শিরোনাম
Loading latest headlines...

শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০

৪৬ নাম্বার সুরা , ১৫ নাম্বার আয়াত বাচ্ছাদের ৩০মাস দুদ খাওয়াইতে বলা হয়েছে

শনিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
সুরা আহক্বাফ ৪৬:১৫

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا حَتَّى إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্টসহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন শক্তি-সামর্ থে?র বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌছেছে, তখন বলতে লাগল, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে আমি তোমার নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি। আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর, আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম। [ সুরা আহক্বাফ ৪৬:১৫ ]




বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০

প্রশ্ন একই পশু কোরবানী ও আকিকার নিয়তে জবাই করা কি জায়েয হবে?

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
প্রশ্ন একই পশু কোরবানী ও আকিকার নিয়তে জবাই করা কি জায়েয হবে?

উত্তর
আলহামদুলিল্লাহ।
যদি কোরবানী ও আকিকা একত্রে পড়ে এবং কোন ব্যক্তি যদি ঈদের দিন তার সন্তানের আকিকা দিতে চান বা তাশরিকের দিনগুলোতে আকিকা দিতে চান তাহলে কোরবানীর পশু কি আকিকা হিসেবে যথেষ্ট হবে?

এ মাসয়ালায় আলেমগণের দুইটি অভিমত রয়েছে:
প্রথম অভিমত: কোরবানীর পশু আকিকা হিসেবে জায়েয হবে না। এটি মালেকী, শাফেয়ি ও এক বর্ণনা মতে, ইমাম আহমাদের অভিমত।

এ মতাবলম্বীদের দলিল হল: আকিকা ও কোরবানী উভয়টি সত্তাগতভাবে উদ্দিষ্ট। এ কারণে একটি অপরটির পক্ষ থেকে জায়েয হবে না। তাছাড়া যেহেতু প্রত্যেকটির বিশেষ কারণ রয়েছে, যে কারণদ্বয় ভিন্ন ভিন্ন। তাই একটি অপরটির স্থলাভিষিক্ত হবে না। যেভাবে ফিদিয়া-র দম (পশু) তামাত্তু-এর দম (পশু) এর স্থলাভিষিক্ত হয় না।

হাইতামি 'তুহফাতুল মুহতাজ শারহুল মিনহাজ' গ্রন্থে (৯/৩৭১) বলেন: "আমাদের মাযহাবের আলেমগণের উক্তির বাহ্যিক মর্ম হল, যদি একটি ভেড়া দিয়ে কোরবানী ও আকিকার নিয়ত করা হয় তাহলে দুইটার কোনটা আদায় হবে না। এটি সুস্পষ্ট বিষয়। যেহেতু এ দুটোর প্রত্যেকটি উদ্দিষ্ট সুন্নত।"[সমাপ্ত]

আল-হাত্তাব (রহঃ) 'মাওয়াহিবুল জালিল' গ্রন্থে (৩/২৫৯) বলেন: "কেউ যদি তার কোরবানীর পশু কোরবানী হিসেবে ও আকিকা হিসেবে জবাই করে কিংবা ভোজ হিসেবে খাইয়ে দেয়: 'যাখিরা' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'আল-কাবাস' গ্রন্থাকার বলেন: আমাদের শাইখ আবু বকর আল-ফিহরি বলেন: যদি তার কোরবানীর পশুকে কোরবানী ও আকিকা হিসেবে জবাই করে তাহলে জায়েয হবে না। আর যদি ভোজ হিসেবে খাইয়ে দেয় তাহলে জায়েয হবে। এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য হল­­­­­: প্রথম দুইটির ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হচ্ছে রক্তপাত করা। তাই দুইটি পশুর রক্তপাতের বদলে একটি পশুর রক্তপাত জায়েয হবে না। আর ভোজের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হচ্ছে খাওয়ানো। এটি রক্তপাতের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তাই দুটো নিয়ত একত্রিত হওয়া সম্ভব।"[সমাপ্ত]

দ্বিতীয় অভিমত: কোরবানীর পশু আকিকা হিসেবেও যথেষ্ট হবে। এটি হানাফি মাযহাবের অভিমত এবং এক বর্ণনা মতে, এটি ইমাম আহমাদের অভিমত। তাছাড়া এটি হাসান বসরি, মুহাম্মদ বিন সিরিন ও কাতাদা প্রমুখের অভিমত।

এ মতাবলম্বীদের দলিল হচ্ছে­‑
এ দুটো আমলের মাধ্যমে উদ্দেশ্য হচ্ছে পশু জবাই করার মাধ্যমে আল্লাহ্‌র নৈকট্য হাছিল করা। তাই একটি অপরটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। যেমনিভাবে তাহিয়্যাতুল মাসজিদ (মসিজদে প্রবেশের নামায) ফরয নামাযের মধ্যে ঢুকে যেতে পারে।

ইবনে আবু শাইবা (রহঃ) "আল-মুসান্নাফ" গ্রন্থে (৫/৫৩৪) বলেন: হাসান থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন: কেউ যদি ছেলের পক্ষ থেকে কোরবানী করে তাহলে সেটা আকিকা হিসেবে যথেষ্ট হবে।
হিশাম ও ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত আছে তারা উভয়ে বলেন: তার পক্ষ থেকে কোরবানী করলে সেটা আকিকা হিসেবে যথেষ্ট হবে।

কাতাদা থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন: আকিকা হিসেবে জবাই করা না হলে সেটা যথেষ্ট হবে না।

আল-বুহুতি (রহঃ) "শারহু মুনতাহাল ইরাদাত" গ্রন্থে (১/৬১৭) বলেন: "যদি আকিকার সময় ও কোরবানীর সময় একত্রে পড়ে; অর্থাৎ কোরবানীর দিনগুলোতে শিশু জন্মের সপ্তম দিন বা অনুরূপ কোন দিন পড়ে এবং তার আকিকা করা হয় তাহলে সেটা কোরবানী হিসেবে যথেষ্ট হবে। কিংবা যদি কোরবানী করা হয় তাহলে সেটা আকিকা হিসেবে যথেষ্ট হবে। যেমনিভাবে যদি ঈদের দিন ও জুমার দিন একই দিনে পড়ে তখন একটার জন্য গোসল করলে অপরটার গোসল হিসেবে যথেষ্ট হবে এবং যেমনিভাবে তামাত্তু হজ্জকারী কিংবা ক্বিরান হজ্জকারী যদি কোরবানীর দিন একটি ভেড়া জবাই করে সেটা হজ্জের ফরয হাদি ও কোরবানী হিসেবে যথেষ্ট হবে।"[সমাপ্ত]

তিনি "কাশ্শাফুল ক্বিনা" গ্রন্থে (৩/৩০) আরও বলেন: "যদি আকিকা ও কোরবানী একই সময়ে পড়ে এবং একটি পশু জবাই করার মাধ্যমে উভয়টির তথা আকিকা ও কোরবানীর নিয়ত করা হয় তাহলে উভয়টি আদায় হয়ে যাবে‑ ইমাম আহমাদের সুস্পষ্ট উক্তির আলোকে।"[সমাপ্ত]

এ অভিমতটি শাইখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম (রহঃ)ও মনোনীত করেছেন। তিনি বলেন: যদি কোরবানী ও আকিকা একত্রে পড়ে এবং পরিবারের কর্তার কোরবানী করার দৃঢ় সংকল্প থাকে এবং তিনি পশু জবাই করেন তাহলে এ পশু কোরবানীর পশু এবং এর মধ্যে আকিকাও ঢুকে পড়বে।

এক্ষেত্রে কিছু কিছু আলেমের কথায় পাওয়া যায় যে, উভয় জবাই একই ব্যক্তির পক্ষ থেকে: অর্থাৎ কোরবানী ও আকিকা নবজাতকের পক্ষ থেকে হতে হবে। আর কিছু কিছু আলেমের মতে, তা শর্ত নয়। যদি পিতা কোরবানী করেন তাহলে কোরবানী পিতার পক্ষ থেকে, আর আকিকা ছেলের পক্ষ থেকে।

সারকথা: যদি কোরবানীর পশুকে কোরবানী ও আকিকার নিয়তে জবাই করা হয় তাহলে সেটা জায়েয হবে।[সমাপ্ত]
[ফাতাওয়াস শাইখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম (৬/১৫৯)]
 আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০

কোরবানীর ও আকিকা

বুধবার, জানুয়ারি ২২, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

কোরবানীর সময় হলো যিলহজ্বের ১০ তারিখ হতে ১২ তারিখ পর্যন্ত অর্থাৎ তিনদিন দুই রাত।
ঈদের সালাত আদায় ও খুতবা শেষ হওয়ার পর পশু যবেহ করা। কেননা হাদীসে এসেছে, জুনদুব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ النَّحْرِ ثُمَّ خَطَبَ ثُمَّ ذَبَحَ»
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন সালাত আদায় করলেন অতঃপর খুতবা দিলেন তারপর পশু যবেহ করলেন।” [সহীহ আল-বুখারী: ৯৮৫]
হুজূর আকরম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বয়ং তাঁর মৃত উম্মতের পক্ষ থেকে কোরবানি করেছেন। তাই এটা তার জন্য সৌভাগ্যের বিষয় হবে যার পক্ষে সম্ভব হুজূরে করীমের জন্য কোরবানি করা।
গরু, উট দ্বারা কোরবানী করলে নফল হিসেবে একভাগ প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’র জন্যে কোরবানি দেয়া অনেক উত্তম।

কোরবানির পশুর বয়সঃ
কোরবানির ছাগল কমপক্ষে একবছর, গরু দুই বছর এবং উট পাঁচ বছর হতে হবে। কোরবানির জন্য সুন্দর ও নিখুঁত পশু বাছাই করা উত্তম। যেসব পশু অন্ধ, খোঁড়া এবং জবেহ করার স্থানে যেতে অক্ষম, লেজ, শিং কিংবা কান কাটা বা ভাঙ্গা বা দুর্বল ইত্যাদি কোরবানীর পশু কোরবানির উপযুক্ত নয়।

কোরবানির পশু জবেহ করার নিয়মঃ
কোরবানিদাতা নিজের কোরবানির পশু নিজেই জবেহ করবেন, যদি তিনি ভালোভাবে জবেহ করতে পারেন। কেননা, রাসূলুল্লাহ [সা.] নিজে কোরবানির পশু জবেহ করেছেন। আর জবেহ করা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের একটি মাধ্যম । তাই প্রত্যেকের নিজের কোরবানি নিজে জবেহ করার চেষ্টা করা উচিত।
ইমাম বুখারি (রাহ.) বলেছেন, সাহাবি আবু মুসা আশআরী [রা.] নিজের মেয়েদের নির্দেশ দিয়েছেন তারা যেন নিজ হাতে নিজেদের কোরবানির পশু জবেহ করেন। (ফাতহুল বারী, ১০/১৯)। তার এ নির্দেশ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মেয়েরা কোরবানির পশু জবেহ করতে পারেন।

কোরবানির পশু জবেহ করার দায়িত্ব অন্যকে অর্পণ করা জায়েয আছে।
সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে রাসূলুল্লাহ [সা.] তেষট্টিটি কোরবানির পশু নিজ হাতে জবেহ করে বাকিগুলো জবেহ করা দায়িত্ব আলী [রা.] কে অর্পণ করেছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১২১৮)।তবে জবেহ্’র সময় নিজে সামনে থাকা উত্তম।

কুরবানীর পশু যবেহ করার সময় তার সাথে সুন্দর আচরণ করতে হবে। তাকে আরাম দিতে হবে। যাতে পশু কষ্ট না পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
হাদীসে এসেছে, শাদ্দাদ ইবন আউস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«ثِنْتَانِ حَفِظْتُهُمَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ فَإِذَا قَتَلْتُم فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذَّبْحَ وَلْيُحِدَّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَهُ فَلْيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ»
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দু’টি বিষয় আমি মুখস্থ করেছি, তিনি বলেছেন : আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সকল বিষয়ে সকলের সাথে সুন্দর ও কল্যাণকর আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব তোমরা যখন হত্যা করবে তখন সুন্দরভাবে করবে আর যখন যবেহ করবে তখনও তা সুন্দরভাবে করবে। তোমাদের একজন যেন ছুরি ধারালো করে নেয় এবং যা যবেহ করা হবে তাকে যেন প্রশান্তি দেয়। [সহীহ মুসলিম-১৯৫৫]

যবেহ করার সময় তাকবীর ও বিসমিল্লাহ বলা। যেমন হাদিসে এসেছে, জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত ...
وَأُتِىَ بِكَبْشٍ فَذَبَحَهُ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- بِيَدِهِ وَقَالَ «بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ هَذَا عَنِّى وَعَمَّنْ لَمْ يُضَحِّ مِنْ أُمَّتِى»
“আর তার কাছে একটি দুম্বা আনা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে যবেহ করলেন এবং বললেন ‘বিসমিল্লাহ ওয়া আল্লাহু আকবার, হে আল্লাহ! এটা আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের মাঝে যারা কুরবানী করতে পারেনি তাদের পক্ষ থেকে।” [আবু দাউদ: ২৮১০]
অন্য হাদীসে এসেছে, আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«ضَحَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ أَقْرَنَيْنِ ذَبَحَهُمَا بِيَدِهِ وَسَمَّى وَكَبَّرَ وَوَضَعَ رِجْلَهُ عَلَى صِفَاحِهِمَا»
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি শিংওয়ালা ভেড়া যবেহ করলেন, তখন বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বললেন।’ [সহীহ বুখারী]

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানিঃ
যদি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি দেয়া হয় তাহলে যবেহ করার সময় যার পক্ষ থেকে কুরবানী করা হচ্ছে তার নাম উল্লেখ করে দো‘আ করা জায়েয আছে। এভাবে বলা, ‘হে আল্লাহ তুমি অমুকের পক্ষ থেকে কবুল করে নাও।’ যেমন হাদীসে এসেছে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দুম্বা যবেহ করার সময় বললেন :
«بِسْمِ اللهِ، اَللّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ، وَآلِ مُحَمَّدٍ، وَمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ»
‘আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজন এবং তার উম্মতের পক্ষ থেকে কবুল করে নিন।’ [মুসলিম- ১৯৬৭]

