শিরোনাম
Loading latest headlines...

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯

ইসলামের দৃষ্টিতে আমানতে গুরুত্ব

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৭, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে
ইসলামের দৃষ্টিতে আমানতে গুরুত্ব

https://www.mediafire.com/folder/bz4jq4166iob9/
আমানতঃ

1- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم  قَالَ أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا، وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ وَإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ، وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ-
(১) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে হচ্ছে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। ১. আমানত রাখা হ’লে খেয়ানত করে; ২. কথা বললে মিথ্যা বলে; ৩. অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে; এবং ৪. বিবাদে লিপ্ত হ’লে অশ্লীলভাবে গালাগালি করে’।[1]

2 عَنْ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ رضى الله عنهما قَالَ قَالَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم خَيْرُكُمْ قَرْنِى، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ. قَالَ عِمْرَانُ لاَ أَدْرِى أَذَكَرَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدُ قَرْنَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةً. قَالَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَخُونُونَ وَلاَ يُؤْتَمَنُونَ، وَيَشْهَدُونَ، وَلاَ يُسْتَشْهَدُونَ وَيَنْذِرُونَ وَلاَ يَفُونَ، وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ-
(২) ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল  (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমার যুগের লোকেরাই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম। অতঃপর তাদের নিকটবর্তী যুগের লোকেরা, অতঃপর তাদের নিকটবর্তী যুগের লোকেরা। ইমরান (রাঃ) বলেন, আমি বলতে পারছিনা, নবী করীম (ছাঃ) তাঁর যুগের পরে দুই যুগ নাকি তিন যুগের কথা উল্লেখ করেছেন। রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন, তোমাদের পর এমন লোকেরা আসবে, যারা খেয়ানত করবে, আমানত রক্ষা করবে না; সাক্ষ্য দিতে না ডাকলেও তারা সাক্ষ্য দিবে; তারা মানত করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবেনা। তাদের মধ্যে মেদওয়ালাদের প্রকাশ ঘটবে’।[2]

3 عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ رضى الله عنهماأَخْبَرَهُ قَالَ أَخْبَرَنِى أَبُو سُفْيَانَ أَنَّ هِرَقْلَ قَالَ لَهُ سَأَلْتُكَ مَاذَا يَأْمُرُكُمْ فَزَعَمْتَ أَنَّهُ أَمَرَكُمْ بِالصَّلاَةِ وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ وَالْوَفَاءِ بِالْعَهْدِ وَأَدَاءِ الأَمَانَةِ. قَالَ وَهَذِهِ صِفَةُ نَبِىًٍّ-
(৩) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ হ’তে আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, আবু সুফিয়ান আমাকে খবর দিয়েছেন যে, হিরাক্লিয়াস তাকে বলেছিল, তোমাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, নবী করীম (ছাঃ) তোমাদের কি কি আদেশ করেন? তুমি বললে যে, তিনি তোমাদের ছালাতের, সত্যবাদিতার, পবিত্রতার, ওয়াদা পূরণের ও আমানত আদায়ের আদেশ দেন। হিরাক্লিয়াস বললেন, এটাই নবীগণের ছিফাত’।[3]

4– عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ اضْمَنُوا لِى سِتًّا مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَضْمَنْ لَكُمُ الْجَنَّةَ اصْدُقُوا إِذَا حَدَّثْتُمْ وَأَوْفُوا إِذَا وَعَدْتُمْ وَأَدُّوا إِذَا ائْتُمِنْتُمْ وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ وَغُضُّوا أَبْصَارَكُمْ وَكُفُّوا أَيْدِيَكُمْ-
(৪) ওবাদা ইবনু ছামেত (রাঃ) হ’তে বর্ণিন, নবী করীম  (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা নিজেদের পক্ষ হ’তে আমাকে ছয়টি বিষয়ের যামানত দাও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের যামিন হব। ১. তোমরা যখন কথা বল, তখন সত্য বল; ২. যখন ওয়াদা কর, তা পূর্ণ কর; ৩. যখন তোমাদের কাছে আমানত রাখা হয়, তা আদায় কর; ৪. নিজেদের লজ্জাস্থানকে হেফাযত কর; ৫. স্বীয় দৃষ্টিকে অবনমিত রাখ এবং ৬. স্বীয় হাতকে অন্যায় কাজ হ’তে বিরত রাখ’।[4]

5- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَرْبَعٌ إِذَا كُنَّ فِيكَ فَلاَ عَلَيْكَ مَا فَاتَكَ مِنَ الدُّنْيَا حِفْظُ أَمَانَةٍ وَصَدْقُ حَدِيثٍ وَحُسْنُ خَلِيقَةٍ وَعِفَّةٌ فِى طُعْمَةٍ-
(৫) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, যখন তোমার মাঝে চারটি জিনিস থাকবে, তখন  দুনিয়ার সবকিছু হারিয়ে গেলেও তোমার কোন সমস্যা নেই। ১. আমানত রক্ষা করা; ২. সত্য কথা বলা; ৩. সুন্দর চরিত্র   এবং ৪. হালার রূযী’।[5]

6 عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ مَا خَطَبَنَا نَبِىُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ قَالَ لاَ إِيمَانَ لِمَنْ لاَ أَمَانَةَ لَهُ وَلاَ دِينَ لِمَنْ لاَ عَهْدَ لَهُ-
(৬)  হযরত আনাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমাদেরকে এরূপ উপদেশ খুবই কমই দিয়েছেন,  যাতে একথাগুলি বলেননি যে, যার আমানতদারিতা নেই তার ঈমান নেই এবং যার অঙ্গীকারের মূল্য নেই তার দ্বীন-ধর্ম নেই’।[6]

[1]. বুখারী হা/৩৪; মিশকাত হা/৫৬
[2]. বুখারী হা/২৬৫১; নাসাঈ হা/৩৮০৯; তিরমিযী হা/২২২২
[3]. আহমাদ হা/২৩৭০; বুখারী হা/২৬৮১।
[4]. আহমাদ হা/২২৮০৯; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৪৭০; মিশকাত হা/৪৮৭০।
[5]. আহমাদ হা/৬৬৫২; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৭৩৩; মিশকাত হা/৫২২২।
[6]. আহমাদ হা/১২৪০৬; মিশকাত হা/৩৫।



নামাজ শুদ্ধ হওয়ার শর্ত কি কি?

