صلى الله عليه وسلم الذنب الذي أذنه رفع رأسه إلى العرش فقال أسألك حق محمد ألا غفرت لي فأوحى الله إليه وما محمد ومن محمد فقال تبارك اسمك لما لما خلقتني رفعت رأسي إلى عرشك فإذا هو مكتوب لا إله إلا الله محمد رسول الله فعلمت أنه ليس أحد أعظم عندك قدرا ممن جعلت اسمه مع اسمك فأوحى الله عز وجل إليه يا آدم إنه آخر النبيين من ذريتك وإن أمته آخر الأمم من ذريتك ولولاه يا آدم ما خلقتك.

রাসূল (দরুদ) ইরশাদ করেছেন, হযরত আদম (আঃ) থেকে যখন অপ্রত্যাশিত ভাবে ভুল সংঘটিত হয়, [যার দরূন তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয়, তখন তিঁনি সর্বদা কাঁদতে ছিলেন। আর দুই ও ইস্তেগফার পড়তে ছিলেন।] তখন তিঁনি আল্লাহর দরবারে আরজ করলেন,হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (ﷺ) এঁর ওসীলায় আঁমি তোঁমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তখন ওহী নাজীল হয়- মুহাম্মদ (ﷺ) কে (তুমি কিভাবে জানলে তুমি তো তাঁকে কখনো দেখ নি)? তখন তিনি বলেন-যখন আঁপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন,আমার অভ্যন্তরে রুহ প্রবেশের পর মাথা তুলে আমি আরশে লেখা দেখলাম- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, মুহাম্মদ (ﷺ) এঁর চেয়ে সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তিত্ব আর কেউ নেই।যার নাম আঁপনি স্বীয় নামের সাথে রেখেছেন।তখন ওহী নাজীল হল-তিঁনি সর্বশেষ নবী।তোমার সন্তানদের অন্তর্ভূক্ত হবে।যদি তিনি না হতেন, তাহলে তোমাকেও সৃষ্টি করা হতো না।”

তথ্যসূত্রঃ

১.দালায়েলুন নাবায়িয়্যাহ, ৫/৪৮৯ পৃ:

২. মুসতাদরাকে হাকেম : ২/৪৮৬ পৃ: হা : ৪২২৮

৩. ইমাম হাকেম নিশাপুরী (رحمة الله) আল মাদখাল : ১/১৫৪

৪.তাবরানী :আল মুজামুল আওসাত : ৬/৩১৩,হাদিস নং-৬৫০২

৫. তাবরানী : আল মুজামুস সগীর : ২/১৮২ : হাদীস নং-৯৯২,

৬. তাবরানী : মুজমায়ে কবীর’

৭. ইমাম দায়লামী :আল মুসনাদিল ফিরদাউস : ৫/২২৭

৮. কাশফুল খাফা : ১/৪৬ ও ২/২১৪

৯. আবূ নুয়াইম : ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া,

১০. আল্লামা সুবকী (رحمة الله) শিফাউস সিকাম

১১.ইবনে আসাকিরঃ নিজ ‘তারিখে দিমাশক’: ৭/৪৩৭পৃ:

১২. ইবনুল জাওজী : আল ওয়াফা বি আহওয়ালিল মোস্তফা : ৩৩

১৩. ইবনুল জাওজী : বয়ানুল মিলাদুন্নবী (দরুদ ) : ১৫৮

১৪.আল বিদায়া ওয়ান নেহায়া : ১/১৮ পৃ:

১৫. ইবনে হাজর হায়সামী : মাযমাউজ যাওয়ায়েদ : ৮/২৫৩

১৬. শিহাবউদ্দীন খাফাজী : ‘নাসীম আর-রিয়াদ’

১৭.খাসায়েসুল কুবরা :১/১২;হা:১২

১৮.আদ দুররে মানসুর : ১/১৪২

১৯. মাওয়াহেবুল লাদুনিয়্যাহ : ১/ ৮২ ও ২/৫২৫

২০. শরহে মাওয়াহিব : ১/১৭২

২১.সীরাতে হালাবিয়্যাহ : ১/৩৫৫

২২. মুহাদ্দিসে শাহ আব্দুল আজিজ দেহলভী : তফসীরে আজিযী,১/১৮৩

২৩. ইমাম নাবহানী :শাওয়াহিদুল হক : ১৩৭

২৪. আনোয়ার-ই-মোহাম্মাদীয়া, ৯-১০

২৫. জাওয়াহিরুল বিহার : ২/১১৪

২৬. ইমাম নাবহানী : হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামিন :৩১ পৃ: ও ৭৯৫ পৃ: (মাকতুবাত এ তাওফিক হিয়্যাহ, কাহেরা,মিশর)

২৭. আল্লামা শফী উকারবী : যিকরে হাসীন : ৩৭

২৮. আশরাফ আলী থানবী : নুশরত্বীব :২৮

২৯. ফাযায়েলে আমাল, ৪৯৭,উর্দু এডিশন

হাদিসের মান পর্যালোচনা

১. ইমাম হাকিম বলেছেন হাদিসটি সহীহ। আল মুস্তাদরাক-২/৬১৫

২. ইমাম তকি উদ্দীন সুবকী বলেন, হাদিসটি হাসান।শিফাউস সিকাম,পৃ:১২০

৩. ইমাম তকী উদ্দীন দামেশকী বলেন, হাদিসটি বিশুদ্ধ। দাফউ শুবহাহঃ ১/৭২

৪. ইমাম কাস্তলানী বলেন, হাদিসটি বিশুদ্ধ।মাওয়াহিবুল লাদুনিয়াহঃ ১/১৬৫

৫. ইমাম সামহুদী বলেন, হাদিসটি সহীহ। ওয়াফাউল ওয়াফাঃ২/৪১৯

৬. ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী বলেন, বিভিন্ন সনদে বর্ণিত এ হাদিসটি বিশুদ্ধ।আল খাসায়েসুল কুবরাঃ১/৮

৭. সালাফীদের গুরু ইবনু তাইমিয়্যাহ এ হাদিসটি দলিল হিসাবে তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন।”যদি মুহাম্মাদ (ﷺ) না হতেন, তবে আঁমি তোঁমাকে সৃষ্টি করতাম না’-এ হাদিসটি উল্লেখ করে বলেছেন,এ হাদিসটি পূর্বের কথাকে শক্তিশালী করেছে।

[মাজমাউল ফাতাওয়াঃ২/১৫৯]

৮.বাতিলদের জবাবে ইমাম ইবনু কাসীর পরিস্কার বলেছেন, এই হাদিসটি বানোয়াট নয়।এটা দ্বারা নির্দ্বিধায় দলীল প্রদান করা যাবে।তিনি আরও বলেছেন, হাদিসের বর্ণনাকারী আব্দুর রাহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম মিথ্যাবাদী নন। এবং এ হাদীসটি ও জাল নয়।বরং হাদীসটি হাসান লিগাইরিহী। এমন হাদিস দ্বারা দলিল প্রদান করা যাবে নিঃসন্দেহে।

[আস সীরাতুন নাবাওইয়্যাহ- ১/১৯৫]

৯. বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস মুল্লা আলী কারী বলেন,এ কথাটি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ।

[আল আসরারুল মারফুআহ,১/২৯৫, মাওয়ারিদুর রাবী ফি মওলদুন্নবী; ১/১৮]

১০. দেওবন্দের অন্যতম আলেম আশ্রাফ আলী থানভীও উক্ত হাদিস পাকের ক্ষেত্রে ইমাম হাকেমের অনুরুপ সহিহ্ হওয়ার রায়কে গ্রহণ করেছেন।

[নশরুত্তীব; পৃষ্ঠা ২৭।]

১১. ইমাম ইবনূ হাযার হাইসামী (رحمة الله) স্বীয় প্রসিদ্ধ কিতাব ‘শারহে শামায়েল’ এ ইমাম হাকিমের রায় “হাদিসটি সহিহ্” হওয়াকে গ্রহণ কররেছেন।

[ইমাম ইবনূ হাযার হাইসামী (رحمة الله) ‘শারহে শামায়েল’; ১/১১৫]

১২. শায়খ ইউসূফ নাবাহানী (رحمة الله) উক্ত হাদিস পাকের ক্ষেত্রে ইমাম হাকেমের অনুরুপ সহিহ্ হওয়ার রায়কে গ্রহণ করেছেন।

[ইমাম ইউসূফ নাবাহানী : যাওয়াহিরুল বিহার; ২/১১৪।]

❏ তিনি তার অন্যান্য গ্রন্থেও অনুরুপ রায় গ্রহণ করেছেন:

(ক.) হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামিন, পৃষ্ঠা ৭৯৫।

(খ.) আনওয়ারে মোহাম্মাদিয়া,পৃ: ৯-১০

(গ.) শাওয়াহিদুল হক্ব,পৃষ্ঠা ১৩৭।

(ঘ.) আফদ্বালুস সালাত,পৃষ্ঠা ১১৭।

১৩. রিযাল শাস্ত্রবিদদের অন্যতম আল্লামা আযলূনী (رحمة الله) স্বীয় ‘কাশফুল খাফা’ এর দুই স্থানে উক্ত হাদিস পাকের ক্ষেত্রে ইমাম হাকেমের অনুরুপ সহিহ্ হওয়ার রায়কে গ্রহণ করেছেন।

[কাশফুল খাফা; ১/৪৬, ২/২১৪]

১৪. আল্লামা ইসমাইল হাক্বী (رحمة الله) উক্ত হাদিস পাকের ক্ষেত্রে ইমাম হাকেমের অনুরুপ সহিহ্ হওয়ার রায়কে গ্রহণ করেছেন।

[তাফসিরে রুহুল বয়ান,পৃষ্ঠা ২/৩৭০]

❏ আজকে আলোচিত হাদিসখানাতে যে বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে প্রমানিত হয় তাহল:

১. যদি মুহাম্মাদ (ﷺ) না হতেন,তবে আল্লাহ পাক কোন কিছুই সৃষ্টি করতেন না।

২. “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ,মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এই কালেমা আমাদের বানানো কালেমা নয়।যা স্বয়ং আরশে লেখা রয়েছে।

৩. রাসূল (ﷺ) ই- সর্বশেষ নবী।

৪. যারা বলে আল্লাহর নামের সাথে রাসূলের নাম থাকলে শিরক বা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ থাকবে উপরে লেখা আর মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ থাকবে নিচে লেখা সেই সকল মুনাফিক,মালাউন,আহলে বায়াতের দুশমনদের আপত্তির মোক্ষম জবাব।

৫. রাসূল (ﷺ) এঁর চেয়ে সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তিত্ব মহান আল্লাহর নিকট আর কেউ নেই।যার কারনে আল্লাহ পাক স্বয়ং স্বীয় নামের সাথে তাঁর প্রিয় হাবীবের নাম রেখেছেন।কাজেই এটা বলা যাবে না যে, আল্লাহর নামের সাথে রাসূলের নাম থাকলে শিরক বা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ থাকবে উপরে লেখা আর মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ থাকবে নিচে লেখা।

☛১০. হাদিস শরীফ বর্নিত হয়েছে

হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) থেকে। তিনি বলেন,রাসূল (ﷺ) বলেছেন,৬টি বিষয় দ্বারা আঁমাকে সকল নবীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে।

১.আঁমাকে অল্প ভাষায় অধিক ভাব প্রকাশের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

২. আঁমাকে সাহায্য করা হয়েছে শত্রুদের অন্তরে ভীতি সৃষ্টি করার মাধ্যমে

৩. আঁমার জন্য গণীমত হালাল করা হয়েছে। [উল্লেখ্য, গণীমত পূর্ববর্তী উম্মতের জন্য হালাল ছিলনা]।

 ৪. পুরো পৃথিবীকে আঁমার জন্য পবিত্র ও মসজিদ করে দেয়া হয়েছে। [যা অন্য উম্মতের জন্য ছিলনা]

 ৫. আঁমাকে পুরো সৃষ্টির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। [আগের সকল নবীকে নির্দিষ্ট গোত্রের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল এবং তাদের রিসালাত ছিল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য]

 ৬.আঁমার দ্বারা নবুয়্যতের ধারাবাহিকতাকে সমাপ্ত করা হয়েছে।

[মুসলিম,মিশকাত হা/৫৭৪৮ ‘নবীগণের সরদারের ফযীলত’ অধ্যায়।]

❏ আবার তাফসীরে ইবনে কাসীরেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ইমাম মুসলিম(رحمة الله)বলেন,ইহইয়া ইবনে আইয়ু্,কুতায়বাহ ও আলী ইবনে হুজর…….হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,রসুলুল্লাহ (ﷺ)এরশাদ করেছেন,

“সকল নবীদের উপর আঁমাকে ছয়টি কারণে বিশেষত্ব প্রদান করা হয়েছে।আঁমাকে পরিপূর্ণ কথা প্রদান করা হয়েছে।বিরুদ্ধবাদীদের অন্তরে আমার ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে আঁমাকে সাহায্য করা হয়েছে।আঁমার জন্য গণীমত হালাল করা হয়েছে।আঁমার জন্য জমিনকে পবিত্র এবং নামাজের স্থান স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।আঁমি সমগ্র জাহানে আল্লাহ ব্যতীত সবার রাসূল হয়েছি আর আঁমার মাধ্যমেই নবী আসা বন্ধ হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ

১. তাফসীরে ইবনে কাসীর,৯ম খন্ড,১১৪-১১৫ পৃঃ,ইঃফাঃ থেকে প্রকাশিত।

২. খতমে নবুওত কৃতঃ আলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান ফাজেলে ব্রেরলবী(رحمة الله), ৭৪ পৃঃ (বাংলা),জাগরণ প্রকাশনী চট্রগ্রাম।