টিকাঃ- জবেহ্’র সময় নিম্ন লিখিত রগসমূহ কাটার ব্যাপারে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবেঃ
(ক) শ্বাসনালী (খ) খাদ্যনালী এবং (গ) রক্ত চলাচলের নালীদ্বয়।
বক্ষস্থল হতে গলদেশের মধ্যবর্তী কোন স্থানে জবেহ করা বাঞ্চনীয়। জবেহ’র পূর্বে ছুরি খুব ধারালো করে নিতে হবে। তারপর কোরবানির পশুর মাথা দক্ষিণ এবং পেছনের দিক উত্তর দিকে রেখে কেবলামুখী করে শায়িত করে দোয়া পড়বেন।
দোয়াঃ “ইন্নী ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজহিয়া লিল্লাজি ফাত্বারাস সামাওয়াতী ওয়াল আরদা হানীফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন।
ইন্না সালাতী ওয়ানুসুকী ওয়া মাহ্য়ায়া ওয়ামামা-তী লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।
আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়ালাকা বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবর” বলে কোরবানির পশু জবেহ করার সময় পাঠ করবেন- “আল্লাহুম্মা তাক্বাব্বাল মিন্নী (অংশীদার থাকলে- ‘ওয়া মিন’ বলার পর প্রত্যেকের নাম ও বাপের নাম বলবেন) কামা তাক্বাব্বালতা মিন খলীলিকা ইব্রাহীমা আলাইহিস্ সালাম ওয়া হাবীবিকা মুহাম্মদিনিল্ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।” বলে কোরবানির পশু জবেহ করাবেন।

কোরবানির মাংস ও ভাগের শরিয়তসম্মত নিয়মঃ
কোরবানির গোশত কারা খেতে পারবেনঃ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন :—
فَكُلُوا۟ مِنْهَا وَأَطْعِمُوا۟ ٱلْبَآئِسَ ٱلْفَقِيرَ
‘অত:পর তোমরা উহা হতে আহার কর এবং দু:স্থ, অভাবগ্রস্থকে আহার করাও।’ [সূরা হজ্ব-২৮]

রাসূলুল্লাহ স. কোরবানির গোশত সম্পর্কে বলেছেন :—
قَالَ: «كُلُوا وَأَطْعِمُوا وَادَّخِرُوا
‘তোমরা নিজেরা খাও ও অন্যকে আহার করাও এবং সংরক্ষণ কর।’ [বোখারি-৫৫৬৯]
‘আহার করাও’ বাক্য দ্বারা অভাবগ্রস্থকে দান করা ও ধনীদের উপহার হিসেবে দেয়াকে বুঝায়। কতটুকু নিজেরা খাবে, কতটুকু দান করবে আর কতটুকু উপহার হিসেবে প্রদান করবে এর পরিমাণ সম্পর্কে কোরআনের আয়াত ও হাদিসে কিছু বলা হয়নি। তাই উলামায়ে কেরাম বলেছেন : কোরবানির গোশত তিন ভাগ করে একভাগ নিজেরা খাওয়া, এক ভাগ দরিদ্রদের দান করা ও এক ভাগ উপহার হিসেবে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের দান করা মোস্তাহাব।

কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া, চর্বি বা অন্য কোন কিছু বিক্রি করা জায়েজ নয়। কসাই বা অন্য কাউকে পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির গোশত দেয়া জায়েজ নয়। হাদিসে এসেছে :—
عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: «أَمَرَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أَقُومَ عَلَى بُدْنِهِ، وَأَنْ أَتَصَدَّقَ بِلَحْمِهَا وَجُلُودِهَا وَأَجِلَّتِهَا، وَأَنْ لَا أُعْطِيَ الْجَزَّارَ مِنْهَا» ، قَالَ: «نَحْنُ نُعْطِيهِ مِنْ عِنْدِنَا»
‘তার প্রস্তুত করণে তার থেকে কিছু দেয়া হবে না।’ [মুসলিম-১৩১৭]

তবে দান বা উপহার হিসেবে কসাইকে কিছু দিলে তা না-জায়েজ হবে না।
চামড়াঃ কোরবানির পশুর চামড়া, রশি ও ফুলের মালা প্রভৃতি সদকা করে দিতে হবে। চামড়া নিজের ব্যবহারের জন্য রাখতে চাইলে রাখতে পারবে, যেমন- জায়নামায, বিছানা, ইত্যাদি বানাতে পারবে। কিন্তু কোরবানির চামড়া বিক্রি করে এর মূল্য নিজ কর্মে ব্যয় করতে পারবে না।

আকিকাঃ
অনেককেই কোরবানির সাথে আকিকাও আদায় করতে দেখা যায়।
আকিকা ছেলে সন্তান হলে কোরবানির পশুতে দুই অংশ আর মেয়ে সন্তান হলে এক অংশ। আকিকার অংশ পিতা-মাতা, দাদা-দাদী সবাই খেতে পারবে; কোন অসুবিধে নেই। আকিকার চামড়ার হুকূম কোরবানির চামড়ার হুকুমের আওতায় পড়বে।

====================================================

অংশীদারির ভিত্তিতে কোরবানি করাঃ
অংশীদারির ভিত্তিতে কোরবানি কারাকে ভাগে কোরবানি দেয়া বলা হয়। ভেড়া, দুম্বা, ছাগল দ্বারা এক পরিবারের পক্ষ থেকে একটা পশু কোরবানি করতে পারবেন। আর উট, গরু, মহিষ দ্বারা সাত জনের নামে সাতটি কোরবানি করা যাবে। তবে অংশীদারি ভিত্তিতে কোরবানি করার দুটি পদ্ধতি হতে পারে-
১.সওয়াবের ক্ষেত্রে অংশীদার হওয়া। যেমন-কয়েক জন মুসলিম মিলে একটি বকরি ক্রয় করল। অত:পর একজনকে ঐ বকরির মালিক বানিয়ে দিল। বকরির মালিক বকরিটি কোরবানি করল। যে কজন মিলে বকরি খরিদ করেছিল সকলে সওয়াবের অংশীদার হলো।

২. মালিকানার অংশীদারির ভিত্তিতে কোরবানি। দুজন বা ততোধিক ব্যক্তি একটি বকরি কিনে সকলেই মালিকানার অংশীদার হিসেবে কোরবানি করল। এ অবস্থায় কোরবানি শুদ্ধ হবে না। অবশ্য উট, গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি জায়েয কি নাজায়েয অর্থাৎ উট বা গরুর এক সপ্তাংশ একটি পরিবারের তরফ থেকে যথেষ্ট হবে কি? - সে ব্যাপারে উলামাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ বলেন, যথেষ্ট নয়। কারণ, তাতে ৭ জনের অধিক ব্যক্তির শরীক হওয়া বৈধ নয়। তা ছাড়া পরিবারের তরফ থেকে একটি পূর্ণ দম (জান) যথেষ্ট হবে। আর ৭ ভাগের ১ ভাগ পূর্ণ দম নয়। (ফাতাওয়া শায়খ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম, ৬/১৪৯)। অনেকের মতে একটি মেষ বা ছাগের মতই এক সপ্তাংশ উট বা গরু যথেষ্ট হবে। (শুমাইমিরী, মাজালিসু আশরি যিলহাজ্জাহ, পৃ. ২৬; আল-মুমতে ইবনে উসাইমীন, ৭/৪৬২-৪৬৩)।

মূলত এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে উলামাগণ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন:
১ম পক্ষ: মুসাফির ও মুক্বীম উভয় অবস্থায় ১টি উট বা গরু বা মহিষে ৭ জন বা ৭টি পরিবারের পক্ষ থেকে কোরবানি করাকে যথেষ্ট মনে করেন।

২য় পক্ষ: মুসাফির অবস্থায় উট বা গরু বা মহিষে ৭ জন বা ৭জনের পক্ষ থেকে কোরবানি করাকে যথেষ্ট মনে করেন। কিন্তু এ পক্ষ মুক্বীম উভয় অবস্থায় ১টি উট বা গরু বা মহিষে ৭টি পরিবারের পক্ষ থেকে কোরবানি করাকে যথেষ্ট মনে করেন না। এদের মতানুযায়ী, মুক্বীম অবস্থায় একটি পরিবারের পক্ষ থেকে একটি পশুই কোরবানি করতে হবে।

কোরবানিতে অংশগ্রহণ ও সাত ভাগা প্রসংগে প্রথম পক্ষের প্রমাণাদি ও বক্তব্যঃ
অন্যান্য ইবাদতের ন্যায় কোরবানিকেও আল্লাহ বিভিন্নভাবে আদায় করার বিধান দান করেছেন। ফলে আমরা উট, গরু, ছাগল ,ভেড়া, দুম্বার যেকোন একটা কোরবানি করতে পারি, আবার সবগুলো একসাথেও করতে পারি। আবার এককভাবে উট, গরু, মহিষ কোরবানি করতে না পারলেও সাত জন অংশগ্রহণ করতে পারি। কিন্তু একটি জন্তুতে সাত জনের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে নানাবিধ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যেমন বলা হয়ে থাকে, শুধু সফরের অবস্থায় সাত জন অংশগ্রহণ করতে পারবে, তবে তাদের একই পরিবারের অন্তর্ভূক্ত হতে হবে, বিভিন্ন পরিবারের হলে নয়। এ বিষয়টিকে বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই- ইবনু আববাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল (সা.)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম । এমতাবস্থায় কোরবানির ঈদ উপস্থিত হলো। তখন আমরা সাতজনে একটি গরু ও দশজনে একটি উটে শরীক হলাম। (তিরমিযী নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি গরু সাতজনের পক্ষ কোরবানি করা যাবে...। (তিরমিযী)

হাদিসে বর্ণিত সাতজনে একটি গরুতে শরীক হয়েছিলাম এ সাতজন শব্দের অর্থ বুঝতেই অনেকে ভূল করেছেন এবং মনে করেছেন একটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা সাতের অধিক হলে সেই পরিবারের জন্য একটি গরু বা উট যথেষ্ট নয়; অথচ একটি গরু বা উট শুধু এক পরিবার নয়, বরং সাতটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট । আর সেই পরিবারগুলোর সদস্য সংখ্যা যতই হোক না কেন। কারণ হাদিসে সাতজন বলতে সাতজন কর্তা ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে যাদের প্রত্যেকে একেকটা পরিবারের মালিক। যেমন- আপনি এক পরিবারের কর্তা, সুতরাং আপনার উপরই কোরবানির বিধান বলবৎ হবে ।আপনার সন্তান ও স্এীর উপর এ বিধান বলবৎ হবে না। তবে হ্যাঁ তাদের কারো নামে যদি এ পরিমাণ সম্পদ থাকে যে, তারা কোরবানি দেয়ার সমর্থ্য রাখে। তবে কারো কারো মতে তাদের উপর কোরবানির বিধান বলবৎ হয়ে যাবে। তিরমিযী শরীফে লিখিত আবু আইয়ুব হতে বর্ণিত সহিহ হাদিস দ্বারা এ কথাই সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, যা নিম্নরূপ:

আতা বিন ইয়াসার বলেন, আমি আবু আইয়ুব (রা.) কে প্রশ্ন করলাম যে, নবী (সা.) এর যুগে কোরবানি কিভাবে করা হতো? তখন তিনি বললেন, এক ব্যক্তি তার ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি একটি ছাগল কুরবনী করত, সেখান থেকে তারা খেত এবং অন্যদের খাওয়াত, আর মানুষ এভাবে আনন্দিত হতো ও গর্ববোধ করত। আর সে প্রথা বর্তমানকাল পর্যন্ত চলে আসছে।

ইমাম শাওকানী (রাহ.) নায়লুল আওতার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, সঠিক কথা হচ্ছে যে, একটি ছাগল একটি পরিবারের থেকে যথেষ্ট হবে যদিও তারা ১০০ জনের পরিবার অথবা ততধিক হয়। নবী (সা.) এর সুন্নাতের এটাই ফায়সালা। (তুহফাতুল আহওয়াযী, ৫/৯২)।

ইবনুল কাইয়িম (রাহ.) বলেন, নবী (সা.) এর তরীক্বা হচ্ছে যে, একটি ছাগল এক ব্যক্তি ও তার পরিবারের সকল সদস্যের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে যদি তাদের সংখ্যা অনেক হয়। ( তুহফাতুল আহওয়াযী, ৫/৯১)।

নবী (সা.) এর যুগে এক ব্যক্তি যেহেতু একটি ছাগলের কোরবানিতে অংশগ্রহণ করত ও সাত ব্যক্তি একটি গরু কিংবা উটে অংশগ্রহণ করত, সুতরাং সাধারণ ভাবেই বুঝা যায় যে, একটি ছাগল এক ব্যক্তি ও তার পরিবারের জন্য যখন যথেষ্ট ছিল, তখন সাত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি গরু কেন যথেষ্ট হবে না।

ইবনে আববাস (রা.) এর হাদিসে বর্ণিত যে সমস্ত সাহাবায়ে কেরামগণ সাতজন করে একটি গরুতে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তারা প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন পরিবারের লোক ছিলেন।

জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেছেন, গরু সাত জনের পক্ষ হতে এবং উট সাত জনের পক্ষ হতে কোরবানি করা যাবে। (মুসলিম, আবূ দাউদ)।

ভারতবর্ষের মুহাদ্দিস আল্লামা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী (রাহ.) বলেন, অবশ্যই উট এবং গরুর কোরবানিতে বিভিন্ন পরিবারের অংশগ্রহণ প্রমাণিত যেমন ছাগলে একই পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ প্রমাণিত। (তুহফাতুল আহওয়াযী, ৫/৯৩)।