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৭, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে

প্রথমত: নামাজের ওয়াক্ত হওয়া

ফরয নামাজের সুনির্দিষ্ট সময় রয়েছে, যার আগে বা পরে নামাজ আদায় করলে তা শুদ্ধ হয় না। ইরশাদ হয়েছে :
(إِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ كَانَتۡ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ كِتَٰبٗا مَّوۡقُوتٗا )
{নিশ্চয় নামাজ মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয।}[ সূরা আন-নিসা:১০৩]

নামাজের সময়

১. ফজরের নামাজের সময় :

সুবেহ সাদেক- র্অথাৎ পূর্বদিগন্তে যে শুভ্রতা দেখা যায়- থেকে সূর্যোদয় র্পযন্ত।

২. যোহরের সময় :

সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে প্রতিটি জিনিসের ছায়া তার দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত।

৩. আসরের সময় :

যোহরের সময় শেষ হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

৪. মাগরিবের সময় :

সূর্য অস্ত যাওয়ার পর থেকে শফকে আহমার শেষ হওয়া পর্যন্ত। শফকে আহমার হলো সূর্যাস্ত যাওয়ার সময় পশ্চিমাকাশে যে লাল আভা থাকে তা।

৫. এশার সময়:

মাগরিবের সময় শেষ হওয়ার পর থেকে সুবেহ সাদেক উদয় হওয়া পর্যন্ত। ইমামদের কারো কারো কাছে মধ্য রাতে এশার সময় শেষ হয়ে যায়। তাদের দলিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস,«এশার নামাজের সময় মধ্যরাত পর্যন্ত।»(বর্ণনায় মুসলিম)
বর্তমানযুগে ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে নামাজের সময় খুব সহজেই নির্ণয় করা সম্ভব।





কিছু ফায়েদা
- যে ব্যক্তি নামাজের ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পূর্বে মাত্র এক রাকাত নামাজ পেল সে ওই নামাজ পেয়ে গেল। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, «যে ব্যক্তি নামাজের এক রাকাত পেল সে ওই নামাজ পেয়ে গেল।»(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
- যদি কারও ঘুমের কারণে নামাজ ছুটে গিয়ে থাকে অথবা মনে না থাকার কারণে নামাজ ছুটে গিয়ে থাকে, তবে জাগ্রত হওয়া ও মনে পড়ার সাথে সাথে তা আদায় করে নিতে হবে। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, «যে ব্যক্তি কোনো নামাজ ভুলে গেল, স্মরণ হলে সে যেন তা আদায় করে নেয়।
«আর এটাই হলো তার কাফ্ফারা।»(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)

দ্বিতীয়ত: অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন

ছোট অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন:

আর এটা সম্পন্ন হয় অজুর মাধ্যমে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, «যখন কারও অজু থাকে না, আল্লাহ তার নামাজ কবুল করেন না যতক্ষণ না সে অজু করে নেয়।» (বর্ণনায় বুখারী)

বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন:

আর এটা সম্পন্ন হয় গোসলের মাধ্যমে। আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,
(وَإِن كُنتُمۡ جُنُبٗا فَٱطَّهَّرُواْۚ )
{আর যদি তোমরা জুনুবী হও তবে পবিত্রতা অর্জন করো)}[ সূরা আল মায়িদা:৬]
নামাজরত অবস্থায় যার অজু নেই বলে স্মরণ হলো, অথবা নামাজ পড়াবস্থায় অজু ছুটে গেল, এমতাবস্থায় নামাজ বাতিল বলে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উচিত হবে, ছালাম দেয়া ব্যতীতই অজু করার জন্য মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়া। কেননা নামাজ বিঘ্নিত হয়েছে এবং শেষ হয়নি। আর সালাম তো হলো নামাজ সম্পন্ন করার কাজ।

নামাজ ও নাজাসাত

যে ব্যক্তি না জেনে নাজাসাতসহ নামাজ পড়ল, অথবা নাজাসাতের কথা ভুলে গেল, তবে তার নামাজ শুদ্ধ হবে। হাদীসে এসেছে, «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা নামাজ আদায় করে তাঁর জুতা খুলে ফেললেন। উপস্থিত লোকজনও তাদের জুতা খুলে ফেলল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করে বললেন, «তোমরা জুতা খুলে ফেললে কেন? উত্তরে তারা বললেন : ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমরা আপনাকে খুলে ফেলতে দেখলাম, তাই খুলে ফেললাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, «জিব্রীল আমার কাছে এসেছেন এবং খবর দিয়েছেন যে এ-দুটোয় নাজাসাত রয়েছে। তাই যদি তোমাদের কেউ মসজিদে আসে তাহলে যেন সে তার জুতা উল্টিয়ে দেখে নেয়। যদি তাতে কোনো নাজাসাত দেখে সে যেন তা জমিনে মুছে নেয় এবং সে দুটোতেই নামাজ আদায় করে।»(বর্ণনায় আবু দাউদ )

নামাজরত অবস্থায় যে ব্যক্তি জানতে পারল যে তার গায়ে অথবা কাপড়ে নাজাসাত রয়েছে, তার উচিত হবে তা দূর করা এবং নামাজ চালিয়ে যাওয়া। ইতঃপূর্বে আদায়কৃত নামাজের অংশের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী অংশ আদায় করা। আর যদি নাজাসাত দূর করতে সক্ষম না হয়, তবে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে।

তৃতীয়ত: কাপড়, শরীর ও জায়গা পাক হওয়া

১. কাপড় পাক;

আল্লাহ তাআলা বলেন,
(وَثِيَابَكَ فَطَهِّرۡ ٤ )
{আর তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র কর।} [সূরা আল মুদ্দাসসির:৪]



২. শরীর পাক:
হাদীসের এসেছে, «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা দুটি কবরের কাছ দিয়ে গেলেন। তিনি বললেন, «এ-দুই কবরবাসীর আযাব হচ্ছে। এদেরকে বড় কোনো গুনাহর কারণে আযাব দেয়া হচ্ছে না। এই লোক তো পেশাব থেকে দূরত্ব বজায় রাখত না।»(বর্ণনায় আবু দাউদ)

৩. জায়গা পাক;