❏ ইমাম তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ ইসমাইল ইবনে জাফর(رحمة الله) সূত্রে ইহা বর্ণনা করেছেন।ইমাম তিরমিযী বলেন,হাদিসটি হাসান, সহীহ।

[ইবনে কাসীর,৯ম খন্ড,১১৫পৃঃ, ইঃফাঃ]

❏ আবার অন্য বর্ননায় রয়েছে।হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত।তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন “আঁমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দেয়া হয়েছে, যা আঁমার পূর্বে আর কাউকে দেয়া হয়নি।

১.আঁমাকে এক মাসের দূরত্বের রাস্তায় ভীতি দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে।

২. আঁমার জন্য পৃথিবীকে মসজিদ ও পবিত্র করা হয়েছে, তাই আঁমার উম্মাতের কোন লোকের যেখানেই সালাতের সময় হবে সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে।

৩. আঁমার জন্য গণীমতের মাল হালাল করা হয়েছে যা ইতিপূর্বে কারো জন্যই হালাল ছিল না।

৪. আঁমাকে শাফায়াতের অধিকার দেয়া হয়েছে।

৫. প্রত্যেক নবী প্রেরিত হতেন কেবলমাত্র তার সম্প্রদায়ের জন্য, কিন্তু আমি প্রেরিত হয়েছি সমগ্র মানব জাতির জন্য।”

[বুখারী শরীফ,হাঃ ৩৩৫।আবার প্রমান সরূপ :সহিহ বুখারী/৪২৫ ইফা/আহমাদ ১৪২৬৮ ও দেখতে পারেন]

☛১১. হযরত ইবনে আলী ওমর আল-আদানী স্বীয় মুসনাদে হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁকে তাঁর সন্তানদের পরস্পরের মধ্যে মর্যাদার তারতম্যটুকুও দেখাতে লাগলেন। তিনি ( আদম আলাইহিস সালাম ) তাদের মধ্যে শেষপ্রান্তে একটা উজ্জ্বল নূর দেখাতে পেলেন। তখন তিনি বললেন,‘‘ হে রব! ইনি কে? ( যাকে সবার মধ্যে প্রজ্জ্বলিত নূর হিসাবে দেখতে পাচ্ছি?) উত্তরে মহান রববুল আলামীন ইরশাদ করলেন,‘‘ ইনি হলেন তোমার পুত্র-সন্তান হযরত আহমদ মুজ্তবা (ﷺ)

তিঁনি প্রথম,তিঁনি শেষ,তিঁনি হবেন আঁমার দরবারে প্রথম সুপারিশকারী (ক্বিয়ামতের দিনে)।

তথ্যসূত্রঃ

১.আল -খাসাইসুল কুবরা ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯

২. কানজুল উম্মাল ৩২০৫৬ নং হাদীস খ ১১, পৃ ১৯৭

৩.বাইহাকী ৫ম খন্ড পৃ ৪৮৩

☛১২. হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত।রাসূল (ﷺ) আলী (رضي الله عنه)কে লক্ষ্য করে বললে:

((أَنْتَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلَّا أَنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِي))

”মূসার(আলাইহিস সালাম) পক্ষ থেকে হারুণ(আলাইহিস সালাম)যে (দায়িত্ব,মর্যাদা) স্থানে ছিলেন আঁমার পক্ষ থেকে তুমি হলে সে স্থানে।তবে (পার্থক্য এই যে)আঁমার পরে কোন নবী নেই।“

তথ্যসূত্রঃ

১. সহীহ বুখারীঃ ২/৬৩৩

২. সহীহ মুসলিমঃ২/২৭৮

৩. সুনানে তিরমিযীঃ২/২১৩

☛১৩. যুবায়ের বিন মুতয়িম (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত,আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন,”আঁমার অনেক নাম রয়েছে।আঁমি মুহাম্মদ,আঁমি আহমদ,আঁমি মাহী,অর্থাৎ আঁমার কারণে কুফুরী মিঠিয়ে দেন,আঁমি হাশের,আঁমার কদমের উপর লোকদের হাশর হবে এবং আঁমি হলাম আকেব।আর আকেব হলো-যার পরে কোনো নবী নাই।

তথ্যসূত্রঃ

১. সহীহ বুখারীঃ১/৫০০

২. সহীহ মুসলিমঃ২/২৬১

৩. সুনানে তিরমিযীঃ২/১১১

❏ এছাড়াও এই হদিসখানা ইমাম আহমদ,ইমাম মালেক,আবু দাউদ,তায়লাসী,বায়হাকী,আবু নঈম বর্ণনা করেছেন।

☛১৪. হযরত ছাওবান (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত।রাসূল (ﷺ) বলেছেন,”আঁমার উম্মতের মধ্য থেকে ত্রিশজন এমন মিথ্যাবাদী আত্মপ্রকাশ করবে।তাদের প্রত্যেকে নবী বলে দাবী করবে।অথচ আঁমি খাতামুন্নাবিয়্যীন(শেষ নবী),আঁমার পরে কোন নবী নেই।“

তথ্যসূত্রঃ

১. সুনানে তিরমিযীঃ২/৪৫

২. মুসনাদে আহমদঃ৬/৩৭৩

৩. মিশকাত শরীফঃ৪৬৪-৪৬৫ পৃঃ

৪.আবু দাউদ শরীফ,কিতাবুল ফিতান

৫. খতমে নবুয়্যত কৃতঃ আলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান ফাজেলে ব্রেরলবী(رحمة الله), ৮৪ পৃ: (বাংলা),জাগরণ প্রকাশনী চট্রগ্রাম।

❏ ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।

☛১৫. ইমাম আহমদ,বোখারী, মুসলিম এবং তিরমিযী হযরত জাবের বিন আবদুল্লাহ (رضي الله عنه) থেকে আর আহমদ এবং শায়খায়ন হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) হতে,আহমদ ও মুসলিম হযরত আবু সাঈদ খুদরী (رضي الله عنه) থেকে,আহমদ ও তিরমিযী ওবাই বিন কা’ব (رضي الله عنه)র সূত্রে বর্ণনা করেন।হুযুর (ﷺ) ইরশাদ করেন, ”আঁমি এবং সমগ্র নবীদের দৃষ্টান্ত এমন যে যেমন একটি সুন্দর অট্টালিকা তৈরী করা হলো।আর তাতে একটি ইটের জায়গা খালি থাকে।প্রত্যক্ষদর্শীরা এর চারপাশে ঘুরাফেরা করছে এবং এর নির্মাণ শৈলী ও সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে থাকে।কিন্তু ঐ একটি ইটের জায়গা খালি থাকায় দেখতে দৃষ্টিকটু দেখায়।আঁমার দ্বারা এ অট্টালিকা পূর্ণ করা হয়েছে।আঁমার দ্বারা রাসূলগণের সমাপ্তি হয়েছে।আঁমি সকল নবীদের খাতেম অর্থাৎ সর্বশেষ নবী।“

১. সহীহ বোখারীঃ১/৫০১

২. সহীহ মুসলিমঃ২/২৪৮

৩. আহমাদ ৭৪৯০

৪.খতমে নবুওত কৃতঃআলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান ফাজেলে ব্রেরলবী(رحمة الله), ৭৬পৃঃ (বাংলা),জাগরণ প্রকাশনী চট্রগ্রাম।

☛১৬. ইমাম আহমদ (رحمة الله) বলেন, আফফান (رحمة الله) হযরত আনাস ইবনে মালিক (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ ”রিসালত ও নবুয়ত শেষ হয়েছে,অতএব আঁমার পরে কোন রাসূলেরও আগমন ঘটবে না আর কোন নবী আসবেন না।রাবী বলেন,এই কথা শুনে সাহাবীগণ ব্যথিত হলেন,তখন তিঁনি (ﷺ) বললেন মুবাশশিরাত পরেও অবশিষ্ট থাকবে।সাহাবকেরাম (رضي الله عنه) জিজ্ঞেস করলেন,’মুবাশশিরাত’ কি? তিঁনি (ﷺ) বললেন,মুসলমানদের সত্য স্বপ্ন,ইহা নবুয়তের একটি অংশ”।

[তাফসীরে ইবনে কাসীর,৯ম খন্ড,১১২-১১৩ পৃঃ,ইঃফাঃ থেকে প্রকাশিত]

☛১৭. ইমাম আহমদ(رحمة الله) বলেন, ইউনূস ইবনে মুহাম্মদ(رحمة الله)…….আবু তুফাইল (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, ”আঁমার পরে মুবাশশিরাত ব্যতীত কোন নবুয়তের কিছু অবশিষ্ট থাকবে না।জিজ্ঞেস করা হল,মুবাশশিরাত কি ইয়া রাসুলুল্লাহ!তিঁনি (ﷺ) বললেন,উত্তম স্বপ্ন বা তিনি (ﷺ) বললেন,নেক স্বপ্ন।

[তাফসীরে ইবনে কাসীর,৯ম খন্ড,১১৪ পৃঃ, ইঃফাঃ থেকে প্রকাশিত।]

☛১৮. ইমাম আহমদ ‘মুসনাদ’,ইমাম মুসলিম ‘সহীহ’ এবং তাবরানী ‘মুজামে কবীরে, হযরত আবু মূসা আশয়ারী (رضي الله عنه)র সূত্রে বর্ণনা করেন,রসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেন,

“আমি মুহাম্মদ,আহমদ এবং সব নবীদের পর আগমনকারী, মাখলুকসমূহকে হাশর প্রদানকারী এবং রহমতের নবী।“

[খতমে নবুওত কৃতঃআলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান ফাজেলে ব্রেরলবী(رحمة الله), ৫৩ পৃঃ (বাংলা),জাগরণ প্রকাশনী চট্রগ্রাম।]

☛১৯.আহমদ, তিরমিযী, হাকেম বিশুদ্ধ সনদে, রুয়ানী, তাবরানী এবং আবু ইয়ালা হযরত ওকবা বিন আমের এবং তাবরাণী, ইবনে আসাকির আর খতীব ‘কিতাব রুয়াতে মালেকে’ হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর থেকে,তাবারাণী হযরত আসমা বিন মালেক এবং হযরত আবু সাঈদ খুদরী (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেন,

রসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন,”আঁমার পরে যদি কেউ নবী হতো তাহলে ওমর ফারুকই নবী হতো।

তথ্যসূত্রঃ

১. সুনান তিরমিযী হাদিস নং-৩৬১৯

২. খতমে নবুওত কৃতঃআলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান ফাজেলে ব্রেরলবী(رحمة الله),৮১ পৃঃ (বাংলা),জাগরণ প্রকাশনী চট্রগ্রাম।

☛২০. হযরত আবু হুরাইরা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ

كَانَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ تَسُوسُهُمْ الْأَنْبِيَاءُ كُلَّمَا هَلَكَ نَبِيٌّ خَلَفَهُ نَبِيٌّ وَإِنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِي وَسَيَكُونُ خُلَفَاءُ.

“বনী ইসরাইলকে পরিচালনা করতেন তাদের নবীগণ।এক নবী ইন্তেকাল করলে আরেক নবী তাঁর স্থানে এসে দায়িত্ব পালন করতেন। তবে আঁমার পরে কোন নবী আসবে না; আসবে খলীফাগণ।”

[সহীহ বুখারী,কিতাবুল মানাক্বি]

☛২১. আল্লামা ইবনে কাসীর (رحمة الله) তার “তাফসীরে ইবনে কাসীর” এর মধ্যে

مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا.

এই আয়াতের ব্যখ্যার শেষে বলেন, হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) কে আল্লাহর বান্দাগণের প্রতি প্রেরণ করা এবং সাথে সাথে তাকে সর্বশেষ নবী হিসেবে প্রেরণ করে ইহা তাহাদের (বান্দাদের) জন্য আল্লাহর বিরাট অনুগ্রহ।আল্লাহ তা’আলা তাঁর নাযিলকৃত আল কিতাবের মাধ্যমে এবং রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এঁর মুতাওয়াতির হাদিসের মাধ্যমে এই সংবাদ দিয়েছেন যে,হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এঁর পরে আর কোন নবী নাই।এটা দ্বারা তাদের বুঝা উচিৎ যে,তাঁর পরে যে কেউ নবুয়তের দাবী করবে সে একজন মিথ্যাবাদী,প্রতারক ও ধোকাবাজ।সে যদি নানা প্রকার তিলসমতির প্রকাশ ঘটায় তবুও গোমরাহী ব্যতীত অন্য কোন নামে তা অভিহিত হবে না।যেমন পূর্বে ইয়েমেন এর আসওয়াদ আনাসী ও ইয়ামাহ এবং মূসায়লামাহ এর হাতে এইরুপ তিলসমতির প্রকাশ ঘটেছিল।কিন্তু তা যে সম্পূর্ণ গোমরাহী ছিল, জ্ঞানীজনের বুঝতে বাকী ছিল না।আর যারা নবুয়তের দাবীদার ছিল তারাও জ্ঞানীজনের নিকট মিথ্যাবাদী ও গোমরাহী ছিল এতে কোন সন্দেহ নেই।কিয়ামত পর্যন্ত যারাই এরুপ দাবী করবে তারাও মিথ্যাবাদী ও গোমরাহ।এমনকি খাতেমুল কাযযাবীন ও সর্বশেষ মিথ্যাবাদী ও মহা প্রতারক মসীহ দজ্জাল এর প্রকাশ ঘটবে।তবে এই সকল প্রতারক ও মিথ্যাবাদীদের কিছু আলামত এমন হবে, যার মাধ্যমে কোন আলেম ও মু’মিনের বুঝতে বাকী থাকবে না যে,তারা মিথ্যাবাদী।তারা না সৎকাজের নির্দেশ করবে আর না অসৎ কাজ থেকে বাঁধা দিবে।যদি কখনও এমন হয় তবে তা হবে আকস্মিক,না হয় কোন বিশেষ উদ্দ্যশ্যকে সামনে রেখে।বস্তুত তারা তাদের কথাবার্তা ও কর্মকান্ডে চরম প্রতারণা ও মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করবে।যেমনঃ ইরশাদ হয়েছেঃ

