শিরোনাম
Loading latest headlines...

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০

লায়লাতুল কদর নামকরণের কারণ কি? বিস্তারিত আলোচনা!

বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে


- কদরের এক অর্থ সম্মান ইরশাদ হয়েছে :
(وَمَا قَدَرُواْ ٱللَّهَ حَقَّ قَدۡرِهِۦٓ ){আর তারা আল্লাহকে যথার্থ সম্মান দেয়নি}[ সূরা আল আনআম:৯১]
সে হিসেবে লায়লাতুল কদর অর্থ হবে সম্মানিত রাত; কেননা রাতে কুরআন নাযিল হয়েছে, রাতে ফেরেশতাগণ নেমে আসেন এবং রাতে রবকত-রহমত-মাগফিরাত নাযিল হয়

- কদরের আরেক অর্থ সংকীর্ণকরণ, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
(وَمَن قُدِرَ عَلَيۡهِ رِزۡقُهُۥ فَلۡيُنفِقۡ مِمَّآ ءَاتَىٰهُ ٱللَّهُۚ )
{আর যার রিয্ক সংকীর্ণ করা হয়েছে সে যেন আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা হতে ব্যয় করে} [ সূরা আত-তালাক:]
লায়লাতুল কদরের ক্ষেত্রে সংকীর্ণকরণের অর্থ হবে লায়লাতুল কদর সংঘটিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ গোপন করে রাখা

- কাদ্র কাদার থেকেও উৎকলিত হতে পারে, যার অর্থ হবে রাতে আল্লাহ তাআলা সে বছরের সকল আহকাম নির্ধারণ করেন আল্লাহ তাআলা বলেন:
(يُفۡرَقُ كُلُّ أَمۡرٍ حَكِيمٍ )
{সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়} [সূরা আদ-দুখান:]

লায়লাতুল কদরের ফজিলত মর্যাদা
- লায়লাতুল কদরেই পবিত্র কুরআন নাযিল করা হয়েছে

আল্লাহ তাআলা বলেন :
(إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةِ ٱلۡقَدۡرِ)
{নিশ্চয় আমি এটি নাযিল করেছিলাইলাতুল কদরে}[ সূরা আল কাদ্র:]

- লায়লাতুল কদর হাজার মাস থেকেও উত্তম
আল্লাহ তাআলা বলেন:
(لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ )
{লায়লাতুল কদর এক হাজার মাস থেকে উত্তম} [সূরা আল-কাদ্র:] অর্থাৎ লায়লাতুল কদরে আমল করা লায়লাতুল কদরের বাইরে এক হাজার মাস আমল করার চেয়েও উত্তম

- লায়লাতুল কদরে ফেরেশতা জিব্রীল এর অবতরণ

আল্লাহ তাআলা বলেন:
(تَنَزَّلُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذۡنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمۡرٖ )
{সে রাতে ফেরেশতারা রূহ (জিব্রীল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে}[ সূরা আল কাদ্র:]

আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘লায়লাতুল কদর হলো সাতাশ তারিখ অথবা ঊনত্রিশ তারিখের রাত, আর ফেরেশতাগণ রাতে পৃথিবীতে কঙ্করের সংখ্যা থেকেও বেশি থাকেন
- লায়লাতুল কদর হলো শান্তির রাত
আল্লাহ তাআলা বলেন :
(سَلَٰمٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطۡلَعِ ٱلۡفَجۡرِ ٥ )
{শান্তিময় সেই রাত, ফজরের সূচনা পর্যন্ত}[ সূরা আল কাদ্র:]
অর্থাৎ লায়লাতুল কদরের পুরোটাই ভালো, এর শুরু থেকে সুবেহ সাদেক পর্যন্ত আদৌ কোনো অনুত্তম বিষয় নেই

- লায়লাতুল কদর মুবারক রাত
আল্লাহ তাআলা বলেন:
(إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةٖ مُّبَٰرَكَةٍۚ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ ٣ )
{নিশ্চয় আমি এটি নাযিল করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী}
[ সূরা আদ-দুখান:]

উক্ত আয়াতেলায়লাতুম্ মুবারাকা’- এর অর্থ ইবনে আব্বাস রাযি. এর নিকটলায়লাতুল কদর - রাতে এক বছরের সকল প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়

আল্লাহ তাআলা বলেন:
(فِيهَا يُفۡرَقُ كُلُّ أَمۡرٍ حَكِيمٍ )
{সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়} [ সূরা আদ-দুখান:]

- যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করবে তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করল, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হলো’(বর্ণনায় ইবনে খুযায়মাহ)
কোন রাত লায়লাতুল কদর?

আল্লাহ তাআলা রাতকে গোপন করে রেখেছেন, যাতে মুসলিম ব্যক্তি রমজানের শেষ দশদিনে অধিক শ্রম ব্যয় করে, বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলোয় আর সেগুলো হলো ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ২৯ তারিখের রাত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশের বেজোড় রাতগুলোতে লায়লাতুল কদর অনুসন্ধান করো’(বর্ণনায় বুখারী মুসলিম)

আলেমদের কেউ কেউ বিভিন্ন দলিলের মাধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে বলেছেন, রাতগুলোর একেকটায় একেক সময় লায়লাতুল কদর সংঘটিত হয়ে থাকে(বর্ণনায় বুখারী মুসলিম)

লায়লাতুল কদরে যেসব আমল মুস্তাহাব
- ইতিকাফ : রমজানের শেষ দশকের পুরোটাতেই ইতিকাফ করতে হয়, শুধু লায়লাতুল কদরে নয় আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন
(বর্ণনায় বুখারী মুসলিম)

- ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাসসহ আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাসসহ আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করল, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হলো’(বর্ণনায় বুখারী মুসলিম)

- দুআ : আয়েশা রাযি. বলেন,‘ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যদি লায়লাতুল কদর পাই তবে কি দুআ করব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলো,‘ اللهم إنك عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُ الْعَفْوَ، فاعْفُ عَنِّي অর্থাৎ হে আল্লাহ, আপনি অতি ক্ষমাশীল দয়ালু, আপনি ক্ষমা করাকে পছন্দ করেন, তাই আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন
লায়লাতুল কদরের আলামত
- রাত বেশি ঠাণ্ডাও হয় না, বেশি গরমও হয় না, বরং তা হয় উজ্জ্বল
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে লায়লাতুল কদর দেখানো হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে রাত হলো রমজানের শেষ দশদিনের রাতগুলোয় রাত হলো মুক্ত উজ্জ্বল, যা ঠাণ্ডাও না গরমও না’(বর্ণনায় তিরমিযী)

- লায়লাতুল কদর শেষে সকালের সূর্য আলোকরশ্মি ব্যতীত সাদা হয়ে উদিত হয়
উবায় ইবনে কা রাযি. কে যখন লায়লাতুল কদরের আলামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় তখন তিনি বলেছেন,‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে নিদর্শনের কথা বলেছেন, তার দ্বারা আমরা লায়লাতুল কদর চিনতে পারি, অর্থাৎ ওইদিন সূর্যোদয় হয় রশ্মিবিহীন আকারে’ (বর্ণনায় ইবনে খুযায়মাহ)

সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, ‘আলোকরশ্মিবিহীন সাদা আকারে’ (বর্ণনায় তিরমিযী)



বুধবার, ১৩ মে, ২০২০

ইসলামিক বই- পরকাল

বুধবার, মে ১৩, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

মৃত্যুর পর আমাদের গন্তব্য কোথায়? আমরা কবরে যাব, অতঃপর পুনরুত্থিত হব, হাশর কায়েম হবে, আল্লাহর কাছে আমাদের কৃতকর্মের জবাব দিতে হবে… ইত্যাদি। কিন্তু জ্ঞানশূন্য বস্তুবাদী নস্তিক সম্প্রদায়ের প্রভাবে হয়ে অপযুক্তির বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে কেউ কেউ পরকালের ব্যাপারে সংশয়ে পতিত হচ্ছেন। অনেকটা এমন যে, বিশ্বাস করি… বিশ্বাস করি না। এমন অসংখ্য যুবক রয়েছে যারা এ মরণ ব্যধিতে আক্রান্ত। ফেতনা ফাসাদ এবং দীন নিয়ে অবহেলার এ যুগে শত্রুদের আক্রমণের শিকার হয়ে অগণিত মানুষ আজ এ কঠিন ব্যাথায় জর্জরিত। পরকাল সম্পর্কে আমাদের মাঝে সঠিক জ্ঞান না থাকাটা এই সংশয়ের পেছনে একটা বড় ভূমিকা পালন করে। যার ফলে বস্তুবাদী নাস্তিক সম্প্রদায় বিভিন্ন অপযুক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মুসলিমদেরকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়। অথচ পরকাল শুধুমাত্র একটা ধারণা নয়! এর সাম্যক বাস্তবতার পেছনে অসংখ্য যৌক্তিক এবং অগণিত বর্ণনাভিত্তিক প্রমাণ রয়েছে। বক্ষ্যমান সচিত্র গ্রন্থটি পাঠককে পরকাল বিষয়ে পরিপূর্ণ ধারণা প্রদানে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।

বই: পরকাল (LIFE AFTER LIFE)
লেখক: ড. মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আরীফী (উসতায, কিং সউদ ইউনিভার্সিটি, রিয়াদ; নভেম্বর ২০১১)
ভাষান্তর ও বিন্যাস: উমাইর লুৎফর রহমান
প্রকাশনায়: মাকতাবাতুল হেরা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬৫




ই'তিকাফে বসতে ইচ্ছুক ভাই-বোনদের জন্যে দশটি পরামর্শ

বুধবার, মে ১৩, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

দশটি পরামর্শ:
১. ই'তিকাফ অর্থ হচ্ছে, অবস্থান করা, বিচ্ছিন্ন হওয়া, নিঃসঙ্গ হওয়া৷ বান্দা ই'তেকাফে বসবে একমাত্র আল্লাহ পাকের সঙ্গে সুনিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্যে৷ দুনিয়ার সব ঝামেলা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং নিঃসঙ্গ হয়ে এই দশদিনের জন্যে মসজিদে আল্লাহর মেহমান হওয়াই ই'তিকাফের দাবি৷

