নবী নুহ (আঃ) ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাসূল। কুরআন মাজীদে তাঁর কাহিনী বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
জন্ম ও পরিচয়
নুহ (আঃ)-এর পিতার নাম ছিল লামিক।
তিনি আদম (আঃ)-এর দশম পুরুষ বংশধর।
আল্লাহ তাঁকে এমন এক জাতির কাছে প্রেরণ করেছিলেন, যারা বহু দেব-দেবী পূজা করত। তারা ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক ও নাসর নামক মূর্তির পূজা করত (সূরা নূহ 71:23)।
দাওয়াত ও সংগ্রাম
নুহ (আঃ) তাঁর কওমকে আল্লাহর একত্ববাদে দাওয়াত দেন।
তিনি প্রায় ৯৫০ বছর মানুষকে দাওয়াত দিয়ে গেছেন (সূরা আনকাবুত 29:14)।
দিন-রাত, গোপনে-প্রকাশ্যে তিনি মানুষকে তাওহীদে আহ্বান করতেন।
কিন্তু অল্প কিছু মানুষ ব্যতীত অধিকাংশই তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে, তাঁকে উপহাস ও অবজ্ঞা করে।
নৌকা নির্মাণ
আল্লাহ নুহ (আঃ)-কে নির্দেশ দেন একটি নৌকা (কিশ্তি/জাহাজ) বানাতে।
কাফিররা তাঁকে নিয়ে উপহাস করত।
আল্লাহর নির্দেশে তিনি নৌকায় তাঁর পরিবার, ঈমানদারগণ এবং প্রত্যেক প্রাণীর জোড়া জোড়া তুলে নেন।
মহাপ্লাবন
অবশেষে আল্লাহ আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং ভূমি থেকে পানি উথলে ওঠে।
পুরো পৃথিবী প্লাবিত হয়।
নৌকায় যারা ছিল তারা রক্ষা পায়, আর যারা অবিশ্বাসী ছিল তারা সবাই ডুবে যায়।
এমনকি তাঁর এক পুত্র (কানআন) অবিশ্বাসের কারণে ডুবে মারা যায় (সূরা হুদ 11:42–43)।
প্লাবনের পর
পানি নেমে গেলে নৌকা জুদী পাহাড়ে (বর্তমান তুরস্কের আরারাত অঞ্চলে) থামে।
এরপর নুহ (আঃ) ও তাঁর অনুসারীরা নতুন করে মানব সভ্যতার সূচনা করেন।
মৃত্যুবরণ
নুহ (আঃ) দীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করার পর মৃত্যুবরণ করেন।
হাদীস অনুযায়ী, মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর সন্তানদের তাওহীদের দাওয়াত আঁকড়ে ধরার ও শিরক থেকে বাঁচার উপদেশ দিয়ে যান।
কুরআনে নুহ (আঃ)
কুরআনের বিভিন্ন সূরায় নুহ (আঃ)-এর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে:
সূরা হুদ (১১)
সূরা আশ-শু'আরা (২৬)
সূরা আল-আনকাবুত (২৯)
সূরা আস-সাফফাত (৩৭)
সূরা আল-কামার (৫৪)
সূরা নূহ (৭১)
✅ শিক্ষা:
নুহ (আঃ)-এর জীবনী থেকে আমরা শিখি—
সত্য পথে দৃঢ় থাকতে হবে।
দীর্ঘ ধৈর্য ও ত্যাগ ছাড়া দাওয়াতের কাজ সফল হয় না।
ঈমানদারদের রক্ষা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিশ্চিত, আর কাফিরদের পরিণতি ধ্বংস।
আপনি কি চান আমি তাঁর জীবনীটি গল্প আকারে শিশুদের জন্য সহজ ভাষায় লিখে দিই, নাকি গভীর গবেষণাধর্মীভাবে বিস্তারিত তুলে ধরি?

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন