শিরোনাম
Loading latest headlines...

সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

সাহাবির বিয়ের মোহরানা "কোরআন তোমার মুখস্থ "

সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে

 


হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.)-এর বরাতে একটি হাদিসের বর্ণনা আছে।


এক নারী রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি আমার জীবন আপনার হাতে সমর্পণ করতে এসেছি।’


নবী (সা.) তাঁর দিকে তাকিয়ে সতর্ক দৃষ্টিতে তাঁর আপাদমস্তক দেখলেন। তারপর মাথা নিচু করে রইলেন। ওই নারী যখন দেখলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো ফয়সালা দিচ্ছেন না, তখন তিনি বসে পড়লেন।


সাহাবিদের মধ্য থেকে একজন দাঁড়িয়ে তখন বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, যদি আপনার বিয়ের প্রয়োজন না থাকে, তবে আমার সঙ্গে এই নারীকে বিয়ে দিয়ে দিন।’


রাসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার কাছে কী আছে?’


সাহাবিটি উত্তর দিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার কাছে কিছুই নেই।’


রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে দেখ, কিছু পাও কি না।’



সাহাবি চলে গেলেন। ফিরে এসে বললেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি কিছুই পাইনি।’


রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন বললেন, ‘আবার গিয়ে লোহার একটি আংটিও পাও কিনা দ্যাখো।’


সাহাবি আবারও ফিরে গেলেন। এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! তা–ও পেলাম না। এই আমার বস্ত্র। শুধু এটাই আছে।’ তাঁর কাছে কোনো চাদরও ছিল না। লোকটি তার অর্ধেক নারীটিকে দিতে চাইলেন।


রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তোমার বস্ত্র দিয়ে সে কী করবে? তুমি যদি এটি পরো, তাহলে তার কোনো কাজে আসবে না; আর যদি সে পরে, তাহলে তোমার কোনো কাজে আসবে না।’


সাহাবিটি বেশ কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকলেন। এর পর উঠে দাঁড়িয়ে চলে যেতে উদ্যত হলেন। নবী (সা.) তখন তাঁকে ডেকে এনে প্রশ্ন করলেন, ‘তোমার কি কোরআন মুখস্থ আছে?’


তিনি বললেন, ‘অমুক অমুক সুরা আমার মুখস্থ।’


রাসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘এগুলো কি তোমার মুখস্থ।’


তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’


রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন বললেন, ‘যে পরিমাণ কোরআন তোমার মুখস্থ আছে, তার বিনিময়ে তোমার কাছে এই নারীকে আমি বিয়ে দিলাম।’ (বুলুগুল মারাম, হাদিস: ৯৭৯)


বেশ বৈচিত্র্যময় সাহাবিদের যুগে বিয়ে ছিল



পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ কোরো না

সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে

 




আল্লাহ–তাআলা বলেছেন, তোমরা অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান কোরো না। (সুরা হুজরাত, আয়াত: ১২)


কোরআনে আছে, ‘যারা বিনা অপরাধে বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ আর স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে।’ (সুরা আহযাব, আয়াত: ৫৮)


হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-র বরাতে একটি হাদিসের বর্ণনা আছে। তিনি জানিয়েছেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা মন্দ ধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাক। কারণ, মন্দ ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা। অন্যের গোপন দোষ খুঁজে বেড়িও না, অন্যের গোয়েন্দাগিরি করো না, একে অন্যের সঙ্গে (অসৎ কাজে) প্রতিদ্বন্দ্বিতা কোরো না, পরস্পরকে হিংসা কোরো না, অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ কোরো না, একে অন্যের বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ কোরো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে যাও—যেমনটা তিনি তোমাদের আদেশ দিয়েছেন।



এক মুসলমান আরেক মুসলমানের ভাই। একজন আরেকজনকে অত্যাচার কোরো না, অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দিও না এবং তাকে তুচ্ছ ভেবো না। এখানে আল্লাহভীতি রয়েছে (তিনি নিজের বুকের দিকে ইঙ্গিত করলেন।) কোনো মুসলমান ভাইকে তুচ্ছ ভাবা আরেকজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, সম্ভ্রম আর সম্পদ আরেক মুসলমানের ওপর হারাম। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের দেহ আর আকার-আকৃতি দেখেন না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমল দেখেন।


আরেক বর্ণনায় আছে: তোমরা পরস্পরকে হিংসা কোরো না, পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ কোরো না, অন্যের গোয়েন্দাগিরি কোরো না, অন্যের গোপন দোষ খুঁজে বেড়িও না, পরস্পরের পণ্যদ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়ো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে যাও।




অন্য আরেক বর্ণনায় আছে: তোমরা পরস্পর সম্পর্কচ্ছেদ কোরো না, একে অন্যের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন হয়ো না, পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ কোরো না, পরস্পর হিংসা কোরো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে যাও।


অন্য আরও একটি বর্ণনায় আছে: তোমরা একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন কোরো না এবং অন্যের কেনাবেচার ওপর কেনাবেচা কোরো না।


 বুখারি, হাদিস: ৫,১৪৩



সুরা ইউসুফের সারকথা

সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে

 


সুরা ইউসুফ পবিত্র কোরআনের ১২তম সুরা। এর আয়াত সংখ্যা ১১১। রুকু ১২টি। সুরা ইউসুফ পবিত্র নগরী মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ সুরায় ধারাবাহিকভাবে হজরত ইউসুফ (আ.)–এর জীবনকথা বর্ণনা করা হয়েছে। তা থেকে আমরা আল্লাহর মহিমা সম্পর্কে জানতে পারি এবং আমাদের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি।


সুরা ইউসুফের মর্মবস্তু হলো ধৈর্যের সুফল। এ সুরায় মানবজাতির জন্য বিশেষ নির্দেশনা ও শিক্ষা নিহিত রয়েছে।



হজরত ইয়াকুব (আ.)–এর ১২ ছেলে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে হজরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন অতি রূপবান। তাঁর স্বভাবও ছিল অপূর্ব। ইউসুফ (আ.)–এর প্রতি হজরত ইয়াকুব (আ.)–এর ভালোবাসা ছিল প্রকাশ্য। এ কারণে ভাইয়েরা তাঁকে হিংসা করতেন। একবার খেলাধুলার কথা বলে ভাইয়েরা তাঁকে কুয়ায় ফেলে দেন। পরে কুয়ার পাশ দিয়ে একটি কাফেলা যাওয়ার সময় তারা পানি নেওয়ার জন্য তাতে বালতি ফেললে ভেতর থেকে ইউসুফ (আ.) বের হয়ে আসেন।



কাফেলার লোকেরা ইউসুফ (আ.)–কে বিক্রি করে দেন। মিসরের এক মন্ত্রী তাঁকে কিনে বাড়িতে নিয়ে যান। ইউসুফ (আ.) যৌবনে পদার্পণ করলে মন্ত্রীর স্ত্রী জোলেখা তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাঁকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন। ইউসুফ (আ.) তাঁর প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করেন। এ ঘটনার পরম্পরায় ইউসুফ (আ.)–কে জেলে বন্দী করা হয়।


জেলখানায় ইউসুফ (আ.) তাওহিদের দাওয়াত দেন। বন্দীরা তাঁকে সম্মান করত। সে সময় মিসরের বাদশাহ একবার স্বপ্ন দেখেন। বাদশাহর সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারেন না। কিন্তু জেলবন্দী ইউসুফ (আ.) অর্থপূর্ণভাবে সে স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেন। বাদশাহ এতে সন্তুষ্ট ও উপকৃত হন। ইউসুফ (আ.)–কে তিনি দেশের খাদ্যভান্ডার, ব্যবসা-বাণিজ্য তদারক করার জন্য উজির পদে নিয়োগ করেন।


কিছুদিন পর মিসর ও আশপাশে প্রবল দুর্ভিক্ষ হয়। ইউসুফ (আ.)–এর দুর্ভিক্ষপীড়িত ভাইয়েরা ত্রাণ নিতে মিসর আসেন। ভাইদের সঙ্গে কয়েকবার সাক্ষাতের পর ইউসুফ (আ.) নিজের পরিচয় দিয়ে তাঁদের বলেন, ‘আমি তোমাদের ভাই ইউসুফ।’ এরপর তাঁরা মা–বাবাসহ মিসরে বসবাস করতে থাকেন।


পবিত্র কোরআনের ১২ নম্বর সুরা হলো সুরা ইউসুফ। সুরা ইউসুফে ইউসুফ (আ.)–এর কাহিনিকে ১২ ভাগে বিভক্ত করা যায়। ১. হজরত ইউসুফ (আ.) স্বপ্ন দেখলেন। ২. ইউসুফ (আ.)–এর ভাইয়েরা তাঁর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করলেন। ৩. মন্ত্রীর স্ত্রী জোলেখা ইউসুফ (আ.)–এর সঙ্গে তাঁর বাসনা পূরণ করতে চাইলেন। ৪. জোলেখার সহচরীরা ইউসুফ (আ.)–এর রূপে বিবশ হয়ে আপেলের বদলে নিজেদের আঙুল কেটে ফেললেন। ৫. ইউসুফ (আ.)–কে জেলে পাঠানো হলো। ৬. মিসরের বাদশাহ রহস্যময় একটি স্বপ্ন দেখলেন। ৭. ইউসুফ (আ.) বাদশাহর স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দিলেন। ৮. ইউসুফ (আ.)–কে জেল থেকে বের করা হলো। ৯. জোলেখার সহচরীরা নিজেদের দোষ স্বীকার করলেন। ১০. জোলেখা নিজের দোষ স্বীকার করলেন। ১১. ইউসুফ (আ.)–এর ভাইয়েরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলেন। ১২. বাদশাহর স্বপ্নের ব্যাখ্যার মর্ম বোঝা গেল। এখানে আরেকটি মিল খুঁজে পাওয়া যায়: ১ নম্বরের (ইউসুফ (আ.) স্বপ্ন দেখলেন) সঙ্গে ১২ নম্বরের (বাদশাহর স্বপ্নের ব্যাখ্যার মর্ম বোঝা গেল) মিল পাওয়া যায়। ২ নম্বরের (ইউসুফ (আ.)–এর ভাইয়েরা তাঁর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করলেন) সঙ্গে ১১ নম্বরের (ইউসুফ (আ.)–এর ভাইয়েরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলেন) মিল পাওয়া যায়। ৩ নম্বরের (মন্ত্রীর স্ত্রী জোলেখা ইউসুফ (আ.)–এর সঙ্গে তাঁর বাসনা পূরণ করতে চাইলেন) সঙ্গে ১০ নম্বরের (জোলেখা নিজের দোষ স্বীকার করলেন) মিল পাওয়া যায়। ৪ নম্বরের (জোলেখার সহচরীরা ইউসুফ (আ.)–এর রূপে বিবশ হয়ে আপেলের বদলে নিজেদের আঙুল কেটে ফেললেন) সঙ্গে ৯ নম্বরের (জোলেখার সহচরীরা নিজেদের দোষ স্বীকার করলেন) মিল পাওয়া যায়। ৫ নম্বরের (ইউসুফ (আ.)–কে জেলে পাঠানো হলো) সঙ্গে ৮ নম্বরের (ইউসুফ (আ.)–কে জেল থেকে বের করা হলো) মিল পাওয়া যায়। ৬ নম্বরের (মিসরের বাদশাহ রহস্যময় একটি স্বপ্ন দেখলেন) সঙ্গে মিল পাওয়া যায় ৭ নম্বরের (ইউসুফ (আ.) বাদশাহর স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দিলেন)।



