শিরোনাম
Loading latest headlines...

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০

নিয়মিত মধু খাওয়ার উপকারিতা ও গুনাগুণ

মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

মধু একটি পুষ্টিকর খাবার। যদি আমরা মধুর পুষ্টিগুনের দিক তুলে ধরে খাবারের একটি তালিকা করি, তাহলে খাবারের তালিকায় প্রথমে থাকবে মধুর নাম। এটি শরীরের জন্য খুবি উপকারী। যদি নিয়মিত মধু সেবন করা হয়, তাহলে অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এটি বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত।

মধুর উপাদান
মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫ থেকে ১২ শতাংশমন্টোজ। আরও থাকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো অ্যাসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ শতাংশএনকাইম। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি।

মধুর উপকারিতা

শক্তি প্রদায়ী : মধু ভালো শক্তি প্রদায়ী খাদ্য। তাপ ও শক্তির ভালো উৎস। মধু দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে।
হজমে সহায়তা: এতে যে শর্করা থাকে, তা সহজেই হজম হয়। কারণ, এতে যে ডেক্সট্রিন থাকে, তা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিয়া করে। পেটরোগা মানুষের জন্য মধু বিশেষ উপকারী।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। এটি ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ১ চা–চামচ খাঁটি মধু ভোরবেলা পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লত্ব দূর হয়।

রক্তশূন্যতায়: মধু রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে বলে এটি রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক। কারণ, এতে থাকে খুব বেশি পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ।

ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে: বলা হয়, ফুসফুসের যাবতীয় রোগে মধু উপকারী। যদি একজন অ্যাজমা (শ্বাসকষ্ট) রোগীর নাকের কাছে মধু ধরে শ্বাস টেনে নেওয়া হয়, তাহলে সে স্বাভাবিক এবং গভীরভাবে শ্বাস টেনে নিতে পারবে। অনেকে মনে করে, এক বছরের পুরোনো মধু শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বেশ ভালো।

অনিদ্রায়: মধু অনিদ্রার ভালো ওষুধ। রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই চা–চামচ মধু মিশিয়ে খেলে এটি গভীর ঘুম ও সম্মোহনের কাজ করে।

যৌন দুর্বলতায়:
পুরুষদের মধ্যে যাঁদের যৌন দুর্বলতা রয়েছে, তাঁরা যদি প্রতিদিন মধু ও ছোলা মিশিয়ে খান, তাহলে বেশ উপকার পাবেন।

প্রশান্তিদায়ক পানীয়: হালকা গরম দুধের সঙ্গে মিশ্রিত মধু একটি প্রশান্তিদায়ক পানীয়।

মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায়: মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায় মধু ব্যবহৃত হয়। এটা দাঁতের ওপর ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। দাঁতে পাথর জমাট বাঁধা রোধ করে এবং দাঁত পড়ে যাওয়াকে বিলম্বিত করে। মধু রক্তনালিকে সম্প্রসারিত করে দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। যদি মুখের ঘায়ের জন্য গর্ত হয়, এটি সেই গর্ত ভরাট করতে সাহায্য করে এবং সেখানে পুঁজ জমতে দেয় না। মধু মিশ্রিত পানি দিয়ে গড়গড়া করলে মাড়ির প্রদাহ দূর হয়।

পাকস্থলীর সুস্থতায়: মধু পাকস্থলীর কাজকে জোরালো করে এবং হজমের গোলমাল দূর করে। এর ব্যবহার হাইড্রোক্রলিক অ্যাসিড ক্ষরণ কমিয়ে দেয় বলে অরুচি, বমিভাব, বুকজ্বালা এগুলো দূর করা সম্ভব হয়।
তাপ উৎপাদনে: শীতের ঠান্ডায় এটি শরীরকে গরম রাখে। এক অথবা দুই চা–চামচ মধু এক কাপ ফুটানো পানির সঙ্গে খেলে শরীর ঝরঝরে ও তাজা থাকে।
পানিশূন্যতায়: ডায়রিয়া হলে এক লিটার পানিতে ৫০ মিলিলিটার মধু মিশিয়ে খেলে দেহে পানিশূন্যতা রোধ করা যায়।
দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে: চোখের জন্য ভালো। গাজরের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে।
রূপচর্চায়: মেয়েদের রূপচর্চার ক্ষেত্রে মাস্ক হিসেবে মধুর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। মুখের ত্বকের মসৃণতা বৃদ্ধির জন্যও মধু ব্যবহৃত হয়।

ওজন কমাতে: মধুতে নেই কোনো চর্বি। পেট পরিষ্কার করে, চর্বি কমায়, ফলে ওজন কমে।
হজমে সহায়তা: মধু প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি। তাই মধু সহজে হজম হয় এবং হজমে সহায়তা করে।
গলার স্বর: গলার স্বর সুন্দর ও মধুর করে।
তারুণ্য বজায় রাখতে: তারুণ্য বজায় রাখতে মধুর ভূমিকা অপরিহার্য। এটি অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। শরীরের সামগ্রিক শক্তি ও তারুণ্য বাড়ায়।
হাড় ও দাঁত গঠনে:
মধুর গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়াম দাঁত, হাড়, চুলের গোড়া শক্ত রাখে, নখের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে, ভঙ্গুরতা রোধ করে।
রক্তশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে: এতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, যা রক্তশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
আমাশয় ও পেটের পীড়া নিরাময়ে:
পুরোনো আমাশয় এবং পেটের পীড়া নিরাময়সহ নানাবিধ জটিল রোগের উপকার করে থাকে।
হাঁপানি রোধে: আধা গ্রাম গুঁড়ো করা গোলমরিচের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু এবং আদা মেশান। দিনে অন্তত তিনবার এই মিশ্রণ খান। এটা হাঁপানি রোধে সহায়তা করে।
উচ্চ রক্তচাপ কমায়: দুই চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ রসুনের রস মেশান। সকাল-সন্ধ্যা দুইবার এই মিশ্রণ খান। প্রতিনিয়ত এটার ব্যবহার উচ্চ রক্তচাপ কমায়। প্রতিদিন সকালে খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত।
রক্ত পরিষ্কারক: এক গ্লাস গরম পানির সঙ্গে এক বা দুই চামচ মধু ও এক চামচ লেবুর রস মেশান। পেট খালি করার আগে প্রতিদিন এই মিশ্রণ খান। এটা রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তা ছাড়া রক্তনালিগুলোও পরিষ্কার করে।
রক্ত উৎপাদনে সহায়তা: রক্ত উৎপাদনকারী উপকরণ আয়রন রয়েছে মধুতে। আয়রন রক্তের উপাদানকে (আরবিসি, ডব্লিউবিসি, প্লাটিলেট) অধিক কার্যকর ও শক্তিশালী করে।
হৃদ্‌রোগে: এক চামচ মৌরি গুঁড়োর সঙ্গে এক বা দুই চামচ মধুর মিশ্রণ হৃদ্‌রোগের টনিক হিসেবে কাজ করে। এটা হৃৎপেশিকে সবল করে এবং এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায়: মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের ভেতরে এবং বাইরে যেকোনো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতাও জোগান দেয়। মধুতে আছে একধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান, যা অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে।

লেখক: প্রধান পুষ্টিবিদ



ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের বিধান

মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই মানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। আর এই সামাজিকতার এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা হচ্ছে কোন মানুষ একা সবসময় নিজের সব প্রয়োজন পূরণে সক্ষম হয় না। এজন্যই পরস্পরকে বিভিন্ন উপায় বা লেনদেনের মাধ্যমে মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করে থাকে। এরকমই একটি বড় উপায় হচ্ছে ঋণ। মানব জীবনের পথচলায় ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ইসলাম এ বিষয়ে মানুষকে উৎকৃষ্ট পদ্ধতি ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। মহান আল্লাহ মানবজাতিকে ঋণ গ্রহণ করার যেমন অনুমতি দিয়েছেন, তেমনি যথাসময়ে সেই ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেছেন। যাপিত জীবনের বাঁকে-বাঁকে যেহেতু আমরা ঋণের সাথে জড়িত থাকি, সেহেতু ঋণের ক্ষেত্রে ইসলামী শরী‘আতের দিক-নির্দেশনা ও বিধি-বিধান সম্পর্কে আমাদের স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। তাছাড়া ঋণের ভয়াবহতার ব্যাপারে সম্যক ধারণা না থাকার কারণে আমরা ঋণকে হালকা চোখে দেখি। যা পরকালীন জীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ। আলোচ্য নিবন্ধে আমরা এই বিষয়ে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

ঋণের পরিচয় : ঋণের আরবী প্রতিশব্দ قَرْض, যা বাংলা ভাষায় ‘কর্য’ নামে পরিচিত। এর বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে দেনা, ধার, হাওলাত ইত্যাদি। শরী‘আতের পরিভাষায়دَفْعُ مَالٍ إِرْفَاقًا لِمَنْ يَنْتَفِعُ بِهِ وَيَرُدُّ بَدَلَهُ، অর্থাৎ ‘ঋণ হ’ল সহযোগিতার জন্য অপরকে মাল-পণ্য প্রদান করা, যেন গ্রহীতা এর মাধ্যমে উপকৃত হয়, অতঃপর দাতাকে সেই মাল কিংবা তার অনুরূপ ফেরত দেওয়া’।[1] ইসলামী পরিভাষায় একে ‘কর্যে হাসানা’ বলা হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়, ছওয়াবের নিয়তে বিনা শর্তে কাউকে কোন কিছু ঋণ দিলে তাকে ‘কর্যে হাসানা’ বা উত্তম ঋণ বলা হয়। এতে মানুষ দুনিয়া ও আখেরাতে উপকৃত হয় এবং পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় ও সামাজিক ঐক্য সুদৃঢ় হয়। আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় কর্যে হাসানার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। মহান আল্লাহ বলেন, مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً وَاللهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ‘কোন সে ব্যক্তি যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দিবে, অতঃপর তিনি তার বিনিময়ে তাকে বহুগুণ বেশী প্রদান করবেন? বস্ত্ততঃ আল্লাহ্ই রূযী সংকুচিত করেন ও প্রশস্ত করেন। আর তাঁরই দিকে তোমরা ফিরে যাবে’ (বাক্বারাহ ২/২৪৫)। অন্যত্র তিনি বলেন,وَأَقْرَضُوا اللهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعَفُ لَهُمْ وَلَهُمْ أَجْرٌ كَرِيْمٌ ‘নিশ্চয় দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেয়, তাদেরকে দেওয়া হবে বহুগুণ বেশী। আর তাদের জন্যে রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার’ (হাদীদ ৫৭/১৮)। এখানে আল্লাহকে ঋণ দেওয়া অর্থ আল্লাহর পথে দান করা এবং আল্লাহর বান্দাকে কর্য দেওয়া উভয় মর্ম বহন করে। কেননা হাদীছে কুদসীতে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, আল্লাহ বলেন, اسْتَقْرَضْتُ عَبْدِي فَلَمْ يُقْرِضْنِي ‘আমি আমার বান্দার কাছে ঋণ চেয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাকে ঋণ দেয়নি’।[2] এতে বুঝা যায় যে, ইসলাম মানুষের নৈতিক ও অর্থনৈতিক দু’দিকেরই উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথ দেখিয়েছে।

ঋণ গ্রহণের বিধান : ইসলামে ঋণ আদান-প্রদান করা বৈধ। যা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত। কেননা রাসূল (ছাঃ) ঋণ গ্রহণ করেছিলেন,[3] ঋণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন[4] এবং তার উম্মতকে ঋণ মুক্তির দো‘আ শিখিয়েছেন[5]। এমনকি রাসূল (ছাঃ) অমুসলিমের কাছ থেকেও ঋণ গ্রহণ করেছেন। সুতরাং ইসলাম মুসলমানদেরকে বিপদে-আপদে এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে অপরের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করার অনুমতি প্রদান করেছে। সঙ্গে সঙ্গে সঠিক সময়ে তা পরিশোধ করার প্রতি কঠোর নির্দেশও দিয়েছে।

ঋণ দান ব্যবসা নয়, সহযোগিতা : ইসলামে ঋণের উদ্দেশ্য হচ্ছে স্রেফ আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করা ও তাদের প্রতি দয়া করা। কিন্তু এই সহযোগিতার আড়ালে ব্যবসায়িক বা অন্য কোন সুবিধা অর্জন উদ্দেশ্য নয়। একজন মুমিনের জীবনে ঋণ দানের উদ্দেশ্য আর্থিক প্রবৃদ্ধি নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। সেকারণ ঋণ গ্রহীতা ঋণ ফেরত দেয়ার সময় যা নিয়েছে তা কিংবা তার অনুরূপ ফেরত দিতে আদিষ্ট, এর অতিরিক্ত নয়। ঋণ দাতা এর অতিরিক্ত নিলে তা সূদ হিসাবে গণ্য হবে। আমরা সমাজিক জীবনে ঋণের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে সূদের সাথে জড়িয়ে পড়ি। যেমন- চাকরী বা অন্য কোন সহযোগিতার উদ্দেশ্যে কাউকে ঋণ দেওয়া অথবা কোন হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বা দোকান-ঘর ভাড়া পাওয়ার জন্য ঋণ প্রদান প্রভৃতি সহযোগিতা সূদের পর্যায়ভুক্ত। অনুরূপভাবে জমি বন্ধক প্রথাও একপ্রকার সূদ। কারণ এভাবে জমি নিলে চাষের খরচ ব্যতীত বাকী শস্য জমির মালিককে ফেরত দিতে হবে। কেননা এটা একটা কর্য। আর কর্যের লাভ ভোগ করা যায় না। ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, যে ঋণের বিনিময় লাভ করা হয়, তা সূদ।[6]