“শয়তান যে কার নিকটবর্তী হয়,আমি কি তা তোমাদের জানাব?সে প্রত্যেক মিথ্যাবাদী ও পাপীর নিকট অবতীর্ণ হয়।“ কিন্তু আম্বিয়াকেরামের অবস্থা এটার সম্পূর্ণ বিপরীত।তাঁরা স্বীয় কার্যকলাপে নেকী,সততা,হিদায়েত, ইস্তিকামাত ও আদল-ইনসাফের সর্বশেষ স্থরে আসীন হয়ে থাকেন।সৎকাজে আদেশ করতেন ও অসৎ কাজ থেকে তাঁরা বিরত রাখতেন এবং সাথে সাথে তাদের পক্ষ থেকে নানা প্রকার মুজিযা ও অলৌকিক ঘটনাও সংঘটিত হত।এবং তাঁরা সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণও পেশ করতেন।চিরকাল তাদের প্রতি বর্ষিত হোক আল্লাহর রহমত সাথী হয়ে থাকুক অশেষ শান্তি।

[তাফসীরে ইবনে কাসীর,৯ম খন্ড, ১১৬-১১৭ পৃঃ,ইঃফাঃ থেকে প্রকাশিত]

☛২২. কুরআন ও সুন্নাহের পর সাহাবায়ে কেরামের ইজমা বা মতৈক্য হলো তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।সমাজ নির্ভরযোগ্য বর্ণনা হতে জানা যায়। রাসূল (ﷺ) এঁর ইন্তিকালের অব্যাহিতর পরই যে সমস্ত লোক নবুওয়াতের দাবী করেছিল এবং যারা তাদের নবুওয়্যাত স্বীকার করে নেয়, তাদের সবার বিরুদ্ধে সাহাবায়ে কেরাম (رضي الله عنه) সম্মিলিতভাবে যুদ্ধ করেছিলেন। এ সম্পর্কে মুসাইলামা কায়সারের ব্যাপারটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য,যে রাসূল (ﷺ) এঁর ইন্তেকালের পূর্বেই রাসূলের নবুওয়্যাতকে স্বীকার করা সত্বেও শুধুমাত্র তাঁর নবুওয়্যাতে অংশীদার হওয়ার দাবী করে চিঠি লেখেঃ

“আল্লাহর রাসূল মুয়ালামার তরফ হতে আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদের নিকট।আঁপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আঁপনি জেনে রাখুন,আমাকে আঁপনার সাথে নবুওয়্যাতের কাজে শরীক করা হয়েছে।

[তাবারী,২য় খন্ড,২৯৯ পৃ:]

❏ লক্ষ্য করুন: হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) কে স্পষ্টভাবে নবী বলে স্বীকার করে নেয়ার পরও তাকে ইসলাম বহির্ভূত বলে ঘোষণা করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়েছে। সাহাবা (رضي الله عنه) গণ তাকে মুসলমান বলে স্বীকার করেননি এবং সাহাবা (رضي الله عنه) গণ তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। এ যুদ্ধের নেতৃত্বে ছিলেন হযরত আবু বকর (رضي الله عنه)।এ দ্বারাও প্রমাণিত হয় যে,হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) শেষ নবী যে ব্যাপারে সাহাবাগণের ইজমা হয়ে গিয়েছে।

☛২৩. ইমাম ইবনে হাজর মক্কী শাফেয়ী ‘খয়রাতুল হিসান ফী মানাকিবে আল-ইমামিল আজম আবী হানিফা আননুমান’ গ্রন্থে বলেন-“ইমাম আযম (رضي الله عنه)র যুগে একজন নবুয়্যত দাবীদার বললো,আমাকে সুযোগ দিন যেন আমি কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। ইমাম হুম্মাম বলেন, যে ব্যক্তি তার থেকে নিদর্শন চাইবে,সেও কাফের হয়ে যাবে।কেননা,সে ঐ নিদর্শন চাওয়ার কারণে সৈয়দে আলম (ﷺ) (অকাট্য বাণী দ্বীনেন অপরিহার্য বিষয়েই) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।হুজর (ﷺ) বলেছেন,আঁমার পরে কোনো নবী নাই।”

[খতমে নবুওত কৃতঃআলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান ফাজেলে ব্রেরলবী(رحمة الله), ১৪০ পৃঃ (বাংলা),জাগরণ প্রকাশনী চট্রগ্রাম।]

পূর্বেউল্লেখিত তাফসীরগ্রন্থ,হাদিস সমূহ ও ইমাম গণের ফতোয়া দ্বারা প্রমানিত হয় যে,

১. রাসূলে পাক (ﷺ) শেষ নবী।

২. ইমামুল আম্বিয়া,রাসূলে পাক (ﷺ) এঁর পর আর কোন নবী আসবেন না।

৩. রাসূলে পাক (ﷺ) আকেব যাঁর পরে কোন নবী নেই।

৪. রাসূল (ﷺ) এঁর পরে যারা নবুয়ত দাবী করবে তারা মিথ্যাবাদী,গোমরাহ ও নি:সন্দেহে কাফের।

❏ নবুওয়াতের মোহর ❏ 

জু‘আইদ (رحمة الله) বলেন,আমি সাইব ইবনু ইয়াযীদকে বলতে শুনেছি যে, আমার খালা আমাকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এঁর নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাগিনা রোগাক্রান্ত। তখন নাবী (ﷺ) আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার জন্য বরকতের দু‘আ করলেন। তিঁনি ওযু করলেন, তাঁর ওযুর বাকী পানি আমি পান করলাম। অতঃপর আমি তাঁর পিছন দিকে গিয়ে দাঁড়ালাম তাঁর স্কন্ধের মাঝে ‘‘মোহরে নাবুওয়্যাত’’ দেখলাম যা কবুতরের ডিমের মত অথবা বাসর ঘরের পর্দার বুতামের মত।

[সহীহ বুখারীঃ ৩৫৪১]

পবিত্র কোরআন শরীফ থেকে

☛মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন:

مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا

অর্থাৎ “মুহাম্মদ (ﷺ) তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারো পিতা নন,হ্যাঁ আল্লাহর রাসুল এবং সমস্ত নবীদের মধ্যে সর্বশেষ।আর আল্লাহ সবকিছু জানেন।

[সূরা আহযাব,আয়াত নং-৪০]

শানে নযূল

❏ মুহাম্মদ (ﷺ) তোমাদের কোন পুরুষের পিতা নন।এই আয়াত অবতীর্ণ হবার পর “যায়েদ ইবনে মুহাম্মদ ” বলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।যদিও রসুলুল্লাহ (ﷺ) তাহাকে পোষ্যপুত্র করেছিলেন।বস্তুত রসুলুল্লাহ (ﷺ) এঁর কোন ঔরসজাত পুত্র যৌবনে পদার্পণ করে নি।হযরত খাদিজা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এঁর গর্ভে তাঁহার তিন পুত্র কাসেম,তায়্যিব ও তাহের (رضي الله عنه) জন্ম গ্রহণ করেন;কিন্তু সকলেই শৈশবকালে ওফাত লাভ করেন।হযরত মাবিয়া কিবতিয়্যাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) এঁর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন ইব্রাহীম (رضي الله عنه)। তাঁহার ওফাতও শৈশবকালেই ঘটে।হযরত খাদীজা(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) এঁর গর্ভে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এঁর চার কন্যা জন্মগ্রহণ করেন।হযরত যয়নব,উম্মে কূলসুম,হযরত ফাতেমা (رضي الله عنه)।রাসুলুল্লাহ (ﷺ) জীবদ্দশায়ই তাঁর তিন কন্যা ওফাত শরীফ বরণ করেন এবং হযরত ফাতেমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) রাসূল (ﷺ) ইন্তেকাল তথা দুনিয়ার হায়াতে জিন্দেগী থেকে পর্দা নেওয়ার ছয়মাস পর ওফাত শরীফ লাভ করেন।

[তাফসীরে ইবনে কাসীর,৯ম খন্ড, ১১১-১১২ পৃঃ, কৃতঃ হাফিজ আবুদ ফিদা ওয়ার ইমামুদ্দীন ইবনে কাসীর, ই:ফা:কর্তৃক প্রকাশিত।]

❏ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষন ❏ 

🌴খাতামান নাবিয়্যিন অর্থ বা মুরাদ হচ্ছে হাবীবে খোদা (ﷺ)হলেন, সর্বশেষ নবী কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবী আসবেন না,আসতে পারে না।

১. রঈসুল মুফাসসিরীন সাহাবী ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه)

مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا.

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “মুহাম্মদ (ﷺ)তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নন।অর্থাৎ,যায়েদের (رضي الله عنه) পিতা নন,তিনি বরং আল্লাহর রসূল এবং শেষ নবী, তাঁরই মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর পূর্ব থেকে আগমনকারী নবীদের আগমন সমাপ্ত করেছেন।সুতারাং তাঁর পর অন্য কোন নবী আগমন করবেন না।আল্লাহ তা’আলা সকল বিষয়ে, তোমাদের কথা ও কর্ম সব বিষয়ে অবগত।“

[তাফসীরে ইবনে আব্বাস,কৃতঃ ফিরোযাবাদী,৩য় খন্ডঃ ৬৮ পৃঃ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত।]

২. উক্ত আয়াতে কারীমার ব্যাখ্যায় ইমামুল মুফাসসিরীন আল্লামা আবু জাফর তাবারী (رحمة الله) তাঁর “তাফসীর ইবনে জারীর তাবারী” গ্রন্থে উল্লেখ করেন- “হযরত কাতাদা (رضي الله عنه) আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন,বরং তিঁনি আল্লাহর রাসূল এবং তিঁনি খাতামুন নাবিয়্যিন (অর্থাৎ সর্বশেষ নবী)।

ইমাম আবু জাফর তাবারী (رحمة الله) আরও বলেন, “তিঁনি আল্লাহর রসূল এবং খাতামুন নাবিয়্যিন বা সর্বশেষ নবী যিঁনি নবুয়তের ক্রমধারার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং এঁর উপর মোহর লাগিয়ে দিয়েছেন।সুতারাং রাসুল (ﷺ) এঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত এ ধারা আর কারো জন্য খোলা হবে না।“

[তাফসীরে ইবনে জারীর তাবারী, কৃত,ইমাম আবু জাফর তাবারী (ওফাত ৩০৩ হিজরী): ৬ষ্ঠ খন্ডঃ ১৮৩ পৃঃ,আর রিসালাহ কর্তৃক লেবানন থেকে প্রকাশিত।]

৩. বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর কারক আল্লামা ইমাম ইবনে কাসীর (رحمة الله) বলেন, “অত্র আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রতিয়মান হয় যে, তাঁর মুহাম্মাদ (ﷺ) পরে কোন নবী নাই। নবী যখন আসবেন না রাসুল আসার তো কোন প্রশ্নই উঠেনা।এ ব্যাপারে রাসূল (ﷺ) থেকে অসংখ্য মুতাওয়াতির হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

[তাফসীরে ইবনে কাসীর,৩য় খন্ড, ৪৯৩ পৃষ্টা, মিসরিয় ছাপা]

❏ আবার, তাফসীরে ইবনে কাসীর এর ৯ম খন্ড, ১১২ পৃঃ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে যা প্রকাশিত হয়েছে তাতেও বলা হয়েছে:

হাফিজ আবুদ ফিদা ইমামুদ্দীন ইবনে কাসীর (رحمة الله) তার তাফসীরে বলেছেন “আলোচ্য আয়াত দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় যে,হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এঁর পরে আর কোন নবীর আবির্ভাব ঘটবে না।আর যখন কোন নবীর আগমন ঘটবে না,সে ক্ষেত্রে কোন রাসূলেরও আগমন ঘটবে না, তা বলাই বাহুল্য।কারণ রিসালতের মাকাম নবুয়তের মাকাম অপেক্ষা খাস।কারণ সকল রাসূল নবী হয়ে থাকেন,কিন্তু সকল নবী রাসূল হয় না।”

৪. আল্লামা ইমাম জালাল উদ্দীন সৈয়ুতী(رحمة الله) যিনি হিজরী ৯ম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ছিলেন,তাঁর তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে দুররে মনসুর” নামক কিতাবে উল্লেখ করেন,আবদ ইবনে হুমাইদ (رضي الله عنه) এর সূত্রে বর্ণনা করেন- “হযরত হাসান (رضي الله عنه) হতে খাতামুন নাবিয়্যিন এঁর ব্যাখ্যায় বর্ণিত আছে, তিঁনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা নবীদের সিলসিলা মুহাম্মদ (ﷺ) এঁর মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন,তিঁনি সমস্ত নবী ও রাসূলগণের শেষে অর্থাৎ তিঁনি সর্বশেষ নবী এবং সর্বশেষ রাসূল।

[তাফসীরে দুররে মনসুর,কৃতঃ ইমাম জালাল উদ্দীন সৈয়ুতী (رحمة الله),৬ষ্ঠ খন্ড, ৬১৭ পৃঃ]

৫. সুবিখ্যাত “তাফসীরে খাজিন” এ বলা হয়েছে “খাতিমুন নাবিয়্যিন” এর অর্থ হল,আল্লাহ তা’আলা রাসূল পাক (ﷺ) এঁর মাধ্যমে নবুয়তের ধারা শেষ করে দিয়েছেন।“

[তাফসীরে খাজিন,কৃতঃ ইমাম খাজিন(ওফাত ৭৪১ হিজরী),৫ম খন্ডঃ ২১৮ পৃ:]

৬. আল্লামা কাযী সানাউল্লাহ পানিপথী (رحمة الله) তাঁর বিখ্যাত তাফসীর “তাফসীরে মাযহারী” তে উল্লেখ করেছেন,

مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا.