এর প্রমাণ মসজিদে পেশাবকারী ব্যক্তি-বিষয়ক হাদীস যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, «তাকে ছেড়ে দাও, আর তার পেশাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও।»(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)

সমগ্র জমিনই মসজিদ

সমগ্র জমিনই মসজিদ। অতএব নাপাকিযুক্ত না থাকলে যেকোনো জায়গায় নামাজ আদায় করা শুদ্ধ। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, «আমার জন্য জমিনকে মসজিদ ও পবিত্র বানিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই আমার উম্মতের মধ্যে কোনো ব্যক্তি যখন নামাজের ওয়াক্ত পাবে সে যেন তা আদায় করে নেয়।»(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)



ব্যতিক্রম হলো কেবল ওইসব জায়গা যার ব্যাপারে হাদীসে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যেমন কবরস্থানে নামাজ। গোসলখানায় নামাজ। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, «সমগ্র জমিনই মসজিদ, তবে কবরস্থান ও গোসলখানা ব্যতীত।»(বর্ণনায় তিরমিযী)
উটের আস্তাবলে নামাজ পড়া বৈধ নয়। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
«তোমরা উটের আস্তাবলে নামাজ পড়ো না।» উটের আস্তাবল হলো, উট যেখানে রাতযাপন করে ও আশ্রয় নেয়।»
(বর্ণনায় তিরমিযী)

চতুর্থত: সতর ঢাকা

পুরুষের সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত।

কাঁধ ঢাকা
পুরুষ এমন পোশাক পরবে যা দুই বাহু ও ঘার ঢেকে রাখবে। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, «তোমাদের কেউ এমন এক কাপড়ে নামাজ পড়বে না যা তার দুই কাঁধকে খালি রাখে।
(বর্ণনায় তিরমিযী)

পঞ্চমত: কেবলামুখী হওয়া

কেবলা হলো পবিত্র কাবা।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
(فَوَلِّ وَجۡهَكَ شَطۡرَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِۚ وَحَيۡثُ مَا كُنتُمۡ فَوَلُّواْ وُجُوهَكُمۡ شَطۡرَهُۥۗ)
{সুতরাং তোমার চেহারা মাসজিদুল হারামের দিকে ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক, তার দিকেই তোমাদের চেহারা ফিরাও।} [সূরা আল বাকারা:১৪৪]
কেবলার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলো নজরে রাখা আবশ্যক:
১- যে ব্যক্তি মসজিদুল হারামের ভিতরে নামাজ পড়বে তাকে সরাসরি কাবাঘরের দিকে মুখ করে দাঁড়াতে হবে। আর যে ব্যক্তি কাবাঘর থেকে দূরে নামাজ পড়বে, কাবাঘর যে দিকে রয়েছে সেদিকে মুখ করে দাঁড়ালেই চলবে; কেননা এ অবস্থায় সরাসরি কাবাঘরের দিকে মুখ করে দাঁড়ানো হয়তো সম্ভব হবে না। এ জন্যেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন «পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝখানের সবটুকুই কেবলা»(বর্ণনায় তিরমিযী) {আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলা যায়, উত্তর ও দক্ষিণের মাঝখানের সবটুকুই কেবলা}
কোনো যানবাহনে আরোহী ব্যক্তির কেবলা হলো যেদিকে সে গমন করছে তা। হাদীসে এসেছে, «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহনের ওপর নামাজ পড়তেন যেদিকে বাহন যেত সেদিকেই মুখ করে। তিনি বাহনের ওপর বেতরের নামাজও আদায় করতেন, তবে ফরয নামাজ পড়তেন না ।».
(বর্ণনায় আবু দাউদ)

কেবলার দিক অজ্ঞাত থাকলে কি করণীয়?

কেবলার দিক কোনটি তা যদি জানা না থাকে, সে যদি কোনো বিল্ডিং এর ভিতরে থাকে অথবা নিকটে কোনো মানুষ পায়, তবে তার উচিত হবে জিজ্ঞাসা করে জানার চেষ্টা করা। অথবা মসজিদের মেহরাব, কম্পাস, চাঁদ সূর্যের অবস্থান ইত্যাদির মাধ্যমে কিবলা নির্ণয়ের চেষ্টা করা। পরিশেষে ব্যর্থ হলে যান্নে গালেব তথা প্রাধান্যপ্রাপ্ত ধারণার ওপর নির্ভর করে নামাজ আদায় করে নেয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন:
(فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُمۡ) .
{অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো ।} [ সূরা আত-তাগাবুন:১৬]




ই’তিকাফ কি? এর ফজিলত গুরুত্ব কি?

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৭, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে
ই’তিকাফ কি?  এর ফজিলত গুরুত্ব কি?
আভিধানিক অর্থে ইতিকাফ ‘
কোনোকিছুতে এঁটে থাকা ও তার মধ্যেই নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলা।
শরয়ী পরিভাষায় ইতিকাফ
আল্লাহ তাআলার ইবাদতের উদ্দেশে মসজিদে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলা

আরবি ই’তিকাফ শব্দের মানে অবস্থান করা, থেমে থাকা, আটকে থাকে, হাঁটু গেড়ে বসে থাকা ইত্যাদি। অর্থাৎ রমজানের শেষ ১০ দিন শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে মসজিদে অবস্থান করাকে ই’তিকাফ বলে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
“যতক্ষণ তোমরা ই’তিকাফের অবস্থায় মসজিদে অবস্থান করবে ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়ো না”। (সূরা বাক্বারাঃ১৮৭)

  ই’তিকাফ এর পালনীয় শর্তসমূহ

  • মসজিদ বা ঘরের নির্দিষ্ট অংশে অবস্থান করতে হবে।
  • জরুরী প্রয়োজন অর্থাৎ প্রস্রাব-পায়খানা ব্যতীত মসজিদের বাইরে অবস্থান করা যাবে না।
  • দুনিয়াবি কাজ-কর্ম করা যাবে না।
  • স্ত্রীর সাথে মিলন বা এরূপ কোন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • ইসলামি জ্ঞানার্জন, জ্ঞান চর্চা ও ইবাদতে সবসময় নিযুক্ত থাকতে হবে।