আল্লামা নবাব সিদ্দিক হাসান খান ভুপালী (রাহ.) বলেন, উট এবং গরুর কোরবানিতে সাত ব্যক্তির অংশগ্রহণ সঠিক যদিও তারা বিভিন্ন পরিবারের হয়ে থাকে। (আর-রওযাতুন নাদিয়াহ, পৃ. ১২৮)।

আল্লামা ওবায়দুল্লাহ রহমানী মুবারকপুরী (রাহ.) বলেন, আর কোরবানি প্রসঙ্গে অধিকাংশ ইমামগণের মত হচ্ছে, কোরবানিতেও হাদি তথা হজ্জের পশুর ন্যায় অংশ গ্রহণ বৈধ যদিও অংশগ্রহণকারীগণ একই পরিবারের সদস্য হয়, কিংবা বিভিন্ন পরিবারের হয় এবং তারা নিজেদের মধ্যে আত্মীয় হোক বা অনাত্মীয় হোক। তরে ইমাম আবু হানীফা (রাহ.) শর্তারোপ করেছেন যে, একই পশুতে বিভিন্ন জনের অংশগ্রহণ তখনই বৈধ যখন তারা পরস্পরের নিকটাত্মীয় হবে। (মিরআতুল মাফাতীহ, ৫/১৭৭)।

ইমাম তিরমিযী (রাহ.) মন্তব্য করেন যে, ১টি জন্তুতে সাতজনের অংশগ্রহণের উপর বিজ্ঞ সাহাবা কেরামের আমল প্রমাণিত এবং পরবর্তীতে ইমাম সুফইয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফেয়ী, আহমাদ ও ইসহাক এর উপর আমল করেছেন। (তুহফাতুল আহওয়াযী, পৃ৮৮)।

তাছাড়া, একটি গরু যে সাতটি ছাগলের সমান তা নবী (সা.) এর নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারাও প্রমাণিত: ইবনু আববাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সা.) এর কাছে এসে বলল যে, আমার উপর একটি হজ্জের পশু কোরবানি করা ওয়াজিব হয়ে আছে কিন্তু আমি তা ক্রয় করতে পারছি না। তখন নবী (সা.) তাকে নির্দেশ প্রদান করলেন যেন সে সাতটি ছগল ক্রয় করে সেগুলোকে জবেহ করে। (আহমাদ, ইবনু মাজাহ)।

ইমাম নববী (রাহ.) মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যায় বলেন, একটি গরু সাতজনের পক্ষ যথেষ্ট হবে, আর প্রতিটা গরু সাতটি ছাগলের স্থলাভিষিক্ত হবে। লক্ষনীয় যে, আল্লামা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী (রাহ.), ওবায়দুল্লাহ রহমানী মুবারকপুরী (রাহ.), নবাব সিদ্দিক হাসান খান (রাহ.) প্রমুখ উলামায়ে কিরাম কেউই কোরবানির ভাগাভাগিতে অংশগ্রহণের সাথে সফরের কোন শর্তের কথা উল্লেখ করেননি।

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ওলাো পরিষদের স্থায়ী কমিটি নামক ফাতাওয়া বোর্ড ফাতাওয়া প্রদান করেছে যে, একটি পরিবারের হোক কিংবা বিভিন্ন পরিবারের হোক এবং তারা আত্মীয়ই হোক কিংবা অনাত্মীয় হোক। (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়েমাহ, ১১/৪০১)। আল্লামা ইবনু উসাইমীন বলেন, একটি ছাগল একজনের পক্ষে যথেষ্ট এবং উট এবং গরুর সাত ভাগের এক ভাগ ঐ পরিমাণ যথেষ্ট যে পরিমাণের জন্য একটি ছাগল যথেষ্ট। (আহকামুল উযহিয়্যাহ ওয়ায যাকাত, পৃ. ৭)।

দ্বিতীয় পক্ষের প্রমাণাদি ও বক্তব্যঃ
(ক) নিজের ও নিজ পরিবারের পক্ষ হতে একটি পশুই যথেষ্ট:
এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসে মা আয়িশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি শিংওয়ালা সুন্দর সাদা-কালো দুম্বা আনতে বললেন, .. অত:পর এ দুআ পড়লেন-

«بسم الله اللهم تقبل من محمد وأل محمد ومن أمة محمد»
(আল্লাহ নামে, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজন এবং তার উম্মতের পক্ষ থেকে কবূল করে নিন। এরপর উক্ত দুম্বা কোরবানি করলেন। (সহিহ মুসলীম, হাদিস নং ১৯৬৭)।

বিদায় হজ্জে আরাফার দিনে সমবেত জনমন্ডলীকে উদ্দেশ্য করে রাসূলুল্লাহ ( সা.) বলেন, হে জনগণ! নিশ্চয়ই প্রত্যেক পরিবারের উপরে প্রতি বছর একটি করে কোরবানি ও আতীরাহ। ইমাম আবু দাউদ বলেন, আতীরাহ প্রদানের হুকুম পরে বহিত করা হয়। [তিরমিযী, আবু দাউদ প্রভৃতি, মিশকাত, হা/১৪৭৮; এ হাদিসটির সনদ শক্তিশালী (ইবনু হাজার, ফতহুল বারী, ১০/৬); সনদ হাসান, আলবানী, সহিহ নাসাঈ, হ/৩৯৪০; সহিহ আবু দাউদ, হা/২৪২১; সহিহ তিরমিযী, হা/১২২৫; সহিহ ইবনু মাজাহ, হা/২৫৩৩]।

সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে পরিবার পিছু একটি করে বকরী কোরবানি করার রেওয়াজ ছিল। যেমন- সাহাবী আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) বলেন, একজন লোক একটি বকরী দ্বারা নিজের ও নিজের পরিবারের পক্ষ হতে কোরবানি দিতেন। অত:পর তা খেতেন ও অন্যকে খাওয়াতেন এবং এভাবে লোকেরা বড়াই করত। এ নিয়ম রাসূলের যুগ হতে চলে আসছে যেমন তুমি দেখছ। (সহিহ তিরমিযী, হা/১২১৬; সহিহ ইবনু মাজাহ, হা/২৫৪৬; মিরআত, ২/৩৬৭, ৫/১১৪) ।

একই মর্মে ধনাঢ্য সাহাবী আবু সারীহা (রা.) হতে সহিহ সনদে বর্ণিত ইবনু মাজার একটি হাদিস উদ্ধৃত করে ইমাম শাওকানী বলেন,সঠিক কথা হচ্ছে, একটি বকরি একটি পরিবারের পক্ষ হতে যথেষ্ট, যদিও সে পরিবারের সদস্য সংখ্যা শতাধিক হয় এবং এভাবেই নিয়ম চলে আসছে। (সহিহ ইবনু মাজাহ, হ/২৫৪৭; নায়লুল আওতার, ৬/১৪৪)।

মিশকাতের ভাষ্যকার ওবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী (রাহ.) বলেন, যারা একটি ছাগল একজনের জন্য নির্দিষ্ট বলেন এবং উক্ত হাদিসগুলোকে একক ব্যক্তির কোরবানিতে পরিবারের সওয়াবে অংশীদার হওয়ার তাবীল করেন বা খাস হুকুম মনে করেন কিংবা হাদিসগুলোকে মানসূখ বলতে চান, তাদের এ সব দাবী প্রকাশ্য সহিহ হাদিসের বিরোধী এবং তা প্রত্যাখ্যাত ও নিছক দাবী মাত্র । (মিরআত, ২/৩৫১, ৫/৭৬)।

রাসূল (সা.) মদীনায় মুক্বীম অবস্থায় নিজ পরিবার ও উম্মতের পক্ষ হতে দুটি করে খাসি এবং হজ্জের সফরে মিনায় গরু ও উট কোরবানি করেছেন। (মুত্তাফাক্বুন আলাইহ, মিশকাত, হা/১৪৫৩; বুখারি, ১/২৩১; সহিহ আবূ দাউদ, হা/১৫৩৯)।

কোরবানিতে শরীক হওয়া:
আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রা.) বলেন, আমরা রাসূল (সা.)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। এমতাবস্থায় কোরবানির ঈদ উপস্থিত হলো। তখন আমরা সাতজনে একটি গরু ও দশজনে একটি উটে শরীক হলাম। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত, হা/১৪৬৯; সনদ সহিহ)।

জাবির (রা.) বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (সা.) এর সাথে হজ্জ ও উমরার সফরে সাথী ছিলাম।..... তখন আমরা একটি গরু ও উটে সাতজন করে শরীক হয়েছিলাম। (সহিহ মুসলিম, হা/১৩১৮) সফরে সাত বা দশজন মিলে একটি পরিবারের ন্যায়, যাতে গরু ও উটের মতো বড় পশু জবেহ ও কুটাবাছা এবং গোশত বণ্টন সহজ হয়। জমহুর বিদ্বানগণের মতে হজ্জের হাদির ন্যায় কোরবানিতেও শরীক হওয়া চলবে। (মরআত, ২/৩৫৫, ৫/৮৪)।

আনাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) হজ্জের সফরে মিনায় নিজ হাতে ৭টি উট (অন্য বর্ণনায় এরও অধিক) দাড়ানো অবস্থায় নহর করেছেন এবং মদীনায় (মুক্বীম অবস্থায়) দুটি সুন্দর শিংওয়ালা খাসি কোরবানি করেছেন। আয়েশা (রা.) বলেন, বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) তার সফরসঙ্গী স্ত্রী ও পরিবারের পক্ষ হতে একটি গরু কোরবানি করেন। (বুখারি, ১/২৩১; সহিহ আবু দাউদ, হা/১৫৩৯) অবশ্য মক্কায় (মিনায়) নহরকৃত উটগুলো সাহাবীগণের পক্ষ থেকেও হতে পারে।

আলোচনা: ইবনু আববাস (রা.) এর হাদিসটি নাসাঈ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহতে, জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিসটি সহিহ মুসলিম ও আবুদাউদে এবং আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিসটি সহিহ বুখারিতে সংকলিত হয়েছে। সহিহ মুসলিম ও সহিহ বুখারিতে যথাক্রমে হজ্জও মানসিক অধ্যায়ে এবং সুনানে কোরবানি অধ্যায়ে হাদিসগুলো এসেছে। যেমন-(১) তিরমিযী কোরবানিতে শরীক হওয়া অধ্যায়ে ইবনু আববাস, জাবির ও আলী (রা.) থেকে মোট তিনটি হাদি এনেছেন। (২) ইবনু মাজাহ উক্ত মর্মের শিরোনামে ইবনু আববাস,জাবির, আবূ হুরায়রা ও আয়েশা (রা.) হতে যে পাঁচটি হাদিস (৩১৩১-৩৪ নং) এনেছেন, তার সবগুলোই সফরে কোরবানি সংক্রান্ত। (৩৬) নাসাঈ কেবলমাত্র ইবনু আববাস ও জাবির (রা.) থেকে পূর্বের দুটি হাদিস (২৩৯৭-৯৮ নং) এনেছেন। (৪) আবু দাউদ শুধুমাত্র জাবির (রা.) এর পূর্ববর্ণিত সফরে কোরবানির হাদিসটি এনেছেন। তিনটি সহিহ সনদে (২৮০৭-৯ নং), যার মধ্যে ২৮০৮ নং হাদিরটিতে কোন ব্যাখ্যা নেই।

বিভ্রাটের কারণ: মিশকাত শরীফে ইবনু আববাস (রা.) এর সফরের হাদিসটি (১৪৬৯ নং) এবং জাবির (রা.) বর্ণিত ব্যাখ্যাশুন্য হাদিসটি (১৪৫৮ নং ) সংকলিত হয়েছে। সম্ভবত জাবির (রা.) বর্ণিত মুত্বলাক্ব বা ব্যাখ্যাশুন্য হাদিসটিকে ভিত্তি করেই মুক্বীম অবস্থায় গরু বা মহিষে সাতভাগা কোরবানির নিয়ম চালু হয়েছে। অথচ, ভাগের বিষয়টি সফরের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যা ইবনু আববাস ও জাবির (রা.) বর্ণিত বিস্তারিত হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে। (মিশকাত, হা/১৪৬৯; মুসলিম , হা/১৩১৮; বুখারি, ১/২৩১) আর একই রাবীর বর্ণিত সংক্ষিপ্ত হাদিসের স্থলে বিস্তারিত ও ব্যাখ্যা সম্বলিত হাদিস দলীলের ক্ষেত্রে গ্রহণ করাই মুহাদ্দিসগণের সর্ববাদীসম্মত রীতি।

তাছাড়া, মুক্বীম অবস্থায় মদীনায় রাসূল (সা.) বা সাহাবায়ে কেরাম কখনো ভাগে কোরবানি করেছেন বলেও জানা যায় না। ইমাম মালিক (রাহ.) কোরবানিতে শরীক হওয়ার বিষয়টিকে মাকরূহ মনে করতেন। (মুওয়াত্বা মালেক, পৃ. ২৯৯)।

উভয় পক্ষের প্রদানকৃত দলীল সমূহের পর্যালোচনা: মুক্বীম অবস্থায় সাতটি পরিবারের সকল সদস্যের পক্ষ থেতে সাতটি ভাগ দিয়ে একটি উট বা গরু বা মহিষ ক্রয় করে করে কোরবানি করার ব্যাপারে উপরে উল্লেখিত উভয় পক্ষের উপস্থাপিত প্রমাণিত প্রমাণাদিকে বিশ্লেষণমূলক পর্যলোচনা করলে যে বিষয়টি আমাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়, তা হচ্ছে, জাবির (রা.) বর্ণিত আবু দাউদদের ব্যাখ্যা শূন্য হাদিসটির কারণেই মুসাফির ও মুক্বীম অবস্থায় কোরবানিতে ভাগাভাগি নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রথমত: এ হাদিসটিতে কেবল বলা হচ্ছে, গরুতে সাতজন আর উটে সাতজন। এখানে সফর না মুক্বীম তা বলা হয়নি। কিন্তু এটি যে সফরের হাদিস তা জাবির (রা.) বর্ণিত অন্যান্য হাদিসগুলো দ্বারা প্রমাণিত।

