শিরোনাম
Loading latest headlines...
ঈমান ও আকীদাহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঈমান ও আকীদাহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়

সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে



হাদিসে খুব স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। নিচে মূল বিষয়গুলো দিলাম—


📖 ১. সূরা কাহফ পাঠ করা

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

    "যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে।"
    (সহিহ মুসলিম)

👉 অন্য বর্ণনায় আছে: সূরা কাহফের শেষের ১০ আয়াত পাঠ করলেও দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।

সূরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত (আরবি, উচ্চারণ ও অর্থসহ) দিচ্ছি। এগুলো মুখস্থ ও নিয়মিত পাঠ করলে দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।


📖 সূরা কাহফ (১৮:১-১০)

১.

ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ ٱلَّذِيٓ أَنزَلَ عَلَىٰ عَبۡدِهِ ٱلۡكِتَـٰبَ وَلَمۡ يَجۡعَل لَّهُۥ عِوَجَاۜ ١
উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আঞ্জালা ‘আলা ‘আবদিহিল কিতাবা, ওয়া লাম ইয়াজ‘আল লাহূ ‘ইওয়াজা।
অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।


২.

قَيِّمٗا لِّيُنذِرَ بَأۡسٗا شَدِيدٗا مِّن لَّدُنۡهُ وَيُبَشِّرَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٱلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ أَنَّ لَهُمۡ أَجۡرًا حَسَنٗا ٢
উচ্চারণ: কাইয়্যিমান লিইউনযিরা বা’সান শাদীদাম মিন লাদুনহু, ওয়া ইউবাশশিরাল মুমিনীনাল্লাযীনা ইয়ামালুনাস-সালিহাতি আন্না লাহুম আজরান হাসানা।
অর্থ: সোজাসাপ্টা (গ্রন্থ), যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে কঠিন শাস্তির সতর্কতা দিতে পারেন এবং সৎকর্মশীল মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিতে পারেন যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম পুরস্কার।


৩.

مَّـٰكِثِينَ فِيهِ أَبَدٗا ٣
উচ্চারণ: মাকিসীনা ফীহি আবাদা।
অর্থ: তারা তাতে চিরকাল অবস্থান করবে।


৪.

وَيُنذِرَ ٱلَّذِينَ قَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ وَلَدٗا ٤
উচ্চারণ: ওয়া ইউনযিরাল্লাযীনা কালূত্তাখাযাল্লাহু ওয়ালাদা।
অর্থ: এবং তিনি তাদের সতর্ক করবেন যারা বলে, "আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।"


৫.

مَّا لَهُم بِهِۦ مِنۡ عِلۡمٖ وَلَا لِأٓبَآئِهِمۡۚ كَبُرَتۡ كَلِمَةٗ تَخۡرُجُ مِنۡ أَفۡوَٲهِهِمۡۚ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبٗا ٥
উচ্চারণ: মা লাহুম বিহি মিন ‘ইলমিন ওয়া লা লিআবাইহিম; কাবুরাত কালিমাতান তাকহারুজু মিন আফওয়াহিহিম; ইন্যা কূলূনা ইল্লা কাজিবা।
অর্থ: এ ব্যাপারে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, আর তাদের পূর্বপুরুষদেরও ছিল না। তাদের মুখ থেকে যে কথা বের হয় তা গুরুতর মিথ্যা। তারা শুধু মিথ্যাই বলে।


৬.

فَلَعَلَّكَ بَـٰخِعٞ نَّفۡسَكَ عَلَىٰٓ ءَاثَـٰرِهِمۡ إِن لَّمۡ يُؤۡمِنُواْ بِهَـٰذَا ٱلۡحَدِيثِ أَسَفًا ٦
উচ্চারণ: ফা-লা‘আল্লাকা বাখিঅুন নাফসাকা ‘আলা আ’সারিহিম ইল্লাম ইউমিনূ বিহাযাল হাদীসি আসাফা।
অর্থ: (হে মুহাম্মদ ﷺ) হয়তো তুমি এ কথায় দুঃখে নিজের প্রাণ ধ্বংস করে ফেলবে যদি তারা এতে ঈমান না আনে।


৭.

إِنَّا جَعَلۡنَا مَا عَلَى ٱلۡأَرۡضِ زِينَةٗ لَّهَا لِنَبۡلُوَهُمۡ أَيُّهُمۡ أَحۡسَنُ عَمَلٗا ٧
উচ্চারণ: ইন্না জা‘আলনা মা ‘আলাল আরদি জীনাতাল্লাহা লিনাবলুয়াহুম আয়্যুহুম আহসানু ‘আমালা।
অর্থ: আমি পৃথিবীর যা কিছু আছে তা সৌন্দর্য করেছি, যাতে আমি পরীক্ষা করতে পারি তাদের মধ্যে কে উত্তম কাজ করে।


৮.

وَإِنَّا لَجَـٰعِلُونَ مَا عَلَيۡهَا صَعِيدٗا جُرُزًا ٨
উচ্চারণ: ওয়া ইন্না লাজা‘ইলূনা মা ‘আলাইহা সা‘ঈদান জুরুজা।
অর্থ: আর অবশ্যই আমি তাতে যা কিছু আছে সবকে একদিন ধূলিসাৎ করে দেব।


৯.

أَمۡ حَسِبۡتَ أَنَّ أَصۡحَـٰبَ ٱلۡكَهۡفِ وَٱلرَّقِيمِ كَانُواْ مِنۡ ءَايَـٰتِنَا عَجَبًا ٩
উচ্চারণ: আম হাসিবতা আন্না আসহাবাল কাহফি ওয়ার রাকীমি কাআনূ মিন আয়াতিনা ‘আজাবা।
অর্থ: তুমি কি মনে করো যে গুহাবাসী ও রাকীম আমার নিদর্শনসমূহের মধ্যে আশ্চর্যজনক ছিল?


১০.

إِذۡ أَوَى ٱلۡفِتۡيَةُ إِلَى ٱلۡكَهۡفِ فَقَالُواْ رَبَّنَآ ءَاتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحۡمَةٗ وَهَيِّئۡ لَنَا مِنۡ أَمۡرِنَا رَشَدٗا ١٠
উচ্চারণ: ইয আওয়াল ফিতইয়াতু ইলাল কাহফি ফাকালূ রাব্বানা আ-তিনা মিল্লাদুনকা রাহমাতাও ওয়া হাইই লানা মিন আমরিনা রাশাদা।
অর্থ: যখন ওই যুবকেরা গুহায় আশ্রয় নিল, তখন তারা বলল: “হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের প্রতি তোমার পক্ষ থেকে দয়া বর্ষণ কর এবং আমাদের ব্যাপারে সঠিক পথ প্রস্তুত করে দাও।”


🌿 এগুলো প্রতিদিন পড়া ও মুখস্থ করার চেষ্টা করলে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।


🤲 ২. দোয়া পাঠ করা

নবী করীম ﷺ প্রতিটি নামাজের শেষে (তাশাহ্‌হুদের পরে) এই দোয়া পড়তে বলেছেন—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

উচ্চারণ:
"আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিন ‘আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন ‘আযাবিল কবর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল।"

অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাই তোমার কাছে জাহান্নামের শাস্তি থেকে, কবরের শাস্তি থেকে, জীবিত থাকা ও মৃত্যুকালের ফিতনা থেকে, আর মসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে।

(সহিহ মুসলিম, সহিহ বুখারি)


🕋 ৩. মক্কা-মদিনায় দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না

  • রাসূল ﷺ বলেছেন, মদিনার পথে ফেরেশতারা পাহারা দেবে। তাই দাজ্জাল কখনোই মক্কা ও মদিনায় ঢুকতে পারবে না।

🛡 ৪. দৃঢ় ঈমান রাখা

  • দাজ্জাল মানুষের ঈমান নষ্ট করার চেষ্টা করবে। তাই আল্লাহর তাওহীদে দৃঢ় বিশ্বাসরাসূল ﷺ এর সুন্নাহ অনুসরণ করা সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

✨ সারকথা:
দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচতে চাইলে —

  • সূরা কাহফের প্রথম বা শেষ ১০ আয়াত পড়া/মুখস্থ রাখা
  • প্রতিদিন নামাজ শেষে দোয়া পড়া
  • দৃঢ় ঈমান বজায় রাখা


শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫

ঈমান ও ইসলাম

শনিবার, আগস্ট ০৯, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে

ঈমান ও ইসলাম (ইতিক্বাদ নামা পুস্তুকের অনুবাদ) লেখে মাওলানা জিয়াউজিন খাকলদ আল বাগদাদী (আল্লাহ িায়াোর রহমিপ্রাপ্ত তবখযাি আকেম, তিতন সেে লেকে োকমে, ধমীয় বযাপাকর িার অসাধারন জ্ঞান, নযায় তবচাকরর েমিা রকয়কে এবং তিতন সিয পরায়ন)





বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫

বেসামরিক নাগরিকদের উপর হামলা এবং কাফিরদের উপর ব্যাপক হামলার বিধান

বুধবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে

সামরিক-বেসামরিক বলতে কী বোঝায়

  

সামরিক-বেসামরিক বলতে কী বোঝায়?

আমাদের আলোচ্য বিষয় বুঝতে হলে সর্বপ্রথম জানতে হবে সামরিক ও বেসামরিক বলতে কী বুঝায়? বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে কোনো দেশের সামরিক নাগরিক বলতে বোঝায় যারা সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য এবং দেশ রক্ষার কাজে নিয়োজিত তারা, এমনিভাবে যারা সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তারাও সামরিক। আর বাকি সাধারণ নাগরিক যারা রয়েছে তারা সবাই হলো বেসামরিক নাগরিক। এরা পুরুষ হোক নারী হোক, বৃদ্ধ বা শিশু হোক, সুস্থ-সবল হোক দুর্বল হোক অথবা অসুস্থ হোক, যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলে কিংবা কোনো সামরিক বাহিনীতে না থাকলে বেসামরিক বলেই গণ্য হয়। কিন্তু ইসলাম কি সামরিক-বেসামরিকের এই কনসেপ্ট গ্রহণ করেছে? বর্তমানে প্রচলনে সামরিক-বেসামরিক বলতে যেটা বোঝানো হয় সেটা কি মুসলিমরা মানতে বাধ্য? অসম্ভব, কখনোই নয়। ইসলাম স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বতন্ত্র দীন। ইসলামী শরীয়তে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে, যুদ্ধের সময় কাদেরকে হত্যা করা যাবে এবং কাদেরকে হত্যা করা যাবে না? আমাদের ফুকাহায়ে কিরাম কোন্ পরিস্থিতিতে কাকে হত্যা করা যাবে এবং কোন্ পরিস্থিতিতে কাকে হত্যা করা যাবে না তার সবকিছু নিয়েই খুলে খুলে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ইসলামেরও একটি নিজস্ব সামরিক-বেসামরিক সংজ্ঞা রয়েছে। এজন্য আমাদের প্রথমে জানতে হবে ইসলামের দৃষ্টিতে সামরিক কারা এবং বেসামরিক কারা? যুদ্ধের সময় কাদেরকে হত্যা করা যাবে এবং কাদেরকে হত্যা করা যাবে না? মূলত ফিকহের বড় বড় প্রায় সব কিতাবেই 'কিতাবুস সিয়ার' বা 'কিতাবুল জি হা দে' কাফেরদের মধ্যে কাদেরকে যুদ্ধের সময় হত্যা করা যাবে এবং কাদেরকে হত্যা করা যাবে না এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তবে অল্প জায়গায় খোলাসা উল্লেখ করে সবচেয়ে চমৎকার আলোচনা করেছেন ইমাম আলাউদ্দীন আল কাসানী রহিমাহুল্লাহ তার কালজয়ী ও অনবদ্য গ্রন্থ বাদায়িউস সানায়ি'তে। তিনি বলেন,

[فصل في بيان من يحل قتله من الكفرة ومن لا يحل] وأما بيان من يحل قتله من الكفرة ومن لا يحل، فنقول: الحال لا يخلو إما أن يكون حال القتال، أو حال ما بعد الفراغ من القتال، وهي ما بعد الأخذ والأسر؛


أما حال القتال فلا يحل فيها قتل امرأة ولا صبي، ولا شيخ فان، ولا مقعد ولا يابس الشق، ولا أعمى … ولو قاتل واحد منهم قتل، وكذا لو حرض على القتال، أو دل على عورات المسلمين، أو كان الكفرة ينتفعون برأيه، أو كان مطاعا، وإن كان امرأة أو صغيرا؛ لوجود القتال من حيث المعنى.


وقد روي «أن ربيعة بن رفيع السلمي – رضي الله عنه – أدرك دريد بن الصمة يوم حنين، فقتله وهو شيخ كبير كالقفة، لا ينفع إلا برأيه، فبلغ ذلك رسول الله – صلى الله عليه وسلم – ولم ينكر عليه»


والأصل فيه أن كل من كان من أهل القتال يحل قتله، سواء قاتل أو لم يقاتل، وكل من لم يكن من أهل القتال لا يحل قتله إلا إذا قاتل حقيقة أو معنى بالرأي والطاعة والتحريض، وأشباه ذلك على ما ذكرنا…

অর্থঃ “অধ্যায়: যেসব কা*ফেরকে হ*ত্যা করা জায়েয এবং যাদের হ*ত্যা করা জায়েয নয়ঃ


এ সম্পর্কে আমরা বলব, এক্ষেত্রে দুটি অবস্থা। যুদ্ধরত অবস্থা এবং যুদ্ধ থেকে ফারেগ হওয়ার পর গ্রেফতার ও বন্দী করা অবস্থা।


যুদ্ধ চলাকালে নারী, শিশু, অতিশয় বৃদ্ধ, বিকলাঙ্গ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং অন্ধকে… হ*ত্যা করা জায়েয নেই। তবে এদের কেউ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলে তাকে হ*ত্যা করা হবে। এমনিভাবে যদি তাদের কেউ যুদ্ধে উৎসাহ দেয়, মুসলমানদের বিপক্ষে গোয়েন্দাগিরি করে, কা*ফেররা তার মতামত দ্বারা লাভবান হয় অথবা সে অনুসরণীয় (নেতৃস্থানীয়) হয় -হোক সে নারী বা শিশু- (তাহলে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলেও) পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার কারণে তাকেও হ*ত্যা করা হবে।


এক বর্ণনায় এসেছে, হযরত রবিআ ইবনে রাফি আসসুলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু হুনাইন যুদ্ধের দিন দুরাইদ ইবনে সিম্মাহকে বাগে পেয়ে হত্যা করেন। অথচ তখন সে ছিল ক্ষীণকায় ও অতিশয় বৃদ্ধ। তার বুদ্ধি-পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে উপকৃত হওয়ার পথ তাদের ছিল না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি কোন আপত্তি করেননি।


এক্ষেত্রে মূলনীতি হল, যে কেউ যুদ্ধ করার উপযুক্ত, সে যুদ্ধ করুক বা না করুক- তাকে হ*ত্যা করা জায়েয। আর যে যুদ্ধের উপযুক্ত নয়, তাকে হ*ত্যা করা নাজায়েয। তবে যদি তারা সরাসরি যুদ্ধে আসে অথবা বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে, কিংবা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হওয়ার কারণে কিংবা উৎসাহ প্রদান প্রভৃতির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে লড়াইয়ে অংশ নেয়, তাহলে (সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলেও) তাদেরকে হ*ত্যা করা জায়েয। (বাদায়িউস সানায়ি’: ৯/৩৩৮-৩৪৮, প্রকাশনীঃ দারুল হাদীস)


এটাই হলো, ইসলামের সামরিক বেসামরিক কনসেপ্ট। ইসলাম অন্যদের থেকে ধার করে চলে না। অর্থাৎ ইসলামে সামরিক তারাই যারা যুদ্ধ করতে সক্ষম, সে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করুক বা না করুক। পক্ষান্তরে যারা যুদ্ধে অক্ষম তারাই হল বেসামরিক। যেমন নারী, শিশু, অতি বৃদ্ধ, এমন পাদ্রী যে সারাজীবন শুধু গির্জাতেই পড়ে থাকে এবং সাধারণ মানুষের সাথে মিশে না, এমন রোগাক্রান্ত ব্যক্তি যার পক্ষে কোনোভাবেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। তবে এ ধরণের ব্যক্তিরাও যদি যেকোনোভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তাহলে তাদেরকেও  হত্যা করা যাবে। এমনিভাবে যদি তারা এমন মেধাবী হয় যাদের দ্বারা যুদ্ধের কাজে সাহায্য নেওয়া যায় কিংবা পরামর্শ নেওয়া যায় অথবা সে সমাজের নেতা বা অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হয় তাহলে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলেও তাদেরকে হত্যা করা যাবে। এটাই ইসলামের সামরিক-বেসামরিক কনসেপ্ট। ফিকহের বড় বড় সব কিতাবেই এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সকল দলীল ও রেফারেন্স একত্র করতে গেলে বিশাল একটি গ্রন্থ হয়ে যাবে। তাই আপাতত সামান্য কয়েকটি উদাহরণ দেখুন,

আল হিদায়াঃ ২/৩৪০-৩৪১,প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল ফাতাহ (কম্পিউটার নুসখা) , আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়্যাহঃ ২/২১১, বাবু কাইফিয়্যাতিল কিতাল, প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল ইত্তিহাদ (দেওবন্দ), তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিমঃ ৩/৩৫-৩৬, প্রকাশনীঃ মাকতাবাতু দারিল উলুম, করাচী)


পাঠক লক্ষ্য করে দেখুন, বর্তমানে প্রচলিত সামরিক-বেসামরিক কনসেপ্টের সাথে ইসলামী শরীয়তের সামরিক-বেসামরিক কনসেপ্টের বিশাল পার্থক্য। এই সহজ বিষয়টা অনেকেই  তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। প্রচলিত অর্থে বেসামরিক নাগরিক হলেই ইসলাম তাদেরকে হত্যা করতে নিষেধ করে এমন অনর্থক ও ফালতু কথা অনেক বড় বড় ব্যক্তিদেরকেও বলতে শোনা যায়! ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অথচ এটা ইসলামী শরীয়তের একটি প্রসিদ্ধ মাসআলা। ফিকহের একজন সাধারণ থেকে সাধারণ তালিবুল ইলমেরও এই মাসআলা হল (সমাধান) থাকা দরকার ছিলো! অথচ আমাদের পরিচিত ভালো ভালো মেধাবী বড় ভাইদেরও এক্ষেত্রে পদস্খলনের শিকার হতে দেখা যাচ্ছে। و إلى الله المشتكى


যাইহোক, এটা হলো স্বাভাবিক অবস্থার কথা। অর্থাৎ, ইচ্ছাকৃতভাবে কাদেরকে টার্গেট করে হত্যা করা যাবে এবং কাদেরকে হত্যা করা যাবে না তাদের আলোচনা। কিন্তু যদি কাফের নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ এমনকি মুসলিমরাও একত্রে একটা অঞ্চলে বা একটা জায়গায় থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে হামলা করা জায়েয আছে কি-না? অর্থাৎ আমরা নিশ্চিত যে হামলা করলে অনেক নারী শিশু এমনকি মুসলিমও মারা যেতে পারে এটা জানা সত্ত্বেও তাদেরকে টার্গেট না করে সেই অঞ্চলে বা জায়গায় ব্যাপক হামলা করা যাবে কি-না?


এক্ষেত্রে প্রথমেই আমরা উপমহাদেশের অন্যতম মান্যবর আলেম মুফতী তাকী উসমানী হাফিযাহুল্লাহর বক্তব্য তুলে ধরছি! তিনি তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিমে একটি হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন,

" لا بأس إذن في إصابة النساء و الصبيان. و ليس المراد إباحة قتلهم بطريق القصد إليهم، بل المراد: إذا لم يمكن الوصول إلى الآباء إلا بوطأ الذرية، فإذا أصيبوا لاختلاطهم بهم جاز قتلهم...

و به يؤخذ حكم قذف القنابل في زماننا, فإنه يجوز إذا لم يقصد بها النساء و الصبيان. بل أريد بها النكاية في العدو. فإن أصيب بها النساء و الصبيان من غير قصد فلا بأس بها."

অর্থঃ এমন অবস্থায় (অর্থাৎ হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী মুশরিকদের উপরে রাতে ব্যাপক ও অতর্কিত হামলার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে) নারী এবং শিশুদের হত্যা করলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এর উদ্দেশ্য এই নয় যে, তাদেরকে টার্গেট করে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা বৈধ। বরং উদ্দেশ্য হলো, যদি শিশুদেরকে হত্যা করা ছাড়া বড়দেরকে হত্যা করা সম্ভব না হয়, তাহলে একত্রে মিশে থাকার কারণে তাদেরকে হত্যা করা  হলে তা বৈধ হবে।...

এ থেকে আমাদের যুগে বোমা নিক্ষেপ করার হুকুম গ্রহণ করা যায়। কেননা, নারী ও শিশুদেরকে সরাসরি টার্গেট না করলে তা বৈধ রয়েছে। বরং, এক্ষেত্রে যদি উদ্দেশ্য হয় শত্রুকে পরাস্ত করা এবং এক্ষেত্রে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে নারী ও শিশুদেরকে হত্যা করা হয় তাহলে কোনো সমস্যা নেই। (তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিমঃ ৩/৩৫)


বক্তব্য একদম পরিষ্কার। ইসলামী শরীয়তে দৃষ্টিতে যারা বেসামরিক অর্থাৎ যাদেরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করে হত্যা করা বৈধ নয় তারাও যদি সামরিকদের সাথে (যাদেরকে ইসলামের দৃষ্টিতে সরাসরি যুদ্ধ না করলেও হত্যা করা বৈধ তাদের সাথে) একত্রে মিশে থাকে তাহলে তাদের উপরে ব্যাপকভাবে হামলা করা বৈধ। এতে যদি ইসলামের দৃষ্টিতে বেসামরিক নাগরিক মারাও যায় তাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে শর্ত হলো তাদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করে হত্যা করা যাবে না। এই মাসআলাটাও একদম প্রসিদ্ধ, গ্রহণযোগ্য ও স্বীকৃত মাসআলা। এমনকি ফুকাহায়ে কিরাম সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এমন অবস্থায় যদি কোনো মুসলিম বন্দি বা ব্যবসায়ীও কাফেরদের মাঝে থাকে তবুও ব্যাপকভাবে হামলা করা বৈধ আছে‌। এমনকি যদি তারা মুসলিমদেরকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে তাহলে সেক্ষেত্রে আগে মুসলিমকে হত্যা করে তারপর তাদেরকে হত্যা করা বৈধ। তবে উদ্দেশ্য থাকবে কাফেররা। মুসলিমরা উদ্দেশ্য থাকবে না। পরবর্তীতে এই হত্যার কারণে কোনো ধরনের কিসাস বা দিয়ত (রক্তপণ) আসবে না। আহলুল ইলম ও তালিবুল ইলমদের উদ্দেশ্যে ইমাম মারগীনানী রহিমাহুল্লাহর হিদায়ার ইবারত তুলে ধরছি,

" ولا بأس برميهم وإن كان فيهم مسلم أسير أو تاجر " لأن في الرمي دفع الضرر العام بالذب عن بيضة الإسلام وقتل الأسير والتاجر ضرر خاص ولأنه قلما يخلو حصن من مسلم فلو امتنع باعتباره لانسد بابه " وإن تترسوا بصبيان المسلمين أو بالأسارى لم يكفوا عن رميهم " لما بينا " ويقصدون بالرمي الكفار " لأنه إن تعذر التمييز فعلا فلقد أمكن قصدا والطاعة بحسب الطاقة. (الهداية: كتاب السير، باب كيفية القتال، ٣/٤٣٩)

আরো দেখুন,

শরহু মুখতাসারিত তহাবীঃ ৭/২১-২২, আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়্যাহঃ ২/২১০, বাদায়িউ সানায়ি': ৩/৩৪৭-৩৪৮


যাইহোক, এ ব্যাপারে সব হাওয়ালা দিতে গেলে পোস্ট আর পোস্ট থাকবে না! কিতাবে পরিণত হয়ে যাবে। পরিশেষে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহর চমৎকার আলোচনা উল্লেখ করছি,


المحرم إنما هو قصد قتلهن فأما إذا قصدنا قصد الرجال بالإغارة أو نرمي بمنجنيق أو فتح شق أو إلقاء نار فتلف بذلك نساء أو صبيان لم نأثم بذلك لحديث الصعب بن جثامة أنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن أهل الدار من المشركين يبيتون فيصاب الذرية فقال “هم منهم” متفق عليه ولأن النبي صلى الله عليه وسلم رمى أهل الطائف بالمنجنيق مع أنه قد يصيب المرأة والصبي وبكل حال فالمرأة الحربية غير مضمونة بقود ولا دية ولا كفارة لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يأمر من قتل المرأة في مغازيه بشيء من ذلك فهذا ما تفارق به المرأة الذمية


 وإذا قاتلت المرأة الحربية جاز قتلها بالاتفاق لأن النبي صلى الله عليه وسلم علل المنع من قتلها بأنها لم تكن تقاتل فإذا قاتلت وجد المقتضى لقتلها وارتفع المانع. اهـ


“নিষেধ হল- ইচ্ছাকৃত টার্গেট বানিয়ে মহিলাদের হ*ত্যা করা। সুতরাং যদি আমরা পুরুষদের উদ্দেশ্যে বা কোন অঞ্চল বিজয়ের জন্য অতর্কিত আক্রমণ করি বা মিনজানিক (প্রাচীন ক্ষেপণাস্ত্র) দিয়ে আগুন ইত্যাদি নিক্ষেপ করি, ফলে কিছু নারী বা শিশু ধ্বংসের শিকার হয়, এ কারণে আমরা গুনাহগার হব না। কেননা, সা’ব ইবনে জাসসামা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে এসেছে, তিনি মু*শরিকদের ভূমিতে অতর্কিত আক্রমণের ফলে নিহত শিশুদের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘ওরা ওদের (মু*শরিকদের)-ই অন্তর্ভুক্ত’। (সহীহ বুখারী ও সহীহ ‍মুসলিম)। এছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফ বাসীর উপর মিনজানিক হামলা করেছেন। অথচ এর দ্বারা অনেক সময় নারী-শিশু আক্রান্ত হয়ে থাকে।


সর্বোপরি কথা হল, হা*রবী মহিলার কোন কিসাস, দিয়ত বা কাফফারার বিধান নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুদ্ধসমূহে কোন ব্যক্তি কোন মহিলাকে হ*ত্যা করে থাকলে, তিনি তাকে এসব কিছুর হুকুম দেননি। এটাই হা*রবী ও যিম্মি নারীর পার্থক্য।


হা*রবী মহিলা যদি লড়াইয়ে লিপ্ত হয়, তাহলে সকলের ঐকমত্যে তাকে হ*ত্যা করা জায়েয। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হ*ত্যা করা নিষেধ হওয়ার কারণ এই বলেছেন যে, ‘সে তো কি*তাল করে না’। সুতরাং যখন সে কি*তালে লিপ্ত হবে, তখন হত্যার উপযুক্ত কারণ পাওয়া গেল এবং নিষেধাজ্ঞার কারণ বিলুপ্ত হয়ে গেল …।” –আসসারিমুল মাসলূল: ১০৪


যাইহোক বিষয়টি একদম সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার।  এখানে জলঘোলা করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি বিপরীত দাবী করে তাহলে তাকে আমরা বলবো,

هاتوا برهانكم ان كنتم صادقين



শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে আখেরাত বিশ্বাসের ফলাফল

শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে

 




عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَا لِي وَلِلدُّنْيَا؟ وَمَا أَنَا وَالدُّنْيَا إِلَّا كَرَاكِبٍ اسْتَظَلَّ تَحْتَ شَجَرَةٍ، ثُمَّ رَاحَ وَتَرَكَهَا-


হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘দুনিয়ায় আমার কি? আমি ও দুনিয়া তো একজন পথিকের মত। যে একটি গাছের ছায়া তলে বসে আছে। ছায়া চলে যাবে এবং তাকে ছেড়ে যাবে’।[1] এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, দুনিয়া ও আখেরাতের তুলনা সেতুর এ প্রান্ত ও অন্য প্রান্তের ন্যায়। দুনিয়াতে মানুষ প্রতি পদে পদে সেতু পার হয়ে চলেছে। যখন যেখানেই তার মৃত্যু হবে, তখন সেখানেই সে তার জীবন সেতুর শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাবে। আর কবর হ’ল আখেরাতের প্রথম মনযিল। এখানে মুক্তি পেলে সে ক্বিয়ামতের চূড়ান্ত বিচারে মুক্তি পাবে। অতএব বুদ্ধিমান মানুষের কর্তব্য অপর প্রান্তে তথা মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছানোর আগেই যথাযথ পাথেয় সঞ্চয় করা। যার মাধ্যমে সে জান্নাতের চিরস্থায়ী ফলাফল পেয়ে ধন্য হবে।


আল্লাহ বলেন, مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ- ‘পুরুষ হৌক নারী হৌক মুমিন অবস্থায় যে সৎকর্ম সম্পাদন করে, আমরা তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং অবশ্যই তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম অপেক্ষা উত্তম পুরস্কারে ভূষিত করব’ (নাহল ১৬/৯৭)।


সমাজ জীবনে সৎকর্মশীল মানুষের সংখ্যা কম হ’লেও অপ্রাপ্য নয়। বরং বলা চলে যে, কম সংখ্যক এই লোকগুলির জন্যই সমাজ এখনো টিকে আছে। তবে সৎকর্মশীল মানুষের মধ্যে সুখী জীবনের অধিকারী হয় কেবল তারাই যারা আখেরাতে হিসাব দানের বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাসী হয়। যা ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। বলতেকি যেকোন পরিস্থিতিতে মানুষকে সৎকর্মশীলতার উপর দৃঢ় রাখে তার আখেরাত বিশ্বাস। এটা না থাকলে ঝুঁকির মুখে পদস্খলন ঘটার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। নিম্নে আমরা আখেরাত বিশ্বাসের বাস্তব ফলাফল সমূহ উল্লেখ করব।-


১. মানুষ শরী‘আতের ফায়ছালা হাসিমুখে গ্রহণ করে :



মা‘এয আসলামী, গামেদী মহিলা প্রমুখ স্বেচ্ছায় এসে মৃত্যুদন্ডের মত কঠিন শাস্তি চেয়ে নিয়েছেন কেবল আখেরাতে মুক্তি লাভের আশায়।[2] আল্লাহ বলেন,يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর এবং আনুগত্য কর রাসূলের ও তোমাদের নেতৃবৃন্দের। অতঃপর যদি কোন বিষয়ে তোমরা বিতন্ডা কর, তাহ’লে বিষয়টি আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। যদি তোমরা আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। এটাই কল্যাণকর ও পরিণতির দিক দিয়ে সর্বোত্তম’ (নিসা ৪/৫৯)। এখানে ফায়ছালা মেনে নেওয়ার জন্য আখেরাত বিশ্বাসকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেননা আখেরাতের স্বার্থেই মানুষ দুনিয়াবী স্বার্থ ত্যাগ করে।


২. এটি না থাকলে মানুষ সত্য বিমুখ হয় :


সত্যচ্যুত মানুষ পথভ্রষ্ট হয় ও তওবা না করলে জাহান্নামী হয়। আল্লাহ বলেন,إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ قُلُوبُهُمْ مُنْكِرَةٌ وَهُمْ مُسْتَكْبِرُونَ ‘তোমাদের উপাস্য মাত্র একজন। অতঃপর যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর হয় সত্যবিমুখ এবং তারা হয় অহংকারী’ (নাহল ১৬/২২)।


খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননরত ক্ষুধাতাড়িত ছাহাবীদের উৎসাহ দিয়ে পেটে পাথর বাঁধা রাসূল উৎসাহ দেন নিম্নোক্ত কবিতা গেয়ে -اللَّهُمَّ لاَ عَيْشَ إِلاَّ عَيْشُ الآخِرَهْ فَاغْفِرْ لِلْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ ‘হে আল্লাহ! কোন আরাম নেই আখেরাতের আরাম ছাড়া’। ‘অতএব তুমি ক্ষমা কর আনছার ও মুহাজিরদেরকে’ (বুখারী হা/৪০৯৮)। এখানে তিনি কোন দুনিয়াবী লাভের কথা বলেননি। স্রেফ আখেরাতের কথা বলেছেন। যাতে তারা সত্যবিমুখ না হয়ে যায়।


৩. নেকীর কাজে একাগ্রতা সৃষ্টি হয় :



দুনিয়াতে বড় কোন সাফল্যের মূলে থাকে সাধনা ও একাগ্রতা। আর সেটি সবচেয়ে যোরদার করে আখেরাতে সাফল্য লাভের আকাংখা। আল্লাহ বলেন, مَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ وَمَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ نَصِيبٍ ‘যে ব্যক্তি আখেরাতের ফসল কামনা করে আমরা তার জন্য তার ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার ফসল কামনা করে, আমরা তাকে তা থেকে কিছু দিয়ে থাকি। কিন্তু আখেরাতে তার জন্য কোন অংশ থাকে না’ (শূরা ৪২/২০)।


হযরত আনাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,مَنْ كَانَتِ الآخِرَةُ هَمَّهُ جَعَلَ اللهُ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ وَجَمَعَ لَهُ شَمْلَهُ، وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ وَمَنْ كَانَتِ الدُّنْيَا هَمَّهُ جَعَلَ اللهُ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَفَرَّقَ عَلَيْهِ شَمْلَهُ وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا مَا قُدِّرَ لَهُ ‘আখেরাত যে ব্যক্তির একমাত্র চিন্তার বিষয় হবে, আল্লাহ তার অন্তরকে অভাবমুক্ত করে দেন। তার বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলিকে সমাধান করে দেন। আর দুনিয়া তার কাছে তুচ্ছ হয়। পক্ষান্তরে দুনিয়া যার একমাত্র চিন্তার বিষয় হবে, আল্লাহ তার অভাবসমূহ সামনে এনে দেন। আর তার সমস্যাগুলিকে বিক্ষিপ্ত করে দেন। অথচ তার নিকট কিছুই আসে না অতটুকু ব্যতীত যতটুকু তার তাক্বদীরে নির্ধারিত আছে’ (তিরমিযী হা/২৪৬৫)।


৪. সৎকর্মে দৃঢ়তা সৃষ্টি করে :


বদরের যুদ্ধে রাসূল (ছাঃ) কম্যান্ড দেন,قُومُوا إِلَى جَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ ‘তোমরা দাঁড়িয়ে যাও জান্নাতের পানে। যার প্রশস্ততা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল ব্যাপী বিস্তৃত’। এ নির্দেশ শুনে ছাহাবী ওমায়ের ইবনুল হুমাম আনছারী বলে ওঠেন, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতের প্রশস্ততা কি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল ব্যাপী? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, ছাড়! ছাড়! (বাখ, বাখ)! রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে বললেন, তুমি এরূপ বললে কেন? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতের অধিবাসী হওয়ার আশায়। তিনি বলেন, فَإِنَّكَ مِنْ أَهْلِهَا ‘নিশ্চয়ই তুমি তার অধিবাসী’। তখন ওমায়ের স্বীয় কোষ থেকে কতগুলি খেজুর বের করলেন ও তা খেতে থাকলেন। কিছু পরে বললেন, لَئِنْ أَنَا حَيِيْتُ حَتَّى آكُلَ تَمَرَاتِي إِنَّهَا لَحَيَاةٌ طَوِيلَةٌ، ‘আমি যদি এই খেজুরগুলো খাওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকি, তবে অবশ্যই সেটি হবে দীর্ঘ হায়াত’। অতঃপর তিনি বাকী খেজুরগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিলেন ও যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। অবশেষে তিনি শহীদ হয়ে গেলেন’।[3]


৫. বিপদে ধৈর্য ধারণের শক্তি বৃদ্ধি পায় :


আল্লাহ বলেন,قُلْ يَا عِبَادِ الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا رَبَّكُمْ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ وَأَرْضُ اللهِ وَاسِعَةٌ إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ ‘বল, হে আমার বিশ্বাসী বান্দারা! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। (মনে রেখ,) যারা এ দুনিয়ায় সৎকাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে পুণ্য। আর আল্লাহর পৃথিবী প্রশস্ত। নিঃসন্দেহে ধৈর্যশীলগণ তাদের পুরস্কার পাবে অপরিমিতভাবে’ (যুমার ৩৯/১০)। মক্কায় নির্যাতিত অবস্থায় ইয়াসির পরিবারকে লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, صَبْرًا يَا آلَ يَاسِرٍ، فَإِنَّ مَوْعِدَكُمُ الْجَنَّةُ ‘ধৈর্য ধর হে ইয়াসির পরিবার! নিশ্চয়ই তোমাদের ঠিকানা হ’ল জান্নাত’ (হাকেম হা/৫৬৪৬)। ইমাম আওযাঈ (৮৮-১৫৭ হি.) বলেন, তাদের আমল ওযন করা হবে না ও পরিমাপ করা হবে না’। আল্লাহ বলেন, وَجَزَاهُمْ بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَّحَرِيرًا ‘দুনিয়াতে ধৈর্যধারণের পুরস্কার স্বরূপ সেদিন তিনি তাদেরকে জান্নাত ও রেশমী পোষাক দান করবেন’ (দাহর ৭৬/১২)। তিনি আরও বলেন,كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ ‘প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে এবং ক্বিয়ামতের দিন তোমরা পূর্ণ বদলা প্রাপ্ত হবে। অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে ও জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে হ’ল সফলকাম। বস্ত্ততঃ পার্থিব জীবন প্রতারণার বস্ত্ত ছাড়া কিছুই নয়’ (আলে ইমরান ৩/১৮৫)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,سَتَجِدُونَ أُثْرَةً شَدِيدَةً فَاصْبِرُوا حَتَّى تَلْقَوُا اللهَ وَرَسُولَهُ -صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- فَإِنِّى عَلَى الْحَوْضِ ‘তোমরা আমার পরে অত্যাচারী শাসকদের পাবে। তখন তোমরা ধৈর্য ধারণ কর। যতক্ষণ না তোমরা আমাকে হাউয কাওছারের নিকটে সাক্ষাত পাও’ (বুখারী হা/৪৩৩১)।


‘আত্বা বিন আবী রাবাহ বলেন, ইবনু আববাস (রাঃ) আমাকে বলেন, আমি কি তোমাকে একজন জানণাতী মহিলাকে দেখাব না? আমি বললাম, অবশ্যই। তখন তিনি বললেন, এই কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাটি, সে রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসেছিল। অতঃপর বলেছিল, আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত হই এবং এ অবস্থায় আমার লজ্জাস্থান খুলে যায়। সুতরাং আপনি আমার জন্য আল্লাহর নিকট দো‘আ করুন! তখন রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, তুমি চাইলে ধৈর্য ধারণ করতে পার, তাতে তোমার জন্য রয়েছে জান্নাত। আর তুমি চাইলে আমি আল্লাহর নিকট দো‘আ করতে পারি, যেন তিনি তোমাকে অরোগ্য দান করেন। মহিলাটি বলল, আমি ধৈর্য ধারণ করব। তবে ঐ অবস্থায় যেন আমার লজ্জাস্থান খুলে না যায়, সেজন্য আপনি দো‘আ করুন! তখন রাসূল (ছাঃ) তার জন্য দো‘আ করলেন’।[4]


৬. সর্বাবস্থায় আল্লাহভীতি অর্জন :


আখেরাত বিশ্বাস মানুষকে সর্বাবস্থায় আল্লাহভীরু বানায় এবং সে প্রবৃত্তির তাড়না থেকে সংযত থাকে। আল্লাহ বলেন, وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى، فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى، ‘পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার প্রভুর সম্মুখে দন্ডায়মান হওয়ার ভয় করেছে এবং নিজেকে প্রবৃত্তির গোলামী হ’তে বিরত রেখেছে, জান্নাত তার ঠিকানা হবে’ (নাযে‘আত ৭৯/৪০-৪১)। পাহাড়ের গুহায় আটকে পড়া বনু ইস্রাঈলের তিন যুবকের একজন তার প্রেমিকার সাথে অন্যায় কাজে লিপ্ত হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে মেয়েটির কথায় আল্লাহ থেকে ভীত হয় এবং বিরত হয়। গুহায় ঐ বিপদের সময় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে সে বলে,اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّى فَعَلْتُ ذَلِكَ مِنْ خَشْيَتِكَ فَفَرِّجْ عَنَّا ‘হে আল্লাহ! যদি তুমি জানো যে আমি কেবল তোমার ভয়ে সেদিন উক্ত অন্যায় কাজ থেকে বিরত হয়ে ছিলাম, তাহ’লে তুমি আমাদেরকে এই কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি দাও’। তখন আল্লাহর হুকুমে পাথর সরে যায় এবং গুহা মুখ খুলে যায়। অতঃপর তারা তিনজন বেরিয়ে আসে (বুখারী ফাৎহুল বারী হা/৩৪৬৫)।


ওমর (রাঃ) যখন আততায়ী কর্তৃক যখমী হন এবং জীবন সম্পর্কে নিরাশ হয়ে পড়েন, তখন তিনি বলেন,لَوْ أَنَّ لِى طِلاَعَ الأَرْضِ ذَهَبًا لاَفْتَدَيْتُ بِهِ مِنْ عَذَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ قَبْلَ أَنْ أَرَاهُ ‘যদি পৃথিবী ভরা স্বর্ণ আমার থাকত এবং তা দিয়ে আখেরাতে আল্লাহর শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়া যেত, তাহ’লে আমি সেটাই করতাম, উক্ত শাস্তি দেখার পূর্বে’ (বুখারী হা/৩৬৯২)। ইবনুল জাওযী বলেন, ওমরের মত মানুষের আল্লাহভীতি আর তোমাদের মত মানুষের নিশ্চিন্ততা দেখে আমি বিস্মিত হই![5] রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,وَالَّذِى نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا وَلَضَحِكْتُمْ قَلِيلاً- ‘যার হাতে আমার প্রাণ তার কসম করে বলছি, যদি তোমরা জানতে যা আমি জানি, তাহ’লে তোমরা কাঁদতে বেশী, হাসতে কম’।[6]


খলীফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (৯৯-১০১ হিঃ) একদিন কাঁদতে থাকেন। তখন স্ত্রী ফাতেমা ও পরিবারের সবাই কাঁদতে শুরু করে। এক সময় স্ত্রী তাঁকে বললেন, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন আমি ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর বিচার দেখছি। তিনি একদলকে জান্নাতে পাঠাচ্ছেন ও এক দলকে জাহান্নামে পাঠাচ্ছেন। হায়! যদি আমি সেদিন জাহান্নামীদের দলভুক্ত হয়ে যাই! বলেই তিনি চিৎকার দিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়ে যান’।[7] আল্লাহ বলেন,وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ- ‘আর যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সম্মুখে দন্ডায়মান হওয়ার ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দু’টি উদ্যান’ (রহমান ৫৫/৪৬)।


৭. অল্পে তুষ্ট থাকার গুণ অর্জিত হয় :


একদিন ওমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট গেলেন। সে সময় তাঁর মাথার নীচে ছিল একটা খেজুর পাতা ভরা চামড়ার বালিশ। আর পিঠে ও পার্শ্বদেশে ছিল চাটাইয়ের দাগ। এটা দেখে ওমর কেঁদে উঠলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? ওমর বললেন,إِنَّ كِسْرَى وَقَيْصَرَ فِيمَا هُمَا فِيهِ وَأَنْتَ رَسُولُ اللهِ ‘পারস্য সম্রাট কিসরা ও রোম সম্রাট ক্বায়ছার কি অবস্থায় আছে, আর আপনি কি অবস্থায় আছেন। অথচ আপনি আল্লাহর রাসূল! জবাবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ لَهُمُ الدُّنْيَا وَلَنَا الآخِرَةُ- ‘তুমি কি চাওনা যে, তাদের জন্য হৌক দুনিয়া ও তোমার জন্য হৌক আখেরাত!’[8]


৮. অধিক পাওয়ার আকাংখা দমিত হয় :


একদিন রাসূল (ছাঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু ওমরের কাঁধে হাত রেখে বলেন,كُنْ فِى الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ- وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَقُولُ : إِذَا أَمْسَيْتَ فَلاَ تَنْتَظِرِ الصَّبَاحَ، وَإِذَا أَصْبَحْتَ فَلاَ تَنْتَظِرِ الْمَسَاءَ، وَخُذْ مِنْ صِحَّتِكَ لِمَرَضِكَ، وَمِنْ حَيَاتِكَ لِمَوْتِكَ- ‘তুমি দুনিয়াতে বসবাস কর একজন আগন্তকের মত অথবা একজন পথিকের মত’। ইবনু ওমর বলতেন, রাত হ’লে তুমি সকালের আশা করো না এবং সকাল হ’লে তুমি রাতের আশা করো না। অসুস্থ হওয়ার পূর্বে তুমি তোমার সুস্থতাকে এবং মৃত্যু আসার আগে তুমি তোমার জীবনকে কাজে লাগাও’।[9]


রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, فَوَاللهِ لاَ الْفَقْرُ أَخْشَى عَلَيْكُمْ، وَلَكِنْ أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُبْسَطَ عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، فَتَنَافَسُوهَا كَمَا تَنَافَسُوهَا، وَتُهْلِكُكُمْ كَمَا أَهْلَكَتْهُمْ- ‘আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের দরিদ্রতাকে ভয় পাই না। বরং আমি ভয় পাই তোমাদের উপর দুনিয়ার প্রশস্ততাকে। যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরে প্রশস্ত হয়েছিল। ফলে তোমরা তা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে, যেমন তারা লিপ্ত হয়েছিল। আর তা তোমাদেরকে ধ্বংস করবে, যেমন তাদেরকে ধ্বংস করেছিল’।[10]


তিনি বলেন,مَا ذِئْبَانِ جَائِعَانِ أُرْسِلاَ فِى غَنَمٍ بِأَفْسَدَ لَهَا مِنْ حِرْصِ الْمَرْءِ عَلَى الْمَالِ وَالشَّرَفِ لِدِيْنِهِ- ‘দু’টি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে (রাখাল অনুপস্থিত থাকা অবস্থায়) ছাগপালের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া অত বেশী ধ্বংসকর নয়, যত না বেশী ধ্বংসকর মাল ও মর্যাদার লোভ মানুষের দ্বীনের জন্য’।[11]



আবু আব্দুর রহমান আস-সালামী বলেন, আলী (রাঃ) একবার কূফায় দেওয়া এক ভাষণে বলেন,يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ طُولُ الْأَمَلِ، وَاتِّبَاعُ الْهَوَى، فَأَمَّا طُولُ الْأَمَلِ فَيُنْسِي الْآخِرَةَ، وَأَمَّا اتِّبَاعُ الْهَوَى فَيُضِلُّ عَنِ الْحَقِّ، أَلاَ إِنَّ الدُّنْيَا قَدْ وَلَّتْ مُدْبِرَةً وَالْآخِرَةُ مُقْبِلَةٌ، وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا بَنُونَ، فَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الْآخِرَةِ وَلاَ تَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الدُّنْيَا، فَإِنَّ الْيَوْمَ عَمَلٌ وَلاَ حِسَابٌ وَغَدًا حِسَابٌ وَلاَ عَمَلٌ- ‘হে জনগণ! আমি তোমাদের দু’টি জিনিসকে সবচেয়ে বেশী ভয় পাই, অধিক পাওয়ার আকাংখা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ। অধিক পাওয়ার আকাংখা তোমাদেরকে আখেরাত ভুলিয়ে দিবে এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ তোমাদেরকে সত্য গ্রহণের পথ রুদ্ধ করে দিবে। সাবধান! দুনিয়া পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে এবং আখেরাত এগিয়ে আসছে। আর প্রত্যেকটির জন্য রয়েছে একদল মানুষ। অতএব তোমরা আখেরাতের সন্তান হও, দুনিয়ার গোলাম হয়ো না। কেননা আজকের দিনটি কর্মের দিন, যেখান ফলাফল নেই। আর কালকের দিনটি ফলাফলের দিন, যেখানে কর্ম নেই’ (বায়হাক্বী শো‘আব হা/১০৬১৪)। অতএব তোমরা সম্মুখে আগত চিরস্থায়ী ঠিকানার জন্য কাজ কর এবং যা ফিরে যাচ্ছে, সেদিকে তাকিয়ো না। ঈসা (আঃ) বলেন,


مَنْ ذَا الَّذِي يَبْنِي عَلَى مَوْجِ الْبَحْرِ دَارًا


تِلْكُمُ الدُّنْيَا فَلاَ تَتَّخِذُوهَا قَرَارًا


‘কোন্ ব্যক্তি আছে যে সমুদ্রের ঢেউয়ের উপর বাড়ী তৈরী করবে?’ ওগুলি তো দুনিয়া। অতএব তাকে তোমরা স্থায়ী নিবাস হিসাবে গ্রহণ করো না’।[12]


ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বলতেন,مَا مِنْكُمْ إِلَّا ضَيْفٌ وَعَارِيَةٌ، وَالضَّيْفُ مُرْتَحِلٌ، وَالْعَارِيَةُ مُؤَدَّاةٌ إِلَى أَهْلِهَا- ‘তোমরা সবাই মেহমান। আর তোমাদের সম্পদগুলি সব ধারের বস্ত্ত। মেহমান চলে যাবে, আর সম্পদ সব তার মালিকের কাছে ফিরে যাবে’।[13]



খালীদ আল-‘আছরী বলেন, আমরা সবাই মৃত্যুতে বিশ্বাস রাখি। অথচ তার জন্য কোন প্রস্ত্ততি নেই না। আমরা প্রত্যেকে জান্নাতে বিশ্বাস রাখি। অথচ তার জন্য কোন আমল করি না। আমরা প্রত্যেকে জাহান্নামে বিশ্বাস করি। অথচ তা থেকে বাঁচার জন্য ভীত হই না। তাহলে তোমরা কিসের জন্য অপেক্ষা করছ? মৃত্যুর জন্য? মনে রেখ এটাই তোমাদের জন্য আখেরাতের প্রথম মনযিল। সেখানে তোমাদের ভাল হ’তে পারে, মন্দও হ’তে পারে। অতএব হে আখেরাতের পথিকগণ! তোমরা এগিয়ে চলো তোমাদের প্রতিপালকের দিকে সুন্দরভাবে (ছিফাতুছ ছাফওয়া ৩/২৩১)।


৯. আখেরাত বিশ্বাস মযলূমের জন্য সান্ত্বনার স্থল :


হে যালেম! তুমি ভেবো না যে, আল্লাহ তোমার যুলুম দেখেননি। তুমি ভেবো না যে, আল্লাহ তোমার থেকে উদাসীন! তোমার সামনে কঠিন দিন অপেক্ষা করছে। ঐ শোন তোমার প্রতিপালকের গুরু গম্ভীর সতর্কবাণী,وَلَا تَحْسَبَنَّ اللهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ الْأَبْصَارُ، مُهْطِعِينَ مُقْنِعِي رُءُوسِهِمْ لَا يَرْتَدُّ إِلَيْهِمْ طَرْفُهُمْ وَأَفْئِدَتُهُمْ هَوَاءٌ- ‘তুমি অবশ্যই একথা ভেবো না যে, যালেমরা যা করে আল্লাহ সে বিষয়ে উদাসীন। তবে তিনি তাদেরকে সেদিন পর্যন্ত অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চক্ষুসমূহ বিস্ফারিত হবে। যেদিন ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ভীত-বিহবল চিত্তে তারা দৌড়াতে থাকবে। নিজেদের দিকে দৃষ্টি ফেরাবার সময় তাদের হবে না। যেদিন কঠিন ভয়ে তারা শূন্যহৃদয় হয়ে যাবে’ (ইব্রাহীম ১৪/৪২-৪৩)। তিনি বলেন,الْيَوْمَ تُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ لَا ظُلْمَ الْيَوْمَ إِنَّ اللهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ ‘আজ প্রত্যেককে তার কর্মফল দেওয়া হবে। আজ কোন যুলুম নেই। নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী’ (গাফের/মুমিন ৪০/১৭)।


হযরত জাবের (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, সমুদ্রের মুহাজিরগণ (হাবশায় হিজরতকারী প্রথম দল) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট প্রত্যাবর্তন করলে তিনি বলেন, তোমরা হাবশায় যেসব অনিষ্টকারী বিষয় সমূহ দেখেছ তা কি আমার নিকট ব্যক্ত করবে না? তাদের মধ্য থেকে এক যুবক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! একদিন আমরা বসা ছিলাম। এমন সময় আমাদের সামনে দিয়ে সেখানকার এক বৃদ্ধা মহিলা মাথায় পানি ভর্তি কলস সহ যাচ্ছিল। এমতাবস্থায় তাদের এক যুবক তার কাঁধে হাত দিয়ে তাকে ধাক্কা দিল। ফলে সে উপুড় হয়ে মাটিতে পড়ে গেল এবং কলসটি ভেঙ্গে গেল। তখন বৃদ্ধা উঠে দাঁড়িয়ে যুবকের দিকে তাকিলে বলল, হে প্রতারক! তুমি অচিরেই জানতে পারবে যখন আল্লাহ বিচারের আসনে বসবেন। আগে-পিছের সকল মানুষকে সমবেত করবেন এবং হাত-পাগুলো তাদের কৃতকর্মের বর্ণনা দিবে, তখন তুমিও জানতে পারবে সেদিন তোমার ও আমার অবস্থা কি হবে’। জাবের (রাঃ) বলেন, এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ঐ বৃদ্ধা সত্য বলেছে, সত্য বলেছে। আল্লাহ সেই উম্মতকে কিভাবে পাপ থেকে পবিত্র করবেন, যাদের সবলদের নিকট থেকে দুর্বলদের অধিকার আদায় করে দেওয়া হয় না’।[14]


১০. ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে আমূল পরিবর্তন আসে :


মাক্কী জীবনের অধিকাংশ সূরা নাযিল হয়েছে আখেরাত বিশ্বাসের উপর। যার ফলে আখেরাত পিয়াসী একদল ঈমানদার মানুষ তৈরী হয়। আবুবকর, ওমর, ওছমান, আলী, ইবনু মাস‘ঊদ, বেলাল, খাববাব, আম্মার, মুছ‘আব প্রমুখ জান্নাতপাগল নিখাদ মানুষগুলির হাতেই পুরা আরব জাহানে আমূল পরিবর্তন আসে। যা সর্বাত্মক সমাজ বিপ্লবের সূচনা করে। যার ঢেউ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ইসলাম বিশ্বধর্মে পরিণত হয়। ইনশাআল্লাহ ক্বিয়ামতের আগে সারা বিশ্ব ইসলামের করতলগত হবে। যা সম্ভব হয়েছে এবং ভবিষ্যতে হবে কেবল আখেরাতে মুক্তি ও জান্নাত লাভের উদগ্র বাসনার কারণে। যখন যে সমাজে সত্যিকারের আখেরাত পিয়াসী একদল মুমিন তৈরী হয়, তখন সেই সমাজে আমূল পরিবর্তন আসে এবং সমাজ বিপ্লব সাধিত হয়।


