শিরোনাম
Loading latest headlines...

বুধবার, ২০ মে, ২০২০

দোআ -সূরা আল বাকারা: ২০১‍

বুধবার, মে ২০, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াকিনা আযাবান্নার।

অর্থ: হে আমার প্রভু! আমাকে দুনিয়াতে সুখ দান কর, আখেরাতেও সুখ দান কর এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। -সূরা আল বাকারা: ২০১‍




সোমবার, ১৮ মে, ২০২০

কেন রমজানের শেষ দশক অধিক গুরুত্বপূর্ণ?

সোমবার, মে ১৮, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

মিশকাত শরীফের হাদিস আমাদেরকে নিশ্চিত করে, রমজানের তিন দশক তিন ভাগে বিভক্ত: রহমত, মাগফেরাত ও নাজাত। তুলনামূলকভাবে রহমত ও মাগফেরাতের চেয়ে নাজাতের গুরুত্ব বেশি।

বাকি দুই দশকের সাথে নাজাতের পার্থক্য কী? নাজাতের বিশেষত্ব কী? নাজাতের বিশেষত্ব নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। তিনটি পয়েন্টে আমাদের এ আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকবে।

শবে কদরের নেয়ামত প্রাপ্তির সুযোগ
রমজানের শেষ দশক তথা নাজাতের দশ দিন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ববহ হবার প্রধান কারণ শবে কদর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিচ্ছেন, “তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল-কদর তালাশ করো”। (বুখারী শরীফ: ২০২০) আরও স্পষ্ট করেছেন অন্য বর্ণনায়, “তোমরা রমজানের শেষ দশকের বে-জোড় রাতসমূহে লাইলাতুল-কদর তালাশ করো”।

(বুখারী শরীফ: ২০১৭)বুখারী শরীফের বর্ণনার মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের জবান থেকে খোশ-খবর শোনা যায়, “যে ব্যক্তি লাইলাতুল-কদরের রাতে ইমান ও সোয়াবের আশা নিয়ে ইবাদত-বন্দেগী করবে তাঁর অতীতের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে”।

হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, শবে কদরের রাত নির্দিষ্ট নয়; তবে আমরা কীভাবে তালাশ করবো? কবে কদর তালাশ করতে আমাদের শেষ দশকে অধিকতর একনিষ্ঠতার সহিত বিরতিহীনভাবে ইবাদত-বন্দেগী করা জরুরী।

আরও স্পষ্ট করে বললে, রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি বে-জোড় রাত্রিতে আমাদের ইবাদতে লিপ্ত থাকা এক প্রকার আবশ্যক। সেজন্য, শবে কদরের মহা-মর্যাদাবান রাতের পূর্ণ ফযিলত হাসিল করতে আমাদেরকে অবশ্যই রমযানের শেষ দশকে ইবাদত এবং একনিষ্ঠতায় অধিক গুরুত্ব দেওয়া ব্যতীত গত্যান্তর নেই।

শেষ দশকে অধিক ইবাদত করা সুন্নত
রমজানের শেষ দশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য দশকের তুলনায় অধিক পরিমাণে ইবাদত করতেন। একাধিক হাদিস শরীফ থেকে রাসূলে খোদার এ সুন্নত প্রমাণিত। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন:“রমজানের শেষ দশকে প্রিয় নবী যত পরিশ্রম করতেন, অন্য দশকে তা করতেন না” অর্থাৎ, তিন দশকের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি পরিশ্রম করতেন শেষ দশকে, আর তা অবশ্যই ইবাদতের মাধ্যমে।

(মুসলিম শরীফ: ১১৭৫) আম্মাজান আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা অন্য বর্ণনায় ইরশাদ ফরমান: “শেষ দশক আরম্ভ হলে প্রিয় নবী পূর্ণরাত জেগে থাকতেন, পরিবারের সবাইকে ঘুম থেকে ডেকে দিতেন এবং নিজে কোমর-বেঁধে ইবাদতে মগ্ন হতেন”। (বুখারী শরীফ: ২০২৪)

উক্ত দু’টি হাদিস শরীফ থেকে অত্যন্ত প্রকট যে, শেষ দশকে অধিক পরিমাণে ইবাদত করা সুন্নত। আর প্রিয় নবী যা করেছেন তাতে যে বিশেষ মঙ্গল নিহিত আছে এ ব্যাপারে মুসলমান-মাত্রই নিঃসন্দিহান।

আমাদের অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে শেষ দশকে ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত এবং পরিবারের সদস্যদেরকে ও এ সুন্নতের বরকত অর্জনে শামিল করা উচিত।

নাজাতের সওগাত পেতে
রমযানের শেষ দশকে আল্লাহ তায়ালা অধিক পরিমাণে গুনাহগার বান্দাদেরকে ক্ষমা তথা নাজাত দেন বলেই মূলত এ দশকের নামকরণ ‘নাজাত’ হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা তো মাধ্যম বা কারণ ছাড়া কিছু করেন না।

তো এ সূত্রে আমাদেরকে অবশ্যই নাজাত পাবার জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে; রমজানের শেষ দশকে নাজাতী বান্দার পরিমাণ বেশি থাকে বলেই এ দশকে আমাদেরকে বেশি বেশি আল্লাহর ইবাদত করতে হবে এবং কায়মনো বাক্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

আর এ দশকের মধ্য দিয়েই রমজান আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেয়। পরবর্তী এক বছর পূর্বে আর রমজানের দেখা আর আমরা পাইনা। পরবর্তী রমজানে বেঁচে থাকবো কি-না সে নিশ্চয়তাও কারোরই নেই; সব মিলিয়ে রমজানকে বিদায় দেওয়ার দিনগুলোতে রমজানের প্রতি এক ধরনের আপ্লুতকর, মর্মস্পর্শী অনুভূতি আমাদের ধর্মবোধে প্রগাঢ় হয়।

এ প্রগাঢ় মর্মস্পর্শী অনুভূতির দাবিতেই রমজানকে সর্বোচ্চ একনিষ্ঠতাপূর্ণ ইবাদতের মাধ্যমে বিদায় জানানো উচিত। মুসনাদে আহমদের হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে খোশ-খবর দেন, “রমজান কেয়ামতে রোজাদারের জন্য সুপারিশ কারী হবে”। (মুসনাদে আহমদ: ৬৬২৬)। সূত্রঃ চ্যানেল আই। সম্পাদনা র/ভূঁ। ম ১৬০৫/২৫


শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

ইতিকাফের ফজিলত ও বিধান

শনিবার, মে ১৬, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

আভিধানিক অর্থে ইতিকাফ
কোনোকিছুতে এঁটে থাকা ও তার মধ্যেই নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলা।

শরয়ী পরিভাষায় ইতিকাফ
আল্লাহ তাআলার ইবাদতের উদ্দেশে মসজিদে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলা
 
ইতিকাফের শরীয়তভুক্ত হওয়া
ইতিকাফ উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদতের মধ্যে একটি। আয়শা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে আমরণ ইতিকাফ করে গেছেন।’(বর্ণনায় বুখারী)

ইতিকাফ আমাদের জন্য ও আমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য আল্লাহ তাআলা বিধানভুক্ত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

(وَعَهِدۡنَآ إِلَىٰٓ إِبۡرَٰهِ‍ۧمَ وَإِسۡمَٰعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيۡتِيَ لِلطَّآئِفِينَ وَٱلۡعَٰكِفِينَ وَٱلرُّكَّعِ ٱلسُّجُودِ ١٢٥ )

{এবং (আদেশ দিলাম যে,) ‘তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর।’ আর আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে, ‘তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ‘ইতিকাফকারী ও রুকূকারী-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র কর।} [সূরা আল বাকারা:১২৫]
ইতিকাফের হুকুম

ইতিকাফ সারা বছরই সুন্নত তবে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করাই উত্তম। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশদিন সবসময় ইতিকাফ করে গেছেন।
ইতিকাফের শর্তসমূহ
১- নিয়ত

ইতিকাফকারী আল্লাহর ইবাদত ও সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশে মসজিদে অবস্থানের নিয়ত করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় নিয়তের ওপর আমলের নির্ভরতা।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
২- যে মসজিদে ইতিকাফ করা হবে তা জামে মসজিদ হতে হবে

জামে মসজিদ অর্থ এমন মসজিদ যাতে জুমার নামাজ পড়া হয় এবং যাতে যেকোনো এলাকার মুসাল্লীদের নামাজ আদায়ের অধিকার উন্মুক্ত থাকে।

৩ - বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন

অতএব জুনুবী ব্যক্তি এবং হায়েয ও নিফাসগ্রস্ত নারীর ক্ষেত্রে ইতিকাফ করা শুদ্ধ হবে না; কেননা এদের মসজিদে অবস্থান করা বৈধ নয়।
ইতিকাফের জন্য রোজা শর্ত নয়

ইতিকাফের জন্য রোজা শর্ত নয়; ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রাযি. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করে বললেন, ‘আমি জাহিলীযুগে মানত করেছিলাম যে একরাত মসজিদুল হারামে ইতিকাফ করব। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তুমি তোমার মানত পুরা করো।’ সে হিসেবে যদি রোজা রাখা শর্ত হতো তাহলে রাতের বেলায় ইতিকাফ শুদ্ধ হত না। কেননা রাতের ইতিকাফে কোনো রোজা নেই। এ ক্ষেত্রে আরেকটি দলিল এই যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাওয়ালের প্রথম দশদিন ইতিকাফ করেছেন বলে এক বর্ণনায় এসেছে। আর এটা সবার জানা যে, শাওয়ালের প্রথম দশদিনের মধ্যে ঈদের দিন রয়েছে, যাতে রোজা রাখা বৈধ নয়। আরেকটি বিষয় এই যে, রোজা ও ইতিকাফ দুটি ভিন্ন ইবাদত। কাজেই একটির জন্য অন্যটি শর্ত হবে না।
ইতিকাফের সময়

যেকোনো দিন ইতিকাফ করা শুদ্ধ। যেকোনো সময়সীমার জন্যও ইতিকাফ করা শুদ্ধ। তবে উত্তম হলো একদিন একরাতের কম না হওয়া; কেননা একদিন একরাতের কম ইতিকাফ করা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম কারও থেকেই প্রমাণিত নেই।
রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করা

এ দশদিন হলো ইতিকাফ করার সর্বোত্তম সময়; আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন। আমরণ তিনি তা করে গেছেন।

যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশদিনে ইতিকাফের নিয়ত করবে সে রমজানের একুশ তারিখে, যে মসজিদে ইতিকাফ করতে চায়, সে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়বে। এরপর ইতিকাফের জায়গায় প্রবেশ করবে। আয়শা রাযি. ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রমজানেই ইতিকাফ করতেন। তিনি যখন ফজরের নামাজ আদায় করতেন তখন ইতিকাফের স্থলে প্রবেশ করতেন।’ [বর্ণনায় বুখারী]

রমজানের শেষ দিনের সূর্যাস্ত যাওয়ার সাথে সাথে ইতিকাফ শেষ হয়ে যায়, তবে উত্তম হলো ঈদের দিন সকালে ইতিকাফ থেকে বের হওয়া। সালাফদের অনেকেই এরূপ করেছেন।

ইতিকাফকারীর জন্য যা বৈধ

১ - একান্ত প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হওয়া, যেমন খাওয়া ও পান করার প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হওয়া যদি তা মসজিদে হাজির করার জন্য কেউ না থাকে। পেশাব পায়খানার প্রয়োজনেও মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে। আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইতিকাফ করতেন, তিনি তাঁর মাথা আমার দিকে হেলিয়ে দিতেন, অতঃপর আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম। আর তিনি মানবিক প্রয়োজন ব্যতীত বাড়িতে প্রবেশ করতেন না।’(বর্ণনায় মুসলিম)

২ - চুল ভাঁজ করা ও আঁচড়ানো বৈধ; উল্লেখিত হাদীস এর প্রমাণ ।

৩ - মানুষের সাথে উপকারী কথাবার্তা বলা। তারা কেমন আছে না আছে ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করা। কিন্তু অতিমাত্রায় এসব কথাবার্তা বলা উচিত হবে না। কেননা তা ইতিকাফের উদ্দেশের সাথে সাংঘর্ষিক।

৪ – আত্মীয়স্বজন ইতিকাফকারীর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আসতে পারবে। এমনকি তাদেরকে বিদায় দেয়ার জন্য ইতিকাফের জায়গা থেকে বের হওয়াও বৈধ রয়েছে। সাফিইয়া বিনতে হুআই রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফরত অবস্থায় আমি তাঁর সাথে রাতের বেলায় সাক্ষাৎ করতে এলাম। আমি তার সাথে কথা বললাম। এরপর যখন চলে যাওয়ার উদ্দেশে দাঁড়ালাম তিনি আমাকে বিদায় দেয়ার জন্য দাঁড়ালেন।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
ইতিকাফ বাতিলকারী-বিষয়সমূহ

১ - প্রয়োজন ব্যতীত ইচ্ছাকৃতভাবে মসজিদ থেকে বের হওয়া, যদিও তা অল্প সময়ের জন্য হয়; আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবিক প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদ থেকে বের হতেন না।’

(বর্ণনায় মুসলিম) উপরন্তু মসজিদ থেকে বের হওয়ার অর্থ ইতিকাফস্থলে অবস্থান করার যে নীতি রয়েছে তা ভঙ্গ হওয়া। আর ইতিকাফস্থলে অবস্থান করা ইতিকাফের একটি রুকন।

২ - স্বামী-স্ত্রীর মিলন, যদিও তা রাতের বেলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:

( وَلَا تُبَٰشِرُوهُنَّ وَأَنتُمۡ عَٰكِفُونَ فِي ٱلۡمَسَٰجِدِۗ)

{আর তোমরা মাসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না।}
[সূরা আল বাকারা:১৮৭]

স্বামী-স্ত্রীর মিলনের সাথে যুক্ত হবে উত্তেজনাসহ যেকোনো উপায়ে বীর্যপাত ঘটানো, যেমন হস্তমৈথুন অথবা স্ত্রীর অন্যকোনো শরীরাংশে ঘর্ষণের মাধ্যমে বীর্যপাত|

৩ - ইতিকাফ ভঙ্গ করার দৃঢ় ইচ্ছা ব্যক্ত করা।
যদি কোনো মুসলিম সুনির্দিষ্ট দিনের ইতিকাফের নিয়ত করে, এরপর ইতিকাফ ভঙ্গ করে ফেলে তবে তার জন্য ইতিকাফ কাযা করা বৈধ হবে। আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইতিকাফের নিয়ত করতেন, তিনি ফজরের নামাজ পড়তেন, অতঃপর তিনি ইতিকাফস্থলে প্রবেশ করতেন। (একবার) তিনি তাঁর তাঁবু টানানোর নির্দেশ দিলেন, অতঃপর তাঁবু টানানো হলো - অর্থাৎ যখন তিনি রমজানের শেষ দশদিনের ইতিকাফ করার ইচ্ছা করলেন তখন- যয়নাব রাযি. তাঁর তাঁবু টানানোর নির্দেশ দিলেন, অতঃপর টানানো হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যান্য স্ত্রীগণও তাঁবু টানানোর নির্দেশ দিলেন, অতঃপর টানানো হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফজরের নামাজ পড়লেন, তিনি বহু তাঁবু দেখতে পেলেন। তিনি বললেন,‘তোমরা কি ভালো চাও? এরপর তিনি তাঁর তাঁবু গুটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন, অতঃপর তা গুটিয়ে ফেলা হলো। তিনি রমজানে ইতিকাফ করা ছেড়ে দিলেন এবং শাওয়ালের প্রথম দশদিন ইতিকাফ করলেন।’ অন্য এক বর্ণনা অনুযায়ী ‘শাওয়ালের শেষ দশদিন ইতিকাফ করলেন।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম )ইতিকাফকারী ব্যক্তি রোগী দেখতে যাবে না। জানাযায়ও শরীক হবে না, বরং সে আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশে ইতিকাফস্থলে অবস্থান করবে।


শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

যাকাত সম্পর্কিত কিছু হাদীস

শুক্রবার, মে ১৫, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
যাকাত সম্পর্কিত কিছু সহীহ হাদীস পেশ করা হলঃ-
সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান, হাদিস নাম্বার:৭
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، قَالَ أَخْبَرَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ ‏"‏‏.‏
উবায়দুল্লাহ্ ইবনু মূসা (রাঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি।
১। আল্লাহ্ ছাড়া ইলাহ্ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ আল্লাহ্‌র রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য দান।
২। সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করা।
৩। যাকাত দেওয়া।
৪। হাজ্জ (হজ্জ) করা এবং
৫। রামাদান এর সিয়াম পালন করা।

সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান, হাদিস নাম্বার:৫৫
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنِي قَيْسُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى إِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ‏.‏
৫৫। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) জারীর ইবনু আবদুল্লাহ আল বাজলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে বায়’আত গ্রহণ করেছি সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করার, যাকাত দেওয়ার এবং সকল মুসলিমের কল্যাণ কামনা করার।

সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান (বিশ্বাস), হাদিস নাম্বার:৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ ‏"‏‏.‏

وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى: }لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمْ الْمُتَّقُونَ{ وَقَوْلِهِ }قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ{ الآيَةَ.

আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘কোন পুণ্য নেই পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে; কিন্তু পুণ্য আছে কেউ ঈমান আনলে আল্লাহর উপর, আখিরাতের উপর, ফেরেশতাদের উপর, সকল কিতাবের উপর, আর সকল নাবী-রাসূলদের উপর, এবং অর্থ দান করলে আল্লাহ প্রেমে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, মিসকীন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী এবং দাস মুক্তির জন্য, সালাত কায়িম করলে, যাকাত দিলে, কৃত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করলে আর অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধ বিভ্রাটে ধৈর্যধারণ করলে। এরাই হল প্রকৃত সত্যপরায়ণ, আর এরাই মুত্তাকী’’- (আল-বাক্বারাহ ২/১৭৭)। ‘‘অবশ্যই সফলতা লাভ করেছে

 সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৩/ যাকাত, হাদিস নাম্বার:২১৪০
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ مَهْدِيٍّ - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لَيْسَ فِي حَبٍّ وَلاَ تَمْرٍ صَدَقَةٌ حَتَّى يَبْلُغَ خَمْسَةَ أَوْسُقٍ وَلاَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ وَلاَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ‏"‏ ‏.‏
২১৪০। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শস্য এবং খেজুরের পাঁচ ওয়াসাকের কমে যাকাত নেই, পাঁচ উটের কম সংখ্যায় যাকাত নেই এবং পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণে (রুপায়) যাকাত নেই।মুমিনগণ’’- (সূরাহ্ মুমিনূন ২৩/১)।

৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈমানের ষাটেরও অধিক শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা। (মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৫, আহমাদ ৯৩৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮)

গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৭/ যাকাত, হাদিস নাম্বার:৬৪২
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ الْعَامِلُ عَلَى الصَّدَقَةِ بِالْحَقِّ كَالْغَازِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى بَيْتِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَيَزِيدُ بْنُ عِيَاضٍ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ ‏.‏ وَحَدِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ أَصَحُّ ‏.‏
৬৪২. আহমাদ ইবনু মানী এবং মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ...... রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, বাড়িতে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথে যুদ্ধরত ব্যক্তির যে মর্যাদা, ন্যায়ভাবে যাকাত সংগ্রহকারী ব্যক্তিরও সেই মর্যদা রয়েছে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৭৯/ কূটকৌশল, হাদিস নাম্বার:৬৫০৮
উবায়াদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হমায়দ সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লুতাবিয়্যা নামে এক ব্যাক্তিকে বণী সুলায়ম গোত্রের যাকাত আদায়কারী নিয়োগ করলেন। যখন সে ফিরে এলো তখন তিনি তার কাছ থেকে হিসাব-নিকাশ গ্রহণ করলেন। সে বলল, এগুলো আপনাদের মাল, আর এগুলো (আমাকে দেয়া) উপঢৌকন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক তাহলে তোমার মা-বাবার ঘরে বসে থাকলে না কেন? সেখানেই তোমার কাছে উপঢৌকন এসে যেত। এরপর তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের কাউকে এমন কোন কাজে নিয়োগ করি, যার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আল্লাহ্আমাকে মনোনীত করেছেন। কিন্তু সে কাজ সম্পাদন করে এসে বলে, এ হল তোমাদের মাল। আর এ হল আমাকে দেয়া উপঢৌকন। তাহলে সে কোন তার মা-বাবার ঘরেই বসে রইল না, সেখানে এমনিতেই তার কাছে তার উপঢৌকন এসে যেত? আল্লাহর কসম! তোমরা যে কেউ অবৈধভাবে কোন কিছু গ্রহণ করবে, সে কিয়ামতের দিন তা বয়ে নিয়ে আল্লাহর সামনে হাযির হবে। আমি তোমাদের কাউকে ভালভাবেই চনব যে, সে আল্লাহর কাছে হাজির হবে উট বহন করে, আর উট আওয়াজ দিতে থাকবে। অথবা গাভী বহন করে, আর সেটা ডাকতে থাকবে। অথবা বকরি বহন করে, আর সেটা ডাকতে থাকবে। এরপর তিনি আপন হাতে দু’টি এতদূরে উত্তোলন করলেন যে, তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যাচ্ছিল। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? আমার চক্ষুযুগল সে অবস্থা অবলোকন করেছে এবং আমার কান শুনেছে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮৫/ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন, হাদিস নাম্বার:৬৭৮৭
৬৭৮৭ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন। আর তার পরে আবূ বকর (রাঃ)-কে খলীফা নির্বাচন করা হল এবং আরবের যারা কাফের হওয়ার তারা কাফের হরে গিয়েছিল। তখন উমর (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেনঃ আপনি কি করে লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মানুষেরসাথে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ- বলার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ করে যাওয়ার জন্য নির্দেশিত হয়েছি। অতএব যে ব্যাক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ- বলে ফেলল- সে তার জানো ও মাল আমার থেকে নিরাপদ ও সংরক্ষিত করে ফেলল। তবে ইসলামী বিধানের আওতায় পড়ে গেলে সে ভিন্নকথা। তাদের প্রকৃত হিসাব আল্লাহর কাছে হবে। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ যারা সালাত (নামায/নামাজ) ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে, আমি অবশ্যই তাদের সাথে যুদ্ধ করব। কেননা, যাকাত হল সম্পদের হক (অবশ্য পালনীয় বিধান)। আল্লাহর শপথ! যদি তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যা আদায় করত, এখন তা (সেভাবে) দিতে অস্বীকার করে, তাহলেও আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করব। উমর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি দেখছিলাম যে, যুদ্ধ করার ব্যাপারে আল্লাহ তা আলা আবূ বকরের সিনা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। সুতরাং আমি বুঝতে পারলাম এ সিদ্ধান্তই সঠিক।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৭৯/ কূটকৌশল, হাদিস নাম্বার:৬৪৮৮
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনু উবাদা আনসারী (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তাঁর মায়ের মানত সম্পর্কে ফতোয়া চাইলেন, যে মানত তার মায়ের যিম্মায় ছিল। কিন্তু তা আদায় করার পূর্বে তার মৃত্যু হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তার পক্ষ থেকে আদায় করে দাও। কোন কোন মনীষী বলেন, যখন উটের সংখ্যা বিশে পৌঁছে তখন তার যাকাত হবে চারটি ছাগল। কিন্তু যদি সে যাকাতথেকে রেহাই পাওয়ার উদ্দেশ্যে অথবা যাকাত এড়াবার কৌশল হিসেবে বছর পূর্ণ হওয়ার আগে ঐগুলো দান করে দেয় অথবা বিক্রি করে ফেলে, তাহলে তার উপর কিছু ওয়াজিব হবে না। তদ্রূপ যদি সে ঐগুলো ধ্বংস করে দেয় তারপর সে মারা যায় তাহলেও তার মালের উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।



মাহে রমজানের শেষ দশকে মেহনত-মুজাহাদা

শুক্রবার, মে ১৫, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

পাঠ সংক্ষেপ
খুতবায় যা থাকছে : (ক)মাহে রমজানের শেষ দশকে মেহনত-মুজাহাদা, (খ)রমজানের শেষ দশক যাপনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ কি তা উল্লেখ করা, (গ)আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক মজবুত করা ও তার নৈকট্য লাভে মেহনত-মুজাহাদা
 
প্রথম খুৎবা
اَلْحَمْدُ لِلَّهِ مُعَزِّ مَنْ أَطَاعَهُ وَاتَّقَاهُ، مُجِيْبِ دَعْوَةَ الدَّاعِيْ إِذَا دَعَاهُ وْهَادِيِ مَنْ تَوَجَّهَ إِلَيْهِ وَاسْتَهَدَاهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ نَبِيَّنَا مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسْولُهُ صَلَّىَ اللهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيِنِ، أَمَّا بَعْدُ:

প্রিয় মুসল্লিয়ান! মাহে রমজানের মুবারক দিনগুলো বিদায় নিচ্ছে এক-এক করে। পবিত্র রজনীগুলোও এক-এক করে পরিণত হচ্ছে বিগত ইতিহাসে। মাহে রমজানের বরকতময় রাত ও দিনগুলো চলে যাচ্ছে আমাদের আমলের সাক্ষী হয়ে। আমরা যা গচ্ছিত রাখছি তার সংরক হিসেবে। মাহে রমজানে দিন-রাতগুলো আমাদের আমলের গুদামঘর, আমাদের আমলের সঞ্চয়-ব্যাংক যা কিয়ামতের ময়দানে হাজির হবে আমাদের সঞ্চিত আমলের পুঙ্খানুপুঙ্খ রেকর্ড নিয়ে। আর সেদিন রাব্বুল আলামীন ডেকে বলবেন:
( يَا عِبَادِيْ إِنَّمَا هِيَ أَعْمَالُكُمْ أُحْصِيْهَا لَكُمْ ثُمَّ أُوَفِّيْكُمْ إِيَّاهَا، فَمَنْ وَجَدَ خَيْراً فَلْيَحْمَدِ اللهَ، وَمَنْ وَجَدَ غَيْرَ ذَلِكَ فَلَا يَلُوْمَنَّ إِلَّا نَفْسَهُ )

‘হে আমার বান্দারা! এগুলো তো তোমাদের আমল, যা আমি তোমাদের জন্য হিসাব করছি। অতএব যে ভালো পাবে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, আর যে অন্যরকম পাবে সে যেন নিজকে ছাড়া অন্য কাউকে দোষারোপ না করে’ (মুসলিম)।

ভাইয়েরা আমার ! পবিত্র মাহে রমজান বিদায়ের ঘন্টা বাজাচ্ছে। রমজানের শেষ দশক আমাদের দ্বার প্রান্তে। যদি আমরা বিগত দিনগুলোতে সিয়াম সাধনার যথার্থতা রায় অলসতা করে থাকি, তাহলে সামনের দিনগুলোতে যারপরনাই চেষ্টা করে যাওয়ার প্রত্যয় পোষণ করতে হবে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশক যেভাবে যাপন করেছেন সেভাবে যাপনের সাধনা করতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের প্রথম বিশ দিনের রাতগুলো নামাজ ও নিদ্রা উভয়টির মধ্যদিয়ে কাটাতেন, আর শেষ দশ দিন কাটাতেন অস্বাভাবিক পরিশ্রম করে। এ দশ দিন তিনি বিছানা পরিত্যাগ করতেন, স্ত্রীসঙ্গ পরিত্যাগ করতেন, বরং স্ত্রীগণকেও ইবাদাতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। আলী ও ফাতিমা রাযি. এর দরজায় কড়া নাড়তেন এবং বলতেন, ‘তোমারা কি উঠবে না? নামাজ পড়বে না?’ তিনি দরজায় কড়া নাড়তেন এবং বলতেন:
{ وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصلاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لاَ نَسْأَلُكَ رِزْقاً نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى }

আর তোমার পরিবার-পরিজনকে সালাত আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার উপর অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে কোন রিযক চাই না। আমিই তোমাকে রিযক দেই আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য’ (সূরা তা-হা, আয়াত ১২০)।

তিনি তাঁর স্ত্রীদের ঘরে যেতেন এবং ডেকে বলতেন, ‘ওঠো হে ঘরবাসিনী! দুনিয়ায় পোশাকে আচ্ছাদিতদের অনেকেই কিয়ামতের দিন হাজির হবে বিবস্ত্র হয়ে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও মাহে রমজানের শেষ দশকে ইবাদাতের মাধ্যমে রাত্রিযাপন করতেন, পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যারা সক্ষম তাদের কাউকে না জাগিয়ে ক্ষ্যান্ত হতেন না।

প্রিয় শ্রোতামণ্ডলী! কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন, রাত জেগে কিয়ামুল লাইলের নামাজ পড়া ফরজ ওয়াজিবের বাইরে একটা অতিরিক্ত আমল। আর আমি তো আমার জিম্মায় থাকা আবশ্যিক নামাজগুলো যথার্থরূপেই আদায় করছি। এতটকু কি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়? উত্তরে বলা যায় যে, আবশ্যিক নামাজগুলো তো বাধ্যতামূলকভাবে পড়তেই হবে। তবে এ নামাজগুলো যে যথার্থরূপে আদায় হচ্ছে, এতে কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি হচ্ছে না, এ ব্যাপারে কি কেউ গ্যারান্টি দিতে পারবে? এখান থেকেই তো সুন্নত-নফলের নামাজের প্রয়োজনীয়তার কথা আসে। কেননা সুন্নত-নফল নামাজ ফরজ নামাজের অপূর্ণতাগুলো শুধরিয়ে পরিপূর্ণতা দান করে। সুনানে আবু দাউদের এক বর্ণনায় এসেছে: আল্লাহ তাআলা বলবেন:
( انْظُرُوْا فِيْ صَلَاةِ عَبْدِيْ أَتَمَّهَا أَمْ نَقَصَهَا؟ فَإِنْ كَانَتْ تَامَّةً كُتِبَتْ لَهُ تَامَّةً وَإِنْ كَانَ انْتَقَصَ مِنْهَا شَيْئاً قَالَ انْظُرُوْا هَلْ لِعَبْدِيْ مِنْ تَطَوُّعٍ فَإِنْ كَانَ لَهُ تَطَوٌّعٌ قَالَ أَتِمُّوْا لِعَبْدِيْ فَرِيْضَتَهُ مِنْ تَطَوُّعِهِ ثُمَّ تُؤْخَذُ الْأَعْمَالُ عَلَى ذَاكُمْ )

‘আমার বান্দার নামাজ পরখ করে দেখো, সে কি তা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করেছে, না কি অপূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করেছে? যদি তার নামাজ পূর্ণাঙ্গ হয়ে থাকে, তাহলে তা পূর্ণাঙ্গরূপেই লেখা হবে। আর যদি তাতে কোনো অপূর্ণতা থেকে থাকে, তবে দেখো, আমার বান্দার কোনো নফল নামাজ আছে কি না। যদি নফল নামাজ থেকে থাকে, তাহলে তা দিয়ে আমার বান্দার ফরজ নামাজ পরিপূর্ণ করে দাও। অতঃপর অন্যান্য আমল এভাবেই নেয়া হবে (আবু দাউদ, সহীহ)।

ফরজ নামাজ পরিপূর্ণরূপে আদায় করার ব্যাপারে নিশ্চিত হলেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে আমাদেরকে নফল নামাজের প্রতি আগ্রহী হতে হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।

রমজানে শেষ দশকের বিশেষ একটি ফযীলত এই যে, এ দশ দিনে শবে কদরের সাক্ষাৎ পাওয়ার আশা করা যায়। আর লায়লাতুল কদর এক হাজার মাস থেকেও উত্তম। ইমাম নখঈ রহ. বলেন: লায়লাতুল কদর এক হাজার রাত থেকে উত্তম হওয়ার অর্থ- লায়লাতুল কদরের আমল লায়লাতুল কদর ছাড়া এক হাজার মাসের আমল থেকে উত্তম। এক হাজার মাস হিসেব করলে তিরাশি বছর চার মাস দাঁড়ায়। তাহলে বুঝতেই পারছেন লায়লাতুল কদর কত বেশি মর্যাদাবান, কত বেশি দামি। সুবহানাল্লাহ!

লায়লাতুল কদর সম্পর্কে বুখারী ও মুসলিমে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
( مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيْمَاناً وَاحْتِسَاباً غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ )

‘যে ব্যক্তি ঈমানসহ আল্লাহর কাছে ছাওয়াব প্রাপ্তির আশায় কদরের রাতে ইবাদত করল, তার অতীত জীবনের সকল গুনাহ মা করে দেয়া হলো’ (বুখারী ও মুসলিম)।

অধিক নির্ভরযোগ্য মতানুসারে লায়লাতুল কদর মাহে রমজানের শেষ দশকের একটি রাত। আল্লাহ তাআলা এ রাতের ইলম বান্দাদের থেকে গোপন করে রেখেছেন তাদের প্রতি রহমতস্বরূপ। যাতে তারা মাহে রমজানের শেষ দশ রজনীতে লায়লাতুল কদর অনুসন্ধান করতে গিয়ে অধিক ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল হয়। নামাজ, দু‘আ ও যিকরের মাধ্যমে রাত্রিযাপন করে। অতঃপর এ দশ রাতের মেহমনতে আল্লাহর অধিক নৈকট্য অর্জনের সুযোগ পায়। তিনি লায়লাতুল কদরকে বান্দাদের পরীার উদ্দেশ্যেও গোপন করেছেন যাতে লায়লাতুল কদর অনুসন্ধনে কে অধিক নিবেদিত ও ঐকান্তিক তা পরিস্কার হয়ে যায়।

প্রিয় মুসল্লিয়ান! লায়লাতুল কদর চেনার কিছু আলামতও রয়েছে। এসব আলামতের মধ্যে বিশুদ্ধ আলামত হলো: কদরের রাতান্তে যখন সকাল হবে, সেদিনকার সূর্যোদয় হবে সাদা হয়ে কিরণহীন অবস্থায়। উবায় ইবনে কাব রাযি. থেকে সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
( وَأَمَارَتُهَا أَنْ تَطْلُعَ الْشَّمْسُ فِيْ صَبِيّحَةِ يَوْمِهَا بَيْضَاءَ لَا شُعَاعَ لَهَا )

‘আর তার আলামত হলো সেদিনকার সকালের সূর্যোদয় ঘটবে সাদা আকারে, যার কোনো কিরণ থাকবে না (মুসলিম)।

অবশ্য এ আলামতটিও কদরের রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পর সকাল বেলায় জানা যাবে। এর হেকমতও লায়লাতুল কদর অনুসন্ধানে বান্দাদেরকে অধিক পরিশ্রমী করে তোলা, এবং যারা এ রাতের ফযীলত পাওয়ার জন্য পরিশ্রম করেছে তাদেরকে আনন্দিত করা।

হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী সত্যস্বপ্নের মাধ্যমেও লায়লাতুল কদর কবে তার জ্ঞান লাভ করা যেতে পারে। ইবনে উমর রাযি. থেকে বুখারী ও মুসলিমের একটি বর্ণনায় এসেছে। তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কয়েকজন সাহাবী নিদ্রারত অবস্থায় দেখেন যে, লায়লাতুল কদর রমজানের শেষ সাত দিনের মধ্যে অবস্থিত। রাসালুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আমি দেখছি যে তোমাদের স্বপ্ন লায়লাতুল কদর রমজানের শেষ সাত দিনে হওয়ার ব্যাপারে এক হয়েছে। অতঃপর যে ব্যক্তি লায়লাতুল কদর তালাশ করতে চায় সে যেন এই সাত দিনে তালাশ করে’ (মুসলিম)।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লায়লাতুল কদর কবে তা দেখানো হয়েছিল। হাদীসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
( إنِّي أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، ثُمَّ أُنْسِيتُهَا أَوْ نُسِّيتُهَا، فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فِي الْوَتْرِ )

‘আমাকে লায়লাতুল কদর দেখানো হয়েছিল, এরপর তা আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়। তাই রমজানের শেষ দশকে বেজোড় (রাতে) তোমরা লায়লাতুল কদর তালাশ করো। আর আমি নিজকে দেখেছি পানি ও কাদায় সিজদা দিতে (বুখারী) ।

প্রিয় মুসল্লিয়ান! রমজানের শেষ দশকের একটি আমল হলো ইতিকাফ করা। ইতিকাফ হলো এই মুবারক দিনগুলোয় ইবাদত-বন্দেগীর উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান ও রাতযাপন করা। ইতিকাফ শরীয়তসম্মত একটি আমল হওয়ার ব্যাপারে আল কুরআনে ইঙ্গিত রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে :
{ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ }

‘এ অবস্থায় যে তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত’ (সূরা আল বাকারা:১৮৭)।

ইতিকাফ বিষয়ে সহীহ বুখারীতে বর্ণিত দীর্ঘ এক হাদীসের শেষাংশে রয়েছে :
( مَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعِي فَلْيَعْتَكِفْ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ فَقَدْ أُرِيْتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ ثُمَّ أُنْسِيْتُهَا )

‘যে আমার সাথে ইতিকাফ করতে চায় সে যেন শেষ দশকে ইতিকাফ করে, কেননা এই রাত আমাকে দেখানো হয়েছিল, পরে আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে (বুখারী)।

তাই যার শক্তি সামর্থ্য আছে তার উচিত হবে ইতিকাফে বসে শেষ দশকের রাতগুলো যাপন করা। ইতিকাফকারী নিজকে দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর আনুগত্য, দুআ-মুনাজাত, যিকর ইত্যাদির জন্য সে নিজকে মসজিদে আঁটকে ফেলে। দুনিয়াবী সকল দৌড়ঝাঁপ থেকে মুক্ত হয়ে সে মসজিদের পবিত্র আবহে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলে। মন ও শরীর উভয়টাকেই সে নিরঙ্কুশভাবে রাব্বুল আলামীনের দরবারে সঁপে দেয়। যা কিছু আল্লাহকে সন্তষ্ট করে শুধু তাতেই নিজকে সংশ্লিষ্ট করে নেয়। আর এভাবে সে শুধুই আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। যা করলে আল্লাহ রাযি হন শুধু তাতেই নিজকে নিয়োজিত করে।

সুপ্রিয় মুসল্লিয়ান! ইতিকাফের তাৎপর্য হলো, সৃষ্টজীব থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সুনির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে নিজকে আবদ্ধ করে নেয়া। আর আল্লাহ সম্পর্কে বান্দার জ্ঞান যত বাড়বে, আল্লাহর মহব্বত হৃদয়ে যত পোক্ত হবে, আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে যতটুকু অগ্রসর হবে, দুনিয়ার প্রতি প্রেম ভালোবাসা ততই অর্ন্তহিত হবে।

ইতিকাফ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে পালিত জিবরীল আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত। জিবরীল আ. প্রতি রমজানেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কুরআন শুনাতেন এবং নিজেও তাঁর থেকে শুনতেন। আর যে বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওয়াফাত হয় সে বছর তিনি দু’বার কুরআন শুনান এবং শোনেন (বুখারী ও মুসলিম)।

ইবনে আব্বাস রাযি.এর বর্ণনায় বুখারীতে আরো এসেছে :
( كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُوْنُ فِيْ رَمَضَانَ حِيْنَ يَلْقَاهُ جِبْرِيْلُ، فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ وَكَانَ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلامُ يَلْقَاهُ كُلَّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ، فَلَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِيْنَ يَلْقَاهُ جِبْرِيْلُ أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ )

‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অধিক দানকারী ছিলেন, তবে তিনি সবচে’ বেশি দান করতেন যখন জিবরীল আ. তাঁকে কুরআন শুনাতেন। আর জিবরীল আ. রমজানের প্রতি রাতেই তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁকে কুরআন শেখাতেন। যখন জিব্রিল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি বেগবান বাতাস থেকেও অর্থকড়ি ব্যয়ের ক্ষেত্রে অধিক দানশীল হতেন’ (বুখারী ও মুসলিম)।

ইতিকাফের ফযীলত

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোর যেকোনো একটিতে শবে কদর রয়েছে। আর শবে কদরের ইবাদত তিরাশি বছর চার মাস ইবাদত করার চেয়েও উত্তম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শবে কদর প্রাপ্তির আশা নিয়েই ইতিকাফ করতেন। তিনি প্রথম দশকেও ইতিকাফ করেছেন, মধ্য দশকেও করেছেন, এরপর শেষ দশকে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন: ‘আমি প্রথম দশকে ইতিকাফ করেছি, এরপর মধ্য দশকে, এরপর আমাকে দেয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, তা শেষ দশকে। অতএব তোমাদের মধ্যে যার ইতিকাফ করা পছন্দ হয় সে যেন ইতিকাফ করে (মুসলিম)।

بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآن ِالْعَظِيْمِ وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْر ِالحْكِيْمِ، أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ إِنَّهُ هُو َالْغَفُور ُالرَّحِيْمْ .
 
দ্বিতীয় খুৎবা
اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، أَحْمَدُهُ سُبْحَانَهُ وَأَشْكُرُهُ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ نَبِيَّنَا مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، صَلَى اللهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الْدِّيِن، أَمَّا بَعْدُ:

প্রিয় মুসল্লিয়ান! রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফ করা কখনো বাদ দেননি। তিনি প্রতি বছর দশ দিন ইতিকাফ করতেন। আর যে বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়াফাত ফরমান, সে বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেন। উপরন্তু যখন তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করতে প্রতিযোগিতা শুরু করলেন, তিনি ইতিকাফ করা ছেড়ে দিলেন এবং তা শাওয়ালের প্রথম দশকে কাজা করে নিলেন (বুখারী)।

ইতিকাফ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন বিষয় থেকে নিজকে দূরে রেখেছেন, যা তার জন্য বৈধ ছিল। যেমন স্ত্রীসঙ্গ ও নিদ্রাগমন। রমজানের শেষ দশকে কঠোর মেহনতি হওয়া এবং লুঙ্গি বেঁধে নেয়ার ব্যাপারে আয়েশা রাযি. থেকে যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তার অর্থ এটাই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণও ইতিকাফ করতেন। এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওয়াফাতের পরও তাঁরা ইতিকাফ করেছেন। এমনকি আয়েশা রাযি. থেকে এক বর্ণনায় এসেছে যে, জনৈকা ইস্তেহাযাগ্রস্তা স্ত্রী একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এ অবস্থায় ইতিকাফ করলেন যে, তিনি রক্তিম ও হরিদ্রা বর্ণের রক্ত দেখতে পাচ্ছিলেন। তিনি যখন নামাজ পড়তেন আমরা তখন হয়তো তাঁর নিচে প্লেট রেখে দিতাম।

প্রিয় মুসুল্লিয়ান! আসুন এবার আমরা ইতিকাফের কিছু আহকাম ও মাসাইল নিয়ে আলোচনা করি।

১. রাসূল্ল্লুাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শের অনুসরণ করে ইতিকাফের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করা।

২. নিয়ত করে ইতিকাফ শুরু করে দেয়ার পর ইতিকাফ পূর্ণ করা জরুরী নয়।
৩. কমপে কত দিন ইতিকাফ করলে ইতিকাফ হিসেবে ধরা হবে, বিষয়টি অনির্দিষ্ট। তবে ইতিকাফকারী যেদিন থেকে ইতিকাফ শুরু করতে ইচ্ছুক, সেদিন সূর্যাস্তের পূর্বেই তাকে নিজ ইতিকাফের জায়গায় পৌঁছে যেতে হবে।
৪. নিজের জন্য একটা জায়গা বেছে নেয়া জরুরী, যেখানে নীরবে আল্লাহর যিকর-আযকার করতে পারবে। প্রয়োজনের সময় আরাম করতে পরবে। কাপড় পরিবর্তন করতে পারবে। পরিবারের কেউ এলে তার সাথে সাক্ষৎ করতে পারবে।
৫. ইতিকাফকারী মসজিদের বিভিন্ন প্রান্তে নফল নামাজ আদায় করতে পারবে। তবে ইতিকাফকারীর জন্য উত্তম হলো অধিক নড়াচড়া ও নফল নামাজ না পড়া। এর প্রথম কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিজকে লুকিয়ে রাখা যায়, মসজিদের অভ্যন্তরে এমন একটি জায়গা তৈরি করে নিতেন। আর দ্বিতীয় কারণ যখন কেউ নামাজ পড়ার জায়গায় বসে থাকে তখন ফেরেশতারা তার প্রতি রহমত বর্ষণের দু‘আ করতে থাকে (বুখারী)।
৬. ইতিকাফ অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী মিলিত হওয়া, চুম্বন,স্পর্শ নিষেধ। যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :
{ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِد }
‘তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হবে না’ (সূরা আল-বাকারা : ১৮৭)।

ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদ থেকে বের হওয়া না হওয়ার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে।
এক. মানবীয় প্রয়োজনে বের হওয়ার অনুমতি আছে। যেমন পায়খানা, প্রস্রাব, পানাহার - যদি তা মসজিদে পৌঁছে দেওয়ার মত কেউ না থাকে। অনুরূপভাবে যে মসজিদে ইতিকাফ করা হচ্ছে তাতে যদি জুমার নামাজ না হয়, তাহলে জুমা আদায়ের জন্য অন্য মসজিদে যাওয়ার অনুমতি আছে।

দুই. এমন সব নেক-আমল বা ইবাদত-বন্দেগীর জন্য বের হওয়া যাবে না, যা ইতিকাফকারীর জন্য অপরিহার্য নয়। যেমন রোগীর সেবা করা, জানাজায় অংশ নেয়া ইত্যাদি। তবে যদি ইতকিাফের শুরুতে এ জাতীয় কোনো শর্ত করে নেয়া হয়, তবে তার কথা ভিন্ন।

তিন. এমন সকল কাজের জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না যা ইতিকাফ বিরোধী। যেমন ক্রয়-বিক্রয়, চাষাবাদ ইত্যাদি। ইতিকাফ অবস্থায় এ সকল কাজের জন্য মসজিদ থেকে বের হলে ইতিকাফ বাতিল হয়ে যাবে।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আমাদের সমাজে একটা অশুভ চিত্র দেখা যায়, আর তা হলো, রমজানের শুরুতে তারাবীহ নামাজের সময় মসজিদ পূর্ণ থাকে। তবে যতই দিন যেতে থাকে ততই মুসল্লীদের সংখ্যা কমে যেতে থাকে। একজন মুমিনের জন্য এভাবে হিম্মত হারা হয়ে যাওয়া আদৌ উচিত নয়। রমজানের সওগাত কুড়াতে গিয়ে অলসতা একজন খাঁটি মুমিনের আচরণ হতে পারে না। তারাবীহ নামাজে অংশ না নিয়ে অনেকেই আবার খেল-তামাশায় মত্ত হয়ে পড়ে। এটা মাহে রমাজানের পবিত্রতার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন বই অন্য কিছু নয়। যারা গাফেল তাদের সতর্ক হওয়া উচিত। যারা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুরসরণের দাবি করে তাদেরকেও সচেতন হতে হবে। শবেকদর পাওয়ার জন্য রাত জেগে মেহনত করতে হবে। নামাজে মাশগুল হতে হবে। এটা সত্যিই অবর্ণনীয় ত্র“টি ও দুর্ভাগ্য যে এমন একটি রজনীর খবর দেয়া হল যার ইবাদত তিরাশি বছর ইবাদাতের সমান। অথচ এ রজনীকে পাওয়ার জন্য ইবাদত না করে হেলাফেলায় সময় কাটিয়ে দেওয়া হল।

যে ব্যক্তি মাহে রমজানকে উদ্যম-উৎসাহে শুরু করল, পুরো রমজান কাঙ্খিত সিয়াম সাধনায় কাটানোর প্রেরণা নিয়ে শুরু করল, অথচ কিছুদূর না এগোতেই হিম্মত হারিয়ে ফেলল, এরূপ ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নিবেদিত মুমিন হতে পারে না। আমাদের পূর্বসুরীদের ব্যাপারে তো আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
{ كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ، وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ. }

‘রাতের সামান্য অংশই এরা ঘুমিয়ে কাটাতো। আর রাতের শেষ প্রহরে এরা মা চাওয়ায় রত থাকত’ (সূরা আয-যারিয়াত:১৭-১৮)।

তাঁরা রাতের অধিকাংশ ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে কাটানোর পরও কেন ইসতেগফার করতেন, আল্লাহর কাছে মা চাইতেন? আল্লাহর হক আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ত্র“টি হয়ে গেল কি না এই অনুভূতি থেকেই তাঁরা এরূপ করতেন।

মুহতারাম হাযেরীন! আসুন আমরা সেই ব্যক্তিদের মতো হই যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
{ وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ. }

‘আর যারা যা দান করে তা ভীত-কম্পিত হৃদয়ে করে থাকে এজন্য যে, তারা তাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তনশীল’ (সূরা আল মুমিনূন:৬০)।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আপনি আমি ঈমানের যে নিয়ামত পেয়েছি, তা একমাত্র আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহেই। তাই আমাদের বলা উচিত :
{ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ }
‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এর জন্য আমাদেরকে হিদায়েত দিয়েছেন। আর আমরা হিদায়েত পাওয়ার ছিলাম না, যদি না আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়েত দিতেন’ (সূরা আল-আরাফ:৪৩)।

সকল নিয়ামত আল্লাহ তাআলার প হতে এবং তিনি ইচ্ছে করলে যেকোনো নিয়ামত মুহূর্তের মধ্যে ছিনিয়ে নিতে পারেন। এমনকি আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওহীর যে নিয়ামত দিয়েছেন তাও তিনি নির্দ্বিধায় ছিনিয়ে নিতে পারেন। ইরশাদ হয়েছে :
{ وَلَئِنْ شِئْنَا لَنَذْهَبَنَّ بِالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ بِهِ عَلَيْنَا وَكِيلًا }
‘আর আমি ইচ্ছা করলে তোমার কাছে ওহীর মাধ্যমে যা পঠিয়েছি তা অবশ্যই নিয়ে নিতে পারতাম অতঃপর এ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে তোমার জন্য কোনো কর্মবিধায়ক পেতে না। (সূরা আল ইসরা:৮৬)।

তাই ইবাদত-বন্দেগী করে দম্ভ ও গর্ব করার আদৌ কোন যৌক্তিকতা নেই। বরং আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে আমল কবুল না হওয়ার আশঙ্কা রাখতে হবে। কেননা আল্লাহর পাকড়াও সম্পর্কে তিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য কেউ নিরাপত্তাবোধ করে না। আর আল্লাহ তাআলা তো কেবল মুত্তাকী ব্যক্তিদের নেক-আমলই কবুল করেন।

তাই আমাদের উচিত, মাহে রমজানের বাকি দিনগুলোতে প্রচুর মেহনত করা। আমাদের আমল কবুল হচ্ছে কি না সে ব্যাপারে হৃদয়ে শঙ্কা ও ভয় রাখা। আল্লাহ যাদের আমল কবুল করেন তাদের পর্যায়ে নিজদেরকে নিয়ে যাওয়া। এ ব্যাপারে অকান্ত পরিশ্রম ও মেহনত করে যাওয়া।

প্রিয় মুসল্লিয়ান! শবেকদরের সাক্ষাৎ পেলে আমাদের উচিত হবে, আল্লাহর কাছে অধিক পরিমাণে মা চাওয়া। আয়েশা রাযি. কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দু‘আ শিখেয়েছেন তা পড়া। অর্থাৎ:
( اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ )
‘হে আল্লাহ! আপনি অতি মাশীল, আপনি মা করা পছন্দ করেন, তাই আমাকে মা করে দিন’ (তিরমিযী, সহীহ)।

اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ وَعَنْ آلِ نَبِيِّكَ الطِّيِّبِيْنَ الطَّاهِرِيْنَ وَعَنْ أَزْوَاجِهِ أُمُّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَعَنِ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ.
ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে মাহে রমজানের হক পুরোপুরি আদায় করার তাওফীক দান করুন। রমজানের বাকি দিনগুলো যেন উত্তমভাবে কাটাতে পারি সে তাওফীক আমাদেরকে দান করুন। শেষ দশকে যেন আমাদের প্রত্যেকেই অত্যন্ত মেহনত ও পরিশ্রম করতে পারি সে তাওফীক আমাদেরকে দান করুন। ইয়া রাব্বাল আলামীন! আপনার রাসূল যেভাবে রমজান যাপন করেছেন আমাদেরকে সেভাবে রমজান যাপনের তাওফীক দান করুন। আমাদেরকে ইতিকাফ করার তাওফীক দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে লায়লাতুল কদর পাওয়ার জন্য শেষ দশকে মেহনত করার তাওফীক দান করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের আহল ও আয়াল সবাইকে আপনি মাহে রমজানের নিয়ামতসামগ্রী উত্তমরূপে হাসিলের তাওফীক দিন। মুসলিম উম্মাহর উপর থেকে সকল প্রকার বালা-মুসীবত দূর করে দিন। মুসলিম উম্মাহকে হিফাযত করুন। আমাদের শাসকদেরকে আপনি যে পথে চললে রাযি খুশী হন সে পথে চলার তাওফীক দিন। দেশের কল্যাণে, ইসলামের কল্যাণে তাদেরকে কাজ করে যাওয়ার তাওফীক দিন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।
عبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله ِ:(إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.


বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০

নসীহত ও আমানত

বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

পাঠ সংক্ষেপ
নসীহত ও আমানত: নসীহত তথা কল্যাণকামিতা হলো দীনের ভিত্তি,মৌল উপকরণ।বরং দীনের পুরোটাই হলো কল্যাণকামিতা। নসীহত হবে আল্লাহর জন্য,আল্লাহর কিতাবের জন্য, মুসলমানদের নেতা ও কর্ণধার এবং সাধারণ মুসলমানদের জন্য।মানুষ যদি উল্লিখিত বিষয়গুলোয় কল্যাণকামী হয় তবে সে তার দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে নেয়। আর যদি কোনো একটিতে অবহেলা করে তবে অবহেলার মাত্রানুযায়ী দীনকে অপূর্ণাঙ্গ রেখে দেয়। অবশ্য নসীহত তথা কল্যাণকামিতার ক্ষেত্রে একজন মুসলমানকে আমানদারিরও পরিচয় দিতে হবে সমানভাবে। কোনো মানুষকে তোষামোদের আশ্রয়ে না গিয়ে যা সত্য তা প্রকাশ করতে হবে অকুতোভয়ে।
 
প্রথম খুৎবা
اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ خَلَقَ الْخَلْقَ لِيَعْبُدُوهُ، وَأَبَانَ آيَاتِهِ لِيَعْرِفُوْهُ، وَأَرْسَلَ رُسُلَهُ وَأَنْبِيَاءَهُ نُصَحَاءَ أُمَنَاءَ لِيَعْرِفَ النَّاسُ طَرِيْقَ الْوُصُولِ إِلَيْهِ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، وَأَشْهَدُ أَنَّ نَبِيَّنَا مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوُلُهُ صَلََّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيِنِ، أَمَّا بَعْدُ :

আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী পরে

সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
মুহতারাম হাযেরীন! আজ আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা রাখব। বিষয়টি এতই জরুরী যে, প্রতিটি মুসলমান নর-নারী তার প্রতি মুখাপেক্ষী। শুধু তাই নয়, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে পূর্ণ দীন বলে অভিহিত করেছেন এবং সমস্ত নবী-রাসূল তার ওপর আমল করেছেন। বিষয়টি হলো, নসীহত বা কল্যাণকামিতা।

নসীহত কাকে বলে? এ সম্পর্কে ইমাম খাত্তাবী রহ. ও অন্যান্যরা বলেন, ‘নসীহত হলো, অন্যের ভালো চাওয়া বা কল্যাণ কামনা করা’।

প্রিয় মুসল্লিয়ান! আল্লাহ তা‘আলার একমাত্র মনোনীত দীন হলো ইসলাম। আর ইসলামের মূল ভিত্তি হলো-নসীহত। যেমন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
(الدَّيْنُ النَّصِيْحَةُ، الدَّيْنُ النَّصِيْحَةُ، الدَّيْنُ النَّصِيْحَةُ، قَالُوْا : لِمَنْ يَا رَسُوْلَ اللَّهِ؟ قَالَ : لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُوْلِهِ وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِيْنَ وَعَامَّتِهِمْ ‘)
দীন হলো নসীহত, দীন হলো নসীহত, দীন হলো নসীহত। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! নসীহত কার জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: মহান আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল, মুসলমানদের ইমাম এবং সমস্ত মুসলমানের জন্য’ (মুসলিম)।

সুতরাং যখন কোনো বান্দা হাদীসে বর্ণিত ক্ষেত্রসমূহের জন্য পরিপূর্ণরূপে নসীহত বা কল্যাণ কামনা করবে তখন তার দীন পূর্ণ হবে। আর এতে যার যতটুকু কমতি থাকবে তার দীন ততটুকু কম থাকবে।

সুপ্রিয় মুসল্লিয়ান! আল্লাহর জন্য নসীহতের অর্থ, যাবতীয় আমল একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনে আন্তরিক হওয়া। এটা এভাবে করতে হবে যে, প্রতিটি মানুষ নিজকে সত্যিকার অর্থেই আল্লাহ তা‘আলার দাস বলে মনে করবে, তাঁর যে কোনো ফয়সালা মেনে নিবে, তিনি যা দিয়েছেন তা নিয়েই তুষ্ট থাকবে, তাঁর আদেশগুলো পালন করবে ও নিষেধগুলো বর্জন করবে এবং উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই উদ্দেশ্য ও মকসুদ বানাবে কোনো অবস্থাতেই লৌকিকতা ও সুনাম-সুখ্যাতি কামনা করবে না।

আল্লাহর কিতাবের জন্য নসীহতের অর্থ
আল্লাহর কিতাবের জন্য নসীহতের অর্থ হলো, তা তিলাওয়াত করা, তাতে বর্ণিত আদেশ-নিষেধগুলো মেনে চলা, তার বিষয়সমূহের সত্যায়ন করা, ভ্রান্ত মতালম্বীদের রদবদল ও মুলহিদদের অপব্যাখ্যা থেকে তাকে রক্ষা করা এবং এ বিশ্বাস রাখা যে, এটা মহান রাব্বুল আলামীন, আল্লাহ তা‘আলা র কালাম, যা ওহীর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে।

আল্লাহর রাসূলের জন্য নসীহতের অর্থ

আল্লাহর রাসূলের জন্য নসীহতের অর্থ হলো, তাঁকে মনেপ্রাণে মহব্বত করা, জাহেরী বাতেনী উভয় দিক দিয়ে তাঁর অনুসরণ করা, তাঁর জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর তাঁকে সাহায্য করা, তাঁর বক্তব্য ও হেদায়েতকে অন্যসব বক্তব্য ও হেদায়েতের ওপর প্রাধান্য দেয়া ইত্যাদি।

মুসলমানদের ইমামের জন্য নসীহতের অর্থ
মুসলমানদের ইমাম বা শাসকগোষ্ঠির জন্য নসীহতের অর্থ হলো, তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখা, তাদেরকে ঐসব বিষয়ে সুপরামর্শ দেয়া যেসব বিষয়ে উম্মতের দীন ও দুনিয়ার ফায়দা নিহিত আছে এবং সেই সুপরামর্শ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আল্লাহর নাফরমানীর নির্দেশ না দেয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের কথা শোনা ও মানা এবং এই বিশ্বাস রাখা যে, তারা আমাদের অনুসরণীয় ব্যক্তি। কেননা এর বিপরীত করা তাদের নির্দেশাবলীর প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন এবং সীমাহীন বিভেদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বৈ কিছু নয়।

সমস্ত মুসলমানের জন্য নসীহতের অর্থ

সমস্ত মুসলমানের জন্য নসীহতের অর্থ হলো, নিজের জন্য যা পছন্দ করা হয় তা তাদের জন্য পছন্দ করা, তাদের জন্য কল্যাণের যাবতীয় দরজা খুলে দেয়া, কল্যাণের প্রতি তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা, মন্দ ও অকল্যাণের যাবতীয় পথ বন্ধ করা এবং তা থেকে তাদেরকে দূরে রাখা। পরস্পরে ভালোবাসা ও ভ্রাত্বত্বের বিনিময় করা, তাদের সৌন্দর্য ও গুণসমূহের প্রচার করা এবং দোষসমূহ গোপন রাখা। যালেম-মাযলুম উভয়কে সাহায্য করা। তা এভাবে যে, যালেমকে তার যুলম থেকে বিরত রাখা এবং মযলুমকে যুলম থেকে রক্ষা করা।

যখন কোনো সমাজ উল্লিত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে তখন সেখানে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করবে এবং সমাজের লোকজন স্বাচ্ছন্দময় ও প্রশংসনীয় জীবনযাপন করবে।

হে আল্লাহর বান্দাগণ! পূর্বের আলোচনা দ্বারা একথা পরিস্কার হয়ে গেছে যে, নসীহত বা কল্যাণকামিতা গোটা দীনকে শামিল করে। শামিল করে দীনের ছোট-বড় সকল শাখা-প্রশাখাসহ আল্লাহ ও তার বান্দাদের যাবতীয় হক বা অধিকারসমূহকে।

সুতরাং যেখানে আল্লাহর হক পদদলিত করে হারামকর্ম সম্পাদন করার দুঃসাহস দেখানো হয়, সেখানে কি আল্লাহর জন্য নসীহত থাকে?

এমনিভাবে যেখানে আমানতের খেয়ানত করা হয় এবং লেনদেনে ধোঁকা দেওয়া হয় সেখানে কি নসীহত থাকে?

অনুরূপভাবে যেখানে মুমিনদের মাঝে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ার কামনা করা হয় এবং যেখানে তাদের দোষত্র“টি ও পদস্খলন খুঁজে বেড়ানো হয় সেখানে কি নসীহত থাকে? বস্তুত যাদের মধ্যে এগুলো বিদ্যমান তারা নসীহত বা কল্যাণকামিতার গুণ থেকে বহু দূরে অবস্থান করছে।

কল্যাণকামীদের জন্য সুসংবাদ! আর ধোঁকাবাজদের জন্য আফসোস!! আল্লাহ তা‘আলা আমাকে এবং আপনাদের সবাইকে নসীহতের গুণে গুনান্বিত করুন এবং লাঞ্ছনা ও অপমানের যাবতীয় উপায়-উপকরণ থেকে হেফাযত করুন। আমীন।

কল্যাণকামী ব্যক্তিকে কল্যাণ কামনার সময় যেসব বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে

১. নসীহত যার জন্যই হোক না কেন, তাতে কোনো রিয়া বা লৌকিকতা থাকবে না। থাকবে না কোনো সুনাম বা সুখ্যাতি অর্জনের কামনা-বাসনা বরং নসীহত বা কল্যাণকামনা হবে শুধু আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে। অন্যকোনো উদ্দেশ্যে নয়। কেননা যেসব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয় না তা আল্লাহ তা‘আলা কবুল করেন না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
{وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ}
‘তাদেরকে কেবল এ নির্দেশই দেওয়া হয়েছে যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ্র ইবাদত করবে’ (সূরা বায়্যিনাহ: ৫)।

২. নসীহত হতে হবে ইলমনির্ভর। অর্থাৎ যে বিষয়ের নসীহত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে নসীহতকারীর স্পষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।

৩. নসীহতকারীকে অবশ্যই আমানতদার ও বিশ্বস্ত হতে হবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা হূদ আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:
{أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنَا لَكُمْ نَاصِحٌ أَمِينٌ ‘}
আমি তোমাদের নিকট আমার রবের পয়গাম পৌঁছে দেই। আর আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত কল্যাণকামীও বটে’ (সূরা আল আরাফ:৬৮)।

৪. শাসক-শাসিত সবার জন্য নসীহত হবে গোপনে। তবে নসীহত বা কল্যাণকামনার বিষয়টি যদি এমন হয় যে, গোপনে তা সম্পাদন করা সম্ভব নয় তখন তা প্রকাশ্যে করাতে কোনো অসুবিধা নেই। বিশেষ করে বিষয়টি যদি ইজমা তথা সকলের ঐক্যমতে প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয়ের বিরোধিতা প্রতিহত করার জন্য হয় তবে তো সেই নসীহত অবশ্যই প্রকাশ্যে করতে হবে।

৫. যার কল্যাণ কামনা করা হয় তার থেকে কল্যাণাকামীকে বেশী জ্ঞানী, মর্যাদায় বড় এবং ন্যায়পরায়ণতায় পূর্ণতাপ্রাপ্ত হওয়া জরুরী নয়।

ইমাম আহমদ ইবনে ইসহাক বলেন, ‘স্বল্পজ্ঞানী ব্যক্তি যদি অধিকজ্ঞানী ব্যক্তিকে অন্যায় কর্মে বাধা দিতে না পারত, তাহলে আমর বিল মারুফ বা সৎকাজের আদেশ করার বিষয়টি বন্ধ হয়ে যেত এবং আমরা বনী ইসরাঈলের মতো হয়ে যেতাম। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
{كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ ‘}
তারা পরস্পরকে মন্দ কাজে নিষেধ করত না, যা তারা করত’ (সূরা মায়িদা: ৭৯)।

মোটকথা, কম সম্মানী ব্যক্তি অধিক সম্মানী ব্যক্তিকে এবং পাপাচারী ব্যক্তি নেককার ব্যক্তিকেও নসীহত করতে পারবে। পারবে তাকে অন্যায় ও গর্হিত কর্ম থেকে ফিরিয়ে রাখতে এবং এসব বিষয়ে তাকে সতর্ক করতে। তবে এক্ষেত্রে তাদের ইজ্জত-সম্মানের প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, যাতে তাদের মর্যাদায় কোনো আঘাত না লাগে।

একবার হাসান বসরী রহ. এক লোককে দেখলেন যে, সে এক ব্যক্তির জানাযা পড়ে ফিরছে। হাসান বসরী রহ. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি এরূপ মনে হয় যে, লোকটি যদি পুনরায় দুনিয়ায় ফিরে আসতে পারত তবে কি সে নেক আমল করত?

লোকটি জবাবে বলল, হ্যাঁ। তখন হাসান বসরী রহ. বললেন, সে তো আর ফিরে আসতে পারবে না এবং নেকআমলও করতে পারবে না কিন্তু তুমি তো জীবিত আছ। তাই তুমি তার স্থলে পৌঁছার আগেই নেক আমল করে নাও।

আমরা যদি খুলাফায়ে রাশেদীন এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত ইমামগণের জীবনের দিকে দৃষ্টিপাত করি তাহলে দেখব যে, তাদের কোনো দোষ কেউ ধরিয়ে দিলে তারা তাতে বেশ খুশি হতেন এবং কল্যাণকামী ব্যক্তির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতেন। এটাকে তারা মোটেই খারাপ মনে করতেন না।

আবূ বকর রাযি. বলেন, কেউ আমাদের দোষ ধরে দিলে আমরা যদি তা গ্রহণ না করি তবে আমাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। আর তোমাদের মধ্যেও কোনো কল্যাণ নেই, যদি তোমরা আমাদের দোষ-ত্র“টি না ধর’।

উমর রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোনো দোষ ধরিয়ে দিল আল্লাহ তা‘আলা তার ওপর রহম করুন।
بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآن الْعَظِيْمِ وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْر ِالحْكِيْمِ, أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ إِنَّهُ هُو الْغَفُور الرَّحِيْمْ .
 
দ্বিতীয় খুৎবা
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، أَحْمَدُهُ سُبْحَانَهُ وَأَشْكُرُهُ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ نَبِيَّنَا مُحَمَّدا عَبْدُهُ وَرَسُوُلُهُ صَلَّى اللهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَىَ آَلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَىَ يَوْمِ الدِّيِنِ، أَمَّا بَعْدُ:

সুপ্রিয় মুসল্লিয়ান! আমানত একটি বিরাট দায়িত্ব ও ভারী বোঝা। তবে আল্লাহ তা‘আলা যার জন্য তা হালকা করে দেন তার কথা ভিন্ন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন
{إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَنْ يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا.}

‘নিশ্চয় আমি আসমানসমূহ, যমীন ও পর্বতমালার প্রতি এ আমানত পেশ করেছিম অতঃপর তারা তা বহন করতে অস্বীকার করেছে এবং এতে ভীত হয়েছে। নিশ্চয় সে ছিল অতিশয় যালিম, একান্তই অজ্ঞ’ (সূরা আহযাব: ৭২)।

আমানত কাকে বলে? আমানত হলো, একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তার হক ও ইবাদতসমূহ শরীয়ত সমর্থিত পন্থায় আদায় করা এবং কোনো ধরনের ত্রুটি ও কম না করে মানুষের হকসমূহ আদায় করা।

মুসলিম ভাই ও বন্ধুগণ! আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যেন আমানতকে তার নিজ নিজ হকদারের কাছে পৌঁছে দেই এবং লোকদের মাঝে ন্যায়বিচার করি। বস্তুত এ দুটি বিষয় এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, এগুলো ছাড়া আমানতের অস্তিত্বই কল্পনা করা যায় না।

প্রিয় মুসল্লিয়ান! আমরা সবাই জানি যে, আমানত রক্ষা করার এই গুরুদায়িত্ব সবখানেই আছে। আছে প্রতিটি জিনিসের মধ্যে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
(كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْؤُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَالْإِمَامُ رَاعٍ، وَهُوَ مَسْؤُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِيْ أَهْلِهِ، وَهُوَ مَسْؤُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِيْ بَيْتِ زَوْجِهَا، وَهِيَ مَسْؤُوْلَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا ، وَالْخَادِمُ رَاعٍ فِيْ مَالِ سَيِّدِهِ، وَهُوَ مَسْؤُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِيْ مَالِ أَبِيْهِ وَهُوَ مَسْؤُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَكُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْؤُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ)
‘ সরকারপ্রধান বা আমীর তার প্রজাদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। সে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। সে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরে দায়িত্বশীল। সেও তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। খাদেম তার মনিবের সম্পদে দায়িত্বশীল। সে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। ব্যক্তি তার পিতার সম্পদে দায়িত্বশীল। সে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে’ (বুখারী)।

প্রিয় মুসল্লিয়ান! আমানতের বিষয়টি কেবল অর্থ-সম্পদ আদায় ও অঙ্গীকার পূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ।

আমানত হচ্ছে- তাওহীদের বৃক্ষ, ঈমানের ফল, হিজরতকারীদের জন্য ছায়া এবং মুসাফিরের জন্য পাথেয় স্বরূপ। এটা মূল্যবান মোতি, স্বচ্ছ মণি এবং দক্ষ কারীগরের হাতে নির্ভেজাল খনি সদৃশ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
(إِنَّ الْأَمَانَةَ نَزَلَتْ فِيْ جَذْرِ قُلُوْبِ الْرِّجَالِ ثُمَّ عَلِمُوْا مِنْ الْقُرْآنِ ثُمَّ عَلِمُوْا مِنْ السُّنَّةِ)
‘নিশ্চয় আমানত প্রথমে মানুষের হৃদয়ের মনিকোঠায় অবর্তীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তারা তাকে কুরআন থেকে শিখেছে, তারপর শিখেছে হাদীস থেকে’ (বুখারী)

আমানত হলো, আল্লাহ তা‘আলার বিধি-বিধানকে মানবজীবনের প্রতিটি অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:
{الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ}
‘তারা এমন যাদেরকে আমি যমীনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে’ (সূরা আল-হজ্জ: ৪১)।

নামায একটি আমানত। যখন কোনো ব্যক্তি নামায নষ্ট করে তখন সে নামায ছাড়া অন্যান্য আমলকে আরো বেশি নষ্ট করবে।

ইমাম যুহরী রহ. বলেন, একদা আমি দামেস্কে আনাস ইবনে মালিক রাযি. এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। দেখলাম, তিনি অঝোরে কাঁদছেন। আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম, কেন কাঁদছেন?

জবাবে তিনি বললেন, এখানে আমি নামায ছাড়া অন্য কোনো আমল ঠিকঠাক মতো কাউকে করতে দেখিনি। আজ দেখছি তাও নষ্ট হয়ে গেছে। অর্থাৎ লোকজন এখন নামায ও ঠিকমত আদায় করছে না (বুখারী)।

যাকাতও আমানত। আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. যাকাত প্রদানে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং তাদেরকে মুরতাদ বা ধর্মত্যাগী বলে আখ্যায়িত করেন।

রোযা , হজ্ব, মানুষদেরকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা, সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্য করা এবং জীবনের শেষদিন পর্যন্ত দীনের ওপর অটল থাকাও আমানত। পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ, মুসলমানদের ধন-সম্পদ হিফাযত করা এবং অন্যের মান-সম্মান রক্ষা করাও আমানত। অধিকার সংরক্ষণের শক্তিও এক প্রকার আমানত। যেমন বাদশাহ ইউসুফ আলাইহি সালামকে বলেছিলেন:
{إِنَّكَ الْيَوْمَ لَدَيْنَا مَكِينٌ أَمِينٌ، قَالَ اجْعَلْنِي عَلَى خَزَائِنِ الْأَرْضِ إِنِّي حَفِيظٌ عَلِيمٌ}
‘ নিশ্চয় আজ আপনি আমাদের নিকট মর্যাদাবান ও আস্থাভাজন। সে বলল, আমাকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের দায়িত্ব দিন, নিশ্চয় আমি যথাযথ হিফাযতকারী, সুবিজ্ঞ’ (সূরা ইউসুফ: ৫৪-৫৫)।

নবী শুয়াইব আলাইহিস সালামের কন্যা মূসা আলাইহিস-সালাম সম্পর্কে বলেছিলেন :
{يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ}
‘ হে আমার পিতা! আপনি তাকে মজুর নিযুক্ত করুন। নিশ্চয় আপনি যাদেরকে মজুর নিযুক্ত করবেন তাদের মধ্যে সে উত্তম, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত’ (সূরা কাসাস: ২৬)।

প্রতিটি মানুষকে তার নিজ নিজ মর্যাদা অনুযায়ী সম্মান করা, তাদের হক আদায়ে ত্র“টি না করা এবং সকলের সাথে ন্যায়ানুগ আচরণ করাও আমানত। ইরশাদ হয়েছে
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى}
‘ হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাথে সাক্ষ্যদানকারী হিসেবে সদা দণ্ডায়মান হও। কোনো কওমের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে কোনোভাবে প্ররোচিত না করে যে, তোমরা ইনসাফ করবে না। তোমরা ইনসাফ কর, তা তাকওয়ার নিকটতর’ (সূরা মায়িদা: ৮)।

আল্লাহর একত্ববাদে সাক্ষ্য দেয়া, মুসলমানদের কল্যাণ কামনা করা এবং হক বা সত্য বিষয় বর্ণনা করাও আমানত।

অতএব, হে আল্লাহর বান্দাগণ! আল্লাহকে ভয় করুন। একে অপরের কল্যাণ কামনা করুন। কেননা কল্যাণকামিতার নামই হলো দীন। যে জাতির মধ্যে পরস্পর কল্যাণ কামনার নিয়ম চালু নেই, সে জাতির কোনো উন্নতি ও কল্যাণ নেই। আমানতকে তার হকদারের কাছে পৌঁছে দিন। মনে রাখবেন, আল্লাহ তা‘আলা আপনাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

কেবল নিজকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য মানুষের জন্ম নয় বরং মানব জন্মের উদ্দেশ্য হলো, সে নিজের কল্যাণ চিন্তার পাশাপাশি অন্যের কল্যাণও মনেপ্রাণে কামনা করবে।

প্রিয় মুসল্লিয়ান! আজকের আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তই গ্রহণ করতে পারি যে, আমরা আজ থেকে কেবল নিজের কল্যাণ-চিন্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকবো না বরং আমার পরিবারের, আমার সমাজের, আমার দেশের এমনকি সমগ্র বিশ্বের প্রতিটি মানুষের কল্যাণের জন্য যথাসাধ্য সব কিছুই করব। আমরা এর জন্য জান দেব, মাল দেব, সময় দেব। নিজের জ্ঞান ও মেধা খরচ করে অবিরত চিন্তা করে যাব-কিভাবে তাদের মঙ্গল সাধনা করা যায়। কিভাবে তাদের মুখে হাসি ফুটানো যায়। কিভাবে তাদের দঃখ-দুর্দশা লাঘব করা যায়। যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমরা এ কাজটি আনজাম দিয়ে যেতে পারি তাহলে পদে পদে আমরা আল্লাহর সাহায্য ও মদদ প্রাপ্ত হবো। এতে কোনো সন্দেহ নেই। উপরন্তু ইহকালীন শান্তি, সুখ, সম্মান ও পরকালীন অফুরন্ত নেয়ামত তো আছেই।

اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ، صَاحِبِ الْوَجْهِ الْأَنْوَرِ، وَالْجَبِيْنِ الْأَزْهَرِ، وَارْضَ اَللَّهُمَّ عَنِ الْأَرْبَعَةِ الْخُلَفَاءِ أَبِيْ بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ وَعَلِيٍّ، وَعَنْ سَائِرِ أَصْحَابِ نَبِيِّكَ أَجْمَعِيْنَ، وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَىَ يَوْمِ الْدِّيِنِ

হে করুণাময় আল্লাহ! আপনি আমাদের শক্তি দিন, সাহস দিন, অন্যের মঙ্গলসাধন করার জন্য খাঁটি মনে পাক্কা এরাদা করার তাওফীক দিন।

হে দয়াময় রব! যারা দীনে মুহাম্মদীর সাহায্যকারী, আপনি তাদেরকে সাহায্য করুন এবং আমাদেরকে সেই দলের অন্তর্ভুক্ত করুন। আর যারা দীনে মুহাম্মদীকে অপমান ও অপদস্থ করতে চায়, তাদেরকে হিদায়েত করুন। তাদের ষড়যন্ত্র থেকে আমাদের ঈমান ও আমলকে হিফাযত করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে সকল প্রকার বালা-মুসিবত ও বিপদ-আপদ থেকে হিফাযত করুন। আপনি আমাদের নামায , রোযাসহ ছোট বড় প্রতিটি আমল আপনার শান মোতাবেক কবুল করে নিন।

عِبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله ِ: (إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالمْنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ


ভূমি থেকে উৎপন্ন খাদ্যশস্য ও খনিজদ্রব্য ও গুপ্তধন এর যাকাত

বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

ভূমি থেকে উৎপন্ন বস্তু
যা ভূমি থেকে উৎপন্ন হয় এবং উপকারে আসে।
প্রথমত: শস্য ও ফলফলাদি
খাদ্যশস্য

ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেয়া যায় এমনসব খাদ্যশস্য, যেমন যব, গম, ধান ইত্যাদি।

ফল
ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেয়া যায় এমনসব ফল, যেমন খেজুর, কিশমিশ ও কাঠবাদাম
খাদ্যশস্য ও ফলের যাকাত প্রদানের হুকুম খাদ্যশস্য ও ফলের যাকাত প্রদান করা ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
(এবং ফল কাটার দিনই তার হক আদায় করে দাও)
[ সূরা আলআনআম: ১৪১]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘যা আকাশ অথবা ঝর্নার পানি দ্বারা উৎপন্ন অথবা যা সেচ ব্যতীতই উৎপন্ন তাতে ১০% এবং যা নিজেদের শ্রম ব্যয় করে সেচ দেয়া হয়েছে তাতে ৫% যাকাত দিতে হবে।’(র্বণনায় বুখারী )
খাদ্যশস্য ও ফলে যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তাবলী

১ - তা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষিত হতে হবে। সে হিসেবে যদি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষিত না হয় অথবা নিত্যদিনের খাবারে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তাতে যাকাত ফরজ হবে না। কেননা যা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা যায় না, তা সম্পদ হওয়ার বৈশিষ্ট্যে পুরোপুরি উত্তীর্ণ হয় না।

২ - পরিমাপ-পাত্র দিয়ে মাপার উপযোগী হতে হবে। অর্থাৎ এমন হতে হবে যা মেপে ওসকের হিসাব বের করা যায়; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘খাদ্যশস্য অথবা খেজুরে পাঁচ ওসকের নিচে যাকাত নেই।’(বর্ণনায় মুসলিম)আর যদি পরিমাপ-পাত্র দিয়ে মাপা না যায়, যেমন শাকসবজি, শিম, মটরশুঁটি ইত্যাদি তবে এগুলোতে যাকাত ফরজ হবে না।

৩ - বস্তুটি এমন হতে হবে যা মানুষ উৎপন্ন করে। সে হিসেবে যা নিজে নিজে উৎপন্ন হয় তাতে যাকাত নেই।
৪ - নিসাব পরিমাণ হওয়া:
এ ক্ষেত্রে নিসাব হলো পাঁচ ওসক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
‘খাদ্যশস্য অথবা খেজুরে পাঁচ ওসকের নিচে যাকাত নেই।’(বর্ণনায় মুসলিম) ‘খাদ্যশস্য অথবা খেজুরে পাঁচ ওসকের নিচে যাকাত নেই।’।
শর্ত নয়
খাদ্যশস্য ও ফলের যাকাতে এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া শর্ত নয়। এর প্রমাণ আল্লাহ তাআলার বাণী:
(وَءَاتُواْ حَقَّهُۥ يَوۡمَ حَصَادِهِۦۖ ) [الأنعام:141]
{এবং তোমরা ফল কাটার দিনই তার হক আদায় করে দাও} [ সূরা আল আনআম: ১৪১]
খাদ্যশস্য ও ফলের যাকাত ফরজ হওয়ার সময়

খাদ্যশস্য যখন শক্ত হয়ে ব্যবহারোপযোগী হয় আর ফল যখন পরিপক্ক হয়ে খাওয়ার উপযোগী হয় তখন তাতে যাকাত ফরজ হয়ে যায়। অতএব যদি কেউ যাকাত ফরজ হওয়ার পর খাদ্যশস্য বা ফল বিক্রি করে দেয়, তবুও তার কাঁধে যাকাত দেয়ার দায়িত্ব বহাল থেকে যাবে; কেননা যাকাত ফরজ হওয়ার সময় সে তার মালিক ছিল।
খাদ্যশস্য ও ফলে ফরজ হওয়া যাকাতের পরিমাণ

১ - বিনা পরিশ্রমে বৃষ্টি অথবা ঝর্নার পানির প্রাকৃতিক সেচে উৎপন্ন ফসলে যাকাতের পরিমাণ হলো উশর তথা (১০%)।
২ - শ্রমনির্ভর সেচ, যেমন কূপ ইত্যাদি থেকে পানি এনে সেচ দেয়া সাপেক্ষে যে ফসল উৎপন্ন হয় তাতে যাকাতের পরিমাণ হলো (৫%)।
৩ - আর উভয় ধরনের সেচ অর্থাৎ কখনো প্রাকৃতিক ও কখনো শ্রমনির্ভর সেচের মাধ্যমে উৎপন্ন ফসলে যাকাতের পরিমাণ হলো (৭.৫%)।
এর দলিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস, ‘যা আকাশ, নদী ও ঝর্না দ্বারা সেচকৃত তাতে উশর(১০%) এবং যা কূপ থেকে সেচ দেয়া হলো তাতে অর্ধ-উশর(৫%)।’(বর্ণনায় মুসলিম)
খাদ্যশস্য ও ফল ধ্বংস হয়ে যাওয়া

যদি খাদ্যশস্য ও ফল ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো কারসাজি বা হস্তক্ষেপ ব্যতীত ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে যাকাত রহিত হয়ে যাবে। কিন্তু যদি যাকাত ফরজ হওয়ার পর ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো কারসাজি বা হস্তক্ষেপের ফলে ধ্বংস হয় তবে যাকাত রহিত হবে না। বরং তা বলবৎ থাকবে।
মাসায়েল

১ - মধুর যাকাত নেই; কেননা এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোনো নির্দেশ আসেনি। তবে যদি কেউ স্বেচ্ছায় যাকাত প্রদান করে তবে তা উত্তম হবে এবং তা মৌমাছি ও মধু বেড়ে যাওয়ার কারণ হবে। কিন্তু তা বাধ্যতামূলক নয়, যা পরিত্যাগ করলে কেউ গুনাহগার হবে।

২ - যে ব্যক্তি অন্যকারও ভূমি ভাড়া নিল এবং তাতে ফল উৎপন্ন করল, এমতাবস্থায় ভাড়াটে ব্যক্তির ওপর যাকাত ফরজ হবে, মূল মালিকের ওপর নয়।

৩ - যাকাত হিসেবে সরাসরি দ্রব্য না নিয়ে তার মূল্য নেওয়াও বৈধ রয়েছে। বরং প্রয়োজন ও জনস্বার্থের বিবেচনায় তাই হবে শরীয়তসিদ্ধ।
 
খনিজদ্রব্য ও গুপ্তধন

খনিজদ্রব্য

ভূমিজাত নয়, এমন যে দ্রব্যসমূহ ভূমি থেকে বের করা হয়, যেমন সোনা- রুপা, লোহা, সীসা এবং এ ধরনের অন্যান্য কাচামাল।

গুপ্তধন
অর্থাৎ মানুষ কর্তৃক ভূমিতে গচ্ছিত কোনো দ্রব্য, যেমন সোনা-রুপা ইত্যাদি।
খনিজদ্রব্য ও গুপ্তধনের যাকাতের হুকুম

এ সবের যাকাত দেয়া ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন :
(يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَنفِقُواْ مِن طَيِّبَٰتِ مَا كَسَبۡتُمۡ وَمِمَّآ أَخۡرَجۡنَا لَكُم مِّنَ ٱلۡأَرۡضِۖ٢٦٧ )[البقرة:267]
{হে মুমিনগণ, তোমরা ব্যয় কর উত্তম বস্তু, তোমরা যা অর্জন করেছ এবং আমি জমিন থেকে তোমাদের জন্য যা উৎপন্ন করেছি তা থেকে} [সূরা আল বাকারা:২৬৭]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘গুপ্তধনে খুমুস (২০%) প্রদেয়।
গুপ্তধনের যাকাতের শর্তাবলী গুপ্তধনের যাকাতের কোনো শর্ত নেই। যদি কোনো ব্যক্তি তার মালিক হয়ে থাকে তবে সরাসরি সে তার যাকাত প্রদান করবে।
খনিজদ্রব্য ও গুপ্তধনের যাকাতের পরিমাণ এ জাতীয় দ্রব্য অল্প হোক বেশি হোক তাতে খুমুস তথা ২০% যাকাত প্রদেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী ‘গুপ্তধনে একপঞ্চমাংশ প্রদেয়’ এর প্রতিই নির্দেশ করে।



ইসলামিক বই- পোশাক পর্দা ও দেহ-সজ্জা

বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
পোশাক পর্দা ও দেহ-সজ্জা
লেখকঃ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
প্রকাশনীঃ আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স




লায়লাতুল কদর নামকরণের কারণ কি? বিস্তারিত আলোচনা!

বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে


- কদরের এক অর্থ সম্মান ইরশাদ হয়েছে :
(وَمَا قَدَرُواْ ٱللَّهَ حَقَّ قَدۡرِهِۦٓ ){আর তারা আল্লাহকে যথার্থ সম্মান দেয়নি}[ সূরা আল আনআম:৯১]
সে হিসেবে লায়লাতুল কদর অর্থ হবে সম্মানিত রাত; কেননা রাতে কুরআন নাযিল হয়েছে, রাতে ফেরেশতাগণ নেমে আসেন এবং রাতে রবকত-রহমত-মাগফিরাত নাযিল হয়

- কদরের আরেক অর্থ সংকীর্ণকরণ, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
(وَمَن قُدِرَ عَلَيۡهِ رِزۡقُهُۥ فَلۡيُنفِقۡ مِمَّآ ءَاتَىٰهُ ٱللَّهُۚ )
{আর যার রিয্ক সংকীর্ণ করা হয়েছে সে যেন আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা হতে ব্যয় করে} [ সূরা আত-তালাক:]
লায়লাতুল কদরের ক্ষেত্রে সংকীর্ণকরণের অর্থ হবে লায়লাতুল কদর সংঘটিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ গোপন করে রাখা

- কাদ্র কাদার থেকেও উৎকলিত হতে পারে, যার অর্থ হবে রাতে আল্লাহ তাআলা সে বছরের সকল আহকাম নির্ধারণ করেন আল্লাহ তাআলা বলেন:
(يُفۡرَقُ كُلُّ أَمۡرٍ حَكِيمٍ )
{সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়} [সূরা আদ-দুখান:]

লায়লাতুল কদরের ফজিলত মর্যাদা
- লায়লাতুল কদরেই পবিত্র কুরআন নাযিল করা হয়েছে

আল্লাহ তাআলা বলেন :
(إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةِ ٱلۡقَدۡرِ)
{নিশ্চয় আমি এটি নাযিল করেছিলাইলাতুল কদরে}[ সূরা আল কাদ্র:]

- লায়লাতুল কদর হাজার মাস থেকেও উত্তম
আল্লাহ তাআলা বলেন:
(لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ )
{লায়লাতুল কদর এক হাজার মাস থেকে উত্তম} [সূরা আল-কাদ্র:] অর্থাৎ লায়লাতুল কদরে আমল করা লায়লাতুল কদরের বাইরে এক হাজার মাস আমল করার চেয়েও উত্তম

- লায়লাতুল কদরে ফেরেশতা জিব্রীল এর অবতরণ

আল্লাহ তাআলা বলেন:
(تَنَزَّلُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذۡنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمۡرٖ )
{সে রাতে ফেরেশতারা রূহ (জিব্রীল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে}[ সূরা আল কাদ্র:]

আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘লায়লাতুল কদর হলো সাতাশ তারিখ অথবা ঊনত্রিশ তারিখের রাত, আর ফেরেশতাগণ রাতে পৃথিবীতে কঙ্করের সংখ্যা থেকেও বেশি থাকেন
- লায়লাতুল কদর হলো শান্তির রাত
আল্লাহ তাআলা বলেন :
(سَلَٰمٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطۡلَعِ ٱلۡفَجۡرِ ٥ )
{শান্তিময় সেই রাত, ফজরের সূচনা পর্যন্ত}[ সূরা আল কাদ্র:]
অর্থাৎ লায়লাতুল কদরের পুরোটাই ভালো, এর শুরু থেকে সুবেহ সাদেক পর্যন্ত আদৌ কোনো অনুত্তম বিষয় নেই

- লায়লাতুল কদর মুবারক রাত
আল্লাহ তাআলা বলেন:
(إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةٖ مُّبَٰرَكَةٍۚ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ ٣ )
{নিশ্চয় আমি এটি নাযিল করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী}
[ সূরা আদ-দুখান:]

উক্ত আয়াতেলায়লাতুম্ মুবারাকা’- এর অর্থ ইবনে আব্বাস রাযি. এর নিকটলায়লাতুল কদর - রাতে এক বছরের সকল প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়

আল্লাহ তাআলা বলেন:
(فِيهَا يُفۡرَقُ كُلُّ أَمۡرٍ حَكِيمٍ )
{সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়} [ সূরা আদ-দুখান:]

- যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করবে তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করল, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হলো’(বর্ণনায় ইবনে খুযায়মাহ)
কোন রাত লায়লাতুল কদর?

আল্লাহ তাআলা রাতকে গোপন করে রেখেছেন, যাতে মুসলিম ব্যক্তি রমজানের শেষ দশদিনে অধিক শ্রম ব্যয় করে, বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলোয় আর সেগুলো হলো ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ২৯ তারিখের রাত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশের বেজোড় রাতগুলোতে লায়লাতুল কদর অনুসন্ধান করো’(বর্ণনায় বুখারী মুসলিম)

আলেমদের কেউ কেউ বিভিন্ন দলিলের মাধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে বলেছেন, রাতগুলোর একেকটায় একেক সময় লায়লাতুল কদর সংঘটিত হয়ে থাকে(বর্ণনায় বুখারী মুসলিম)

লায়লাতুল কদরে যেসব আমল মুস্তাহাব
- ইতিকাফ : রমজানের শেষ দশকের পুরোটাতেই ইতিকাফ করতে হয়, শুধু লায়লাতুল কদরে নয় আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন
(বর্ণনায় বুখারী মুসলিম)

- ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাসসহ আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাসসহ আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করল, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হলো’(বর্ণনায় বুখারী মুসলিম)

- দুআ : আয়েশা রাযি. বলেন,‘ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যদি লায়লাতুল কদর পাই তবে কি দুআ করব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলো,‘ اللهم إنك عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُ الْعَفْوَ، فاعْفُ عَنِّي অর্থাৎ হে আল্লাহ, আপনি অতি ক্ষমাশীল দয়ালু, আপনি ক্ষমা করাকে পছন্দ করেন, তাই আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন
লায়লাতুল কদরের আলামত
- রাত বেশি ঠাণ্ডাও হয় না, বেশি গরমও হয় না, বরং তা হয় উজ্জ্বল
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে লায়লাতুল কদর দেখানো হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে রাত হলো রমজানের শেষ দশদিনের রাতগুলোয় রাত হলো মুক্ত উজ্জ্বল, যা ঠাণ্ডাও না গরমও না’(বর্ণনায় তিরমিযী)

- লায়লাতুল কদর শেষে সকালের সূর্য আলোকরশ্মি ব্যতীত সাদা হয়ে উদিত হয়
উবায় ইবনে কা রাযি. কে যখন লায়লাতুল কদরের আলামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় তখন তিনি বলেছেন,‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে নিদর্শনের কথা বলেছেন, তার দ্বারা আমরা লায়লাতুল কদর চিনতে পারি, অর্থাৎ ওইদিন সূর্যোদয় হয় রশ্মিবিহীন আকারে’ (বর্ণনায় ইবনে খুযায়মাহ)

সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, ‘আলোকরশ্মিবিহীন সাদা আকারে’ (বর্ণনায় তিরমিযী)



ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png