আজকাল বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিওগুলো গ্রামে-গঞ্জে, নগর-বন্দরে সহযোগিতার নামে সূদী ঋণের কারবারী করছে এবং সূদী লেনদেনের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর গযবের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কেউ আবার সূদে ঋণ দানকে ব্যবসা হিসাবে গ্রহণ করেছে, যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। ঋণ কখনো ব্যবসা হ’তে পারে না। কারণ যে ঋণের মাধ্যমে ব্যবসা করা হয়, তা মূলত সূদী ব্যবসা।

ঋণ গ্রহণে সতর্কতা : জান্নাত পিয়াসী মুমিন বান্দাকে ঋণের ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকা যরূরী। ছাওবান (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,مَنْ مَاتَ وَهُوَ بَرِيءٌ مِنْ ثَلَاثٍ: الكِبْرِ، وَالغُلُولِ، وَالدَّيْنِ دَخَلَ الجَنَّةَ، ‘যে ব্যক্তির মৃত্যু হবে অহংকার, খিয়ানত এবং ঋণ থেকে মুক্ত হয়ে, সে জানণাতে প্রবেশ করবে’।[7] অর্থাৎ ঋণগ্রস্ত হয়ে মারা গেলে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মৃত ব্যক্তির সম্পদ তার উত্তরাধিকারীদের মাঝে বণ্টনের পূর্বে মৃতের ঋণ পরিশোধ করার ব্যাপারে জোর তাকীদ দিয়েছেন।[8] কারণ আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া ব্যক্তিও তার ঋণের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।[9] যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে তার ঋণ পরিশোধ করা হয়। সেকারণ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, لَوْ كَانَ لِي مِثْلُ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا يَسُرُّنِي أَنْ لاَ يَمُرَّ عَلَيَّ ثَلاَثٌ، وَعِنْدِي مِنْهُ شَيْءٌ إِلَّا شَيْءٌ أُرْصِدُهُ لِدَيْنٍ، ‘আমার কাছে যদি ওহোদ পাহাড়ের সমান সোনা থাকত, তাহ’লে আমার পসন্দ নয় যে, তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আমার কাছে তার কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকুক। তবে সেই পরিমাণ ব্যতীত, যা আমি ঋণ পরিশোধ করার জন্য রেখে দেই’।[10]

ঋণের কারণে মানুষ সামাজে লাঞ্ছিত হয়। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঋণ গ্রহণ থেকে সতর্ক থাকা উচিত। অপরদিকে পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ করা আত্মসাতের শামিল, যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

ঋণ দানের ফযীলত :

পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে ঋণ বলতে ‘কর্যে হাসানাহ’ বুঝানো হয়েছে। আর কর্যে হাসানাহ প্রদানে রয়েছে অশেষ ফযীলত।

(ক) ঋণ দান ছাদক্বাহর ন্যায় ফযীলতপূর্ণ : কাউকে নেকীর আশায় বা সহযোগিতার জন্য কর্যে হাসানা প্রদান করা আল্লাহর পথে দান-ছাদাক্বাহ করার সমতুল্য। এমনকি ঋণ দানকে দান-ছাদাক্বার চেয়েও বেশী মর্যাদাপূর্ণ বলা হয়েছে। আবূ উমামা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,دخل رجل الجنة، فرأى مكتوباً على بابها: الصدقةُ بعشرِ أمثالها، والقرضُ بثمانية عشر ‘এক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করে তার দরজায় একটি লেখা দেখতে পেল যে, ছাদাক্বার নেকী দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয় এবং ঋণ দানের নেকী আঠারো গুণ বৃদ্ধি করা হয়’।[11]

ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, كُلُّ قَرْضٍ صَدَقَةٌ ‘প্রত্যেক ঋণই ছাদক্বাহ’।[12] অপর এক বর্ণনায় তিনি বলেন,مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُقْرِضُ مُسْلِمًا قَرْضًا مَرَّتَيْنِ إِلَّا كَانَ كَصَدَقَتِهَا مَرَّةً ‘কোন মুসলিম অপর কোন মুসলিমকে দুইবার ঋণ দিলে সে একবার ছাদক্বাহ করার নেকী পাবে’।[13]

(খ) দাস মুক্তির নেকী : কর্যে হাসানা বা ঋণ প্রদানের মাধ্যমে দাস মুক্ত করে দেওয়ার নেকী লাভ করা যায়। বারা ইবনু আযেব (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি,مَنْ مَنَحَ مَنِيحَةَ لَبَنٍ أَوْ وَرِقٍ أَوْ هَدَى زُقَاقًا كَانَ لَهُ مِثْلَ عِتْقِ رَقَبَةٍ ‘যে ব্যক্তি একবার দোহন করা দুধ দান করে অধবা টাকা-পয়সা ধার দেয় অথবা পথহারা লোককে সঠিক পথের সন্ধান দেয়, তার জন্য রয়েছে একটি গোলাম মুক্ত করার সমপরিমান ছওয়াব’।[14]

(গ) ফেরেশতাদের দো‘আ লাভের সৌভাগ্য : যারা আল্লাহর কোন বান্দাকে সহযোগিতার জন্য ঋণ দেয়, আকাশের ফেরেশতা তার জন্য বরকতের দো‘আ করে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,مَا مِنْ يَوْمٍ يُصْبِحُ الْعِبَادُ فِيهِ إِلاَّ مَلَكَانِ يَنْزِلاَنِ فَيَقُولُ أَحَدُهُمَا اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا، وَيَقُولُ الآخَرُ  اللَّهُمَّ أَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا ‘প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন। আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন’।[15] সুতরাং ঋণ দান এমন একটি ছাদাক্বাহ, যার মাধ্যমে ফেরেশতাদের দো‘আ লাভে ধন্য হওয়া যায়। আল্লাহর নিষ্পাপ ফেরেশতাদের দো‘আ লাভ করা কতইনা সৌভাগ্যের ব্যাপার!

(ঘ) বিপদ থেকে মুক্তি ও আল্লাহর সাহায্য লাভ : যখন কোন মুমিন বান্দা নিঃস্বার্থভাবে কারো দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। তখন আল্লাহ এত খুশি হন যে, তিনি স্বয়ং সেই বান্দার সাহায্যকারী হয়ে যান এবং তাকে দুনিয়া ও আখেরাতের বিপদ থেকে রক্ষা করেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন মুমিনের দুনিয়ার বিপদসমূহের কোন একটি বিপদ দূর করে দিবে, আল্লাহ তার আখেরাতের বিপদসমূহের মধ্য হ’তে একটি (কঠিন) বিপদ দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত লোকের অভাব (সাহায্যের মাধ্যমে) সহজ করে দিবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তাকে সহজতা দান করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুমিনের দোষ-ত্রুটি গোপন করবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর বান্দাদেরকে সাহায্য করতে থাকেন, যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্যে রত থাকে’।[16] আর নিঃসন্দেহে ঋণ একটি সহযোগিতা, যার মাধ্যমে ঋণগ্রহীতার বিপদাপদে তার পাশে দাঁড়ানো হয়। মহান আল্লাহ আমাদেরকে কর্যে হাসানা বা নিঃস্বার্থ ঋণ প্রদানের মাধ্যমে উক্ত ফযীলতগুলো হাছিল করার তাওফীক্ব দান করুন-আমীন!

ঋণ দানের আদব :

কাউকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ঋণ দান করা নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। আর ঋণ দানের ক্ষেত্র ইসলাম কতিপয় শিষ্টাচার ও নীতিমালা বর্ণনা করেছে। যেমন-

(ক) ঘুষ গ্রহণ না করা : ঋণ দানের ক্ষেত্রে বিনিময় গ্রহণ করা এবং এর মাধ্যমে কোন উপকার হাছিল করা হারাম। ইবনু কুদামা বলেন,

وَكُلُّ قَرْضٍ شَرَطَ فِيهِ أَنْ يَزِيدَهُ، فَهُوَ حَرَامٌ، بِغَيْرِ خِلَافٍ. قَالَ ابْنُ الْمُنْذِرِ: أَجْمَعُوا عَلَى أَنَّ الْمُسَلِّفَ إذَا شَرَطَ عَلَى الْمُسْتَسْلِفِ زِيَادَةً أَوْ هَدِيَّةً، فَأَسْلَفَ عَلَى ذَلِكَ، أَنَّ أَخْذَ الزِّيَادَةِ عَلَى ذَلِكَ رَبًّا. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، وَابْنِ عَبَّاسٍ، وَابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّهُمْ نَهَوْا عَنْ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةً.

‘যে সকল ঋণে অতিরিক্ত কোন কিছু গ্রহণ করার শর্তারোপ করা হয়, তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোন মতভেদ নেই। ইবনুল মুনযির বলেন, বিদ্বানগণ এ ব্যাপারে একমত যে, যদি ঋণ দাতা ঋণ গ্রহীতার উপর কোন অতিরিক্ত লাভ বা উপঢৌকনের শর্তারোপ করে এবং ঋণী ব্যক্তি যদি সেটা তাকে প্রদান করে, তাহ’লে সেই অতিরিক্ত কিছু সূদ হিসাবে গণ্য হবে। উবাই ইবনে কা‘ব, ইবনু আববাস ও ইবনু মাসঊদ (রাঃ) প্রমুখ ছাহাবী থেকে এমনটাই বর্ণিত হয়েছে যে, তারা ঋণে লাভ গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন’।[17] আজকের বিশ্ব এই সূদী ঋণের জাতাকলে পিষ্ট হয়ে অশান্তির দাবানলে পরিণত হয়েছে। আমাদের সামাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সূদী ব্যাংকগুলো সহযোগিতার ফাঁকা বুলি কপচিয়ে মানুষের রক্ত চুষে খাচ্ছে। সূদী ঋণের আগ্রাসী ছোবলে আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অশান্তির মূল কারণ হ’ল এই সূদ ভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থা। তাই দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি পেতে হ’লে সার্বিক জীবনে সূদমুক্ত অর্থ ব্যবস্থা চালু করা আবশ্যক। কারণ সূদী ঋণ দান সহযোগিতা নয়; বরং মহাপাপ।

(খ) উপঢৌকন গ্রহণ না করা : ঋণ দানের অন্যতম আদব হ’ল ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে কোন উপঢৌকন গ্রহণ না করা। কারণ ঋণের বিনিময়ে হাদিয়া বা উপহার গ্রহণ করা হারাম। আবূ বুরদাহ ইবনে আবূ মূসা (রহঃ) বলেন, একবার আমি মদীনায় এসে আব্দুল্লাহ বিন সালামের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি আমাকে বললেন,

إِنَّك بِأَرْض فِيْهَا الرِّبَا فَاش إِذا كَانَ لَكَ عَلَى رَجُلٍ حَقٌّ فَأَهْدَى إِلَيْكَ حِمْلَ تَبْنٍ أَو حِملَ شعيرِ أَو حَبْلَ قَتٍّ فَلَا تَأْخُذْهُ فَإِنَّهُ رِبًا.

‘তুমি এমন এলাকায় বসবাস করছ, যেখানে সূদের প্রচলন অত্যধিক। অতএব কারো কাছে যদি তোমার কোন পাওনা থাকে, আর সে যদি তোমাকে হাদিয়া বা উপহার হিসাবে এক বোঝা খড় অথবা এক বোঝা যব অথবা এক আঁটি ঘাসও দেয়; তুমি তা গ্রহণ করবে না। কারণ এটা সূদ হিসাবে গণ্য হবে’।[18] এই আছারের মর্মার্থ অন্যান্য ছাহবীদের ইজমা দ্বারা প্রমাণিত। ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেন,

وَقَدْ تَقَدَّمَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَعْيَانِهِمْ كَأُبَيٍّ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَعَبْدِ اللهِ بْنِ سَلَامٍ وَابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُمْ نَهَوْا الْمُقْرِضَ عَنْ قَبُولِ هَدِيَّةِ الْمُقْتَرِضِ، وَجَعَلُوا قَبُولَهَا رِبًا.