বেশ বৈচিত্র্যময় সাহাবিদের যুগে বিয়ে ছিল

সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে

 



সাহাবিদের যুগে বিয়ে ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। বিয়ের আয়োজন ছিল সাদামাটা, প্রস্তুতি ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টার। সকালবেলা একজন সাহাবি ছিলেন অবিবাহিত। কবে বিয়ে করবেন, কাকে বিয়ে করবেন, সেটা সকালেও জানা ছিল না। সন্ধ্যায় তিনি সংসার শুরু করতেন! বিয়ের কারণে পাড়াপড়শির নির্ঘুম বিরক্তি সাহাবিদের যুগে ছিল না।


বিয়ের প্রথম ধাপ হচ্ছে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া। পুরুষ সাহাবিরা নিজেদের বিয়ের প্রস্তাব সরাসরি পাত্রীপক্ষের কাছে নিয়ে যেতেন। আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে নিজের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যান। তিনি প্রথমে সংকোচ বোধ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে অভয় দেন। এরপর নবী–কন্যা ফাতেমাকে (রা.) বিয়ে করেন আলী (রা.)।



সম্ভ্রান্ত নারীরাও কারও মাধ্যমে নিজেদের বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে পারতেন। খাদিজা (রা.) তাঁর বান্ধবী নাফিসা (রা.)-র মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। এমনকি কয়েকজন নারী সাহাবিও সরাসরি এসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এমন একজন প্রস্তাবকারী ছিলেন খাওলা বিনতে হাকিম (রা.)। তাঁর স্বামী উসমান ইবনে মাজউন (রা.) ইন্তেকালের পর তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বিয়ে করেননি।


একজন নারীর রাসুল (সা.)–কে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা চৌদ্দ শ বছর পর বিস্ময়কর মনে হতে পারে, কিন্তু সাহাবিদের সময় এটা ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সাহাবিরা যখন তাঁদের সন্তানদের কাছে ঘটনাটি বলেন, তাঁরা অবাক বিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করেন, সেই নারী কীভাবে রাসুল (সা.)–কে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন!



বিয়ের মোহরানা ছিল একেক জনের একেক রকম। যাঁর যাঁর সামর্থ্য ও পাত্রীর সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী মোহরানা নির্ধারিত হতো। এক সাহাবির মোহরানা দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। তাঁর মুখস্থ কোরআনকে মোহরানা হিসেবে ধার্য করা হয়, যা তিনি স্ত্রীকে শেখাবেন।


সাহাবিদের যুগে পাত্রীরাও চাইলে মোহরানার প্রস্তাব দিতে পারতেন। রুমাইসা বিনতে মিলহান (রা.) আবু তালহা (রা.)-কে বিয়ে করার সময় নিজের মোহরানা নির্ধারণ করেন স্বামীর ইসলাম গ্রহণ। তিনি শর্ত জুড়ে দেন, তাঁকে বিয়ে করতে চাইলে আবু তালহাকে ইসলাম গ্রহণ করতে হবে। আবু তালহা কয়েক মিনিট চিন্তা করে বিয়েতে রাজি হন।


আলী ও ফাতেমা (রা.)-র বিয়ের মোহরানা ছিল ৪৬০ দিরহাম। সাহাবিদের যুগের ৪৬০ দিরহাম বর্তমান সময়ে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা।


সে যুগে মেয়েদের জোর করে বিয়ে দেওয়া হতো না। বিয়েতে মেয়ের মতামতকে অসম্ভব গুরুত্ব দেওয়া হতো। এমনকি বিয়ের পরও যদি পাত্রী জানাতেন যে সে বিয়েতে অসম্মত ছিলেন, তাহলে রাসুলুল্লাহ (সা.) সে বিয়ে বাতিল করে দিতেন।


নারীরা নিজেদের বিয়ে নিয়ে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারতেন। কোনো কারণে পাত্র পছন্দ না হলে ‘না’ করে দিতে পারতেন। পাত্র ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক মর্যাদার অধিকারী হলেও নারীদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হতো।


ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবি, খলিফাতুল মুসলিমিন। তিনি আবু বকর (রা.)-র মেয়ে উম্মে কুলসুম (রাহি.)-কে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ওমরের (রা.) মেজাজের কারণে সে নারী বিয়েতে রাজি না হয়ে সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব পরে অন্য এক উম্মে কুলসুমকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন আলীর (রা.) মেয়ে উম্মে কুলসুম বিনতে আলী (রাহি.)।


সাহাবিদের বিয়েতে প্রথমদিকে মোহরানা অনেক কম ছিল। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) খলিফা হওয়ার পর মুসলমানদের অর্থনৈতিক জীবনে আমূল পরিবর্তন আসে। তখন বিয়েতে মোহরানার পরিমাণ বেড়ে যায়। খলিফা মোহরানা কমানোর জন্য রাষ্ট্রীয় ফরমান জারি করতে চেয়েছিলেন। তাতে এক নারী আপত্তি জানান। তিনি কোরআনের একটি আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এটা তিনি করতে পারেন না। খলিফা সেই নারীর আপত্তি আমলে নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ মোহরানা নির্ধারণ করা থেকে বিরত থাকেন।


তিনি উম্মে কুলসুম বিনতে আলীকে বিয়ে করার সময় মোহরানা হিসেবে ৪০ হাজার দিরহাম দেন। সাহাবিদের যুগে ১২ দিরহাম দিয়ে একটি ভেড়া কেনা যেত।


সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম ধনী সাহাবি আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) স্ত্রীকে মোহরানা বাবদ ৩০ হাজার দিরহাম দিয়েছিলেন।



সাবিত ইবনে কায়স (রা.) তাঁর স্ত্রীকে মোহরানা হিসেবে একটি বাগান দেন, যা সেই যুগ হিসেবে মোটা অঙ্কের মোহরানা।


সাহাবিদের যুগে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ছিল সীমিত। এ কারণে বিয়ে ছিল সহজ। বিয়েতে সবাইকে দাওয়াত দিতে হবে, না দিলে কে কী মনে করবেন—এমন মনোভাব তখন ছিল না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সাহাবিদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি। তাই বলে রাসুলুল্লাহকে (সা.) প্রত্যেক সাহাবিই বাধ্যতামূলকভাবে বিয়েতে দাওয়াত দিতেন না। কখনো কখনো এমনও হতো, কোনো সাহাবির বিয়ের কয়েক দিন পর রাসুলুল্লাহ (সা.) সে খবর পেতেন। এমনটা হয়েছিল আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) এবং জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রা.)-র সঙ্গে।


রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও মোটেই এ প্রত্যাশা করতেন না যে প্রত্যেক সাহাবিই তাঁকে বিয়ের দাওয়াত দেবেন বা তাঁকে জানিয়ে বিয়ে করবেন। এ যুগে যেসব সামাজিক বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে আমরা বিয়ের আয়োজন করি, সে সময় মোটেও সেসব ছিল না।


আরিফুল ইসলাম: লেখক



শুক্রবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৪

ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত বইসমূহ

শুক্রবার, আগস্ট ১৬, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে


ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত/অনূদিত বইসমূহ



 বাংলাদেশের আলেম সমাজের অন্যতম প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব ছিলেন ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর। ইসলাম সম্পর্কে তাঁর সুগভীর পাণ্ডিত্য এবং জ্ঞানগর্ভ আলোচনার কারণে তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের সব ধরনের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। কিন্তু যুগে যুগে বিখ্যাত ব্যক্তিরা ক্ষণজন্মা হয়ে থাকে। আর প্রকৃতির সেই আমক সত্যকে বাস্তবে রূপদান করে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের সবার মন জয় করে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর। কিন্তু তিনি ইসলামের সেবায় তার অবিনশ্বর কীর্তির মাধ্যমে চিরজীবন আমাদের মনের মনিকোঠায় বসবাস করবেন।


ড. জাহাঙ্গীর ১৯৬১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের ধোপাঘাট গোবিন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা খোন্দকার আনওয়ারুজ্জামান ও মায়ের নাম বেগম লুৎফুন্নাহার।


তিনি ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৭৩ সালে দাখিল, ১৯৭৫ সালে আলিম এবং ১৯৭৭ সালে ফাজিল ও ১৯৭৯ সালে হাদিস বিভাগ থেকে কামিল পাস করেন। এরপর তিনি সৌদি আরবের রিয়াদের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাঊদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে অনার্স, ১৯৯২ সালে মাস্টার্স ও ১৯৯৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।


রিয়াদের অধ্যয়নবালে তিনি বর্তমান সৌদি বাদশা ও তৎকালীন রিয়াদের গভর্নর সালমানের হাত থেকে পর পর দু’বার সেরা ছাত্রের পুরস্কার গ্রহণ করেন। সৌদিতে তিনি শায়খ বিন বায, বিন উসায়মিন, আল জিবরিন ও আল ফাউজানসহ বিশ্ববরেণ্য স্কলারদের সান্নিধ্যে থেকে ইসলাম প্রচারে বিশেষ দীক্ষা গ্রহণ করেন।


রিয়াদে অধ্যয়নকালে তিনি উত্তর রিয়াদ ইসলামি সেন্টারে দাঈ ও অনুবাদক হিসেবে প্রায় তিন বছর কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।


ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর সৌদি আরবে শিক্ষা শেষে লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব উপেক্ষা করে ইসলাম প্রচার ও সমাজ সংস্কারের উদ্দেশ্যে ফিরে আসেন বাংলাদেশে।


দেশে এসে ইসলাম প্রচারসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করেন। পেশায় তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক। ১৯৯৮ সালে কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৯ সালে তিনি একই বিভাগে প্রফেসর পদে উন্নীত হন। এছাড়াও তিনি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দারুস সালাম মাদ্রাসায় খণ্ডকালীন শায়খুল হাদিস হিসেবে সহিহ বোখারির ক্লাস নিতেন। তিনি ওয়াজ মাহফিলের অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন আলোচক ছিলেন। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফর করে তিনি মানুষকে শোনাতেন শাশ্বত ইসলামের বিশুদ্ধ বাণী।


বাংলা ইংরেজি ও আরবি ভাষায় সমাজ সংস্কার, গবেষণা ও শিক্ষামূলক প্রায় পঞ্চাশের অধিক গ্রন্থের রচয়িতা তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- এহয়াউস সুনান, তরিকে বেলায়েত, হাদিসের নামে জালিয়াতি, ইসলামের নামে জঙ্গীবাদ ইত্যাদি।


মরহুম আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত সদালাপী, বিনয়ী, উম্মাহর জন্য দরদী, মুখলিস, পরমত সম্মানকারী, যুগসচেতন, ভারসাম্যপূর্ণ, উম্মাহর ঐক্য ভাবনায় বিভোর, প্রাজ্ঞ ও পণ্ডিত হিসেবে সব মহলে সমাদৃত ছিলেন।


ফুরফুরা শরীফের পীর আবদুল কাহহার সিদ্দীকির মেয়ে ফাতেমার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।


বই ডাউনলোড করুন:




মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

পথ চলার আদব ও সুন্নত সমূহ পর্ব--৫

মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে
চলার আদব ও সুন্নত সমূহ



অষ্টম হক : ভালো কথা বলা_ 

পথে একে অন্যের সাথে দেখা হয়, কথা হয়। কুশলাদি বিনিময় হয়। এক্ষেত্রে  সহাস্য বদনে সুন্দরভাবে কথা বলা উচিত। কারণ, অনর্থক, অশালীন, অন্যায় কথার কারণে অনেক সময় পথে ফ্যাসাদ হয়। আর মুমিনের শানই হল ভালো কথা বলা; অন্যথায় চুপ থাকা। হাদীস শরীফে এসেছে

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ.

যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমান রাখে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। *(সহীহ বুখারী, হাদীস ৬০১৮)*

আর সবচেয়ে ভালো কথা হল, আল্লাহর দিকে মানুষকে আহ্বান করা। ভালো কাজের প্রতি আহ্বান করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন

وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِمَّنْ دَعا إِلَى اللهِ.

কথায় কে উত্তম ঐ ব্যক্তির চেয়ে, যে মানুষকে আল্লাহর প্রতি আহ্বান করে। *(সূরা হা-মীম আসসাজদাহ (৪১) : ৩৩)*
 _নবম হক : হাঁচির জবাব দেয়া_ 

সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণ এটি মুসলিমের একটি বৈশিষ্ট্য। দৈনন্দিন জীবনের মাসনূন দুআগুলো আল্লাহর স্মরণের মাধ্যম। হাঁচি আসা, এটি আল্লাহর রহমত। এর মাধ্যমে শরীর থেকে অনেক জীবাণু বের হয়ে যায়। তাই হাঁচি এলে মুমিন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলে, আলহামদু লিল্লাহ। হাদীস শরীফে একেও পথ চলার হক বলা হয়েছে। সুতরাং পথেও এ সুন্নতের প্রতি খেয়াল রাখা কর্তব্য। 
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে

إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلْيَرُدَّ عَلَيْهِ مَنْ حَوْلَهُ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ، وَلْيَرُدَّ عَلَيْهِمْ: يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ.

কেউ হাঁচি দিলে বলবে, আলহামদু লিল্লাহ। এর জবাবে আশপাশে যারা থাকবে, বলবে ইয়ারহামুকাল্লাহ। প্রতি উত্তরে হাঁচিদাতা বলবে ইয়াহদীকুমুল্লাহু ওয়া ইউছলিহু বা-লাকুম। *(সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৭১৫)*


 _দশম হক : দম্ভভরে পথ না চলা_ 

দম্ভভরে পথচলার বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। 
 রাস্তায় কাউকে পাশ না দেয়া। অন্যের চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করা। 
অন্যের যানবাহন আটকে রেখে নিজের পথ সুগম করা। 
বুক ফুলিয়ে ও মাথা উঁচু করে হাঁটা ইত্যাদি। এ সবই বর্জনীয়। 
কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন

 وَ لَا تَمْشِ فِی الْاَرْضِ مَرَحًا  اِنَّكَ لَنْ تَخْرِقَ الْاَرْضَ وَ لَنْ تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُوْلًا .

ভূপৃষ্ঠে দম্ভভরে চলো না। তুমি তো পদভারে ভূমিকে বিদীর্ণ করে ফেলতে পারবে না এবং উচ্চতায় পাহাড় পর্যন্তও পৌঁছতে পারবে না। *(সূরা বনী ইসরাঈল (১৭) : ৩৭)*

আল্লাহ তাআলা আমলের তাওফীক দান করুন। আমিন।


সোমবার, ১০ জুন, ২০২৪

নামাজের সুফল লাভের উপায়

সোমবার, জুন ১০, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে


নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর সময়ের ভিত্তিতে ফরজ করা হয়েছে

মহান আল্লাহ কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, ‘জমিন ও আসমানের সকল প্রশংসা একমাত্র তারই। অতএব তোমরা আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করো (নামাজ পড়ো) সন্ধ্যায় (মাগরিব ও এশা) ও প্রত্যুষে (ফজর) এবং বিকেলে (আসর) ও দ্বিপ্রহরে (জোহর)।’ -(সুরা আর রূম : ১৭-১৮)

নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায়
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর সময়ের ভিত্তিতে ফরজ করা হয়েছে।’ -(সুরা আন নিসা : ১০৩)

কোরআনে কারিমে আরও ইরশাদ হয়েছে,
 ‘নামাজ কায়েম করো দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের কিছু অংশে। অবশ্যই পুণ্যকাজ পাপকে দূর করে দেয়। 
যারা শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের জন্য এটি উত্তম উপদেশ।’ –(সুরা হুদ : ১১৪)


 _নামাজের মাধ্যমে হেদায়েত লাভ_ 

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কোরআন সেই মুত্তাকিদেরকে মুক্তির পথ দেখাবে যারা জীবনে নামাজ কায়েম করে।’ -(সুরা বাকারা : ২-৩)

তিনি আরও বলেন,
 ‘এটা হেদায়েত ও সুসংবাদ ওই মুমিনদের জন্য, 
যারা নামাজ কায়েম করে, 
জাকাত দেয় এবং আখেরাতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।’ -(সুরা নামল : ২-৩)

কোরআনে কারিমে আরও ইরশাদ হয়েছে,
 ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, 
জাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য করো।
 আশা করা যায়, তোমাদের ওপর রহম করা হবে।’ -(সুরা নূর : ৫৬)

সন্তানদের নামাজের নির্দেশ
হজরত আমর বিন শোয়াইব (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের সন্তানদেরকে নামাজের নির্দেশ দাও যখন তারা সাত বছরে উপনীত হয়। আর দশ বছর হলে নামাজের জন্য প্রয়োজনে প্রহার করো এবং বিছানা পৃথক করো।’ –(সুনানে আবু দাউদ : ২৭২)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে অন্য জুমা, এক রমজান থেকে অন্য রমজান কাফফারা হয় সে সব গোনাহর জন্য, যা এ সবের মধ্যবর্তী সময়ে ঘটে থাকে, যদি কবিরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।’

 _নামাজ না পড়ার পরিণতি_ 

নামাজ না পড়া কঠিন শাস্তির কারণ। 
এ ছাড়া নামাজ না পড়ার কারণে আরও যেসব শাস্তি দেওয়া হবে এর অন্যতম হলো- তার চেহারা মলিন হবে।
 আল্লাহতায়ালা বলেন, 
‘কিয়ামতের দিন তার চেহারা উদাস ও অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে, 
যে কোরআনকে মেনে নেয়নি এবং নামাজ আদায় করেনি।’ -(সুরা কিয়ামা : ৩১)

 _আখেরাতে নামাজের হিসাবই প্রথমে হবে_ 

হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে নামাজের হিসাব সর্বপ্রথম নেওয়া হবে। যদি তা সঠিক হয় তাহলে সে সফল হবে, নাজাত পাবে। আর তা যদি খারাপ হয় তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। -(সুনানে তিরমিজি)

 _ইসলাম ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী_ 

হজরত জাবির (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আনুগত্য ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ।’ –(সহিহ মুসলিম)

মানবজীবনে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম।
 কোরআন মাজিদে অন্তত বিরাশি জায়গায় নামাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
কোরআন ও হাদিস ভালোভাবে অধ্যয়ন করলে বুঝা যায়, নিম্নোক্ত ছয়টি কাজ করলে নামাজের উদ্দেশ্য সফল হয়।

১. জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়।
২. সহি-শুদ্ধভাবে নামাজ আদায়।
৩. ধীরে ধীরে নামাজ আদায়।
৪. বিনীত ও বিনম্রভাবে নামাজ আদায়।
৫. বুঝে বুঝে নামাজ আদায়।
৬. নামাজের আলোকে জীবন গড়া।

আসলে নামাজ জামাতের সঙ্গে ফরজ হয়েছে, 
একা একা নয়। যাতে সমাজে চিন্তার ঐক্য ও চরিত্রের মাধুর্য সৃষ্টি হয় এবং পারস্পরিক যোগাযোগ, 
ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। 
তাই শুধু নামাজ পড়লেই হবে না, তার শিক্ষা মেনে চলতে হবে।

(মো. লুৎফর রহমান, অতিথি লেখক, ইসলাম)


রবিবার, ২ জুন, ২০২৪

পথ চলার আদব ও সুন্নত সমূহ পর্ব-০৪

রবিবার, জুন ০২, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে
চলার আদব ও সুন্নত সমূহ



পঞ্চম হক : পথহারাকে পথ দেখিয়ে দেওয়া_ 

পথ চলতে এমন অনেক মানুষ পাওয়া যায়, যারা পথ চেনে না। এমন পথিকদের পথ দেখিয়ে দেওয়া মহৎ নেক কাজ। এর গুরুত্ব কেবল পথহারা লোকেরাই উপলদ্ধি করতে পারে।  এটিকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদাকা বলে গণ্য করেছেন। তিনি বলেছেন

وَإِرْشَادُكَ الرَّجُلَ فِي أَرْضِ الضَّلاَلِ لَكَ صَدَقَةٌ.

পথ না চেনা ব্যক্তিকে পথ দেখিয়ে দেয়া তোমার জন্য একটি সদাকা। *(জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯৫৬)*

এলাকার বাইরে থেকে কোনো লোক কোনো এলাকায় এল। সে ঠিকানা বলতে পারে বা ব্যক্তির নাম বলতে পারে, কিন্তু তার বাড়ি চেনে না বা খুঁজে পাচ্ছে না। আমি এলাকার সব চিনি, শুধু একটু আন্তরিকতা থাকলেই তাকে পেরেশানী থেকে বাঁচাতে পারি।

হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত. তিনি হযরত আবু যর রা. থেকে তাঁর ইসলাম গ্রহণের পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। সে দীর্ঘ ঘটনার মাঝে রয়েছে যে, হযরত আবু যর রা. বলেন, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পুরোপুরি খোঁজ-খবর নিতে আমি নিজেই মক্কা শহরে পৌঁছলাম। কিন্তু তাঁকে চিনলাম না। কাউকে যে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব সে সাহসও হচ্ছিল না। ফলে আমি মসজিদে বসে রইলাম। হযরত আলী রা. আমাকে দেখে বুঝলেন আমি মুসাফির। সাথে করে বাসায় নিয়ে গেলেন। পানাহারের ব্যবস্থা করলেন। কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। দ্বিতীয় দিনও তিনি আমাকে মসজিদে ঐরকম দেখতে পেলেন, ফলে আগমনের উদ্দেশ্য জানতে চাইলেন। আমি কাউকে কিছু না বলার শর্তে তা জানালাম। তিনি আমাকে বললেন

أَمَا إِنَّكَ قَدْ رَشَدْتَ، هَذَا وَجْهِي إِلَيْهِ فَاتَّبِعْنِي، ادْخُلْ حَيْثُ أَدْخُلُ.

আপনি সঠিকের সন্ধান পেয়েছেন। আমিও সেদিকেই যাচ্ছি। আপনি আমার সাথে চলুন। আমি যেখানে প্রবেশ করব আমার সাথে সাথে প্রবেশ করবেন।

অতপর হযরত আলী রা. আমাকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছে দিলেন। *(সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৫২৮)*

এ ছিল দুনিয়া ও আখেরাতের পথহারাকে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় পথের সন্ধান দান।

এ আদবের অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হল, অন্ধ, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধিদের রাস্তা পারাপারে সাহযোগিতা করা।

 
 _ষষ্ঠ হক : মযলুম ও বিপদগ্রস্তের সাহায্য করা_ 

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। অনেকসময়ই রাস্তা-ঘাটে মানুষ যুলুমের শিকার হয়। বিপদের সম্মুখীন হয়। ফলে অন্যের সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। আমি অন্যের সাহায্যে এগিয়ে গেলে আল্লাহ আমার সাহায্য করবেন। আমি অপর ভাইকে বিপদ থেকে উদ্ধার করলে আল্লাহ কিয়ামতের দিন আমাকে মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করবেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন

 الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ، وَلَا يُسْلِمُهُ، مَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ فَإِنَّ اللَّهَ فِي حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ بِهَا كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

মুসলমানগণ পরস্পর ভাই ভাই। কেউ কারো প্রতি যুলুম করে না এবং শত্রুর কাছে হস্তান্তর করে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করবে আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করবেন। যে কোনো মুসলমানের একটি কষ্ট লাঘব করবে আল্লাহ তার কেয়ামতের দিনের একটি কষ্ট লাঘব করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটিও গোপন রাখবেন। *(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৮৯৩)*

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেন, একদা পথে এক ব্যক্তির খুবই তৃষ্ণা পেয়েছিল। সে একটি কূপ দেখতে পেয়ে তাতে নামল এবং পানি পান করে উঠে আসল। তখন দেখতে পেল, একটি কুকুর তৃষ্ণার জ্বালায় জিহ্বা বের করে হাঁপাচ্ছে এবং তৃষ্ণা মেটাতে কাদামাটি খাচ্ছে। তখন লোকটি মনে মনে বলল; আমার যেমন ভীষণ তৃষ্ণা পেয়েছিল, এ কুকুরেরও ঠিক তেমনি তৃষ্ণা পেয়েছে। সে কূপে নেমে চামড়ার মোজা ভরে পানি নিয়ে এল এবং কুকুরকে পান করাল। ফলে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন

يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَإِنَّ لَنَا فِي البَهَائِمِ لَأَجْرًا؟ فَقَالَ: فِي كُلِّ ذَاتِ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرٌ.

ইয়া রাসূলাল্লাহ! গবাদী পশুর ক্ষেত্রেও কি আমাদের জন্য প্রতিদান রয়েছে? উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রত্যেক প্রাণীতেই আজর-সওয়াব রয়েছে। *(সহীহ বুখারী, হাদীস ২৪৬৬)*

হযরত আবু মাসউদ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি পথে বিপদে পড়েছি (অর্থাৎ আমার বাহন মারা গেছে), আমার জন্য একটি বাহনের ব্যবস্থা করে দিন।
 নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাকে দেওয়ার মত কোনো বাহন আমার কাছে নেই। তবে তুমি অমুকের কাছে যাও। আশা করি সে তোমাকে বাহনের ব্যবস্থা করে দিবে। অতপর সে ঐ ব্যক্তির কাছে গেল এবং সে বাহনের ব্যবস্থা করে দিল। পুনরায় সে (পথিক) নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল এবং তা জানাল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি  (যে কোনো উপায়ে) কোনো সৎকর্মের পথ দেখাবে সে ঐ সৎকর্মকারীর সমান প্রতিদান পাবে। *(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫১২৯)*

 _সপ্তম হক :- বোঝা বহনকারীকে সহযোগিতা করা_ 

রাস্তায় চলাচলকারীদের মধ্যে কেউ থাকে খালি হাতে, কারো সাথে থাকে ভারি বোঝা। ভারি বোঝা যদিও একা বহন করা যায়, কিন্তু উঠানো বা নামানোর সময় কারো না কারো সাহায্যের প্রয়োজন পড়েই। যে ব্যক্তি এ কাজে সাহায্য করে তার জন্য বোঝা বহনকারীর হৃদয় থেকে দুআ আসে, এটাই স্বাভাবিক। আর আমি আল্লাহ্র সন্তুষ্টির নিয়তে কারো মাথা থেকে ভারি বোঝা নামিয়ে দিলাম তো হতে পারে এর অছিলায় আল্লাহ আমার গোনাহের বোঝা নামিয়ে দিবেন, মাফ করে দিবেন।

মাথায় করে ভারি বোঝা বহন করা কষ্টকর। এক্ষেত্রে যদি এমন হয়, আমার বাহনে আমি কারো ভারি বোঝা বহন করে দিলাম। সেটা উঠানো-নামানোর চেয়ে আরো বেশি ফযীলতের। তেমনি আমার বাহন আছে, আরেকজনের নেই। আমার বাহনে আরেকজনকে নিতে পারি। এক ভাইয়ের সাথে দেখা হল, আমি ও সে একই দিকে যাচ্ছি। সেক্ষেত্রে যদি আমার বাহনে তাকে উঠিয়ে নেইÑ এটা হবে অনেক বড় সওয়াবের কাজ।  হাদীস শরীফে এসেছে

وَتُعِينُ الرَّجُلَ فِي دَابَّتِهِ فَتَحْمِلُهُ عَلَيْهَا، أَوْ تَرْفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ.

কোনো ব্যক্তিকে সাওয়ারীতে ওঠানো বা তার সামানা বহনে সহযোগিতা করাও একটি সদাকা। *(সহীহ বুখারী, হাদীস ২৯৮৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০০৯)*

চলবে ইনশা'আল্লাহ


শনিবার, ১ জুন, ২০২৪

সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক সন্তানের কানে আজান ও সেবা-যত্ন নিয়ে অবহেলা নয়

শনিবার, জুন ০১, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে

সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক


 

নিয়ম হলো, সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক- ভূমিষ্ট হওয়ার পর ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত দেওয়া।  

কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, অনেকেই ছেলে সন্তান হলেই কেবল কানে আজান ইকামত দেয় কিন্তু মেয়ে সন্তান হলে আজান ইকামত দেয় না কিংবা শুধু আজান দেয়- ইকামত দেয় না।
 
এমন বৈষম্যমূলক চিন্তা ও কাজ ইসলামি শরিয়ত অনুমোদন করে না। এ ক্ষেত্রে ছেলে সন্তান বা মেয়ে সন্তানের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।
 
আবার অনেকেই এই আমলটির ব্যাপারে পুরোই অবহেলা করেন; এটাও অনুচিত।

কন্যা সন্তান হলে আজান ইকামত না দিয়ে এক ধরনের অসন্তুষ্টির কথা পরোক্ষভাবে প্রকাশ করা হয়।

যা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এমন চিন্তা জাহেলি যুগের চিন্তা।
যে যুগে কন্যা সন্তানের পিতা হওয়া ছিল ভীষণ লজ্জার বিষয়।
তাদের ওই অবস্থা তুলে ধরে কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয় তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শুনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে চেহারা লুকিয়ে রাখে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে রাখবে, না মাটির নিচে পুঁতে ফেলবে। শুনে রাখ, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট। ’ - *(সূরা নাহল: ৫৮-৫৯)*

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যা সন্তানকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হলো। ’ - *(সূর ইনফিতার: ৮-৯)*

এটা ছিল ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগের চিত্র। কিন্তু বর্তমান সময়! বর্তমান যুগ! এ তো শিক্ষা-দীক্ষার যুগ! সভ্যতার যুগ! বিজ্ঞান-প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার যুগ! এরপরও মানুষ কেন কন্যা সন্তানের জন্মে এমন আচরণ করবে?