ই’তিকাফ কত প্রকার

ই’তিকাফ সাধারণত ২ প্রকার। যথাঃ-
১. মান্নত করে যদি ই’তিকাফ করা হয় তবে তা – ওয়াজিব।
২. রমজানের শেষ ১০ দিন ই’তিকাফ করা – সুন্নাতে মুআক্কাদা।
তবে এছাড়া কেউ যদি ই’তিকাফ করে তবে তা – মুস্তাহাব হবে।

  কত দিন ই’তিকাফ করতে হয়

  • কোন কোন হাদীস অনু্যায়ী ই’তিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমা ১ রাত বলে উল্লেখ আছে।
  • রমজানের শেষ ১০ দিন ই’তিকাফ করা সুন্নাত। রাসূল (স.) রমজানের শেষ দশ দিন ই’তিকাফ করতেন। এমনকি জীবনের শেষ রমজান মাসেও তিনি ই’তিকাফ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে জীবনে একবার হলেও ই’তিকাফ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
আভিধানিক অর্থে ইতিকাফ
কোনোকিছুতে এঁটে থাকা ও তার মধ্যেই নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলা।
শরয়ী পরিভাষায় ইতিকাফ
আল্লাহ তাআলার ইবাদতের উদ্দেশে মসজিদে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলা

ইতিকাফের শরীয়তভুক্ত হওয়া

ইতিকাফ উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদতের মধ্যে একটি। আয়শা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে আমরণ ইতিকাফ করে গেছেন।(বর্ণনায় বুখারী)
ইতিকাফ আমাদের জন্য ও আমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য আল্লাহ তাআলা বিধানভুক্ত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
(وَعَهِدۡنَآ إِلَىٰٓ إِبۡرَٰهِ‍ۧمَ وَإِسۡمَٰعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيۡتِيَ لِلطَّآئِفِينَ وَٱلۡعَٰكِفِينَ وَٱلرُّكَّعِ ٱلسُّجُودِ ١٢٥ )
{এবং (আদেশ দিলাম যে,) ‘তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর।’ আর আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে, ‘তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ‘ইতিকাফকারী ও রুকূকারী-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র কর।} [সূরা আল বাকারা:১২৫]

ইতিকাফের হুকুম

ইতিকাফ সারা বছরই সুন্নত তবে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করাই উত্তম। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশদিন সবসময় ইতিকাফ করে গেছেন।

ইতিকাফের শর্তসমূহ

১- নিয়ত

ইতিকাফকারী আল্লাহর ইবাদত ও সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশে মসজিদে অবস্থানের নিয়ত করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় নিয়তের ওপর আমলের নির্ভরতা।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)

২- যে মসজিদে ইতিকাফ করা হবে তা জামে মসজিদ হতে হবে

জামে মসজিদ অর্থ এমন মসজিদ যাতে জুমার নামাজ পড়া হয় এবং যাতে যেকোনো এলাকার মুসাল্লীদের নামাজ আদায়ের অধিকার উন্মুক্ত থাকে।

৩ - বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন

অতএব জুনুবী ব্যক্তি এবং হায়েয ও নিফাসগ্রস্ত নারীর ক্ষেত্রে ইতিকাফ করা শুদ্ধ হবে না; কেননা এদের মসজিদে অবস্থান করা বৈধ নয়।
ইতিকাফের জন্য রোজা শর্ত নয় ইতিকাফের জন্য রোজা শর্ত নয়; ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রাযি. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করে বললেন, ‘আমি জাহিলীযুগে মানত করেছিলাম যে একরাত মসজিদুল হারামে ইতিকাফ করব। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তুমি তোমার মানত পুরা করো।’ সে হিসেবে যদি রোজা রাখা শর্ত হতো তাহলে রাতের বেলায় ইতিকাফ শুদ্ধ হত না। কেননা রাতের ইতিকাফে কোনো রোজা নেই। এ ক্ষেত্রে আরেকটি দলিল এই যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাওয়ালের প্রথম দশদিন ইতিকাফ করেছেন বলে এক বর্ণনায় এসেছে। আর এটা সবার জানা যে, শাওয়ালের প্রথম দশদিনের মধ্যে ঈদের দিন রয়েছে, যাতে রোজা রাখা বৈধ নয়। আরেকটি বিষয় এই যে, রোজা ও ইতিকাফ দুটি ভিন্ন ইবাদত। কাজেই একটির জন্য অন্যটি শর্ত হবে না।

ইতিকাফের সময়

যেকোনো দিন ইতিকাফ করা শুদ্ধ। যেকোনো সময়সীমার জন্যও ইতিকাফ করা শুদ্ধ। তবে উত্তম হলো একদিন একরাতের কম না হওয়া; কেননা একদিন একরাতের কম ইতিকাফ করা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম কারও থেকেই প্রমাণিত নেই।

রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করা

এ দশদিন হলো ইতিকাফ করার সর্বোত্তম সময়; আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন। আমরণ তিনি তা করে গেছেন।
যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশদিনে ইতিকাফের নিয়ত করবে সে রমজানের একুশ তারিখে, যে মসজিদে ইতিকাফ করতে চায়, সে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়বে। এরপর ইতিকাফের জায়গায় প্রবেশ করবে। আয়শা রাযি. ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রমজানেই ইতিকাফ করতেন। তিনি যখন ফজরের নামাজ আদায় করতেন তখন ইতিকাফের স্থলে প্রবেশ করতেন।[বর্ণনায় বুখারী]
রমজানের শেষ দিনের সূর্যাস্ত যাওয়ার সাথে সাথে ইতিকাফ শেষ হয়ে যায়, তবে উত্তম হলো ঈদের দিন সকালে ইতিকাফ থেকে বের হওয়া। সালাফদের অনেকেই এরূপ করেছেন।

ইতিকাফকারীর জন্য যা বৈধ

১ - একান্ত প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হওয়া, যেমন খাওয়া ও পান করার প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হওয়া যদি তা মসজিদে হাজির করার জন্য কেউ না থাকে। পেশাব পায়খানার প্রয়োজনেও মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে। আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইতিকাফ করতেন, তিনি তাঁর মাথা আমার দিকে হেলিয়ে দিতেন, অতঃপর আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম। আর তিনি মানবিক প্রয়োজন ব্যতীত বাড়িতে প্রবেশ করতেন না।(বর্ণনায় মুসলিম)