আল্লাহ বলেন,وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لاَ يُظْلَمُونَ ‘আর তোমরা ঐ দিনকে ভয় কর, যেদিন তোমরা সকলে আল্লাহর নিকটে ফিরে যাবে। অতঃপর সেদিন প্রত্যেকে স্ব স্ব কর্মের ফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোনরূপ অবিচার করা হবে না’ (বাক্বারাহ ২/২৮১)।



বস্ত্ততঃ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মৃত্যুর ৭ দিন মতান্তরে ২১ দিন পূর্বে এটাই ছিল পবিত্র  কুরআনের সর্বশেষ আয়াত। অতএব হে মানুষ শেষ বিচারের দিনকে ভয় কর। সেদিন তোমার সকল কর্মের কড়ায়-গন্ডায় হিসাব দিতে হবে। যেদিন তোমার ঈমান ও আমল ছাড়া কোন কিছুই কাজে আসবে না।


কবি আবুল ‘আতাহিয়াহ (১৩০-২১৩ হি.) বলেন,


إِنَّ يَومَ الحِسابِ يَومٌ عَسيرُ + لَيسَ لِلظالِمينَ فيهِ نَصيرُ


فَاِتَّخِذْ عُدَّةً لِمُطَّلَعِ القَبرِ + وَهَولِ الصِراطِ يا مَنصورُ


‘নিশ্চয়ই শেষ বিচারের দিন বড়ই কঠিন দিন, সেদিন


যালেমদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না’। ‘অতএব


হে বিজয়ী! তুমি কবরে যাওয়ার পূর্বে এবং পুলছিরাতের ভয়াবহ


দৃশ্য আসার পূর্বে পাথেয় সঞ্চয় কর’।


হে আল্লাহ! তুমি আমাদের আখেরাত বিশ্বাসকে দৃঢ় কর এবং তার জন্য আমাদেরকে দ্রুত পাথেয় সঞ্চয়ের তাওফীক দাও- আমীন!


– প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব


[1]. তিরমিযী হা/২৩৭৭; ইবনু মাজাহ হা/৪১০৯; মিশকাত হা/৫১৮৮।[2]. মুসলিম হা/১৬৯৫; মিশকাত হা/৩৫৬২ ‘দন্ডবিধিসমূহ’ অধ্যায়; সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) ৩য় মুদ্রণ ৭৯৮-৯৯ পৃ.।

[3]. মুসলিম হা/১৯০১ (১৪৫); মিশকাত হা/৩৮১০, রাবী আনাস (রাঃ)।

[4]. বুখারী হা/৫৬৫২; মুসলিম হা/২৫৭৬; আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৫০৫।

[5]. আবু নু‘আইম ইছফাহানী, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৫/৩১৪।

[6]. বুখারী হা/৬৬৩৭; মিশকাত হা/৫৩৩৯, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)।

[7]. ইবনুল জাওযী, ছিফাতুছ ছাফওয়া ১/৩৬৮।

[8]. বুখারী হা/৪৯১৩; মুসলিম হা/১৪৭৯; মিশকাত হা/৫২৪০।

[9]. বুখারী হা/৬৪১৬; মিশকাত হা/১৬০৪, রাবী আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ)।

[10]. বুখারী হা/৬৪২৫; মুসলিম হা/২৯৬১; মিশকাত হা/৫১৬৩, রাবী আমর বিন ‘আওফ (রাঃ)।

[11]. তিরমিযী হা/২৩৭৬; মিশকাত হা/৫১৮১, সনদ ছহীহ।

[12]. ইবনু আবীদ্দুনিয়া, আয-যুহ্দ ক্রমিক ৩৪৭, পৃ. ১৫৯।

[13].ত্বাবারাণী কাবীর হা/৮৫৩৩; মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩৫৬৯৯।

[14]. ইবনু মাজাহ হা/৪০১০; ছহীহ ইবনু হিববান হা/৫০৫৮।



শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪

কোন কোন ব্যক্তিকে শহীদ বলা যাবে, শহীদের মর্যাদা ও ফযীলত.

শুক্রবার, মে ২৪, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে

 


শহীদের পরিচয়

ইসলামে শহীদের মর্যাদা অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ। ইহা একটি ইসলামী পরিভাষা। যা কোনো সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিভাষা নয়। সুতরাং শহীদের মর্যাদা লাভের জন্য প্রথম ও প্রধান শর্ত হচ্ছে মুসলিম হতে হবে।

যদি দ্বীনের উপর অবিচল থাকার কারণে আল্লাহ পাকের কোনো বান্দা-বান্দীকে হত্যা করা হয়, অথবা দ্বীনের পথে জিহাদ ও মেহনত করতে গিয়ে কারো মৃত্যু হয়, তবে শরীয়তের পরিভাষায় তাকে শহীদ বলে। আল্লাহ পাকের দরবারে শহীদের অনেক অনেক মর্যাদা। কুরআনুল হাকিমে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ

'যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে, তাদেরকে অন্য মৃতদের মতো মনে করো না। বরং তারা বিশেষ হায়াত প্রাপ্ত এবং তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে বিভিন্ন রিযিক ও নেয়ামত প্রাপ্ত হচ্ছে।' সূরাহ আলে ইমরান, ৩/১৬৯

শহীদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে মুসলমান আল্লাহর কালেমাকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে লড়াই করবে, কেবলমাত্র সেই-ই আল্লাহর পথে লড়াই করল’ তাকে শহীদ বলা হয়। তাকে শহীদ এজন্য বলা হয় যে, সে জান্নাতে উপস্থিত হয়ে যায়। শহীদের মর্যাদায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন -

وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ ۚ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَٰكِنْ لَا تَشْعُرُونَ [٢:١٥٤

অর্থাৎ 'আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝ না।' (সূরাহ আল বাক্বারা : ১৫৩)

শহীদের মর্যাদা যে কত উর্দ্ধে ভাবতেও বুকে শিহরন ওঠে! আল্লাহু আকবার! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিম্নোক্ত হাদিসগুলোতে তার প্রমাণ পাওয়া যায়-

এক হাদীসে এসেছে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

مَا أَحَدٌ يَدْخُلُ الجَنَّةَ يُحِبُّ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، وَلَهُ مَا عَلَى الأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا الشَّهِيدُ، يَتَمَنَّى أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، فَيُقْتَلَ عَشْرَ مَرَّاتٍ لِمَا يَرَى مِنَ الكَرَامَةِ

'কোনো জান্নাতী এটা চাবে না যে, তাকে আবার দুনিয়াতে পাঠানো হোক, যদিও তাকে সারা পৃথিবীর মালিক বানিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু একজন শহীদ তাঁর জান্নাতী মর্যাদা প্রত্যক্ষ করে কামনা করতে থাকবে, তাকে অন্তত দশবার দুনিয়াতে পাঠানো হোক, যেন প্রতিবার সে শহীদ হয়ে আসতে পারে।' বুখারী, হাদীস নং ২৮১৭

স্বয়ং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শহীদী মৃত্যুর তামান্না করে ইরশাদ করেন,

وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ… لَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ، ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ، ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ

'ঐ সত্ত্বার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! আমার বড় ইচ্ছে হয়, আমি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হবো! আমাকে জীবিত করা হবে, আবার আমি নিহত হবো! পুনরায় আমাকে জিন্দা করা হবে এবং আমি আবার আল্লাহর রাস্তায় জীবন বিলিয়ে দিবো!' সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭২২৬

সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহিল আযীম! সুবহানাল্লাহি বিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আযীম! অবিহামদিহী আসতাগফিরুহূ! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজের জন্য শাহাদাতের মৃত্যু কামনা করেছেন! অথচ আমরা আজ কোথায়! আমাদের মৃত্যু থেকে পালিয়ে বাঁচার কি উদগ্র বাসনা! কি অন্যায় অভিলাষ! কি ফাঁকি দেয়ার মানসিকতা স্থান করে নিয়েছে আমাদের ঈমানের ঘরে! মরতে হবে এটা নির্ঘাত সত্য!