তবে যদিও ই'তিকাফে ল্যাপটপ বা মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করলে বা ব্যবহার করলে, পত্রিকা কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার করলে ই'তিকাফ নষ্ট হবে না৷ কিন্তু আদবের খেলাফ এবং অনুচিত হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷ অযথা সময় নষ্ট হবে৷ ই'তেকাফের মূল উদ্দেশ্য বিঘ্নিত হবে৷ তাই সওয়াবও কম হবে নিঃসন্দেহে৷ বেশ থেকে বেশ মোবাইল সঙ্গে রাখা যেতে পারে৷ শুধু রিসিভ করবেন৷ প্রয়োজনীয় কথা সেরে রেখে দিবেন৷

২. নিয়ত করেছেন ই'তিকাফে বসবেন, কিন্তু খাবার এনে দেবার মানুষ নেই৷ কোনো অসুবিধা নেই৷ আপনার জন্যে বাসায় বা বাড়িতে গিয়ে খাবার নিয়ে আসার সুযোগ আছে৷ খাবার আগে প্রস্তুত রাখতে বলবেন৷ তড়িৎ গিয়েই নিয়ে আসবেন৷ পথে কিংবা বাসায় সময় নষ্ট করবেন না৷ এমতাবস্থায় আপনার ই'তিকাফ ভঙ্গ হবে না৷ তবে ঘরে কিংবা পথে অন্য কাজে জড়িত হলে ই'তিকাফ ভেঙ্গে যাবে৷

৩. মসজিদের সংযুক্ত গোসলখানা, যা মসজিদের ভিতরের অন্তর্ভুক্ত নয়৷ তাই জুমুআ বা শারীরীক প্রশান্তির জন্যে গোসলখানা বা অযুখানায় গিয়ে গোসল করা ই'তিকাফরত অবস্থায় জায়েয নয়৷ তবে ইস্তেনজা সেরে ওযু করতে আসার সময় ওযু করতে যত সময় লাগে, এতটুকু সময়ের ভেতর সারা শরীরে দুই-তিন মগ পানি ঢেলে দিতে পারেন৷ এতে করে ওযুও আদায় হয়ে গেলো, সংক্ষিপ্ত গোসলের কাজও সারা হয়ে গেলো৷ তবে লুঙ্গি ধুয়ার জন্যে আলাদা সময় ব্যয় করা যাবে না৷ তবে ফরয গোসলের ব্যাপারটি এখানে স্বতন্ত্র৷

৪. মসজিদ মনে করে যদি মসজিদের মূল সীমানার বাইরে চলে যান, যা প্রকৃতপক্ষে মসজিদ নয়, তাহলে ই'তিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে৷ তাই সতর্কতামূলকভাবে ই'তিকাফে বসার পূর্বে মসজিদের (শুধু যে অংশ নামাযের জন্যে নির্ধারিত) মূল সীমানা ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত৷ মনে রাখতে হবে, মসজিদের সিড়ি, ইমাম সাহেবের হুজরা, ওযুখানা, মক্তবঘর এ স্থানগুলো মসজিদের মূল সীমানার অন্তর্ভুক্ত নয়৷

৫. মসজিদের স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে নিজ প্রয়োজনে মসজিদের লাইট, ফ্যান ব্যবহার করেছেন৷ মোবাইল চার্জ দিয়েছেন৷ ই'তিকাফ শেষ করে বের হওয়ার সময় এই দশদিনের অতিরিক্ত বিল অনুমান করে মসজিদের দানবাক্সে দিয়ে আসবেন৷
৬. ই'তিকাফে বসে কিছু না পড়ে একেবারে মুখ বন্ধ করে রাখা মাকরূহ৷ অতিরিক্ত কথাবার্তা ও গল্পগুজব করাও মাকরূহ৷ তাই অনর্থক গল্পগুজবে সময় নষ্ট করা ই'তিকাফের উদ্দেশ্যের বিপরীত হওয়ায় মু'তাকিফের জন্যে তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য৷

৭. ই'তিকাফ অবস্থায় কেউ সাক্ষাতের জন্যে এলে তার সঙ্গে কথা বলা, কুশল বিনিময় করা জায়েয আছে৷ তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন অনর্থক কথাবার্তা না হয়৷

৮. ই'তিকাফের ফযীলত কেবল পুরুষদের জন্যে নির্দিষ্ট নয়৷ বরং নারীরাও ই'তিকাফের ফযীলতের অংশীদার৷ বিবাহিতা হলে স্বামীর অনুমতি ছাড়া ই'তিকাফে বসা ঠিক নয়৷ স্বামীদেরও উচিত অকারণে স্ত্রীদেরকে এই ফযীলত থেকে বঞ্চিত না করা৷

৯. নারীরা মসজিদে নয়, নিজেদের ঘরের নির্দিষ্ট ইবাদতের স্থানে ই'তিকাফে বসবেন৷ ইবাদতের জায়গা নির্দিষ্ট না থাকলে ই'তিকাফের জন্যে একটি জায়গা নির্দিষ্ট করে নিবেন৷ খাবার-দাবার এখানেই সারবেন৷ শরীয়ত সমর্থিত কারণ ছাড়া এই জায়গা ছেড়ে অন্যত্র যেতে পারবেন না৷ ই'তিকাফের জায়গা ছেড়ে ঘরের অন্য জায়গাতে গেলেও ই'তিকাফ ফাসিদ হয়ে যাবে৷ স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকতে পারলেও স্বামী-স্ত্রীসূলভ ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকতে হবে৷ যদি হয়েই যায়, তাহলে ই'তিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে৷

১০. যে কোনো কারণে ই'তিকাফ ভঙ্গ হয়ে গেলে পরবর্তীতে রোযাসহ কেবল একদিনের ই'তিকাফের কাযা করতে হবে৷


রমযান তাকওয়া অর্জনের মাস

বুধবার, মে ১৩, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

অধ্যক্ষ এম সোলাইমান কাসেমী
রমযান মাস মুসলমানদের  জন্য বড় নেয়ামাত ও ফজিলতের মাস। এ মাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় রাসুল হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এর উপর নাযিল করেন পবিত্র আল কুরআন। আল কুরআনের সুরা বাকারাতে উল্লেখ রয়েছে- (রমযান মাসে অবতীর্ণ করা হয় কুরআন)। শুধু আল কুরআন নাযিল দ্বারাই এ মাসের ফজিলত ক্ষ্যান্ত করা হয়নি। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে- (এ মাসে এমন একটি রাত্র আছে যার মর্যাদা হাজার মাসের চেয়ে অধীক)। যেমন সুরা আল কদর-এ বর্ণিত হয়েছে- (কদরের রাত সহস্র মাসের চেয়ে উত্তম)। রাসুল (স:) বলেছেন- (যে ব্যক্তি ঈমান ও সদিচ্ছাসহ রোজা পালন করলো ঐ ব্যক্তির পূর্বের কৃত সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে)। রমাজান মাসের রোজা আল্লাহ তায়ালা সকল বয়স্ক জ্ঞানবান লোকের উপর ফরজ করে দিয়ে ঘোষণা করেছেন, সুরা রাকারাতে বর্ণিত হয়েছে- (তোমাদের উপর রোজা ফরজ করে দেয়া হয়েছে যেভাবে ফরজ করে দেয়া হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়াবান হতে পার)। সুরা বাকারা, আয়াত-১৮৩। এ আয়াতে একটি লক্ষ্যণীয় বিষয হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা এখানে যারা রোজা রাখবে তাদের জন্য ফলাফল স্বরূপ বলা হয়েছে তারা তাকওয়াবান হবে। তাকওয়া কি? এবং একটি মাস উপবাস থেকে এত ত্যাগ করে ঐ বস্তু হাসিল করতে হবে এর মূল রহস্যই বা কি? এ বিষয়টি আমরা আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট করতে চাই। তাকওয়া শব্দের অনেক অর্থ রয়েছে, তন্মন্ধে পরিত্যাগ করা, আত্মরক্ষা করা ও খোদাভীতি প্রসিদ্ধ। পরিভাষায় তাকওয়া বলা হয়, মহান আল্লাহর ভয় অন্তরে সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেকে সকল অপকর্ম থেকে বিরত রাখা এবং সকল কর্তব্যসমূহ পালন করা। এবার মূল আলোচনায় আসা যাক,অাল্লাহ  তায়ালা তাকওয়া অজর্নের জন্য বহুবার মানুষকে তাগিদ প্রদান করেছেন পবিত্র আল কুরআনের মাধ্যমে। যথা বলা হয়েছে- (হে ইমানাদারগণ তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে ভয় কর এবং তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃতুবরণ করো না) সুরা আল ইমরান-১০২) অন্য আয়াতে বলা হয়েছে- (নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত সে যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খোদাভীরু)। অন্য আয়াতে রয়েছে- (হে ইমানদারগণ তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যেন লক্ষ্য করে আগামী দিনের জন্য কি প্রস্তুত করেছে, আল্লাহ তোমাদের কর্ম সম্পর্কে অবগত) সুরা হাশর-১৮। অন্য আয়াতে রয়েছে- (হে ইমানদারগণ তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমরা সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও) সুরা তওবা-১১৯। অন্য আয়াতে রয়েছে- (নিশ্চয়ই আল্লাহ যারা মুত্তাকী এবং যারা সৎকর্মপরায়নশীল তাদের সাথে রয়েছেন) সুরা নাহল-১২৮। অন্য আয়াতে রয়েছে- (তোমরা সৎ ও তাকওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা কর তোমরা পাপ ও সীমালংঘনের কর্মে সহযোগিতা করনা তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠিন শাস্তি দাতা) সুরা মায়েদা-২। অন্য আয়াতে রয়েছে- (হে ইমানদারগণ তোমরা অাল্লাহকে ভয় কর যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করতে পার। সুরা বাকারা-১৮৯। অন্য আয়াতে রয়েছে- (হে নবী আপনি আল্লাহকে ভয় করুন এবং আপনি কাফের ও মুনাফিকদের অনুসরণ করবেন না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও মহাজ্ঞানী। সুরা আহযাব-১। এছাড়া ও অসংখ্য আয়াত রয়েছে যা দ্বারা আল্ল¬াহ তায়ালা মানব জাতি এমন কি নবীকেও তাকওয়া অর্জনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। যা দ্বারা তাকওয়া অর্জনের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা বুঝা যায়। কেন না তাকওয়া অর্জন ছাড়া একজন মানুষ মুমিনই হতে পারে না। তাকওয়া দ্বারা মানুষের গোটাজীবন পরিচালিত হয়। তাই যার মাঝে তাকওয়া নেই সে তার গোটা জীবন কুফরী অবস্থায় অতিবাহিত করে। পক্ষান্তরে যার মাঝে তাকওয়া রয়েছে তার গোটাজীবন পরিচালিত হয় মহান আল্লাহ  প্রদত্ব বিধান ও রাসূল (সা:) প্রদর্শিত আদর্শ মোতাবেক। তাই মানুষকে জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে হলে সর্ব প্রথম তাকওয়া অর্জন করতে হবে। কেননা তাকওয়া দ্বারাই প্রতিটি মানুষ স্ব-মহিমায় অবস্থান করতে পারে। তাকওয়া দ্বারা শুধু পরকালে লাভ রয়েছে এটাই শেষ কথা নয়। পার্থিব সুখ-শান্তি বজায় রাখতে হলে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তাকওয়া অর্জন করা। তাকওয়া অর্জন করার গুরুত্ব ও তাৎপর্য কতটা ব্যাপক তা সূক্ষ্মভাবে আল কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের দিকে লক্ষ্য করলে স্পষ্ট হয়ে যায়। যেমন পূর্ববর্তী যত নবী ও রাসুল এ ধরায় আগমন করেছেন তাঁরা সকলেই তাঁর স্বীয় জাতীকে সর্বপ্রথম যে দাওয়াত পেশ করেছিলেন তার মধ্যে আল্ল¬াহকে উপাস্যরূপে গ্রহণ এবং তাকওয়া অর্জনই ছিল মূল বিষয়। যথা হযরত হুদ (আ:) এর সম্পর্কে বলা হয়েছে- (স্মরণ করুন সে সময়ের কথা, যখন হুদ তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন তোমরা কি তাকওয়াশীল হবে না?) সুরা শুয়ারা-১২৪। অন্য আয়াতে হযরত সালেহ (আ:) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে- (স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন সালেহ (আ:) তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত রাসূল। তোমরা আল্ল¬াহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর)। সুরা শুয়ারা-১৪২। তেমনি অন্য আয়াতে হযরত লুৎ (আ:) এর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে- (লুৎকে তার সম্প্রদায় মিথ্যা প্রতিপন্ন করে যে রাসূল হিসেবে এসেছিল। যখন সে তাঁর সম্প্রদায়কে তোমরা কি মুত্তাকী হবে না? আমি তোমাদের নিকট বিশ্বস্ত রাসূল। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর)। সুরা শুয়ারা-১৬১। অন্যত্র হযরত শোয়াইব (আ:) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে- (স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন শোয়াইব (আ:) তোমরা কি মুত্তাকী হবে না? আমি তোমাদের নিকট বিশ্বস্ত রাসূল। তোমরা আল্ল¬াহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। সুরা শুয়ারা-১৭৭। পৃথিবীতে চুরি-ডাকাতি থেকে মুক্ত থাকতে পুলিশ চৌকিদার রাখা হয়। দোকান পাট সংরক্ষণ রাখতে সার্কিট ক্যামেরা, স্যাটেলাইট ও উন্নততর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এ সকল অন্যায়ের জন্য কোট-কাচারী, জেল, উকিল, জজ ইত্যাদি নিযুক্ত করা হয়। আর এ সকল তখন প্রয়োজন হবে না যখন প্রতিটি মানুষ একটি বিষয় বা একটি চরিত্র অর্জন করতে সক্ষম হবে তা হচ্ছে তাকওয়া। বর্তমান যুগে মারামারি, হানাহানি, চুরি-ডাকাতি, গুন্ডামী, দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, সুদ-ঘুষ, কেলেঙ্কারী, করফাকি, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, কর্মেফাঁকি এ সকল বিষয় অহরহ চলছে। আর যার প্রতিরোধ সরকার হরেকরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা সত্ত্বেও এর কোন সমাধান করতে পারছে না, কিংবা পারবে বলে আশা করা যায় না। তবে আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ব একটি পদক্ষেপই পৃথিবীর যাবতীয় দুর্নীতি ও কুকর্ম বিলুপ্ত করতে সক্ষম তা হচ্ছে- মানুষকে তাকওয়াবান হতে হবে। যদি কোন মানুষের মাঝে খোদাভীতি থাকে তাহলে সে কোন প্রকার অশ্ল¬ীল বা দুর্নীতি কাজে জড়িত হতে পারে না। মূলত এটাই তাকওয়া। আর যখনই কোন দুর্নীতিমূলক কর্ম সামনে আসবে তখন তার মন বাধা প্রদান করবে যে, আমাকে কাল কিয়মাতের দিন আল্ল¬াহ এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে তখন আমি কি উত্তর দিব। এ ধরনের খোদাভীতি সকল মানুষের অর্জন করা একান্ত অপরিহার্য বিষয়। যে ব্যক্তি এ গুণ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে সে মুত্তাকী। তার ইহকালে যেমন মানুষের কাছে সম্মান রয়েছে, পরকালে রয়েছে অফুরন্ত নেয়ামত। যেমনি পবিত্র আল কুরআনের সুরা আ'রাফের ৯৬ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে- (যদি গ্রামবাসিরা ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি আসমান এবং যমিনের সকল বরকতসমূহ তাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতাম। তেমনি অন্য আয়াতে বর্ণিত আছে- (নিশ্চয়ই পরকাল যারা মুত্তাকী তাদের জন্য মঙ্গলময় হবে) সুরা আরাফ-১৬৯। এ গুণ লাভ করতে হলে সর্বোত্তম সময় হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। কারণ এ মাসে মানুষ রোজা রেখে সারাদিন কোন প্রকার গুনাহের কাজ তার দ্বারা সম্পাদন হয় না। রাতের বেলা নফল নাজ পড়ে এবং অধিক পরিমাণে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে। ফলে একজন মানুষ তাকওয়া অর্জনের মূলধারা বা পথ খুঁজে পায়। রমযানের মধ্যে মানুষ কোন প্রকার খারাপ বা অশ্ল¬ীল কাজ করতে সাহস করে না। রমযান মাসে মূল যে শিক্ষা তা মূলত এটাই যে তাকওয়া অর্জন। মানুষ রোযা রাখে সে সারাদিন উপবাস করে। তার সামনে অনেক খাবার ও পানীয় থাকে সে ইচ্ছে করলে তা খেতে পারে, কিন্তু সে তা স্পর্ষ ও করে না। বহু সুযোগ থাকে মানুষের দৃষ্টির অন্তরালে কিছু খেয়ে নেয়ার, কিন্তু সে খায় না। এর মূল কারণ সে মহান আল্ল¬াহকে ভয় করে। যেমন হাদিসে কুদসিদ্বারা মহান আল্ল¬াহর ঘোষণা হচ্ছে- (রোযা আমার জন্য আর এর বিনিময় আমিই দিব)। এখানে যেমন মানুষ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সে কিছু খায় না বা পান করে না সেহেতু সে জানে মানুষ না দেখলেও আল্লাহ ঠিকই সবকিছু দেখেন এবং তিনি সর্বত্র আছেন। তেমনি মানুষ পরবর্তী সময়ে যাদি তার এ চরিত্র বা এ অবস্থা চালু রাতে পারে তাহলে সে পরবর্তী সময় কোন দুর্নীতিমূলক কর্মকান্ড করতে পারে না। কারণ তারা মনে ঐ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপে জানা আছে যদি সে কোন কুকর্ম করে তাহলে আল্লাহ তার এ কর্মের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবে। রমজান এমন একটি মাস যে মাসে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ থাকে, জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়। শয়তান কে শৃক্মখলাবদ্ধ করে রাখা হয়, যাতে সে মানুষ কে কুকর্মে প্ররোচিত করতে না পারে। অগণিত জাহান্নামীকে এ মাসের উসিলায় আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। একটি নফল এবাদতের ছাওয়াব একটি ফরজ এবাদতের সমতুল্য করে দেন। একটি ফরজ এবাদতের ছাওয়াব ৭০ গুণ বৃদ্ধি করে দেন। এভাবে পবিত্র রমাযান মাস পুরোটাই একটি নেয়ামত ও বরকত পূর্ণ মাস। যদি কোন ব্যক্তি চায় অন্যান্য সময়ে ভাল কাজ করবে তার উচিত এ মাসে পূর্ণরূপে এবাদতে মশগুল হওয়া। কারণ এর দ্বারাই সে পরবর্তী সময় নিজেকে একজন মুত্তাকী বান্দা হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। তাই রমজান মাস মানুষকে তাকওয়ার শিক্ষাই দিয়ে থাকে। রমজান মাস আসলে স্বাভাবিকভাবে মানব সমাজে অনেক পরিবর্তন আসে। এসব পরিবর্তন মানব জাতিকে নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। পরবর্তী ১১টি মাস যাতে সে নিয়মমাফিক চলতে পারে তারই একটা ট্রেনিং হিসেব পবিত্র রমাজান মাস মানুষের দ্বারে দ্বারে প্রতি বছর একবার করে ঘুরে আসে। যে ব্যক্তি এ মাস কে গুরুত্ব সহকারে অতিবাহিত করবে সে পরবর্তী ১১টি মাস সকল কাজই মহান আল্ল¬াহর রেজামন্দী মোতাবেক করতে সক্ষম হবে। যে ব্যক্তি এ মাসকে অবহেলায় অতিবাহিত করল রোজা রাখলোনা, নামাজ পড়লো না, দান ছাদকা করলো না, পবিত্র রমজান মাস তার জন্য অভিসম্পাত করে। যেমনিভাবে রাসূল (সা:) এরশাদ করেছেন- (ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে রমজান মাস পেল অথচ এবাদত বন্দেগী করে সে আল্লাহ কাছে নিজের গুনাহকে ক্ষমা করিয়ে নিষ্পাপ হতে পারলো না)। তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত পবিত্র মাহে রমজানকে যথাযথভাবে এবাদতের মাধ্যমে অবিবাহিত করা। এবাদত এর পরিমাণ বৃদ্ধি করা, পবিত্র আল কুরআন অধ্যয়ন করা, নফল এবাদত বেশি পরিমাণে আদায় করা। সকল পাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। হাত, মুখ, চোখ ও অন্যান্য অঙ্গপত্যঙ্গ দ্বারা যেন কোন প্রকার গুনাহ সংঘটিত না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখা। কেননা রাসূল (সা:) বলেছেন- (অনেক রোজাদার আছে যাদের রোজা উপবাস ছাড়া কিছুই হয়না। কতিপয় লোক আছে যারা রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে তাদের এ নামায রাত জাগ্রত ছাড়া কোন উপকারে আসে না)। এর কারণ হচ্ছে যারা রোজাও রাখে আর অন্যান্য পাপ কর্ম ছাড়তে পারে না তাদের এ রোজা ঐ ব্যক্তির কোন উপকার করতে পারে না। তাই রোজা রাখতে হবে হক আদায়সহ। অর্থাৎ সকল অপকর্ম পরিত্যাগ করতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে যেন এর ফলাফল বিদ্যমান থাকে তার সার্বিক ব্যবস্থা করতে হবে। এভাবে যদি রোজার মাস কে হক আদায় করে রোজা রাখা যায় তাহলে ঐ ব্যক্তি তাকওয়া অর্জন করতে সক্ষম হবে। আর তাকওয়া একবার যদি কারো মাঝে এসেই যায় তার হইকাল ও পরকাল উভয় জগতে সফলতা লাভ করতে পারবে। তাকওয়া অর্জন করতে বেশি এবাদত করা দরকার। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে পবিত্র মাহে রমজানের মূল শিক্ষা তাকওয়া অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক :
এম.ফিল গবেষক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সংগ্রহ - ইমাম বাতায়ন



মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০

ইসলামিক গ্রন্থ “মহা প্রলয়”

মঙ্গলবার, মে ১২, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

কুরআন-হাদিসের আলোকে কেয়ামতের ছোট বড় নিদর্শন-সম্বলিত প্রথম সচিত্র গ্রন্থ “মহা প্রলয়”।
সম্প্রতি কেয়ামত সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে অনেক দ্বিধাদন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন লাইব্রেরী ও প্রসিদ্ধ ওয়েবসাইটগুলোতে কেয়ামতের নিদর্শন সম্বলিত বাণীগুলো নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা ও ভবিষ্যত ঘটনা প্রবাহ নিয়ে প্রচুর উপকথা প্রচারিত হচ্ছে। মুসলমানদের সামাজিক পরিস্থিতি যতই দুরবস্থার দিকে যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ ততই উত্তরণের পথ খুঁজতে মনোনিবেশ করছে। এর-ই ফলে কখনো –“ইমাম মাহদীর আবির্ভাব হয়ে গেছে”, কখনো “ইহুদী খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধ কাছিয়ে গেছে”, কখনো “প্রাচ্যে বা প্রাশ্চাত্যে বড় ধরণের ভূমিধ্বস ঘটেছে” ইত্যাদি শোনা যাচ্ছে। কেও কেও তো এও দাবি করে ঈসা বিন মারিয়াম (আ) এর আবির্ভাব হয়ে গেছে। এসব দ্বিধাদন্দ্ব দূর করার লক্ষ্যে মহা প্রলয় বইটিতে কুরআন ও হাদিসের আলোকে কেয়ামতের ছোট বড় নিদর্শনগুলো একত্রিত করে মুসলিম বিশ্বকে এক কথায় কুরআন ও হাদিস নিয়ে গবেষণার আহ্বান করা হয়েছে।

এই বইয়ের বিশেষত্ব-
    কেয়ামতের নির্দেশাবলি চিত্রসহ বর্ণিত হয়েছে।
    সম্পুর্ণ কুরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে বইটি রচিত হয়েছে।
    নির্ভরযোগ্য সুপ্রসিদ্ধ উলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত এ ব্যাপারে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়েছে।
    জন সাধারণের বিবেক বুঝে হাদিস বর্ননা করা হয়েছে।
    সহজ ভাবে পড়ার জন্যে বইটিতে Interactive Link অ্যাড করা হয়েছে।

সচিত্র আরবী বইটি মধ্যপ্রাচ্যে অনেক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এ্যারাবিয়ানদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কেয়ামতের উপর সচিত্র অনূদিত এই বাংলা বইটি ডিজাইন ও সম্পাদনার ক্ষেত্রে মূল বইকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষত কুরআন ও হাদিসের গন্ডিতে থাকায় বিশুদ্ধতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

মূল ও বিন্যাস: ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আরিফী  (সদস্য, আন্তর্জাতিক উচ্চতর দাওয়াত বিভাগ; উসতায, কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি, রিয়াদ, সৌদি আরব)। (২০১০)

ভাষান্তর, ব্যবস্থাপনা ও সম্পাদনা: উমাইর লুৎফর রহমান। (২০১১)পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩৬



সোমবার, ১১ মে, ২০২০

খলীফা হারূনুর রশীদের নিকটে প্রেরিত ইমাম মালেক (রহঃ)-এর ঐতিহাসিক চিঠি ১ম পর্ব

সোমবার, মে ১১, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, ছালাত ও সালাম বর্ষিত হৌক সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল সাইয়েদুনা মুহাম্মাদ (ছাঃ), তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাথীবৃন্দের উপর।

পর সমাচার এই যে, আমি আপনার নিকট এমন একটি পত্র লিখছি, যাতে হেদায়াত বা উপদেশমূলক তেমন কোন কথা লিখতে পারিনি। তাই এর দ্বারা আপনি মনে করবেন না যে, একমাত্র এতেই হেদায়াত রয়েছে।

যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, যেহেতু এটা রাসূল (ছাঃ) থেকে অনুসৃত শিষ্টাচার স্বরূপ। সুতরাং এ পত্রটিকে আপনি আপনার জ্ঞান দ্বারা অনুধাবন করবেন, বারবার এটি পাঠ করবেন এবং এর প্রতি মনোযোগী হবেন। অতঃপর হৃদয় দিয়ে তা অনুধাবন করবেন। আর এ পত্রটি পাঠ করার সময় আপনি যেন অমনোযোগী না হন। কেননা এতে আছে দুনিয়াবী কল্যাণ ও পরকালে আল্লাহর উত্তম প্রতিদান। মহান আল্লাহর নিকট আমার ও আপনার জন্য তাওফীক কামনা করছি।

আপনি আপনার নফসকে মৃত্যুর যন্ত্রণা ও তার বিপদাপদের কথা স্মরণ করিয়ে দিন। আর স্মরণ করুন সেদিনের কথা, মৃত্যুর পর যেদিন আপনি আপনার প্রভুর সম্মুখে হাশরের ময়দানে দন্ডায়মান হবেন। অতঃপর হিসাব নেয়া হবে এবং হিসাব-নিকাশের পর আপনার চিরস্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত হবে। যে কাজের মাধ্যমে ঐ দিনের দুর্বিষহ অবস্থা আপনার জন্য সহজ হবে তার জন্য আপনি প্রস্ত্ততি গ্রহণ করুন। আপনি যদি আল্লাহর লা‘নতপ্রাপ্তদেরকে এবং তাদের প্রতি আপতিত আযাবের ভয়াবহতা, তাদের প্রতি আল্লাহর কঠিন প্রতিশোধ দেখতেন এবং কুৎসিত চেহারা, দীর্ঘ চিন্তা ও জাহান্নামের নিম্নস্তরে উপুড় হয়ে তাদের ওলটপালট সহ জাহান্নামে তাদের আর্তচিৎকার ও হাহাকার যদি আপনি শুনতেন তাহ’লে পরকালের ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝতে পারতেন। সেদিন তারা কোনকিছু শুনতে পাবে না এবং দেখতেও পাবে না। তারা শুধু আফসোস ও ধ্বংস কামনা করবে। ঐসকল দুঃখ-কষ্টের চেয়ে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় কষ্টকর বিষয় হ’ল, মহান আল্লাহ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন। তাদের সকল আশা-আকাংখা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। দীর্ঘ দুঃখ-কষ্ট ও চিন্তার পর আল্লাহ তাদেরকে এই কথার মাধ্যমে জওয়াব দিবেন যে, قَالَ اخْسَئُوا فِيهَا وَلاَ تُكَلِّمُونِ ‘আল্লাহ বলবেন, এখানেই তোমরা ধিকৃত অবস্থায় পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোন কথা বলো না’ (মুমিনূন ২৩/১০৮)।

দুনিয়ার এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নেই যার মাধ্যমে আপনি জাহান্নামের শাস্তি ও তার ভয়াবহতা থেকে মুক্তি ও নিরাপত্তা চাইবেন না। যদি দুনিয়ার সকল মানুষের যাবতীয়