২ - চুল ভাঁজ করা ও আঁচড়ানো বৈধ; উল্লেখিত হাদীস এর প্রমাণ ।

৩ - মানুষের সাথে উপকারী কথাবার্তা বলা। তারা কেমন আছে না আছে ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করা। কিন্তু অতিমাত্রায় এসব কথাবার্তা বলা উচিত হবে না। কেননা তা ইতিকাফের উদ্দেশের সাথে সাংঘর্ষিক।

৪ – আত্মীয়স্বজন ইতিকাফকারীর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আসতে পারবে। এমনকি তাদেরকে বিদায় দেয়ার জন্য ইতিকাফের জায়গা থেকে বের হওয়াও বৈধ রয়েছে। সাফিইয়া বিনতে হুআই রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফরত অবস্থায় আমি তাঁর সাথে রাতের বেলায় সাক্ষাৎ করতে এলাম। আমি তার সাথে কথা বললাম। এরপর যখন চলে যাওয়ার উদ্দেশে দাঁড়ালাম তিনি আমাকে বিদায় দেয়ার জন্য দাঁড়ালেন।(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)

ইতিকাফ বাতিলকারী-বিষয়সমূহ

১ - প্রয়োজন ব্যতীত ইচ্ছাকৃতভাবে মসজিদ থেকে বের হওয়া, যদিও তা অল্প সময়ের জন্য হয়; আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবিক প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদ থেকে বের হতেন না।’
(বর্ণনায় মুসলিম) উপরন্তু মসজিদ থেকে বের হওয়ার অর্থ ইতিকাফস্থলে অবস্থান করার যে নীতি রয়েছে তা ভঙ্গ হওয়া। আর ইতিকাফস্থলে অবস্থান করা ইতিকাফের একটি রুকন।

২ - স্বামী-স্ত্রীর মিলন, যদিও তা রাতের বেলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
( وَلَا تُبَٰشِرُوهُنَّ وَأَنتُمۡ عَٰكِفُونَ فِي ٱلۡمَسَٰجِدِۗ)
{আর তোমরা মাসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না।}
[সূরা আল বাকারা:১৮৭]
স্বামী-স্ত্রীর মিলনের সাথে যুক্ত হবে উত্তেজনাসহ যেকোনো উপায়ে বীর্যপাত ঘটানো, যেমন হস্তমৈথুন অথবা স্ত্রীর অন্যকোনো শরীরাংশে ঘর্ষণের মাধ্যমে বীর্যপাত|

৩ - ইতিকাফ ভঙ্গ করার দৃঢ় ইচ্ছা ব্যক্ত করা।
যদি কোনো মুসলিম সুনির্দিষ্ট দিনের ইতিকাফের নিয়ত করে, এরপর ইতিকাফ ভঙ্গ করে ফেলে তবে তার জন্য ইতিকাফ কাযা করা বৈধ হবে। আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইতিকাফের নিয়ত করতেন, তিনি ফজরের নামাজ পড়তেন, অতঃপর তিনি ইতিকাফস্থলে প্রবেশ করতেন। (একবার) তিনি তাঁর তাঁবু টানানোর নির্দেশ দিলেন, অতঃপর তাঁবু টানানো হলো - অর্থাৎ যখন তিনি রমজানের শেষ দশদিনের ইতিকাফ করার ইচ্ছা করলেন তখন- যয়নাব রাযি. তাঁর তাঁবু টানানোর নির্দেশ দিলেন, অতঃপর টানানো হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যান্য স্ত্রীগণও তাঁবু টানানোর নির্দেশ দিলেন, অতঃপর টানানো হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফজরের নামাজ পড়লেন, তিনি বহু তাঁবু দেখতে পেলেন। তিনি বললেন,‘তোমরা কি ভালো চাও? এরপর তিনি তাঁর তাঁবু গুটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন, অতঃপর তা গুটিয়ে ফেলা হলো। তিনি রমজানে ইতিকাফ করা ছেড়ে দিলেন এবং শাওয়ালের প্রথম দশদিন ইতিকাফ করলেন।’ অন্য এক বর্ণনা অনুযায়ী ‘শাওয়ালের শেষ দশদিন ইতিকাফ করলেন।(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম )ইতিকাফকারী ব্যক্তি রোগী দেখতে যাবে না। জানাযায়ও শরীক হবে না, বরং সে আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশে ইতিকাফস্থলে অবস্থান করবে।




ইসলামে-গোসলের-নিয়ম

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৭, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে


গোসল মানে পবিত্র পানি দ্বারা সমস্ত শরীর ভালোভাবে ধৌত করা। ইসলামে গোসল ৩ প্রকার  যথাঃ  
  • ফরজ গোসল
  •  সুন্নাত গোসল
  • মুস্তাহাব গোসল।
     আজ আমরা জানবো-
  • গোসল কখন ফরজ হয়
  • কখন গোসল করা সুন্নাত
  • কখন গোসল করা মুস্তাহাব
  • গোসলের ফরজ গুলো কি কি
  • গোসলের সুন্নাত গুলো কি কি
  • গোসলের মুস্তাহাব গুলো কি কি

   গোসল কখন ফরজ হয়

      এমন কিছু কারণ আছে যেগুলোর জন্য অবশ্যই গোসল করতে হবে বা গোসল করা ফরজ। এগুলো হলো-
  • স্বপ্নদোষ, যৌন উত্তেজনা বা অন্যকোন কারণে ইচ্চাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত বীর্যপাত হলে (পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্য প্রযোজ্য)।
  • স্ত্রীর সাথে গুপ্তাঙ্গের মাধ্যমে যৌন মিলন করলে বীর্যপাত হোক বা না হোক (স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের জন্য প্রযোজ্য)।
  • মেয়েদের হায়েজ ও নিফাস বন্ধ হলে গোসল করা ফরজ।

   কখন গোসল করা সুন্নাত

    সাধারণত ৪ টি উদ্দেশ্যে গোসল করা সুন্নাত। যথা-
  • শুক্রবার জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে গোসল করা সুন্নাত।
  • ঈদুর আযহা ও ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্য। অর্থাৎ দুই ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে।
  • হজ্জ করার পূর্বে ইহরাম বাঁধার উদ্দেশ্য গোসল করা।
  • হজ্জ শেষে আরাফার দিনে সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পরে গোসল করা সুন্নাত।