‘উবাই বিন কা‘ব, ইবনে মাসঊদ, আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম, ইবনে ওমর এবং ইবনু আববাস (রাঃ)-এর মত উল্লেখযোগ্য ছাহাবায়ে কেরামের পক্ষ থেকে এটা বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা ঋণদাতাকে ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে উপঢৌকন গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। তাঁরা এই উপহার গ্রহণকে সূদ হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন’।[19]

আল্লামা শাওক্বানী (রহঃ) বলেন, ‘যদি কর্যের কারণে ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মাঝে হাদিয়া বা উপঢৌকন আদান-প্রদান হ’লে এটা সূদ বা ঘুষ হিসাবে গণ্য হবে। যা স্পষ্ট হারাম। তবে ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মাঝে যদি আগে থেকেই হাদিয়া আদান-প্রদানের অভ্যাস থাকে তাহ’লে সেই উপহার প্রদান বা গ্রহণ করাতে কোন সমস্যা নেই’।[20] যেমন একবার ইবনে ওমর (রাঃ) উবাই ইবনে কা‘বকে দশ হাযার দিরহাম ঋণ দিলেন। অতঃপর উবাই বিন কা‘ব তাকে জমির কিছু ফল হাদিয়া দিলেন। কিন্তু ইবনু ওমর সেই ফল গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দিলেন। তখন উবাই (রাঃ) বললেন, মাদীনাবসীরা জানে যে আমি উৎকৃষ্ট ফল-মূল আবাদ করি। তাহ’লে আপনি এই ফল-মূল নিচ্ছেন না কেন? এরপর তিনি আবার অনুরোধ জানালে ইবনু ওমার সেই হাদিয়া গ্রহণ করলেন। ইবনুল কায়্যিম (রহঃ) বলেন, ইবনু ওমর প্রথমে মনে করেছিলেন, ঋণদানের কারণেই হয়তো এই হাদিয়া তাকে দেওয়া হচ্ছে, সেকারণ তিনি প্রথমে তা গ্রহণ করেননি। কিন্তু যখন তিনি নিশ্চিত হ’লেন যে, এই হাদিয়া তার ঋণ দানের কারণে নয়, তখন সেটা গ্রহণ করলেন’।[21]

(গ) অক্ষম ঋণগ্রহীতার প্রতি কঠোর না হওয়া : ঋণী ব্যক্তি তার ঋণ পরিশোধ করতে অপারগ হ’লে তার উপর কঠোর হওয়া উচিৎ নয়। মা আয়েশা ছিদ্দীক্বা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,مَنْ طَلَبَ حَقًّا فَلْيَطْلُبْهُ فِي عَفَافٍ وَافٍ، أَوْ غَيْرِ وَافٍ، ‘কোন ব্যক্তি পাওনা আদায়ের তাগাদা দিলে, যেন বিনীতভাবেই তাগাদা দেয়। এতে তার ঋণ আদায় হোক বা না হোক’।[22] আল্লাহর রাসূলের এই হাদীছের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের মহানুভবতা ফুটে ওঠে। সুতরাং প্রকৃত অক্ষম ও দরিদ্র ঋণীদের প্রতি সদয় হওয়া উচিত।

অক্ষম ঋণগ্রহীতাকে ছাড় প্রদানের ফযীলত :

সমাজে যেমন কিছু লোক পাওয়া যায়, যারা সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ঋণ শোধ করতে ঢিলেমি করে, তেমন সত্যিকারে এমন লোকও রয়েছে যারা নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম। এ রকম ব্যক্তিকে ইসলাম অতিরিক্ত সময় দিতে উদ্বুদ্ধ করে। যারা অক্ষম ঋণগ্রহীতাকে অবকাশ দেয় বা তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতের মহা পুরস্কার। মহান আল্লাহ বলেন,وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ وَأَنْ تَصَدَّقُوْا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ، ‘আর ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি অভাবী হয়, তাহ’লে তাকে সচ্ছল হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও। আর যদি ঋণ মাফ করে দাও, তাহ’লে সেটা তোমাদের জন্য আরো উত্তম, যদি তোমরা তা জানতে’ (বাক্বারাহ ২/২৮০)।

(ক) দানের ছওয়াব অর্জন : ঋণদাতা যদি অক্ষম ঋণীকে দেনা পরিশোধে ছাড় দেন, তাহ’লে তিনি এর মাধ্যমে আল্লাহর পথে দান-ছাদাক্বাহ করার নেকী অর্জন করেন। বুরাইদা আল-আসলামী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا كَانَ لَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ، وَمَنْ أَنْظَرَهُ بَعْدَ حِلِّهِ كَانَ لَهُ مِثْلُهُ، فِي كُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ. ‘যে ব্যক্তি (ঋণগ্রস্ত) অভাবী ব্যক্তিকে অবকাশ দিবে, সে দান-খয়রাত করার ছওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও সময় বাড়িয়ে দিবে, সেও প্রতিদিন দান-খয়রাত করার নেকী লাভ করবে’।[23]

(খ) আল্লাহর রাসূলের দো‘আ লাভ : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সেই পাওনাদার ব্যক্তির জন্য রহমতের দো‘আ করেছেন, যে অভাবী কর্যগ্রহীতার প্রতি সহনশীল হয়। জাবের (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) ইরশাদ করেছেন,رَحِمَ اللهُ عَبْدًا سَمْحًا إِذَا بَاعَ، سَمْحًا إِذَا اشْتَرَى، سَمْحًا إِذَا اقْتَضَى، ‘আল্লাহ সেই বান্দার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, যে বান্দা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় উদারচিত্ত হয় এবং (ঋণের) পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে সহনশীল হয়’।[24] ঋণীর প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শনের মাধ্যমে যদি রাসূল (ছাঃ)-এর দো‘আ লাভ করা যায়, তাহ’লে এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কি হ’তে পারে!

(গ) আরশের নিচে ছায়া লাভের সৌভাগ্য : যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য অক্ষম ঋণী লোকের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করে অথবা তার ঋণ মাফ করে দেয়, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদেরকে তাঁর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দিবেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا، أَوْ وَضَعَ لَهُ، أَظَلَّهُ اللهُ يَوْمَ القِيَامَةِ تَحْتَ ظِلِّ عَرْشِهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ ‘যে ব্যক্তি কোন অভাবী ঋণগ্রস্তকে সুযোগ প্রদান করে অথবা ঋণ মাফ করে দেয়, ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাকে তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় প্রদান করবেন। যেদিন তার আরশের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না’।[25]

(ঘ) আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভ : ক্বিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভ করার অন্যতম উপায় হ’ল অভাবী ও দরিদ্র ঋণগ্রস্তদের ঋণ মাফ করে দেওয়া। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

حُوسِبَ رَجُلٌ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، فَلَمْ يُوجَدْ لَهُ مِنَ الْخَيْرِ شَيْءٌ، إِلَّا أَنَّهُ كَانَ يُخَالِطُ النَّاسَ، وَكَانَ مُوسِرًا، فَكَانَ يَأْمُرُ غِلْمَانَهُ أَنْ يَتَجَاوَزُوا عَنِ الْمُعْسِرِ. قَالَ: قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: نَحْنُ أَحَقُّ بِذَلِكَ مِنْهُ، تَجَاوَزُوا عَنْهُ.

‘তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে এক লোকের হিসাব গ্রহণ করা হয়, কিন্তু তার মধ্যে কোন প্রকার সৎ আমল পাওয়া যায়নি। কিন্তু সে মানুষের সাথে লেন-দেন করত এবং সে ছিল সচ্ছল। তাই দরিদ্র লোকদের মাফ করে দেওয়ার জন্য সে তার কর্মচারীদের নির্দেশ দিত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ (ফেরেশতাদেরকে) বললেন, ‘এ ব্যাপারে (অর্থাৎ তাকে ক্ষমা করার ব্যাপারে) আমি তার চেয়ে অধিক যোগ্য। একে ক্ষমা করে দাও’।[26] অপর এক বর্ণনায় তিনি বলেন,مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُنْجِيَهُ اللهُ مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، فَلْيُنَفِّسْ عَنْ مُعْسِرٍ، أَوْ يَضَعْ عَنْهُ ‘যে ব্যক্তি এটা চায় যে, আল্লাহ তাকে ক্বিয়ামত দিবসের দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দিক, সে যেন অক্ষম ঋণগ্রস্ত লোকের সহজ ব্যবস্থা করে কিংবা ঋণ মওকূফ করে দেয়’।[27]

 (চলবে)

– আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ

[1]. হাশিয়া ইবনিল আবিদীন ৪/১৭১; গৃহীত: আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ ৩৩/১১১।

[2]. মুসনাদে আহমাদ হা/১০৫৭৮, ৭৯৮৮, সনদ হাসান।

[3]. বুখারী হা/২৩০৬,২৩৯৪; মিশকাত হা/২৯০৬, ২৯২৬।

[4]. বুখারী হা/৬৩৬৯।

[5]. তিরমিযী হা/৩৫৬৩; মিশকাত হা/২৪৪৯; সনদ হাসান।

[6]. বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/১০৭১৫; ইরওয়া হা/১৩৯৭, সনদ ছহীহ।

[7]. তিরমিযী হা/১৫৭২; ইবনু মাজাহ হা/২৪১২; ছহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব হা/২৮৯২; মিশকাত হা/২৯২১, সনদ ছহীহ।

[8]. আহমাদ হা/১৭২২৭; মিশকাত হা/২৯২৮, সনদ ছহীহ।

[9]. আহমাদ হা/২২৪৯৩; মুস্তাদরাক হাকেম হা/২২১২; ছহীহুত তারগীব হা/১৮০৪; মিশকাত হা/২৯২৯, সনদ ছহীহ।

[10]. বুখারী হা/২৩৮৯; মুসলিম হা/৯৯১।

[11]. সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩৪০৭; ছহীহুত তারগীব হা/৯০০, সনদ হাসান।

[12]. বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৩২৮৫; তাবারাণী, আওসাত্ব হা/৩৪৯৮, হাদীছ হাসান।

[13]. ইবনু মাজাহ হা/২৪৩০; ইরওয়াউল গালীল হা/২৪৩০।

[14]. তিরমিযী হা/১৯৫৭; আহমাদ হা/১৮৫১৬; মিশকাত হা/১৯১৭, সনদ ছহীহ।

[15]. বুখারী হা/১৪৪২; মুসলিম হা/১০১০।

[16]. মুসলিম হা/২৬৯৯; মিশকাত হা/২০৪।

[17]. ইবনু ক্বুদামাহ, আল-মুগনী ৪/২৪০।

[18]. বুখারী হা/৩৮১৪; মিশকাত হা/২৮৩৩।

[19]. ই’লামুল মুওয়াক্কে’ঈন ৩/১৩৭।

[20]. নায়লুল আওত্বার ৫/২৫৭।

[21]. আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ ৩৩/১৩১-১৩২।

[22]. ইবনু মাজাহ হা/২৪২১; ইবনু হিববান হা/৫০৮০; সনদ ছহীহ।

[23]. ইবনু মাজাহ হা/২৪১৮, সনদ ছহীহ।

[24]. ইবনু মাজাহ হা/২২০৩, সনদ ছহীহ।

[25]. তিরমিযী হা/১৩০৬; সুনানে দারেমী হা/২৬৩০; আহমাদ হা/৪৭১১ সনদ ছহীহ।

[26]. মুসলিম হা/১৫৬১; তিরমিযী হা/১৩০৭।

[27]. মুসলিম হা/১৫৬৩; মিশকাত হা/২৯০২



করোনাভাইরাসঃ কিছু ভ্রান্ত ধারনা ও বাস্তবতা

মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ার কারনে এখানকার মানুষের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্য যেকোন দেশের চেয়ে বেশি। চলুন জেনে নিই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত কিছু প্রচলিত বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ও এর বিপরীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রকৃত বাস্তবতা।

করোনাভাইরাস নিয়ে প্রচলিত কিছু গুজব ও প্রকৃত বাস্তবতা
১. গুজবঃ গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় করোনাভাইরাস ছড়ায় না।

বাস্তবতাঃ এখন পর্যন্ত এই ধারনার স্বপক্ষে কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। করোনাভাইরাস যেকোন এলাকায় ছড়াতে পারে। যেসব এলাকার আবহাওয়া গরম ও আর্দ্র, সেসব এলাকায়ও।
 
২. গুজবঃ ঠান্ডা আবহাওয়া ও তুষারপাতে করোনাভাইরাস মারা যায়।
বাস্তবতাঃ ঠান্ডা আবহাওয়া নতুন করোনাভাইরাসকে মেরে ফেলতে পারে বা অন্য কোন রোগ সারিয়ে দিতে পারে, এমনটি বিশ্বাস করার কোন কারন নেই। মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাহ্যিক তাপমাত্রা বা আবহাওয়ার কোন প্রভাব এর উপর পড়ে না।
 
৩. গুজবঃ গরম পানিতে গোসল করলে করোনাভাইরাস ঠেকানো যাবে।
বাস্তবতাঃ গরম পানিতে গোসল করলে করোনাভাইরাস ঠেকানো যাবে না। কারন, গোসলের সময় পানির তাপমাত্রা যাই হোক না কেন আপনার দেহের স্বাভাবিক তাপমতারা ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসই থাকবে। বরং, খুব বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল করলে আপনার শরীরের ক্ষতি হতে পারে, শরীর পুড়েও যেতে পারে।

৪. গুজবঃ মশার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায়।
বাস্তবতাঃ এখন পর্যন্ত এই ধারনার পক্ষে কোন প্রমান পাওয়া যায়নি।

৫. গুজবঃ হাত শুকানোর যন্ত্র করোনাভাইরাসকে মারতে কার্যকর।
বাস্তবতাঃ না, হাত শুকানোর যন্ত্র করোনাভাইরাসকে মারতে কার্যকর নয়।
 
৬. গুজবঃ ইউভি ল্যাম্প নতুন করোনাভাইরাসকে মেরে ফেলতে পারে।
বাস্তবতাঃ না। বরং এটা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। কারন, ইউভি ল্যাম্প থেকে তেজস্ক্রিয়তা নির্গত হয়।
৭. গুজবঃ নতুন করোনাভাইরাস শনাক্তকরনে থার্মাল স্ক্যানার কাজে আসে।
বাস্তবতাঃ আংশিক সত্য। নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ফলে জ্বর এসেছে, শুধু এমন লোকজনকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রেই থার্মাল স্ক্যানার কাজে আসে। কিন্তু আক্রান্ত হলেও জ্বর আসেনি, থার্মাল স্ক্যানার এমন কাউকে শনাক্ত করতে পারেনা।
৮. গুজবঃ সারাদেহে অ্যালকোহল বা ক্লোরিন স্প্রে করলে নতুন করোনাভাইরাস মারা যায়।
বাস্তবতাঃ না, মারা যায় না। যেসব ভাইরাস ইতোমধ্যেই আপনার শরীরে প্রবেশ করেছে, সেগুলোকে মারার সক্ষমতা অ্যালকোহল বা ক্লোরিনের নেই। চোখমুখ বা কাপড়ে এসব স্প্রে করাটা বরং ক্ষতিকর হতে পারে। মনে রাখতে হবে, সংক্রমণ রোধে অ্যালকোহল বা ক্লোরিন ভূমিকা রাখে ঠিকই, তবে সেটা যথাযথ নির্দেশিনা মেনে ব্যবহার করতে হবে।