ধন-সম্পদকে আপনার নাজাতের জন্য পেশ করেন তবে তা নিতান্তই তুচ্ছ বলে গণ্য হবে।

যদি আপনি আল্লাহর আনুগত্যকারী ব্যক্তিদের ও তাদের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত অনুগ্রহ, আল্লাহর নৈকট্যের সাথে সাথে আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা, উজ্জ্বল নূরানী চেহারা ও দেহ, স্থায়ী নে‘মতের কারণে তাদের আনন্দ, আল্লাহর নিকট তাদের ভাল অবস্থান ও তাদের প্রতি আল্লাহর সুদৃষ্টি যদি আপনি দেখতেন, তাহ’লে দুনিয়ার বিষয়গুলো আপনার কাছে ছোট মনে হ’ত। অবশ্যই আপনার দৃষ্টিতে ঐ বড় বিষয়টিও নগণ্য মনে হ’ত, যে বড় বিষয়ের বিনিময়ে আল্লাহর নিকটে আপনি ছোট বিষয় কামনা করছেন। আর অবশ্যই আপনার দৃষ্টিতে ঐ বড় বিষয়টিও ছোট মনে হ’ত, যে বড় বিষয়ের বিনিময়ে দুনিয়াতে আপনি ছোট কিছু কামনা করছেন। অতএব বিভ্রান্ত না হয়ে আপনার প্রবৃত্তিকে সতর্ক করুন এবং বিপদ আসার পূর্বেই আপনি আন্তরিকভাবে তৎপর হৌন। তাহ’লে মৃত্যুকালীন যে বিপদ আসবে তাকে আপনি ভয় পাবেন না। আপনি আপনার প্রবৃত্তির সাথে ধীর-স্থিরভাবে বিতর্ক করুন, তাহ’লে আল্লাহর রহমতে আপনার নফসের জন্য যা উপকারী তা করতে বা যা ক্ষতিকর তা প্রতিহত করতে সক্ষম হবেন। মহান আল্লাহর হিসাব গ্রহণের পূ©র্বই কুচক্রসমূহকে আপনার আত্মা থেকে বিরত রাখুন, নতুবা আপনি তার থেকে অপসন্দনীয় বিষয় সমূহ প্রতিরোধ করতে এবং উপকারী কাজ করতে সক্ষম হবেন না। আর তখন আপনি আপনার নফসের জন্য কোন দলীল ও ওযর পেশ করতে পারবেন না। ফলে তার ক্ষতিকারিতা আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে।

আপনার ইবাদতের জন্য দিন ও রাতের একটি অংশ নির্ধারণ করুন। আপনি দিন-রাতে ১২ রাক‘আত নফল ছালাত আদায় করবেন এবং প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহা সহ আপনার পসন্দ অনুযায়ী কুরআন তেলাওয়াত করবেন। ইচ্ছা করলে এগুলো এক সালামে আদায় করতে পারেন, অথবা পৃথক সালামে ছালাতগুলো আদায় করবেন। কেননা আমার নিকট রাসূল (ছাঃ) এর হাদীছ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন,   مَنْ صَلَّى اثْنَتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً فِى يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ بُنِىَ لَهُ بِهِنَّ بَيْتٌ فِى الْجَنَّةِ- ‘যে ব্যক্তি দিনে-রাতে ১২ রাক‘আত (নফল) ছালাত আদায় করবে, মহান আল্লাহ জান্নাতে এর বিনিময়ে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করবেন’।[1] আপনি রাত্রি বেলায় কুরআনের কিছু অংশ দ্বারা ৮ রাক‘আত তাহাজ্জুদের ছালাত আদায় করবেন। প্রতি রাক‘আতে এর হকগুলো আদায় করবেন। রুকূ-সিজদার হক আদায়ের জন্য যা যা প্রয়োজন, তা যথাযথভাবে আদায় করবেন। রাতের ছালাত অবশ্যই দুই দুই রাক‘আত করে আদায় করবেন। কেননা আমার নিকট নবী (ছাঃ) থেকে হাদীছ পৌঁছেছে যে, নিশ্চয় তিনি রাতে ৮ রাক‘আত ছালাত আদায় করতেন। এছাড়া ৩ রাক‘আত বিতর ছালাত আদায় করতেন। প্রত্যেক ২ রাক‘আত পর তিনি সালাম ফিরাতেন’।[2]

প্রতি মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ তিন দিন নফল ছিয়াম পালন করবেন। কেননা নবী করীম (ছাঃ) থেকে আমার নিকট হাদীছ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন, ذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ ‘এটা সারা বছর ছিয়াম রাখার সমতুল্য’।[3]

যখন একবছর পূর্ণ হবে, তখন আপনারা পবিত্র মাল থেকে যাকাত আদায় করবেন। যাকাত ফরয হওয়ার পর আর কাল-বিলম্ব করবেন না। আল্লাহ যাকে যাকাত প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন, তাকেই প্রদান করবেন।

আল্লাহ বলেন,إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ اللهِ وَاللهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ- ‘ছাদাক্বাসমূহ কেবল (আট শ্রেণীর) লোকের জন্য। ফকীর, অভাবগ্রস্ত, যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ব্যক্তি, দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের জন্য (যাদের পাথেয় হারিয়ে যায় বা শেষ হয়ে যায়)। এটি আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়’ (তওবা ৯/৬০)।

আপনার পূত-পবিত্র সম্পদ দ্বারা পবিত্র হজ্জব্রত পালন করবেন। কেননা আল্লাহ পবিত্র মাল ভিন্ন কবুল করেন না।[4] আল্লাহ বলেন,وَاذْكُرُوا اللهَ فِي أَيَّامٍ مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ لِمَنِ اتَّقَى- ‘আর তোমরা (মিনায়) গণিত দিনগুলিতে আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যে ব্যক্তি ব্যস্ততা বশে দু’দিনেই (মক্কায়) ফিরে আসে, তার জন্য কোন গোনাহ নেই। আর যে ব্যক্তি দেরী করে, তারও কোন গোনাহ নেই যে ব্যক্তি সংযম অবলম্বন করে’ (বাক্বারাহ ২/২০৩)। উভয় অবস্থাতেই তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

আপনি আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ করবেন এবং তাঁর উদ্দেশ্যেই কাউকে ভালবাসবেন। আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে সর্বদা দূরে থাকবেন। তাঁর উদ্দেশ্যেই কাউকে ঘৃণা করবেন।

আল্লাহ যাদেরকে আপনার অধীনস্ত করে দিয়েছেন, তাদের প্রতি সদাচরণ করুন[5] এবং তাদের উপর আপনার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।

যাকে শিষ্টাচার শিক্ষা দান এবং যার সকল কাজের দেখাশুনা করা আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য, আপনি তাকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিন। কেননা রাসূল (ছাঃ) থেকে আমার নিকট হাদীছ পৌঁছেছে যে, তিনি ফযল ইবনু আববাস (রাঃ)-কে বলেছেন,لاَ تَرْفَعِ الْعَصَا عَنْ أَهْلِكَ، وَأَخِفْهُمْ فِي اللهِ عَزَّ وَجَلَّ- ‘তোমার পরিবার থেকে শিষ্টাচারের লাঠিকে উঠিয়ে নিও না, তাদেরকে আল্লাহর ভয় দেখাও’।[6] মানুষের নিকট আত্মসমর্পণ করবেন না। বরং তাদেরকে আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।

আপনি মানুষকে ছোট মনে করবেন না। তাদের জন্য আপনার অনুগ্রহের ডানা বিছিয়ে দিন। কেননা নবী করীম (ছাঃ) থেকে আমার নিকট হাদীছ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর নবী নূহ (আঃ) মৃত্যুকালে স্বীয় পুত্রকে অছিয়ত করে বলেন, আমি একটি অছিয়তের মাধ্যমে তোমাকে দু’টি বিষয়ে নির্দেশ দিচ্ছি ও দু’টি বিষয়ে নিষেধ করে যাচ্ছি। নির্দেশ হ’ল তুমি বলবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। কেননা আসমান ও যমীনের সবকিছু যদি এক পাল্লায় রাখা হয় এবং এটিকে যদি এক পাল্লায় রাখা হয়, তাহ’লে এটিই ভারী সাব্যস্ত হবে। সাত আসমান ও সাত যমীন যদি একটি জটিল গ্রন্থির রূপ ধারণ করে তবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী’ তা ভেঙ্গে দিবে। কেননা এটি সকল বস্ত্তর তাসবীহ ও ছালাত এবং এর মাধ্যমেই সকল সৃষ্টিকে রূযী দেওয়া হয়।

আর আমি তোমাকে নিষেধ করে যাচ্ছি দু’টি বস্ত্ত থেকে : শিরক ও অহংকার। বলা হ’ল  বা বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আললাহর রাসূল! শিরক তো আমরা বুঝলাম। কিন্তু অহংকার কী? আমাদের কারো যদি সুন্দর পোষাক থাকে আর সে তা পরিধান করে। তবে এতে কী অহংকার হবে? তিনি বললেন, না। সে বলল, তাহলে আমাদের কোন ব্যক্তির যদি এক জোড়া সুন্দর জুতা থাকে এবং এর দু’টি সুন্দর ফিতা থাকে। তা কী অহংকারের আওতায় পড়বে? তিনি বললেন, না। সে বলল, তাহলে আমাদের কোন ব্যক্তির যদি একটি বাহন জন্তু থাকে যার উপর সে আরোহণ করে। তাতে কী অহংকার হবে? তিনি বললেন, না। সে বলল, তাহলে আমাদের কারো বন্ধু-বান্ধব রয়েছে যাদের সাথে সে ওঠা-বসা করে? এতে কী অহংকার হবে? তিনি বললেন, না। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! তাহলে অহংকার কী?। তিনি বললেন, অহংকার হ’ল, سفه الحق و غمص الناس সত্যকে দম্ভভরে প্রত্যাখ্যান করা ও মানুষকে হেয় জ্ঞান করা’।[7]