কখন গোসল করা মুস্তাহাব

বিভিন্ন কারণে গোসল করা মুস্তাহাব। যেসব কারণে গোসল করা মুস্তাহাব তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলোঃ-
  • কোন অমুসলিম মুসলমান হওয়ার পর গোসল করা মুস্তাহাব। তবে যদি সে অপবিত্র থাকে তাহলে গোসল করা ফরজ।
  • নাবালক বা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর।
  • মানসিক রোগী সুস্থ হওয়ার পর।
  • অজ্ঞান ব্যক্তির জ্ঞান ফেরে আসার পর।
  • নেশাকারী ব্যক্তির নেশা দূর হলে।
  • বগল ও গুপ্তাঙ্গের লোম কাটার পর।
  • শবে কদর বা শবে বরাতে ইবাদাতের পূর্বে।
  • মক্কা বা মদিনা শরীফে প্রবেশের জন্য।
  • গুনাহ হতে তওবা করার জন্য
  • বিপদ – আপদ ও মুসিবতের সময় নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে গোসল করা মুস্তাহাব।

ইসলামে গোসলের নিয়ম – কানুন

ইসলাম একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। সেই হিসাবে ইসলামে গোসলের নিয়ম – কানুন রয়েছে। এই বিধি-বিধানগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথাঃ গোসলের ফরজ, গোসলের সুন্নাত, গোসলের মুস্তাহাব। নিচে এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ-

গোসলের ফরজগুলো কি কি

গোসলের ফরজ ৩ টি যথাঃ-
  1. কুলি করা। উত্তমরূপে কুলি করার জন্য গড় গড়াসহ কুলি করতে হবে। তবে রোজা থাকা অবস্থায় গড় গড়া করার প্রয়োজন নেই।
  2. নাকে পানি দেওয়া। নাকে এমনভাবে পানি দিতে হবে যেন নাকের নরম হাড় পর্যন্ত পানি যায়।
  3. সমস্ত শরীর ভালোভাবে ধৌত করা। শরীর এমনভাবে ধৌত করতে হবে যেন সুঁচ পরিমাণ জায়গা শুকনা না থাকে।
যে ব্যক্তির উপর গোসল ফরজ হয়েছে তাকে অবশ্যই এই তিনটি শর্ত যথাযথভাবে পালন করতে হবে। অন্যথায় তার গোসল আদায় হবে না।

গোসলের সুন্নাতগুলো কি কি?

গোসলের উল্লেখ্যযোগ্য সুন্নাতগুলো হলো-
  • দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত ধোয়া।
  • লজ্জাস্থান পরিষ্কার করা।
  • গোসলের পূর্বে অজু করা।
  • কাপড় বা শরীরের কোন স্থানে নাপাক কিছু লেগে থাকলে গোসলের আগে তা পরিষ্কার করা।
  • গোসলখানায় পানি বা কাদা বা ময়লা জমে থাকলে এক পাশে বা দূরে গিয়ে পা ধৌত করা।
  • সমস্ত শরীর ৩ বার ধৌত করা।

গোসলের মুস্তাহাবগুলো কি কি

  • গোসল করার জন্য নিয়ত করা।
  • গোসল করার জন্য ঠিক যতটুকু পানি প্রয়োজন ততটুকু ব্যবহার করা।
  • শরীরকে ভালোভাবে ঘোঁষে গোসল করা।
  • পর্দার আড়ালে বা কেউ যেন না দেখে এমনভাবে গোসল করা।
  • গোসলের সময় অযথা কারো সাথে কথা না বলা।
  • বিনা প্রয়োজনে গোসলে কারো সাহায্য না নেওয়া।
  • গোসল শেষে সমস্ত শরীরের পানি মুছে ফেলা।
গোসলের মাধ্যমে শরীর অপবিত্র থেকে পবিত্র হয়। এছাড়া এর মাধ্যমে শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। শরীর পরিষ্কারের জন্যে সাবান, শ্যাম্পু বা অন্য যেকোন পরিষ্কারক দ্রব্য ব্যবহার করা যাবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঠিক নিয়মে গোসল করার তৌফিক দান করুন। আমিন


বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৯

বই: মুক্তবাসিনী-2 (বেপর্দা ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনের বিষফল এবং সত্যাশ্রয়ী বিশ্লেষণ)

বুধবার, নভেম্বর ০৬, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে

যুগের চাহিদা ও প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে কলম ধরাই একজন লেখকের প্রধান কর্তব্য। সেই কর্তব্যবোধ থেকেই এই ব্যতিক্রমধর্মী লেখার উপস্থাপনা। অবশ্য এক হিসেবে এটাকে ব্যতিক্রমধর্মীও বলা যায় না। কেননা, বর্তমান সময়ে বেপর্দা, উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার, প্রেম, পরকীয়া, খুন, ধর্ষণের যে চিত্র মহামারী আকারে আত্মপ্রকাশ করেছে তাতে কারও বসে থাকার সুযোগ খুব কম। প্রত্যেককে যার যার অবস্থানে থেকে এ ব্যাপারে কাজ চালিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবি। এই অনুভূতিবোধ তো আছেই, সেই সঙ্গে আমার মাথায় কাজ করেছে আরেকটি বিষয়। সেটি হলো, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতকে নারীজাগরণের পথিকৃত বলা হয়। তার বড় কৃতিত্ব (?) ছিল পর্দাদ্রোহ! তিনি যে সময়ের মানুষ ছিলেন সে সময়টায় রক্ষণশীলতা কথাটা বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হতো। মুসলিম পরিবারগুলোও ছিল রক্ষণশীলতার প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল। স্বয়ং রোকেয়াও জন্মগ্রহণ করেছিলেন একটি রক্ষণশীল পরিবারে। কিন্তু রক্ষণশীলতা আর পর্দার বিরুদ্ধে তিনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। লড়াই আর দর্শনটাকে কথা এবং কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কলমের মাধ্যমেও তা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি রচনা করেন ‘অবরোধবাসিনী’ বইটি। স্বতঃস্ফূর্ত পর্দা পালন করতে গিয়ে কোন্ নারী কীভাবে বিড়ম্বনায় পড়ল সে সব কাহিনী তিনি চটকদার শব্দে বিদ্রূপাত্মক ভাষায় প্রকাশ করেছেন। পর্দার বিরুদ্ধে এলিট শ্রেণীর দৃষ্টিতে পর্দার বিরুদ্ধে লেখা তার এই বইটি যেন অনুপ্রেরণার আদর্শ গ্রন্থ! এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এসব লোকেরা পর্দার বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার সহযোদ্ধার দায়িত্ব পালন করে আসছে। এখনও আছে সেই ধারাবাহিকতা। বরং এখন সহযোদ্ধারা আরও শক্তিশালী হয়ে ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে। রোকেয়ার দর্শন ও আবেদনকে নারীর কানে কানে পৌঁছে দিয়ে নারীকে তারা ঘর ছাড়া করতে চাইছে।
তাদের এই সর্বনাশা পদক্ষেপ নারী জাতির কী পরিমাণ ধ্বংসসাধন করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নারী জাতি আজ দিকহারা ভ্রান্তপথিক, তাদের ইজ্জত-সম্ভ্রম ধূলোয় লুটোপুটি খায়। আজ তারা পালকহীন পাখির মতো, যার সম্ভ্রমটুকু কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে ফেলে রাখা হয়েছে পথে-ঘাটে, বাজারে, মার্কেটে। সরলতাকে পুঁজি বানিয়ে একেকজন একেকভাবে তাদেরকে ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক চক্র তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ধ্বংস করছে, চতুর ‘বণিকেরা’ তাদেরকে সস্তা পণ্য বানিয়ে মুনাফা করছে, লম্পটেরা বক্রপথে কামনা চরিতার্থ করছে আর এক শ্রেণীর মানুষ ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো কিছু না পেয়েই লাফাচ্ছে। কিছু না পাওয়া এই শ্রেণীই বেশি ভয়ানক। এদের মায়াকান্নাতেই নারীরা পঙ্গপালের মতো আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে। নিজের হাতে রচনা করছে নিজেদের ধ্বংসের পথ।
ছদ্মবেশী এসব দুশমনের অকল্যাণ থেকে নারী জাতিকে সতর্ক করার প্রয়াস হিসেবেই ‘মুক্তবাসিনী’ বইটি লেখা। এতে সমসাময়িক যে সব নারকীয়, দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়ে গেছে, সে সব ঘটনা উল্লেখ করে এর সত্যাশ্রয়ী বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনার অনেকগুলো এত মর্মান্তিক, যা পাঠক হৃদয়ে বেদনার ঝড় তুলবে বলে আমি মনে করি। কারণ, হৃদয় বলে যে শক্তি আছে সেই শক্তিও অনেক সময় নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় কোনও কোনও ঘটনার নির্মমতায়। এই অভিজ্ঞতা আমার আপনার সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
ডাউনলোড লিংক: মুক্তবাসিনী-২
মুক্তবাসিনী – ১





বই: মুক্তবাসিনী-১ (বেপর্দা ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনের বিষফল এবং সত্যাশ্রয়ী বিশ্লেষণ)

বুধবার, নভেম্বর ০৬, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে

যুগের চাহিদা ও প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে কলম ধরাই একজন লেখকের প্রধান কর্তব্য। সেই কর্তব্যবোধ থেকেই এই ব্যতিক্রমধর্মী লেখার উপস্থাপনা। অবশ্য এক হিসেবে এটাকে ব্যতিক্রমধর্মীও বলা যায় না। কেননা, বর্তমান সময়ে বেপর্দা, উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার, প্রেম, পরকীয়া, খুন, ধর্ষণের যে চিত্র মহামারী আকারে আত্মপ্রকাশ করেছে তাতে কারও বসে থাকার সুযোগ খুব কম। প্রত্যেককে যার যার অবস্থানে থেকে এ ব্যাপারে কাজ চালিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবি। এই অনুভূতিবোধ তো আছেই, সেই সঙ্গে আমার মাথায় কাজ করেছে আরেকটি বিষয়। সেটি হলো, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতকে নারীজাগরণের পথিকৃত বলা হয়। তার বড় কৃতিত্ব (?) ছিল পর্দাদ্রোহ! তিনি যে সময়ের মানুষ ছিলেন সে সময়টায় রক্ষণশীলতা কথাটা বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হতো। মুসলিম পরিবারগুলোও ছিল রক্ষণশীলতার প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল। স্বয়ং রোকেয়াও জন্মগ্রহণ করেছিলেন একটি রক্ষণশীল পরিবারে। কিন্তু রক্ষণশীলতা আর পর্দার বিরুদ্ধে তিনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। লড়াই আর দর্শনটাকে কথা এবং কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কলমের মাধ্যমেও তা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি রচনা করেন ‘অবরোধবাসিনী’ বইটি। স্বতঃস্ফূর্ত পর্দা পালন করতে গিয়ে কোন্ নারী কীভাবে বিড়ম্বনায় পড়ল সে সব কাহিনী তিনি চটকদার শব্দে বিদ্রূপাত্মক ভাষায় প্রকাশ করেছেন। পর্দার বিরুদ্ধে এলিট শ্রেণীর দৃষ্টিতে পর্দার বিরুদ্ধে লেখা তার এই বইটি যেন অনুপ্রেরণার আদর্শ গ্রন্থ! এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এসব লোকেরা পর্দার বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার সহযোদ্ধার দায়িত্ব পালন করে আসছে। এখনও আছে সেই ধারাবাহিকতা। বরং এখন সহযোদ্ধারা আরও শক্তিশালী হয়ে ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে। রোকেয়ার দর্শন ও আবেদনকে নারীর কানে কানে পৌঁছে দিয়ে নারীকে তারা ঘর ছাড়া করতে চাইছে।
তাদের এই সর্বনাশা পদক্ষেপ নারী জাতির কী পরিমাণ ধ্বংসসাধন করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নারী জাতি আজ দিকহারা ভ্রান্তপথিক, তাদের ইজ্জত-সম্ভ্রম ধূলোয় লুটোপুটি খায়। আজ তারা পালকহীন পাখির মতো, যার সম্ভ্রমটুকু কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে ফেলে রাখা হয়েছে পথে-ঘাটে, বাজারে, মার্কেটে। সরলতাকে পুঁজি বানিয়ে একেকজন একেকভাবে তাদেরকে ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক চক্র তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ধ্বংস করছে, চতুর ‘বণিকেরা’ তাদেরকে সস্তা পণ্য বানিয়ে মুনাফা করছে, লম্পটেরা বক্রপথে কামনা চরিতার্থ করছে আর এক শ্রেণীর মানুষ ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো কিছু না পেয়েই লাফাচ্ছে। কিছু না পাওয়া এই শ্রেণীই বেশি ভয়ানক। এদের মায়াকান্নাতেই নারীরা পঙ্গপালের মতো আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে। নিজের হাতে রচনা করছে নিজেদের ধ্বংসের পথ।
ছদ্মবেশী এসব দুশমনের অকল্যাণ থেকে নারী জাতিকে সতর্ক করার প্রয়াস হিসেবেই ‘মুক্তবাসিনী’ বইটি লেখা। এতে সমসাময়িক যে সব নারকীয়, দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়ে গেছে, সে সব ঘটনা উল্লেখ করে এর সত্যাশ্রয়ী বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনার অনেকগুলো এত মর্মান্তিক, যা পাঠক হৃদয়ে বেদনার ঝড় তুলবে বলে আমি মনে করি। কারণ, হৃদয় বলে যে শক্তি আছে সেই শক্তিও অনেক সময় নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় কোনও কোনও ঘটনার নির্মমতায়। এই অভিজ্ঞতা আমার আপনার সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
ডাউনলোড লিংক: মুক্তবাসিনী-১
মুক্তবাসিনী – ১