৯. গুজবঃ নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমন থেকে বাঁচায়।
বাস্তবতাঃ এটি সঠিক নয়। নিউমোনিয়া বা অন্য কোন রোগের ভ্যাকসিন নতুন করোনাভাইরাসের হাত থেকে বাঁচাবে না। এই ভাইরাসটা এতটাই নতুন এবং আলাদা যে, এর জন্য নতুন ভ্যাকসিন প্রয়োজন। গবেষকরা নতুন এই ভাইরাসের জন্য ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ ব্যাপারে তাদের সাহায্য করছেন।

১০. গুজবঃ নাকে নিয়মিত স্যালাইন লাগালে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমন থেকে বাঁচা যাবে।
বাস্তবতাঃ এখন পর্যন্ত এই ধারনার পক্ষে কোন প্রমান পাওয়া যায়নি।

১১. গুজবঃ রসুন খেলে করোনাভাইরাস ঠেকানো যাবে।
বাস্তবতাঃ রসুন স্বাস্থ্যকর খাবার। এর কিছু এন্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যও আছে। কিন্তু বর্তমান প্রাদুর্ভাব থেকে এমন কোন প্রমান পাওয়া যায়নি যে, রসুন খেলে নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানো যাবে।

১২. গুজবঃ নতুন করোনাভাইরাসে শুধু বয়স্ক মানুষেরাই আক্রান্ত হবে।
বাস্তবতাঃ যেকোন বয়সের মানুষ নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ আছে, এমন বয়স্ক মানুষদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি এবং এরা সংক্রমিত হলে তীব্র অসুস্থতায় পড়তে পারেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ হচ্ছে, সব বয়সের মানুষের উচিৎ নিজেদেরকে এই ভাইরাস থেকে নিরাপদ রাখা। যেমন, নিয়মিত হাত পরিষ্কার করা এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত ভদ্রতা চর্চার ব্যপারে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

১৩. গুজবঃ অ্যান্টিবায়োটিক খেলে করোনাভাইরাস ঠেকানো যাবে এবং সংক্রমিত হলেও রোগ ভাল হয়ে যাবে।
বাস্তবতাঃ এটা সঠিক নয়। অ্যান্টিবায়োটিক এই নতুন ভাইরাসের ক্ষেত্রে কার্যকরি নয়। এগুলো শুধু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর।

১৪. গুজবঃ নতুন করোনাভাইরাস ঠেকানোর পদ্ধতি বা এর চিকিৎসা এসে গেছে।
বাস্তবতাঃ এটাও সঠিক নয়। নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বা চিকিৎসার জন্য এখন পর্যন্ত কোন ঔষধ তৈরি হয়নি।

নতুন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের যথাযথ যত্নের প্রয়োজন। অসুস্থ মানুষদের প্রয়োজন সর্বোচ্চ সহায়তামূলক সেবা। কিছু সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পরীক্ষাধীন আছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ভেতর দিয়ে যাদের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার অংশীদারদের সাথে গবেষনা ও উন্নয়নের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করছে।



রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২০

মেথির ১০টি আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য গুনাগুণ

রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

মসলা, খাবার, পথ্য মেথিকে এই তিনটিই বলা যায়। এর পাতা শাক হিসাবে গ্রামের মানুষের একটি প্রিয় খাবার।  যুগ যুগ ধরে কবিরাজী ও লোকজ চিকিৎসায় মেথির বীজ ব্যবহার হয়ে আসছে। এছাড়া মশলা অর্থাৎ পাঁচ ফোড়নের একটি উপাদান হিসাবেও এটি ব্যবহার  করা হয়। মেথি বীজে রয়েছে নানা উপকারি উপাদান যা শরীরের অনেক উপকারে লাগে। চলুন জেনে নিই মেথির আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য গুনাগুণ সম্পর্কে।

মেথির বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা
প্রোটিন,ভিটামিন-সি, পটাসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, কপার, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম প্রভৃতির অনন্য এক উৎস হচ্ছে মেথি। ১০০ গ্রাম মেথি শাক থেকে ৫০ ক্যালোরি শক্তি পাওয়া ছাড়াও ১.৫ গ্রাম (৭%) স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ৬৭ মিলিগ্রাম (২%) সোডিয়াম, ৭৭০ মিলিগ্রাম  (২২%)  পটাশিয়াম, ৫৮ গ্রাম (১৯%) কার্বোহাইড্রেট এবং ২৩ গ্রাম (৪৬%) প্রোটিন পাওয়া যায় যা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত দরকারি। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। নিয়মিত মেথি খাওয়ার নানা উপকারিতা নিম্নে বর্ণনা করা হলো-

১। শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে   

মেথিতে থাকে স্টেরিওডাল সেপোনিনস নামক উপাদান যা শরীরে থাকা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে গ্লেকটোম্যানান নামক আরেকটি  উপাদানের খোঁজ পাওয়া গেছে যা হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তে লবনের পরিমাণ কমিয়ে আনতে সাহায্য করে যার ফলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই নিয়মিত মেথি ভেজানো পানি পান করলে হঠাৎ করে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের মাত্রা অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব।

২। রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে
যাদের কম বয়সেই রক্তে চিনির পরিমাণ অর্থাৎ ব্লাড সুগার ঊর্ধমুখি থাকে তারা নিয়মিত মেথি ভেজানো পানি খেতে পারেন। এটি তাদের শরীরে গ্লেকটোমেনানের পরিমাণ বাড়ানো ছাড়াও দেহে শর্করার শোষণের পরিমাণ কমিয়ে আনে। এতে রক্তে সুগার লেভেল বাড়ার আশঙ্কা  অনেক কমে যায়। এছাড়া মেথিতে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড ইনসুলিনের কর্মক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ফলে ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় না।

৩। হজম শক্তি বৃদ্ধিতে
সহজ উপায়ে দেহে হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে মেথি বীজ দারুণ ভুমিকা রাখতে পারে। মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বাওয়েল মুভমেন্টে উন্নতি করে হজমে অনেক সহায়তা করে থাকে। তাই কনস্টিপেশনের সমস্যা দূর করতে নিয়মিত সকালে খালি পেটে মেথি ভেজানো পানি খাওয়া যেতে পারে।

৪। দেহের ওজন কমাতে
প্রতিদিন সকালে মেথি ভেজানো পানি পান করলে তা শরীরের স্থূলতা কমাতে সাহায্য করে। কেউ যদি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি বীজ পানিতে ভিজিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করে তাহলে তাঁর শরীরে ধীরে ধীরে ফাইবারের মাত্রা বাড়তে থাকে। এতে একদিকে যেমন তাঁর ক্ষিদে কমে যায় অন্যদিকে অতিরিক্ত খাবার গ্রহনেও লাগাম পরে। এতে শরীরের ওজন আস্তে আস্তে কমতে শুরু করে।

৫। জ্বরের প্রকোপ কমাতে ও সর্দি-কাশি সারাতে
আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় জ্বর হয়। এ অবস্থায় কেউ যদি এক গ্লাস মেথি বীজের পানি পান করেন তাহলে অনেক উপকার পেটে পারেন। মেথিতে বেশ কিছু উপকারি উপাদান রয়েছে যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অনেক বৃদ্ধি করে এবং দ্রুত জ্বরের প্রকোপ কমাতে  সাহায্য করে।  এছাড়া সর্দি-কাশি সারাতেও ঘরোয়া চিকিৎসা হিসাবে এর বিকল্প নেই বললেই চলে।

৬।  চুল পড়া রোধে
বহুকাল ধরে চুল পড়া রোধে মেথির ব্যবহার হয়ে আসছে। স্বাস্থ্যহীন চুলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত খাওয়া ছাড়াও বেটে মাথায় দেওয়া যেতে পারে। এজন্য মেথি বাটা নারিকেল তেলের মধ্যে সারা রাত চুবিয়ে রেখে সকালে চুলে মেখে এর ঘণ্টাখানেক পর গোসল করে ফেললে যথেষ্ট উপকার পাওয়া সম্ভব।

৭। ত্বক উজ্জ্বল রাখতে
রূপচর্চায়ও মেথির ভুমিকা অপরিসীম। চেহারায় বলিরেখা দেয়ার জন্য দায়ী নানা ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে মেথির ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতেও মেথির ভুমিকা রয়েছে।

৮। খুশকি দূর করতে
অনেকের চুলে প্রচুর খুশকি হয়ে থাকে যা মাথার শুষ্ক ও মৃত ত্বকের কারণে হয়ে থাকে।  খুশকির সমস্যা দূর করতে মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে বেটে পেস্ট তৈরি করতে হবে তবে চাইলে এর সাথে দই মেশানো যেতে পারে। এই মিশ্রণ মাথার ত্বকে লাগিয়ে তিরিশ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত এর ব্যবহারে দ্রুত খুশকি চলে যাবে।

৯। মহিলাদের ঋতুকালীন ও প্রসবজনিত সমস্যার সমাধানে
মেথিতে সাইটো-ইস্ট্রোজেন নামক উপাদান থাকে যা নারীদেহে প্রোলাকটিন নামের হরমোনের মাত্রার বৃদ্ধি্তে সাহায্য করে। এই হরমোন নারীদেহকে সুগঠিত করতে সাহায্য ছাড়াও ঋতুকালীন বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে খুবই কার্যকরী। এছাড়া বিশেষজ্ঞরা জরায়ুর সংকোচন ও প্রসারণের যন্ত্রণা কমাতে মেথির অবদান প্রমান করেছেন। তবে অতিরিক্ত খাওয়া হলে গর্ভপাত বা অপরিণত শিশুর জন্মদানের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। তাই অবশ্যই গর্ভবতী মায়েদের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তারপর খেতে হবে।

১০। ক্যান্সারকে দূরে রাখতে
রক্তে যদি টক্সিক উপাদানের মাত্রা বাড়তে থাকে তাহলে  ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কাও  বেড়ে যায়। আর এই ক্যান্সারকে দূরে রাখতে মেথি বীজের রয়েছে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা। এতে থাকা ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান রক্তে ভেসে বেরানো টক্সিক উপাদানগুলোকে শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। তাই শরীরে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়া প্রতিরোধ করতে নিয়মিত মেথিশাক কিংবা এর বীজ খাওয়া উচিত।

গত কয়েক দশক ধরে  দেশ ও বিদেশে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে মেথি বীজে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় প্রোটিন, উপকারি ফ্য়াট, ভাল কোলেস্টেরল, ডায়াটারি ফাইবার এবং আরও বেশ কিছু খনিজ এবং মিনারেল। এসব উপাদান নানাভাবে শরীরের উপকারে লাগে। তাই সুস্থ থাকতে চাইলে নিয়মিত মেথির ব্যবহার করতে হবে। 



করোনাভাইরাস ও সেলফ আইসোলেশন

রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

আমাদের সাধারন মানুষের কাছে শব্দ দুটির অর্থ প্রায় একই হলেও, স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিনের মানে সম্পূর্নই আলাদা। চলুন জেনে নিই সেলফ আইসোলেশন কি, এবং এ সময় কি কি করনীয়।
সেলফ আইসোলেশন কি?
সেলফ আইসোলেশন হচ্ছে কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস থেকে সম্ভাব্য আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবার, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের সুরক্ষার জন্য একটি কার্যকরী প্রতিরোধমূলক উপায়। বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তি বা করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন, এমন ব্যক্তির জন্যই ১৪ দিনের সেলফ আইসোলেশন প্রযোজ্য।

আমরা সবাই জানি যে আমরা একটি দূর্যোগপূর্ন সময় পার করছি, এ সময় আমাদের এধরনের প্রতিরোধ্মূলক ব্যবস্থা শুধু আমাদেরকেই না, বরং আমাদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও সর্বোপরি দেশের সকলকে এই ভাইরাসজনিত রোগ থেকে নিরাপদ রাখতে পারে।

বাহিরের লোকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। সম্ভাব্য আক্রান্ত ব্যক্তি যদি বাসায় অবস্থান করেন, সেক্ষেত্রে পরিবারের অন্যান্যরা যারা বিদেশ ভ্রমন করেননি বা অন্য কোন আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসেননি, তাদের কাছ থেকে অন্তত ১ মিটার বা ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে; এবং আক্রান্ত ব্যক্তির খাবার প্লেট, বাটি, কাপ, চামচ, গ্লাস, তোয়ালে, বালিশ ও অন্যান্য ব্যবহার্য্য জিনিসপত্র ব্যবহার করা যাবেনা। আক্রান্ত ব্যক্তির জিনিসপত্র ব্যবহারের পরপর সাবান দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।

সেলফ আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস আক্রান্তের লক্ষণ দেখা দিলে, যেমন – কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দেরি না করে আইইডিসিআর এর জরুরি হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন।

