কুরআনের আয়াত
সূরা আল-আনকাবুত (২৯:১৪):
“আর নিশ্চয়ই আমরা নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম। তিনি তাদের মধ্যে অবস্থান করেছিলেন এক হাজার বছর থেকে পঞ্চাশ বছর কম; অতঃপর তাদেরকে প্লাবন আঘাত করেছিল, যখন তারা ছিল জালিম।”
ব্যাখ্যা (ক্লাসিকাল তাফসীর থেকে)
-
আক্ষরিক অর্থে সময়কাল
-
ইবন কাসীর, আল-তাবারি ও কুরতুবির মতো ক্লাসিক মুফাস্সিরীন সাধারণত এটি আক্ষরিক অর্থে নিয়েছেন।
-
তাদের মতে, নূহ (আঃ) তাঁর জাতিকে প্রায় ৯৫০ বছর ধরে দাওয়াত দিয়েছেন। এটি তাঁর মোট জীবনকাল নয়, বরং দাওয়াতের সময়কাল।
-
কিছু বর্ণনায় বলা হয়, তাঁর পুরো আয়ুষ্কাল ছিল ১০৫০ বছর বা তার বেশি (দাওয়াত-পূর্ব ও পরবর্তী সময়সহ)।
-
-
জীবনকাল নির্দেশ করছে
-
কিছু আলেম মনে করেন, এটি তাঁর মোট আয়ুষ্কালকে বোঝায়। যদিও এখানে সংখ্যাটির সাথে “অবস্থান করেছিলেন” (labitha) শব্দটি যুক্ত, যা অধিকাংশ আলেম দাওয়াতের সময়কাল হিসেবে নেন।
-
-
রূপক বা প্রতীকী অর্থ
-
কিছু আধুনিক গবেষকরা মনে করেন, “৯৫০ বছর” আসলে প্রতীকী সংখ্যা।
-
প্রাচীন সেমিটিক সাহিত্যে হাজার সংখ্যা অনেক সময় দীর্ঘতা বা অনন্তকাল বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। তাই এটি হয়তো “অত্যন্ত দীর্ঘ সময়” বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
-
হাদীস ও অন্যান্য রেফারেন্স
-
সরাসরি “৯৫০ বছর” নিয়ে সহীহ হাদীসে অতিরিক্ত বিস্তারিত নেই।
-
তবে বর্ণনা আছে, নূহ (আঃ)-এর মৃত্যু সময়ে তিনি তাঁর সন্তানদের তাওহীদের উপদেশ দেন এবং দুনিয়াকে “একটি ছায়াঘর” হিসেবে বর্ণনা করেন (মুসলিম শরীফ, কিতাবুল ফিতান)।
তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি (বাইবেলিক টেক্সট)
-
বাইবেলে (Genesis 9:29) বলা আছে, নূহের আয়ুষ্কাল ছিল ৯৫০ বছর।
-
তবে পার্থক্য হলো:
-
কুরআনে এই সময়কে “তাঁর জাতির মাঝে অবস্থান/দাওয়াত” হিসেবে বলা হয়েছে।
-
বাইবেলে সরাসরি এটি তাঁর জীবনকাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
-
আধুনিক গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি
-
অনেকে বলেন, প্রাচীন মানুষের আয়ুষ্কাল এখনকার তুলনায় বেশি হতে পারে।
-
জেনেটিক ও পরিবেশগত অবস্থার কারণে মানবজীবনের প্রাথমিক যুগে দীর্ঘায়ু সম্ভব ছিল—এমন তত্ত্ব কিছু ইসলামি চিন্তাবিদ তুলে ধরেছেন।
-
আধুনিক ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে প্রতীকী বা মিথোলজিকাল সময়রেখা বলা হয়, তবে মুসলিম আলেমগণ একে বাস্তব সত্য বলে মানেন।
✅ শিক্ষণীয় দিক:
-
সংখ্যাটি যেভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক না কেন, আসল বার্তা হলো:
-
নূহ (আঃ) চরম ধৈর্য ও অধ্যবসায় নিয়ে শত শত বছর মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকতে থেকেছেন।
-
এটি দাওয়াতের কাজে ধৈর্যের চূড়ান্ত উদাহরণ।
-

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন