শিরোনাম
Loading latest headlines...

সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২০

রামাযান ও ছিয়াম সম্পর্কে কতিপয় যঈফ ও জাল হাদিস বর্ণনা

সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

মাহে রামাযান আল্লাহর এক অনন্য নে‘মত। বান্দাদের পরকালীন মুক্তি ও জান্নাত লাভের সুযোগ করে দিতে এ মাস আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুদান, অতি বড় ইহসান ও অনুগ্রহ। ছহীহ হাদীছে রামাযান ও ছিয়ামের অশেষ গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। তারপরেও এ মাসের ফযীলত বর্ণনায় বিভিন্ন যঈফ-জাল বর্ণনা সমাজে প্রচলিত আছে। এগুলি আমলযোগ্য নয়। তদুপরি এক শ্রেণীর আলেম এসব প্রচার করে থাকেন। এ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও সাবধান করতে কিছু জাল-যঈফ বর্ণনা নিম্নে উল্লেখ করা হ’ল।-

১. ﻭَﺻِﻴَﺎﻡُ ﺷَﻬْﺮِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺑِﺎﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ﻛَﺼِﻴَﺎﻡِ ﺃَﻟْﻒِ ﺷَﻬْﺮٍ ﻓِﻴﻤَﺎ ﺳِﻮَﺍﻩُ، ﻭﻓﻲ ﻟﻔﻆ : ﺧَﻴْﺮٌ ﻣِﻦْ ﺃَﻟْﻒِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻓِﻴﻤَﺎ ﺳِﻮَﺍﻫَﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺒُﻠْﺪَﺍﻥِ –
‘মদীনায় এক রামাযান ছাওম পালন করা অন্যান্য শহরে হাযার মাসের ছাওমের সমান’। অন্য শব্দে আছে, ‘দুনিয়ার অন্যান্য শহরে হাযার রামাযানের তুলনায় উত্তম’।[1] হাদীছটি মওযূ‘।[2]

২. ﺳَﻴِّﺪُ ﺍﻟﺸُّﻬُﻮﺭِ ﺷَﻬْﺮُ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻭَﺃَﻋْﻈَﻤُﻬَﺎ ﺣُﺮْﻣَﺔً ﺫُﻭ ﺍﻟْﺤِﺠَّﺔِ –
‘মাস সমূহের সরদার হচ্ছে রামাযান মাস। আর সবচেয়ে বেশী সম্মানিত হচ্ছে যিলহজ্জ’।[3] হাদীছটি যঈফ।[4]

৩. ﺇِﻥَّ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﻣَﻼَﺋِﻜَﺔٌ ﻻَ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﻋَﺪَﺩَﻫُﻢْ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠﻪُ، ﻓَﺈﺫَﺍ ﺩَﺧَﻞَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥُ ﺍِﺳْﺘَﺄْﺫَﻧُﻮْﺍ ﺭَﺑَّﻬُﻢْ ﺃَﻥْ ﻳَّﺤْﻀُﺮُﻭْﺍ ﻣَﻊَ ﺃُﻣَّﺔِ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ –
‘আসমানে বহু ফেরেশতা রয়েছে, যাদের সংখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। যখন রামাযান মাস আগমন করে, তখন তারা উম্মতে মুহাম্মদীর সাথে (তারাবীতে) অংশগ্রহণ করার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করে’।[5] হাদীছটি যঈফ।[6]

৪. ﺷَﻬْﺮُ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺃَﻭَّﻟُﻪُ ﺭَﺣْﻤَﺔٌ ﻭَﺃَﻭْﺳَﻄُﻪُ ﻣَﻐْﻔِﺮَﺓٌ ﻭَﺁﺧِﺮُﻩُ ﻋِﺘْﻖٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ –
‘রামাযান মাসের প্রথম অংশ রহমত, মধ্যম অংশ মাগফেরাত ও শেষ অংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তির’।[7] হাদীছটি মুনকার।[8]

৫. ﺻُﻮْﻣُﻮْﺍ ﺗَﺼِﺤُّﻮْﺍ –
‘ছাওম পালন কর, সুস্থ থাক’।[9] হাদীছটি যঈফ।[10]

৬. ﻟَﻮْ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﺍﻟْﻌِﺒَﺎﺩُ ﻣَﺎ ﻓِﻲ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻟَﺘَﻤَﻨَّﺖْ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥُ ﺳَﻨَﺔً ﻛُﻠَّﻬَﺎ، ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﺗُﺰَﻳَّﻦُ ﻟِﺮَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻣِﻦْ ﺭَﺃْﺱِ ﺍﻟْﺤَﻮْﻝِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺤَﻮْﻝِ ،
‘বান্দারা যদি জানত যে, রামাযানে কি রয়েছে, তাহ’লে তারা আশা করত পুরো বছর যেন রামাযান হয়। নিশ্চয়ই জান্নাতকে বছরের শুরু থেকে অন্য বছরের শুরু পর্যন্ত রামাযানের জন্য সুসজ্জিত করা হয়…’।[11] হাদীছটি দুর্বল।[12]

৭. ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻟﺘَﺰَّﺧْﺮَﻑُ ﻭَﺗُﻨَﺠَّﺪُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺤَﻮْﻝِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺤَﻮْﻝِ ﻟِﺪُﺧُﻮﻝِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ، ﻓَﺘَﻘُﻮْﻝُ ﺍﻟْﺤُﻮْﺭُ : ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺍﺟْﻌَﻞْ ﻟَﻨَﺎ ﻓِﻲ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟﺸَّﻬْﺮِ ﻣِﻦْ ﻋِﺒَﺎﺩِﻙَ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟًﺎ ،
‘নিশ্চয়ই জান্নাত এক বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রামাযান আগমনের জন্য সজ্জিত ও পরিপাটি করা হয়। তখন জান্নাতী হূররা বলে, হে আল্লাহ! এ মাসে তোমার বান্দাদের থেকে আমাদের জন্য স্বামী নির্বাচন কর’।[13] হাদীছটি মুনকার।[14]

৮. ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻘُﻮْﻝُ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻹِﻓْﻄَﺎﺭِ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻟَﻚَ ﺻُﻤْﺖُ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺭِﺯْﻗِﻚَ ﺃَﻓْﻄَﺮْﺕُ –
‘নবী করীম (ছাঃ) প্রত্যেক ইফতারের সময় বলতেন, হে আল্লাহ! আপনার জন্য ছাওম পালন করছি এবং আপনার রিযকের দ্বারাই ইফতার করছি’।[15] হাদীছটি দুর্বল।[16]

৯. ﺟَﺎﺀَ ﺃَﻋْﺮَﺍﺑِﻲٌّ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺇِﻧِّﻲ ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﺍﻟْﻬِﻠَﺎﻝَ، ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﺗَﺸْﻬَﺪُ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠﻪُ ﺃَﺗَﺸْﻬَﺪُ ﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ، ﻗَﺎﻝَ : ﻧَﻌَﻢْ، ﻗَﺎﻝَ : ﻳَﺎ ﺑِﻠَﺎﻝُ ﺃَﺫِّﻥْ ﻓِﻲ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺃَﻥْ ﻳَﺼُﻮﻣُﻮﺍ ﻏَﺪًﺍ .
‘এক বেদুঈন নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আমি চাঁদ দেখেছি, তিনি বললেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)। সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, হে বেলাল! মানুষকে জানিয়ে দাও, তারা যেন আগামী কাল ছাওম পালন করে’।[17] হাদীছটি মুরসাল[18] ও যঈফ।[19]

১০. ﻧَﻮْﻡُ ﺍﻟﺼَّﺎﺋِﻢِ ﻋِﺒَﺎﺩَﺓٌ، ﻭَﺳُﻜُﻮﺗُﻪُ ﺗَﺴْﺒِﻴﺢٌ، ﻭَﺩُﻋَﺎﺅُﻩُ ﻣُﺴْﺘَﺠَﺎﺏٌ، ﻭَﻋَﻤَﻠُﻪُ ﻣُﺘَﻘَﺒَّﻞٌ-
‘ছায়েমের নিদ্রা ইবাদত, তার চুপ থাকা তাসবীহ (পাঠের সমতুল্য), তার দো‘আ ও আমল কবুল হয়’।[20] হাদীছটি যঈফ।[21]

11. ﻭَﻣَﻦْ ﺃَﺩَّﻯ ﻓِﻴْﻪِ ﻓَﺮِﻳْﻀَﺔً ﻛَﺎﻥَ ﻛَﻤَﻦْ ﺃَﺩَّﻯ ﺳَﺒْﻌِﻴْﻦَ ﻓَﺮِﻳْﻀَﺔً ﻓِﻴْﻤَﺎ ﺳِﻮَﺍﻩُ ،
‘যে ব্যক্তি রাযামানে একটি ফরয আদায় করবে, অন্য মাসে তা সত্তরটি ফরয আদায়ের সমান’।[22] হাদীছটি মুনকার।[23]

12. ﻋﻨﺄﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟِﻜُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﺯَﻛَﺎﺓٌ ﻭَﺯَﻛَﺎﺓُ ﺍﻟْﺠَﺴَﺪِ ﺍﻟﺼَّﻮْﻡُ –
আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক বস্ত্তর যাকাত আছে, আর শরীরের যাকাত হচ্ছে ছিয়াম’।[24] হাদীছটি যঈফ।[25]

13. ﻳُﺴَﺒِّﺢُ ﻟِﻠﺼَّﺎﺋِﻢِ ﻛُﻞُّ ﺷَﻌْﺮَﺓٍ ﻣِﻨْﻪُ ﻭَﻳُﻮْﺿَﻊُ ﻟِﻠﺼَّﺎﺋِﻤِﻴْﻦَ ﻭَﺍﻟﺼَّﺎﺋِﻤَﺎﺕِ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺗَﺤْﺖَ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ﻣَﺎﺋِﺪَﺓٌ ﻣِّﻦْ ﺫَﻫَﺐٍ –
‘ছায়েমের প্রতিটি লোমকূপ তাসবীহ পাঠ করে। আর ছিয়াম পালনকারী নারী-পুরুষের জন্য ক্বিয়ামত দিবসে আরশের নীচে স্বর্ণের দস্তরখানা বিছানো হবে’।[26] হাদীছটি যঈফ।[27]

14. ﻭَﻟِﻠَّﻪِ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ ﻋِﻨْﺪَ ﻛُﻞِّ ﻓِﻄْﺮٍ ﻣِﻦْ ﺷَﻬْﺮِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻛُﻞَّ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻋُﺘَﻘَﺎﺀَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﺳِﺘُّﻮْﻥَ ﺃَﻟْﻔًﺎ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻮْﻡُ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ ﺃَﻋْﺘَﻖَ ﻣِﺜْﻞَ ﻣَﺎ ﺃَﻋْﺘَﻖَ ﻓِﻲْ ﺟَﻤِﻴْﻊِ ﺍﻟﺸَّﻬْﺮِ ﺛَﻠَﺎﺛِﻴْﻦَ ﻣَﺮَّﺓً ﺳِﺘِّﻴْﻦَ ﺃَﻟْﻔًﺎ ﺳِﺘِّﻴْﻦَ ﺃَﻟْﻔًﺎ –
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা রামাযান মাসের প্রত্যেক দিন ইফতারের সময় ষাট হাযার মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। অতঃপর ঈদুল ফিতরের দিনে ঐ পরিমাণ ক্ষমা করেন যে পরিমাণ তিনি পূর্ণ মাস করেছেন। ত্রিশবারে ষাট হাযার ষাট হাযার’।[28] হাদীছটি যঈফ।[29]

15. ﺇﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﻭَّﻝُ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻣِّﻦْ ﺷَﻬْﺮِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻧَﻈَﺮَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺧَﻠْﻘِﻪِ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻧَﻈَﺮَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺒْﺪٍ ﻟَﻢْ ﻳُﻌَﺬِّﺑْﻪُ ﺃَﺑَﺪًﺍ ﻭَﻟﻠﻪِ ﻓِﻰْ ﻛُﻞِّ ﻳَﻮْﻡٍ ﺃﻟْﻒُ ﺃﻟﻒِ ﻋَﺘَﻴْﻖٍ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﻟَﻴْﻠَﺔُ ﺗِﺴْﻊٍ ﻭَّﻋِﺸْﺮِﻳْﻦَ ﺃَﻋْﺘَﻖَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻓِﻴْﻬَﺎ ﻣِﺜْﻞَ ﺟَﻤِﻴْﻊِ ﻣَﺎ ﺃَﻋْﺘَﻖَ ﻓِﻰ ﺍﻟﺸَّﻬْﺮِ ﻛُﻠِّﻪِ –
‘রামাযানের প্রথম রাত্রিতে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির দিকে তাকান। আর আল্লাহ যখন কোন বান্দার দিকে দৃষ্টি দেন তাকে আর কখনই শাস্তি দেন না। প্রতিদিন হাযার হাযার বা দশ লক্ষ মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর ২৯ তারিখ রাত্রিতে আল্লাহ ঐ পরিমাণ মানুষকে ক্ষমা করে থাকেন সারা মাসে যত লোককে ক্ষমা করে দেন’।[30] হাদীছটি মাওযূ‘।[31]

১৬. ﺷَﻬْﺮُ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺷَﻬْﺮُ ﺃُﻣَّﺘِﻲْ ﺗَﺮْﻣُﺾُ ﻓِﻴْﻪِ ﺫُﻧُﻮْﺑُﻬُﻢْ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺻَﺎﻣَﻪُ ﻋَﺒْﺪٌ ﻣُﺴْﻠِﻢٌ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻜْﺬِﺏْ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻐْﺘَﺐْ ﻭَﻓِﻄْﺮُﻩُ ﻃِﻴْﺐٌ، ﺧَﺮَﺝَ ﻣِﻦْ ﺫُﻧُﻮْﺑِﻪِ ﻛَﻤَﺎ ﺗَﺨْﺮُﺝُ ﺍﻟْﺤَﻴَّﺔُ ﻣِﻦْ ﺳَﻠَﺨِﻬَﺎ –
রামাযান মাস আমার উম্মতের মাস, যাতে তাদের গোনাহ সমূহ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। মুসলিম বান্দা যখন ছিয়াম পালন করে, মিথ্যা বলে না, গীবত করে না এবং তার ইফতার হবে পবিত্র বস্ত্ত দ্বারা, সে তার গোনাহ থেকে এমনভাবে বের হয়ে যায়, যেভাবে সাপ তার গর্ত থেকে বের হয়ে যায়’।[32] হাদীছটি অত্যন্ত যঈফ।[33]

17. ﻣَﻦْ ﺃَﺩْﺭَﻙَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺑِﻤَﻜَّﺔَ ﻓَﺼَﺎﻡَ ﻭَﻗَﺎﻡَ ﻣِﻨْﻪُ ﻣَﺎ ﺗَﻴَﺴَّﺮَ ﻟَﻪُ ﻛَﺘَﺐَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻟَﻪُ ﻣِﺎﺋَﺔَ ﺃَﻟْﻒِ ﺷَﻬْﺮِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻓِﻴﻤَﺎ ﺳِﻮَﺍﻫَﺎ . ﻭَﻛَﺘَﺐَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻟَﻪُ ﺑِﻜُﻞِّ ﻳَﻮْﻡٍ ﻋِﺘْﻖَ ﺭَﻗَﺒَﺔٍ ﻭَﻛُﻞِّ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻋِﺘْﻖَ ﺭَﻗَﺒَﺔٍ ﻭَﻛُﻞِّ ﻳَﻮْﻡٍ ﺣُﻤْﻼَﻥَ ﻓَﺮَﺱٍ ﻓِﻰ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَﻓِﻰ ﻛُﻞِّ ﻳَﻮْﻡٍ ﺣَﺴَﻨَﺔً ﻭَﻓِﻰ ﻛُﻞِّ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﺣَﺴَﻨَﺔً –
‘যে ব্যক্তি মক্কায় রামাযান মাস পেল, ছিয়াম রাখল এবং যথাসাধ্য (রাতে) ইবাদত করল, আল্লাহ তা‘আলা তাকে অন্য স্থানের তুলনায় এক লক্ষ রামাযান মাসের ছওয়াব দান করবেন এবং প্রতিটি দিনের পরিবর্তে একটি গোলাম এবং প্রতিটি রাতের পরিবর্তে একটি গোলাম আযাদ করার ছওয়াব (তার আমলনামায়) লিখে দিবেন, প্রতিটি দিনের পরিবর্তে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের জন্য একটি ঘোড়া দানের সমপরিমাণ ছওয়াব, প্রতি দিনের জন্য একটি নেকী এবং প্রতিটি রাতের জন্য একটি নেকী দান করবেন।[34] হাদীছটি মাওযূ’।[35]

18. ﺭَﺟﺐُ ﺷَﻬْﺮُ ﺍﻟﻠﻪِ، ﻭَﺷَﻌْﺒَﺎﻥُ ﺷَﻬْﺮِﻱْ، ﻭَﺭَﻣَﻀَﺎﻥُ ﺷَﻬْﺮُ ﺃُﻣَّﺘِﻲْ –
‘রজব আল্লাহর মাস ও শা‘বান আমার মাস। আর রামাযান আমার উম্মতের মাস’।[36] হাদীছটি যঈফ।[37]

19. ﺧﻴﺮﺓ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﻬﻮﺭ ﺷﻬﺮ ﺭﺟﺐ، ﻭﻫﻮ ﺷﻬﺮ ﺍﻟﻠﻪ، ﻣَﻦ ﻋﻈّﻢ ﺷﻬﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺭﺟﺐ ﻋﻈﻢ ﺃﻣﺮ ﺍﻟﻠﻪ، ﻭﻣﻦ ﻋﻈﻢ ﺃﻣﺮ ﺍﻟﻠﻪ؛ ﺃﺩﺧﻠﻪ ﺟﻨﺎﺕ ﺍﻟﻨﻌﻴﻢ، ﻭﺃﻭﺟﺐ ﻟﻪ ﺭﺿﻮﺍﻧﻪ ﺍﻷﻛﺒﺮ . ﻭﺷﻌﺒﺎﻥ ﺷﻬﺮﻱ، ﻓﻤﻦ ﻋﻈﻢ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻓﻘﺪ ﻋﻈﻢ ﺃﻣﺮﻱ، ﻭﻣﻦ ﻋﻈﻢ ﺃﻣﺮﻱ ﻛﻨﺖ ﻟﻪ ﻓﺮﻃﺎً ﻭﺫﺧﺮﺍً ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ، ﻭﺷﻬﺮ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺷﻬﺮ ﺃﻣﺘﻲ، ﻓﻤﻦ ﻋﻈﻢ ﺷﻬﺮ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﻋﻈﻢ ﺣﺮﻣﺘﻪ، ﻭﻟﻢ ﻳﻨﺘﻬﻜﻪ، ﻭﺻﺎﻡ ﻧﻬﺎﺭﻩ، ﻭﻗﺎﻡ ﻟﻴﻠﻪ، ﻭﺣﻔﻆ ﺟﻮﺍﺭﺣﻪ؛ ﺧﺮﺝ ﻣﻦ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﻟﻴﺲ ﻋﻠﻴﻪ ﺫﻧﺐ ﻳﻄﻠﺒﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻪ .
‘মাস সমূহের মধ্যে উত্তম মাস রজব। আর সেটি আল্লাহর মাস। যে ব্যক্তি আল্লাহর মাস রজবকে সম্মান করবে। সে আল্লাহর নির্দেশকে মর্যাদা মন্ডিত করল। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশকে মর্যাদা মন্ডিত করল আল্লাহ তাকে জান্নাতুন নাঈমে প্রবেশ করাবেন এবং তার জন্য তাঁর মহা সন্তুষ্টি আবশ্যক করে দিবেন। আর শা‘বান আমার মাস। যে ব্যক্তি শা‘বান মাসকে সম্মান করবে। সে আমার নির্দেশকে সম্মান করবে। আর যে ব্যক্তি আমার মাসকে সম্মান করবে। আমি তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন অগ্রগামী ও আখিরাতের পুঁজি হয়ে যাব। আর রামাযান মাস আমার উম্মতের মাস। যে ব্যক্তি রামাযান মাসকে সম্মান করবে, তার মর্যাদাকে রক্ষা করবে, এর সম্মান খাটো করবে না, এর দিনে ছিয়াম পালন ও রাতে ক্বিয়াম করবে এবং এর বিধানকে হেফাযত করবে সে রামাযান মাসকে এমনভাবে অতিক্রম করবে যে, তার কোন গুনাহ থাকবে না, যার কারণে আল্লাহ তাকে তলব করবেন’।[38] হাদীছটি মাওযূ‘।[39]

২০. ﻋَﻦْ ﺳَﻠْﻤَﺎﻥَ ﺍﻟْﻔَﺎﺭِﺳِﻲِّ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ﻣَﻦْ ﻓَﻄَّﺮَ ﺻَﺎﺋِﻤًﺎ ﻓِﻲ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻣِﻦْ ﻛَﺴْﺐٍ ﺣَﻼَﻝٍ ﺻَﻠَّﺖْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔُ ﻟَﻴَﺎﻟِﻲ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻛُﻠِّﻬَﺎ، ﻭَﺻَﺎﻓَﺤَﻪُ ﺟِﺒْﺮِﻳْﻞُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ، ﻭَﻣَﻦْ ﺻَﺎﻓَﺤَﻪُ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞُ ﺗَﻜْﺜُﺮُ ﺩُﻣُﻮْﻋُﻪُ، ﻭَﻳَﺮِﻕُّ ﻗَﻠْﺒُﻪُ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺟُﻞٌ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺃَﺭَﺃَﻳْﺖَ ﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﺫَﺍﻙَ ﻋِﻨْﺪَﻩُ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﻠُﻘْﻤَﺔُ ﺧُﺒْﺰٍ، ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﻓَﺮَﺃَﻳْﺖَ ﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﺫَﺍﻙَ ﻋِﻨْﺪَﻩُ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﻘَﺒْﻀَﺔٌ ﻣِﻦْ ﻃَﻌَﺎﻡٍ، ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﻓَﺮَﺃَﻳْﺖَ ﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﺫَﺍﻙَ ﻋِﻨْﺪَﻩُ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﻤَﺬْﻗَﺔٌ ﻣِﻦْ ﻟَﺒَﻦٍ، ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﻓَﺮَﺃَﻳْﺖَ ﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﺫَﺍﻙَ ﻋِﻨْﺪَﻩُ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﺸَﺮِﺑَﺔٌ ﻣِﻦْ ﻣَﺎﺀٍ .
সালমান ফারেসী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রামাযানে কোন ছায়েমকে হালাল উপার্জন থেকে ইফতার করাবে, তার জন্য ফেরেশতাগণ রামাযানের রাত্রিগুলিতে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। ক্বদরের রাত্রিতে জিবরীল (আঃ) তার সাথে মুছাফাহা করবেন। আর জিবরীল যার সাথে মুছাফাহা করবেন, তার অশ্রু অধিক হবে এবং তার অন্তর নরম হবে। জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! তার কাছে যদি ঐরূপ খাদ্য না থাকে? তিনি বললেন, তাহ’লে এক লোকমা রুটি (খাওয়াবে)। লোকটি বলল, যদি তাও না থাকে? তিনি বললেন, তাহ’লে এক মুষ্টি খাদ্য (খওয়াবে)। লোকটি বলল, যদি তাও না থাকে? তিনি বললেন, তাহ’লে এক ঢোক দুধ (পান করাবে)। লোকটি বলল, যদি তাও না থাকে? তিনি বললেন, তাহ’লে পানি পান করাবে’।[40] হাদীছটি যঈফ।[41]

এতদ্ব্যতীত আরো বহু জাল-যঈফ বর্ণনা সমাজে প্রচলিত আছে। মানুষকে দ্বীনের দিকে ফিরিয়ে আনার মানসে এ ধরনের বর্ণনা প্রচার করার প্রয়োজন নেই। কেননা এসব প্রকৃতপক্ষে রাসূলের উপরে মিথ্যাচার। এর জন্য পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে। মানুষকে হকের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য ছহীহ হাদীছ বর্ণনার মাধ্যমে চেষ্টা করতে হবে। জাল-যঈফ বর্ণনা প্রচার করে নিজে গোনাহগার হওয়ার কোনই প্রয়োজন নেই। আল্লাহ আমাদেরকে সকল প্রকার জাল-যঈফ ও বানোয়াট বর্ণনা পরিহার করে ছহীহ হাদীছ প্রচার করার তাওফীক্ব দান করুন-আমীন!

– আবু আব্দুল্লাহ



রজব মাসের বিশেষ দুআ : বিশ্লেষণ ও বিধান

সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

আমাদের দেশে রজব মাস আসলে সাধারণত “আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রমাজান” দুআটি নিয়মিত পড়া হয় এবং অন্যদেরকেও পড়তে উৎসাহিত করা হয়। আমরা সংক্ষিপ্ত এ প্রবন্ধটিতে রজব ও শাবান মাসে পঠিত প্রসিদ্ধ দুআটি নিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখব যে, এ দুআটি আদৌ আমাদের পড়া উচিত নাকি উচিত নয়। আলোচনার প্রথমে আমরা এ দুআসংবলিত হাদিসটির নস (ভাষ্য) ও তার তাখরিজ (বর্ণনাসূত্র) উল্লেখ করব। দ্বিতীয় পর্যায়ে হাদিসটির শুদ্ধতা-অশুদ্ধতার মান নিয়ে কথা বলব যে, হাদিসটি গ্রহণযোগ্য নাকি অগ্রহণযোগ্য। তৃতীয় পর্যায়ে আমাদের আলোচনা হবে এ দুআটি পড়ার বিধান নিয়ে। ক্রমধারানুসারে আমরা আলোচনা তিনটি পর্যায়ক্রমে উল্লেখ করছি।

হাদিসটির তাখরিজ :
এ হাদিসটি ইমাম আহমাদ রহ., ইমাম বাইহাকি রহ., ইমাম বাজ্জার রহ.-সহ অনেক ইমাম স্ব স্ব গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তবে একাধিক কিতাবে উল্লেখ থাকলেও সবাই এক সনদেই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ হাদিসটির বর্ণনাকারী সাহাবি হলেন আনাস রা.। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন জিয়াদ এবং জিয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন জায়িদা। এ হাদিসটির সব সনদেই এ দুজন রাবি আছে; অথচ এ দুজনকেই নিয়ে যত সমস্যা। রাবি দুজনের সমস্যা নিয়ে আমরা দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

রজবের দুআসংবলিত হাদিসটির ভাষ্য :

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ الرَّازِيُّ قَالَ: نا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ عُمَرَ الْجِنِّيُّ قَالَ: نا زَائِدَةُ بْنُ أَبِي الرُّقَادِ قَالَ: نا زِيَادٌ النُّمَيْرِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ رَجَبٌ قَالَ: «اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ، وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ

‘আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রজব মাস আসত তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন “আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রমাজান” অর্থাৎ হে আল্লাহ, আপনি রজব ও শাবান মাসে আমাদের বারাকাহ দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ (আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি : ৪/১৮৯, হা. নং ৩৯৩৯, প্রকাশনী : দারুল হারামাইন, কায়রো)

আরও যেসব কিতাবে হাদিসটি সনদসহ বর্ণিত হয়েছে :
(১) মুসনাদু আহমাদ : ৪/১৮০, হা. নং ২৩৪৬, প্রকাশনী : মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত (২) মুসনাদুল বাজ্জার : ১৩/১১৭, হা. নং ৬৪৯৬, প্রকাশনী : মাকতাবাতুল উলুমি ওয়াল হিকাম, মদিনা (৩) আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলা, ইবনুস সুন্নি : ১/৬১০, হা. নং ৬৫৯, প্রকাশনী : দারুল কিবলা, জিদ্দা (৪) শুআবুল ইমান, বাইহাকি : ৫/৩৪৮, হা. নং ৩৫৩৪, প্রকাশনী : মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ (৫) আদ-দাওয়াতুল কাবির, বাইহাকি : ২/১৪২, হা. নং ৫২৯, প্রকাশনী : গিরাস, কুয়েত (৬) আমালি ইবনি বিশরান : পৃ. নং ২৮২, হা. নং ১৫১০, প্রকাশনী : দারুল ওয়াতন, রিয়াদ) (৭) আদ-দুআ, তাবারানি : ১/২৮৪, হা. নং ৯১১, প্রকাশনী : দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত (৮) হিলইয়াতুল আওলিয়া, আবু নুআইম : ৬/২৬৯, প্রকাশনী : দারুল কিতাবিল আরাবি, বৈরুত (৯) মুজামু ইবনি আসাকির : ১/২৬৪, হা. নং ৩০৯, প্রকাশনী : দারুল বাশাইর, দিমাশক (১০) ফাজাইলুল আওকাত, বাইহাকি : ১/১০৪, হা. নং ১৪, প্রকাশনী : মাকতাবাতুল মানারা, মক্কা)

হাদিসটির মান :
হাদিসটি মুনকার বা অত্যাধিক দুর্বল। কেননা, এ হাদিসে তিনটি সমস্যা রয়েছে। 
এক : একজন মুনকার রাবি আছে। 
দুই : একজন দুর্বল রাবি আছে।
তিন : হাদিসটি গরিব বা এককভাবে বর্ণিত হয়েছে। বিস্তারিত বলছি-
 
এক : হাদিসটির সনদে জায়িদা বিন আবু রাক্কাদ নামক মুনকার পর্যায়ের একজন রাবি আছে, যার বর্ণিত হাদিস অগ্রহণযোগ্য হয়। তার ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের মন্তব্য দেখুন :

‘ইমাম আবু হাতিম রহ. বলেন, সে জিয়াদ বিন নামিরি সূত্রে আনাস রা. থেকে অনেক মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) মারফু হাদিস বর্ণনা করে।’ (আল-জারহু ওয়াত-তাদিল : ৩/৬১৩, জীবনী নং ২৭৭৮, প্রকাশনী : দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

ইমাম ইবনে হিব্বান রহ. বলেন, জায়িদা বিন আবু রাক্কাদ প্রথিতযশা (খ্যাতিমান) মুহাদ্দিসদের থেকে মুনকার হাদিস বর্ণনা করে, তার বর্ণিত হাদিস দলিলযোগ্য নয়। (কিতাবুল মাজরুহিন : ১/৩০৮, জীবনী নং ৩৬৭, প্রকাশনী : দারুল ওয়ায়ি, হালব)

ইমাম বুখারি রহ. বলেন, সে মুনকারুল হাদিস (যার হাদিস প্রত্যাখ্যাত হয়)। ইমাম আবু দাউদ রহ. বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। ইমাম নাসায়ি রহ. বলেন, সে মুনকারুল হাদিস। ইমাম আবু আহমাদ হাকিম রহ. বলেন, সে সুদৃঢ় নয়।’ (তাহজিবুল কামাল : ৯/২৭১-২৭২, জীবনী নং ১৯৪৯, প্রকাশনী : মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত- তাহজিবুত তাহজিব : ৩/৩০৫-৩০৬, জীবনী নং ৫৭০, প্রকাশনী : দায়িরাতুল মাআরিফ, ভারত)

হাফিজ জাহাবি রহ. ইমাম বুখারি রহ.-এর উক্তি নকল করে বলেন, সে মুনকারুল হাদিস অর্থাৎ যার বর্ণিত হাদিস প্রত্যাখ্যাত হয়। (আল-কাশিফ : পৃষ্ঠা নং ৪০০, জীবনী নং ১৬০৩, প্রকাশনী : দারুল কিবলা, জিদ্দা)

হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. বলেন, সে মুনকারুল হাদিস অর্থাৎ যার বর্ণিত হাদিস প্রত্যাখ্যাত হয়। (তাকরিবুত তাহজিব : পৃ. নং ২১৩, জীবনী নং ১৯৭৬, প্রকাশনী : দারুর রশিদ, সিরিয়া)

প্রমাণ হলো যে, এ রাবি মুনকারুল হাদিস । আর হাদিস শাস্ত্রবিদদের মতে এ ধরনের রাবির বর্ণিত হাদিস জইফে শাদিদ বা মারাত্মক দুর্বল বলে বিবেচিত হয়।

দুই :
জিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ নামিরি নামক একজন দুর্বল রাবি আছে। তার ব্যাপারে ইমামদের মন্তব্য দেখুন :
‘ইমাম ইয়াহইয়া বিন মাইন রহ. বলেন, সে দুর্বল রাবি। ইমাম আবু হাতিম রহ. বলেন, তার হাদিস লেখা যাবে, তবে তা দলিলযোগ্য নয়। ইমাম আবু দাউদ রহ. তাকে দুর্বল রাবি বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইমাম ইবনে হিব্বান রহ. বলেন, সে মুনকারুল হাদিস, তার বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল দেওয়া যাবে না।’(দেখুন : তাহজিবুল কামাল : ৯/৪৯২, জীবনী নং ২০৫৫, প্রকাশনী : মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত- তাহজিবুত তাহজিব : ৩/৩৭৮, জীবনী নং ৬৮৭, প্রকাশনী : দায়িরাতুল মাআরিফ, ভারত)

হাফিজ জাহাবি রহ. বলেন, সে দুর্বল রাবি। (আল-কাশিফ : পৃষ্ঠা নং ৪০০, জীবনী নং ১৬০৩, প্রকাশনী : দারুল কিবলা, জিদ্দা)
হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. বলেন, সে মুনকারুল হাদিস। (তাকরিবুত তাহজিব : পৃ. নং ২২০, জীবনী নং ২০৮৭, প্রকাশনী : দারুর রশিদ, সিরিয়া)

সাব্যস্ত হলো যে, এ রাবিও দুর্বল। যদিও কেউ কেউ তাকে মুনকারুল হাদিস বলেও অভিহিত করেছেন। তবে অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাকে শুধু দুর্বল বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন; তাই আমরা তাকে মুনকার রাবি না বললেও ন্যূনতম দুর্বল রাবি বলে গণ্য করছি। আর হাদিস দুর্বল হওয়ার জন্য এমন একজন রাবি থাকাই যথেষ্ট।

তিন : হাদিসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে দুজনের সমস্যা থাকার পাশাপাশি এটা আবার গরিবও বটে। অর্থাৎ হাদিসটি এক সনদে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদিসটির যতগুলো সনদ আছে, সব সনদেই জায়িদা ও জিয়াদ নামক উক্ত দুই রাবি আছে। আর উভয়ের অবস্থা কেমন, তা তো পূর্বে গত হয়েছে। তাই এমন দুর্বল রাবির এককভাবে বর্ণিত হাদিস যে মারাত্মক দুর্বল হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। হাদিসটি গরিব হওয়ার ব্যাপারে ইমামদের মন্তব্য দেখুন :

ইমাম তাবারানি রহ. বলেন :
لَا يُرْوَى هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا بِهَذَا الْإِسْنَادِ، تَفَرَّدَ بِهِ: زَائِدَةُ بْنُ أَبِي الرُّقَادِ
‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ হাদিসটি শুধু এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে। জায়িদা বিন আবু রাক্কাদ এককভাবে হাদিসটি বর্ণনা করেছে।’ (আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি : ৪/১৮৯, হা. নং ৩৯৩৯, প্রকাশনী : দারুল হারামাইন, কায়রো)

ইমাম বাইহাকি রহ. বলেন :
تَفَرَّدَ بِهِ زِيَادٌ النُّمَيْرِيُّ، وَعَنْهُ زَائِدَةُ بْنُ أَبِي الرُّقَادِ “، قَالَ الْبُخَارِيُّ: زَائِدَةُ بْنُ أَبِي الرُّقَادِ، عَنْ زِيَادٍ النُّمَيْرِيِّ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ
‘জিয়াদ নামিরি এককভাবে হাদিসটি বর্ণনা করেছে। আর তার থেকে জায়িদা বিন আবু রাক্কাদও এককাভাবে বর্ণনা করেছে। ইমাম বুখারি রহ. বলেন, জায়িদা বিন আবু রাক্কাদ, যে জিয়াদ নামিরি থেকে বর্ণনা করে থাকে। আর সে (জায়িদা বিন আবু রাক্কাদ) একজন মুনকারুল হাদিস রাবি।’ (শুআবুল ইমান, বাইহাকি : ৫/৩৪৯, হা. নং ৩৫৩৪, প্রকাশনী : মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ)

সুতরাং প্রমাণ হলো যে, হাদিসটি মুনকার বা অত্যাধিক দুর্বল। আর এ ধরনের হাদিস না আকাইদের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য, না আহকামের ক্ষেত্রে আর না ফাজায়িলের ক্ষেত্রে। তাই এ ধরনের হাদিস দ্বারা ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো কিছুই সাব্যস্ত হবে না।

দুআটি পড়ার বিধান :
এ দুআটি পড়ার বিষয়ে বিধান হলো, হুবহু এ দুআকে নির্দিষ্ট মনে করা যাবে না, অনুরূপ শুধু রজব ও শাবান মাসে পড়াকেই ফজিলতপূর্ণ মনে করা যাবে না। অর্থাৎ এটাকে রজব ও শাবান মাসের বিশেষ দুআ মনে করা এবং এটাকে সুন্নাত বা মুসতাহাব বলে পড়া ঠিক নয়। তবে দুআটিকে নির্দিষ্ট মনে না করে এবং এর কোনো বিশেষ ফজিলতের আকিদা না রেখে এমনিতেই রমজান পর্যন্ত হায়াত দারাজ করার জন্য আল্লাহর কাছে এ দুআটির মাধ্যমে প্রার্থনা করা যাবে। শুধু এ দুআটিই নয়; বরং ভিন্ন বাক্যে এ জাতীয় অন্য কোনো দুআও করা যাবে। সালাফে সালিহিন থেকে এক্ষেত্রে বিভিন্ন বাক্যে দুআ করার কথা বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম মুআল্লা বিন ফজল রহ. বলেন :

كانوا يدعون الله تعالى ستة أشهر أن يبلغهم رمضان يدعونه ستة أشهر أن يتقبل منهم
‘ছয় মাস পর্যন্ত সালাফে সালিহিন আল্লাহর কাছে এ দুআ করতেন যে, তিনি যেন তাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। আর ছয় মাস তাঁর কাছে এ প্রার্থনা করতেন যে, তিনি যেন তাদের পক্ষ থেকে রমজান মাস কবুল করেন।’ (লাতাইফুল মাআরিফ : পৃ. নং ১৪৮, প্রকাশনী : দারু ইবনি হাজাম)

ইমাম ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির রহ. বলেন :
كان من دعائهم: اللهم سلمني إلى رمضان وسلم لي رمضان وتسلمه مني متقبلا.
‘সালাফদের একটি দুআ এরূপ ছিল, হে আল্লাহ, আমাকে রমজান পর্যন্ত নিরাপদ রাখুন, আমার জন্য রমজানকে নিরাপদ করুন এবং আমার পক্ষ থেকে এটাকে কবুল করে নেবেন।’ (লাতাইফুল মাআরিফ : পৃ. নং ১৪৮, প্রকাশনী : দারু ইবনি হাজাম)

হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. বলেন :
لم يرد في فضل شهر رجب، ولا في صيام شيء منه معين، ولا في قيام ليلة مخصوصة فيه حديث صحيح يصلح للحجة
‘রজব মাসের ফজিলত, এ মাসে নির্দিষ্ট রোজা ও নির্দিষ্ট রাতের নামাজ সম্পর্কে এমন কোনো বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়নি, যা দলিলের উপযুক্ত হতে পারে।’ (তাবয়িনুল আজব বিমা ওরাদা ফি শাহরি রজব : পৃ. নং ২৩ )

শাইখ আব্দুল কারিম খুজাইর বলেন :
هذا حديث لا يثبت لكن إن دعا المسلم بأن يبلغه الله -عز وجل- رمضان، وأن يوفقه لصيامه وقيامه، وأن يوفقه لإدراك ليلة القدر أي بأن يدعو أدعية مطلقة فهذا إن شاء الله لا بأس به.
‘এ হাদিস বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত নয়। কিন্তু মুসলমানের এভাবে দুআ করা যে, আল্লাহ যেন তাকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেন, তাকে রমজানের রোজা ও তারাবিহ পড়ার তাওফিক দেন এবং লাইলাতুল কদর পাওয়ার সৌভাগ্য দান করেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। অর্থাৎ (দিন, মাস বা দুআ নির্দিষ্ট না করে) এমন সাধারণভাবে দুআ করতে কোনো অসুবিধা নেই ইনশাআল্লাহ।’ (শাইখ খুজাইরডটকম : ফতোয়া নং ১৫৮২, দেখুন : https://shkhudheir.com/fatawa/224855973

সারকথা :

এসব বর্ণনা ও ফতোয়া থেকে অনুমেয় হয় যে, এ দুআটি মাসুর (হাদিসে বর্ণিত দুআ) হিসাবে নয়; বরং সাধারণ দুআ হিসাবে পড়া যাবে। শাস্ত্রীয় নিয়মানুসারে মুনকার হাদিসের ওপর আমল করার অনুমোদন না থাকলেও হাদিসে বর্ণিত উক্ত দুআটি যেহেতু সাধারণ দুআ হিসাবে পড়ারও সুযোগ আছে, তাই অন্তরে এ দুআ পড়াকে সুন্নাত বা মুসতাহাব বিশ্বাস না রেখে পড়লে বস্তুত তা মুনকার হাদিসের ওপর আমল বলা যায় না; বরং রমজান পাওয়ার জন্য অন্যান্য সাধারণ দুআ করার মতোই এটাও একটি দুআ হয়। আর এজন্যই এ দুআটির মধ্যে কোনো শব্দ বা বাক্য বৃদ্ধি করা বা দুআটি রজব মাস আসার আগেই পড়া; সবই অনুমোদিত। মোটকথা, স্বাভাবিকভাবে আমরা দুআটি পড়তে পারব। তবে এটাকে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ বা কোনো মাসের সাথে নির্দিষ্ট মনে করা যাবে না।

-মুফতি তারেকুজ্জামান



মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০

সিয়াম বা রোজার ফজিলত ও হিকমত

মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

আভিধানিক অর্থে সিয়াম কোনো কিছু থেকে বিরত হওয়া শরয়ী পরিভাষায় সিয়াম সুবেহ সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য, পানীয় স্বামী-স্ত্রীর মিলন হতে বিরত থেকে আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা।
রোজার ফজিলত
রোজার ফজিলত অঢেল, এর ছাওয়াব বহুগুণে বর্ধিত। আল্লাহ তাআলা রোজাকে তাঁর একান্ত বিষয় বলে উল্লেখ করে এ ইবাদতটিকে মহিমান্বিত করেছেন, এর আযমত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে কুদ্সীতে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘আদম সন্তানের প্রতিটি আমলের ছাওয়াবই দ্বিগুণ করে দেয়া হয়। প্রতিটি সৎকাজ দশগুণ থেকে সাতশগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: তবে রোজা ব্যতীত; কেননা রোজা কেবল আমার এবং আমিই এর প্রতিদান দিই। রোজাদার আমার জন্য তার লালসা ও খাদ্য পরিত্যাগ করে। রোজাদারের দুটি আনন্দ রয়েছে: একটি হলো রোজা ছাড়ার সময়, আর অন্যটি হলো তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। আর রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরির সুগন্ধি থেকেও প্রিয়। (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম।)
 
রোজা শরীয়তভুক্ত হওয়ার হিকমত
১ - আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন ও শরীয়তের বিধানাবলি অনুসরণ করে তাকওয়া অর্জন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,
(لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ ١٨٣)
{আশা করা যায় তোমরা মুত্তাকী হবে।}
[আল বাকারা:১৮৩]
২ - সবর ও ধৈর্যের অভ্যাস গড়ে তোলা ও প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে ইচ্ছাশক্তিকে শাণিত করা।
৩ - দরিদ্র ও নিঃস্বদের প্রতি দয়া ও মমতা প্রদর্শনের প্রতি মানুষকে অভ্যস্ত করে তোলা; কেননা ব্যক্তি যখন ক্ষুধার্থ থাকার যাতনা অনুভব করবে, অভাবগ্রস্তদের প্রতি তার অন্তর ও অনুভূতি কোমল হবে।
৪ - রোজার মাধ্যমে শরীরের আরাম ও সুস্থতা নিশ্চিত করা।
 
রোজার হুকুম
রোজার প্রকারভেদ
বাধ্যতামূলক রোজা:
আর তা দু’প্রকার:
ক. আল্লাহ তাআলা কর্তৃক বান্দার ওপর মৌলিকভাবে ফরজ করে দেয়া রোজা, আর তা হলো রমজানের রোজা। এ রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি।
খ. এমন রোজা যা বান্দা নিজের ওপর ওয়াজিব করে নিয়েছে, যেমন মানত ও কাফফারার রোজা।
 
মুস্তাহাব রোজা
আর তা হলো প্রত্যেক ওই রোজা যা শরীয়ত প্রবর্তকের কাছে পছন্দনীয়। যেমন সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা, প্রতিমাসে তিন রোজা, আশুরার রোজা, যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশকের রোজা ও আরাফা দিবসের রোজা।
 
রোজা বাধ্যতামূলক হওয়ার শর্ত
১ - ইসলাম : অতএব অমুসলিমের ওপর রোজা রাখা ফরজ নয়।
২ - প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া: অতএব অপ্রাপ্তবয়স্কের ওপর রোজা রাখা ফরজ নয়। তবে যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক-বালিকা রোজা রাখতে সক্ষম হয় তবে রোজা রাখার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য এ ব্যাপারে তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে।
৩- সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়া: অতএব পাগলের ওপর রোজা রাখা ফরজ নয়।
৪ - রোজা রাখতে সক্ষম হওয়া: অতএব যে রোজা রাখতে অপারগ তার ওপর রোজা রাখা ফরজ নয়।

রোজায় নিয়ত
ফরজ ও ওয়াজিব রোজার ক্ষেত্রে রাত থেকে রোজার নিয়ত করা আবশ্যক। আর যদি নফল রোজা হয়, তবে রাত থেকে নিয়ত করা ওয়াজিব নয়, বরং দিনের বেলায় সূর্য ঢলে যাওয়ার পূর্বে নিয়ত করে নিলেই রোজা রাখা শুদ্ধ হবে, যদি সুবেহ সাদেকের পর থেকে এমনকিছু গ্রহণ না করা হয় যা রোজা ভেঙ্গে দেয়। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,‘একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে এলেন ও জিজ্ঞাসা করলেন,‘তোমাদের কাছে কি কোনো (খাবার) আছে?’ আমরা বললাম,‘ না, নেই।’ তিনি বললেন: তাহলে আমি রোজা রাখলাম।’(বর্ণনায় মুসলিম)



রমজানের রোজা

মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

রমজানের রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার ওপর ফরজ করে দেওয়া একটি ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন :
(يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ ١٨٣ )
{হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।} [সূরা আল বাকারা:১৮৩]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,‘ইসলাম পাঁচটি বিষয়ের ওপর নির্মিত হয়েছে’ এ-পাঁচটির মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন( রমজানের রোজা)
রমজানের ফজিলত
১ - রমজান মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে শয়তানকে শিকল পরিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং মানুষের হৃদয়ে ভালো কাজ করার প্রেরণা জাগ্রত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন রমজান প্রবেশ করে আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়, আর শয়তানদেরকে শিকল পরিয়ে দেয়া হয়।’
(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)

২- ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় যে ব্যক্তি রমজান মাসে সিয়াম-কিয়াম চর্চা করে আল্লাহ তার অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় রোজা রাখে তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)

অন্যএক হাদীসে এসেছে,‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় রমজানের রাতযাপন করে আল্লাহ তাআলা তার অতীতের গুনাহসমূহ মাফ করে দেন।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)

৩- মাহে রমজানে লায়লাতুল কদর রয়েছে, যার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
(لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ ٣)
{লায়লাতুল কদর এক হাজার মাস থেকে উত্তম।} [ সূরা আল কাদ্র: ৩]
আর যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করবে তার অতীতের গুনাহসমূহ আল্লাহ তাআলা মাফ করে দিবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করল আল্লাহ তাআলা তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দিলেন।’(বর্ণনায় মুসলিম)

৫- রমজান মাস কুরআনের মাস। এ মাসেই নাযিল হয়েছে মহিমান্বিত কুরআন। তাই এ মাসে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা প্রয়োজন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
(شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلۡقُرۡءَانُ هُدٗى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٖ مِّنَ ٱلۡهُدَىٰ وَٱلۡفُرۡقَانِۚ )
{রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়েত স্বরূপ এবং হিদায়েতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।} [ সূরা আল বাকারা:১৮৫]

৬ - রমজান মাস সদকা ও দানখয়রাতের মাস, ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবথেকে বেশি দানশীল ছিলেন, আর তিনি মাহে রমজানে সমধিক দানশীল হতেন যখন জিব্রীল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন। আর জিব্রীল রমজানের প্রতি রাতেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁকে কুরআন চর্চা করাতেন। যখন জিব্রীল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি দান-খয়রাতে উন্মুক্ত বাতাস থেকেও অধিক বেগবান হতেন।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
 
রমজানে রোজা ভঙ্গ করা
রমজানে রোজা ভঙ্গ করা হারাম ও বড় গুনাহ। আর যে ব্যক্তি ওযর ব্যতীত রমজানের কোনো একদিনের রোজা ভেঙ্গে ফেলল এবং তাওবা করল না, সারা জীবনের রোজাও এ দিনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে যথেষ্ট হবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘যে ব্যক্তি রমজানের কোনো একদিন, আল্লাহ তাআলার দেয়া সুযোগ ব্যতীত রোজা ভঙ্গ করল, আজীবনের রোজাও তার কাযা হিসেবে যথেষ্ট হবে না।’(বর্ণনায় আবু দাউদ) আর রোজা ভঙ্গের শাস্তিও অনেক কঠিন। আবু উমামা আল-বাহেলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি,‘আমি ঘুমন্ত ছিলাম, এ সময় দু’ব্যক্তি এলেন..... অতঃপর আমাকে নিয়ে রওয়ানা হলেন। পরবর্তীতে আমি কিছু লোক দেখতে পেলাম যাদেরকে পায়ের রগে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যাদের মুখের চোয়াল ছিল ফাঁটা যাত্থেকে রক্ত ঝরছিল। তিনি বললেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ওরা করা?’ তিনি বললেন,‘ওরা হলো যারা রোজা ভঙ্গের সময় আসার পূর্বেই রোজা ভঙ্গ করত।’
(বর্ণনায় ইবনে হিব্বান)
রমজান শুরু হয়েছে তা কিভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে?

রমজান শুরু হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে চাঁদ দেখার মাধ্যমে। যদি শাবান মাসের ঊনত্রিশ তারিখের সূর্যাস্তের পর চাঁদ দেখা যায় তাহলে এটাই হবে রমজান শুরুর নিশ্চিত দলিল। আর যদি এ দিন চাঁদ দেখা না যায় অথবা মেঘ, ধুলো অথবা ধোঁয়া ইত্যাদি চাঁদ দেখাকে বাধাগ্রস্ত করে, তবে শাবান মাস ত্রিশদিন পূর্ণ করতে হবে। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ করো। আর যদি এ মাসের চাঁদ দেখা সম্ভব না হয় তবে শাবান মাস ত্রিশদিন হিসাব করো।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)


রোজা ভঙ্গের ওযরসমূহ
১ - অসুস্থতা

অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করা বৈধ। আল্লাহ তাআলা বলেন :

(فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۚ)

{(আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে।} [সূরা আল বাকারা:১৮৪]

যে অসুস্থতার কারণে রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করা চলে তা হলো এমন অসুস্থতা যার কারণে রোজা রাখা অনেক কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় অথবা রোজা রাখলে নিশ্চিত ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

অসুস্থ ব্যক্তির রোজা ভঙ্গ করা
যদি অসুস্থ ব্যক্তি রোজা ভঙ্গ করে আর তার অসুস্থতা এমন হয় যা সুস্থ হবে বলে আশা থাকে, তাহলে সুস্থ হওয়ার পর যেসব রোজা ছুটে গেছে তা কাযা করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

(فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۚ)

{আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে।} [সূরা আল বাকারা:১৮৪]

যে রোগ ভালো হওয়ার আশা নেই - যেমন জীবনব্যাপী অসুস্থতা অথবা এমন বার্ধাক্য

যার কারণে ব্যক্তি স্থায়ীভাবে রোজা রাখতে অপারগ হয়ে যায় - এমতাবস্থায় প্রতিদিনের রোজার পরিবর্তে একজন মিসকীনকে অর্ধ সা’ চাউল অথবা অন্যকোনো দেশীয় খাবার দান করতে হবে।
 
২- সফর
মুসাফির ব্যক্তির জন্য রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করা বৈধ। তবে ভাঙ্গা রোজাগুলো পরবর্তীতে অবশ্যই কাযা করতে হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

(فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۚ)
{আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে।} [সূরা আল বাকারা:১৮৪]
যে সফরে রোজা ভঙ্গ করা চলে তা হলো একই ধরনের সফর যার কারণে নামাজ কসর করা চলে।

কিন্তু যদি মুসাফির ব্যক্তি রোজা রাখে তবে তার রোজা শুদ্ধ হবে। আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সফর করতাম। যে ব্যক্তি রোজা রাখত তাকেও তিনি দোষারোপ করতেন না, আবার যে রোজা রাখত না তাকেও দোষারোপ করতেন না।’(বর্ণনায় বুখারী)

তবে শর্ত হলো রোজা যেন মুসাফিরের জন্য খুব কষ্টকর না হয়। আর যদি রোজা রাখা খুব কষ্টকর হয় অথবা ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে রোজা ভঙ্গ করাই উত্তম হবে; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরাবস্থায় এক রোজাদার ব্যক্তিকে দেখলেন যে প্রচন্ড গরমের কারণে তাকে ছায়া দেয়া হচ্ছে এবং লোকজন তার চারপাশে ভিড় করছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘সফর অবস্থায় রোজা রাখা উত্তম কাজের মধ্যে শামিল নয়।’
(বর্ণনায় বুখারী)
৩- গর্ভ ও দুগ্ধদান

গর্ভাবস্থা অথবা দুগ্ধদান অবস্থায় নারী যদি তার ক্ষতির আশঙ্কা করে তবে তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা বৈধ হবে। তবে তাকে কাযা করতে হবে অসুস্থ ব্যক্তির মতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মুসাফির ব্যক্তির উপর থেকে রোজা এবং নামাজের একাংশ উঠিয়ে নিয়েছেন। আর গর্ভধারী ও দুগ্ধদানকারী নারীর ওপর থেকে তিনি রোজা উঠিয়ে নিয়েছেন।’
(বর্ণনায় তিরমিযী)
আর যদি নিজের ক্ষতির কোনো ভয় না থাকে, কিন্তু বাচ্চার ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলেও রোজা ভঙ্গ করা বৈধ হবে, তবে তাকে কাযা করতে হবে ও প্রতিদিনের রোজার পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করতে হবে। ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন,‘দুগ্ধদানকারী ও গর্ভধারী নারী যদি তার সন্তানের ব্যাপারে আশঙ্কা করে তাহলে সে রোজা ভঙ্গ করবে ও মিসকীনকে খাদ্যদান করবে।’(বর্ণনায় আবু দাউদ)

৪- হায়েয ও নিফাস
যে নারী হায়েয ও নিফাসগ্রস্ত হয়েছে সে আবশ্যিকভাবে রোজা ভঙ্গ করবে। এ অবস্থায় রোজা রাখা হারাম হবে। এমতাবস্থায় রোজা রাখলে তা শুদ্ধ হবে না। তবে ভাঙ্গা রোজাগুলো পরবর্তীতে কাযা করতে হবে। এর প্রমাণ, আয়েশা রাযি.-কে হায়েযগ্রস্ত নারী রোজা কাযা করবে কি না, এ-ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,‘বিষয়টি আমাদেরকেও স্পর্শ করত, অতঃপর আমাদেরকে রোজা কাযা করার নির্দেশ দেয়া হত তবে নামাজ কাযা করার নির্দেশ দেয়া হত না।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)



সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০

যে নারী হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে গোসল করে ফেলেছে; এরপর ফজরের আগে নিশ্চিত হয়ে রোযা রেখেছে ও নামায পড়েছে; কিন্তু পুনরায় গোসল করেনি

সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

উত্তর
আলহামদু লিল্লাহ।
এক:
নীচের দুটো আলামতের কোন একটির মাধ্যমে হায়েয থেকে পবিত্র হওয়া জানা যায়:
১। সাদা স্রাব নির্গত হওয়া। সেটা হচ্ছে স্বচ্ছ পানি; নারীরা যে পানিটা চিনে থাকে।
২। স্থানটি সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে যাওয়া। অর্থাৎ স্থানটির ভেতরে যদি কটন বা এ জাতীয় অন্য কিছু রাখা হয় তাহলে পরিষ্কার বেরিয়ে আসে। কটনের মধ্যে রক্তের দাগ, হলেদেটে বা লালচে দাগ থাকে না। নারীর উচিত গোসল করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করা; যাতে করে পবিত্র হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারে।

ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন:
হায়েযের আগমন ও প্রস্থান শীর্ষক পরিচ্ছেদ। নারীরা আয়েশা (রাঃ) এর কাছে ন্যাকড়ার থলেটি পাঠাত; যে ন্যাকড়াতে হলদেটে পানি থাকত। তখন তিনি বলতেন: তোমরা তাড়াহুড়া করো না; যতক্ষণ পর্যন্ত না সাদা স্রাব দেখতে পাও। তিনি এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন: হায়েয থেকে পবিত্রতা। যায়েদ বিন ছাবেতের মেয়ের কাছে খবর পৌঁছেছে যে, নারীরা রাতের বেলায় পবিত্রতা পরীক্ষা করে দেখার জন্য চেরাগ চেয়ে পাঠাত। তখন তিনি বললেন: আগের নারীরা তো এভাবে করতেন না। তিনি তাদের এ কর্মের সমালোচনা করলেন।"[সমাপ্ত]

দুই:
যদি কোন নারী ফজরের আগে তার পবিত্র হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয় তাহলে তার উপর রোযা রাখা আবশ্যক হবে। আর যদি পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত না হন তাহলে তার রোযা সহিহ হবে না; এমনকি যদি ধরে নেয়া হয় যে, সারাদিনে তার থেকে কোন কিছু নির্গত হয়নি তবুও। কেননা হায়েয বন্ধ হয়ে গেছে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া ছাড়া রোযার নিয়ত করা শুদ্ধ নয়।

তিন:
যদি কোন নারী পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে প্রথম রাত্রিতে গোসল করে ফেলেন; এরপর ফজরের আগে পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত হন এবং পুনরায় গোসল না করে রোযা রাখেন ও নামায পড়েন তাহলে তার রোযা সহিহ হবে; কিন্তু নামায সহিহ হবে না। কারণ রোযার জন্য কেবল হায়েযের রক্ত বন্ধ হওয়া শর্ত; যদি গোসল নাও করে। কিন্তু নামাযের জন্য অবশ্যই গোসল করতে হবে। আর হায়েযের রক্ত বন্ধ হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে সন্দেহ থেকে যাওয়ার কারণে তার প্রথম গোসল শুদ্ধ নয়।

"মুনতাহাল ইরাদাত" গ্রন্থে (১/৫২) বলেন: "'হায়েয ও নিফাসের গোসল করার জন্য শর্ত হল এ দুটো থেকে অবসর হওয়া।' অর্থাৎ হায়েয ও নিফাস বন্ধ হওয়া। যেহেতু এ দুটো চলমান থাকাটা গোসলের সাথে সাংঘর্ষিক"।[সমাপ্ত]

"কাশ্‌শাফুল ক্বিনা" গ্রন্থে (১/১৪৬) গোসল ফরয হওয়ার কারণগুলো সম্পর্কে বলেন: "পঞ্চম কারণ হল: হায়েয নির্গত হওয়া"। দলিল হচ্ছে ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ (রাঃ)কে লক্ষ্য করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "(হায়েয) যখন চলে যাবে তখন গোসল করে নামায পড়বে"।[মুত্তাফাকুন আলাইহি]

এবং তিনি উম্মে হাবিবা (রাঃ), সাহলা বিনতে সুহাইল (রাঃ) ও হামনা (রাঃ) প্রমুখ নারীদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন। এবং এর পক্ষে সমর্থন রয়েছে আল্লাহ্‌তাআলার এই বাণীতে: "তারপর তারা যখন প্রকৃষ্টভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে তখন তাদের কাছে যাও।" [সূরা বাক্বারা, আয়াত: ২২২] অর্থাৎ তারা যখন গোসল করবে। এখানে স্ত্রী গোসল করার আগে স্বামীকে সহবাস করতে বারণ করা হয়েছে। এর থেকে প্রমাণ হয় যে, গোসল করা ওয়াজিব। কারণের সাথে বিধানকে সম্পৃক্ত করার হেতুবশতঃ রক্তপাত শুরু হওয়ার মাধ্যমেই গোসল ফরয হয়েছে। আর রক্তপাত বন্ধ হওয়া গোসল শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত।[সমাপ্ত]

আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ।


শরিয়ত অনুমোদিত এমন কিছু বিশেষ বিষয় কি আছে যা দিয়ে একজন মুসলিম রমযানকে স্বাগত জানাতে পারে?

সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
উত্তর
আলহামদু লিল্লাহ।
মাহে রমযান বছরের সবচেয়ে উত্তম মাস। কেননা আল্লাহ্‌ তাআলা এ মাসে সিয়ামকে ফরয করে, ইসলামের চতুর্থ রুকন বানিয়ে এ মাসকে বিশেষত্ব দিয়েছেন। এ মাসের রাতে কিয়াম পালন করার বিধান জারী করেছেন। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর নির্মিত: এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ্‌ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহ্‌র রাসূল (বার্তাবাহক), নামায প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের রোযা রাখা এবং বায়তুল্লাহ্‌র হজ্জ আদায় করা।"[সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবপ্রাপ্তির আশায় রমযান মাসে কিয়াম পালন করবে তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।"[সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম]

রমযান মাসকে স্বাগত জানানোর জন্য বিশেষ কিছু আছে মর্মে আমি জানি না। তবে একজন মুসলিম রমযানকে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সাথে, আগ্রহ-উদ্দীপনার সাথে এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সাথে গ্রহণ করবে; যেহেতু তিনি তাকে রমযান পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন, তাওফিকপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং জীবিতদের মধ্যে রেখেছেন যারা নেক আমলের ক্ষেত্রে পরস্পর প্রতিযোগিতা করে। যেহেতু রমযানে উপনীত হতে পারা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে একটি মহান নেয়ামত। এ কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে রমযান আগমনের সুসংবাদ দিতেন রমযানের মর্যাদা তুলে ধরার মাধ্যমে এবং আল্লাহ্‌ তাআলা রোযাদার ও নামাযগুজারদের জন্য যে মহান সওয়াব প্রস্তুত রেখেছেন তা বর্ণনা করার মাধ্যমে। শরিয়ত একজন মুসলিমের জন্য অনুমোদন করে যে, তিনি এই মহান মাসটিকে স্বাগত জানাবেন খালিস তাওবার মাধ্যমে, সিয়াম ও কিয়ামের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার মাধ্যমে, নেক নিয়ত ও দৃঢ় সংকল্পের সাথে।"[সমাপ্ত]

ফাদিলাতুশ শাইখ আব্দুল আযিয বিন বায এর "মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়্যিয়া" (১৫/৯)]



কোন মুসলিম যদি আগুনে পুড়ে বা বিল্ডিং ধসে মারা যায় তাহলে সে কি শহীদের মর্যাদা পাবে?

সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

আগুন
 ইন-শা-আল্লাহ্‌ একজন ভাল মুসলিম আগুনে পুড়ে বা বিল্ডিং ধসে মারা গেলে শহীদের মর্যাদা পাবে, যদি সে কোন পাপ কাজ না করতে যেয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। সহীহ হাদিস থেকে জানা যায় যে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
.
● যে পানিতে ডুবে মারা গেল সে শহীদ,
● যে পেটের পীড়ায় মারা গেল সে শহীদ,
● যে আগুনে পুড়ে মারা গেল সে শহীদ,
● যে প্লেগে মারা গেল সে শহীদ,
● সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোন নারী মৃত্যুবরণ করলে সে শহীদ,
● বিল্ডিং ধসে চাপা পড়ে যে মারা গেল সে শহীদ।

(নাসায়ী ১৮৪৬, ৩১৯৪, আবূ দাউদ ৩১১১, আহমাদ ২৩২৪১, মুয়াত্তা মালেক ৫৫২, আল-আহকাম ৩৯-৪০ নং পৃষ্ঠা, আত-তালীকুর রাগীব ২/২০২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।)

শহীদের মর্যাদা আল্লাহ্‌র কাছে অত্যন্ত উঁচু। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, এমন কোন ব্যক্তিই নাই যে জান্নাতে যাওয়ার পর আবার এই লোভে দুনিয়ায় ফিরে আসতে চাইবে যে, দুনিয়ায় যা কিছু আছে সবই তার হবে। কিন্তু, শহীদ এই ইচ্ছা করবে। কেননা, সে জান্নাতে তার প্রাপ্ত সম্মান ও মর্যাদা প্রত্যক্ষ করে দুনিয়ায় এসে ১০বার শহীদ হতে চাইবে। (বুখারী, মুসলিম, তাহকিক রিয়াদুস সালেহীন ১৩১৯)

❒ সাহায্যকারী সূত্রসমূহ:
১। আল ফাতোয়া আল কুবরা – ৩/২৩, ইবনে তাইমিয়াহ
২। http://islamqa.info/en/ref/22140


শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০

তাহাজ্জুদ সালাত পড়ার নিয়ম

শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
আল কুরআনে তাহাজ্জুদ সালাত
তাহাজ্জুদ (আরবি: تهجد‎‎), রাতের নামাজ বা কিয়ামুল লাইল নামেও পরিচিত, ইসলাম ধর্ম অনুসারীদের জন্যে একটি ঐচ্ছিক ইবাদত। এটা বাধ্যতামূলক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের অন্তর্ভুক্ত নয়। ইসলাম ধর্মের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নিয়মিত তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন এবং তাঁর সাহাবীদের এটা পালনে উৎসাহিত করতেন।
পরিচ্ছেদসমূহ
    ১ আল কুরআনে তাহাজ্জুদ সালাত
    ২ হাদীসে তাহাজ্জুদ সালাত
    ৩ সালাতের নিয়ম
    ৪ তথ্যসূত্র

আল কুরআনে তাহাজ্জুদ সালাত
"তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করে এবং রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে।" (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত ১৭-১৮)।

আল কুরআনের সূরা আল মুজাম্মিল এ উল্লেখ করা হয়েছে "অবশ্য রাতে ঘুম থেকে উঠা মনকে দমিত করার জন্য খুব বেশি কার্যকর এবং সে সময়ের কুরআন পাঠ বা জিকর একেবারে যথার্থ।"

সূরা আল ফুরকান-এর ৬৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে "আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা, যারা তাদের রবের দরবারে সিজদা করে এবং দাঁড়িয়ে থেকেই রাত কাটিয়ে দেয়।"
"তারা ছিল কঠিন পরীক্ষায় পরম ধৈর্যশীল, অটল-অবিচল, সত্যের অনুসারী, পরম অনুগত। আল্লাহর পথে ধন-সম্পদ উৎসর্গকারী এবং রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে ভুলত্রুটির ক্ষমাপ্রার্থী"। (সূরা আল ইমরান : আয়াত ১৭)
 
হাদীসে তাহাজ্জুদ সালাত
আবু হোরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি রাসূলুল্লাহ সা:কে বলতে শুনেছি। আফজালুস সালাতি বাদাল মাফরুদাতি সালাতুল লাইলি’ অর্থাৎ ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ।"

হজরত আবু হোরায়রা রা: থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে রাসূল সা: ফরমাইয়েছেন, ‘আল্লাহ প্রতি রাতেই নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হন যখন রাতের শেষ তৃতীয় ভাগ অবশিষ্ট থাকে। তিনি তখন বলতে থাকেন- কে আছো যে আমায় ডাকবে, আর আমি তার ডাকে সাড়া দেবো? কে আছো যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আর আমি তাকে তা দান করব? কে আছো যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আর আমি তাকে ক্ষমা করব? (বুখারি ও মুসলিম)
 
সালাতের নিয়ম
তাহাজ্জুদ নামাজ রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পড়া উত্তম। তবে ঘুম থেকে না জাগার সম্ভাবনা থাকলে এশার নামাজের পর দুই রাকাত সুন্নত ও বিতরের আগে তা পড়ে নেয়া জায়েজ আছে। এ নামাজের রাকাত সংখ্যাসর্বনিম্ন দুই রাকাত আর সর্বোচ্চ ৮ রাকাত পড়া উত্তম। তবে আরও বেশি পড়া জায়েজ আছে। এরপরে বিতর নামাজ পড়া। তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়ম হচ্ছে দুই রাকাত দুই রাকাত করে যথাসম্ভব লম্বা কেরাত, লম্বা রুকু ও সেজদা সহকারে একান্ত নিবিষ্ট মনে পড়া। কেরাত উঁচু বা নিচু উভয় আওয়াজে পড়া জায়েজ আছে। তবে কারও কষ্টের কারণ হলে চুপিচুপি পড়া কর্তব্য। জামাতে পড়া রমজান ছাড়া অন্য সময় মাঝেমধ্যে জামাতে পড়া জায়েজ আছে তবে নিয়মিতভাবে নয়।[১]
 
তথ্যসূত্র
"তাহাজ্জুদনামাজের নিয়ম"। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মে ২০১৯।



জীবনে এক বার হলেও পড়ুন সালাতুল তাসবীহ নামাজ

শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

সালাতুল তাসবীহ নামাজ কিভাবে এবং কেন পড়বেন?