গর্ব ও অহংকার থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা মহান আল্লাহ এই দু’টি বস্ত্তকে ভালবাসেন না। জনৈক বিদ্বান থেকে আমার নিকট একটি হাদীছ পৌঁছেছে যে, তিনি (ছাঃ) বলেন,يُحْشَرُ الْمُتَكَبِّرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْثَالَ الذَّرِّ فِى صُوَرِ الرِّجَالِ يَغْشَاهُمُ الذُّلُّ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ… ‘ক্বিয়ামতের দিন অহংকারীদেরকে ক্ষুদ্র পিপড়ার ন্যায় মানুষের রূপে সমবেত করা হবে। তাদেরকে চারদিক হতে অপমান ও লাঞ্ছনা ছেয়ে ফেলবে।..[8]

যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে না, তার কাছে আপনার কোন বিষয়কেই নিরাপদ মনে করবেন না। কেননা আমার নিকট ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বাণী পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন, وَشَاوِرْ فِي أَمْرِكَ الَّذِينَ يَخَافُونَ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ ‘যে কোন কাজের ব্যাপারে আপনি মুত্তাক্বীদের সাথে পরামর্শ করবেন’।[9] অসৎ সঙ্গী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের থেকে আপনি সতর্ক থাকবেন। কেননা নবী করীম (ছাঃ) থেকে আমার নিকট হাদীছ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন,مَا مِنْ نَبِيٍّ وَلاَ خَلِيفَةٍ أَوْ قَالَ مَا مِنْ نَبِيٍّ إِلاَّ وَلَهُ بِطَانَتَانِ بِطَانَةٌ تَأْمُرُهُ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَاهُ عَنْ الْمُنْكَرِ وَبِطَانَةٌ لاَ تَأْلُوهُ خَبَالاً وَمَنْ وُقِيَ شَرَّ بِطَانَةِ السُّوءِ فَقَدْ وُقِيَ- ‘নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিটি নবী ও খলীফাকেই দু’জন করে সাথী দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। তন্মধ্যে একজন তাঁকে ভাল কাজের নির্দেশ দেয় ও খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করে এবং অন্যজন তাঁর সর্বনাশ করতে বিন্দুমাত্রও ত্রুটি করে না। সুতরাং যে ব্যক্তি মন্দ সাথীর কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে পারল, সে নিরাপদ থাকল’।[10] সুতরাং মুত্তাক্বী ব্যক্তিকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবেন এবং মেহমানকে সম্মান করবেন। কেননা মেহমানকে সম্মান করা আপনার নৈতিক দায়িত্ব।

সৎ কাজের মাধ্যমে আপনারা প্রতিবেশীর হক আদায় করবেন। তাদেরকে কষ্ট দেয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন। কেননা নবী করীম (ছাঃ) থেকে আমার নিকট হাদীছ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন, مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ- ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান প্রদর্শন করে’।[11]

ভাল কথা বলবেন, অন্যথা চুপ থাকবেন। কেননা নবী করীম (ছাঃ) থেকে আমার নিকট হাদীছ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন,مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا، أَوْ لِيَصْمُتْ- ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, নতুবা চুপ থাকে’।[12] অতিরিক্ত কথা-বার্তা থেকে আপনি বিরত থাকবেন। কেননা নবী (ছাঃ)  অতিরিক্ত কথা বলা থেকে সতর্ক করেছেন।[13]

বন্ধুকে সম্মান করুন এবং আপনার সাথে বন্ধুত্বের কারণে তাকে তার বিনিময় প্রদান করুন। কেননা আমার কাছে নবী (ছাঃ) থেকে হাদীছ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন,وَمَنْ آتَى إِلَيْكُمْ مَعْرُوفًا فَكَافِئُوهُ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فَادْعُوا لَهُ حَتَّى تَعْلَمُوا أَنْ قَدْ كَافَأْتُمُوهُ- ‘যে ব্যক্তি তোমাদের কোন উপকার করল, তোমরা তাকে উত্তম বিনিময় প্রদান কর। সক্ষম না হ’লে অন্ততঃপক্ষে তার জন্য দো‘আ কর। যাতে সে বুঝতে পারে যে, তোমরা তাকে উপযুক্ত উপঢৌকন প্রদান করেছ’।[14]

আপনি অবশ্যই অপরের সাথে রাগ করা থেকে বিরত থাকবেন। এ মর্মে আমার কাছে হাদীছ পৌঁছেছে যে, জনৈক ব্যক্তি আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! অল্পকথায় আমাকে অছিয়ত করুন। যাতে আমি তা স্মরণে রাখতে পারি। তিনি বললেন, لاَ تَغْضَبْ ‘তুমি রাগ করো না’।[15]

যেকোন ভাল কাজের নির্দেশ দানের পূর্বেই আপনি নিজে তার প্রতি আমল করবেন এবং কোন অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করার পূর্বেই নিজে তা পরিত্যাগ করবেন। সকল অসার কাজকে পরিহার করুন। কেননা আমার নিকট নবী (ছাঃ) থেকে হাদীছ পৌঁছেছে যে, নিশ্চয় তিনি বলেন,مِنْ حُسْنِ إِسْلاَمِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لاَ يَعْنِيهِ ‘কোন ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হ’ল, অনর্থক বিষয় পরিত্যাগ করা’।[16]

আপনার সাথে সম্পর্ক ছিন্নকারীর সাথে আপনি সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। যে আপনার প্রতি যুলুম করেছে তাকে ক্ষমা করুন এবং যে ব্যক্তি আপনাকে বঞ্চিত করেছে তাকে প্রদান করুন।

আপনি অতিরিক্ত হাসি-তামাশা থেকে বিরত থাকুন। কেননা এটা বোকামীর দিকে আহবান করে ও চেহারার উজ্জ্বলতা ও মুমিনের দীপ্তিকে নষ্ট করে। এ মর্মে আমার নিকট হাদীছ পৌঁছেছে যে,كَانَ ضَحِكُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم- إِلاَّ تَبَسُّمًا- ‘নবী (ছাঃ) মুচকি হাসতেন’।[17]

আপনার ব্যক্তিত্বকে নিন্দনীয় করবে, এমন বিষয়ে রসিকতা করবেন না। কেননা আমার নিকট নবী (ছাঃ) থেকে হাদীছ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন,إِنِّي لَأَمْزَحُ، وَلاَ أَقُولُ إِلاَّ حَقًّا ‘আমি রসিকতা করি। তবে সত্য বৈ বলি না’।[18]

যাকে আপনি নিষেধ করেছেন, আপনি তার বিরুদ্ধাচরণ করবেন না। সংক্ষেপে কথা বলুন। কেননা আমার নিকট নবী (ছাঃ) থেকে হাদীছ পৌঁছেছে যে, নিশ্চয় তিনি বলেন ‘একমাত্র এ জিহবার অনিষ্টের কারণেই মানুষদেরকে অধোমুখী করে জাহান্নামের হুতাশনে নিক্ষেপ করা হবে’।[19]

অহংকারবশতঃ আপনি মানুষকে অবজ্ঞা করবেন না। তাদের জন্য আপনার বিনয়ের বাহুকে অবনমিত রাখবেন। কেননা আমার নিকট রাসূল (ছাঃ) থেকে হাদীছ পৌঁছেছে যে, নিশ্চয় তিনি বলেন,حُرِّمَ عَلَى النَّارِ كُلُّ هَيِّنٍ لَيِّنٍ سَهْلٍ قَرِيبٍ مِنَ النَّاسِ ‘প্রত্যেক নম্র-ভদ্র, সহজ-সরল, বিপদে  মানুষের পাশে

দাঁড়ানো ব্যক্তির জন্য জাহান্নাম হারাম করা হয়েছে।[20]

প্রকাশ্যে যে আমলগুলো করা আপনার জন্য শোভনীয় নয় তা গোপনে করার জন্য রেখে দিন। আপনি এমন সব কর্মকান্ড থেকে বেঁচে থাকুন, যাতে আপনার দুনিয়া ও দ্বীনদারীর ব্যাপারে অপবাদ আরোপ করার ভয় করেন।

আপনার যাবতীয় প্রয়োজনের কথা মানুষের নিকট পেশ করা কমিয়ে দিন। কেননা এটা হ’ল হীনকর ও অপমানজনক কাজ। আমার নিকট নবী (ছাঃ) থেকে হাদীছ পৌঁছেছে যে, নিশ্চয় তিনি জনৈক ব্যক্তিকে বলেন, لاَ تَسْأَلِ النَّاسَ شَيْئاً ‘তুমি মানুষের নিকট থেকে কিছুই চেয়ো না’।[21]

আপনার বাড়ী অথবা মসজিদ যেন আপনার মজলিস হয়। আপনি যরূরী প্রয়োজন ব্যতীত বাড়ী থেকে বের হবেন না। কেননা আমার নিকট নবী (ছাঃ) থেকে হাদীছ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন,ست مجالس المؤمن ضامن على الله تعالى ما كان في شيء منها في مسجد جماعة وعند مريض أو في جنازة أو في بيته أو عند إمام مقسط يعزره ويوقره أو في مشهد جهاد ‘ছয় শ্রেণীর বৈঠকে মুমিন আল্লাহর যিম্মাদারীতে থাকে। (১) মসজিদে জামা‘আতের মজলিসে (২) রোগীর সেবায় (৩) জানাযায় (৪) নিজ গৃহে (৫) ন্যায়নিষ্ঠ শাসকের নিকটে, যে তাকে সদুপদেশ দেয় ও সম্মান করে (৬) জিহাদের ময়দানে।[22]

আপনি আপনার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদাচরণ করুন। কেননা এটা আপনার প্রতিপালকের সন্তুষ্টি[23] ও আপনার পরিবারের ভালবাসা অর্জনের কারণ, সম্পদ বৃদ্ধির উপায় এবং আপনার দীর্ঘায়ু লাভ করার পন্থা। কেননা আমার নিকটে বিজ্ঞ কতিপয় ছাহাবীর হাদীছ পৌঁছেছে যে, নিশ্চয়ই রাসূল (ছাঃ) উক্ত কথাগুলো বলেছেন।[24]

সাধারণ মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলুন। মানুষকে গালি দেওয়া ও তাদের গীবত করা থেকে বিরত থাকুন। কেননা মহান আল্লাহ বলেন,يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلاَ تَجَسَّسُوا وَلاَ يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ- ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাক। নিশ্চয় কোন কোন অনুমান পাপ। আর তোমরা গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পসন্দ করবে? তোমরা তা অপসন্দই করে থাক। আর তোমরা তাক্বওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ অধিক তওবা কবুলকারী, অসীম দয়ালু’ (হুজুরাত ৪৯/১২)।

অশ্লীলতা থেকে এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ফাসেক ব্যক্তিদের মজলিসে বসা ও নীচু স্বভাবের মানুষের সাথে কথা বলা থেকে সতর্ক থাকবেন। নিশ্চয়ই রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ ‘মানুষ তার বন্ধুর রীতির উপর হয়ে থাকে। অতএব দেখ সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে’।[25]

আপনি ইয়াতীমদের প্রতি দয়া-অনুকম্পা ও সম্মান প্রদর্শন করুন। কেননা আমার নিকট নবী (ছাঃ) থেকে হাদীছ পৌঁছেছে যে, নিশ্চয় তিনি বলেন, أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ لَهُ وَلِغَيْرِهِ كَهَاتَيْنِ فِى الْجَنَّةِ ‘আমি ও ইয়াতীমের অভিভাবক, তার বা অন্যের, জান্নাতে পাশাপাশি থাকব এই দু’টি আঙ্গুলের মত। এসময় তিনি শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুলী দু’টি পাশাপাশি রেখে ইশারা করেন।[26]

আপনি মুসাফিরের হককে যথাযথভাবে আদায় করুন এবং এ বিষয়ে আল্লাহর অছিয়তকে হেফাযত করুন। কেননা আমার নিকট একথা পৌঁছেছে যে, সর্বপ্রথম যিনি মেহমানদের মেহমানদারী করেন, তিনি হলেন ইবরাহীম (আঃ)।[27]

মাযলূমকে সাধ্যমত সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করুন। যালেমের হাত চেপে ধরে যুলুম থেকে তাকে বাধা প্রদান করুন। কেননা আমার নিকট নবী (ছাঃ) থেকে হাদীছ পৌঁছেছে যে, নিশ্চয় তিনি বলেন,مَنْ مَشَى مع مظلومٍ حتى يُثَبِّتَ له حقَّه ثَبَّتَ الله قدمَه يومَ تَزولُ الأقدامُ ‘যে ব্যক্তি মাযলূমের অধিকার আদায়ের নিমিত্তে তার সাথে চলবে, ক্বিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাকে দৃঢ়পদ রাখবেন, যেদিন পদসমূহ পিছলে যাবে’।[28]

আপনি প্রবৃত্তির অনুসরণ করে সত্যকে পরিত্যাগ করা থেকে বিরত থাকুন। কেননা আমার নিকট আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নিশ্চয় তিনি বলেন,إِنَّمَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ اثْنَتَيْنِ: طُولَ الْأَمَلِ، وَاتِّبَاعَ الْهَوَى، فَإِنَّ طُولَ الْأَمَلِ يُنْسِي الْآخِرَةَ، وَإِنَّ اتِّبَاعَ الْهَوَى يَصُدُّ عَنِ الْحَقِّ- ‘আমি তোমাদের জন্য দু’টি জিনিসের ভয় করি। এক. দীর্ঘ আকাংখা, দুই. কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ। কেননা দীর্ঘ আকাংখা পরকালকে ভুলিয়ে দেয়। আর কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ মানুষকে সত্য পথ থেকে বিরত রাখে’।[29]

আপনি স্বউদ্যোগী হয়ে মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার করুন এবং অপরের সম্পদ বুঝিয়ে দিতে টালবাহানা করবেন না। আল্লাহর হারামকৃত বিষয় থেকে আপনি আপনার দৃষ্টিকে সংযত রাখুন। কেননা আমার নিকট রাসূল (ছাঃ) থেকে হাদীছ পৌঁছেছে যে, নিশ্চয় তিনি আলী (রাঃ)-কে  বলেন,لاَ تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الآخِرَةُ- ‘চোখের উপর চোখ পড়ে গেলে তুমি স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকো না। কেননা প্রথম দৃষ্টি তোমার, দ্বিতীয় দৃষ্টি তোমার নয় (বরং শয়তানের)’।[30]

আপনি হারাম ভক্ষণ ও হারাম পোষাক পরিধান থেকে বেঁচে থাকুন। কেননা এগুলোর স্বাদ শেষ হয়ে যাবে এবং মন্দ পরিণতি বাকী থাকবে। আর আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের তাই নির্দেশ দিয়েছেন, যা তাঁর রাসূলগণকে শিক্ষা দিয়েছিলেন । মহান আল্লাহ বলেন,يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ- ‘হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্ত্ত হ’তে আহার কর এবং সৎকর্ম কর। নিশ্চয় তোমরা যা কর, সব বিষয়ে আমি অবগত’ (মুমিনূন ২৩/৫১)। আর আমার নিকট নবী (ছাঃ) থেকে হাদীছ পৌঁছেছে যে, নিশ্চয় তিনি বলেন,مَنْ أَكَلَ بِرَجُلٍ مُسْلِمٍ أَكْلَةً فَإِنَّ اللهَ يُطْعِمُهُ مِثْلَهَا مِنْ جَهَنَّمَ وَمَنْ كُسِىَ ثَوْبًا بِرَجُلٍ مُسْلِمٍ فَإِنَّ اللهَ يَكْسُوهُ مِثْلَهُ مِنْ

جَهَنَّمَ وَمَنْ قَامَ بِرَجُلٍ مَقَامَ سُمْعَةٍ وَرِيَاءٍ فَإِنَّ اللهَ يَقُومُ بِهِ مَقَامَ سُمْعَةٍ وَرِيَاءٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ-‘যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করার মাধ্যমে কোন লোকমা ভক্ষণ করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ সে ব্যক্তিকে ঐ পরিমাণ লোকমা জাহান্নাম হ’তে ভক্ষণ করাবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করার মাধ্যমে (অপমানের) পোষাক পরিধান করবে, আল্লাহ্ তাকে জাহান্নামের বস্ত্র পরিধান করাবেন। আর যে নিজেকে শ্রুতি ও রিয়ার স্থানে উপনীত করবে, আল্লাহ্ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাকে এ ধরনের অপমানজনক স্থানে দাঁড় করাবেন’।[31]

যে ব্যক্তি আপনার নিকট ওযর পেশ করেছে এবং আপনার অপসন্দনীয় বিষয় থেকে ফিরে এসেছে আপনি তার ওযর গ্রহণ করুন। আপনি যাদের সাথে মিশেন, তাদের চাইতে আপনার হাত (দাতার হাত) উপরে রাখবেন। কেননা আমার নিকট নবী (ছাঃ) থেকে হাদীছ পৌঁছেছে যে, নিশ্চয় তিনি বলেন, الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى ‘দাতার হাত গ্রহীতার হাত অপেক্ষা উত্তম’।[32] (সূত্র : আহমাদ যাকী ছাফওয়াত, জামহারাতু রাসাইলিল ‘আরাব ৪/৪০৩-৪০৯)।

পরবর্তী অংশ পড়ুন: খলীফা হারূনুর রশীদের নিকটে প্রেরিত ইমাম মালেক (রহঃ)-এর ঐতিহাসিক চিঠি (২)

অনুবাদ: ইহসান ইলাহী যহীর
[1]. মুসলিম হা/৭২৮; আবুদাঊদ হা/১২৫০।
[2]. বুখারী হা/১১৪৭; মুসলিম হা/৭৩৬-৩৮; মিশকাত হা/১১৮৮।
[3]. বুখারী হা/১৯৭৫; মুসলিম হা/১১৫৯।
[4]. মুসলিম হা/১০১৫; মিশকাত হা/২৭৬০।
[5]. বুখারী হা/৩০।
[6]. আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১৮।
[7]. আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৫৪৮; আহমাদ হা/৬৫৮৩; ছহীহাহ হা/১৩৪।
[8]. তিরমিযী হা/২৪৯২, মিশকাত হা/৫১১২।
[9]. বায়হাক্বী, শো‘আব হা/৯৪৪২।
[10]. আহমাদ হা/৭৮৭৪; তিরমিযী হা/২৩৬৯।
[11]. বুখারী হা/৬০১৯; মুসলিম হা/৪৭; মিশকাত হা/৪২৪৩।
[12]. বুখারী হা/৬৪৭৫; মুসলিম হা/৪৭; মিশকাত হা/৪২৪৩।
[13]. আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১৩০৮।
[14]. নাসাঈ হা/২৫৬৭; আবুদাঊদ হা/৫১০৯; মিশকাত হা/১৯৪৩।
[15]. আহমাদ হা/১৬০০৬; বুখারী হা/৬১১৬; মিশকাত হা/৫১০৪।
[16]. তিরমিযী হা/২৩১৮; মুওয়াত্ত্বা মালেক হা/৩৩৫২; মিশকাত হা/৪৮৩৯।
[17]. তিরমিযী হা/৩৬৪২; মিশকাত হা/৫৭৯৬।
[18]. মাজ‘উয যাওয়ায়েদ হা/১৩১০৬; ছহীহুল জামে‘ হা/২৪৯৪।
[19]. আহমাদ হা/২২১১৬; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৪১২।
[20]. আহমাদ হা/৩৯৩৮, মিশকাত হা/৫০৮৪, ছহীহুল জামে‘ হা/৩১৩৫।
[21]. ইবনু মাজাহ হা/১৮৩৭, মিশকাত হা/১৮৫৪।
[22]. মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/২০৩৪; ছহীহ আত-তারগীব হা/৩২৮।
[23]. মুসলিম হা/২৫৫৫।
[24]. মু‘জামুল আওসাত্ব হা/৭৮১০; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৭৬৮।
[25]. আহমাদ হা/৮০১৫; তিরমিযী হা/২৩৭৮; আবুদাঊদ হা/৪৮৩৩; মিশকাত হা/৫০১৯; ছহীহাহ হা/৯২৭।
[26]. বুখারী হা/৫৩০৪, ৬০০৫; আবুদাঊদ হা/৫১৫০ মিশকাত হা/৪৯৫২।
[27]. বায়হাক্বী, শো‘আব হা/৮৬৪১, ছহীহুল জামে‘ হা/৪৪৫১, সনদ হাসান।
[28]. ছহীহ আত-তারগীব ২/৩৫৮, হাসান লিগায়রিহি।
[29]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩৫৬৩৬; ফৎহুল বারী ১১/২৩৬।
[30]. তিরমিযী হা/২৭৭৭; আবুদাঊদ হা/২১৪৯; হাকেম হা/২৭৮৮; মিশকাত হা/৩১১০।
[31]. আবুদাঊদ হা/৪৮৮১; মিশকাত হা/৫০৪৭।
[32]. বুখারী হা/১৪২৯; মুসলিম হা/১০৩৩; মিশকাত হা/১৮৪৩।