সাধারন পরামর্শ
১. সেলফ আইসোলেশনের ক্ষেত্রে অন্তত ১৪ দিন বাসায় অবস্থায় করতে হবে।
২. আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য আপনার নিয়োগকর্তা, বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যের কাছে সাহায্য নিন।
৩. বাড়িতে থেকেই কাজ করার জন্য আপনার নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগ করুন।
৪. কেনাকাটার জন্য অনলাইন শপগুলোর সাহায্য নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে পন্য ডেলিভারি আপনার বাসার দরজা পর্যন্ত রেখে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করুন।
৫. বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগের জন্য ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করুন; সরাসরি যোগাযোগ বা সংস্পর্শ পরিহার করুন।

৬. সেলফ আইসোলেশনের সময় শরীর ঠিক রাখার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন অনলাইন কোর্স করতে পারেন।

৭. ১৪ দিনের সেলফ আইসোলেশনের সময় যেকোন ধরনের গণপরিবহন, ট্যাক্সি বা এ জাতীয় বাহন পরিহার করুন।
৮. সেলফ আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় পরিবারের অন্যান্যদের সাথে নিবিড় সংস্পর্শ পরিহার করুন, এমনকি একই বিছানা, কাপড় ও খাবার শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।
৯. ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সময় অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে। হ্যান্ড স্যানিটাইজারও ব্যবহার করতে পারেন।
১০. অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, মুখ ও নাক স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
১১. কাশি ও হাঁচি দেয়ার সময় টিস্যু দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন অথবা হাতের কনুই দিয়ে নাক ও মুখ ঢাকুন।
১২. ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলে দিন এবং সাথে সাথে হাত ধুয়ে ফেলুন।
১৩. শিশুদের করোনাভাইরাস সম্পর্কে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলুন।
১৪. বিভিন্ন দেশের আক্রান্ত ব্যক্তিদের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তি যেমন হৃদরোগে আক্রান্ত, ডায়াবেটিস আছে কিংবা উচ্চরক্তচাপে ভুগছেন, এমন মানুষ বেশি ঝুঁকিতে আছেন। এক্ষেত্রে তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ পরিহার করুন।

কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ যত্নের প্রয়োজন। অসুস্থ মানুষদের জন্য প্রয়োজন সর্বোচ্চ সহায়তামূলক সেবা।

ভাইরাসের কোন উপসর্গ দেখা দিলে সরকারের রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাথে যোগাযোগ করুন এবং আসুন আমরা সবাই উপরোক্ত বিষয়গুলোর দিকে সর্বদা খেয়াল রেখে আমাদের জীবন যাপন করি তাহলে আমরা সহজেই এরোগ থেকে অনেকটা নিজেদের দূরে রাখতে পারব।



শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০

শীতের সবজি 'বিট' খাওয়ার অসাধারণ কিছু উপকারিতা

শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

আমরা বাজারে গেলে নানান ধরনের সবজি কিনলেও একটি সবজি প্রায়ই এড়িয়ে চলি যার নাম বিট। এটি একটি উপকারি শীতকালীন সবজি যার উপকারিতা অনেকেরই অজানা।এর রয়েছে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সহ চমকে যাওয়ার মতো অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। চলুন জেনে নিই বিট খাওয়ার কিছু চমৎকার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে। 

বিটের বিভিন্ন পুষ্টি গুনাগুণ
বিটে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক,ক্লোরিন, আয়রন ও সোডিয়াম সহ নানা উপকারি উপাদান। এতে কোন কোলেস্টেরল নেই। প্রতি একশ গ্রাম বিটে ৪৩ ক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়। নিম্নে এর পুষ্টি গুনাগুণ দেওয়া হলো-
প্রতি ১০০ গ্রাম বিটে রয়েছে
পলিসেচুরেটেড ফ্যাট –                 ০.২ গ্রাম
সোডিয়াম                                  ৭৮ মিলিগ্রাম
পটাসিয়াম                                 ৩২৫ মিলিগ্রাম
কার্বোহাইড্রেট                            ১০ গ্রাম (আঁশ ২.৮ গ্রাম ও চিনি ৭ গ্রাম) 
প্রোটিন                                      ১.৬ গ্রাম
ভিটামিন সি                               ৮%
ভিটামিন বি ৬                            ৫%
আয়রন                                      ৪%
ম্যাগনেসিয়াম                            ৫%

বিটের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা
বিটে ডায়াবেটিস হতে আরম্ভ করে অ্যানিমিয়া, উচ্চ রক্তচাপ ও থাইরয়েডের মত সমস্যার ক্ষেত্রে অনেক উপকারি। তাই শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য বিভিন্ন উপাদান সমৃদ্ধ শীতের সবজি বিট খাদ্যতালিকায় রাখাই যায়। নিম্নে এর বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা বর্ণনা করা হলো।

অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ
রক্তাল্পতাজনিত সমস্যা যাদের রয়েছে তারা বিট খেলে অনেক উপকার পেতে পারেন কারন এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। নিয়মিত বিট খেলে তা শরীরে প্রয়োজনীয় রক্তের যোগান দিয়ে রক্তাল্পতার সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। এছাড়া মহিলাদের মধ্যে যাদের অনিয়মিত তাদের এই পিরিয়ডের সমস্যা উত্তরনে কিংবা যাদের খুব কম পিরিয়ড হয় তারাও এটি থেকে উপকার পেতে পারেন। এছাড়া বিট শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধিতেও কার্যকরী।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নেই এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া মুশকিল।কিন্তু শীতের মৌসুমে হাতের কাছে থাকা সহজলভ্য বিট উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে দারুন উপকার বয়ে আনতে পারে। গবেষণা করে দেখা গেছে যারা বেশি করে বিট খায় বা বিটের রস পান করে তাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কম। নাইট্রেট নামক উপাদান থাকা এটি ওষুধের থেকেও ভালো কাজ করে। এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রেখে আমাদের স্ট্রোকের হাত থেকে বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে।

লিভারের ফাংশনকে ভালো রাখা
নিয়মিত ফাস্ট ফুড খাওয়ায় অভস্ত্য আমাদের লিভারের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যাচ্ছে।বিট আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি বদহজম ও অন্যান্য পেটের অন্যান্য রোগ যেমন জন্ডিস, ডায়রিয়া, প্রভৃতি রোগের ক্ষেত্রেও অনেক উপকারি। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা নিয়ন্ত্রণেও কাজ করে লিভারের ফাংশনকে ভালো রাখে। 

দেহের শক্তি বৃদ্ধি 
দেহকে সুন্দর ও ফিট রাখতে রোজ জিমের পাশাপাশি বিট খেলে তা পেশীর শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া বিটের রস খুব তাড়াতাড়ি এনার্জির যোগান দেয় বলে জিমের পর খুব ক্লান্ত লাগলে খেয়ে নিতে পারেন একগ্লাস বিটের রস খেলে আপনি মুহূর্তেই হারানো এনার্জি ফিরে পেতে পারেন।

হাড় মজবুত রাখা 
বিট হাড়ের জন্যও অনেক উপকারী কারণ এটি হাড়কে মজবুত রাখতে সহায়তা করে। তাই প্রতিদিন বেশি করে খান বিট খাওয়া উচিত। এর শরীরে ক্যালসিয়াম ধরে রাখতে সাহায্য করে বলে হাড়ের যেকোনো সমস্যা রোধে এটি অনেক উপকারি। তাই যারা নিয়মিত  বিট  খায় তারা বৃদ্ধ হলে তাদের হাড়ের সমস্যায় ভুগতে হয়না।

ডিপ্রেশন দূর করতে
ডিপ্রেশন দূর করতে বিটের বিটের মত উপকারি উপাদান নেই বললেই চলে। এতে থাকা বিটেইন ও ট্রিপটোফোন নামক উপাদান মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই মন ভালো না থাকলে খেতে পারেন বিটের সরবত।

ত্বক ভালো রাখতে  
বিটের রয়েছে অ্যান্টি-এজিং গুনাগুণ তাই এটি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে বেশ সহায়ক। এছাড়া বিট ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ও অন্যান্য সমস্যা যেমন ব্রন, বলিরেখা দূর কাজ করে। উজ্জ্বল ত্বক লাভ করতে তাই প্রতিদিন একগ্লাস বিটের সরবত খেতে পারেন।

ক্যান্সার  প্রতিরোধ  
বিটে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী।এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বের করে আনতে ও দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

শুধু বর্তমানে নয় প্রাচীন সময় থেকেই বিটের অনেক কদর রয়েছে। এতক্ষণ আমরা জেনে নিলাম বিটের নানা স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা এখন মানার পালা। যাঁরা এই শীতের মৌসুমেও সতেজ ত্বক চান তাঁদের জন্য সেরা শীতের সবজি এই বিট। তাই নিজেকে সুন্দর ও হেলদি রাখতে তথা শরীর ফিট বা ঠিক রাখতে চাইলে আজ থেকেই খাদ্যতালিকায় অবশ্যই বিট যোগ করুন ।



টাইফয়েড জ্বরের কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিকার

শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
টাইফয়েড জ্বর বাংলাদেশে খুবই সচরাচর একটি রোগ। টাইফয়েড জ্বর স্যালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণে হয়ে থাকে। দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে প্রধানত দেহে এই জীবাণু ছড়ায়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার লোকজনের টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তস্রোতে ও অন্ত্রনালীতে এই ব্যাটটেরিয়া অবস্থান করে এবং দুষিত খাবার ও পানি গ্রহণের মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিযা দেহে প্রবেশ করা জীবাণুগুলো গুণিতক আকারে বেড়ে গিয়ে রক্তস্রোতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে জ্বরসহ নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। আজ আমরা জানব টাইফয়েড জ্বরের কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিকার সম্পর্কে।
টাইফয়েড জ্বরের কারণ ও ছড়ানোর মাধ্যম:
টাইফয়েড একটি পানিবাহিত মারাত্মক রোগ যা দুই ধরনের জীবাণুর সংক্রমণে এই রোগ হয়ে থাকে। (১)‘সালমোনেলা টাইফি’ এবং (২) ‘সালমোনেলা প্যারাটাইফি’। সালমোনেলা টাইফির সংক্রমণে যে জ্বর হয় তাকে টাইফয়েড জ্বর বা ‘এন্টারিক ফিভার’ বলে।  আর যদি জ্বর সালমোনেলা প্যারাটাইফির নামক জীবাণুর কারণে হয় তখন তাকে প্যারা টাইফয়েড জ্বর বলে। প্রধানত দূষিত পানি ও খাবার গ্রহণের মাধ্যমেই এই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি উদাসীনতার কারণেও এটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়াও টাইফয়েড জ্বর হতে আরোগ্য লাভ করেছেন কিন্তু এই ব্যাকটেরিয়া বহন করছেন এমন কিছু সংখ্যক ব্যক্তিও এই রোগের বাহক হতে পারে। যেভাবেই এই জীবাণু শরীরে শরীরে প্রবেশ করুক না ঢুকার পর তা বৃহদান্ত্রকে আক্রমণ করে।  এছাড়া এই ব্যাকটেরিয়া শরীরের পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং উপযুক্ত পরিবেশ পেলেই কেবল আক্রমণ করে।
টাইফয়েডের ঝুঁকি কাদের বেশি?
যেকোন বয়সেই টাইফয়েড হতে পারে, তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শরীরে জীবাণু প্রবেশ করলেই টাইফয়েড হবে এমন কোন কথা নাই কারণ দেহে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকলে অনেক সময়ই জীবাণু দেহে সংক্রমণ করতে পারেনা। তবে কম রোগপ্রতিরোধক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি যেমন এইচআইভি পজিটিভ ও এইডস রোগীরা সহজেই টাইফয়েডে আক্রান্ত হতে পারে। যেসব এলাকায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি সেসব জায়গায় ভ্রমণ করলেও এ রোগের জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণসমূহঃ
সাধারণত রোগ-জীবাণু শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ১৪ দিন পর রোগের লক্ষণ সমূহ প্রকাশ পেতে থাকে। জ্বর এ রোগের প্রধান লক্ষণ যা প্রথম চার-পাঁচ দিন জ্বর বৃদ্ধি পায় জ্বর কখনো বাড়ে, কখনো কমে; তবে কোনো সময় সম্পূর্ণ ছেড়ে যায় না। এর প্রধান প্রধান লক্ষণসমূহ নিম্নরুপঃ
  • ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত টানা জ্বর হওয়া।
  • জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
  • ক্ষুধামন্দা হওয়া সহ কারো কারো কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
  • শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া ও বমি হতে পারে।
  • গা ম্যাজ ম্যাজ করা সহ রোগীর কফ বা কাশি হতে পারে ।
  • প্রচণ্ড পেটে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
  • দ্বিতীয় সপ্তাহে রোগীর পেটে ও পিঠে গোলাপি রঙের দানা দেখা দিতে পারে।
  • কারো কারো জ্বরের সঙ্গে কাশি হয়।
  • হার্ট রেট বা হৃদস্পন্দন কমে যেতে পারে।
  • ওষুধ চলা অবস্থায়ও সপ্তাহ খানেক জ্বর থাকতে পারে।
কিভাবে টাইফয়েড জ্বর সনাক্তকরণ করা হয়?
পরীক্ষা নিরীক্ষার পর কেবল চিকিৎসকগণ বলতে পারবেন যে কারও টাইফয়েড জ্বর হয়েছে কিনা। টাইফয়েড দ্রুত সনাক্ত করার জন্য ব্লাড কালচার নামক রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। যদি নমুনায় স্যালমোনেলা নামক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায় তাহলে প্রকার ভেদে টাইফয়েড ও প্যারা- টাইফয়েড পার্থক্য করা হয়। এছাড়া জ্বর হওয়ার ২য় সপ্তাহে “উইডাল টেস্ট” নামে এক ধরনের ননস্পেসিফিক ব্লাড টেস্ট করতে হয় যাতে টাইটার দেখে টাইফয়েড নির্ধারণ করা হয়। 
টাইফয়েড জ্বরের চিকিৎসা পদ্ধতিঃ
প্রধানত এন্টিবায়োটিকের মাধ্যমে ডাক্তারগণ টাইফয়েড জ্বরের চিকিৎসা করে থাকেন। নির্দিষ্ট এন্টিবায়োটিক শুরুর পরও জ্বর কমতে পাঁচদিনও লেগে যেতে পারে। টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পরও দ্রুত চিকিৎসা না করলে জ্বর সপ্তাহ বা মাসব্যাপী থাকতে পারে। এছাড়া রোগী অন্যান্য জটিলতায় ভুগতে পারে। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীকে অধিক পরিমাণে তরল খাবার দেওয়া দরকার কারণ দীর্ঘস্থায়ী জ্বর এবং ডায়রিয়ার কারণে তাঁর শরীরে পানি স্বল্পতা দেখা দিতে পারে। তীব্র আকারে পানি শূন্যতা দেখা দিলে শিরাপথে ওষুধ প্রদানের মাধ্যমেও তরলজাতীয় খাবার প্রদান করা যেতে পারে। টাইফয়েডের রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। জ্বর বেশি থাকলে পুরো শরীর ভেজা গামছা বা তোয়ালে দিয়ে মুছে দিতে হবে। অসুস্থতাকালীন সময়ে হারানো পুষ্টি পুনরুদ্ধারে উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত। প্রতিবার বাথরুম ব্যবহারের পর হাত পানি ও সাবান দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হলো যতদিন পর্যন্ত চিকিৎসক এন্টিবায়োটিক গ্রহণের পরামর্শ দিবেন ততদিন পর্যন্ত তা গ্রহণ করতে হবে।
টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে করণীয়ঃ  
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টাইফয়েড জ্বরের জন্য নির্ধারিত ভ্যাক্সিন (টিকা) গ্রহণ করা রোগটি থেকে বেঁচে থাকার একটি উপায়। ইনজেকশন এবং মুখে খাওয়ার উভয় ধরনের ভ্যাক্সিন বাজারে পাওয়া যায়। ভ্যাক্সিন গ্রহণ করার ব্যাপারে চিকিৎসককের পরামর্শ নেওয়া দরকার। সব সময়  ভ্যাক্সিন ১০০% কার্যকর  হয়না তাই ভ্যাক্সিনের পাশাপাশি নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা দরকার।
  • শাকসবজি, ফলমূল এবং রান্নার বাসনপত্র সবসময় পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিতে হবে।
  • খাবার ভালভাবে রান্না বা সিদ্ধ করে তারপর খাওয়া উচিত।
  • খাবার গ্রহণ, প্রস্তত বা পরিবেশনের পূর্বে খুব ভালভাবে হাত ধৌত করতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে ফুটানো পানি বা পরিশোধিত পানি সংরক্ষণ করতে হবে এবং পানি যাতে দূষিত হতে না পারে সে জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংরক্ষণকৃত সেই পানি পান করা উচিত।
  • বোতলজাত, পরিশোধিত বা ফুটানো পানি হতে বরফ তৈরি করা না হলে সেই বরফ মিশিয়ে পানি বা অন্য কোন পানীয় পান করা হতে বিরত থাকতে হবে।
  • রাস্তার পার্শ্বস্থ দোকানের খাবার গ্রহণ এবং পানি পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
  • টয়লেট সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • টয়লেট ব্যবহারের পর, শিশুকে পরিষ্কার করার পূর্বে, খাবার প্রস্তুত বা পরিবেশন করার পূর্বে, নিজে খাওয়ার পূর্বে বা শিশুকে খাওয়ানোর পূর্বে সাবান দিয়ে ভালভাবে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাই টাইফয়েড থেকে বাঁচার মূলমন্ত্র। যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন তাদের প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় খেতে হয়। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি পান এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সবসময় নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না ফলে টাইফয়েডে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই টাইফয়েড প্রবণ এলাকা পরিদর্শন করলে বাইরের খাবার খাওয়া এবং পানি পান করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। 





বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০

Iqra Bangla TV লাইভ

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

আইকিউআরএ টিভি (স্কাই চ্যানেল 2৪২) ইমাম কাসিম রশিদ আহমদ ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যের মুসলমানদের জন্য প্রয়োজনীয় সম্প্রচার পরিষেবা প্রদানের একমাত্র উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

এর পরের বছরগুলিতে, আইকিআরএ টিভি দ্রুত ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় মুসলিম চ্যানেল হয়ে উঠেছে, এবং যুক্তরাজ্যের সমৃদ্ধ মুসলিম সম্প্রদায়ের পছন্দের চ্যানেলটির প্রোগ্রামিংয়ের অনন্য মিশ্রণের সাথে ধর্মীয় এবং শিক্ষাগত বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে আমাদের ক্রসটি আমাদের ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ওয়েব স্ট্রিমিংয়ের সাথে যুক্তরাজ্যের অনেক বেশি প্রসারিত - বিশ্বব্যাপী বিশ্বস্ত দর্শকদের, যেখানেই ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়, তাদের পছন্দমতো অনুষ্ঠানগুলি যেতে যেতে সক্ষম করে। এই সহজ অ্যাক্সেস স্ট্রিমিং আইকিউআরএ টিভির প্রোগ্রামিংয়ের উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে একটি প্রাথমিক অফার ছিল - স্ট্রিমিংয়ের পরে এখন থেকে সর্বব্যাপী শিল্প-প্রশস্ত হয়ে উঠেছে।

আইকিআরএ টিভির প্রোগ্রাম বেসটি আধুনিক বিশ্বের ধর্মগুলিতে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে এমন মুসলমানদের সমসাময়িক বিষয়গুলিকে সম্বোধন করে - যা আমাদের ব্রিটিশ মুসলমানদের মধ্যে একটি বৈচিত্র্যময় এবং অনুগত অনুসারী তৈরি করতে দেয়। অনন্য শ্রোতা-চালিত এবং অংশগ্রহণমূলক প্রোগ্রাম দর্শকদের তারা কীভাবে ইসলামিক টেলিভিশন দেখায় সে সম্পর্কে একটি নতুন, আকর্ষক, দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।

চ্যানেল আল খায়ের ফাউন্ডেশনের কাজগুলিও প্রদর্শন করে, কারণ এটি বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্রদের জন্য জরুরি ও উন্নয়নমূলক সহায়তা সরবরাহ করে। সরাসরি আপিল এবং একচেটিয়া অন-দ্য ডকুমেন্টারিগুলি বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত-দুর্দশা এবং দুর্যোগ-আক্রান্ত অঞ্চলগুলির কেন্দ্রস্থল থেকে সরাসরি দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে। এটি আমাদের দর্শকদের অবহিত করে এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে আমাদের দাতব্য ড্রাইভগুলিকে সমর্থন করতে সক্ষম করে।

আইকিআরএতে আমরা আমাদের দর্শকদের খুব সেরা টিভি অভিজ্ঞতা সরবরাহে বিশ্বাস করি। এর অর্থ সকল বয়সের দর্শকদের জন্য সেরা অফার: শিশুদের শিক্ষাগত সামগ্রী থেকে শুরু করে এমন প্রোগ্রামগুলিতে যা বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের সমসাময়িক সমস্যাগুলিকে সম্বোধন করে।

যুক্তরাজ্যের আইকিউআরএ টিভিতে পৌঁছনো কার্যত সমস্ত পরিবারে প্রসারিত, সুতরাং আইকিআরএ টিভিটি ইউকে-র ৩.৪ মিলিয়ন মুসলমানদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল হিসাবে পরিণত হয়েছে।



Channel Stv লাইভ

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
ইউরোপে উপলব্ধ চ্যানেল এস টেলিভিশন ইউকে ভিত্তিক বাংলা ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল, বিশ্বজুড়ে তাদের কন্ঠস্বর তুলতে পারে এমন এক শক্তিশালী বৈদ্যুতিন মিডিয়ায় বাংলাদেশের শ্রোতা। এই যাত্রাটি ২০০৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়েছিল, যখন অনন্য আবিষ্কারের একদল প্রতিভা শিল্প প্রযুক্তির সর্বশেষ রাষ্ট্রটি ব্যবহার করে টেলিভিশন চ্যানেলটি মূলধারার মানটিতে সম্প্রচারের চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল। চ্যানেল এর টিভি 2006 সালে বাংলাদেশের বাইরে সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলা চ্যানেল হিসাবে ভোট পেয়েছে।



Madani TV Bangla

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

দাওয়াত-ই-ইসলামী, বিশ্বব্যাপী কুরআন ও সুন্নাহর প্রচারের জন্য কাজ করা একটি বৈশ্বিক অরাজনৈতিক ইসলামী সংস্থা। এটি ১৯৮১ সালে পাকিস্তানের করাচিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বর্তমান যুগের অন্যতম মহান আলেম শায়খ-ই-তারিকাত, আমির-এ-আহলে সুন্নাত, দাওয়াত-ই-ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা হযরত আল্লামা মাওলানা আবু বিলাল মুহাম্মদ ইলিয়াস আতর কাদরী রাজাভি জিয়ায়ে دامت برکاتھم العالیہ। তিনি এই ইসলামী বিপ্লবটি সমাজে ক্রমবর্ধমান নোংরামি পরিষ্কার করার জন্য, মানুষকে সর্বশক্তিমানের পথে টেনে আনতে এবং তাঁর কয়েকজন সাহাবীর সাথে ইসলামের সত্য শিক্ষা প্রদান করার জন্য এবং এখন আল্লাহর রহমতে প্রিয়তমা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুগ্রহে দোয়া করেছিলেন। তাঁর এবং অমিয়ার আহলে সুন্নাত দাওয়াত-ই-ইসলামীর নিরলস প্রচেষ্টা এবং দৃ determination় সংকল্প বিশ্বের ১৯৪ টিরও বেশি দেশে ইসলামের প্রচারের জন্য একদিন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যে একমাত্র লক্ষ্য রেখেই যে "আমাকে অবশ্যই নিজেকে সংস্কার করার জন্য সংগ্রাম করতে হবে এবং পুরো বিশ্বের মানুষ। "



Pace TV LIVE

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে



ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন ইন্টারন্যাশনাল (আইআরএফআই) ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে নিবন্ধিত একটি সীমাবদ্ধ সংস্থা (সংস্থা নং: 06065201) এবং চ্যারিটি কমিশনে নিবন্ধিত একটি স্বাধীন দাতব্য সংস্থা (দাতব্য নিবন্ধন নম্বর 1122086)। আইআরএফআই সম্পর্কে আরও তথ্য এখানে পাওয়া যাবে।

আইআরএফআইয়ের নিবন্ধিত অফিসের ঠিকানা 47 ক্যালথর্প রোড, এজবাস্টন, বার্মিংহাম, ইংল্যান্ড বি 15 1TH। আইআরএফআই অনুদান প্রদানের মাধ্যমে পিস টিভি চ্যানেলগুলির পরিচালনার জন্য অর্থায়ন করে এবং আইআরএফআই পিস টিভি চ্যানেলগুলির একমাত্র অনুদানকারী।

আইআরএফআই-তে অনুদান দেওয়ার জন্য, দয়া করে নীচের অনুদানের ফর্মটি পূরণ করুন।
১. পিস টিভি 'ফ্রি টু এয়ার' ইংরেজি ও উর্দুতে অত্যাধুনিক টেলিভিশন প্রোগ্রামগুলি সম্প্রচার করে।
২. সেরা উপলব্ধ মিডিয়া প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা, গবেষণা, প্রোগ্রাম সফটওয়্যার এবং অপারেশনাল পরিচালনা দ্বারা ব্যাক আপ।
৩. সমগ্র মানবজাতির জন্য সত্য, ন্যায়বিচার, নৈতিকতা, সম্প্রীতি, প্রজ্ঞা এবং PEACE প্রচার করার জন্য অনুসন্ধান।
৪. পিস টিভি এশিয়া, মধ্য প্রাচ্য, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকার অনেক অংশ সহ বিশ্বব্যাপী 125 টিরও বেশি দেশে প্রাপ্ত এবং উপভোগ করা যায়।
৫) সম্প্রচারিত কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান পন্ডিত এবং ধর্ম ও মানবতা সম্পর্কিত বক্তা উপস্থিত থাকবে;

ডাঃ জাকির নায়েক (ভারত)

আহমেদ দিদাত (দক্ষিণ আফ্রিকা)
ডাঃ বিলাল ফিলিপস (কানাডা)
ইয়াসির ফাজাগা (ইউএসএ)
আবদুর রহিম গ্রিন (ইউকে)
হুসেন ইয়ে (মালয়েশিয়া)
ডাঃ জাফর ইদ্রিস (সুদান)
সালেম আল আম্রি (সংযুক্ত আরব আমিরাত)
ডাঃ ইসরার আহমেদ (পাকিস্তান)
মাওলানা পেরেক (ভারত)
এবং আরও অনেক কিছু



AL Dawah TV ইসলামিক টিভি

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে


এএইএইএইচ মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন লিমিটেডের মালিকানাধীন দেশটির সর্বশেষ প্রাইভেট ইসলামিক ইন্টারনেট টেলিভিশন চ্যানেল আ.ল. দাওয়াহ.টিভি। আ.ল. দাওয়াহ.টিভি সত্য, সৌন্দর্য এবং স্বাস্থ্যের উপস্থাপনাগুলির দিকে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে মানবতার বার্তা প্রচারের জন্য মানব সমাজের শান্তি ও কল্যাণের শুদ্ধ বিনোদন-যুগের প্রতিশ্রুতি। চিরন্তন সত্যের উপস্থাপনের লক্ষ্য, সৌন্দর্য এএইএইএইটি মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন লিমিটেড সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একটি স্বাস্থ্যকর প্রবণতা। পবিত্র কুরআনের আলোকে জ্বলজ্বল করে আমাদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিশুদ্ধ সংস্কৃতিতে আল্লাহর বাণী জ্বলছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাদের সকল ভাল কাজ গ্রহণ করেন। আমিন!