সালাতুত তাসবীহ (আরবি: صلاة تسبيح ‎‎), তাসবীহের নামাজ নামেও পরিচিত। সালাত শব্দের অর্থ নামাজ। আর তাসবিহ বলতে ‘সুবাহানাল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার’ এ শব্দগুলো বোঝানো হয়েছে। যে নামাজে এসব তাসবীহ পড়ানো হয় তা সালাতুত তাসবীহ বা তাসবীহের নামাজ হিসেবে পরিচিত। ইসলামে অনুসারীদের জন্যে এটি একটি ঐচ্ছিক ইবাদত। এটা বাধ্যতামূলক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মতো নয়। ইসলাম ধর্মের নবী মোহাম্মদ (সা.) তার অনুসারীদেরকে এ নামাজ পালনে উৎসাহিত করছেন। জীবনে একবার হলেও মুসলমানরা যেনো এ নামাজ পড়ে সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।[১]

পরিচ্ছেদসমূহ
    ১ হাদীসে সালাতুল তাসবীহ
    ২ সালাতুল তাসবীহ নামাজ পড়ার নিয়ম
    ৩ ভুল হলে করণীয়:
    ৪ তথ্যসূত্র

হাদীসে সালাতুল তাসবীহ
রাসুল (সা.) তার চাচা হজরত আব্বাস (রা.)-কে বলেন, ‘চাচা, পারলে আপনি সালাতুল তাসবিহ নামাজ সপ্তাহে একবার, তাও না হলে মাসে একবার, তাও না পারলে বছরে একবার পড়বেন। তাতেও অক্ষম হলে অন্তত জীবনে একবার হলেও এ নামাজ পড়বেন। এ নামাজ দ্বারা জীবনের ছোট, বড়, স্বেচ্ছায়, অনিচ্ছায়, নতুন, পুরনো, গোপন, প্রকাশ্য সব রকম অপরাধ মাফ হয়ে যায়।’ [১]
সালাতুল তাসবীহ নামাজ পড়ার নিয়ম
সালাতুত তাসবীহ চার রাকাত। প্রতি রাকাতে ‘সুবাহানাল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার’ তাসবীহগুলো ৭৫ বার পড়তে হয়। চার রাকাতে মোট ৩০০ বার পড়তে হয়। [১] প্রথম রাকাতে সানা পড়ার পর ১৫ বার বার পড়তে হবে- (سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ ) সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।

তারপর সূরা ফাতিহা তারপর কোরআন থেকে কেরাত পাঠ (সুরা মিলানো) সম্পন্ন হবার পর দাঁড়ানো অবস্থায় রুকুতে যাওয়ার পুর্বে ১০ বার

    রুকু করবে এবং রুকু অবস্থায় দোয়ার পর (এ তাসবিহ) ১০ বার পাঠ করতে হবে।
    রুকু থেকে মাথা ওঠানোর পর সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় (রাব্বানা লাকাল হামদ পড়ার পর)এ তাসবিহ ১০ বার পাঠ করতে হবে।।
    তারপর সিজদায় যাবে এবং সিজদা অবস্থায় এ তাসবীহ ১০ বার পাঠ করবে।
    সিজদা থেকে মাথা ওঠানোর পর ১০ বার।
    পুনরায় সিজদা গিয়ে ১০ বার
    সিজদা থেকে মাথা ওঠিয়ে আবার দ্বিতীয় রাকাতে একি ভাবে তাসবিহ পাঠ করতে হবে।

এ তাসবিহ প্রত্যেক রাকাআতে ৭৫ বার করে ৪ রাকাআত নামাজের প্রতি রাকাআতেই এক নিয়ম অনুসারে আদায় করতে হবে।[২]
ভুল হলে করণীয়:
‘ছলাতুত তাসবীহ’ নামায পড়াবস্থায় দানাদার তসবিহ হাতে গণনা করা মাকরূহ বা অনুচিত। আঙ্গুলের করগুলোতে তাসবীহ গণনা করতে হবে। কোনো স্থানে তাসবীহ পড়তে ভুলে গেলে পরবর্তী তাসবীহ পাঠের সময় তা আদায় করে নিতে হবে। তবে ক্বওমা তথা রুকু থেকে দাঁড়ানোকালে ও দুই সিজদার মাঝখানে তাসবীহ ভুলে যাওয়া তাসবীহগুলো আদায় করা যাবে না। সূর-কেরাত পড়ার পূর্বে তাসবীহ ভুলে গেলে সূরা-কেরাত পাঠের সেটি আদায় করতে হবে। একইভাবে ক্বিরায়াতের পর তাসবীহ ভুলে গেলে রুকুতে গিয়ে আদায় করতে হবে। রুকুতে তাসবীহ ভুলে গেলে উক্ত তাসবীহ প্রথম সিজদায় আদায় করতে হবে। সিজদায় যাওয়ার পূর্বে তাসবীহ পড়তে ভুলে গেলে তা প্রথম সিজদাতে গিয়ে আদায় করতে হবে। প্রথম সিজদাতে তাসবীহ ভুলে গেলে তা দুই সিজদার মাঝখানে আদায় না করে দ্বিতীয় সিজদাতে গিয়ে আদায় করতে হবে। ঠিক দুই সিজদার মাঝখানের তাসবীহ পড়তে ভুলে গেলে তাও দ্বিতীয় সিজদায় গিয়ে পড়তে হবে। একইভাবে আর দ্বিতীয় সিজদাতে তাসবীহ ভুলে পরের রাকায়াতে সূরা-ক্বিরায়াত পাঠ করার পূর্বে পড়ে নিতে হবে। শেষ সিজদার তাসবীহ পড়তে ভুলে গেলে সালাম ফিরানোর পূর্বে তাসবীহ পড়ে নিতে হবে।[৩]

তথ্যসূত্র
"সালাতুত তাসবিহ নামাজ পড়ার নিয়ম ও পদ্ধতি"। ইমাম বাতায়ন। ২৬ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১৯।
"'সালাতুত তাসবিহ'র ফজিলত বর্ণনায় বিশ্বনবি"। জাগো নিউজ। ১৫ জুন ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১৯।

    "সালাতুত তাসবীহ"। আহলে হক। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১৯।



রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০

পুরুষদের হাতে-পায়ে মেহেদী ব্যবহার প্রসঙ্গে

রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

 সৌন্দর্যের জন্য পুরুষদের হাতে-পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা জায়েয নয়।
(ইবনু হাজার, ফৎহুল বারী হা/৫৮৯৯-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)

কারণ মেহেদী এক ধরনের রঙ। আর পুরুষদের জন্য রঙ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, জেনে রাখো যে, পুরুষদের খোশবূ এমন, যাতে সুগন্ধি আছে রং নেই। পক্ষান্তরে নারীদের খোশবূ এমন, যাতে রং আছে সুগন্ধি নেই।.
(তিরমিযী হা/২৭৮৭, মিশকাত হা/৪৪৪৩)।

এছাড়া তিনি পুরুষদের জন্য রঙ থাকার কারণে জাফরানের সুগন্ধি ব্যবহার করতেও নিষেধ করেছেন।.
(বুখারী হা/৫৮৪৬, মুসলিম হা/২১০১, মিশকাত হা/৪৪৩৪)

তবে চিকিৎসার প্রয়োজনে যে কোন স্থানে মেহেদী ব্যবহার করা জায়েয আছে।.
(তিরমিযী হা/২০৫৪, ছহীহুল জামে‘ হা/৪৬৭১, ছহীহাহ হা/২০৫৯)।

মাথার চুল ও দাড়িতে মেহেদী ব্যবহার করা উত্তম।.
(আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৪৫১)






মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০

নিয়মিত মধু খাওয়ার উপকারিতা ও গুনাগুণ

মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

মধু একটি পুষ্টিকর খাবার। যদি আমরা মধুর পুষ্টিগুনের দিক তুলে ধরে খাবারের একটি তালিকা করি, তাহলে খাবারের তালিকায় প্রথমে থাকবে মধুর নাম। এটি শরীরের জন্য খুবি উপকারী। যদি নিয়মিত মধু সেবন করা হয়, তাহলে অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এটি বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত।

মধুর উপাদান
মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫ থেকে ১২ শতাংশমন্টোজ। আরও থাকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো অ্যাসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ শতাংশএনকাইম। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি।

মধুর উপকারিতা

শক্তি প্রদায়ী : মধু ভালো শক্তি প্রদায়ী খাদ্য। তাপ ও শক্তির ভালো উৎস। মধু দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে।
হজমে সহায়তা: এতে যে শর্করা থাকে, তা সহজেই হজম হয়। কারণ, এতে যে ডেক্সট্রিন থাকে, তা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিয়া করে। পেটরোগা মানুষের জন্য মধু বিশেষ উপকারী।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। এটি ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ১ চা–চামচ খাঁটি মধু ভোরবেলা পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লত্ব দূর হয়।

রক্তশূন্যতায়: মধু রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে বলে এটি রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক। কারণ, এতে থাকে খুব বেশি পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ।

ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে: বলা হয়, ফুসফুসের যাবতীয় রোগে মধু উপকারী। যদি একজন অ্যাজমা (শ্বাসকষ্ট) রোগীর নাকের কাছে মধু ধরে শ্বাস টেনে নেওয়া হয়, তাহলে সে স্বাভাবিক এবং গভীরভাবে শ্বাস টেনে নিতে পারবে। অনেকে মনে করে, এক বছরের পুরোনো মধু শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বেশ ভালো।

অনিদ্রায়: মধু অনিদ্রার ভালো ওষুধ। রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই চা–চামচ মধু মিশিয়ে খেলে এটি গভীর ঘুম ও সম্মোহনের কাজ করে।

যৌন দুর্বলতায়:
পুরুষদের মধ্যে যাঁদের যৌন দুর্বলতা রয়েছে, তাঁরা যদি প্রতিদিন মধু ও ছোলা মিশিয়ে খান, তাহলে বেশ উপকার পাবেন।

প্রশান্তিদায়ক পানীয়: হালকা গরম দুধের সঙ্গে মিশ্রিত মধু একটি প্রশান্তিদায়ক পানীয়।

মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায়: মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায় মধু ব্যবহৃত হয়। এটা দাঁতের ওপর ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। দাঁতে পাথর জমাট বাঁধা রোধ করে এবং দাঁত পড়ে যাওয়াকে বিলম্বিত করে। মধু রক্তনালিকে সম্প্রসারিত করে দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। যদি মুখের ঘায়ের জন্য গর্ত হয়, এটি সেই গর্ত ভরাট করতে সাহায্য করে এবং সেখানে পুঁজ জমতে দেয় না। মধু মিশ্রিত পানি দিয়ে গড়গড়া করলে মাড়ির প্রদাহ দূর হয়।

পাকস্থলীর সুস্থতায়: মধু পাকস্থলীর কাজকে জোরালো করে এবং হজমের গোলমাল দূর করে। এর ব্যবহার হাইড্রোক্রলিক অ্যাসিড ক্ষরণ কমিয়ে দেয় বলে অরুচি, বমিভাব, বুকজ্বালা এগুলো দূর করা সম্ভব হয়।
তাপ উৎপাদনে: শীতের ঠান্ডায় এটি শরীরকে গরম রাখে। এক অথবা দুই চা–চামচ মধু এক কাপ ফুটানো পানির সঙ্গে খেলে শরীর ঝরঝরে ও তাজা থাকে।
পানিশূন্যতায়: ডায়রিয়া হলে এক লিটার পানিতে ৫০ মিলিলিটার মধু মিশিয়ে খেলে দেহে পানিশূন্যতা রোধ করা যায়।
দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে: চোখের জন্য ভালো। গাজরের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে।
রূপচর্চায়: মেয়েদের রূপচর্চার ক্ষেত্রে মাস্ক হিসেবে মধুর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। মুখের ত্বকের মসৃণতা বৃদ্ধির জন্যও মধু ব্যবহৃত হয়।

ওজন কমাতে: মধুতে নেই কোনো চর্বি। পেট পরিষ্কার করে, চর্বি কমায়, ফলে ওজন কমে।
হজমে সহায়তা: মধু প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি। তাই মধু সহজে হজম হয় এবং হজমে সহায়তা করে।
গলার স্বর: গলার স্বর সুন্দর ও মধুর করে।
তারুণ্য বজায় রাখতে: তারুণ্য বজায় রাখতে মধুর ভূমিকা অপরিহার্য। এটি অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। শরীরের সামগ্রিক শক্তি ও তারুণ্য বাড়ায়।
হাড় ও দাঁত গঠনে:
মধুর গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়াম দাঁত, হাড়, চুলের গোড়া শক্ত রাখে, নখের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে, ভঙ্গুরতা রোধ করে।
রক্তশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে: এতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, যা রক্তশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
আমাশয় ও পেটের পীড়া নিরাময়ে:
পুরোনো আমাশয় এবং পেটের পীড়া নিরাময়সহ নানাবিধ জটিল রোগের উপকার করে থাকে।
হাঁপানি রোধে: আধা গ্রাম গুঁড়ো করা গোলমরিচের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু এবং আদা মেশান। দিনে অন্তত তিনবার এই মিশ্রণ খান। এটা হাঁপানি রোধে সহায়তা করে।
উচ্চ রক্তচাপ কমায়: দুই চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ রসুনের রস মেশান। সকাল-সন্ধ্যা দুইবার এই মিশ্রণ খান। প্রতিনিয়ত এটার ব্যবহার উচ্চ রক্তচাপ কমায়। প্রতিদিন সকালে খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত।
রক্ত পরিষ্কারক: এক গ্লাস গরম পানির সঙ্গে এক বা দুই চামচ মধু ও এক চামচ লেবুর রস মেশান। পেট খালি করার আগে প্রতিদিন এই মিশ্রণ খান। এটা রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তা ছাড়া রক্তনালিগুলোও পরিষ্কার করে।
রক্ত উৎপাদনে সহায়তা: রক্ত উৎপাদনকারী উপকরণ আয়রন রয়েছে মধুতে। আয়রন রক্তের উপাদানকে (আরবিসি, ডব্লিউবিসি, প্লাটিলেট) অধিক কার্যকর ও শক্তিশালী করে।
হৃদ্‌রোগে: এক চামচ মৌরি গুঁড়োর সঙ্গে এক বা দুই চামচ মধুর মিশ্রণ হৃদ্‌রোগের টনিক হিসেবে কাজ করে। এটা হৃৎপেশিকে সবল করে এবং এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায়: মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের ভেতরে এবং বাইরে যেকোনো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতাও জোগান দেয়। মধুতে আছে একধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান, যা অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে।

লেখক: প্রধান পুষ্টিবিদ



ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের বিধান

মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই মানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। আর এই সামাজিকতার এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা হচ্ছে কোন মানুষ একা সবসময় নিজের সব প্রয়োজন পূরণে সক্ষম হয় না। এজন্যই পরস্পরকে বিভিন্ন উপায় বা লেনদেনের মাধ্যমে মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করে থাকে। এরকমই একটি বড় উপায় হচ্ছে ঋণ। মানব জীবনের পথচলায় ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ইসলাম এ বিষয়ে মানুষকে উৎকৃষ্ট পদ্ধতি ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। মহান আল্লাহ মানবজাতিকে ঋণ গ্রহণ করার যেমন অনুমতি দিয়েছেন, তেমনি যথাসময়ে সেই ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেছেন। যাপিত জীবনের বাঁকে-বাঁকে যেহেতু আমরা ঋণের সাথে জড়িত থাকি, সেহেতু ঋণের ক্ষেত্রে ইসলামী শরী‘আতের দিক-নির্দেশনা ও বিধি-বিধান সম্পর্কে আমাদের স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। তাছাড়া ঋণের ভয়াবহতার ব্যাপারে সম্যক ধারণা না থাকার কারণে আমরা ঋণকে হালকা চোখে দেখি। যা পরকালীন জীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ। আলোচ্য নিবন্ধে আমরা এই বিষয়ে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

ঋণের পরিচয় : ঋণের আরবী প্রতিশব্দ قَرْض, যা বাংলা ভাষায় ‘কর্য’ নামে পরিচিত। এর বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে দেনা, ধার, হাওলাত ইত্যাদি। শরী‘আতের পরিভাষায়دَفْعُ مَالٍ إِرْفَاقًا لِمَنْ يَنْتَفِعُ بِهِ وَيَرُدُّ بَدَلَهُ، অর্থাৎ ‘ঋণ হ’ল সহযোগিতার জন্য অপরকে মাল-পণ্য প্রদান করা, যেন গ্রহীতা এর মাধ্যমে উপকৃত হয়, অতঃপর দাতাকে সেই মাল কিংবা তার অনুরূপ ফেরত দেওয়া’।[1] ইসলামী পরিভাষায় একে ‘কর্যে হাসানা’ বলা হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়, ছওয়াবের নিয়তে বিনা শর্তে কাউকে কোন কিছু ঋণ দিলে তাকে ‘কর্যে হাসানা’ বা উত্তম ঋণ বলা হয়। এতে মানুষ দুনিয়া ও আখেরাতে উপকৃত হয় এবং পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় ও সামাজিক ঐক্য সুদৃঢ় হয়। আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় কর্যে হাসানার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। মহান আল্লাহ বলেন, مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً وَاللهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ‘কোন সে ব্যক্তি যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দিবে, অতঃপর তিনি তার বিনিময়ে তাকে বহুগুণ বেশী প্রদান করবেন? বস্ত্ততঃ আল্লাহ্ই রূযী সংকুচিত করেন ও প্রশস্ত করেন। আর তাঁরই দিকে তোমরা ফিরে যাবে’ (বাক্বারাহ ২/২৪৫)। অন্যত্র তিনি বলেন,وَأَقْرَضُوا اللهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعَفُ لَهُمْ وَلَهُمْ أَجْرٌ كَرِيْمٌ ‘নিশ্চয় দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেয়, তাদেরকে দেওয়া হবে বহুগুণ বেশী। আর তাদের জন্যে রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার’ (হাদীদ ৫৭/১৮)। এখানে আল্লাহকে ঋণ দেওয়া অর্থ আল্লাহর পথে দান করা এবং আল্লাহর বান্দাকে কর্য দেওয়া উভয় মর্ম বহন করে। কেননা হাদীছে কুদসীতে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, আল্লাহ বলেন, اسْتَقْرَضْتُ عَبْدِي فَلَمْ يُقْرِضْنِي ‘আমি আমার বান্দার কাছে ঋণ চেয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাকে ঋণ দেয়নি’।[2] এতে বুঝা যায় যে, ইসলাম মানুষের নৈতিক ও অর্থনৈতিক দু’দিকেরই উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথ দেখিয়েছে।

ঋণ গ্রহণের বিধান : ইসলামে ঋণ আদান-প্রদান করা বৈধ। যা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত। কেননা রাসূল (ছাঃ) ঋণ গ্রহণ করেছিলেন,[3] ঋণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন[4] এবং তার উম্মতকে ঋণ মুক্তির দো‘আ শিখিয়েছেন[5]। এমনকি রাসূল (ছাঃ) অমুসলিমের কাছ থেকেও ঋণ গ্রহণ করেছেন। সুতরাং ইসলাম মুসলমানদেরকে বিপদে-আপদে এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে অপরের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করার অনুমতি প্রদান করেছে। সঙ্গে সঙ্গে সঠিক সময়ে তা পরিশোধ করার প্রতি কঠোর নির্দেশও দিয়েছে।

ঋণ দান ব্যবসা নয়, সহযোগিতা : ইসলামে ঋণের উদ্দেশ্য হচ্ছে স্রেফ আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করা ও তাদের প্রতি দয়া করা। কিন্তু এই সহযোগিতার আড়ালে ব্যবসায়িক বা অন্য কোন সুবিধা অর্জন উদ্দেশ্য নয়। একজন মুমিনের জীবনে ঋণ দানের উদ্দেশ্য আর্থিক প্রবৃদ্ধি নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। সেকারণ ঋণ গ্রহীতা ঋণ ফেরত দেয়ার সময় যা নিয়েছে তা কিংবা তার অনুরূপ ফেরত দিতে আদিষ্ট, এর অতিরিক্ত নয়। ঋণ দাতা এর অতিরিক্ত নিলে তা সূদ হিসাবে গণ্য হবে। আমরা সমাজিক জীবনে ঋণের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে সূদের সাথে জড়িয়ে পড়ি। যেমন- চাকরী বা অন্য কোন সহযোগিতার উদ্দেশ্যে কাউকে ঋণ দেওয়া অথবা কোন হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বা দোকান-ঘর ভাড়া পাওয়ার জন্য ঋণ প্রদান প্রভৃতি সহযোগিতা সূদের পর্যায়ভুক্ত। অনুরূপভাবে জমি বন্ধক প্রথাও একপ্রকার সূদ। কারণ এভাবে জমি নিলে চাষের খরচ ব্যতীত বাকী শস্য জমির মালিককে ফেরত দিতে হবে। কেননা এটা একটা কর্য। আর কর্যের লাভ ভোগ করা যায় না। ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, যে ঋণের বিনিময় লাভ করা হয়, তা সূদ।[6]

আজকাল বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিওগুলো গ্রামে-গঞ্জে, নগর-বন্দরে সহযোগিতার নামে সূদী ঋণের কারবারী করছে এবং সূদী লেনদেনের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর গযবের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কেউ আবার সূদে ঋণ দানকে ব্যবসা হিসাবে গ্রহণ করেছে, যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। ঋণ কখনো ব্যবসা হ’তে পারে না। কারণ যে ঋণের মাধ্যমে ব্যবসা করা হয়, তা মূলত সূদী ব্যবসা।

ঋণ গ্রহণে সতর্কতা : জান্নাত পিয়াসী মুমিন বান্দাকে ঋণের ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকা যরূরী। ছাওবান (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,مَنْ مَاتَ وَهُوَ بَرِيءٌ مِنْ ثَلَاثٍ: الكِبْرِ، وَالغُلُولِ، وَالدَّيْنِ دَخَلَ الجَنَّةَ، ‘যে ব্যক্তির মৃত্যু হবে অহংকার, খিয়ানত এবং ঋণ থেকে মুক্ত হয়ে, সে জানণাতে প্রবেশ করবে’।[7] অর্থাৎ ঋণগ্রস্ত হয়ে মারা গেলে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মৃত ব্যক্তির সম্পদ তার উত্তরাধিকারীদের মাঝে বণ্টনের পূর্বে মৃতের ঋণ পরিশোধ করার ব্যাপারে জোর তাকীদ দিয়েছেন।[8] কারণ আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া ব্যক্তিও তার ঋণের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।[9] যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে তার ঋণ পরিশোধ করা হয়। সেকারণ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, لَوْ كَانَ لِي مِثْلُ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا يَسُرُّنِي أَنْ لاَ يَمُرَّ عَلَيَّ ثَلاَثٌ، وَعِنْدِي مِنْهُ شَيْءٌ إِلَّا شَيْءٌ أُرْصِدُهُ لِدَيْنٍ، ‘আমার কাছে যদি ওহোদ পাহাড়ের সমান সোনা থাকত, তাহ’লে আমার পসন্দ নয় যে, তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আমার কাছে তার কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকুক। তবে সেই পরিমাণ ব্যতীত, যা আমি ঋণ পরিশোধ করার জন্য রেখে দেই’।[10]

ঋণের কারণে মানুষ সামাজে লাঞ্ছিত হয়। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঋণ গ্রহণ থেকে সতর্ক থাকা উচিত। অপরদিকে পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ করা আত্মসাতের শামিল, যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

ঋণ দানের ফযীলত :

পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে ঋণ বলতে ‘কর্যে হাসানাহ’ বুঝানো হয়েছে। আর কর্যে হাসানাহ প্রদানে রয়েছে অশেষ ফযীলত।

(ক) ঋণ দান ছাদক্বাহর ন্যায় ফযীলতপূর্ণ : কাউকে নেকীর আশায় বা সহযোগিতার জন্য কর্যে হাসানা প্রদান করা আল্লাহর পথে দান-ছাদাক্বাহ করার সমতুল্য। এমনকি ঋণ দানকে দান-ছাদাক্বার চেয়েও বেশী মর্যাদাপূর্ণ বলা হয়েছে। আবূ উমামা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,دخل رجل الجنة، فرأى مكتوباً على بابها: الصدقةُ بعشرِ أمثالها، والقرضُ بثمانية عشر ‘এক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করে তার দরজায় একটি লেখা দেখতে পেল যে, ছাদাক্বার নেকী দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয় এবং ঋণ দানের নেকী আঠারো গুণ বৃদ্ধি করা হয়’।[11]

ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, كُلُّ قَرْضٍ صَدَقَةٌ ‘প্রত্যেক ঋণই ছাদক্বাহ’।[12] অপর এক বর্ণনায় তিনি বলেন,مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُقْرِضُ مُسْلِمًا قَرْضًا مَرَّتَيْنِ إِلَّا كَانَ كَصَدَقَتِهَا مَرَّةً ‘কোন মুসলিম অপর কোন মুসলিমকে দুইবার ঋণ দিলে সে একবার ছাদক্বাহ করার নেকী পাবে’।[13]

(খ) দাস মুক্তির নেকী : কর্যে হাসানা বা ঋণ প্রদানের মাধ্যমে দাস মুক্ত করে দেওয়ার নেকী লাভ করা যায়। বারা ইবনু আযেব (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি,مَنْ مَنَحَ مَنِيحَةَ لَبَنٍ أَوْ وَرِقٍ أَوْ هَدَى زُقَاقًا كَانَ لَهُ مِثْلَ عِتْقِ رَقَبَةٍ ‘যে ব্যক্তি একবার দোহন করা দুধ দান করে অধবা টাকা-পয়সা ধার দেয় অথবা পথহারা লোককে সঠিক পথের সন্ধান দেয়, তার জন্য রয়েছে একটি গোলাম মুক্ত করার সমপরিমান ছওয়াব’।[14]

(গ) ফেরেশতাদের দো‘আ লাভের সৌভাগ্য : যারা আল্লাহর কোন বান্দাকে সহযোগিতার জন্য ঋণ দেয়, আকাশের ফেরেশতা তার জন্য বরকতের দো‘আ করে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,مَا مِنْ يَوْمٍ يُصْبِحُ الْعِبَادُ فِيهِ إِلاَّ مَلَكَانِ يَنْزِلاَنِ فَيَقُولُ أَحَدُهُمَا اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا، وَيَقُولُ الآخَرُ  اللَّهُمَّ أَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا ‘প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন। আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন’।[15] সুতরাং ঋণ দান এমন একটি ছাদাক্বাহ, যার মাধ্যমে ফেরেশতাদের দো‘আ লাভে ধন্য হওয়া যায়। আল্লাহর নিষ্পাপ ফেরেশতাদের দো‘আ লাভ করা কতইনা সৌভাগ্যের ব্যাপার!

(ঘ) বিপদ থেকে মুক্তি ও আল্লাহর সাহায্য লাভ : যখন কোন মুমিন বান্দা নিঃস্বার্থভাবে কারো দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। তখন আল্লাহ এত খুশি হন যে, তিনি স্বয়ং সেই বান্দার সাহায্যকারী হয়ে যান এবং তাকে দুনিয়া ও আখেরাতের বিপদ থেকে রক্ষা করেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন মুমিনের দুনিয়ার বিপদসমূহের কোন একটি বিপদ দূর করে দিবে, আল্লাহ তার আখেরাতের বিপদসমূহের মধ্য হ’তে একটি (কঠিন) বিপদ দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত লোকের অভাব (সাহায্যের মাধ্যমে) সহজ করে দিবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তাকে সহজতা দান করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুমিনের দোষ-ত্রুটি গোপন করবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর বান্দাদেরকে সাহায্য করতে থাকেন, যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্যে রত থাকে’।[16] আর নিঃসন্দেহে ঋণ একটি সহযোগিতা, যার মাধ্যমে ঋণগ্রহীতার বিপদাপদে তার পাশে দাঁড়ানো হয়। মহান আল্লাহ আমাদেরকে কর্যে হাসানা বা নিঃস্বার্থ ঋণ প্রদানের মাধ্যমে উক্ত ফযীলতগুলো হাছিল করার তাওফীক্ব দান করুন-আমীন!

ঋণ দানের আদব :

কাউকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ঋণ দান করা নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। আর ঋণ দানের ক্ষেত্র ইসলাম কতিপয় শিষ্টাচার ও নীতিমালা বর্ণনা করেছে। যেমন-

(ক) ঘুষ গ্রহণ না করা : ঋণ দানের ক্ষেত্রে বিনিময় গ্রহণ করা এবং এর মাধ্যমে কোন উপকার হাছিল করা হারাম। ইবনু কুদামা বলেন,

وَكُلُّ قَرْضٍ شَرَطَ فِيهِ أَنْ يَزِيدَهُ، فَهُوَ حَرَامٌ، بِغَيْرِ خِلَافٍ. قَالَ ابْنُ الْمُنْذِرِ: أَجْمَعُوا عَلَى أَنَّ الْمُسَلِّفَ إذَا شَرَطَ عَلَى الْمُسْتَسْلِفِ زِيَادَةً أَوْ هَدِيَّةً، فَأَسْلَفَ عَلَى ذَلِكَ، أَنَّ أَخْذَ الزِّيَادَةِ عَلَى ذَلِكَ رَبًّا. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، وَابْنِ عَبَّاسٍ، وَابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّهُمْ نَهَوْا عَنْ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةً.