দ্বিতীয়ত: জাবির (রা.) বর্ণিত সফরের হাদিসগুলো ইমাম আবূ দাউদ যে অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এ ব্যাখ্যাশূন্য হাদিসটিও সে অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।
সর্বোপরি, উভয় পক্ষের মতের স্বপক্ষে উপস্থাপিত দলীলাদি পর্যালোচনা করলে আমাদের সামনে তিনটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, তা হলে:
1. সফর ও মুক্বীম অবস্থায় একটি পরিবারের পক্ষ থেকে একটি পশু কোরবানি করার ব্যাপারে উভয় পক্ষই একমত।
2. ভাগে কোরবানি জায়েয।
3. সফর ও মুক্বীম অবস্থায় সাত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ভাগে একটি পশু কোরবানি করা যায়।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কিছু কথা না বললেই নয়, তা হলো- হাদিসে বলা হয়েছে, সাতজনের পক্ষ থেকে (মুসলিম, মিশকাত, হা/১৪৫৮), কিন্তু আমাদের সমাজে কোরবানি করা হচ্ছে সাত পরিবারের পক্ষ থেকে। বলা যায়, সফর অবস্থাতেও সাত পরিবারের পক্ষ থেকে অনুমতি নেই। আরো স্পষ্ট হলো, সাত জনের প্রেক্ষাপট কেবল সফর অবস্থায় সৃষ্টি হয়। মুক্বীম অবস্থায় কোরবানি পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত, যেমন- রাসূল (সা.) করতেন। মূলত, এক্ষেত্রে সফরের হাদিসগুলোকে আম হিসেবে ধরা যাচ্ছে না। কারণ, এ হাদিসগুলো রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তার সাহাবীগণ (রা.) মুক্বীম অবস্থায় যে ভাগা কোরবানি করতেন, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোন হাদিস নেই। রাসূল (সা.) প্রতি বছর দুটি করে খাসি কোরবানি করতেন। (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত, হা/১৪৫৩) অথচ, দঃখের বিষয় বর্তমানে কেবল সাত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নয়; বরং মুক্বীম অবস্থায় সাত পরিবারের বর্তমানে কেবল সাত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নয়; বরং মুক্বীম অবস্থায় সাত পরিবারের ৭-এর অধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে একটি গরু কোরবানি দেওয়া হচ্ছে।

আজকাল পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কোরবানির সাথে একটি গরুর ভাগা নেওয়া হচ্ছে মূলত গোশত বেশী পাবার স্বার্থে। নিয়ত যখন গোশত খাওয়া, তখন কোরবানির উদ্দেশ্য কিভাবে হাছিল হবে? কোরবানি হলো পিতা ইবরাহীমের সুন্নাত, যা তিনি পুত্র ইসমাঈলের জীবনের বিনিময়ে করেছিলেন। আর তা ছিল আল্লাহর পক্ষ হতে পাঠানো একটি পশুর জীবন অর্থাৎ দুম্বা। অতএব ইবরাহীম ও মুহাম্মাদী সুন্নাতের অনুসরণে নিজের ও নিজ পরিবারের পক্ষ হতে আল্লাহর রাহে একটি জীবন তথা একটি পূর্ণাঙ্গ পশু কোরবানি দেওয়া উচিত, পশুর দেহের কোন খন্ডিত অংশ নয়। পরিশেষে, মনে রাখতে হবে কোরবানি হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত ও আল্লাহ রাববুল আলামিনের নৈকট্য লাভের উপায়। তাই তা আদায় করতে হবে সময়, সংখ্যা ও পদ্ধতিগত দিক দিয়ে শরীয়ত অনুমোদিত নিয়মাবলি অনুসরণ বা শুধু সদকা (দান) নয়।। কোরবানির উদ্দেশ্য শুধু গোশত খাওয়া নয়, শুধু মানুষের উপকার করা নয় বা শুধু সদকা (দান) নয়। কোরবানির উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ রাববুল আলামীনের একটি মহান নিদর্শন তার রাসূলের নির্দেশিত পদ্ধতিতে আদায় করা।



ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযের নিয়ম

বুধবার, জানুয়ারি ২২, ২০২০ 1
বার দেখা হয়েছে
ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযের নিয়ম
বছরে মাত্র দু'বার ঈদের নামাজ, তাই এ নামাজ আদায় করার ক্ষেত্রে অনেককেই জটিলতায় পড়তে হয়। নামাজে দাঁড়িয়ে ডানে-বামে চুপিসারে তাকিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়। ফলে অনেকেরই ঈদের নামাজ হয় না। কিন্তু এই নিয়মগুলো যদি একটু মনে রাখেন, তবে শুদ্ধভাবে ঈদের নামাজ পড়তে আর সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

কোনো নামাজের নিয়তই আরবিতে করা জরুরি নয়। যে কোনো ভাষায় নামাজের নিয়ত করা যায়। নিয়ত মনে মনে করাই যথেষ্ট।
ঈদের দিন ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে মনে মনে নিয়ত এভাবে করলেই চলবে_ 'আমি অতিরিক্ত ছয় তাকবিরসহ এই ইমামের পেছনে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করছি।'
এরপর উভয় হাত কান বরাবর উঠিয়ে 'আল্লাহু আকবার' বলে হাত বাঁধতে হবে।
হাত বাঁধার পর ছানা অর্থাৎ 'সুবহানাকা আল্লাহুম্মা...' শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে।
এরপর আল্লাহু আকবার বলে হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে।
দ্বিতীয়বারও একই নিয়মে তাকবির বলে হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে।
তৃতীয়বার তাকবির বলে হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে না দিয়ে হাত বেঁধে রাখতে হবে।
ঈমাম সাহেব সূরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য যে কোনো সূরা তেলাওয়াত করবেন। এ সময় মুক্তাদিদের নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।
ইমাম সাহেব নিয়মমতো রুকু-সিজদা সেরে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন। মুক্তাদিদেরও ইমামকে অনুসরণ করতে হবে।
দ্বিতীয় রাকাতে ইমাম সাহেব প্রথমে সূরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য সূরা পড়বেন।
এরপর আগের মতো তিন তাকবির বলতে হবে। প্রতি তাকবিরের সময়ই উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে।
চতুর্থ তাকবির বলে হাত না উঠিয়েই রুকুতে চলে যেতে হবে। এরপর নামাজের অন্যান্য নিয়মেই ঈদের নামাজ শেষ করে সালাম ফেরাতে হবে।

ঈদুল ফিতরের কিছু সুন্নত আমল
* খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা
* মিসওয়াক করা
* গোসল করা
* সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পোশাক পরিধান করা
* সুগন্ধি ব্যবহার করা
* নামাজের আগে ফিতরা আদায় করা
* নামাজের আগেই মিষ্টান্নজাতীয় খাবার খাওয়া
* বেজোড়সংখ্যক খেজুর-খুরমা খাওয়া
* ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া
* এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা
* সকাল সকাল ঈদের নামাজ পড়ার জন্য বের হওয়া
* ঈদের নামাজ ঈদগাহে গিয়ে পড়া; সম্ভব না হলে পাড়া বা মহল্লার মসজিদে গিয়ে পড়া
* ঈদুল ফিতরে নিচু আওয়াজে তাকবির পড়তে পড়তে ঈদগাহে যাওয়া [ তাকবির হলো_ 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।'।

ঈদুল আযহার নামাযের নিয়ম ঠিক ঈদুল ফিতরের নামাযেরই অনুরূপ এবং যেসব কাজ ওখানে সুন্নত সেসব এখানেও সুন্নত। পার্থক্য শুধু এই যে,
* নিয়তের মধ্যে ঈদুল ফিতরের পরিবর্তে ঈদুল আযহা বলবে।
* ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নত কিন্তু ঈদুল আযহার দিনে খেয়ে যাওয়া সুন্নত নয় (বরং ঈদুল আযহার নামাযের পূর্বে কিছু না খেয়ে যাওয়াই মুস্তাহাব)।
* ঈদুল আযহার দিনে ঈদগাহে যাওয়ার সময় উচ্চস্বরে তাকবীর পড়া সুন্নত। ঈদুল ফিতরে আস্তে পড়া সুন্নত।
* ঈদুল আযহার নামায ঈদুল ফিতর অপেক্ষা অধিক সকালে পড়া সুন্নত।
* ঈদুল ফিতরে নামাযের পূর্বে সদকায়ে ফিতরা দেয়ার হুকুম, ঈদুল আযহার নামাযের পর সক্ষম ব্যক্তির জন্য কুরবানী করার হুকুম।




সেহরী ও ইফতারের দো'য়া এবং সেহরির ফযিলত

বুধবার, জানুয়ারি ২২, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

সেহরীর দো'য়াঃ
"নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিনশাহরি রামাদ্বনাল মুবারাকি ফারদ্বাল্লাকা ইয়া আল্লাহ ফাতাক্বাববাল মিন্নী ইন্নাকা আনতাস সামীয়ু’ল আ’লীম।"
বাংলা অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের রোজা রাখার নিয়ত করছি, যা তোমার পক্ষ থেকে ফরজ করা হয়েছে। সুতরাং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করো, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
সেহরির ফযিলতঃ
আনাস ইব্‌ন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«تَسَحَّرُوا فَإِنَّ في السَّحُور بَرَكَةً» رواه الشيخان.
“তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে”।

আমর ইব্‌ন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«فَصْلُ مَا بَينَ صِيامِنَا وصِيَامِ أَهْلِ الكِتَابِ أَكَلَةُ السَّحَر» رواه مسلم.
“আমাদের সওম ও আহলে কিতাবিদের সওমের পার্থক্য হচ্ছে সেহরি ভক্ষণ করা”।

ইরবায ইব্‌ন সারিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ বলেন:
«دَعَاني رَسُولُ الله ﷺ إلى السَّحُور في رَمَضَانَ فقَالَ: هَلُمَّ إلى الغَدَاءِ المُباركِ»
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রমযানে সেহরিতে আহ্বান করে বলেন, বরকতপূর্ণ খানার জন্য আস”।

মিকদাদ ইব্‌ন মা‘দি কারিব রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«عَلَيْكُمْ بِغَدَاءِ السَّحُور؛ فَإِنَّهُ هُوَ الغَدَاءُ المبَارَك» رواه النسائي.
“তোমরা সেহরি অবশ্যই ভক্ষণ কর, কারণ তা বরকতপূর্ণ খাবার”।

ইফতারের দো'য়াঃ
ইফতারের দো'য়াঃ- "আল্লাহুম্মা ছুমতুলাকা ওয়া তাওয়াক্কালতু আ’লা রিজক্বিকা ওয়া আফতারতু বি রাহমাতিকা ইয়া আর্ হামার রাহিমীন।"
বাংলা অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।







মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০

যাকাতঃ

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
যাকাতঃ- ইসলামের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিধান। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নামায আদায়ের সাথে সাথে অধিকাংশ আয়াতে যাকাত আদায়েরও নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন, “নামায কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো”। এসব আয়াতের আলোকে যাকাত ইসলামের অন্যতম অপরিহার্য ফরয দায়িত্ব বলে প্রমাণিত হয়; যার অস্বীকারকারী বা তুচ্ছ তাচ্ছিল্যকারী কাফির বলে গণ্য; আর অনাদায়কারী ফাসিক এবং কঠিন শাস্তির যোগ্য।
পবিত্র কুরআনের একেবারে শুরুর দিকে, সূরা বাক্বারায়, হেদায়াতপ্রাপ্ত মুত্তাকীদের পরিচয় দিতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “…আমার দেয়া রিযক হতে যাকাত প্রদান করে”। এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর ভয় অন্তরে লালন করা ও হেদায়াতের পূর্ণতায় পৌঁছুতে যাকাত প্রদানের কোনো বিকল্প নেই। যে ব্যক্তি যাকাত ফরয হওয়ার পরও তা আদায় করে না, তার পক্ষে পূর্ণ হেদায়াত লাভ করা কখনো সম্ভব নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ – يَوْمَ يُحْمَىٰ عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَىٰ بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ ۖ هَٰذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنْتُمْ تَكْنِزُونَ
আর যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে। (সেদিন বলা হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে রাখার। [৯:৩৪-৩৫]

ত্রিশতম পারার সূরা হুমাযা পুরোটাই যাকাত প্রদান না করার শাস্তির আলোচনায় উৎসর্গিত। দেখুন,
وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ – الَّذِي جَمَعَ مَالًا وَعَدَّدَهُ – يَحْسَبُ أَنَّ مَالَهُ أَخْلَدَهُ – كَلَّا ۖ لَيُنْبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِ – وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ – نَارُ اللَّهِ الْمُوقَدَةُ – الَّتِي تَطَّلِعُ عَلَى الْأَفْئِدَةِ – إِنَّهَا عَلَيْهِمْ مُؤْصَدَةٌ – فِي عَمَدٍ مُمَدَّدَةٍ
প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ,যে অর্থ সঞ্চিত করে ও গণনা করে। সে মনে করে যে,তার অর্থ চিরকাল তার সাথে থাকবে। কখনও না,সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। আপনি কি জানেন,পিষ্টকারী কি ? এটা আল্লাহর প্রজ্বলিত অগ্নি,যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছবে। এতে তাদেরকে বেঁধে দেয়া হবে,লম্বালম্বি খুঁটিতে। [১০৪:১-৯]
বস্তুত, সীমিত পর্যায়ে ব্যক্তি মালিকানাকে ইসলাম স্বীকার করে নিলেও, এ সুযোগে যেন অশুভ পুঁজিতন্ত্র জন্ম লাভ না করতে পারে, সে বিষয়েও সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে। পুঁজিতন্ত্রের বিকাশ রোধে তাই যাকাতকে ইসলাম গুরুত্ব দিয়েছে অনেক বেশি।
ইসলাম মনে করে, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বাদ দেয়ার পর কারো যদি ৫২.৫ তোলা রূপা বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ বা সমমূল্যের সম্পদ এক বৎসর কাল পর্যন্ত সঞ্চিত থাকে, তাহলে সে সম্পদশালী। এ ধরনের সম্পদশালী ব্যক্তিদের থেকে রাষ্ট্রের অন্যান্য অভাবী মানুষদের প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য ঐ সঞ্চিত সম্পদের শতকরা ২.৫ টাকা যাকাত প্রদানের দাবি জানায় ইসলাম।

যাকাত আদায়ের বিবিধ উপকারিতা নিম্নরূপঃ
১. গরীবের প্রয়োজন পূর্ণ করা; অভিশপ্ত পুঁজিতন্ত্রের মূলোৎপাটন করা; সম্পদ কুক্ষিগত করার মানসিকতাকে শেষ করে সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টি করা।
২. মুসলমানদের সামগ্রিক শক্তি বৃদ্ধি করা; দারিদ্র বিমোচনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৩. চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই সহ সবরকম অভাবজনিত অপরাধের মূলোৎপাটন করা। গরীব-ধনীর মাঝে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করা।
৪. সম্পদের বরকত ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি। নবীজী স. বলেন, ما نقصت صدقة من مال যাকাতের সম্পদ কমে না। [মুসলিম:৬৭৫৭, তিরমিযী:২০২৯] অর্থাৎ, হয়ত দৃশ্যতঃ সম্পদের পরিমাণ কমবে, কিন্তু আল্লাহ তাআলা এই স্বল্প সম্পদের মাঝেই বেশি সম্পদের কার্যকারী ক্ষমতা দিয়ে দিবেন।
৫. সম্পদের পরিধি বৃদ্ধি করা। কেননা সম্পদ যখন যাকাতের মাধ্যমে অভাবীদের মাঝে বণ্টিত হয়, তখন এর উপকারিতার পরিধি বিস্তৃত হয়। আর যখন তা ধনীর পকেটে কুক্ষিগত থাকে, তখন এর উপকারিতার পরিধিও সঙ্কীর্ণ হয়।
৬. যাকাত প্রদানকারীর দান ও দয়ার গুণে গুণান্বিত হওয়া; অন্তরে অভাবীর প্রতি মায়া-মমতা সৃষ্টি হওয়া।
৭. কৃপণতার ন্যায় অসৎ গুণ থেকে নিজেকে পবিত্র করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, خذ من أموالهم صدقة تطهرهم وتزكيهم بها তাদের সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণ করো; যেন তুমি সেগুলোকে এর মাধ্যমে পবিত্র ও বরকতময় করতে পার। [৯:১০৩]
৮. সর্বোপরি আল্লাহর বিধান পালন করার মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালে তাঁর নৈকট্য লাভ করা।

যাকাত কখন ফরয হয়ঃ
৭.৫ ভরি স্বর্ণ, ৫২.৫ ভরি রূপা বা সমমূল্যের নিত্য প্রয়োজনোতিরিক্ত সম্পদের মালিক হলে, এবং এ অবস্থায় এক বছর অতিক্রান্ত হলে। এ হিসাবটাকে ইসলামী পরিভাষায় ‘নেসাব বলে। অতএব, কারো যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর পর্যন্ত থাকে, তাহলে তার উপর যাকাত ফরয হবে।

কোন কোন সম্পদে যাকাত আসেঃ
১. নগদ টাকা-পয়সা, ব্যাংক ব্যালেন্স, বন্ড ও অন্যান্য ফাইন্যানশিয়াল ইন্সট্রুমেন্টস
২. সোনা-রূপা; অর্নামেন্ট, বার যা-ই হোক; তা নিত্যব্যবহার্য হলেও।
৩. ব্যবসার সম্পদ; যা ব্যবসার উদ্দেশে ক্রয়কৃত; কিংবা ব্যবহারের উদ্দেশে ক্রয়ের পর বিক্রয়কৃত। ব্যবসার কাঁচামাল, উৎপাদিত বস্তু, বা, উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা বস্তু। শেয়ারও এ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত।
৪. অন্যান্য প্রয়োজনোতিরিক্ত সম্পদ। টিভিও এ কাতারে অন্তর্ভুক্ত।

কাকে যাকাত দেয়া যাবে:
১. মিসকীন: যার কোনো সম্পদ নেই, মানুষের কাছে হাত পেতে চলে।
২. অভাবী: যার সম্পদ আছে, তবে নেসাব পরিমাণ নেই, কারো কাছে হাতও পাতে না সে, অথচ সে তার প্রয়োজন পূরণে অক্ষম।

এ কাতারে ঋণ আদায়ে অক্ষম ও ভিনদেশী অভাবী মুসাফিরও পড়বে।
চিকিৎসা গ্রহণে অক্ষম ব্যক্তিও এ কাতারে শামিল। অর্থাৎ, কেউ যদি এমনিতে সচ্ছল হয়, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে অক্ষম হয়, তাহলে তাকেও যাকাতের অর্থ দিয়ে সাহায্য করা যেতে পারে। তবে শর্ত হলো, চিকিৎসার পর্যায়টা এমন হতে হবে যে, যা না করালেই নয়, এবং যে চিকিৎসা করালে তার সুস্থতাও অনেকটা নিশ্চিত। উদাহরণস্বরূপ, যে চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব, তা যদি সিরফ বিলাসিতা বশত বিদেশে গিয়ে করাতে চায়, তাহলে সে ক্ষেত্রে তাকে যাকাত দেয়া যাবে না। কিন্তু চিকিৎসকরা যদি বলেন যে, তাকে অমুক দেশে নিতেই হবে, এ ছাড়া কোনো গতি নেই, তখন তাকে সাহায্য করা যেতে পারে। মোটকথা, চিকিৎসা যদি কারো সত্যিই প্রয়োজন হয়, এবং এ প্রয়োজন মেটাতে যদি সে সত্যিই অক্ষম হয়, তাহলে সেও এই অভাবীর পর্যায়ভুক্ত হয়ে যাকাত গ্রহণ করতে পারবে।

তবে দুই সম্পর্কের মানুষকে যাকাত দেয়া যাবে নাঃ
১. ঔরসজাত সম্পর্ক। যেমন- পিতা ছেলেকে, বা ছেলে পিতাকে।
২. বৈবাহিক সম্পর্ক। যেমন- স্বামী স্ত্রীকে, বা স্ত্রী স্বামী।

এ দুই গ্রুপ ছাড়া অন্য সকল অভাবীকে (উপরোক্ত সংজ্ঞানুসারে) দেয়া যাবে।

যাকাত বিষয়ক কিছু জরুরী জ্ঞাতব্য:
১. যাকাতের ক্ষেত্রে নিয়ত করা (যাকাত দিচ্ছি এই জ্ঞান করা) আবশ্যক। সেটা প্রদান করার সময়ও হতে পারে বা যাকাতের সম্পদ হিসাব করে পৃথক করার সময়ও হতে পারে।
২. প্রতিটা সম্পদের উপর এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া জরুরী নয়। বরং, বছরের মাঝে যে সম্পদ অর্জিত হবে, তাতেও যাকাত আসবে।
৩. যাকাত আদায়ের তারিখে যে যে সম্পদ থাকবে, সে সে সম্পদের যাকাত আদায় করবে।
৪. যাকাতের পরিমাণ নির্ধারণে মনগড়া/অনুমাননির্ভর হিসাব করবে না। বরং পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব করে যাকাত আদায় করবে। যেন কোনো ক্রমেই পরিমাণের চেয়ে কম আদায় না হয়।
৫. যাকাত যেদিন হিসাব করে পৃথক করবে, সেদিনের মূল্য ধর্তব্য হবে।
৬. চন্দ্র মাস হিসাব করে যাকাত দিবে। উদাহরণস্বরূপ, প্রতি বছর রমজানের বা মুহাররমের এক তারিখ যাকাত আদায় করবে।
আল্লাহ আমাদের সকলকে তাঁর বিধান মেনে চলার তাওফীক দিন। আমীন।



কালেমা- ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির প্রথম ও প্রাধান

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

নবী করীম (সা:)এরশাদ করেছেন: ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর স্থাপিত : কালিমা-নামায-রোজা-হজ্ব-যাকাত (বুখারী ও মুসলিম)
উক্ত হাদীসে রাসূলে আকরাম (সা:) ইসলাম ধর্মের বুনিয়াদ অর্থাৎ ফাউন্ডেশন বা ভিত্তি প্রস্তর হিসাবে পাঁচটি জিনিসকে ঘোষনা করেছেন। তন্মধ্যে প্রথম এবং প্রধান হল কালিমা।

১. কালিমায়ে তাইয়িবাহ্ : শব্দের অর্থ-পবিত্র বাক্য।
আরবি : لآ اِلَهَ اِلّا اللّهُ مُحَمَّدٌ رَسُوُل اللّهِ
উচ্চারণ ঃ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।
বাংলা অর্থ ঃ আল্লাহ এক আর কোন মাবুদ নেই। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।

২. কালিমা শাহাদৎ
আরবি : اشْهَدُ انْ لّآ اِلهَ اِلَّا اللّهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه، وَ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدً اعَبْدُهوَرَسُولُه
উচ্চারণ ঃ আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।
বাংলা অর্থ ঃ আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই। তিনি এক। তাঁহার কোন অংশীদার নেই, এবং আমি আরও সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, নিশ্চয়ই হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহ্র প্রেরিত বান্দা ও রাসূল।

৩. কালিমায়ে তাওহীদ :
لا اله الا انت وحدا لا ثانى لك محمد رسول الله امام المتقين رسول رب العلمين
উচ্চারণঃ- লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা ওয়াহিদাল্‌-লা-ছানিয়া-লাকা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহি ইমামুল মুত্তাক্বিনা রাসুলু রব্বিল আলামিন।
অর্থঃ- হে আল্লাহ্‌! তুমি ছাড়া কোন ইলাহ্‌ নেই, তুমি এক, তোমার কোন দ্বিতীয় স্বত্ত্বা নেই, মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল। ধর্মভীরুদের ইমাম, তিনি জগতের প্রতিপালক প্রভূর মহান দূত।

৪. কালিমায়ে তামজীদ :
لااله الا انت نورا يهدى الله لنوره من يشاء محمد رسول الله امام المرسلين خاتم النبين
উচ্চারণঃ- লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা নূরাই ইয়াহ্‌দি আল্লাহু লিনূরিহি মাই-ইয়াশাউ-মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহি ইমামুল মুরছালিনা খাতামুন্‌ নাবিয়্যিন।
অর্থঃ- হে আল্লাহ্‌! তুমি ছাড়া নেই কোন ইলাহ্‌, তুমি জ্যোতির্ময় আল্লাহ্‌! তোমার নূর দ্বারা যাকে ইচ্ছা তাকেই সৎপথ প্রদর্শন করেছ। মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর বার্তাবাহক, সমস্ত রাসূলগণের ইমাম বা নেতা, সর্বশেষ নবী।


প্রশ্ন ১২৩ --> কালেমা কয়টি ও কি কি?
উত্তর :
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর। দরুদ ও সালাম আল্লাহর রাসূল (সা) এর উপর। পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আমাদের দেশে ইসলামী ঈমান-আকীদার বিবরণের ক্ষেত্রে ‘পাঁচটি কালিমা’র কথা প্রচলিত আছে। এছাড়া ঈমানে মুজমাল ও ঈমানে মুফাস্সাল নামে দুইটি ঈমানের কথা আছে। কায়েদা, আমপারা, দ্বীনিয়াত ও বিভিন্ন প্রচলিত বই পুস্তকে এই কালিমাগুলি রয়েছে। এগুলিকে অত্যন্ত  জরুরী মনে করা হয় এবং বিশেষভাবে মুখস্থ করা হয়। এই বাক্যগুলির অর্থ সুন্দর। তবে সবগুলি বাক্য এভাবে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয় নি। এগুলিকে সব কুরআনের কথা বা হাদীসের কথা মনে করলে ভুল হবে।

(১) কালিমায়ে শাহাদত
কুরআন ও হাদীসে ইসলামী ঈমান বা বিশ্বাসের মূল হিসাবে দু ইটি সাক্ষ্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের দেশে ‘কালিমা শাহাদত’ হিসাবে পরিচিত।  এই কালিমায়  আল্লাহর তাওহীদ এবং মুহাম্মাদ  (সা)  এর রিসালাতের সাক্ষ্য প্র দান করা  হয়। প্রকৃতপক্ষে  একমাত্র  কালিমা  শাহাদতই  হাদীস  শরীফে  ঈমানের  মূল  বাক্য  হিসাবে  উল্লে খ  করা  হয়েছে।  সালাতের  (নামাযের) ‘তাশাহ্ হুদের’ মধ্যে বাক্যদ্বয় এভাবে একত্রে বলা হয়েছে:

أَشْهَدُ أَنْ لا إلا الله و أَشْهَدُ أنَّ مُحَمَّدًا عََبْدُهُ وَ رَسولُهُ

আমি সাক্ষ্য  দিচ্ছি যে,  আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবূদ (উপাস্য) নেই এবং আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, মুহাম্মাদ (সা) আল্লাহর
বান্দা ও রাসূল।”
এই ‘কালিমা’ বা বাক্যটি দুইটি বাক্যের সমন্বয়ে গঠিত।

প্রথম বাক্য:      أَشْهَدُ أَنْ لا إلا الله
“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি  যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবূদ (উপাস্য) নেই।”
এ প্রথম বাক্যটির ক্ষেত্রে কোনো কোনো হাদীসে বলা হয়েছে:

لا إِلَهَ إِلا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيْكَ لَهُ
“আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই।”

দ্বিতীয় বাক্য:   و أَشْهَدُ أنَّ مُحَمَّدًا عََبْدُهُ وَ رَسولُهُ
“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সা) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
আযানের মধ্যে এ বাক্যদ্বয়কে পৃথকভাবে উল্লে খ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বাক্যটির ক্ষেত্রে কোনো কোনো হাদীসে (أشهد) অর্থাৎ ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি’ কথাটি পুনরাবৃত্তি না করে শুধুমাত্র ( وَ أَنَّ ) ‘এবং নিশ্চয়’ বলা হয়েছে। কোনো কোনো হাদীসে বাক্যদ্বয়ের শুরুতে (أشهد) বলা হয়নি, বরং বলা হয়েছে:

لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ
দ্বিতীয় বাক্যটির ক্ষেত্রে  অনেক হাদীসে ( أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ) ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’ কথাটির পরিবর্তে ( أَنَّ مُحَمَّدًا عََبْدُهُ وَ رَسولُهُ)   ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল’ -  বলা হয়েছে।  এছাড়া কোনো কোনো হাদীসে ‘সাক্ষ্য প্রদান’ শব্দের পরিবর্তে ‘বলা’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন হাদীসে আমরা এ কালেমাটিকে নিম্নের বিভিন্ন রূপে দেখতে পাই (বুখারী, আস-সহীহ, ১/১২, ২৯, ৩/১২৬৭; মুসলিম, আস-সহীহ ১/৪৫, ৪৭, ৫৭, ৬১)

(১) প্রথম রূপ:     أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ و أَشْهَدُ أَنِّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ
(২) দ্বিতীয় রূপ:       أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ و أَنِّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ
(৩) তৃতীয় রূপ:     أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ و رَسولُهُ
(৪) চতুর্থ রূপ:         لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ و أَنِّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ
(৫) পঞ্চম রূপ:     أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ و رَسولُهُ

বিভিন্ন  হাদীসে  আমরা  দেখতে  পাই  যে,  সাহাবায়ে  কেরাম  ইসলাম  গ্রহণের  সময়ে  এ  উপরে  উল্লিখিত  এ  সকল  বাক্যের কোনো একটি পাঠ করে ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করতেন। (বুখারী, আস-সহীহ ১/১৭৬, ৩/১২১১; মুসলিম, আস-সহীহ ১/৩০২, ৩/১৩৮৬; নাসাঈ, আস-সুনান ১/১০৯)

(২) কালিমায়ে তাইয়েবা
আমাদের দেশে কালিমা তাইয়েবা বা ‘পবিত্র বাক্য’ বলতে বুঝানো হয় তাওহীদ ও রিসালাতের একত্রিত ঘোষণা:

لا إله إلا الله محمّدٌ رسول اللهِ
কুরআন কারীমে এরশাদ করা হয়েছে:
“তুমি কি দেখ নি, কিভাবে আল্লাহ একটি উদাহরণ পেশ করেছেন: একটি ‘কালিমায়ে তাইয়েবা’ বা পবিত্র বাক্য একটি পবিত্র বৃক্ষের মত, তার মূল প্রতিষ্ঠিত এবং তার শাখা-প্রশাখা আকাশে প্রসারিত।” (সূরা ইবরাহীম: ২৪)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) ও অন্যান্য মুফাস্সির থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এখানে ‘কালিমা তাইয়েবা’ বলতে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ তাওহীদের এ বাক্যটিকে বুঝানো হয়েছে। (তাফসির ইবনে কাসির)
কিন্তু (লা ইলাহা ইল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ) দুইটি বাক্য একত্রিতভাবে কোনো হাদীসে কালিমা তাইয়েবা হিসাবে উল্লেখ করা হয়নি। আমরা দেখেছি যে, কালিমা শাহাদাতকে অনেক সময় “শাহাদাত” শব্দ উহ্য রেখে নিম্নরূপে বলা হয়েছে:
لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ و أَنِّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ
কিন্তু মাঝখানে (وَ أَنَّ) বাদ দিয়ে উভয় অংশ একত্রে
لا إله إلا الله محمّدٌ رسول اللهِ
এভাবে ‘কালিমা’ হিসাবে  সহীহ হাদীসে  কোথাও উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা যায় না।  কোনো কোনো হাদীসে  বর্ণিত হয়েছে যে, এভাবে এ বাক্যদ্বয় একত্রে আরশের গায়ে লিখা ছিল।  এ হাদীসগুলি  অত্যন্ত  দুর্বল  বা বানোয়াট। কোনো কোনো হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) -এর ঝাণ্ডা বা পতাকার গায়ে লিখা ছিল:
لا إله إلا الله محمّدٌ رسول اللهِ
এ অর্থের হাদীসগুলির সনদে দুর্বলতা আছে। (হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/৩২১)

এখানে উল্লেখ্য যে, কালিমা তাইয়িবার দুটি অংশ পৃথকভাবে কুরআন কারীমে ও  হাদীস শরীফে উল্লে খ করা হয়েছে। উভয় বাক্যই কুরআনের অংশ এবং ঈমানের মূল সাক্ষ্যের প্রকাশ। উভয় বাক্যকে একত্রে বলার মধ্যে কোনো প্রকারের অসুবিধা নেই ।
তাবেয়ীগণের  যুগ  থেকেই  কালিমা  শাহাদতের  মূল  ঘোষণা  হিসাবে  এ  বাক্যটির  ব্যবহার  দেখতে  পাওয়া  যায়।  কুরআন  কারীমে ‘কালিমাতু তাকওয়া’  ‘তাকওয়ার বাক্য’ বলা হয়েছে (সূরা ফাতহ: ২৬) । এর ব্যাখ্যায় তাবিয়ী আতা আল-খুরাসানী (১৩৫ হি) বলেন: কালিমায়ে তাকওয়া হলো (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ) ( তাফসিরে তাবারী)

(৩) কালিমায়ে তাওহীদ
কালিমায়ে তাওহীদ নামে আমাদের দেশে নিম্নের বাক্যটি প্রচলিত:
لا إلَهَ إلَّا أَنْتَ و احِدٌا لا ثَاني لَكَ مُحَمَّدٌ رَسولُ اللهِ إِمامُ المُتَّقينَ و رَسولُ رَبِّ العالَمينَ
এ বাক্যটির অর্থ সুন্দর। তবে এ  বাক্যটির কোনোরূপ গুরুত্ব এমনকি এর কোনো প্রকারের উল্লেখ বা অস্তিত্ব কুরআন বা হাদীসে পাওয়া যায় না।

(৪) কালিমায়ে তামজীদ
কালেমায়ে তামজীদ হিসাবে নিম্নে র বাক্যটি প্রচলিত:
لا إَلَهَ آلَّا أَنْتَ نورًا يَهْديْ اللهُ لِنورِهِ مَنْ يَشَاءُ مُحَمَّدٌ رَسولُ اللهِ إِمامُ المُرْسَلينَ خاتَمُ النَّبيِّينَ
এ বাক্যটির অর্থও সুন্দর। কিন্তু এভাবে এ বাক্যটি বলার কোনো নির্দেশনা, এর কোনো গুরুত্ব বা অস্তিত্ব কুরআন বা হাদীসে পাওয়া যায় না।

(৫) কালিমায়ে রাদ্দে কুফর
কালেমায়ে রাদ্দে কুফর নামে কয়েকটি বাক্য প্রচলিত আছে, যেমন:
اللَّهُمَّ إِنِّى أَعوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ شَيْعًا و نُؤْمِنَ بِهِ و أَسْتَغْفِرُكَ مِمَّا أَعْلَمُ بِهِ وَ ما لا أَعْلَمُ بِهِ و أَتُوبُ و آَمَنْتُ وَ أَقُوْلُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ
বাক্যগুলির অর্থ ভাল। কিন্তু বাক্যগুলি এভাবে কোনো হাদীসে পাওয়া যায় না এবং এই বাক্যের কোনো বিশেষ গুরুত্বও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়।

(৬) ঈমানে মুজমাল

ইমানে মুজমাল নামে প্রচলিত বাক্যটির অর্থ সুন্দর  ও সঠিক।  তবে এরূপ  কোনো বাক্য কোনোভাবে কোনো হাদীসে উল্লেখ করা হয়নি।

(৭) ঈমানে মুফাস্সাল
ঈমানের পরিচয় দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন:
أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ وَ مَلائِكَتِهِ و كُتُبِهِ و رُسُلِهِ و اليَومِ الآَخِرِ و تُؤْمِنَ بِالقَدْرِ خَيْرِهِ و شَرِّهِ
“তুমি ঈমান আনবে আল্লাহর উপরে, তাঁর ফিরিশতাগণের উপরে, তাঁর কেতাবগুলির উপরে, তাঁর রাসূলগণের উপরে, শেষ দিবসের (আখেরাতের) উপরে, এবং তুমি ঈমান আনবে তাকদীরের উপরে: তার ভাল এবং তার মন্দের উপরে।” (মুসলিম, আস-সহীহ ১/৩৭; বুখারী, আস-সহীহ ১/২৭, ৪/১৭৯৩)

ঈমানের এ ছয়টি রুকন বা স্তম্ভের কথা কু রআন  ও হাদীসে বারংবার উল্লেখ করা হয়েছে। লক্ষ্যণীয় যে, ‘ঈমানে মুফাস্সালের মধ্যে আখিরাতের বিশ্বাসকে পৃথক দুটি বাক্যাংশে প্রকাশ করা হয়েছে (ইয়াওমিল আখির) ও (বা’সি বা’দাল মাউত): শেষ দিবস ও মৃত্যুর পরে উত্থান। উভয় বিষয় একই।



সুরমা ব্যবহার করা প্রসঙ্গে ইসলামে বিস্তারিত আলোচনা

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

সুরমা ব্যবহার করা প্রসঙ্গে বিস্থারিত আলোচনা
সুরমা ব্যবহারের হুকুম কী? তা ব্যবহারে কি কোন ফজীলত আছে? পুরুষ ও মহিলা সবাই কি সুরমা ব্যবহার করতে পারে?

▶ জাওয়াব : চোখের উপকারার্থে রাত্রে শয়নকালে সুরমা ব্যবহার করা সুন্নাত। সুরমা পুরুষ ও মহিলা সবাই ব্যবহার করতে পারে। সুরমা ব্যবহার সুন্নাত হিসেবে ফজীলতের বিষয়। তা ছাড়াও এটা চোখের নানাবিদ উপকার করে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) সুরমা ব্যবহার করেছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন--রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতিদিন ঘুমানোর পূর্বে চক্ষুদ্বয়ে তিনবার করে সুরমা ব্যবহার করতেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।
বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ (সা.) ‘ইছমিদ’ নামক সুরমা ব্যবহার করার প্রতি তাকীদ করেছেন। কেননা, ইছমিদ সুরমা চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে, চোখের পাতায় চুল গজাতে সাহায্য করে এবং চোখ পরিষ্কার রাখে।
তবে পুরুষের জন্য শুধু সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে সুরমা ব্যবহার করা ঠিক নয়। কারণ, এরূপ অঙ্গসেৌন্দর্য মহিলাদের বিশেষত্ব। পুরুষগণ উপকার হাসিলের নিয়তে সুরমা ব্যবহার করবেন।
কিন্তু যে সকল ছেলেদের দাড়ি গজায়নি, তাদের জন্য সুরমা ব্যবহার করা মাকরূহ। কেননা, তাদের সুরমা ব্যবহার ফিতনার কারণ হতে পারে।
[হাওয়ালা : মিশকাত শরীফ, ১ : ১৭৬/ ফাতাওয়া শামী ২ : ৪১৭/ উসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম (সা.), ১৪৫, ১৪৬/ আল-বাহরুর রায়িক্ব, ২ : ২৮০/ ফাতাওয়া আলমগীরী ৫ : ৩৫৯]

====================
সুরমা একটি খণিজ দ্রব্য | মূল উপাদান হলো লিড (২) সালফাইড, যা চূর্ণ করে এটা তৈরী করা হয় | ইসলামে চোখে সুরমা লাগানো বা সুরমা ব্যবহার করা সুন্নত | রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা ঘুমানোর সময় চোখে ‘ইছমাদ’ সুরমা লাগাও | এতে চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি হয় এবং ভ্রুতে নতুন লোম গজায়’ (ইবনু মাজাহ হা/৩৪৯৬, ছহীহাহ হা/৭২৪) | অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, এটা চোখের ময়লা দূর করে এবং চক্ষু পরিষ্কার করে (ত্বাবারাণী, ছহীহাহ হা/৬৬৫) | তবে সুরমার ঔষধি গুন থাকলেও, মাত্রাতিরিক্ত সীসার (লেড সালফাইড ও গ্যালোনা) এর উপস্থিতি চোখের জন্য বিপদজনক হতে পারে |

====================
সুরমা একটি খণিজ দ্রব্য | মূল উপাদান হলো লিড (২) সালফাইড, যা চূর্ণ করে এটা তৈরী করা হয় | ইসলামে চোখে সুরমা লাগানো বা সুরমা ব্যবহার করা সুন্নত |
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা ঘুমানোর সময় চোখে ‘ইছমাদ’ সুরমা লাগাও | এতে চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি হয় এবং ভ্রুতে নতুন লোম গজায়’ (ইবনু মাজাহ হা/৩৪৯৬, ছহীহাহ হা/৭২৪) |

অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, এটা চোখের ময়লা দূর করে এবং চক্ষু পরিষ্কার করে (ত্বাবারাণী, ছহীহাহ হা/৬৬৫) | তবে সুরমার ঔষধি গুন থাকলেও, মাত্রাতিরিক্ত সীসার (লেড সালফাইড ও গ্যালোনা) এর উপস্থিতি চোখের জন্য বিপদজনক হতে পারে |

___________________ সুরমা ব্যবহার করা প্রসঙ্গে। ______________________

সুরমা ব্যবহারের হুকুম কী? তা ব্যবহারে কি কোন ফজীলত আছে? পুরুষ ও মহিলা সবাই কি সুরমা ব্যবহার করতে পারে?

চোখের উপকারার্থে রাত্রে শয়নকালে সুরমা ব্যবহার করা সুন্নাত। সুরমা পুরুষ ও মহিলা সবাই ব্যবহার করতে পারে। সুরমা ব্যবহার সুন্নাত হিসেবে ফজীলতের বিষয়। তা ছাড়াও এটা চোখের নানাবিদ উপকার করে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) সুরমা ব্যবহার করেছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন--রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতিদিন ঘুমানোর পূর্বে চক্ষুদ্বয়ে তিনবার করে সুরমা ব্যবহার করতেন।

অন্য এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।
বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ (সা.) ‘ইছমাদ’ নামক সুরমা ব্যবহার করার প্রতি তাকীদ করেছেন। কেননা, ইছমাদ সুরমা চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে, চোখের পাতায় চুল গজাতে সাহায্য করে এবং চোখ পরিষ্কার রাখে।

তবে পুরুষের জন্য শুধু সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে সুরমা ব্যবহার করা ঠিক নয়। কারণ, এরূপ অঙ্গসেৌন্দর্য মহিলাদের বিশেষত্ব। পুরুষগণ উপকার হাসিলের নিয়তে সুরমা ব্যবহার করবেন।
[হাওয়ালা : মিশকাত শরীফ, ১ : ১৭৬/ ফাতাওয়া শামী ২ : ৪১৭/ উসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম (সা.), ১৪৫, ১৪৬/ আল-বাহরুর রায়িক্ব, ২ : ২৮০/ ফাতাওয়া আলমগীরী ৫ : ৩৫৯]

সহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ি ও ইমামদের মাঝেও সুরমা ব্যবহারের বেশ প্রচলন ছিল। এখনও সৌখিনরা সুরমা ব্যবহার করেন।
তবে কেউ যদি কাজটি নবীজি করেছেন ভেবে করেন, তাহলে সুন্দর্য ও সৌখিনতাও হলো সঙ্গে সুন্নতের সওয়াবও আমলনামায় যুক্ত হবে। আমরা জেনে নিই সুরমা ব্যবহারের সুন্নত পদ্ধতি। 
সুরমা রাতে ঘুমের আগে, পরিমাণ মতো তিনবার লাগানো যায়।
ইবনে সাদ বলেন, তিন পদ্ধতিতে সুরমা লাগানো যায়।
১. প্রত্যেক চোখে আলাদাভাবে তিনবার করে সুরমা দিতে হবে। তারমানে প্রথমে ডান চোখে তিনবার। এরপর বাম চোখে তিনবার।
২. দুই চোখে এক সঙ্গে সুরমা দেওয়া। গড়ে তিনবার হওয়া। প্রথমে ডান চোখের ডান দিক হতে একবার। এরপর বাম চোখের ডান দিক হতে একবার। পর্যায় ক্রমে তিনবারে শেষ করা।
৩. নবীজি কখনও ডান চোখে তিন বার এবং বাম চোখে দুইবার লাগাতেন। তাই চাইলে এ পদ্ধতিতেও সুরমা লাগানো যাবে। আসুন আমরা নিয়মিত সুরমা ব্যবহার করি। চোখের জ্যোতি বাড়াই। আমলনামায় যোগ করি অফুরন্ত সওয়াব।

একটি ভুল তথ্য : সুরমা কি তুর এর তাজাল্লী থেকে সৃষ্টি?
-------------- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - --  - - - -

সুরমার বিষয়ে কোনো কোনো লোককে বলতে শোনা যায় যে, হযরত মুসা আ. যখন তুর পাহাড়ে আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখতে চেয়েছিলেন তখন আল্লাহর তাজাল্লীতে পাহাড় ভস্মহয়ে গিয়েছিল। সেই ভস্মিভূত পাহাড় থেকেই সুরমার উৎপত্তি ও ব্যবহার।

এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
সুরমা একটি খণিজ দ্রব্য। এর সাথে তুর পাহাড়ের কোনো সম্পর্ক নেই। মুসা আ.-এর আল্লাহকে দেখার ইচ্ছাও তুর পাহাড়ের মূল ঘটনাটি সত্য। কুরআন মজীদে এর পূর্ণ বিবরণ রয়েছে। (সূরা আ‘রাফ : ১৪৩ দ্রষ্টব্য)
কিন্তু কোথাও কোন মুফাস্সিরীনে কেরাম এই ঘটনার সাথে সুরমাকে জড়িয়ে দেওয়ার কথাটির সামান্যতমও উল্লেখ করেন নাই । বরং সুরমা একটি খণিজ দ্রব্য | মূল উপাদান হলো লিড (২) সালফাইড, শীসা যাতীয় ধাতুবদ্রব্য যা চূর্ণ করে এটা তৈরী করা হয় |
তুর পাহাড়ের ভস্মের সাথে কোন সম্পর্কই নেই , ।
========================= ==================
আইএনবি ধর্ম ডেস্ক: আল্লাহ জামিল। সুন্দর। রূপময়-রূপবতী। পৃথিবীর স্বভাবজাত সব রূপ সন্দর্য ও নান্দনিকতা ইসলাম পছন্দ করে। কুরআনের উচ্চারণ- সিবগাতাল্লাহি ওয়ামান আহসানু মিনাল্লাহি সিবগা। রঙ বৈচিত্রে মহান আল্লাহ থেকে আর কে বেশি সুন্দর? সুরা বাকারা : ১৩৮

হাদিসে রাসুল বলে, ইন্নাল্লাহা জামিল, ইয়ুহিব্বুল জামাল। মহান রব সুন্দর-নান্দনিক। তিনি রূপ সুন্দর্য পছন্দ করেন। রূপের পৃথিবীতে প্রভুর কারুশিল্পের শ্রেষ্ঠ উপমা মানুষ। মানবফুল। মানুষের গঠন শৈলি, নিমার্ণের আখ্যান বোধ ও বিশ্বাসের স্বতন্ত্র অভিধার আর কোনো উদাহারণ নেই। কুরআনে অক্ষরচিত্র হলো, আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি শৈল্পিক অবয়বে। সুন্দরতম গঠনে। সুরা তীন : ৪
মানুষের দেহ গঠন ও অবয়ব সুন্দর। রূপসী। রাঙানো। সুন্দর অবয়বে মানুষ সৃষ্টি। মানবেরা আরও সাজতে চায়। রাঙাতে চায় শরীর ও মন। আমাদের নারীরা সাজতে বেশি আগ্রহী। সাজের ধারাবাহিকতায় নারীরা হাতে-পায়ে মেহেদি ব্যবহার করেন। হাতে মেহদি ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দবোধ করলেও; অনেকের পায়ে ব্যবহারে নানা প্রশ্ন। নানি-দাদিদের মুখে তো স্পষ্ট ফতোয়া শুনেছি, পায়ে মেহেদি ব্যবহার জায়েজ নেই। বেয়াদবি! কেন? নবীজি দাঁড়িতে মেহেদী ব্যবহার করেছেন। যে মেহেদি নবীজির দাঁড়িতে লেগেছে তা কখনও মানুষের পায়ে লাগতে পারে না।

যুক্তি যত চমৎকার উত্তর ততই সোজা! নবীজির দাঁড়িতে তেল ব্যবহার করেছে! পানিও ব্যবহার করেছেন! তাই বলে পানি ও তেল আমরা পায়ে ব্যবহার করি না? সুতরাং পায়ে মেহেদী ব্যবহারে বাধা কোথায়? বিখ্যাত ফতোয়গ্রন্থ রদ্দুল মুখতারে আছে, নারীদের জন্য হাতে ও পায়ে মেহেদী লাগানো মুস্তাহাব। আবু দাউদ শরিফের ৪১৬৪ নাম্বার হাদিসে আছে, একজন নারী হজরত আয়েশা রা.-এর কাছে মেহেদী লাগানো বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। উত্তরে হজরত আয়েশা রা.বলেন, নারীদের মেহেদি ব্যবহারে মানা নেই। তবে রাসূল সা. মেহেদির ঘ্রাণ অপছন্দ করতেন। ফেকাহর বিভিন্নগ্রন্থে নারীদের হাতে পায়ে মেহেদির ব্যবহারকে উৎসাহিতও করেছে। তবে পুরুষ শুধু চিকিৎসার জন্য মেহেদি ব্যবহার করতে পারবে। না হয় হাতে পায়ে কোথাও ব্যবহার করতে পারবে না। খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৭৩, আলবাহরুর রায়েক ৮/১৮৩,রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/১০৯

বিয়ের সময়ও কি পুরুষরা মেহেদি ব্যবহার করতে পারবে না? যাওয়াহিরুল ফিকহ গ্রন্থে আছে, পুরুষরা বিয়ের সময়ও মেহেদী লাগতে পারবে না। সাজ-সজ্জার উদ্যেশ্যে তারা কখনও হাতে-পায়ে মেহেদি লাগাতে পারবে না। কারণ মেহেদী এক ধরনের রঙ। আর পুরুষদের জন্য রঙ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। হজরত রাসূল সা. বলেন, জেনে রাখো যে, পুরুষরা এমন সুগন্ধ ব্যবহার করবে যাতে সুগন্ধি আছে রং নেই। বিপরীতে নারীরা এমন সুগন্ধী ব্যবহার করবে, যাতে রং আছে সুগন্ধি কম! তিরমিজি হা/২৭৮৭, মিশকাত হা/৪৪৪৩)। এ ছাড়া মহানবী সা. পুরুষদের জন্য রঙ থাকার কারণে জাফরানের সুগন্ধি ব্যবহার করতেও নিষেধ করেছেন। বুখারি হা/৫৮৪৬, মুসলিম হা/২১০১, মিশকাত হা/৪৪৩৪

তবে চিকিৎসার প্রয়োজনে যে কোন স্থানে মেহেদি ব্যবহার করা জায়েজ আছে। তিরমিজি হা/২০৫৪, মাথার চুল ও দাঁড়িতে মেহেদি ব্যবহার করা উত্তম। আবুদাউদ, তিরমিজি, মিশকাত হা/৪৪৫১

২. হজরত রাসুল সা. বলেন, তোমরা ‘ইসমিদ সুরমা’ ব্যবহার কর, এতে তোমাদের চোখের জ্যোতি বা চোখের পালক বৃদ্ধি পাবে। তিরমিজি শরিফইবন আব্বাস রা. সূত্রে বর্ণিত নবীজি বলেছেন, তোমাদের উত্তম সুরমা হলো ইসমিদ নামক সুরমা। কেননা তা দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং চুল উৎপন্ন করে। সুনান নাসাঈ সুনান নাসায়ি গ্রন্থে উল্লেখ্য, নবীজি সা. রাতে ঘুমের আগে তিনবার সুরমা লাগাতেন। সুনান নাসায়ি ও শামায়েলে তিরমিজহাদিসগুলোর বক্তব্য এক ও অভিন্ন। তার মানে নবীজি সুরমা ব্যবহার করেছেন। ব্যবহারে উৎসাহিত করেছেন। সহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ি ও ইমামদের মাঝেও সুরমা ব্যবহারের বেশ প্রচলন ছিল। এখনও সৌখিনরা সুরমা ব্যবহার করেন। তবে কেউ যদি কাজটি নবীজি করেছেন ভেবে করেন, তাহলে সুন্দর্য ও সৌখিনতাও হলো সঙ্গে সুন্নতের সওয়াবও আমলনামায় যুক্ত হবে। আমরা জেনে নিই সুরমা ব্যবহারের সুন্নত পদ্ধতি। সুরমা রাতে লাগানো চায়। ঘুমের আগে। পরিমাণ মতো তিনবার। ইবনে সাদ বলেন, তিন পদ্ধতিতে সুরমা লাগানো যায়। ১. প্রত্যেক চোখে আলাদাভাবে তিনবার করে সুরমা দিতে হবে। তার মানে প্রথমে ডান চোখে তিনবার। এরপর বাম চোখে তিনবার।

দুই চোখে এক সঙ্গে সুরমা দেওয়া। গড়ে তিনবার হওয়া। প্রথমে ডান চোখের ডান দিক হতে একবার। এরপর বাম চোখের ডান দিক হতে একবার। পর্যায় ক্রমে তিনবারে শেষ করা। ৩. নবীজি কখনও ডান চোখে তিন বার এবং বাম চোখে দুইবার লাগাতেন। তাই চাইলে এ পদ্ধতিতেও সুরমা লাগানো যাবে। আসুন আমরা নিয়মিত সুরমা ব্যবহার করি। চোখের জ্যোতি বাড়াই। আমলনামায় যোগ করি অফুরন্ত সওয়াব।



ফজিলত পূর্ণ ও অতি উত্তম নেক দু'আ

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

জেনে নিন যেসকল ফজিলত পূর্ণ ও অতি উত্তম নেক দু'আ সমূহ আমাদের জান্নাতের পথ সুগম করে দেয়।

(১) প্রতিদিন ১০০ বার সুবহান আল্লাহ্ পাঠ করলে ১০০০সাওয়াব লিখা হয় এবং ১০০০ গুনাহ মাফ করা হয় । [সহীহ মুসলিম]

(২) আলহামদুলিল্লাহ মীযানের পাল্লাকে ভারী করে দেয় এবং সর্বোত্তম দোআ’। [তিরমিযী, ইবনে মাযাহ]

(৩) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সর্বোত্তম যিকর। [তিরমিযী, ইবনে মাযাহ]

.(৪) সুবহান আল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর এই কালিমাগুলি আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় এবং নবী ( ﷺ ) বলেনঃ পৃথিবীর সমস্ত জিনিসের চইতে আমার নিকট অধিক প্রিয়। [সহীহ মুসলিম]

.(৫) যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহী পাঠ করবে সমুদ্রের ফেনা পরিমান (সগীরা) গুনাহ থাকলে ও তাকে মাফ করে দেওয়া হবে। [সহীহ আল-বুখারী, সহীহ মুসলিম]

.( ৬) নবী ( ﷺ ) বলেনঃ সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহী সুবহানাল্লিল আযীম এই কালীমাগুলি জিহ্বায় উচ্চারনে সহজ , মীযানের পাল্লায় ভারী ,দয়াময় আল্লাহর নিকট প্রিয় । [সহিহ আল- বুখারী, সহীহ মুসলিম ]

.(৭) যে ব্যক্তি সুবহান আল্লাহিল ‘আযীমি, ওয়াবি হামদিহী পাঠ করবে প্রতিবারে তার জন্য জান্নাতে একটি করে (জান্নাতী)খেজুর গাছ রোপন করা হবে । [আত-তিরমিযী, আল-হাকীম, সহীহ আল-জামে]

.( ৮) নবী ( ﷺ ) বলেনঃ লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ হচ্ছে জান্নাতের গুপ্তধন সমুহের মধ্যে একটি গুপ্তধন। [সহীহ আল-বুখারী, সহীহ মুসলিম ]

.( ৯) নবী ( ﷺ ) বলেনঃ "সুবহান আল্লাহ্ ওয়াল হামদুলিল্লাহ্ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ আল্লাহু আকবর ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুউ-ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ্" এই কালীমাগুলি হচ্ছে “অবশিষ্ট নেকআ’মল সমুহ” । [আহমাদ ]

.( ১০) নবী ( ﷺ ) বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দুরুদ পাঠ করবে আল্লাহ তাআ’লা তার প্রতি দশ বার রহমত বর্ষণ করবেন।



সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠের ফজিলত

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
 
সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করলে ৭০ হাজার ফিরিশতা নিযুক্ত ও শহীদী মৃত্যুর ফযীলত
মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ..মা’কিল ইবন ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে তিনবার পাঠ করবেঃ
أَعُوذُ بِاللهِ السَّمِيعِ العَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
এরপর সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করবে আল্লাহ্ তা’আলা তার জন্য সত্তর হাজার ফিরিশতা নিযুক্ত করে দেন। যাঁরা বিকাল পর্যন্ত তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকেন।
এই দিন যদি সে মারা যায় তবে তার শহীদী মৃত্যু হয়।
আর যদি বিকালে পাঠ করে তবুও ঐ ফযীলতই হবে।
তা'লীকুর রাগীব ২/২৫৫ হাদিসের মানঃ- যঈফ

সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত ও উচ্চারণঃ-

هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ
উচ্চারণঃ- হু আল্লা হুল্লাজী লা(আ) ইলাহা ইল্লা হু। আলিমুল গাইবী ওয়াশ শাহাদাতী হুয়ার রাহমানুর রাহীম।
অর্থঃ- তিনিই আল্লাহ তা’আলা, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যকে জানেন তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা। [সুরা হাশর: ২২]

هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ
উচ্চারণঃ- হু আল্লা হুল্লাজী লা(আ) ইলাহা ইল্লা হু। আল মালিকুল কুদ্দুসুস সালামুল ম্যু মিনুল মুহাইমিনুল আজিজুল জাব্বারুল মুতাকাব্বির। ছুব হানাল্লাহী আম্মা ইউশরিকুন।
অর্থঃ- তিনিই আল্লাহ তিনি ব্যতিত কোন উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তাদাতা, আশ্রয়দাতা, পরাক্রান্ত, প্রতাপান্বিত, মাহাত্ন?শীল । তারা যাকে অংশীদার করে আল্লাহ তা’ আলা তা থেকে পবিত্র। [সুরা হাশর: ২৩]

هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاء الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
উচ্চারণঃ- হু আল্লাহুল খালেকুল বারিয়্যুল মুছাওরেলাহুল আছমা(আ)উল হুছনা। ইউ ছাব্বিহু লাহু মা ফিছ ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়া হুয়াল আজীজুল হাকীম।
অর্থঃ- তিনিই আল্লাহ তা’আলা, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নাম সমূহ তাঁরই। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়। [সুরা হাশর: ২৪]

সুরা হাশর ফজর নামাজের পর সমষ্টিগতভাবে সজোরে পড়া বেদাত ‏ও মাকরুহ্ কাজ । উল্লেখ্য যে, সুরা হাশরের সর্বশেষ আয়াত সমূহের উপকারিতা ও কল্যাণ প্রসঙ্গে তিরমিজি শরিফে বর্ণিত আছে যে, নবী কারিম (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে সুরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেস্তা নিযুক্ত করে দিবেন । তারা সন্ধা পর্যন্ত তার জন্য রহমতের দোয়া করবে । সেদিন মারা গেলে শহীদের মৃত্যু হাসীল হবে । যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এ দোয়া পাঠ করবে সেও এই মর্তবা লাভ করবে ।

উক্ত হাদীসে সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত সকালে অর্থাৎ ভোরে ঘুম হতে উঠার পর পবিত্র অবস্থায় এবং সন্ধায় একাকি পাঠ করার কথা উল্লেখ রয়েছে । কিন্তু ফজরের নামাজের জামায়াতের পর সরবে সমষ্টিগতভাবে পড়ার বা পাঠ করার কথা আদৌ উল্লেখ নেই । বিধায় ফজরের নামাযের পর সমষ্টিগতভাবে সরবে পড়তেই হবে এটাও বেদাতী আকিদা-বিশ্বাস । কারণ হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী (রহঃ) বলেছেন,
প্রত্যেক আমলের স্থান ও সময় আছে । সময় এবং স্থান মত না করলে তা ত্রুটি হয়। যদিও তা নেক ও ফজিলত পূর্ণ আমল হয় । যেমন নামাজে তাশাহুদ পাঠের সময় যদি কেউ সুরা ফাতেহা পাঠ করে তবে তা ভুল ও গুনাহ্ হবে । যদিও সেই সুরাটি কুরআনের জননী তূল্য হয় ।
— মকতুবাত শরীফ ৫ম খন্ড, ৮১ পৃঃ

উল্লেখ্য যে, ‘আদ্দীন’ কিতাবে ৮০ পৃঃ উল্লেখ আছে যে, নবী কারীম (সাঃ)সুরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত ভোরে ঘুম হতে উঠার পর ‘পবিত্রতার সহিত’ পড়ার কথা বলেছেন । ফজরের নামাজ বাদ সাহাবিগণকে সাথে নিয়ে পড়েছেন এ কথা কোন হাদীসে প্রমাণ পাওয়া যায় না । সে কারণে ফজর নামাজ বাদ সকলে একসঙ্গে মিলে সজোরে পড়া বেদাত এবং মাকরুহ । মূল কথা নবী কারীম (সাঃ) যে কোন ব্যাপারে যে ভাবে যা আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন সে ভাবে না পড়লে বা আমল না করলে তার ফায়দা পাওয়া যায় না বরং তার জন্য গুনাহ্ হয়। আর কোন কোন অবস্থায় আল্লাহর লানত পড়তে থাকে । এজন্য প্রত্যেক আমল ইসলামী শরীয়তের অর্থাৎ ফেকাহ্‌ বিধান অনুযায়ী করা দরকার, নচেৎ ফজিলত, ছওয়াব এবং বরকত কিছুই পাওয়া যাবে না ।

যখন মুসল্লিরা নামাজ, তসবিহ ইত্যাদিতে নিয়োজিত থাকেন তখন মসজিদে ফজরের নামাজের জামায়াতের পরে বা যে কোন ফরজ নামাজের জামায়াতের পরে সরবে সমষ্টিগতভাবে সুরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত পাঠ করা মাকরুহ্ এবং বেদাত হবে । কারণ এর দ্বারা অন্যের এবাদতে বিঘগ্ন সৃষ্টি করা হয় । মুলতঃ সেও অন্যের এবাদতের বাধা প্রদানকারী হিসেবে গণ্য হবে এবং গুনাহ্গার হবে । যদিও বাহ্যতঃ ভালো কাজ কিন্তু শরীয়াতে ফেকার বিধান মতে না হলে মাকরুহ্ কাজ হবে । এজন্যে হযরত মুজাদ্দিদে আলফেসানি (রহঃ) বলেন,
তাই ধর্ম পথে চলার জন্য এবং আমল করার জন্য একজন মোর্শেদ বা পথ প্রদর্শক দরকার । নচেৎ আমল ও মেহনত বেকার ।
— মকতুবাত শরীফ ৫ম খন্ড ৮১ পৃঃ



নামাজে শাহাদাত (তর্জনী) আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা সুন্নত

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

নামাজে শাহাদাত (তর্জনী) আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা সুন্নত
সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে কেবল আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা প্রমাণিত। আঙ্গুল নাড়ানো নয়। যারা আঙ্গুল নাড়ানোর কথা বলেন, তাদের বক্তব্যটি বিশুদ্ধ নয়।
عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا قَعَدَ يَدْعُو وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَيَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ وَوَضَعَ إِبْهَامَهُ عَلَى إِصْبَعِهِ الْوُسْطَى وَيُلْقِمُ كَفَّهُ الْيُسْرَى رُكْبَتَهُ

হযরত আমের আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূল সাঃ যখন তাশাহুদ পড়ার জন্য বসতেন, তখন ডান হাতখানা ডান উরুর উপর এবং বাঁ হাতখানা বাঁ উরুর উপর রাখতেন। আর শাহাদত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। এ সময় তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার সাথে সংযুক্ত করতেন এবং বাঁ হাতের তালু [বাঁ] হাঁটুর রাখতেন। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৩৩৬, সহীহ ইবনে হিব্বান-৫/২৭০}


















তাশাহ্‌হুদ / আত্তাহিইয়াতু ও দুরুদ

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

তাশাহ্‌হুদ/আত্তাহিইয়াতু লিল্লাহি…এই দুয়াটির আসল নাম হচ্ছে ‘তাশাহহুদ’।

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ، وَالصَّلَواتُ، وَالطَّيِّباتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ. أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسولُهُ
উচ্চারণঃ আত্তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি ওয়াস্‌সালাওয়া-তু ওয়াত্তায়্যিবা-তু আস্‌সালা-মু আ’লাইকা আইয়্যূহান নাবিয়্যূ ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহু। আস্‌সালা-মু আ’লাইনা ওয়া আ’লা ই’বাদিল্লা-হিস সোয়ালিহীন। আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহা’ম্মাদান আ’ব্দুহু ওয়া রাসুলুহু।
অর্থঃ যাবতীয় ‘তাহিয়্যা’ (অভিবাদন, প্রশংসাসূচক বাক্য) আল্লাহ্‌র জন্য, অনুরূপভাবে সকল সালাত (দুয়া, নামায ইত্যাদি) ও পবিত্র কাজগুলোও তাঁর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহ্‌র নেক বান্দাদের উপরেও শান্তি অবতীর্ণ হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ্‌র বান্দা ও রাসূল (প্রেরিত দূত)।
দুরুদ১। রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামএর জন্য দুয়া করা।

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা সাল্লি আ’লা মুহাম্মাদিউ ওয়া আ’লা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আ’লা ইবরাহীমা ওয়া আ’লা আ-লি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হা’মীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বারিক আ’লা মুহাম্মাদিউ ওয়া আ’লা আলি মুহা’ম্মাদিন, কামা বা-রাকতা আ’লা ইব্রাহীমা ওয়া আ’লা আ-লি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারের প্রতি শান্তি অবতীর্ণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম এবং তাঁর পরিবারের প্রতি শান্তি অবতীর্ণ করেছিলেন, নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহান। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারের প্রতি বরকত দান করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম এবং তাঁর পরিবারের প্রতি বরকত দান করেছিলেন, নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহান।
আল্লা-হুম্মা – হে আল্লাহ! সাল্লি – আপনি শান্তি অবতীর্ণ করুন, আ’লা – উপরে, মুহাম্মাদিউ –মুহাম্মাদ এর, ওয়া – এবং, আ’লা – উপরে, আ-লি মুহাম্মাদিন – মুহাম্মাদ এর পরিবার, কামা –যেমনিভাবে, সাল্লাইতা – শান্তি অবতীর্ণ করেছিলেন, আ’লা – উপরে, ইবরাহীম – ইবরাহীম, ওয়া – এবং, আ’লা – উপরে, আ-লি ইব্রাহীম –ইব্রাহীমের পরিবার, ইন্নাকা – নিশ্চয়ই আপনি,হামীদ – প্রশংসিত, মাজীদ – মহান।
অনুরূপভাবে দ্বিতীয় অংশের অর্থ হুবুহু এক…শুধুমাত্র সালাম বা শান্তির জায়গায় বরকত। বরকত অর্থ হচ্ছে, অল্প থেকে অনেক বৃদ্ধি পাওয়া।

দুরুদ২। দুয়া মাসুরা
রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিতসালাম ফেরানোর পূর্বের দুয়াগুলোকে ‘দুয়া মাসুরা’বলা হয়। সাধারণত আমরা যেই দুয়া মাসুরাটা পড়ি, এছাড়াও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ দুয়া মাসুরা আছে, যা আপনারা ‘হিসনুল মুসলিম’ বই থেকে মুখস্থ করতে পারেন। সাধারণত বেশিরভাগ মানুষ যেই দুয়া মাসুরাটা পড়ে।

اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْماً كَثِيراً، وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الغَفورُ الرَّحيمُ
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাসীরা। ওয়ালা ইয়াগফিরুয্-যুনূবা ইল্লা আংতা। ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিং ই’নদিকা, ওয়ারহা’মনী, ইন্নাকা আনতাল গাফূরুর রাহীম।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের উপর অনেক যুলুম করেছি। আর আপনি ছাড়া গুনাহসমূহ কেউ ক্ষমা করতে পারে না। সুতরাং আমাকে আপনার পক্ষ থেকে বিশেষ ক্ষমা দ্বারা মাফ করে দিন, আর আমার প্রতি দয়া করুন; নিশ্চয়ই আপনি তো ক্ষমাকারী, পরম দয়ালু
আল্লা-হুম্মা – হে আল্লাহ! ইন্নী – নিশ্চয়ই আমি, যলামতু – যুলুম/অন্যায় করেছি, নাফসী – নিজের উপরে, যুলমান কাসীরা – অনেক অন্যায়। ফাগফির লী – অতএব আমাকে মাফ করুন, মাগফিরাতাম মিং ই’নদিকা – আপনার পক্ষ থেকে বিশেষ ক্ষমার দ্বারা, ওয়ারহা’মনী – আর আমার প্রতি দয়া করুন, ইন্নাকা আনতাল – নিশ্চয়ই আপনি তো, গাফূর থেকে গাফূরুর –
অত্যন্ত ক্ষমাশীল, রাহীম – পরম দয়ালু।



ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png