দেখুন, সন্তান দেওয়া, না দেওয়া, কিংবা মেয়ের পরিবর্তে ছেলে বা ছেলের পরিবর্তে মেয়ে সন্তান প্রসবে এখতিয়ার কোনো মায়ের নেই। এ বিষয়ে পূর্ণ এখতিয়ার ও ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।  

এর পরও যদি কোনো হতভাগা কন্যা সন্তান জন্মের অপরাধে নারী নির্যাতন করে, কন্যা শিশুর সেবা-যত্নে অবহেলা করে- তাহলে সে নিশ্চয়ই আল্লাহর সামনে অপরাধী হিসেবে উত্থিত হবে।


শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪

স্ত্রী হিসেবে নারীর প্রাপ্য ও অধিকার

শুক্রবার, মে ২৪, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে


_*"স্ত্রী হিসেবে নারীর প্রাপ্য ও অধিকার,"*_ 

 আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারীদের অধিকার বিষয়ে মানব ইতিহাসে সর্বপ্রথম সরব হয়েছে ইসলাম। ইসলাম মা হিসেবে, বোন হিসেবে, নিকটাত্মীয় হিসেবে এবং স্ত্রী হিসেবে দিয়েছে ভিন্ন ভিন্ন অধিকার। সেসব অধিকার সমাজে বাস্তবায়িত হলে পরিবার হয়ে উঠবে এক টুকরো জান্নাত। স্ত্রীদের অধিকার ও প্রাপ্য নিয়ে লিখেছেন বিশিষ্ট ফতোয়া গবেষক ও মুহাদ্দিস মুফতি মাহমুদ হাসান*_ 


 _স্ত্রী হিসেবে নারীর প্রাপ্য ও অধিকার_ 

ইসলাম সব মানুষকে নিজ নিজ কর্তব্য আদায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। এ উপলব্ধি অন্তরে জাগ্রত করার নির্দেশ দেয় যে আমার কারণে যেন কেউ কষ্ট না পায়, আমাকে কেউ কষ্ট দিলে আমি ক্ষমা করে দেব। তাইতো অন্যের ওপর নিজ অধিকার কামনার প্রতি ইসলাম তেমন জোর দেয়নি। এর বিপরীতে বর্তমান পৃথিবীটা হচ্ছে অধিকার আদায়ের যুগ।

সবাই নিজ নিজ অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। অন্যের কাছ থেকে অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে চলছে দুর্বার আন্দোলন, মিছিল-মিটিং ও হরতাল-অবরোধ। তবে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সবাই কতটুকু মনোযোগী? শ্রমিক মালিক থেকে নিজ অধিকার আদায়ে ব্যস্ত, আবার মালিকপক্ষ চাচ্ছে তাদের পূর্ণ অধিকার। পুরুষ নিজ অধিকার আদায় করে নিতে বদ্ধপরিকর, নারী দাবি করছে আমার অধিকার দাও।
কিন্তু কোনো আল্লাহর বান্দা এ চিন্তা করার সুযোগ পাচ্ছে না যে আমার ওপর যে দায়িত্বগুলো ছিল, সেগুলো আমি যথাযথ পালন করছি তো, না তাতে কোনো অবহেলা হচ্ছে?
মহান আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন যে সবাই নিজ নিজ দায়িত্বে সক্রিয় হলে তখন কারো অধিকার ভূলুণ্ঠিত হবে না, সবাই নিজ নিজ অধিকার সুরক্ষিত পাবে। মালিক যখন তার দায়িত্ব পালনে সচেতন হবে, তখন শ্রমিকের অধিকারও যথাযথ আদায় হবে। স্বামী কর্তব্যপরায়ণ হলে আর স্ত্রীর অধিকার বাধাগ্রস্ত হয় না; স্ত্রী নিজ দায়িত্বে যত্নবান হলে স্বামীর অধিকার ক্ষুণ্ন হবে না। সবাই নিজ নিজ অবস্থানে অধিকার বুঝে পাবে।

অধিকার আদায়ে সংগ্রামের প্রয়োজন হবে না।
ইসলামে যেভাবে নারীর অধিকার সংরক্ষিত হয়েছে, ঠিক তেমনি স্থান পেয়েছে স্বামীর অধিকারও। তাই যেভাবে কোরআন-হাদিসে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য ও অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে, ঠিক তেমনি আলোকপাত হয়েছে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য ও অধিকার প্রসঙ্গেও। উপরোক্ত দৃষ্টিভঙ্গিই দাম্পত্য জীবনের প্রাণশক্তি। তাই স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেককে মাত্রাজ্ঞানের পরিচয় দিতে হবে।
বুঝতে হবে অধিকারের পরিমাণ এবং দাম্পত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে করতে হবে সেই বোধের চর্চা।

 _স্ত্রীর মর্যাদা_ 

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো। আর যদি তাকে তোমার অপছন্দও হয়, তবু তুমি যা অপছন্দ করছ আল্লাহ তাতে সীমাহীন কল্যাণ দিয়ে দেবেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো মুমিন পুরুষ মুমিন মহিলার ওপর রুষ্ট হবে না, কেননা যদি তার কোনো কাজ খারাপ মনে হয়, তাহলে তার এমন গুণও থাকবে, যার ওপর সে সন্তুষ্ট হতে পারবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪৬৯) 

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নারীদের প্রতি ভালো আচরণের উপদেশ দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫১৮৪)

অন্য হাদিসে রয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১১৬২)

ইসলামী শরিয়তে স্বামীর ওপর স্ত্রীর জন্য যে অধিকার সাব্যস্ত করেছে,
 তার সার কথা হলো : 
১. পূর্ণ মোহরানা আদায় করে দেওয়া, 
২. প্রয়োজনমাফিক অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের ভালো ব্যবস্থা করা; 
৩. স্ত্রীর সঙ্গে সদাচরণ করা; 
৪. মাঝেমধ্যে মাহরাম আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া, 
৫. প্রয়োজনমাফিক দ্বিন শেখানোর ব্যবস্থা করা; 
৬. ইসলামী শরিয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত রাখা, 
৭. প্রয়োজনমতো সহবাস ও জৈবিক চাহিদা পূরণ করা ইত্যাদি। (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯; আল-কাবায়ের, জাহাবি, পৃষ্ঠা ১৭৫)

 _পূর্ণ মোহরানা আদায় করে দেওয়া_ 

বিবাহের পর কোনো ওজর ছাড়া মোহরানা আদায়ে কালবিলম্ব করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। বর্তমানে আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করে, মহর শুধু কাগজে লেখার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ, তা বাস্তবে আদায় করতে হয় না, শুধু বিবাহ ভেঙে গেলে তা পুরুষপক্ষ থেকে মহিলাপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করে আদায় করে নিতে হয়—এ ধারণা ও কর্মপন্থা সম্পূর্ণ ভুল। বরং মোহরানা আদায়ের নিয়তবিহীন শুধু কাগজে লেখার জন্য মোহরানা নির্ধারণ করা মারাত্মক অন্যায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা নারীদের সন্তুষ্টচিত্তে তাদের মহর দিয়ে দাও।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে পুরুষ কোনো নারীকে বিয়ের সময় মোহরানা নির্ধারণ করে, তবে আল্লাহ তাআলা তার অন্তরের খবর জানেন যে তার তা আদায় করার নিয়ত নেই। ফলে সে আল্লাহর হকের মধ্যে ওই নারীকে ধোঁকা দিল এবং তার লজ্জাস্থানকে অন্যায়ভাবে ভোগ করল। এমন ব্যক্তি কেয়ামতের দিবসে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে ব্যভিচারী হিসেবে।’
(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৮৯৩২)

 _স্ত্রীর ভরণ-পোষণের অধিকার_ 

ইসলামী শরিয়ত মতে, বিবাহের পর থেকেই স্বামীর ওপর স্ত্রীর জন্য যেসব অধিকার সাব্যস্ত হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো স্ত্রীর ব্যয়ভার গ্রহণ করা। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সন্তানের পিতার ওপর সন্তানের মায়ের জন্য অন্ন-বস্ত্রের উত্তম পন্থায় ব্যবস্থা করা একান্ত দায়িত্ব।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৩৩)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা স্ত্রীদের জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের ঘরে বাসস্থানের ব্যবস্থা করো।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৬)

হাদিস শরিফে স্ত্রীদের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষদের নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তুমি যখন খাবে, তাকেও খাওয়াবে এবং তুমি যখন পরবে, তাকেও পরাবে। চেহারায় কখনো প্রহার করবে না, অসদাচরণ করবে না।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২১৪২, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৮৫০১)

ভরণ-পোষণের পরিমাণ : ভরণ-পোষণের ব্যাপারে শরিয়ত নিরেট পরিমাপ নির্ধারিত করে দেয়নি। বরং ইসলামী শরিয়তের ভাষায় স্ত্রীকে প্রয়োজন পরিমাণ ভরণ-পোষণ দেওয়া স্বামীর কর্তব্য। এর পরিমাণটি পরিবেশ-পরিস্থিতি, অবস্থা ও স্বামীর সামর্থ্যনির্ভর। (আল মুহিতুল বুরহানি : ৩/৫২৯-৫৩০, ফাতহুল কাদির : ৩/১৯৪)

মহানবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণে দীর্ঘ বয়ানের একপর্যায়ে বলেছিলেন, ‘অতএব, তোমরা স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো, কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত ও প্রতিশ্রুতির সঙ্গে গ্রহণ করেছ এবং তোমরা আল্লাহর হুকুমেই তাদের লজ্জাস্থানকে হালাল হিসেবে পেয়েছ...।’
(সহিহ মুসলিম : হাদিস ১২১৮)

 _স্ত্রীর মন প্রফুল্ল রাখার চেষ্টা করা_ 

বৈধতার সীমারেখায় স্ত্রীকে যথাসম্ভব আনন্দে ও প্রফুল্ল রাখা হলো স্বামীর প্রতি শরিয়তের নির্দেশ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কর্মপদ্ধতি দ্বারাও তা প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মুসলমানের জন্য সব খেল-তামাশা নিষিদ্ধ, তবে তার ধনুক থেকে তীর চালনা, ঘোড়া চালনা, স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের রসিকতা, কেননা এগুলো ন্যায়সংগত।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৬৩৭)

আয়েশা (রা.) সূত্রে এক সফরে (একটি জনমানবহীন নির্জন উপত্যকায়) নবী (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। পরবর্তী সময় আমি স্বাস্থ্যবান হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পেছনে ফেলে দিয়ে বিজয়ী হলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এ বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৫৭৮)

আয়েশা (রা.) বলেন, একদা মসজিদের কাছে হাবশি ছেলেরা যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলা করছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আর আমি হাবশিদের খেলা দেখছিলাম। যতক্ষণ না আমার খেলা দেখার শখ পূর্ণ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ততক্ষণ কষ্ট করে আমার জন্য পূর্ণ সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তোমরা ভেবে দেখো! একজন অল্পবয়সী খেলাপাগল মেয়ে কতক্ষণে তার শখ পূরণ হবে? (বুখারি, হাদিস : ৫২৩৬)

 _স্বামী প্রয়োজনীয় খরচ না দিলে করণীয়_ 

স্বামী যদি বিহিত কারণ ছাড়া স্ত্রী-সন্তানের তথা সাংসারিক জরুরি খরচ না করে, তাহলে স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়াও স্বামীর সম্পদ থেকে প্রয়োজনমতো অপচয় না করে খরচ করতে পারবে। হাদিস শরিফে এসেছে, সাহাবিয়া হিনদ বিনতে উতবা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (আমার স্বামী) আবু সুফিয়ান সংসারের খরচে সংকীর্ণতাকারী, সে আমার ও আমার সন্তানের প্রয়োজন পরিমাণ খরচ দেয় না, তাহলে আমি কি তার অগোচরে তার থেকে কিছু নিতে পারি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, হ্যাঁ, তুমি তোমার ও তোমার সন্তানের প্রয়োজন পরিমাণ তার অগোচরে তার থেকে নিতে পারবে। (বুখারি : হাদিস : ৫২৬৪, বাদায়েউস সানায়ে : ২/২৭)

তবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মালিকানা ভিন্ন হওয়ায় অনুমতি ব্যতীত একে অপরের সম্পদ ব্যয় করা অবৈধ। স্বামী যদি নিয়মমাফিক ভরণ-পোষণ ও স্বাভাবিক হাতখরচের জরুরত পূরণ করে থাকে, তাহলে তার কাছ থেকে তার অগোচরে টাকা-পয়সা নিয়ে নেওয়া এবং তাকে না জানিয়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা বৈধ হবে না
(আল বাহরুর রায়েক : ৪/১৭৭)

 _স্ত্রীর বাসস্থান_ 

কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা স্ত্রীদের জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের ঘরে বাসস্থানের ব্যবস্থা করো।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৬)

স্ত্রী যদি উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে হয়, তাহলে সে যদি স্বামীর যৌথ পরিবার থেকে ভিন্ন ঘরের দাবি করে, তাহলে স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে ভিন্ন ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। স্বামীর মা-বাবার সঙ্গে যৌথভাবে থাকতে স্ত্রী বাধ্য নয়। আর মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হলে তাকে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে একঘরে রাখা গেলেও তার পৃথক কক্ষ, টয়লেট, গোসলখানা, রান্নাঘরসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় জিনিস ভিন্ন করারও দাবি করতে পারবে। এ ক্ষেত্রেও স্বামীর পরিবারের সঙ্গে যৌথভাবে থাকতে স্ত্রীকে বাধ্য করা যাবে না। আর নিম্নবিত্ত পরিবারের হলে টয়লেট, গোসলখানা রান্নাঘর ইত্যাদি ভিন্ন দিতে বাধ্য না হলেও তার জন্য একটি পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে, যার হস্তক্ষেপ স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ করতে পারবে না। ওই কক্ষে স্বামীর মা-বাবা, ভাই-বোন বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করতে পারবে না। স্ত্রীর এ রকম কক্ষ দাবি করার অধিকার আছে। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২৩, রদ্দুল মুহতার : ৩/৬০১)

 _নিয়মিত হাতখরচ দেওয়া_ 

এখানে আরেকটি কথাও স্মর্তব্য যে ভরণ-পোষণের অর্থ শুধু এটিই নয় যে শুধু তাকে তিনবেলা খানা আর কাপড়-চোপড় ও থাকার ঘর দিলাম। বরং তাকে মাঝেমধ্যে প্রয়োজন পরিমাণে সামান্য হাতখরচও দেওয়া জরুরি। কেননা অনেক সময় দেখা যায়, এমন কিছু প্রয়োজন যা কারো কাছে চাইতে ইতস্তত বোধ হয়, তখন হাতখরচের টাকা দিয়ে পূরণ করতে পারবে। তাই স্বামীর এ ব্যাপারেও সচেতন হওয়া উচিত। তবে খরচের ক্ষেত্রে অপচয় থেকে বেঁচে থাকা সবার জন্য জরুরি। (বীবী কে হুকুক পৃ: ৪৯-৫০)

 _সদাচরণ করা_ 

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো। আর যদি তাকে তোমার অপছন্দও হয়, তবু তুমি যা অপছন্দ করছ, আল্লাহ তাতে সীমাহীন কল্যাণ দিয়ে দেবেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো মুমিন পুরুষ মুমিন নারীর ওপর রুষ্ট হবে না, কেননা যদি তার কোনো কাজ খারাপ মনে হয়, তাহলে তার এমন গুণও থাকবে, যার ওপর সে সন্তুষ্ট হতে পারবে।’ (সহিহ মুসলিম হাদিস : ১৪৬৯) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নারীদের প্রতি ভালো আচরণের উপদেশ দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫১৮৪)

অন্য হাদিসে রয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১১৬২)

 _শরিয়তে নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত রাখা_ 

রাসুলুল্লাহ (সা.) স্ত্রীদের সঙ্গে অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র ব্যবহার করতেন, তবে তাদের থেকে কোনো অন্যায় কথা বা কাজ প্রকাশ পেলে সঙ্গে সঙ্গে তা শুধরে দিতেন, এ ক্ষেত্রে কখনো শিথিলতা করতেন না এবং স্ত্রীদের ভালোবাসা তাঁর এ কাজে বাধা হতো না; বরং ভালোবাসার সঙ্গে সংশোধন করতেন।

হাদিস শরিফে এসেছে, ‘স্মরণ রেখো, তোমরা সবাই দায়িত্বপ্রাপ্ত, তোমরা সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, রাষ্ট্রপ্রধান তাঁর প্রজাদের হকের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবেন, পুরুষ তার পরিবার-পরিজনের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৮৯৩)

 _প্রয়োজনমাফিক শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা করা_ 

স্ত্রীর দ্বিন-দুনিয়ার প্রয়োজনমাফিক শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা করাও স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকার। এ ক্ষেত্রে কোরআনে নির্দেশ হলো, ‘তোমরা তোমাদের নিজেকে ও পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৬)

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তোমরা পরিবার-পরিজনকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দীক্ষা দাও। (তাফসিরে তাবারি : ২৩/৪৯১)

 _নেক আমলের প্রতি উৎসাহ দেওয়া_ 

হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে নিজে রাত্রি জাগরণ করে ইবাদত করতেন এবং স্বীয় পরিবারকেও জাগিয়ে দিতেন। (বুখারি, হাদিস : ২০২৪)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘ওই পুরুষকে আল্লাহ তাআলা রহম করুন, যে রাতে উঠে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও উঠিয়ে নামাজ পড়ায়, যদি সে উঠতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন তার চোখে কোমলতার সঙ্গে পানি ছিটিয়ে দেয়। ওই নারীকে আল্লাহ তাআলা রহম করুন, যে রাতে উঠে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে এবং তার স্বামীকেও উঠিয়ে নামাজ পড়ায়, যদি সে উঠতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন তার চোখে কোমলতার সঙ্গে পানি ছিটিয়ে দেয়।’
(আবু দাউদ, হাদিস : ১৩০৮)


 _শুধু আইনের বাঁধনে জীবন চলে না_ 

তবে শেষ কথা হলো, ইসলামে নৈতিকতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম তার অনুসারীদের আইনের ঊর্ধ্বে উঠে নৈতিকতার ওপর চলতেই উদ্বুদ্ধ করে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শুধু আইনের সম্পর্ক নয়; বরং তাদের সম্পর্ক হৃদয় ও আত্মার সম্পর্ক। শুধু আইনের বিশুদ্ধ উত্তাপের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারে না কোনো সুস্থ সমাজ। কল্যাণ তখনই আসবে, স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যখন আইনের গণ্ডি পেরিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের সুন্নতের ওপর চলতে সচেষ্ট হবে।


কোন কোন ব্যক্তিকে শহীদ বলা যাবে, শহীদের মর্যাদা ও ফযীলত.

শুক্রবার, মে ২৪, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে

 


শহীদের পরিচয়

ইসলামে শহীদের মর্যাদা অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ। ইহা একটি ইসলামী পরিভাষা। যা কোনো সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিভাষা নয়। সুতরাং শহীদের মর্যাদা লাভের জন্য প্রথম ও প্রধান শর্ত হচ্ছে মুসলিম হতে হবে।

যদি দ্বীনের উপর অবিচল থাকার কারণে আল্লাহ পাকের কোনো বান্দা-বান্দীকে হত্যা করা হয়, অথবা দ্বীনের পথে জিহাদ ও মেহনত করতে গিয়ে কারো মৃত্যু হয়, তবে শরীয়তের পরিভাষায় তাকে শহীদ বলে। আল্লাহ পাকের দরবারে শহীদের অনেক অনেক মর্যাদা। কুরআনুল হাকিমে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ

'যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে, তাদেরকে অন্য মৃতদের মতো মনে করো না। বরং তারা বিশেষ হায়াত প্রাপ্ত এবং তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে বিভিন্ন রিযিক ও নেয়ামত প্রাপ্ত হচ্ছে।' সূরাহ আলে ইমরান, ৩/১৬৯

শহীদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে মুসলমান আল্লাহর কালেমাকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে লড়াই করবে, কেবলমাত্র সেই-ই আল্লাহর পথে লড়াই করল’ তাকে শহীদ বলা হয়। তাকে শহীদ এজন্য বলা হয় যে, সে জান্নাতে উপস্থিত হয়ে যায়। শহীদের মর্যাদায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন -

وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ ۚ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَٰكِنْ لَا تَشْعُرُونَ [٢:١٥٤

অর্থাৎ 'আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝ না।' (সূরাহ আল বাক্বারা : ১৫৩)

শহীদের মর্যাদা যে কত উর্দ্ধে ভাবতেও বুকে শিহরন ওঠে! আল্লাহু আকবার! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিম্নোক্ত হাদিসগুলোতে তার প্রমাণ পাওয়া যায়-

এক হাদীসে এসেছে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

مَا أَحَدٌ يَدْخُلُ الجَنَّةَ يُحِبُّ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، وَلَهُ مَا عَلَى الأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا الشَّهِيدُ، يَتَمَنَّى أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، فَيُقْتَلَ عَشْرَ مَرَّاتٍ لِمَا يَرَى مِنَ الكَرَامَةِ

'কোনো জান্নাতী এটা চাবে না যে, তাকে আবার দুনিয়াতে পাঠানো হোক, যদিও তাকে সারা পৃথিবীর মালিক বানিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু একজন শহীদ তাঁর জান্নাতী মর্যাদা প্রত্যক্ষ করে কামনা করতে থাকবে, তাকে অন্তত দশবার দুনিয়াতে পাঠানো হোক, যেন প্রতিবার সে শহীদ হয়ে আসতে পারে।' বুখারী, হাদীস নং ২৮১৭

স্বয়ং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শহীদী মৃত্যুর তামান্না করে ইরশাদ করেন,

وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ… لَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ، ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ، ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ

'ঐ সত্ত্বার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! আমার বড় ইচ্ছে হয়, আমি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হবো! আমাকে জীবিত করা হবে, আবার আমি নিহত হবো! পুনরায় আমাকে জিন্দা করা হবে এবং আমি আবার আল্লাহর রাস্তায় জীবন বিলিয়ে দিবো!' সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭২২৬

সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহিল আযীম! সুবহানাল্লাহি বিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আযীম! অবিহামদিহী আসতাগফিরুহূ! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজের জন্য শাহাদাতের মৃত্যু কামনা করেছেন! অথচ আমরা আজ কোথায়! আমাদের মৃত্যু থেকে পালিয়ে বাঁচার কি উদগ্র বাসনা! কি অন্যায় অভিলাষ! কি ফাঁকি দেয়ার মানসিকতা স্থান করে নিয়েছে আমাদের ঈমানের ঘরে! মরতে হবে এটা নির্ঘাত সত্য!

মরন থেকে যতই পালাও মরন তোমায় লইবে ঘিরি,

যদিও তুমি লুকাও গিয়ে আকাশ পানে লাগিয়ে সিড়ি।

যে মরন আসবেই, যে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী তাকে এত ভয় কেন? তাকে আলিঙ্গনে কেন এত দ্বিধা? কেন এত সঙ্কোচ? বরং সাহসের সাথে, ঈমানী শক্তিতে বলিয়ান হয়ে প্রতি দিনের প্রার্থনায় বরাবরই আমাদের কামনা থাকতে হবে, 'হে আল্লাহ, হে মহান দয়ালু দাতা, আপনি আমাকে শহীদের মৃত্যু দান করুন।'


আরেক হাদীসে হসেছে,

لِلشَّهِيدِ عِنْدَ اللَّهِ سِتُّ خِصَالٍ: يُغْفَرُ لَهُ فِي أَوَّلِ دَفْعَةٍ، وَيَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الجَنَّةِ، وَيُجَارُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَيَأْمَنُ مِنَ الفَزَعِ الأَكْبَرِ، وَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ تَاجُ الوَقَارِ، اليَاقُوتَةُ مِنْهَا خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، وَيُزَوَّجُ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ زَوْجَةً مِنَ الحُورِ العِينِ، وَيُشَفَّعُ فِي سَبْعِينَ مِنْ أَقَارِبِهِ

শহীদ আল্লাহ পাকের পক্ষ হতে বড়বড় ছয়টি পুরস্কার পাবে। পুরষ্কারগুলো হচ্ছে-

এক. তাকে তৎক্ষণাৎ ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং তাকে তার জান্নাতী নিবাস দেখনো হবে।

দুই. কবরের আযাব মাফ করে দেয়া হবে ।

তিন. হাশরের ময়দানে যখন ব্যতিক্রম ছাড়া সবাই সন্ত্রস্ত ও পেরেশান থাকবে, তখন আল্লাহ পাক তাকে সেই পেরেশানি ও বিভীষিকা থেকে মুক্ত রাখবেন।

চার. সেদিন তার মাথায় এমন একটি সম্মাননা মুকুট পরানো হবে, যার একেকটি হীরা ও মুক্তা দুনিয়া ও তার সব কিছু থেকে দামী হবে।

পাঁচ. স্ত্রী হিসাবে তাকে বাহাত্তর জন হুর দান করা হবে।

ছয়. তার নিকটজনদের মধ্যে হতে সত্তরজনের ব্যাপারে তার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৬৬৩

অন্য এক হাদীসে এসেছে,

يُغْفَرُ لِلشَّهِيدِ كُلُّ ذَنْبٍ إِلَّا الدَّيْنَ

প্রদেয় ঋণ ব্যতীত শহীদ ব্যক্তির সমস্ত গুনাহ আল্লাহ তাআলা মাফ করে দেবেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৮৬

বিশ্বনবীর ভাষায় শহীদ যারা

হযরত জাবের বিন আতিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করা ছাড়াও সাত প্রকার শহীদ রয়েছে। তারা হলো-

أن جابر بن عتيك أخبره :أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال الشهداء سبعة سوى القتل في سبيل الله المطعون شهيد والغرق شهيد وصاحب ذات الجنب شهيد والمبطون شهيد والحرق شهيد والذي يموت تحت الهدم شهيد والمرأة تموت بجمع شهيد

১- মহামারীতে মৃত্যুবরণকারী,

২- পানিতে নিমজ্জিত ব্যক্তি,

৩- শয্যাশায়ী অবস্থায় মৃত শহীদ,

৪- পেটের রোগে মৃত্যুবরণকারী,

৫-আগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণকারী,

৬- যে ব্যক্তি ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে মারা যায়,

৭- প্রসবকালীন সময়ে মৃত্যুবরণকারী নারী। (মুয়াত্তা মালিক, হাদিস নং-৫৫৪, ৮০২, আল মু’জামুল কাবীর, হাদিস নং-১৭৮০, সহীহ কুনুজু সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ, হাদিস নং-২৩)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য হাদিসে আরো বলেন-

১. যে ব্যক্তি তার দ্বীনের (ইসলাম) জন্য নিহত হয়;

২. যে ব্যক্তি তার জীবন রক্ষার্থে নিহত হয়;

৩. যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়;

৪. যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ। (মুসলিম, মিশকাত)

হাদিসের নির্ভরযোগ্য কিতাব মুসনাদে আহমাদে আরো এসেছে- ‘যে ব্যক্তি অত্যাচারের স্বীকার হয়ে (মজলুম তথা নির্যাতিত অবস্থায়) নিহত হয়, তিনিও শহীদ।’

তবে ইসলামের জন্য রক্তদানকারী শহীদের সঙ্গে এ সব শহীদের পার্থক্য হলো, দুনিয়াতে তাদের গোসল ও জানাযা সবই হবে। কিন্তু এ সব মুমিনগণ পরকালে শহীদের নেকী ও মর্যাদা লাভ করবেন।

উল্লেখিত ঘটনাবলীতে মৃত্যুবরণকারীগন হাদিসের পরিভাষায় যেহেতু শহীদের মর্যাদাপ্রাপ্ত, সুতরাং, তাদের মৃত্যুতে তাদের জন্য হাহুতাশ বা আফসোস না করে আল্লাহ তাআলার দরবারে শহীদী মর্যাদা লাভের জন্য দোয়া করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

শহীদদের আরও যেসব শ্রেণীতে ভাগ করা যায়

১. যারা দুনিয়া ও আখিরাতে শহীদ। তাঁরা হলেন- অবিশ্বাসীদের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত মুমিন ব্যক্তি;

২. আখিরাতে শহীদ। তারা হলো উপরে বর্ণিত দ্বীনের (ইসলামের)জন্য ব্যতিত অন্যান্য শহীদগণ;

৩. দুনিয়াতে শহীদ, আখিরাতে নয়। তারা হলো- যুদ্ধের ময়দানে গণীমতের মাল আত্মসাৎকারী অথবা জিহাদ থেকে পলাতক অবস্থায় নিহত ব্যক্তি।’ (ফিক্বহুস সুন্নাহ)

হায়! দুনিয়াতে যদি আল্লাহর রাস্তায় আমাদের সঙ্গেও জুলুম করা হতো!

শহীদের মতো আল্লাহ পাকের রাস্তায় কেউ যদি কষ্টের সম্মুখীন হয়, কারো শ্লীলতা হানি হয়, ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হয়, তবে আল্লাহ তাআলার দরবারে এমন ব্যক্তিও অনেক বড় বড় সম্মান প্রাপ্ত হয়, যা দেখে ওলী-বুযুর্গরাও ঈর্ষা করে। দুনিয়াতে এ নিয়ম আছে যে, সরকারের অনুগত সৈনিকেরা যদি বীরত্ব প্রদর্শন করে এবং রাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষায় হতাহত হয়, তবে তাদেরকে রাষ্ট্রের পক্ষ হতে বড় বড় পুরস্কার ও খেতাব দেওয়া হয়। তেমনি যারা আল্লাহর দ্বীনের কাজ করার অপরাধে প্রহৃত হয়, লাঞ্ছিত হয়, এবং নানা ধরনের ক্ষতি ও বঞ্চনার শিকার হয়, আল্লাহ পাক কেয়ামতের দিন তাদেরকে জনসমক্ষে এমন এমন সম্মান আর মর্যাদা দান করবেন যে, অন্যরা তা দেখে আক্ষেপ করবে, হায়! দুনিয়াতে যদি আল্লাহর রাস্তায় আমাদের সঙ্গেও জুলুম করা হতো, লাঞ্ছনা আর গঞ্জনার আচরণ করা হতো, তাহলে এই পুরস্কার ও সম্মান লাভ করে আমরাও আজ ধন্য হতাম!

আয় আল্লাহ! এমন সুযোগ যদি আমাদের জীবনে আসে, তবে আমাদেরকে আপনি দৃঢ়পদ রাখুন, আপনার নুছরত আমাদের সাথী করুন, আপনার মুহাব্বতের বহ্নিশিখা আমাদের হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত করে দিন।

ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক, প্রত্যেক মানুষকে অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ তাআ'লা উম্মাতে মুসলিমাকে শহিদী মৃত্যু দান করুন। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজের জন্য যেভাবে শাহাদাতের মৃত্যুর তামান্না পোষন করতেন, আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেককে তাদের হৃদয়-মনেও তেমনি শাহাদাতের তামান্নাকে জিন্দা করে দিন। শহীদের মর্যাদা লাভের ইচ্ছা ও আকাঙ্খা পোষণ করার তাওফিক দান করুন। সবাইকে শহীদী মৃত্যু নসিব করুন। আমিন।

পুনশ্চ: এই নিবন্ধটি লেখার পেছনে ছোট্ট একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। আর সেটি হচ্ছে, গত দু'এক দিন পূর্বে জনৈক ভদ্রলোক আমার নিকট একটি বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, আমাদের দেশের সাবেক একাধিক রাষ্টপতিসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি যারা মৃত্যুবরন করেছেন এবং যাদের নামের সাথে শহীদ কথাটি ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। এরকম অনেক ব্যক্তির নামের সাথে শহীদ শব্দটি কেন ব্যবহার করা হয়? ইসলামী দৃষ্টিকোন বিবেচনায় কাউকে শহীদ হিসেবে গন্য করার শর্ত কি কি?


ভদ্রলোকের প্রশ্নের উত্তর লিখতে গিয়েই মূলত: এই নিবন্ধের সূত্রপাত। তাকে ধন্যবাদ দিতে হয়। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা। ভদ্রলোকের প্রশ্নের উত্তর নিবন্ধের ভেতরে আশা করি এসে গেছে। কষ্ট করে খুঁজে নেয়ার দায়িত্ব জ্ঞানী পাঠকবৃন্দের উপরে।


আমাদের ধারনা, এমনসব প্রশ্নের উদ্রেক অনেকের মনে স্বাভাবিকভাবেই হয়ে থাকে। বরং হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এসব ক্ষেত্রে উত্তর জানার সুযোগ হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে না। অনেকের সেই কৌতুহল মেটানোর জন্যই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আল্লাহ পাক আমাদের সকল নেক আমল কবুল করুন। শুভকামনা সকলের জন্য। সকলে ভালো থাকুন



কুরআনের আলোকে হজের গুরুত্ব :

শুক্রবার, মে ২৪, ২০২৪ 0
বার দেখা হয়েছে

 


"ফরজ এবাদত হিসাবে হজ মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার,"

ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হজ। সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ। শারীরিক সক্ষম ও আর্থিকভাবে সচ্ছল প্রত্যেক মুমিন মুসলমান বায়তুল্লাহর কালো গিলাফ আর কালো পাথর ছুঁয়ে জীবনের সব অপরাধের জন্য ক্ষমা পেতে চান। যাদের চোখের জল আর মনের আকুতি কবুল হয় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন।

করোনার প্রদুর্ভাবে এবার দ্বিতীয়বারের মতো সর্বসাধারণের জন্য হজ পালনে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সৌদি সরকার। শিগ্গির এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে। হাজীদের জন্য খুলবে কাবার দুয়ার।


 লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত হবে আকাশ বাতাস-এমনটাই প্রত্যাশা সারা বিশ্বের বিশ্বাসী মানুষের। 

মহান আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘আর তুমি মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা প্রচার করে দাও। তারা তোমার কাছে আসবে হেঁটে এবং সব ধরনের (পথশ্রান্ত) কৃশকায় উটের ওপর সওয়ার হয়ে দূরদূরান্ত থেকে। যাতে তারা তাদের (দুনিয়া ও আখিরাতের) কল্যাণের জন্য সেখানে উপস্থিত হতে পারে এবং রিজিক হিসাবে তাদের দেওয়া গবাদিপশুগুলো জবেহ করার সময় নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তাদের ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে’। [সূরা হজ, ২২/২৭-২৮]।

হাদিসের আলোকে হজের গুরুত্ব : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপরে প্রতিষ্ঠিত 

১. তাওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান করা এ মর্মে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (সা.) তার বান্দা ও রাসূল। 

২. নামাজ কায়েম করা 

৩. জাকাত প্রদান করা। ৪. হজ সম্পাদন করা। ৫. রমজানের রোজা পালন করা’। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৮]।

হজের ফজিলত ও তাৎপর্য : ‘আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন-‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ করেছে, যার মধ্যে সে অশ্লীল কথা বলেনি বা অশ্লীল কার্য করেনি, সে হজ থেকে ফিরবে সেদিনের মতো (নিষ্পাপ অবস্থায়) যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিলেন’। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৫২১]। 

অর্থাৎ সে কবিরা-সগিরা, প্রকাশ্য-গোপনীয় সব গুনাহ থেকে ওইরূপ মুক্ত হয়ে ফিরে আসে, যেরূপ একজন শিশু গুনাহ মুক্ত হয়ে জন্মগ্রহণ করে। [ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী ৩/৩৮২]

হজ ও ওমরাহকারীর দোয়া কবুল করা হয় : হজরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন-

‘হজ ও ওমরাহকারীরা আল্লাহর প্রতিনিধি দল। তারা দোয়া করলে তাদের দোয়া কবুল করা হয় এবং তারা কিছু চাইলে তাদের তা দেওয়া হয়। [মুসনাদে বাযযার, হাদিস: ১১৫৩]। 

ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

হজের একমাত্র প্রতিদান জান্নাত : ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘এক ওমরাহ অপর ওমরাহ পর্যন্ত সময়ের (সগিরা গুনাহের) কাফফারাস্বরূপ। আর জান্নাতই হলো হজে মাবরুর বা কবুল হজের একমাত্র প্রতিদান’। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৭৭৩]।

হজের জন্য খরচ করার ফজিলত : হজরত বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন- ‘হজের জন্য খরচ করা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার মতোই, যার সওয়াব সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।’ [মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩০০০]।

হাজীর সম্মানে সবকিছুই তার সঙ্গে তালবিয়া পাঠ করে : ‘হজরত সাহল ইবনু সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-যখন কোনো মুসলিম তালবিয়া পাঠ করে, তখন তার ডানে ও বামে পাথর, বৃক্ষরাজি, মাটি সবকিছুই তার সঙ্গে তালবিয়া পাঠ করে; এমনকি পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত পর্যন্ত (তালবিয়া পাঠকারীদের দ্বারা) পূর্ণ হয়ে যায়’। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৮২৮]।

হজ দরিদ্রতা ও গোনাহগুলো বিদূরিত করে : ‘হজরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন-‘তোমরা হজ ও ওমরাহর মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখ (অর্থাৎ সঙ্গে সঙ্গে কর)। কেননা এ দুটি মুমিনের দরিদ্রতা ও গোনাহগুলো দূর করে দেয়, যেমন (কামারের আগুনের) হাপর লোহা, স্বর্ণ ও রৌপ্যের ময়লা দূর করে দেয়। আর কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া কিছুই নয়’। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৮১০]।

হজ অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল : ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.)কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘শ্রেষ্ঠ আমল হলো আল্লাহ ও তার রাসূলের ওপরে ইমান আনা। বলা হলো, তারপর কী? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কী? তিনি বললেন, কবুল হজ’। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৫১৯]।

হাজীরা আল্লাহর মেহমান : ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হজরত রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর মেহমান হলো তিনটি দল-আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধকারী, হজকারী ও ওমরাহ্কারী’। [সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং ২৬২৫]।

হজের নিয়তকারীরা কোনো কারণে হজ করতে সক্ষম না হলেও নেকি পাবে : ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ, ওমরাহ কিংবা জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হলো এবং রাস্তায় মৃত্যুবরণ করল, আল্লাহ তার জন্য পূর্ণ নেকি লিখে দেবেন’। [বায়হাকী, শু ‘আবুল ঈমান, হাদিস নং ৪১০০]।

তালবিয়া পাঠের ফজিলত : হজরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) থেকে বর্ণিত-‘নবী করিম (সা.)কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন হজ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, যে হজে উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা হয় এবং কুরবানি করা হয়। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৮২৭]।

বায়তুল্লাহ তাওয়াফের ফজিলত : ‘হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবে ও শেষে দু’রাকাত নামাজ আদায় করবে, সে যেন একটি গোলাম আজাদ করল’। [ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ২৯৫৬]।

হজরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)কে বলতে শুনেছি-‘যে ব্যক্তি যথাযথভাবে সাতবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করে তার একটি গোলাম আজাদ করার সমান সওয়াব হয়। তাওয়াফের প্রতি কদমে আল্লাহ তার একটি করে গুনাহ মাফ করেন, একটি করে নেকি লেখেন এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন’। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৪৪৬২]।

হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ করার ফজিলত : ‘হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) স্পর্শ করবে, এ দুটি তার সব গোনাহ ঝরিয়ে দেবে’। [মু’জামুল কাবির, হাদিস নং ১৩৪৩৮]।

যমযমের পানি পান করার ফজিলত : তাওয়াফ শেষে দু’রাকাত নামাজান্তে মাতাফ থেকে বেরিয়ে পাশেই যমযম কূপ। সেখানে গিয়ে যমযমের পানি বিসমিল্লাহ বলে দাঁড়িয়ে পান করবে ও কিছুটা মাথায় দেবে। [মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত, হাদিস নং ৪২৬৮]। 

যমযমের পানি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ভূপৃষ্ঠে সেরা পানি হলো যমযমের পানি। এর মধ্যে রয়েছে পুষ্টিকর খাদ্য এবং রোগমুক্তি’। [ত্বাবারাণী, মু’জামুল আওসাত্ব, হাদিস নং ৩৯১২]।

 বায়তুল্লাহে নামাজ আদায়ের ফজিলত : ‘হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘অন্যত্র নামাজ আদায়ের চেয়ে আমার মসজিদে (মসজিদে নববীতে) নামাজ আদায় করা এক হাজার গুণ উত্তম এবং মসজিদুল হারামে নামাজ আদায় করা অন্য মসজিদে নামাজ অপেক্ষা এক লাখ গুণ উত্তম’। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৩৯১৬]। 

 ইয়াওমে আরাফার ফজিলত : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘আরাফার অধিবাসীদের ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন এবং তাদের বলেন, তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকিয়ে দেখ, তারা এলোমেলো চুলে, ধুলোমলিন অবস্থায় আমার কাছে এসেছে’। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৭০৮৯]। 

.......হজ একটি ইবাদত, যা আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও বিশেষ মর্যাদা লাভ করা যায়। তাই প্রত্যেকের হজ পালন করা উচিত। আয়েশা (রা.) হজের বিধান জানার পর কখনো হজ ত্যাগ করেননি। হজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে এর কার‌্যাবলি সম্পাদন করে বাড়ি ফেরা পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে পৃথক পৃথক ফজিলত ও মর্যাদা রয়েছে। রাসূল (সা.) আয়েশা (রা.)-কে লক্ষ্য করে বলেন-‘তোমার কষ্ট ও খরচের পরিমাণের ওপর তোমার সওয়াব প্রাপ্তি নির্ভর করবে’। [দারা কুতনি, হাদিস নং ২৭৬২]। 

......সুতরাং আমাদের উচিত হজ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে এ গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটি সম্পন্ন করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এর গুরুত্ব ও ফজিলত বুঝে তদানুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। 

...............আমীন।............

 (লেখক পরিচিতি : মুহাদ্দিস, সারসীনা দারুস্সুন্নাত জামেয়ায়ে নেসারিয়া দীনিয়া



ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png