‘যে সকল ঋণে অতিরিক্ত কোন কিছু গ্রহণ করার শর্তারোপ করা হয়, তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোন মতভেদ নেই। ইবনুল মুনযির বলেন, বিদ্বানগণ এ ব্যাপারে একমত যে, যদি ঋণ দাতা ঋণ গ্রহীতার উপর কোন অতিরিক্ত লাভ বা উপঢৌকনের শর্তারোপ করে এবং ঋণী ব্যক্তি যদি সেটা তাকে প্রদান করে, তাহ’লে সেই অতিরিক্ত কিছু সূদ হিসাবে গণ্য হবে। উবাই ইবনে কা‘ব, ইবনু আববাস ও ইবনু মাসঊদ (রাঃ) প্রমুখ ছাহাবী থেকে এমনটাই বর্ণিত হয়েছে যে, তারা ঋণে লাভ গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন’।[17] আজকের বিশ্ব এই সূদী ঋণের জাতাকলে পিষ্ট হয়ে অশান্তির দাবানলে পরিণত হয়েছে। আমাদের সামাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সূদী ব্যাংকগুলো সহযোগিতার ফাঁকা বুলি কপচিয়ে মানুষের রক্ত চুষে খাচ্ছে। সূদী ঋণের আগ্রাসী ছোবলে আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অশান্তির মূল কারণ হ’ল এই সূদ ভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থা। তাই দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি পেতে হ’লে সার্বিক জীবনে সূদমুক্ত অর্থ ব্যবস্থা চালু করা আবশ্যক। কারণ সূদী ঋণ দান সহযোগিতা নয়; বরং মহাপাপ।

(খ) উপঢৌকন গ্রহণ না করা : ঋণ দানের অন্যতম আদব হ’ল ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে কোন উপঢৌকন গ্রহণ না করা। কারণ ঋণের বিনিময়ে হাদিয়া বা উপহার গ্রহণ করা হারাম। আবূ বুরদাহ ইবনে আবূ মূসা (রহঃ) বলেন, একবার আমি মদীনায় এসে আব্দুল্লাহ বিন সালামের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি আমাকে বললেন,

إِنَّك بِأَرْض فِيْهَا الرِّبَا فَاش إِذا كَانَ لَكَ عَلَى رَجُلٍ حَقٌّ فَأَهْدَى إِلَيْكَ حِمْلَ تَبْنٍ أَو حِملَ شعيرِ أَو حَبْلَ قَتٍّ فَلَا تَأْخُذْهُ فَإِنَّهُ رِبًا.

‘তুমি এমন এলাকায় বসবাস করছ, যেখানে সূদের প্রচলন অত্যধিক। অতএব কারো কাছে যদি তোমার কোন পাওনা থাকে, আর সে যদি তোমাকে হাদিয়া বা উপহার হিসাবে এক বোঝা খড় অথবা এক বোঝা যব অথবা এক আঁটি ঘাসও দেয়; তুমি তা গ্রহণ করবে না। কারণ এটা সূদ হিসাবে গণ্য হবে’।[18] এই আছারের মর্মার্থ অন্যান্য ছাহবীদের ইজমা দ্বারা প্রমাণিত। ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেন,

وَقَدْ تَقَدَّمَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَعْيَانِهِمْ كَأُبَيٍّ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَعَبْدِ اللهِ بْنِ سَلَامٍ وَابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُمْ نَهَوْا الْمُقْرِضَ عَنْ قَبُولِ هَدِيَّةِ الْمُقْتَرِضِ، وَجَعَلُوا قَبُولَهَا رِبًا.

‘উবাই বিন কা‘ব, ইবনে মাসঊদ, আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম, ইবনে ওমর এবং ইবনু আববাস (রাঃ)-এর মত উল্লেখযোগ্য ছাহাবায়ে কেরামের পক্ষ থেকে এটা বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা ঋণদাতাকে ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে উপঢৌকন গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। তাঁরা এই উপহার গ্রহণকে সূদ হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন’।[19]

আল্লামা শাওক্বানী (রহঃ) বলেন, ‘যদি কর্যের কারণে ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মাঝে হাদিয়া বা উপঢৌকন আদান-প্রদান হ’লে এটা সূদ বা ঘুষ হিসাবে গণ্য হবে। যা স্পষ্ট হারাম। তবে ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মাঝে যদি আগে থেকেই হাদিয়া আদান-প্রদানের অভ্যাস থাকে তাহ’লে সেই উপহার প্রদান বা গ্রহণ করাতে কোন সমস্যা নেই’।[20] যেমন একবার ইবনে ওমর (রাঃ) উবাই ইবনে কা‘বকে দশ হাযার দিরহাম ঋণ দিলেন। অতঃপর উবাই বিন কা‘ব তাকে জমির কিছু ফল হাদিয়া দিলেন। কিন্তু ইবনু ওমর সেই ফল গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দিলেন। তখন উবাই (রাঃ) বললেন, মাদীনাবসীরা জানে যে আমি উৎকৃষ্ট ফল-মূল আবাদ করি। তাহ’লে আপনি এই ফল-মূল নিচ্ছেন না কেন? এরপর তিনি আবার অনুরোধ জানালে ইবনু ওমার সেই হাদিয়া গ্রহণ করলেন। ইবনুল কায়্যিম (রহঃ) বলেন, ইবনু ওমর প্রথমে মনে করেছিলেন, ঋণদানের কারণেই হয়তো এই হাদিয়া তাকে দেওয়া হচ্ছে, সেকারণ তিনি প্রথমে তা গ্রহণ করেননি। কিন্তু যখন তিনি নিশ্চিত হ’লেন যে, এই হাদিয়া তার ঋণ দানের কারণে নয়, তখন সেটা গ্রহণ করলেন’।[21]

(গ) অক্ষম ঋণগ্রহীতার প্রতি কঠোর না হওয়া : ঋণী ব্যক্তি তার ঋণ পরিশোধ করতে অপারগ হ’লে তার উপর কঠোর হওয়া উচিৎ নয়। মা আয়েশা ছিদ্দীক্বা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,مَنْ طَلَبَ حَقًّا فَلْيَطْلُبْهُ فِي عَفَافٍ وَافٍ، أَوْ غَيْرِ وَافٍ، ‘কোন ব্যক্তি পাওনা আদায়ের তাগাদা দিলে, যেন বিনীতভাবেই তাগাদা দেয়। এতে তার ঋণ আদায় হোক বা না হোক’।[22] আল্লাহর রাসূলের এই হাদীছের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের মহানুভবতা ফুটে ওঠে। সুতরাং প্রকৃত অক্ষম ও দরিদ্র ঋণীদের প্রতি সদয় হওয়া উচিত।

অক্ষম ঋণগ্রহীতাকে ছাড় প্রদানের ফযীলত :

সমাজে যেমন কিছু লোক পাওয়া যায়, যারা সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ঋণ শোধ করতে ঢিলেমি করে, তেমন সত্যিকারে এমন লোকও রয়েছে যারা নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম। এ রকম ব্যক্তিকে ইসলাম অতিরিক্ত সময় দিতে উদ্বুদ্ধ করে। যারা অক্ষম ঋণগ্রহীতাকে অবকাশ দেয় বা তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতের মহা পুরস্কার। মহান আল্লাহ বলেন,وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ وَأَنْ تَصَدَّقُوْا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ، ‘আর ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি অভাবী হয়, তাহ’লে তাকে সচ্ছল হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও। আর যদি ঋণ মাফ করে দাও, তাহ’লে সেটা তোমাদের জন্য আরো উত্তম, যদি তোমরা তা জানতে’ (বাক্বারাহ ২/২৮০)।

(ক) দানের ছওয়াব অর্জন : ঋণদাতা যদি অক্ষম ঋণীকে দেনা পরিশোধে ছাড় দেন, তাহ’লে তিনি এর মাধ্যমে আল্লাহর পথে দান-ছাদাক্বাহ করার নেকী অর্জন করেন। বুরাইদা আল-আসলামী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا كَانَ لَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ، وَمَنْ أَنْظَرَهُ بَعْدَ حِلِّهِ كَانَ لَهُ مِثْلُهُ، فِي كُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ. ‘যে ব্যক্তি (ঋণগ্রস্ত) অভাবী ব্যক্তিকে অবকাশ দিবে, সে দান-খয়রাত করার ছওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও সময় বাড়িয়ে দিবে, সেও প্রতিদিন দান-খয়রাত করার নেকী লাভ করবে’।[23]

(খ) আল্লাহর রাসূলের দো‘আ লাভ : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সেই পাওনাদার ব্যক্তির জন্য রহমতের দো‘আ করেছেন, যে অভাবী কর্যগ্রহীতার প্রতি সহনশীল হয়। জাবের (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) ইরশাদ করেছেন,رَحِمَ اللهُ عَبْدًا سَمْحًا إِذَا بَاعَ، سَمْحًا إِذَا اشْتَرَى، سَمْحًا إِذَا اقْتَضَى، ‘আল্লাহ সেই বান্দার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, যে বান্দা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় উদারচিত্ত হয় এবং (ঋণের) পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে সহনশীল হয়’।[24] ঋণীর প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শনের মাধ্যমে যদি রাসূল (ছাঃ)-এর দো‘আ লাভ করা যায়, তাহ’লে এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কি হ’তে পারে!

(গ) আরশের নিচে ছায়া লাভের সৌভাগ্য : যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য অক্ষম ঋণী লোকের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করে অথবা তার ঋণ মাফ করে দেয়, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদেরকে তাঁর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দিবেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا، أَوْ وَضَعَ لَهُ، أَظَلَّهُ اللهُ يَوْمَ القِيَامَةِ تَحْتَ ظِلِّ عَرْشِهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ ‘যে ব্যক্তি কোন অভাবী ঋণগ্রস্তকে সুযোগ প্রদান করে অথবা ঋণ মাফ করে দেয়, ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাকে তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় প্রদান করবেন। যেদিন তার আরশের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না’।[25]

(ঘ) আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভ : ক্বিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভ করার অন্যতম উপায় হ’ল অভাবী ও দরিদ্র ঋণগ্রস্তদের ঋণ মাফ করে দেওয়া। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

حُوسِبَ رَجُلٌ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، فَلَمْ يُوجَدْ لَهُ مِنَ الْخَيْرِ شَيْءٌ، إِلَّا أَنَّهُ كَانَ يُخَالِطُ النَّاسَ، وَكَانَ مُوسِرًا، فَكَانَ يَأْمُرُ غِلْمَانَهُ أَنْ يَتَجَاوَزُوا عَنِ الْمُعْسِرِ. قَالَ: قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: نَحْنُ أَحَقُّ بِذَلِكَ مِنْهُ، تَجَاوَزُوا عَنْهُ.

‘তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে এক লোকের হিসাব গ্রহণ করা হয়, কিন্তু তার মধ্যে কোন প্রকার সৎ আমল পাওয়া যায়নি। কিন্তু সে মানুষের সাথে লেন-দেন করত এবং সে ছিল সচ্ছল। তাই দরিদ্র লোকদের মাফ করে দেওয়ার জন্য সে তার কর্মচারীদের নির্দেশ দিত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ (ফেরেশতাদেরকে) বললেন, ‘এ ব্যাপারে (অর্থাৎ তাকে ক্ষমা করার ব্যাপারে) আমি তার চেয়ে অধিক যোগ্য। একে ক্ষমা করে দাও’।[26] অপর এক বর্ণনায় তিনি বলেন,مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُنْجِيَهُ اللهُ مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، فَلْيُنَفِّسْ عَنْ مُعْسِرٍ، أَوْ يَضَعْ عَنْهُ ‘যে ব্যক্তি এটা চায় যে, আল্লাহ তাকে ক্বিয়ামত দিবসের দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দিক, সে যেন অক্ষম ঋণগ্রস্ত লোকের সহজ ব্যবস্থা করে কিংবা ঋণ মওকূফ করে দেয়’।[27]

 (চলবে)

– আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ

[1]. হাশিয়া ইবনিল আবিদীন ৪/১৭১; গৃহীত: আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ ৩৩/১১১।

[2]. মুসনাদে আহমাদ হা/১০৫৭৮, ৭৯৮৮, সনদ হাসান।

[3]. বুখারী হা/২৩০৬,২৩৯৪; মিশকাত হা/২৯০৬, ২৯২৬।

[4]. বুখারী হা/৬৩৬৯।

[5]. তিরমিযী হা/৩৫৬৩; মিশকাত হা/২৪৪৯; সনদ হাসান।

[6]. বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/১০৭১৫; ইরওয়া হা/১৩৯৭, সনদ ছহীহ।

[7]. তিরমিযী হা/১৫৭২; ইবনু মাজাহ হা/২৪১২; ছহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব হা/২৮৯২; মিশকাত হা/২৯২১, সনদ ছহীহ।

[8]. আহমাদ হা/১৭২২৭; মিশকাত হা/২৯২৮, সনদ ছহীহ।

[9]. আহমাদ হা/২২৪৯৩; মুস্তাদরাক হাকেম হা/২২১২; ছহীহুত তারগীব হা/১৮০৪; মিশকাত হা/২৯২৯, সনদ ছহীহ।

[10]. বুখারী হা/২৩৮৯; মুসলিম হা/৯৯১।

[11]. সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩৪০৭; ছহীহুত তারগীব হা/৯০০, সনদ হাসান।

[12]. বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৩২৮৫; তাবারাণী, আওসাত্ব হা/৩৪৯৮, হাদীছ হাসান।

[13]. ইবনু মাজাহ হা/২৪৩০; ইরওয়াউল গালীল হা/২৪৩০।

[14]. তিরমিযী হা/১৯৫৭; আহমাদ হা/১৮৫১৬; মিশকাত হা/১৯১৭, সনদ ছহীহ।

[15]. বুখারী হা/১৪৪২; মুসলিম হা/১০১০।

[16]. মুসলিম হা/২৬৯৯; মিশকাত হা/২০৪।

[17]. ইবনু ক্বুদামাহ, আল-মুগনী ৪/২৪০।

[18]. বুখারী হা/৩৮১৪; মিশকাত হা/২৮৩৩।

[19]. ই’লামুল মুওয়াক্কে’ঈন ৩/১৩৭।

[20]. নায়লুল আওত্বার ৫/২৫৭।

[21]. আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ ৩৩/১৩১-১৩২।

[22]. ইবনু মাজাহ হা/২৪২১; ইবনু হিববান হা/৫০৮০; সনদ ছহীহ।

[23]. ইবনু মাজাহ হা/২৪১৮, সনদ ছহীহ।

[24]. ইবনু মাজাহ হা/২২০৩, সনদ ছহীহ।

[25]. তিরমিযী হা/১৩০৬; সুনানে দারেমী হা/২৬৩০; আহমাদ হা/৪৭১১ সনদ ছহীহ।

[26]. মুসলিম হা/১৫৬১; তিরমিযী হা/১৩০৭।

[27]. মুসলিম হা/১৫৬৩; মিশকাত হা/২৯০২



ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png