শিরোনাম
Loading latest headlines...

বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নূহ (আঃ) “৯৫০ বছর” — বিশদ বিশ্লেষণ পর্ব-০৩


 


কুরআনের আয়াত

সূরা আল-আনকাবুত (২৯:১৪):

“আর নিশ্চয়ই আমরা নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম। তিনি তাদের মধ্যে অবস্থান করেছিলেন এক হাজার বছর থেকে পঞ্চাশ বছর কম; অতঃপর তাদেরকে প্লাবন আঘাত করেছিল, যখন তারা ছিল জালিম।”

ব্যাখ্যা (ক্লাসিকাল তাফসীর থেকে)

  1. আক্ষরিক অর্থে সময়কাল

    • ইবন কাসীর, আল-তাবারি ও কুরতুবির মতো ক্লাসিক মুফাস্সিরীন সাধারণত এটি আক্ষরিক অর্থে নিয়েছেন।

    • তাদের মতে, নূহ (আঃ) তাঁর জাতিকে প্রায় ৯৫০ বছর ধরে দাওয়াত দিয়েছেন। এটি তাঁর মোট জীবনকাল নয়, বরং দাওয়াতের সময়কাল।

    • কিছু বর্ণনায় বলা হয়, তাঁর পুরো আয়ুষ্কাল ছিল ১০৫০ বছর বা তার বেশি (দাওয়াত-পূর্ব ও পরবর্তী সময়সহ)।

  2. জীবনকাল নির্দেশ করছে

    • কিছু আলেম মনে করেন, এটি তাঁর মোট আয়ুষ্কালকে বোঝায়। যদিও এখানে সংখ্যাটির সাথে “অবস্থান করেছিলেন” (labitha) শব্দটি যুক্ত, যা অধিকাংশ আলেম দাওয়াতের সময়কাল হিসেবে নেন।

  3. রূপক বা প্রতীকী অর্থ

    • কিছু আধুনিক গবেষকরা মনে করেন, “৯৫০ বছর” আসলে প্রতীকী সংখ্যা।

    • প্রাচীন সেমিটিক সাহিত্যে হাজার সংখ্যা অনেক সময় দীর্ঘতা বা অনন্তকাল বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। তাই এটি হয়তো “অত্যন্ত দীর্ঘ সময়” বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।


হাদীস ও অন্যান্য রেফারেন্স

  • সরাসরি “৯৫০ বছর” নিয়ে সহীহ হাদীসে অতিরিক্ত বিস্তারিত নেই।

  • তবে বর্ণনা আছে, নূহ (আঃ)-এর মৃত্যু সময়ে তিনি তাঁর সন্তানদের তাওহীদের উপদেশ দেন এবং দুনিয়াকে “একটি ছায়াঘর” হিসেবে বর্ণনা করেন (মুসলিম শরীফ, কিতাবুল ফিতান)।


তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি (বাইবেলিক টেক্সট)

  • বাইবেলে (Genesis 9:29) বলা আছে, নূহের আয়ুষ্কাল ছিল ৯৫০ বছর

  • তবে পার্থক্য হলো:

    • কুরআনে এই সময়কে “তাঁর জাতির মাঝে অবস্থান/দাওয়াত” হিসেবে বলা হয়েছে।

    • বাইবেলে সরাসরি এটি তাঁর জীবনকাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


আধুনিক গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি

  • অনেকে বলেন, প্রাচীন মানুষের আয়ুষ্কাল এখনকার তুলনায় বেশি হতে পারে।

  • জেনেটিক ও পরিবেশগত অবস্থার কারণে মানবজীবনের প্রাথমিক যুগে দীর্ঘায়ু সম্ভব ছিল—এমন তত্ত্ব কিছু ইসলামি চিন্তাবিদ তুলে ধরেছেন।

  • আধুনিক ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে প্রতীকী বা মিথোলজিকাল সময়রেখা বলা হয়, তবে মুসলিম আলেমগণ একে বাস্তব সত্য বলে মানেন।


শিক্ষণীয় দিক:

  • সংখ্যাটি যেভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক না কেন, আসল বার্তা হলো:

    • নূহ (আঃ) চরম ধৈর্য ও অধ্যবসায় নিয়ে শত শত বছর মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকতে থেকেছেন।

    • এটি দাওয়াতের কাজে ধৈর্যের চূড়ান্ত উদাহরণ।



কোন মন্তব্য নেই:

ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png