এখানে “খাতাম” অর্থ সমাপ্ত।আর “খাতিম” অর্থ সমাপ্তকারী।‘খাতামান নাবিয়্যিন’ অর্থ সর্বশেষ নবী।হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) বলেছেন, আলোচ্য বাক্যের মমার্থ হচ্ছে নবুয়তের প্রবাহমানতা যদি আঁমি (আল্লাহ) মুহাম্মদ (ﷺ) পর্যন্ত সম্প্ত না করতাম,তবে তাকে (রসুলে পাক) করতাম কোন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের পিতা,যে নবী হতো তাঁর ওফাতের পর।আতার বর্ণনায় এসেছে,হযরত ইবনে আব্বাস(رضي الله عنه) বলেছেন,আল্লাহ পাক যেহেতু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, মুহাম্মদ (ﷺ) ই শেষ নবী,সেহেতু তিঁনি তাঁর (রসুলে পাকের) কোন পুত্রকে প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় পৌঁছাননি।ইবনে মাজাহ এর বর্ণনায় এসেছে,হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) বলেছেন,রসুলে পাক (ﷺ) তাঁর পুত্র হযরত ইব্রাহীম (رضي الله عنه) সম্পর্কে বলেছেন,সে বেঁচে থাকলে নবী হতো।

[তাফসীরে মাযহারী,৯ম খন্ড,৫১০ পৃ: হাকিমাবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়া, ভূঁইগড়,নারায়ণগঞ্জ,বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত।]

❏ আল্লামা কাযী সানাউল্লাহ পানিপথী (رحمة الله) তাঁর তাফসীরে মাযহারীতে একটি প্রশ্ন করেছেন এবং উত্তরও দিয়েছেন।তিনি লিখেন,একটি প্রশ্ন: রসুলে পাক (ﷺ) সর্বশেষ নবী।কিন্তু একথাও তো ঠিক যে,হযরত ঈসা (আ:) পুনরাবির্ভূত হবেন।তাহলে রসুলে পাক (ﷺ) আর সর্বশেষ নবী থাকলেন কী করে?

❏ জবাবঃ হযরত ঈসা (আঃ) এঁর পুনরাবির্ভাব ঘটবে ঠিকই।কিন্তু তা নবী হিসেবে নয়,বরং শেষ রাসুল মোহাম্মদ মোস্তাফা আহমদ মোজতবা (ﷺ) এঁর উম্মত হিসেবে এবং তিঁনি জীবন-যাপন করবেন রাসূল (ﷺ) এঁর শরীয়ত অনুসারে।সুতারাং রাসূল (ﷺ) এঁর সর্বশেষ নবী হওয়ার ক্ষেত্রে তিঁনি অন্তরায় নন।

এরপর বলা হয়েছে, وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। একথার অর্থ সকল কিছুই আল্লাহর জ্ঞান আয়ত্ত বলেই তিঁনি ভালোভাবে জানেন কাকে করতে হবে শেষ নবী।কার মাধ্যমে সমাপ্ত করতে হবে নবুয়তের ধারা।

[তাফসীরে মাযহারী,৯ম খন্ড,৫১১পৃঃ, হাকিমাবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়া,ভূঁইগড়,নারায়ণগঞ্জ, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত।]

৭. আল্লামা মূল্লা জিউন (رحمة الله) কর্তৃক প্রণীত তাঁর তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন,“খাতামুন নাবিয়্যিন” এর অর্থ রসূলে পাক (ﷺ) এঁর পরে কোন নবীর আবির্ভাব হবে না।যদিও ঈসা (আলাইহিস সালাম) হুজুর (ﷺ) এঁর পরে এ ধরাতে অবতরণ করবেন,নবী হিসেবে নন বরং তাঁর খলিফা হিসেবে অবতরণ করবেন এবং মুহাম্মদী শরীয়ত মোতাবেক আমল করবেন।ইতিপূর্বে যদিও তিঁনি নবী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

[তাফসীরাতে আহমদীয়া কৃতঃ মোল্লা জিউন (رحمة الله): ৬২৩ পৃ:]

৮. সদররুল আফাযিল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ নঈম উদ্দীন মুরাদাবাদী (رحمة الله) তাঁর স্বীয় তাফসীর “তাফসীরে খাযাইনুল ইরফান” কিতাবে উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন,

مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ

“সুতারাং হযরত যায়েদেরও তিনি বাস্তবে পিতা নন।তাহলে তাঁর বিবাহকৃত স্ত্রী তাঁর (ﷺ) জন্য হালাল হতো না কাসেম,তৈয়ব,তাহের, ইব্রাহীম হুজুর পাক (ﷺ) এঁর সন্তান ছিলেন; কিন্তু তাঁরা ঐ বয়স পর্যন্ত পৌঁছেন নি যে,তাঁদেরকে ‘পুরুষ’ বলা যেতো! তাঁরা শিশু অবস্থায়ই ওফাত পান।

وَلَكِن رَّسُولَ اللَّهِ

এবং সমস্ত রসুল হিতাকাঙ্খী ও স্নেহশীল।তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং আনুগত্য করা অপরিহার্য হবার কারণে আঁপন উম্মতের পিতা হিসেবে আখ্যায়িত হন; বরং তাঁদের প্রতি কর্তব্য প্রকৃত পিতার প্রতি কর্তব্য অপেক্ষা বহুগুণ বেশী।কিন্তু এতদসত্ত্বেও উম্মত প্রকৃত সন্তান হয়ে যায় না এবং প্রকৃত সন্তানদের বিধান-উত্তারাধিকার ইত্যাদি তার জন্য প্রযোজ্য হয় না।

وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ অর্থাৎ সর্বশেষ নবী।অর্থাৎ নবুয়তের ধারা তাঁর উপরই সমাপ্ত হয়েছে।তাঁর নবুয়তের পর কেউ নবুয়ত পেতে পারে না।এমনকি, যখন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম অবতরণ করবেন,তখন যদিও তিঁনি নবুয়ত পূর্বে পেয়েছিলেন,কিন্তু অবতরণের পর তিঁনি শরীয়তে মুহাম্মদী (ﷺ) অনুসারে কাজ করবেন এবং এ শরীয়ত অনুযায়ী নির্দেশ দেবেন ও তাঁরই ক্বিবলা অর্থাৎ কা’বা মু’আযযমার দিকে মুখ করে নামাজ পড়বেন।হুজুর (ﷺ) সর্বশেষ নবী হওয়া নিশ্চিত ও অকাট্য।

❏ কোরআনের আয়াতও এ প্রসঙ্গে এরশাদ হয়েছে আর ‘সিহাহ সিত্তাহ’ এর বহু সংখ্যক হাদিস,যেগুলো ‘মুতাওয়াতির’-এর পর্যায়ে পৌঁছে, যা দ্বারা প্রমাণিত যে,হুজুর (ﷺ) শেষ নবী।তাঁর পরে কেউ নবী হবে না।যে কেউ হুজুর (ﷺ) এঁর নবুয়তের পর অন্য কারো পক্ষে নবুয়্যত পাওয়া সম্ভব বলে জানে, সে ‘খতমে নবুওত ‘ কে অস্বীকার করে এবং কাফির ও ইসলাম বহির্ভূত।

[খাযাইনুল ইরফানঃ ৭৬৪ পৃঃ (এক খন্ডে) বাংলায় প্রকাশিত “গুলশান-ই-হাবীব ইসলামী কমপ্লেক্স,চট্রগ্রাম থেকে।]

৯. বিশ্ববিখ্যাত মুফাস্সির এ কোরআন হাকীমুল উম্মত আল্লামা মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী (رحمة الله) তার স্বীয় তাফসীর “তাফসীরে নুরুল ইরফান” কিতাবে উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,“এ আয়াতে কাফিরদের ওই আপত্তির জবাব বা খন্ডন করা হয়েছে, যাতে তারা বলেছিলো,”হুজুর (ﷺ) আপন পুত্র যায়দের স্ত্রীকে বিবাহ করে বসেছেন।“কেননা,আরববাসীগণ পালিতপুত্রকেও নিজ পুত্র বলে বসতো।আর তার স্ত্রীকে বিয়ে করাও হারাম বলে বিশ্বাস করতো।

مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَكِن رَّسُولَ اللَّهِ

এ থেকে বুঝা গেলো যে,না বালেগ শিশুকে রিজাল বলা যেতে পারে না।কেননা, হুজুরের (ﷺ) কয়েকজন সাহেবজাদাও ছিলেন,যাঁরা শৈশবেই ওফাত পেয়ছেন।হুজুর (ﷺ) তাঁদের পিতা,কিন্তু তাঁরা রিজাল নন।একথাও বুঝা গেলো যে,রাসুল (ﷺ) হলেন সমস্ত উম্মতের ‘পিতা’ ভাই নন। এ কারণে,’রেসালত’-এর কথা ‘পিতা’ শব্দের সাথে উল্লেখ করেছেন।অর্থাৎ তিনি সমস্ত উম্মতের রুহানী পিতা।কেননা لَكِن শব্দটি পূর্বেকার(নেতিবাচক)-কে ভঙ্গ করা এবং পরবর্তী বিষয়কে বহাল ও প্রতিষ্ঠা করার জন্য ব্যবহৃত হয়।সুতারাং অর্থ এই দাঁড়ালো –‘তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নন,কিন্তু হ্যাঁ,আল্লাহর রসূল অর্থাৎ তোমাদের আত্মিক পিতা।আর ‘পিতা’ও এমনই যে,এখন কেউই তিঁনি ব্যতীত এমন পিতা হতে পারবে না।কেননা,তিনি সর্বশেষ রসূল।

وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمً

সুতারাং তাঁর সমস্ত বিধান জ্ঞান ও প্রজ্ঞাপূর্ণই।পালিত পুত্রের স্ত্রী হারাম হওয়া তোমাদের অভিমত।আর সে হালাল হওয়া মহান রবের হুকুম বা বিধান।সুতারাং নিশ্চয় মহান রবের হুকুমই সঠিক।

অনুরুপভাবে,আল্লাহ তা’আলা হুজুর (ﷺ) কে সর্বশেষ নবী বানানোর ভিত্তি তাঁর (আল্লাহ) জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উপরই প্রতিষ্ঠিত।

এ আয়াত থেকে বুঝা গেলো যে,হযুর (ﷺ) এঁর পর কোন নবী হতে পারে না।সুতারাং এখন যে কেউ কোন নবীর আগমন কিংবা তা সম্ভব বলে বিশ্বাস করে,সে মুরতাদ্দ।যেমনঃ لا إلها إلا اللهথেকে বুঝা গেলো যে,আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য থাকতে পারে না,তেমনিভাবে, لا ناباي بعدي আঁমার পরে কোন নবী নেই থেকে বুঝা গেল যে,হুজুর (ﷺ) এঁর পর কোন নবী হতে পারে না।এ দু’টি এক পর্যায়ের অসম্ভব বিষয়।অনুরুপভাবে হুযুর (ﷺ) এঁর যুগে কোন নবী ছিল না,না হতে পারতো।কেননা, “খাতামুন্নাবিয়ীন” হলেন তিঁনিই,যিনি সমস্ত নবীর পরে আসেন।“

[তাফসীরে নুরুল ইরফানঃ২য় খন্ডঃ ১১৩০ পৃঃ, ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী চট্রগ্রাম থেকে প্রকাশিত।]

পূর্বেউল্লেখিত কুরআন শরীফের আয়াতে কারীমা ও তাফসীর দ্বারা প্রমানিত হয় যে,

১. রাসূলে পাক (ﷺ) শেষ নবী।

২. ইমামুল আম্বিয়া,রাসূলে পাক (ﷺ) এঁর পর আর কোন নবী আসবেন না।

৩. রাসূলে পাক (ﷺ) আকেব যাঁর পরে কোন নবী নেই।

৪. রাসূল (ﷺ) এঁর পরে যারা নবুয়ত দাবী করবে তারা মিথ্যাবাদী,গোমরাহ ও নি:সন্দেহে কাফের।



হাদিস মানবো না সুন্নাহ মানবো

রবিবার, জুলাই ০৪, ২০২১ 0
বার দেখা হয়েছে


“সকল সুন্নাতই হাদীস, কিন্তু সব হাদীস সুন্নাত নয়।”
[আর] “সকল হাদীস সমুহের মধ্য থেকে শুধু সুন্নাতেরই অনুসরন করতে হবে।”
আল্লাহ তা’আলা কুরআন শরীফে বলে দিয়েছেন-
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ
অর্থাৎ তোমরা যদি না জেনে থাক তবে আহলে যিকিরদেরকে জিজ্ঞাসা কর। [কোরআন শরীফ; সুরা নাহল আয়াত-৪৩।]
মুফাসসিরীনে কেরাম বলেন উক্ত আয়াতে আহলে যিকির দ্বারা উদ্দেশ্য হল উলামায়ে কেরাম। আর উক্ত হুকুম হল সাধারন মানুষের জন্য। অর্থাৎ সাধারন মানুষ কোন বিষয় না জেনে থাকলে তার দায়িত্ব হল ওলামায়ে কেরামকে জিজ্ঞাসা করে তদ্বানুযায়ী আমল করা। তাদেরকে আল্লাহ তা’আলা বলেননি যে, তোমরা না জেনে থাকলে কুরআন ও হাদীস গবেষণা করে তদ্বানুযায়ী আমল করবে।
[অথচ] আমাদের মধ্য থেকে কিছু ব্যক্তি এমন আছেন যারা নিজেরাই কুরআন-হাদীস গবেষণা করে আমল করতে চান। যদিও তিনি আলেম নন।
এমন অ-আলেম ব্যক্তিরা দলিল হিসাবে পেশ করেন –وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ
অর্থ- আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য তবে আছে কি কোন উপদেশ গ্রহনকারী? [ক্বুরআ’ন শরীফ; সূরা কমার আয়াত -১৭।]তারা বলে, কুরআন তো খুবই সহজ। যা আল্লাহ তা’আলা নিজেই বলে দিয়েছেন। কাজেই তা গবেষণা করে তদ্বানুযায়ী আমল করাতে অসুবিধা কোথায়? – [অথচ] আয়াতের অর্থ থেকে যে কেউ অতি সহজেই বুঝতে পারবে যে, কুরআনকে সহজ করা হয়েছে উপদেশ গ্রহণের জন্য; হুকুম আহকামের উপর আমল করার জন্যে সকলের জন্যে সহজ নয়। অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা কুরআন শরীফে পূর্ববর্তী উম্মতের যে ঘটনা উল্লেখ করেছেন, তাদেরকে যে নছীহত করেছেন, আল্লাহ তা’আলার হুকুম পালনার্থে তাদেরকে যে নেয়মত দান করেছেন এবং হুকুম না মানার কারনে যে আযাব দিয়েছেন তা যে কেউ খুব সহজেই অনুধাবন করতে পারবে।
অপর দিকে কুরআন থেকে মাসআলা নিঃসরণ অত্যন্ত কঠিন কাজ। তা কেবল মুজতাহিদের পক্ষেই সম্ভব। নিন্মের আয়াতটিতে এদিকেই ইশারা করা হয়েছে-إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلاً ثَقِيلاً
অর্থাৎঃ অচিরেই আমি আপনার উপর কিছু ভারী কথা অবতীর্ণ করব। [কুরআন শরীফ; সূরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত-৫।]

অনুরূপভাবে হাদীস থেকে হুকুম আহকাম বের করা (Extracting)-ও অত্যন্ত কঠিন কাজ। সাধারন মানুষের জন্যে তা একেবারেই অসম্ভব।
⬅ কেন?
⬅ মুহাদ্দিছীনদের দায়িত্ব শুধু মাত্র হাদীস জমা করে দেওয়া। তারা আমলযোগ্য হাদীস ও আমলবিহীন হাদীসের মেধ্য কোন পার্থক্য করেন না । তাই হাদীসের কিতাবসমূহে সর্ব প্রকার হাদীস বিদ্যমান থাকে।যেমনঃ-
(১) রহিত হাদীস সমূহ।
(২) মারজুহ তথা অনাগ্রাধিকারপ্রাপ্ত হাদীস ।
(৩) নির্দিষ্ট স্থানের জন্য খাছ হাদীস।
(৪) নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য খাছ হাদীস।
(৫) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খাছ হাদীস ।
(৬) মওজু তথা জাল হাদীস।
এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের হাদীস থাকে। উপরে উল্লেখিত ১ম, ২য় ও ৬ষ্ট প্রকার কোন অবস্থাতেই আমলযোগ্য নয়। ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম প্রকার ক্ষেত্রবিশেষে আমলযোগ্য হতে পারে। সর্বাবস্থায় নয়।  :—বিষয়টিকে ভালোভাবে স্পষ্ট করার জন্য প্রতিটি প্রকারের একটি করে উদহারন নিম্নে দেওয়া হল।যথাঃ-(১) রহিত হাদীসঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعًا
অর্থাৎঃ হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কুকুর তোমাদের কারো পাত্রে পানি পান করে, সে যেন উক্ত পাত্র সাত বার ধুয়ে নেয়।
[গ্রন্থ সূত্রঃ বুখারী শরীফ হাদীস নং-১৭২।]
(২) মারজূহ হাদীসঃ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَنِ الْمَاءِ وَمَا يَنُوبُهُ مِنَ الدَّوَابِّ وَالسِّبَاعِ فَقَالَ -صلى الله عليه وسلم- « إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلِ الْخَبَث
অর্থাৎঃ হযরত ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঐ পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা মরুভূমিতে নিচু জায়গায় জমে থাকে এবং যেখানে চতুস্পদ জন্তু ও হিংস্র প্রাণী আসা যাওয়া করে। তিনি বললেন, পানি যখন দুই মটকা পরিমান হয় তখন তা আর নাপাক হয় না।
[গ্রন্থ সূত্রঃ আবূ দাউদ শরীফ হাদীস নং-৬৩।]
(৩) নির্দিষ্ট স্থানের জন্য খাছ হাদীসঃ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ وَهِيَ بِئْرٌ يُطْرَحُ فِيهَا لُحُومُ الْكِلَابِ وَالْحِيَضُ وَالنَّتَنُ فَقَالَ الْمَاءُ طَهُورٌ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ
অর্থাৎঃ আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আমরা কি বুজাআহ নামক কুয়া থেকে উযূ করব? আর তা এমন একটি কুয়া যেখানে মহিলাদের হায়েযের নেকড়া, মৃত কুকুরসমূহ এবং নাপাক বস্তুসমূহ ফেলা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পানি পবিত্র। তাকে কোন বস্তু নাপাক করতে পারে না।[গ্রন্থ সূত্রঃ নাসাই শরীফ হাদীস নং-৩২৬।]
(৪) নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য খাছঃ
عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا كان أحدكم في المسجد فوجد ريحا بين أليتيه فلا يخرج حتى يسمع صوتا أو يجد ريحا
অর্থাৎঃ হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে থাকে আর সে তার পায়ু পথে বায়ু অনুভব করে, সে ততক্ষণ পর্যন্ত (উযূর নিয়তে) বাহির হবে না যতক্ষণ না সে শব্দ শুনে বা গন্ধ পায়।
[গ্রন্থ সূত্রঃ তিরমিজী শরীফ হাদীস নং-৭৫।]
হাদীস থেকে বুঝা যায়। কারো বায়ু নির্গমন হওয়া সত্তেও যদি সে শব্দ না শুনে বা গন্ধ না পায় তাহলে তার উযূ ভঙ্গ হবে না। হাদীসটি সম্পূর্ন সহীহ।


(৫) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খাছঃ
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَمَرَ بِقَتْلِ الْكِلاَبِ
অর্থাৎঃ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরকে হত্যা কারার জন্য আদেশ দিয়েছেন।
[গ্রন্থ সূত্রঃ মুসলিম শরীফ হাদীস নং ৩৯৮৮।]
(৬) জাল হাদীসঃ
عن جابر قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم من كثرت صلاته بالليل حسن وجهه بالنهار
অর্থাৎঃ হযরত জাবের (রা) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার রাতে (তাহাজ্জুদ) নামাজ বেশি হয় দিনে তার চেহারা উজ্জ্বল হয়।
[গ্রন্থ সূত্রঃ ইবনে মাজাহ হাদীস নং ১৩৩৩।]
❇ ❇ পর্যালোচনাঃ
উপরে উল্লেখিত হাদীসসমূহের মধ্যে :—
⬅ ১ম হাদীসটি তিনবার ধোয়ার হাদীস দ্বারা রহিত হয়ে গিয়েছে।
⬅ ২য় হাদীসের বিপরিতে রয়েছে স্থির পানিতে পেষাব করার নিষেধাজ্ঞার হাদীস। যা দ্বারা উল্লেখিত হাদীসটি মারজূহ হয়েছে।
⬅ ৩য় হাদীসের হুকুমটি বুজাআহ নামক কুপের সাথে খাছ।
⬅ ৪র্থ হাদীসটি ঐ নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য খাছ যে ওয়াসওয়াসার রোগে আক্রান্ত।
⬅ ৫ম হাদীসটি ইসলামের প্রথম যুগের জন্য খাছ। যা পরবর্তীতে রহিত হয়ে গিয়েছে।
একারনেই উলামায়ে কেরাম সাধারন মানুষের জন্য কোন আলেমের নেগরানী ও পরামর্শ ব্যতীত হাদীস অধ্যায়ন করা থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। এটা তাদেরকে গোমরাহীর দিকে নিয়ে যেতে পারে।

বিখ্যাত তা‘বে তাবেঈন লাইস বিন সা‘দ বলেছেন-
الحديث مضلة الا للعلماء.
অর্থাৎঃ উলামা ব্যতীত অন্যদের জন্য হাদীস গোমরাহীর করণ।
সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ বলেছেন-
الحديث مضلة الا للفقهاء.
অর্থঃ ফুকাহা ব্যতীত অন্যদের জন্য হাদীস পথ ভ্রষ্টতার কারন।
[অথচ] আমাদের মধ্য থেকে কিছু ইংরেজি শিক্ষিত আছেন তারা নিজেরাই হাদীস অধ্যয়ন করে তদানুযায়ী আমল করতে চেষ্টা করেন। তারা নিজেদেরকে আহলে হাদীস বলে দাবী করেন।
পূর্বের আলোচনার দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা যে সমুদ্রতুল্য হাদীস ভান্ডারের প্রতিটি হাদীসই উম্মতের জন্য অনুসরনীয় নয়।
যেমন- হাদীস রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১১টি বিবাহ্ করেছেন। একই সাথে তার নয়টি স্ত্রী ছিলেন। এবং তিনি মহর ছাড়া বিবাহ করেছেন। তাহলে কি এগুলো উম্মতের জন্য হালাল হয়ে যাবে? (নাউজুবিল্লাহ!)
বিখ্যাত তাবেঈ ইব্রাহীম নাখঈ বলেছেন-
اني لاسمع الحديث فانظرالي ما يؤخذ به فاخذ به و ادع سائره.
অর্থাৎঃ আমি হাদীস শোনার পর তার প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করি। এরপর যেটা গ্রহন করার তা গ্রহন করি। আর অন্যান্য সমস্ত হাদীস ছেড়ে দেই।
ইবনে আবী লাইলা বলেন-
لا يفقه الرجل في الحديث حتي ياخذ منه و يدع.
অর্থাৎঃ কোন ব্যক্তি ততক্ষন পর্যন্ত হাদীসে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না যতক্ষণ না সে কিছু হাদীস গ্রহন করে আর কিছু হাদীস ছেড়ে দেয়।
বিখ্যাত ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে ওহাব বলেন-
لولا ان الله انقذني بمالك و الليث لضللت.فقيل له كيف ذلك؟ قال:اكثرت من الحديث فحيرني فكنت اعرض ذلك علي مالك و الليث فيقولان لي :خذ هذا و دع هذا.
অর্থাৎঃ যদি আল্লাহ তাআলা আমাকে ইমাম মালেক ও লাইস বিন সা‘দ দ্বারা হেফাযত না করতেন, আমি পথভ্রষ্ট হয়ে যেতাম। অতপর তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল তা কিভাবে? তিনি বললেন আমি হাদীস নিয়ে বেশি চর্চা শুরু করেছিলাম ফলে তা আমাকে বিভ্রান্ত করেছিল। অতপর আমি তা মালেক(রহ) ও লাইস (রহ) এর নিকট পেশ করতাম। তারা বলতেন এটা গ্রহন কর আর এটা ত্যাগ কর।
[গ্রন্থ সূত্রঃ আছারুল হাদীসিশ শরীফ পৃঃ ৮১, ৮২।]
তারা এত বড় ব্যক্তি হয়েও যখন এমন কথা বলেছেন, তাহলে সাধারন মানুষের বিষয়টি কেমন হতে পারে।
এই ইবনে ওহাব (রহ) সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি এক লক্ষ বিশ হাজার হাদীস সংকলন করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি অতিরিক্ত হাদীস চর্চা করার কারনে গোমরাহ হতে গিয়েছিলাম।
এখন প্রশ্ন হল, আমরা হাদীসের উপর কিভাবে আমল করব?
⬅ এর উত্তর হল হাদীস সমূহের মধ্য থেকে যেগুলো উম্মতের জন্য অনুসরনীয় আমরা সেগুলোর উপর আমল করব। আর সেটাকেই সুন্নাত বলে।
হাদীসের বিশল ভান্ডার থেকে সুন্নাত বের করা এটা ফুকাহাদের দায়িত্ব। এটা সাধারন মানুষের জন্য সম্ভব নয়।
⬅ কেন?
⬅ হাদীসের অর্থ ফুকাহয়ে কেরাম গভীরভাবে বুঝতে পারেন।
ইমাম তিরমিজী (রহ) তিরমিজী শরীফে মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার পদ্ধতি বর্ননা করে বলেন-
و كذلك قال الفقهاء و هم اعلم بمعاني الحديث.
অর্থাৎঃ ফুকাহায়ে কেরাম এমনই বলেছেন। আর হাদীসের অর্থ সম্পর্কে তারাই বেশি জানেন।
ইমাম আবু হানিফা তাবেয়ী (রহ) এঁর উস্তাদ হযরত আ‘মাশ (রহ) যিনি অনেক বড় মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি একদা হযরত আবু হানিফা (রহ) কে একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করলেন। ঈমাম আবু হানিফা (রহ) মাসআলাটির জবাব দিয়ে দেন। অতপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোথা থেকে জবাবটি দিলে? ইমাম সাহেব বললেন, আপনি আমাকে অমুক অমুক থেকে যে হাদীসগুলো বর্ণনা করেছেন সেগুলো থেকে আমি উত্তর দিয়েছি। অতপর আ‘মাশ (রহ) বলেন-
يا معشر الفقهاء! انتم الاطباء و نحن الصيادلة.
অর্থঃ হে ফকীহদের দল, তোমরাই হলে ডাক্তার আর আমরা হলাম ফার্মাসিষ্ট।
অর্থাৎ ফার্মাসিষ্ট (Pharmacist) যেমন তার কাছে অনেক ঔষধ থাকা সত্তেও সে জানে না কোন রোগের জন্য কোন ঔষধ (Medicine)। অনুরূপভাবে মুহাদ্দিসীনে কেরামও তাদের নিকট অনেক হাদীস থাকা সত্ত্বেও তারা তা থেকে মাসআলা বের করতে পারেন না।
– এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হল, হযরত আ‘মাশ (রহ) এত বড় মুহাদ্দিস হওয়া সত্ত্বেও তিনি মওজুদ হাদীস (Collected Hadiths) থেকে মাসআলা ইস্তেমবাত (Extract) করতে পরেননি। তাহলে একজন সাধারন ইংরেজি শিক্ষিত লোকের পক্ষে কিভাবে সম্ভব হতে পারে?
⬅ তাহলে দেখা গেল, “সকল সুন্নাতই হাদীস, কিন্তু সব হাদীস সুন্নাত নয়।”
আর আমাদেরকে হাদীস সমুহের মধ্য থেকে শুধু সুন্নাতের অনুসরন করতে হবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহে লক্ষ্য করলে দেখা যায় তিনি কোন হাদীসে এটা বলেননি যে, তোমরা আমার হাদীসের অনুসরন করবে।
⬅ [বরং] যেখানেই অনুসরনের কথা বলা হয়েছে সেখানে সুন্নাতে অনুসরনের কথা বলা হয়েছে।