আল-কোরআন লাইভ

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

আল কুরআন, মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ যা কেবলমাত্র মুসলমানদেরই নির্দেশনা দেয় না তবে এতে সমগ্র মানবতার জন্য দিকনির্দেশনা রয়েছে। আপনি যদি মানুষ হন তবে আপনি এই পবিত্র বইটিতে আপনার জীবনের প্রতিটি নিরাময় এবং সুখ পাবেন। আল কুরআন এমপি 3 হ'ল এক ধরণের রেডিও যা অনলাইন এবং এটি বিশ্বের সমস্ত মুসলিম এবং অমুসলিমদের কাছে পবিত্র কুরআনের সুন্দর তিলাওয়াত প্রচার করে। কুরআন অধ্যায়গুলিতে বিভক্ত (আরবীতে সুরা), যা পরে আয়াতগুলিতে বিভক্ত হয় (আয়াত

আল-কোরআন লাইভ




Azan.tv ইসলামিক টিভি

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

আজান টিভি কানাডার প্রথম 24 ঘন্টা বাংলা ইসলামিক টেলিভিশন চ্যানেল। তাদের উদ্দেশ্য ইসলামের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করা। আজান টিভি সারা বিশ্ব জুড়ে বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়ের তেলাওয়াত-কুরআন, হামদ-ও-নাটস, বিদ্বানদের বক্তৃতা, পাবলিক বক্তৃতা, ডকুমেন্টারি, শিশু প্রোগ্রাম, মহিলা প্রোগ্রাম, যুব আলোচনা, শিক্ষামূলক এবং বর্তমান বিষয়গুলি সরবরাহ করে। এটি আইপি বক্সের পাশাপাশি অনলাইনেও দেখা যায়। এটা তোলে Android এবং iOS অ্যাপ্লিকেশান দ্বারা দেখা যাবে।




বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০

আল কুরআনের সংক্ষিপ্ত তাফসীর সুরা বাকারা - ১ম পর্ব

বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
সূরা আল বাক্বারাহ
মদীনায় অবতীর্ণ , আয়াত সংখাঃ ২৮৬
-------------------------------------------
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِِ 
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
তিন পর্বের আজ প্রথম পর্ব




আদর্শ সমাজ গঠনে সুরা মাউন এর শিক্ষা

বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

আদর্শ সমাজ গঠনে সুরা মাউন এর শিক্ষা 
 -----------ইমামুদ্দিন বিন আব্দুল বাছীর 

মানুষ সামাজিক জীব। মানুষকে সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে হয়। জন্মগত ভাবেই মানুষ সঙ্গী প্রিয়। তারা নিঃসঙ্গ থাকতে পারে না এবং সঙ্গীহিন জীবন পছন্দও করে না। সমাজ বদ্ধ হয়ে বসবাস করতে হলে কিছু আদব কায়দা তথা শিষ্টাচার বজায় রাখতে হয়।







সুন্নতের অনুসরণ

বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

পাঠ সংক্ষেপ
খুতবায় যা থাকবে : ১ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মহব্বতের হাকীকত বয়ান, ২ - ইবাদত কখনো কবুল হবে না যদি না তা সুন্নত মুতাবিক হয়, ৩ – ‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল এ কথায় ঈমান আনার অর্থ একনিষ্ঠভাবে তাঁর অনুসরণ করা
 
প্রথম খুৎবা

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ فَتَحَ لَنَا أَبْوَابَ الْهُدَىَ بِمَنْ جَعَلَهُ خَيْرَ الْأَنَامِ، وَجَعَلَ أُمَّتَهُ خَيْرَ الْأُمَمِ وَجَعَلَ الذِّلَّةَ وَالصَّغَارَ عَلَى مَنْ خَالَفَ أَمْرَهُ مِنْ ذَوِيْ الْإِجْرَامِ، نَحْمَدُهُ عَلَى مَا أَسْبَغَ الْأَنَامَ مِنْ جَزِيْلِ الْإِنْعَامِ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلهَ إِلَّا اللّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، صَلَّى اللهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيِنِ، أَمَّا بَعْدُ:

মুহতারাম হাযেরীন! আমাদের মাঝে এমন কে আছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসেন না? এমন কে আছেন যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পছন্দের জিনিসকে পছন্দ করেন না? এমন কে আছেন যিনি আখেরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথী হওয়ার আশা রাখেন না?

এমন কে আছেন যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফায়াতের প্রত্যাশা করেন না?

হ্যাঁ, সবাই তা চায়। সবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শাফায়াতের প্রত্যাশা করে। সবাই তাঁকে ও তাঁর মুহাব্বতের জিনিসকে মুহাব্বত করার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করতে চায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর পথ ও পদ্ধতি কি? কিভাবে তা লাভ করা যায়?

হ্যাঁ, এর পথ একটিই। পদ্ধতি একটিই। আর সেটা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য করা। তাঁর সুন্নতকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা। এ কারণেই মহান আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি মহব্বত ও ভালোবাসাকে অত্যাবশ্যক করে দিয়েছেন। অতএব, রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা ছাড়া ঈমানই পূর্ণতা লাভ করবে না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহব্বতের আলামত হলো, তাঁর অনুসরণ-অনুকরণ করা এবং তাঁর সুন্নতের ইত্তিবা করা। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে অসংখ্য আয়াত রয়েছে। হাদীসেও রয়েছে অসংখ্য প্রমাণ। নিম্নে কুরআন ও হাদীস থেকে কয়েকটি প্রমাণ উলে¬খ করা হল:

কোরআনের প্রমাণ:
আল্লাহ তাআলা বলেন :

{ قُلْ أَطِيعُواْ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فإِن تَوَلَّوْاْ فَإِنَّ اللَّهَ لاَ يُحِبُّ الْكَافِرِينَ }

‘বল, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদেরকে ভালবাসেন না’ (সূরা আলে-ইমরান: ৩২)।

অন্য এক আয়াতে এসেছে :

{ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللَّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً }

‘ হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর ও আনুগত্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারিদের। অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ করাওÑ যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর’ (সূরা নিসা: ৫৯)।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন :

{ منْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللّهَ وَمَن تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظاً }

‘যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হল, তবে আমি তোমাকে তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক করে প্রেরণ করিনি’ (সূরা নিসা: ৮০)।

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে :

{ قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ }

‘বল, যদি তোমরা আল¬হকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল¬¬াহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল¬¬াহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আলে ইমরান:৩২)।

তিনি আরো বলেন :

{ وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا }

‘আল্লাহ ও তার রাসূল কোনো কাজের আদেশ করলে কোনো ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে এ অধিকার নেই যে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়’ (সূরা আহযাব: ৩৬)।

হাদীসের প্রমাণ :
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

( وَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ فَسَيَرَىْ اخْتِلَافاً كَثِيْراً فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِيْ وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّيْنَ عَضُّوْا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ )

‘আর তোমাদের কেউ বেঁচে থাকলে সে বহু মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের অপরিহার্য কর্তব্য হবেÑ আমার সুন্নত এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত অনুসরণ করা। তোমরা এ সুন্নতকে খুব মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে থাকো এবং সমস্ত বিদআত থেকে বিরত থাকো। কেননা প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা’ (আবু দাউদ, তিরমিযী)।

অন্য এক হাদীসে এসেছে :

(كُلِّ أُمَّتِيْ يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبَىْ قَالُوْا وَمَنْ يَأْبَىْ قَالَ مِنَ أَطَاعَنِيْ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ عَصَانِيْ فَقَدْ أَبَىْ )

আবু হুরাইরা রাযি. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, আমার প্রতিটি উম্মত জান্নাতে যাবে। তবে যে অস্বীকার করে সে নয়। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, অস্বীকারকারী কে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে আমার অনুকরণ করল সে জান্নাতে যাবে। আর যে আমার নাফরমানী করল, সে-ই অস্বীকারকারী’ (বুখারী)।

সুন্নতের বাইরে বিদআত নির্ভর অক্লান্ত মেহনত-মুজাহাদ করে কোনো লাভ নেই। হাদীসে এসেছে :

( الْقَصْدُ فِي السُّنَّةِ خَيْرٌ مِنَ الاجْتِهَادِ فِي الْبِدْعَةِ )

‘ সুন্নত অবলম্বন করে মধ্যমপন্থায় চলা, বিদআত অবলম্বন করে অক্লান্ত মেহনত করার চেয়েও উত্তম’ (ইবনে হাজর)।

(وَعَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ :كُنَّا مَعَ ابْنِ عُمَرَ رَحِمَهُ اللَّهُ فِيْ سَفَرٍ فَمَرَّ بِمَكَانٍ فَحَادَ عَنْهُ، فَسُئِلَ لِمَ فَعَلْتَ ذلِكَ؟ قَالَ : رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ هَذَا فَفَعَلْتُ )

‘ মুজাহিদ রহ. বলেন, ‘আমরা একদা এক সফরে ইবনে উমর রাযি.-এর সঙ্গে ছিলাম। চলতে চলতে একস্থানে গিয়ে তিনি রাস্তা ছেড়ে অন্য দিকে গেলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘কেন আপনি এমনটি করলেন?’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ করতে দেখেছি। তাই আমিও তার অনুকরণে এমনটি করেছি’ (আহমদ)।

মুহতারাম ভায়েরা! ইত্তেবায়ে সুন্নতের বহু ইতিবাচক ফলাফল রয়েছে। আসুন আমরা এসব ফলাফলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নিয়ে আলোচনা করি।

এক. ক্ষতিকর ও গর্হিত মতানৈক্য থেকে সুরক্ষা : পরস্পরে নিন্দিত মতবিরোধ ও ক্ষতিকর মতানৈক্য অত্যন্ত গর্হিত কাজ। আর এ থেকে কেবল আল্লাহ তাআলা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্যের মাধ্যমেই বেঁচে থাকা সম্ভব। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন :

{ وَأَطِيعُواْ اللّهَ وَرَسُولَهُ وَلاَ تَنَازَعُواْ فَتَفْشَلُواْ وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوَاْ إِنَّ اللهَ مَعَ الصّابِرِين }

‘ তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য কর। এবং তোমরা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না। তাহলে তোমরা সাহসহারা হয়ে যাবে এবং তোমাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য ধর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন’ (সূরা আনফাল: ৪৬)।

উপরের আয়াত থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, সুন্নতের ইত্তেবা করা এবং তাকে আঁকড়ে ধরাই হচ্ছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা। আর নিন্দনীয় এখতেলাফ বা মতানৈক্য থেকে বেঁচে থাকার একমাত্র পথ হল আনুগত্য।

দুই: রাসূলুল্লাহ সাল¬াল¬হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নিন্দিত ফেরকা থেকে বেঁচে থাকা এবং নাজাতপ্রাপ্ত ফেরকার সাথে জুড়ে থাকার সুযোগ পাওয়া যায় ইত্তেবায়ে সুন্নতের মাধ্যমে। হাদীসে এসেছে :

( لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِيْ مَا أَتَى عَلَى بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيْلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِيْنَ مِلَّةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِيْ عَلَى ثَلَاثِ وَّسَبْعِيْنَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِيْ النَّارِ إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً، قَالُوْا مَنْ هِيَ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ : مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِيْ ‘ )

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন বনী ইসরাঈলের ওপর যেমন এসেছিল আমার উম্মতের ওপর হুবহু ঐরকম আসবে একেবারে জুতায় জুতায় মিলে যাওয়ার মতো। বনী ইসরাঈল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর আমার উম্মত বিভক্ত হবে তিহাত্তর দলে। তন্মধ্যে একটি ছাড়া সবক’টি দলই জাহান্নামে যাবে। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, সে জান্নাতী দল কোনটি ইয়া রাসূুলাল¬াহ? তিনি বললেন, আমি ও আমার সাহাবাগণ যার ওপর আছি’ (তিরমিযী,সহীহ)।

এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ ও তাঁর সাহাবীগণ যে আকীদা-বিশ্বাসের ওপর ছিলেন, যে আমল ও কর্মপন্থার ওপর ছিলেন, তা আঁকড়ে ধরাই জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির পথ বলে ব্যক্ত করা হয়েছে।

তিন: ইত্তেবায়ে সুন্নতের মাধ্যমে হিদায়েত হাসিল হয়। আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

( إِنِّيَ قَدْ تَرَكْتُ فِيْكُمْ شَيْئَيْنِ لَنْ تَضِلُّوْا بَعْدَهُمَا كِتَابَ اللهِ وَسُنَّتِي وَلَنْ يَتَفَرَّقَا حَتَّى يَرِدَ عَلَيَّ الْحَوْضَ )