বইঃ দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম

বুধবার, নভেম্বর ০৬, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে

বই: যাকাত অধ্যায়

আল্লাহ তা‘আলা আশরাফুল মাখলূকাত তথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানব জাতিকে তাদের সার্বিক জীবন পরিচালনার জন্য ইসলামকে একমাত্র দ্বীন হিসাবে মনোনীত করেছেন; যা পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত; এর অন্যতম স্তম্ভ হল যাকাত। শ্রেষ্ঠ ইবাদত ছালাতের পরেই যাকাতের স্থান। কুরআনুল কারীমের অধিকাংশ জায়গায় আল্লাহ তা‘আলা ছালাতের পরেই যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। ছালাত যেমন ফরয ইবাদত এবং তা অস্বীকারকারী কাফির; যাকাত তেমনি ফরয ইবাদত এবং তা অস্বীকারকারী কাফির। ছালাত যেমন মানুষকে যাবতীয় অশ্লীলতা ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে; যাকাত তেমনি মানুষকে কৃপণতার কালিমা থেকে মুক্ত করে, অর্জিত সম্পদকে পরিচ্ছন্ন ও পরিশুদ্ধ করে এবং অবৈধ ধনলিপ্সা দূর করে। অতএব যাকাতের বিধান ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে, যা আদায় করা সামর্থ্যবান সকলের উপর ফরয। আর এটাই দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান মাধ্যম। প্রত্যেক সমাজের ধনী ব্যক্তিরা যদি পূর্ণ মাত্রায় তাদের সম্পদের যাকাত বের করে এবং স্ব-স্ব সমাজের গরীবদের মাঝে সুষ্ঠু বণ্টন করে, তাহলে সমাজ থেকে দরিদ্রতা মুছে যাবে। সাথে সাথে গড়ে উঠবে মুসলমানদের পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধের শক্ত প্রাচীর। আর এর মাধ্যমেই ইহলৌকিক জীবনে নেমে আসবে অনাবিল শান্তি এবং পরলৌকিক জীবনে অর্জিত হবে জান্নাতের অফুরন্ত নে‘আমত।
বইটিতে কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর আলোকে যাকাতের যাবতীয় বিধি-বিধান সুন্দরভাবে আলোচিত হয়েছে।


Download



বই: সহীহ আত-তিরমিযী

বুধবার, নভেম্বর ০৬, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে
বই: সহীহ আত-তিরমিযী
হাদীস গ্রন্থগুলোর মধ্যে জামি’ আত-তিরমিযী অন্যতম। হাদীস গ্রন্হ গুলোর মধ্যে জামি’ পর্যায়ের হাদীসগ্রন্থ দুটির মধ্যে এটি একটি এবং অন্যটি হলো সহীহ বুখারী। প্রখ্যাত ছয়টি হাদীস গ্রন্থগুলোর মধ্যে তৃতীয় স্থানের অধিকারী। এই হাদীস গ্রন্থটি সম্পর্কে ইমাম তিরমিযী বলেন, যার ঘরে এই কিতাবখানি থাকবে, মনে করা যাবে যে, তার ঘরে স্বয়ং নবী (সা) অবস্থান করছেন ও নিজে কথা বলছেন।
বইটি কয়েকটি প্রকাশনী হতে বাংলা ভাষায় অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এর তাহক্বীক সহ প্রকাশ করা হয় নি। হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী এ ব্যাপারে এগিয়ে এসেছে। এর তাহক্বীক করেছেন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী। অনুবাদ করেছেন হুসাইন বিন সোহরাব ও শাইখ মো: ঈসা মিঞা বিন খলিলুর রহমান।
বইটির অনন্য বৈশিষ্ট্য:
1. এটিতে জামি আত-তিরমিযী’র শুধুমাত্র সহীহ হাদীসগুলো সংকলিত হয়েছে। তাহক্বীক শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ) থেকে নেয়া হয়েছে।
2. হাদীস সম্পর্কিত ইমাম তিরমিযী’র মতামতও সংরক্ষিত রয়েছে।
3. একই হাদীস অন্য গ্রন্থে থাকলে তাও উল্লেখ করা হয়েছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে নম্বরও দেয়া হয়েছে।
4. শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী কোন গ্রন্থ হতে তাহক্বীক নেয়া হয়েছে তাওউল্লেখ করা হয়েছে। যেমন সিলসিলাহ সহীহাহ, ইরওয়াউল গালীল, আল কালিমুত তায়্যিব, সহীহুল জামে, রাওযুন নাযীর, তালীকুল রাগীব প্রভৃতি।
5. হাদীস উল্লেখিত কুরআনের আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে কুরআনের সূরা ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।
6. একই হাদীসের কোন অংশ সহীহ ও কোন অংশ যইফ তাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ডাউনলোড:





ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png