 নিম্নে নমুনা স্বরূপ কিছু হাদীস উল্লেখ করা হল-
1)عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْفَجْرَ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً ذَرَفَتْ لَهَا الْأَعْيُنُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ قُلْنَا أَوْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَأَنَّ هَذِهِ مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَأَوْصِنَا قَالَ أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ كَانَ عَبْدًا حَبَشِيًّا فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ يَرَى بَعْدِي اخْتِلَافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ.
অর্থাৎঃ হযরত ইরবাজ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,………………রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোদেরকে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করতে এবং (আমীরের কথা) শুনতে ও মানতে উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে একজন হাবশী গোলাম হয়। তোমাদের মধ্য থেকে আমার পরে যে বেচে থাকবে সে অচিরেই বিভিন্ন মতবিরোধ দেখতে পাবে। তাই তোমরা আমার সুন্নাত ও হিদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নাত ধর। তা মজবূতভাবে আঁকড়ে ধর। এবং তোমরা (দ্বীনের মধ্যে) নতুন জিনিস থেকে বেঁচে থাক। (দ্বীনের মধ্যে) প্রতিটি নতুন জিনিসই বেদআত। আর প্রতিটি বেদআতই ভ্রষ্টতা।
[গ্রন্থ সূত্রঃ মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং ১৭১৪৭।]
■ লক্ষ্য করুন, তিনি বলেন নি, যে, তোমরা আমার হাদীস ও হিদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদিনের হাদীস ধর।
(2) قال أنس بن مالك قال لي رسول الله صلى الله عليه و سلم يا بني إن قدرت أن تصبح وتمسي وليس في قلبك غش لأحد فافعل ثم قال لي يا بني وذلك من سنتي ومن أحيا سنتي فقد أحبني ومن أحبني كان معي في الجنة.
অর্থাৎঃ হযরত আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, যে, হে প্রিয় বৎস! যদি তুমি এভাবে সকাল ও সন্ধ্যা করতে পার যে, তোমার অন্তরে কারো জন্য কোন হিংসা নেই, তাহলে তা কর। অতপর তিনি আমাকে বললেন হে প্রিয় বৎস! তা আমার সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। আর যে আমার সুন্নাতকে মহব্বত করল সে আমাকে মহব্বত করল। আর যে আমাকে মহব্বত করল সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।
[গ্রন্থ সূত্রঃ তিরমিজী শরীফ হাদীস নং ২৬৮৩।]
■ লক্ষ্য করুন, তিনি বলেন নি, যে,  যে আমার হাদীসকে মহব্বত করল সে আমাকে মহব্বত করল……।
3)عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ.
অর্থাৎঃ হযরত মালেক (রহ) থেকে বর্ণিত,তার নিকট পৌছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদের মধ্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। তোমরা যতক্ষন পর্যন্ত তা ধরে রাখবে পথভ্রষ্ট হবে না। আল্লাহ তাআলার কিতাব ও তার নবীর সুন্নাত।
[গ্রন্থ সূত্রঃ মুআত্তা মালেক হাদীস নং ৬৮৫।]
■ লক্ষ্য করুন, তিনি বলেন নি যে, তিনি “নবীর হাদীস” রেখে যাচ্ছেন। বরং বলেছেন “নবীর সুন্নাত”।
4)عن أبي سعيد الخدري قال Y قال رسول الله صلى الله عليه و سلم من أكل طيبا وعمل في سنة وأمن الناس بوائقه دخل الجنة .
অর্থাৎঃ হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি হালাল খাবে এবং সুন্নাতের উপর আমল করবে আর মানুষ যার ক্ষতি থেকে নিরাপদে থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
[গ্রন্থ সূত্রঃ তিরমিযী শরীফ হাদীস নং ২৫২০।]
■ লক্ষ্য করুন, তিনি বলেন নি, যে, হাদীসের উপর আমল করবে; বরং তিনি বলেছেন সুন্নাতের উপর আমল করবে।

5)قَالَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَحْدَثَ قَوْمٌ بِدْعَةً إِلَّا رُفِعَ مِثْلُهَا مِنْ السُّنَّةِ فَتَمَسُّكٌ بِسُنَّةٍ خَيْرٌ مِنْ إِحْدَاثِ بِدْعَةٍ.
অর্থাৎঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখনই কোন জাতি কোন বিদআত চালু করে তখন তাদের থেকে সমপরিমান সুন্নাত উঠিয়ে নেওয়া হয়। তাই একটি সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা একটি বেদআত চালু করা থেকে (অনেক) উত্তম।
[গ্রন্থ সূত্রঃ মুসনাদে আহমদ হাদীস নং ১৬৯৭০।]
■ লক্ষ্য করুন, তিনি বলেন নি, যে, সমপরিমাণ হাদীস উঠিয়ে নেয়া হয়; বরং তিনি বলেছেন সুন্নাত উঠিয়ে নেয়া হয়।আবার তিনি এটিও বলেন নি, যে,  একটি হাদীসকে আঁকড়ে ধরা একটি বেদআত চালু করা থেকে (অনেক) উত্তম।
6)قَالَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ من أحيا سنة من سنتي قد أميتت بعدي فإن له من الأجر مثل من عمل بها من غير أن ينقص من أجورهم شيئا.
অর্থাৎঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতসমূহের মধ্য থেকে এমন সুন্নাতকে জিন্দ করবে যা আমার পরবর্তীতে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সে উক্ত সুন্নাতের উপর যাহারা আমল করিবে তাদের সকলের সমপরিমান ছাওয়াব পাবে। অথচ আমল কারীদের ছাওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।
[গ্রন্থ সূত্রঃ তিরমিযী শরীফ হাদীস নং ২৬৭৭।]
■ লক্ষ্য করুন, তিনি বলেন নি, যে, যে ব্যক্তি আমার হাদীস সমূহের মধ্য থেকে এমন হাদীসকে জিন্দ করবে যা আমার পরবর্তীতে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল….।
7)عَنْ أَنَسٍ أَنَّ نَفَرًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- سَأَلُوا أَزْوَاجَ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- عَنْ عَمَلِهِ فِى السِّرِّ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ أَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ آكُلُ اللَّحْمَ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ أَنَامُ عَلَى فِرَاشٍ. فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ. فَقَالَ « مَا بَالُ أَقْوَامٍ قَالُوا كَذَا وَكَذَا لَكِنِّى أُصَلِّى وَأَنَامُ وَأَصُومُ وَأُفْطِرُ وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِى فَلَيْسَ مِنِّى.
অর্থাৎঃ হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এঁর একদল সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এঁর বিবিদেরকে তাঁর গোপনে আমলের ব্যপারে জিজ্ঞাসা করলেন। অতপর কেউ বললেন, আমি মহিলাদেরকে বিবাহ্ করব না। কেউ বললেন আমি আর গোশত খাব না। কেউ বললেন আমি আর বিছানায় ঘুমাব না। অতপর তিনি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করলেন এবং ছানা পাঠ করলেন। আর বললেন মানুষের কি হল তারা এমন এমন বলে। অথচ আমি নামাজ পড়ি এবং ঘুমাই। রোযা রাখি এবং ছেড়ে দেই। আর আমি মহিলাদেরকে বিবাহ্ করি। যে আমার সুন্নাত থেকে বিমূখ হবে সে আমার দলভূক্ত নয়।
[গ্রন্থ সূত্রঃ মুসলিম শরীফ হাদীস নং ৩৪৬৯।]
■ লক্ষ্য করুন, তিনি বলেন নি, যে, যে আমার হাদীস থেকে বিমূখ হবে…..।
8)عن عبد الله بن عمرو قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إن لكل عمل شرة وإن لكل شرة فترة فمن كانت شرته إلى سنتي فقد أفلح ومن كانت شرته إلى غيرذلك فقد أهلك.
অর্থাৎঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিটি আমলের একটি উত্থান আছে। আর প্রতিটি উত্থানের বিরতি আছে। সুতরাং যার উত্থান আমার সুন্নাতের দিকে হবে সে সফলকাম। আর যার উত্থান আমার সুন্নাত ব্যতীত অন্য দিকে হবে সে ধবংস হবে।
[গ্রন্থ সূত্রঃ সহীহ ইবনে হিব্বান,হাদীস নং ১১।]
■ লক্ষ্য করুন, তিনি বলেন নি, যে,  যার উত্থান (আমল) আমার হাদীস ব্যতীত অন্য দিকে হবে সে ধবংস হবে।

উপরে নমুনা সরূপ কিছু হাদীস উল্লেখ করা হল মাত্র। প্রতিটি হাদীসে সুন্নাতের অনুসরনের কথা বলা হয়েছে। কোথাও হাদীসের অনুসরনের কথা বলা হয়নি। [এজন্যই] হকের উপর প্রতিষ্ঠিত জামাআতকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামআহ বলে। আহলুল হাদীস নয়।
আহলুল হাদীস পরিচয়দান একটি গলদ ব্যবহার।
মোটকথা আমরা সর্বপ্রকার হাদীসের উপর আমলের জন্য আদিষ্ট নই।
[বরং] হাদীসের মধ্য থেকে যা আমাদের জন্য অনুসরনীয় (আর সেটাকেই সুন্নাত বলে) আমরা তার উপরে আমল করার জন্য আদিষ্ট।
আর হাদীস থেকে সুন্নাত বের করা তার দায়িত্ব নয় যে কুরআন পর্যন্ত ছহীহ করে পড়তে পারে না, হাদীসতো অনেক দুরের কথা। বরং তা এমন বিজ্ঞ আলেমের দায়িত্ব যিনি কুরআন ও হাদীসে গভীর পান্ডিত্য রাখেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের সহীহ্ (বাস্তবসম্মত) বুঝ দান করুন। আমিন।


প্রকৃত অভাবী কে?

রবিবার, জুলাই ০৪, ২০২১ 0
বার দেখা হয়েছে


#আখেরাতে যে লোক শূন্য-রিক্ত হস্তে হাজির হবে.....



▶️জলিলুল ক্বদর সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আঁক্বা ও মাওলা নবীয়ে বে-মেছাল মুহাম্মাদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করেন-
أَتَدْرُونَ مَا الْمُفْلِسُ ». قَالُوا الْمُفْلِسُ فِينَا مَنْ لاَ دِرْهَمَ لَهُ وَلاَ مَتَاعَ. فَقَالَ « إِنَّ الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِى يَأْتِى يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلاَةٍ وَصِيَامٍ وَزَكَاةٍ وَيَأْتِى قَدْ شَتَمَ هَذَا وَقَذَفَ هَذَا وَأَكَلَ مَالَ هَذَا وَسَفَكَ دَمَ هَذَا وَضَرَبَ هَذَا فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضَى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ ثُمَّ طُرِحَ فِى النَّارِ -
তোমরা কি জান মুফলেস (অভাবী) কে?
সাহাবারা বললেন, আমাদের দৃষ্টিতে মুফলেস বা অভাবী হল সেই লোক যার টাকা-পয়সা বা খাওয়ার ব্যবস্থা নাই।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ ফরমান-
প্রকৃতপক্ষে মুফলেস বা রিক্তহস্ত অভাবী হবে সেই লোক যে কেয়ামতের দিন তার সালাত, সিয়াম, যাকাত ইত্যাদি আমল নিয়ে হাজির হবে,
✔️ কিন্তু সে অমুককে গালি দিয়েছে,
✔️ কিংবা অপবাদ দিয়েছে,
✔️ কারো সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করেছে,
✔️ কারো রক্ত প্রবাহিত করেছে
✔️ অথবা কাউকে আঘাত করেছে....
সেদিন তার কৃত পূণ্যসমূহ তার আমলনামা থেকে যাদেরকে সে এসব করেছে তাদের আমলনামায় দিয়ে দেয়া হবে। দিতে দিতে যখন তার নেকআমলগুলোও শেষ হয়ে যাবে তখন যাদেরকে সে আঘাত করেছে তাদের আমলনামা থেকে গুনাহসমূহ এর আমলনামায় দেয়া হবে, অত:পর এগুলো সহ (দুনিয়াতে নেক আমলকারী) ঐ লোককে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
[সহিহ মুসলিম]
আল্লাহ আমাদেরকে হেদায়েত গ্রহণ করার তওফীক দান করুন। আমীন।


শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১

দরসে হাদিসঃ সন্তান-সন্তুতিকে নৈতিক শিক্ষাদান

শনিবার, জুলাই ০৩, ২০২১ 0
বার দেখা হয়েছে

عَنْ عَلىَّ رَضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قالَ ادّبوا اولادكم على ثلاث خصالٍ حُبّ نبيكم وحب الى بيته وتلاوة القران فان حملة القران فى ظل عرش الله يوم لاظِلَّ اِلا ظلّه مع اصفيابه [رواه الطبرانى]

অনুবাদ : হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, তোমাদের সন্তানদের তিনটি আদর্শ শিক্ষা দাও, তোমাদের নবীর প্রতি ভালোবাসা পোষণ, তাঁর পরিবার ও বংশধরদের প্রতি ভালোবাসা পোষন এবং কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা দাও। কেননা কুরআনের জ্ঞান বহনকারী আল্লাহর আরশের ছায়ায় অবস্থান করবে, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না। সেদিন নবী ও ওলীগণের সাথে আরশের ছায়ায় অবস্থান করবে।

 [তাবরানী শরীফ]

প্রাসঙ্গিক আলোচনাঃ 

বর্ণিত হাদীস শরীফে সন্তান-সন্তুতিদের নৈতিক শিক্ষাদান ও আদর্শ চরিত্র গঠনের নির্দেশনা উপস্থাপিত হয়েছে। পিতা-মাতার জন্য সন্তান-সন্তুতি আল্লাহর এক মহান নিয়ামত, নিজ সন্তান-সন্তুতিকে নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে পারলে তারাই হবে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। সন্তান আদর্শবান চরিত্রবান ও নৈতিকতায় নিজেকে সমুন্নত করতে পারলে তারা পিতা-মাতার সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক ভূমিকা পালনে সমর্থ হন। সন্তান যদি আদর্শহীন ও চরিত্রহীন পরিবেশে গড়ে উঠে তা গোটা পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কলংকের কারণ হয়ে যায়। সন্তানদের নৈতিক শিক্ষাদানে আদর্শ মানুষরূপে গড়ে তুলতে পিতা-মাতার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

১. সন্তানের অন্তরে নবীপ্রেম সৃষ্টি করা

নবীজির প্রতি অকৃত্রিম প্রেম ভালোবাসাই খোদা প্রাপ্তির পূর্বশর্ত। ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের সন্তুষ্টি অর্জনের বিকল্প নেই।

ছোটকাল থেকেই শিশুদের অন্তরে নবীপ্রেম সৃষ্টি করার জন্য মাতাপিতাকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। নবীজীর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন। অন্তরাত্মার গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন। নবীজির মহানত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সন্তানকে জ্ঞান দান করতে হবে। ইসলাম প্রচারে নবীজির ত্যাগ ও কুরবানীর ইতিহাস ও চর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমে সন্তানদের অন্তরে নবীপ্রেম জাগ্রত করতে হবে। অন্তরে নবী প্রেম সৃষ্টির সহায়ক বিভিন্ন কর্মসূচির সাথে নিজ সন্তানদের সম্পর্ক ও সংযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ পর্যায়ে নাত-ই রসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা দান, ঈদে মিলাদুন্নবীর মাহফিল ও জশনে জুলুসের বৃহত্তম সমাবেশে নিজ সন্তানদের উপস্থিতকরণ, ধর্মীয় দ্বীনি সুন্নী আক্বিদাভিত্তিক মাহফিলে অংশগ্রহণ ও যোগ্য অভিজ্ঞ আলেমে দ্বীনদের মাহফিলে কুরআন সুন্নাহর সঠিক বর্ণনা শ্রবণ ও তদানুযায়ী আমলের প্রশিক্ষণ সন্তানদের ব্যবহারিক জীবনে বাস্তবায়ন ইত্যাদি পন্থায় সন্তানদের অন্তরে রাসূলপ্রেমের চেতনা সৃষ্টি করা, দরূদ শরীফের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে সন্তানদের জ্ঞান দান, দরূদ সালামের প্রতি মহব্বত ও ভালোবাসা সৃষ্টি করান। অন্যথায় নিজের অনুসৃত আদর্শের বিপরীতে সন্তান গড়ে উঠলে এর ভয়াবহ করুণ পরিণতি পরিবারের অভিভাবক, মাতাপিতাকেই বহন করতে হবে।

নিজ সন্তানদের প্রতি অবহেলার কারণে অনেক সুন্নী পরিবারের সন্তান-সন্তুতি, সুন্নী আক্বিদা বিরোধী ভাবধারা ও চিন্তা চেতনায় প্রভাবিত হয়ে পড়ছে। ফলে আদর্শিক বিরোধের কারণে পারিবারিক অশান্তি ও পিতা মাতার প্রতিও অশ্রদ্ধার কারণে দুর্ভাগ্যজনক পরিণতির শিকার হচ্ছে।

২. সন্তানদের অন্তরে আহলে বায়তের ভালোবাসা সৃষ্টি করা

আহলে বায়ত তথা নবীজির পরিবার-পরিজন ও বংশধরদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন ঈমানের অপরিহার্য বিষয়। তাঁদের প্রতি সম্মান শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন নাজাতের অন্যতম ওসীলা। পক্ষান্তরে তাঁদের প্রতি অবজ্ঞা, অসম্মান, অশ্রদ্ধা ও বিদ্বেষপোষণ সকল প্রকার খোদায়ী শাস্তি ও অশান্তির মূল কারণ। নবীজির পরিবার তথা বংশধরগণ এমন পূতপবিত্র সত্তা যাঁদের স্মরণ ও সম্মান প্রদর্শনকে নামাযের অভ্যন্তরে বিধানভুক্ত করা হয়েছে। যাদের প্রতি শ্রদ্ধাভরে দরূদ পাঠ না করলে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত নামাযও পরিপূর্ণ হবে না। আল্লাহর দরবারে কবুলও হবে না। তাঁদের ত্যাগ ও কুরবানির বদৌলতে বিশ্বব্যাপী আজ ইসলাম প্রসারিত। তাঁদের ব্যবহারিক জীবনের আদর্শ ও অনুপম গুণাবলীর সংস্পর্শে আশ্রিত হয়ে পৃথিবীর দিগ দিগন্তে অগনিত সত্যান্বেষী মুক্তিকামী মানুষ সিরাতুল মুস্তাকিমের সন্ধান লাভে ধন্য হয়েছে।

তাঁদের আদর্শ শিক্ষা কর্ম ও অবদান, সন্তানদের মাঝে তুলে ধরা ও তাঁদের জীবনাদর্শের প্রতি অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করা তাঁদের আদর্শ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বর্ণনা করে সন্তানদেরকে নৈতিকভাবে বলিষ্ট চরিত্রের অধিকারী করা পিতা-মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য।

৩. কুরআন মজীদের তিলাওয়াত শিক্ষা দেয়া =

কুরআন তিলাওয়াত সর্বোত্তম ইবাদত। নৈতিক শিক্ষার মূল উৎস হচ্ছে কুরআনের শিক্ষা। পবিত্র কুরআনুল করীম এমন এক ঐশীগ্রন্থ যেটা অর্থ না বুঝলেও প্রতিটি অক্ষর তিলাওয়াতে দশটি নেকী অর্জনের সুসংবাদ রয়েছে।

আল কুরআন আল্লাহ্ প্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। আল কুরআনকে যারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, তাদের প্রধান কর্তব্য হলো আল কুরআনের আবেদন বুঝা, অনুধাবন করা ও অনুশীলন করা, কুরআনের শিক্ষা নিজে গ্রহণ করা ও অন্যদের মাঝে তা প্রচার করা। আল কুরআন সম্পর্কে স্বয়ং রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন-

خيركم من تعلم القران وعلمه [البخارى]

তোমাদের মাজে সর্বোত্তম বক্তি। সে যে কুরআন শিখে এবং শিখায়। [বুখারী] ৪. এ মহাগ্রন্থ আল কুরআন এমন এক ঐশীগ্রন্থ, যার সত্যতার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই। এর প্রতিটি কথা, প্রতিটি বাণী, প্রতিটি বক্তব্য, প্রতিটি তথ্য, প্রতিটি সংবাদ যা এতে বর্ণিত হয়েছে সেগুলো নিরেট নির্ভুল নিখুঁত, শাশ্বত চিরন্তন। বিগত দেড় হাজার বছরের ইতিহাসে পৃথিবীর কোন জ্ঞানী মহাজ্ঞানী, দার্শনিক আল কুরআনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি। এতে রয়েছে মানুষের ভালমন্দের নির্দেশনা, হারাম-হালালের বর্ণনা, কল্যাণ-অকল্যানের পথ। কোনটি মানবতার মুক্তি ও শান্তির পথ কোনটি ধ্বংস ও শাস্তির পথ, কোনটি জান্নাতের পথ, কোনটি জাহান্নামের পথ, কোন পথে আল্লাহ্ ও তার রসূলের সন্তুষ্টি; কোন পথে আল্লাহ্ ও তার রসূলের অসন্তুষ্টি। এ সব বিষয়ে আলোচিত হয়েছে মহাগ্রন্থ আল কুরআনে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বাস্তব আজকের মুসলিম সমাজ কুরআন চর্চা ও কুরআন শিক্ষা সম্পর্কে ক্রমাগত বিছিন্ন হয়ে পড়েছে, এ মহান কিতাবের আবেদন ও মর্মবাণী সম্পর্কে আজকের ছাত্র সমাজ, যুব সমাজ অবহিত নন।

মা-বাবার উদাসীনতা অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে আজকে অনেক মুসলিম পরিবারের সন্তানেরা কুরআন পড়তে জানে না। কেউ কেউ পড়তে পারলেও এর মর্ম বুঝতে আগ্রহ নেই।

অনেক মুসলিম পরিবারের কর্তা ব্যক্তিরা সন্তান-সন্তুতিকে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সমাজ, বিজ্ঞান, ভুগোল, অর্থনীতি, পৌরনীতি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান দানে সচেষ্ট অথচ বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম মহাগ্রন্থ ও সর্বাধিক পঠিত আল কুরআনের ব্যাপারে উদাসীন।

ইচ্ছা-অনিচ্ছায় কুরআনকে উপেক্ষা করে যাচ্ছে। আপনি যে কোনো দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করুন না কেন একবার কুরআন পড়–ন, কুরআনকে ভালবাসুন, কুরআনের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি করুন। কুরআনের মর্মবাণীটা অনুধাবন করুন। কুরআনের নির্দেশিত পথে চলুন, নিজের সন্তানকে পরিচালিত করুন। পরিবারের সস্য ও সহকর্মীদের মাঝে কুরআনের নীতি আদর্শ প্রচার করুন। সর্বত্র কুরআনের আলো ও হেদায়ত ছড়িয়ে দিন। কুরআনের দাবী অনুযায়ী কুরআনকে আঁকড়িয়ে ধরুন। জানার জন্য বুঝার জন্য, মানার জন্য কুরআন পড়–ন, নিজের সন্তানের মাঝে এ প্রেরণা সৃষ্টি করুন। কুরআন বুঝার মাধ্যমে ছাহেবে কুরআন তথা কুরআনের ব্যাখ্যাকার। কুরআনের বাস্তব মডেল নবী মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহর জীবনাদর্শকে গ্রহণ করুন। নবীজিকে প্রাণাধিক ভালোবাসুন, নবীজির মর্যাদা নবীজির অনন্যতা অনুধাবন করুন, কুরআনের নির্যাস কুরআনের নির্ভুল সর্বাধিক গ্রহনযোগ্য নির্ভরযোগ্য অনুবাদ ও তাফসীরগ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। আ’লা হযরত অনূদিত কানযুল ঈমান সংগ্রহ করা, নিয়মিত পড়া এবং অন্যকে পড়তে উৎসাহিত করা দরকার। বাংলা, উর্দু, ইংরেজি, হিন্দিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত কানযুল ঈমান মুসলমানদের ঈমান আক্বিদা সুরক্ষায় রক্ষা কবচ। নিজের পরিবার-বাড়িতে দোকানে প্রতিষ্ঠানে কর্মস্থলে যেখানেই থাকুন আপনার কর্মসূচিতে কুরআন তিলাওয়াতকে অপরিহার্য করে নিন। কুরআন তিলাওয়াত ও এর অর্থ বুঝে প্রিয় নবীর সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তবে তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন, বুজুর্গানে দ্বীন, আউলিয়ায়ে কামেলীন, গাউস, কুতুব, আবদাল, আল্লাহর পুণ্যাত্মা প্রিয় বান্দাদের মর্যাদা কুরআনের আলোকে বুঝার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনি সফল হবেন। মহান আল্লাহ্ হিদায়ত নসীব করুন।

৫. সন্তান-সন্তুতিকে ইবাদতে অভ্যস্ত করা:

শিশুকাল থেকে সন্তান-সন্তুতির অন্তরে ইবাদত বন্দেগী ও নামাযের প্রতি অনুপ্রাণিত করা, নামাযের মহবত তাদের অন্তরে সৃষ্টি করা, পিতা-মাতার দায়িত্ব। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন

مروا اولادكم بالصلواة وهم ابناء سبع سنين واخرجواهم وهم انبياء عشر وفرقوا بينهم فى المضاجع [ رواه ابوداود]

অর্থ: তোমাদের সন্তানদের নামায পড়ার নির্দেশ দাও যখন তারা সাত বছর বয়সে উপনীত হয় এবং এজন্য তাদেরকে জোর তাকিদ দাও যখন তারা দশ বছর বয়সে পৌঁছিতে। আর তখন তাদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা করো। [আবু দাউদ]