মরন থেকে যতই পালাও মরন তোমায় লইবে ঘিরি,

যদিও তুমি লুকাও গিয়ে আকাশ পানে লাগিয়ে সিড়ি।

যে মরন আসবেই, যে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী তাকে এত ভয় কেন? তাকে আলিঙ্গনে কেন এত দ্বিধা? কেন এত সঙ্কোচ? বরং সাহসের সাথে, ঈমানী শক্তিতে বলিয়ান হয়ে প্রতি দিনের প্রার্থনায় বরাবরই আমাদের কামনা থাকতে হবে, 'হে আল্লাহ, হে মহান দয়ালু দাতা, আপনি আমাকে শহীদের মৃত্যু দান করুন।'


আরেক হাদীসে হসেছে,

لِلشَّهِيدِ عِنْدَ اللَّهِ سِتُّ خِصَالٍ: يُغْفَرُ لَهُ فِي أَوَّلِ دَفْعَةٍ، وَيَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الجَنَّةِ، وَيُجَارُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَيَأْمَنُ مِنَ الفَزَعِ الأَكْبَرِ، وَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ تَاجُ الوَقَارِ، اليَاقُوتَةُ مِنْهَا خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، وَيُزَوَّجُ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ زَوْجَةً مِنَ الحُورِ العِينِ، وَيُشَفَّعُ فِي سَبْعِينَ مِنْ أَقَارِبِهِ

শহীদ আল্লাহ পাকের পক্ষ হতে বড়বড় ছয়টি পুরস্কার পাবে। পুরষ্কারগুলো হচ্ছে-

এক. তাকে তৎক্ষণাৎ ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং তাকে তার জান্নাতী নিবাস দেখনো হবে।

দুই. কবরের আযাব মাফ করে দেয়া হবে ।

তিন. হাশরের ময়দানে যখন ব্যতিক্রম ছাড়া সবাই সন্ত্রস্ত ও পেরেশান থাকবে, তখন আল্লাহ পাক তাকে সেই পেরেশানি ও বিভীষিকা থেকে মুক্ত রাখবেন।

চার. সেদিন তার মাথায় এমন একটি সম্মাননা মুকুট পরানো হবে, যার একেকটি হীরা ও মুক্তা দুনিয়া ও তার সব কিছু থেকে দামী হবে।

পাঁচ. স্ত্রী হিসাবে তাকে বাহাত্তর জন হুর দান করা হবে।

ছয়. তার নিকটজনদের মধ্যে হতে সত্তরজনের ব্যাপারে তার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৬৬৩

অন্য এক হাদীসে এসেছে,

يُغْفَرُ لِلشَّهِيدِ كُلُّ ذَنْبٍ إِلَّا الدَّيْنَ

প্রদেয় ঋণ ব্যতীত শহীদ ব্যক্তির সমস্ত গুনাহ আল্লাহ তাআলা মাফ করে দেবেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৮৬

বিশ্বনবীর ভাষায় শহীদ যারা

হযরত জাবের বিন আতিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করা ছাড়াও সাত প্রকার শহীদ রয়েছে। তারা হলো-

أن جابر بن عتيك أخبره :أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال الشهداء سبعة سوى القتل في سبيل الله المطعون شهيد والغرق شهيد وصاحب ذات الجنب شهيد والمبطون شهيد والحرق شهيد والذي يموت تحت الهدم شهيد والمرأة تموت بجمع شهيد

১- মহামারীতে মৃত্যুবরণকারী,

২- পানিতে নিমজ্জিত ব্যক্তি,

৩- শয্যাশায়ী অবস্থায় মৃত শহীদ,

৪- পেটের রোগে মৃত্যুবরণকারী,

৫-আগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণকারী,

৬- যে ব্যক্তি ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে মারা যায়,

৭- প্রসবকালীন সময়ে মৃত্যুবরণকারী নারী। (মুয়াত্তা মালিক, হাদিস নং-৫৫৪, ৮০২, আল মু’জামুল কাবীর, হাদিস নং-১৭৮০, সহীহ কুনুজু সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ, হাদিস নং-২৩)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য হাদিসে আরো বলেন-

১. যে ব্যক্তি তার দ্বীনের (ইসলাম) জন্য নিহত হয়;

২. যে ব্যক্তি তার জীবন রক্ষার্থে নিহত হয়;

৩. যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়;

৪. যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ। (মুসলিম, মিশকাত)

হাদিসের নির্ভরযোগ্য কিতাব মুসনাদে আহমাদে আরো এসেছে- ‘যে ব্যক্তি অত্যাচারের স্বীকার হয়ে (মজলুম তথা নির্যাতিত অবস্থায়) নিহত হয়, তিনিও শহীদ।’

তবে ইসলামের জন্য রক্তদানকারী শহীদের সঙ্গে এ সব শহীদের পার্থক্য হলো, দুনিয়াতে তাদের গোসল ও জানাযা সবই হবে। কিন্তু এ সব মুমিনগণ পরকালে শহীদের নেকী ও মর্যাদা লাভ করবেন।

উল্লেখিত ঘটনাবলীতে মৃত্যুবরণকারীগন হাদিসের পরিভাষায় যেহেতু শহীদের মর্যাদাপ্রাপ্ত, সুতরাং, তাদের মৃত্যুতে তাদের জন্য হাহুতাশ বা আফসোস না করে আল্লাহ তাআলার দরবারে শহীদী মর্যাদা লাভের জন্য দোয়া করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

শহীদদের আরও যেসব শ্রেণীতে ভাগ করা যায়

১. যারা দুনিয়া ও আখিরাতে শহীদ। তাঁরা হলেন- অবিশ্বাসীদের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত মুমিন ব্যক্তি;

২. আখিরাতে শহীদ। তারা হলো উপরে বর্ণিত দ্বীনের (ইসলামের)জন্য ব্যতিত অন্যান্য শহীদগণ;

৩. দুনিয়াতে শহীদ, আখিরাতে নয়। তারা হলো- যুদ্ধের ময়দানে গণীমতের মাল আত্মসাৎকারী অথবা জিহাদ থেকে পলাতক অবস্থায় নিহত ব্যক্তি।’ (ফিক্বহুস সুন্নাহ)

হায়! দুনিয়াতে যদি আল্লাহর রাস্তায় আমাদের সঙ্গেও জুলুম করা হতো!

শহীদের মতো আল্লাহ পাকের রাস্তায় কেউ যদি কষ্টের সম্মুখীন হয়, কারো শ্লীলতা হানি হয়, ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হয়, তবে আল্লাহ তাআলার দরবারে এমন ব্যক্তিও অনেক বড় বড় সম্মান প্রাপ্ত হয়, যা দেখে ওলী-বুযুর্গরাও ঈর্ষা করে। দুনিয়াতে এ নিয়ম আছে যে, সরকারের অনুগত সৈনিকেরা যদি বীরত্ব প্রদর্শন করে এবং রাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষায় হতাহত হয়, তবে তাদেরকে রাষ্ট্রের পক্ষ হতে বড় বড় পুরস্কার ও খেতাব দেওয়া হয়। তেমনি যারা আল্লাহর দ্বীনের কাজ করার অপরাধে প্রহৃত হয়, লাঞ্ছিত হয়, এবং নানা ধরনের ক্ষতি ও বঞ্চনার শিকার হয়, আল্লাহ পাক কেয়ামতের দিন তাদেরকে জনসমক্ষে এমন এমন সম্মান আর মর্যাদা দান করবেন যে, অন্যরা তা দেখে আক্ষেপ করবে, হায়! দুনিয়াতে যদি আল্লাহর রাস্তায় আমাদের সঙ্গেও জুলুম করা হতো, লাঞ্ছনা আর গঞ্জনার আচরণ করা হতো, তাহলে এই পুরস্কার ও সম্মান লাভ করে আমরাও আজ ধন্য হতাম!

আয় আল্লাহ! এমন সুযোগ যদি আমাদের জীবনে আসে, তবে আমাদেরকে আপনি দৃঢ়পদ রাখুন, আপনার নুছরত আমাদের সাথী করুন, আপনার মুহাব্বতের বহ্নিশিখা আমাদের হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত করে দিন।

ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক, প্রত্যেক মানুষকে অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ তাআ'লা উম্মাতে মুসলিমাকে শহিদী মৃত্যু দান করুন। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজের জন্য যেভাবে শাহাদাতের মৃত্যুর তামান্না পোষন করতেন, আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেককে তাদের হৃদয়-মনেও তেমনি শাহাদাতের তামান্নাকে জিন্দা করে দিন। শহীদের মর্যাদা লাভের ইচ্ছা ও আকাঙ্খা পোষণ করার তাওফিক দান করুন। সবাইকে শহীদী মৃত্যু নসিব করুন। আমিন।

পুনশ্চ: এই নিবন্ধটি লেখার পেছনে ছোট্ট একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। আর সেটি হচ্ছে, গত দু'এক দিন পূর্বে জনৈক ভদ্রলোক আমার নিকট একটি বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, আমাদের দেশের সাবেক একাধিক রাষ্টপতিসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি যারা মৃত্যুবরন করেছেন এবং যাদের নামের সাথে শহীদ কথাটি ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। এরকম অনেক ব্যক্তির নামের সাথে শহীদ শব্দটি কেন ব্যবহার করা হয়? ইসলামী দৃষ্টিকোন বিবেচনায় কাউকে শহীদ হিসেবে গন্য করার শর্ত কি কি?


ভদ্রলোকের প্রশ্নের উত্তর লিখতে গিয়েই মূলত: এই নিবন্ধের সূত্রপাত। তাকে ধন্যবাদ দিতে হয়। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা। ভদ্রলোকের প্রশ্নের উত্তর নিবন্ধের ভেতরে আশা করি এসে গেছে। কষ্ট করে খুঁজে নেয়ার দায়িত্ব জ্ঞানী পাঠকবৃন্দের উপরে।


আমাদের ধারনা, এমনসব প্রশ্নের উদ্রেক অনেকের মনে স্বাভাবিকভাবেই হয়ে থাকে। বরং হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এসব ক্ষেত্রে উত্তর জানার সুযোগ হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে না। অনেকের সেই কৌতুহল মেটানোর জন্যই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আল্লাহ পাক আমাদের সকল নেক আমল কবুল করুন। শুভকামনা সকলের জন্য। সকলে ভালো থাকুন



ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png