‘ আমি তোমাদের মাঝে দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। এ দু’টির পর তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো, আল্লাহর কিতাব আর অন্যটি হলো আমার সুন্নত। জিনিস দু’টো তোমাদের থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত পৃথক হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি হাউজে কাউসারের কাছে উপনীত হবো’ (হাকেম, হাসান)।

চার. ইত্তেবায়ে সুন্নতের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল¬ামের জামাআতভুক্ত হওয়া যায়, আর সুন্নতের ইত্তেবা ছেড়ে দেয়ার অর্থ হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল¬ামের জামাআত থেকে বের হয়ে যাওয়া।

আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার তিন ব্যক্তি নবী করীম সাল-াল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিবিগণের ঘরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইবাদতের পরিমাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে আসলেন। যখন তাদেরকে এ সম্পর্কে জানানো হলো তখন যেন তাদের নিকট তা খুব কম মনে হলো। এমতাবস্থায় তাদের একজন বলল, আরে! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে আমাদের কী তুলনা! তাঁর তো পূর্বাপর সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে। অতঃপর তাদের একজন বলল, আজ থেকে আমি সর্বদা সারারাত জেগে নামাজ পড়ব। আরেকজন বলল, আমি দিনের বেলা সর্বদা রোযা রাখব। কখনো রোযা ভাঙ্গব না। তৃতীয়জন বললেন, আমি সর্বদা মহিলাদের সংস্পর্শ থেকে বিরত থাকব, কখনো বিবাহ করব না। এসময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে আসলেন এবং বললেন, ‘তোমরাই সেই লোক, যারা এমন এমন বলেছে? শোন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি আল্লাহ তাআলাকে তোমাদের চেয়ে বেশি ভয় করি। তথাপি আমি রোযা রাখি এবং রোযা ভঙ্গ করি। নামাজ পড়ি আবার ঘুমাই। আমি মহিলাদের বিয়েও করি। অতএব যে ব্যক্তি আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে সে আমার দলভুক্ত নয়’ (বুখারী)।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত থেকে বিমুখ থাকার দু’টি পর্যায় রয়েছে। একটি হলো গুনাহের পর্যায় আর অন্যটি হলো কুফরীর পর্যায়।

যদি কেউ অলসতা ও অবহেলাবশত সুন্নত তরক করে তবে তা হবে গুনাহের পর্যায়। অর্থাৎ এরূপ করার কারণে সে শুধু গুনাহগার হবে ঈমানহারা হবে না।

পক্ষান্তরে যদি কেউ সুন্নতকে অবজ্ঞা করে, অস্বীকার করে, দোষারোপ করে তাহলে তা হবে কুফরীর পর্যায়। কেননা সুন্নতের ওপর দোষারোপ করা, তার সমালোচনা করা ও ত্র“টি-বিচ্যুতি বের করাÑ এক প্রকার কুফরীই বটে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে যথার্থরূপে সুন্নতের অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন।

بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآن الْعَظِيْمِ وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْر الحْكِيْمِ، أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ إِنَّهُ هُو الْغَفُور الرَّحِيْمْ .
দ্বিতীয় খুৎবা

الْحَمْد لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، أَحْمَدُه سُبْحَانَه وَأَشْكُرُه، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَه إِلَّا اللهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسْولُهُ صَلَّى اللهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنَ، أَمَّا بَعْدُ:

মুহতারাম হাযিরীন! আমরা ইত্তেবায়ে সুন্নতের ফলাফল নিয়ে আলোচনা করছিলাম।

পাঁচ. ইত্তেবায়ে সুন্নতের আরেকটি ফল হলো ইত্তেবায়ে সুন্নতের মাধ্যমে শয়তানের পথ অনুসরণ থেকে পরিত্রাণ মিলে।

ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে একটি রেখা টেনে বললেন- এটা আল্লাহর পথ। এরপর তিনি তার ডানে ও বামে কয়েকটি রেখা টানলেন। অতঃপর তিনি সে দাগটির ডানে ও বামে আরো কয়েকটি ছোট রেখা টানলেন। তারপর তিনি বললেন, এটা আমার রাস্তা, এই বলে তিনি লম্বা রেখাটির দিকে ইশারা করলেন এবং বললেন, এটা আমার রাস্তা আর এগুলো অনেক রাস্তা। যার প্রতিটিতে একজন করে শয়তান বসে সেদিকে তোমাদেরকে আহবান করছে। সবশেষে তিনি তার বক্তব্যের সমর্থনে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন:

{ وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتّبِعُوهُ وَلاَ تَتّبِعُوا السّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ }

‘ আর এটি তো আমার সোজা পথ। সুতরাং তোমরা তার অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না, তাহলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। এগুলো তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।’ (সূরা আনআম: ১৫৩)।

অতএব যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নতের ইত্তেবা করল সে সিরাতে মুস্তাকীমের ইত্তেবা করল এবং শয়তানের যাবতীয় পথ থেকে নিরাপদ রইল।

কোনো এক বড় আলেম বলেন, বেশিরভাগ, গোমরাহী ও ভ্রষ্টতা কুরআন ও হাদীসকে শক্তভাবে আঁকড়ে না ধরার কারণেই হয়ে থাকে। যেমন ইমাম যুহ্রী রহ. বলেন- ‘আমাদের উলামাগণ বলতেন, সুন্নতকে আঁকড়ে ধরাই হচ্ছে নাজাতের পথ’।

ইমাম মালেক রহ. বলেন, ‘সুন্নত হচ্ছে নূহ আ.-এর কিশতির ন্যায়। যে তাতে আরোহণ করবে সে মুক্তি পাবে। আর যে আরোহণ না করে পিছনে থেকে যাবে সে ডুবে মরবে। এটা এজন্য যে, সুন্নত ও শরীয়তই হচ্ছে ঐ সিরাতে মুস্তাকীম বা সরল-সহজ পথ, যা বান্দাদেরকে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। আর রাসূল হলেন এ সিরাতে মুস্তাকীমের অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শক’।

ছয়. ইত্তেবায়ে সুন্নতের আরেকটি ফল হলো, এর মাধ্যমে আল্লাহর দীনের পুরোটাই হাসিল করা সম্ভব হয়। আর তা এজন্য যে, দীনের অর্থ হলো আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা হবে না। আর কোন্টা ইবাদত কোন্টা ইবাদত না, তা নির্ণয়ের জন্য আল কুরআন ও সুন্নতে রাসূলের আশ্রয় নেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। এ কারণে ইবাদত হলো কুরআন ও হাদীসনির্ভর, যুক্তিনির্ভর নয়। আয়েশা রাযি.-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র হলোÑ কুরআন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত গোটা দীনকে শামিল করে আছে।

সাত: ইত্তেবায়ে সুন্নতের সপ্তম ফল হল উম্মতের ওপর থেকে সকল প্রকার লাঞ্ছনা ও অপমান দূর হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ যখন উম্মতে মুহাম্মদী সুন্নতের অনুসরণ করতে থাকবে তখন তাদের যাবতীয় লাঞ্ছনা ও অপমান দূর হয়ে যাবে। কেননা সুন্নতই হলো দীন। আর দীন পরিত্যাগ করার কারণে উম্মতের ওপর নেমে আসে লাঞ্ছনা ও অপমান।

আট: ইত্তেবায়ে সুন্নতের অষ্টম ফল হলো, মুসলিম জাতি যেসব রোগে আক্রান্ত সেসব রোগ ও তার চিকিৎসার বর্ণনাও সুন্নতের মধ্যে রয়েছে। যেমন:

‘সাওবান রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনÑ অচিরেই অমুসলিম সম্প্রদায়গুলো পরস্পর পরস্পরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাবে যেভাবে খাবারের বরতনের দিকে আহারকারীদেরকে আহবান করা হয়। তখন কেউ বলল, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেদিন কি আমরা সংখ্যায় কম হবো’? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘না, তোমরা তখন সংখ্যায় বেশিই হবে। কিন্তু সেদিন তোমরা হবে বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া খরকুটোর মতো। তোমাদের শত্র“দের অন্তর থেকে তোমাদের ভয় উঠিয়ে নেয়া হবে এবং তোমাদের অন্তরে ঢেলে দেয়া হবেÑ ‘ওয়াহান’। একজন জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ওয়াহান কী জিনিস? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বললেনÑ ‘ওয়াহান হলো, দুনিয়াকে মহব্বত করা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা’ (আহমদ, আবু দাউদ)।

এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের রোগ ও অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেনÑ অচিরেই অমুসলিম সম্প্রদায়গুলো পরস্পর পরস্পরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাবে, যেভাবে খাবারের বরতনের দিকে আহারকারিদেরকে আহবান করা হয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ কথা অক্ষরে অক্ষরে বর্তমানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আর তা এভাবে যে, আজ গোটা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে বিভিন্ন নিয়ামত ও কল্যাণে ভরপুর মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ছে। এমতাবস্থায় সুন্নতের যথার্থ অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিজদের ইজ্জত বাড়িয়ে নেয়া ছাড়া আমাদের কোন গত্যান্তর নেই। দুনিয়ার মহব্বত হৃদয় থেকে তিরোহিত করে মৃত্যুকে সন্তুষ্টচিত্তে আলিঙ্গন করার জন্য বলিষ্ঠ ঈমান ও আমলের দ্বারা নিজদেরকে প্রস্তুত রাখা ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনো উপায় নেই।

নয়: ইত্তেবায়ে সুন্নতের নবম ফল হলো, এর মাধ্যমে সকল প্রকার ফিতনা ও আল্লাহর আযাব থেকে নিজদেরকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন :

{ لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِوَاذًا فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ }

‘ তোমরা পরস্পরকে যেভাবে ডাকো রাসূলকে সেভাবে ডেকো না তোমাদের মধ্যে যারা চুপিসারে সরে পড়ে আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে জানেন। অতএব যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন তাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসা অথবা যন্ত্রণাদায়ক আযাব পৌঁছার ভয় করে’ (সূরা নূর: ৬৩)।

এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, যারা সুন্নতের বিরোধিতা করবে তারা বিভিন্ন রকম ফিতনা ও কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। অর্থাৎ তাদের মধ্যে কুফরী, মুনাফেকী ও বিদআতের মতো ভয়াবহ বিষয়সমূহের উদ্ভব ঘটবে, যার ফলশ্রুতিতে তারা কঠিন ও মর্মন্তুদ শাস্তির সম্মুখীন হবে।

পক্ষান্তরে যারা সুন্নতে রাসূলের অনুসরণ করবে তারা এসব ফিতনা ও শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকবে।

একবার এক লোক ইমাম মালেক রহ. এর খেদমতে হাজির হয়ে বলল, হে ইমাম! আমি ওমরা করার ইরাদা করেছি। ইমাম মালেক রহ. বললেনÑ তাহলে তুমি ইহরাম বাঁধো। লোকটি বলল, আমি ইহরাম বাঁধব ঠিক, তবে তা মদীনার মসজিদ থেকে। ইমাম মালেক রহ. বললেনÑ বৎস! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো যুল হুলাইফা থেকে ইহরাম বেঁধেছেন। অতএব তুমি যদি তাঁর বিরোধিতা করে মদীনার মসজিদ থেকে ইহরাম বাঁধো তবে তো আমি তোমার ওপর ফিতনা নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা করছি। এরপর তিনি তার বক্তব্যের সমর্থনে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন:

{ فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ }

‘ অতএব যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচারণ করে তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে’ (সূরা নূর: ৬৩)।

হে আল্লাহর বান্দাগণ! তাই আমাদের উচিত, প্রথমত ব্যক্তিগত জীবনে সুন্নত প্রতিষ্ঠা করা। কেননা ব্যক্তিগত জীবনে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ জীবনে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হবে। সমাজ জীবনে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হলে শহর জীবনে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হবে। শহর জীবনে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হলে গোটা দেশে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হলে গোটা জাতির মধ্যে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হবে। আর গোটা জাতির মধ্যে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দ্বারা গোটা ভূপৃষ্ঠে আল্লাহ চাহেন তো সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সবকিছু সংশোধন হয়ে যাওয়ার কারণে সর্বত্র শান্তির সুবাতাস বইতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুন্নত অনুযায়ী জীবন গঠন করার তাওফীক নসীব করুন। আমীন।
اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الْرَّاشِدِيْنَ وَعَنْ آلِ نَبِيِّكَ الطَّيِّبِيْنَ الْطَّاهِرِيْنَ وَعَنْ أَزْوَاجِهِ أُمُّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَعَنْ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ.

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে আপনার নবীর সুন্নতের অনুসরণের তাওফীক দান করুন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যেন সুন্নতকে সমুন্নত রাখতে পারি সেই তাওফীক আমাদেরকে দান করুন। সকল প্রকার বিদআত থেকে আমাদেরকে হিফাযত করুন। সুন্নত পরিপন্থি কাজকর্ম থেকে আমাদেরকে হিফাযত করুন।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে সকল প্রকার বালা-মুসীবত ও বিপদ-আপদ থেকে হেফাযত করুন। আমাদের অভাব দূর করে দিন। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকর্মে বরকত দিন। আমাদেরকে হালাল কামাই করার তাওফীক দান করুন।

ইয়া রাব্বাল আলামীন! আমাদের যাবতীয় পেরেশানী দূর করে দিন। আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে দীনদার, মুত্তাকী ও পরহেযগার বানিয়ে দিন।

عبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله : ( إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.



ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png