৬. সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা

ছেলে হোক, মেয়ে হোক উভয়ের প্রতি সমতা রক্ষা করা, ভরণ পোষণ, অন্ন, বস্ত্র, খাদ্য চিকিৎসা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা, আদর, মায়া-মমতা, সর্বক্ষেত্রে সন্তানদের মাঝে সততা রক্ষা ইসলামের এক মহান শিক্ষা। হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে।

اعدلوا بين ابنائكم اعدلوا بين ابنائكم [رواه النسائى]

অর্থ: তোমরা নিজেদের সন্তানদের মাঝে ন্যায় বিচার করো, তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করো। [ইমাম নাসাঈ]

আল্লাহ্ আমাদের সন্তানদের নৈতিক শিক্ষাদানের তাওফিক দান করুন। আমিন।



মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১

গীবত কি?এর পরিণাম এবং এ থেকে বাঁচার/পরিত্রাণ এর উপায়।

মঙ্গলবার, জুন ২৯, ২০২১ 0
বার দেখা হয়েছে


  • নাহমাদুহু নুসাল্লি ওয়া নুসাল্লিম আ'লা ইমামুল ক্বাওনাইনি ওয়া আ'লা আলিহি ওয়া আসহাবিহি আজমায়িন।।আম্মা বা'দঃ-
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ জীবনযাপন ছাড়া একাকী জীবন যাপন করা মানুষের পক্ষে সহজ নয়, তেমনটি কেউ কামনাও করে না। আবার পরিচিত সমাজের বাইরেও মানুষের পক্ষে চলা খুবই কঠিন। পৃথিবীর সমাজবদ্ধ কোনো মানুষই সামাজিক বিপর্যয় কামনা করতে পারেন না। মানুষ সব সময় সুখ ও শান্তি চায়। শান্তি মানুষের একটি আরাধ্য বিষয়। কিন্তু এই প্রত্যাশিত সুখ-শান্তি নির্ভর করে সমাজবদ্ধ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর। উঁচু-নিচু, ধনী-দরিদ্র­ এসব পার্থক্যই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন।
মানুষের পারস্পরিক পরিচয়ের জন্যই এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ সূরা হুজরাতে এরশাদ করেছেন, হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।
(সূরা হুজুরাত: ১৩)
সুতরাং মানব সমাজের এই পার্থক্য সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার নিমিত্তেই। যেসব কারণে সমাজের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বিনষ্ট হয়, সমাজ বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হয়, সামাজিক মূল্যবোধ বিনষ্ট হয়, পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট হয়, তার মধ্যে অন্যতম কারণ হলো গীবত, যা মানুষকে নিকৃষ্টতম প্রাণীতে পরিণত করে। তাই তো মহান আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে এই নিকৃষ্ট স্বভাব থেকে বিরত থাকার তাগিদ দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ সূরা হুজরাতের ১২ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘আর তোমরা কেউ কারো গীবত করো না, তোমরা কি কেউ আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে ? একে তোমরা অবশ্যই ঘৃণা করবে।’
(সূরা হুজুরাত:১২)
সুস্থ, স্বাধীন কোনো বিবেকবান মানুষই জ্ঞান অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত মৃত মানুষ তো দূরের কথা, যে পশু জীবিত থাকলে হালাল সেই পশু মৃত হলে তার গোশতও ভক্ষণ করবে না। অথচ মানুষ সুস্থ মস্তিষ্কে, স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে গীবতের মতো জঘন্য ফেতনায় নিমজ্জিত হয়।

গীবত কী?

গীবত শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দোষারোপ করা, অনুপস্থিত থাকা, পরচর্চা করা, পরনিন্দা করা, কুৎসা রটনা করা, পিছে সমালোচনা করা ইত্যাদি।
পরিভাষায় গীবত বলা হয় ‘তোমার কোনো ভাইয়ের পেছনে তার এমন দোষের কথা উল্লেখ করা যা সে গোপন রেখেছে অথবা যার উল্লেখ সে অপছন্দ করে।’ (মু’জামুল ওয়াসিত) গীবতের সবচেয়ে উত্তম ও বাস্তবসম্মত সংজ্ঞা দিয়েছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিম্মোক্ত হাদিস থেকে পেতে পারি।
সাহাবি আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গীবত কাকে বলে, তোমরা জান কি? সাহাবিগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ই ভালো জানেন। তিনি বললেন, তোমার কোনো ভাই (দীনি) সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে, তা-ই গীবত। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যে দোষের কথা বলি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে তাহলেও কি গীবত হবে? উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যে দোষের কথা বল, তা যদি তোমার ভাইয়ের থাকে তবে তুমি অবশ্যই তার গীবত করলে আর তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে না থাকে তবে তুমি তার ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছ।
(সহীহ মুসলিম, অধ্যায় ৩১, হাদীস নং ৬২৬৫)

সুতরাং এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, কোনো ভাইয়ের এমন দোষের কথা বলা গীবত যা সে অপছন্দ করে।

গীবতের পরিণাম

১। গীবত ইসলামি শরিয়তে হারাম ও কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, 
‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা অগ্র-পশ্চাতে দোষ বলে বেড়ায়।’ (সূরা হুমাজাহ-১)
২। কেউ গীবত শুনলে তার অনুপস্থিত ভাইয়ের পক্ষ থেকে তা প্রতিরোধ করবে সাধ্যমতো। আর যদি প্রতিরোধের শক্তি না থাকে তবে তা শ্রবণ থেকে বিরত থাকবে। কেননা, ইচ্ছাকৃতভাবে গীবত শোনা ও এর অনুমোদন দেওয়া নিজে গীবত করার মতোই অপরাধ। 
(ইমাম আন-নাওয়াবিঃ হিফজুল লিসান)
৩। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
 মিরাজের সময় আমাকে এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো যাদের নখ ছিল তামার। তারা তাদের মুখমণ্ডল ও দেহ আঁচড়াচ্ছিল। আমি জিবরীল আঃ-কে জিজ্ঞাসা করলাম, এরা কারা? তিনি বললেন, এরা নিজ ভাইদের গীবত করত ও ইজ্জতহানি করত। 
(মুসনাদে আহমাদ ৩/২২৪, সুনানে আবু দাঊদঃ ৪৮৭৮)
৪। আয়েশা(রা) থেকে বর্ণিত। তিনি একবার রাসূল (সা) কে সাফিয়্যাহ(রা) এর উচ্চতা সম্পর্কে কিছু বলেছিলেন। রাসূল(সা) প্রতিউত্তরে বলেন, 
“তুমি এমন এক কথা বলেছ তা যদি সাগরের পানির সাথে মেশানো হতো তবে সাগরের পানি কালিমাযুক্ত হয়ে যেতো।” 
(আবু দাঊদঃ ৪৮৭৫, তিরমিজীঃ ২৬২৪, আহমাদ ৬/১৮৯)
৫। রাসূল(সা) একবার লোকদের ডেকে বলেন,
 ” হে মানুষেরা, যারা মুখে মুখে ঈমান এনেছ এবং ঈমান যাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি, অপর মুসলিমের গীবত করোনা, অন্যের দোষ-ত্রুটি অন্বেষন করোনা, কারন যে অন্যের দোষ-ত্রুটি অন্বেষন করে বেড়ায়, আল্লাহ তার দোষ অন্বেষণ করেন, আর আল্লাহ যার দোষ অন্বেষনে লেগে যান তিনি তাকে তার ঘরের মধ্যেই অপমান করে ছাড়েন।” 
(সুনানে আবু দাঊদঃ ৪৮৬২, তিরমিজীঃ ১৬৫৫)
সুতরাং এ কথা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত  হল যে, গীবত একটি জঘন্য পাপাচার। এ থেকে সবাইকে সতর্কতার সাথে বিরত থাকতে হবে।

যাদের দোষ বর্ণনা করা যায়

গীবত করা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। ইমাম নববী (রহ:) বলেন, ”সৎ ও শরীয়ত সম্মত উদ্দেশ্য সাধন যদি গীবত ছাড়া সম্ভব না হয়, তাহলে এক্ষেত্রে গীবত জায়েয।” তার মতে ছয় ধরনের গীবত জায়েয। যথা:
১. মজলুম ব্যাক্তি জালেমের বিরুদ্ধে শাসক, বিচারক অথবা এমন কারো কাছে অভিযোগ করতে পারে যে তাকে জালেম ব্যাক্তির বিরুদ্ধে ন্যায় পাইয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
২. কোন খারাপ কাজ বন্ধের উদ্দেশ্যে এবং ত্রুটি সংশোধনের জন্য কোন ব্যক্তির দোষ এমন ব্যক্তির কাছে বলা, যে তা সংশোধন করার ক্ষমতা রাখে।
৩. মুফতির নিকট মাসয়ালা জানতে গিয়ে প্রয়োজনে কোন ব্যক্তির (সম্ভব হলে নাম উল্লেখ না করে) ত্রুটি বলা যায়। যেমনঃ ‘আমার ভাই’, ‘আমার স্বামী’ অথবা ‘অমুখ’ আমার শাথে ‘এই’ অন্যায় করেছে; তার কি এমন করার অধিকার আছে?
৪. কোন ব্যাক্তি কারো সাথে বিয়ে বা ব্যবসায়ের সম্পর্ক করতে চাইলে এবং তার সম্পর্কে অন্য ব্যক্তির সাথে পরামর্শ চাইলে তার দোষ-গুণ স্পষ্টভাবে বলে দেবে যা সে জানে (মনে হিংসা-বিদ্বেষ না রেখে)।
৫. যে সবলোক সমাজে প্রকাশ্যে পাপ কাজ, বিদয়াত বা গোমরাহীর প্রসার ঘটাচ্ছে, তাদের দোষ-ত্রুটির তীব্র সমালোচনা জায়েয।
৬. কেউ যদি নির্দিষ্ট উপনামে অথবা ছদ্মনামে সমাজে পরিচিত হয় তবে তাকে চেনার উদ্দেশ্যে ছদ্মনাম বা খারাপ উপনামে ডাকা জায়েয (তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে নয়)।
 [হিফজুল লিসান, পৃষ্ঠা ১৯]
 

গীবত করার কারণ

মানুষ সব সময় নিজেকে বড় করে দেখে, এই আমিত্বের আরেক নাম আত্মপূজা। এটা শুরু হয়ে গেলে আত্মপ্রীতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তখন তার আত্মত্যাগের মতো মহৎ বৈশিষ্ট্য দূরিভূত হতে থাকে। ফলে এ স্থানে দানা বাঁধে হিংসা-বিদ্বেষ। আবার হিংসা-বিদ্বেষ থেকেই অপরের প্রতি কুধারণার সৃষ্টি হবে, যা মানুষকে গীবত করতে বাধ্য করে। সুতরাং আত্মপূজা, আত্মপ্রীতি, হিংসা-বিদ্বেষ, কুধারণাই মানুষকে গীবত করতে বাধ্য করে।

বেঁচে থাকার উপায়

গীবত থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে:-
প্রথমত: আমাদের উচ্চারিত প্রতিটি কথা ফেরেশতারা লিপিবদ্ধ করছে এই বিশ্বাস এবং সচেতনতা জাগ্রত রাখা।
 “এমন একটি শব্দ কেউ উচ্চারণ করেনা যা একজন (ফেরেশতা) দেখছেনা এবং লিখে নিচ্ছেনা।” 
(সূরা কাফঃ১৮)
দ্বিতীয়ত: অপর মুসলিম ভাইয়ের কল্যাণ কামনা করা এবং তার জন্যে আত্মত্যাগ করা অর্থাৎ যেকোনো প্রয়োজনে অপর ভাইকে অগ্রাধিকার দেয়া। 
যেমন আল্লাহ এরশাদ করেছেন:-
 ‘তারা নিজের ওপর অন্যদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অনটনের মধ্যে থাকে।’ 
(সূরা হাশর ৯)
তৃতীয়ত: অপরের অপরাধকে ক্ষমা করে দেয়া।
চতুর্থত: মহৎ ব্যক্তিদের জীবনী বেশি বেশি করে অধ্যয়ন করা।

শেষ কথা

আমাদের সব সময় আল্লাহতায়ালার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে তিনি যেন অনুগ্রহ করে গীবতের মতো জঘন্য সামাজিক ব্যাধিতে আমাদের নিমজ্জিত হতে না দেন। এ ক্ষেত্রে জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সর্বাগ্রে।
 কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘বান্দা যখন ভোরে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয় তখন শরীরের সব অঙ্গ জিহ্বার কাছে আরজ করে, তুমি আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহর নাফরমানি কাজে পরিচালিত করো না। কেননা, তুমি যদি ঠিক থাক, তবে আমরা সঠিক পথে থাকব। কিন্তু যদি তুমি বাঁকা পথে চলো, তবে আমরাও বাঁকা হয়ে যাবো। 
(তিরমিজি:২৫১৮, আহমাদঃ ৩/৯৫-৯৬)
 একটি দীর্ঘ হাদীসে মুয়াজ ইবনে জাবাল রাসূল(সা) এর কাছে এমন একটি কাজের কথা জানতে চান যা তাঁকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে। এই হাদীসে অংশবিষেশে রাসূল (সা) বলেন, 
“হে মুয়াজ, জিহ্বার কুফল এর চেয়ে খারাপ এমন আর কোন জিনিষ আছে যা মানুষকে মুখ উপরে ছেঁচড়ে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার কারন হবে?”
(তিরমিজীঃ ২৬১৬; ইবনে মাজাহঃ ২৯৭৩, আহমাদঃ ৫/২৩১০
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যত্র বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার জন্য তার জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের জিম্মাদার হবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হবো।’
 (বুখারি:১১/৩০৮ )


ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png