পবিত্র রমজানে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক ঘটনা সমূহ

সোমবার, মে ১১, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

পবিত্র রমজান মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো এর একটি রাত- শবে কদর, যে রাতে মানবতার মুক্তির সনদ কোরআনে কারিম সর্বপ্রথম নাজিল হয়েছে। কোরআনে কারিমের একাধিক জায়গায় তা উল্লেখ রয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনা মতে, রাসুল (সা.)-এর ঐতিহাসিক মেরাজের ঘটনাও রমজান মাসে সংঘটিত হয়েছিল। এ ছাড়া ইসলাম ও মুসলিমদের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বুকে ধারণ করে আছে এ রমজান মাস। সেগুলো বিশেষভাবে মুসলমানদের ত্যাগ ও ত্যাগের বিনিময়ে বিজয় ও সফলতার ইতিহাসসমৃদ্ধ।

পবিত্র রমজান মুসলমানদের নিকট অন্যান্য মাসের তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের বহু নিদর্শনের সাক্ষী হিজরি ক্যালেন্ডারের নবম এই মাস। তাছাড়া, ইসলামের পূর্ব যুগেও রমজানের সঙ্গে সম্পর্কীয় একাধিক ঐশী ঘটনার জন্ম হয়েছে।

ঐতিহাসিক বদরযুদ্ধ
মক্কার অদূরে বদর নামক স্থানে ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে তথা দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান সংঘটিত হয়েছিল ঈমান ও কুফরের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ। এ যুদ্ধে মাত্র ৩১৩ জন প্রায় নিরস্ত্র মুসলমানের মোকাবেলায় শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয় কাফির বাহিনীর সহস্রাধিক সশস্ত্র সৈন্যকে। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সরাসরি তিন থেকে পাঁচ হাজার ফেরেশতা দিয়ে মুসলমানদের সাহায্য করা হয়। এ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে মহাবিপ্লব সাধিত হয়েছে। তাই পবিত্র কোরআনে এ যুদ্ধকে ‘ইয়াওমুল ফোরকান’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বদর যুদ্ধে আবু জাহেল, উতবা, শায়বাসহ মোট ৭০ জন কাফির নিহত হয়। আরো ৭০ জন কাফির মুজাহিদদের হাতে বন্দি হয়। অন্যদিকে ১৪ জন মুসলিম মুজাহিদ বীরবিক্রমে লড়াই করে শাহাদাতের গৌরব অর্জন করেন।

মক্কা বিজয়
অষ্টম হিজরির ২০ বা ২১ রমজান জুমাবার রাসুল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম মক্কা বিজয় করেন। একসময় কাবাগৃহ ছিল বিশুদ্ধ একত্ববাদের কেন্দ্রস্থল। একমাত্র আল্লাহর বন্দেগির জন্য আল্লাহর নির্দেশে এটি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন হজরত ইবরাহিম (আ.)। এটি মুশরিকদের দখলে থাকায় শিরকের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছিল। রাসুল (সা.) তাওহিদের এ পবিত্র স্থানকে শিরকের নাপাকি থেকে মুক্ত করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কায় প্রবেশ করে কোনো প্রতিশোধ গ্রহণের কথা বলেননি। তিনি এ মর্মে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন- এক. যারা আপন ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকবে তারা নিরাপদ। দুই. যারা আবু সুফিয়ানের ঘরে থাকবে তারাও নিরাপদ। তিন. যারা কাবাগৃহে আশ্রয় নেবে তারাও নিরাপদ।

নাখলা নামক জায়গার মূর্তি অপসারণ
রাসুল (সা.) অষ্টম হিজরির ২৫ রমজান হজরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)-এর নেতৃত্বে একদল সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেন নাখলা নামক জায়গার একটি বৃহদাকার মূর্তি অপসারণের জন্য, কাফিররা এর পূজা করত, যার নাম ছিল উজ্জা। হজরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) নিজ হাতে ওই মূর্তি অপসারণ করেন। এরপর তিনি বলেন, আর কখনো এখানে উজ্জার উপাসনা হবে না। (আলবিদায়াহ ওয়াননিহায়াহ : ৪/৩১৬)

তায়েফে লাত নামক মূর্তি অপসারণ
নবম হিজরির রমজান মাসে তায়েফের সাকিফ গোত্র স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এবং তারা নিজেরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের উপাস্য ‘লাত’ নামক মূর্তি অপসারণ করে। (আলবিদায়াহ ওয়াননিহায়াহ : ৫/৩১৬)

ঐতিহাসিক তাবুক যুদ্ধ
নবম হিজরির রজব মাসে তাবুক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। কিন্তু তাবুক যুদ্ধের কিছু ঘটনা সংঘটিত হয় নবম হিজরির রমজান মাসে। এ যুদ্ধ ছিল ইসলামের বিরুদ্ধে আরবের কাফির ও মুনাফিকদের শেষ চেষ্টা। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম সাম্রাজ্যবাদী শক্তি রোমান ও আরবের কাফিরদের সমন্বয়ে ঘটিত যৌথ বাহিনীর রণপ্রস্তুতিই এ যুদ্ধের মূল কারণ। নবী করিম (সা.) মক্কা বিজয় ও হুনায়েনের যুদ্ধ শেষে যখন মদিনায় ফিরে এলেন, এর কিছুদিন পর সিরিয়া থেকে ফিরে আসা কিছু বণিকদলের কাছ থেকে খবর পেলেন, রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস মদিনা আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে সিরিয়া ও আরব সীমান্তে তারা এক বিশাল বাহিনী মোতায়েন করছে। রোম ছিল তৎকালীন দুনিয়ার বৃহৎ শক্তি। মহানবী (সা.) ফয়সালা করেন, হিরাক্লিয়াসের আক্রমণের অপেক্ষা না করে মুসলমানরা নিজেরাই আগে তাদের ওপর আক্রমণ চালাবে। তিনি মদিনার সব মুসলিমকে এ যুদ্ধে শরিক হওয়ার নির্দেশ দিলেন। পরে রোমানরা মুসলমানদের ভয়ে যুদ্ধ না করেই পলায়ন করেছে।

কাদেসিয়া যুদ্ধ
এক বর্ণনা অনুযায়ী কাদেসিয়া যুদ্ধ ১৫ হিজরি সনের রমজান মাসে সংঘটিত হয়। সাদ বিন আবি ওয়াক্কাছ (রা.)-এর নেতৃত্বে মুসলমান ও রস্তুম ফাররাখজাদের নেতৃত্বে পারসিকদের মধ্যে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তবে ইবনে কাছির (রহ.) তারিখ উল্লেখ ছাড়াই বলেছেন, এ যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য ছিল সর্বসাকল্যে ৩৬ হাজার বা তার চেয়ে কিছু বেশি। আর কাফিরদের সৈন্য ছিল দুই লাখ। চার দিন ও তিন রাত প্রচণ্ড যুদ্ধ চলার পর কাদেসিয়া যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। মাত্র ৩৬ হাজার মুসলিম সৈন্য দুই লাখ সুসজ্জিত পারসিক বাহিনীকে পরাজিত করে। এ যুদ্ধের ফলে ওই অঞ্চল ইরাকের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং সেখানে ইসলামের প্রচার-প্রসারের সব বাধা দূরীভূত হয়। যুদ্ধের পর চার হাজার পারসিক সৈন্য সরাসরি ইসলাম গ্রহণ করে। এ ছাড়া বিভিন্ন গোত্র ও ইরাকে বসবাসরত ধর্মযাজক দলে দলে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাছ (রা.)-এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয়।

স্পেন বিজয়
সিপাহসালার তারেক বিন জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ৯২ হিজরি সনের ২৮ রমজান সর্বপ্রথম রডারিকের সৈন্যকে পরাজিত করে স্পেন জয় করেন।

ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
সুলতান সালাহউদ্দিন আইউবি (রহ.) ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে সর্বশেষ যুদ্ধ শুরু করেন ১৩৯৩ সালের ১০ রমজান।

আইনে জালুতের যুদ্ধে বিজয়
৬৫৮ হিজরির ১৫ রমজান জুমাবার আইনে জালুত যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী তাতারিদের চিরতরে পরাজিত করে তাদের বলয় থেকে মুসলিম দেশগুলো মুক্ত করে।

ইহুদিদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিন রক্ষার যুদ্ধ
ফিলিস্তিনকে ইহুদিদের হাত থেকে পবিত্র করার জন্য সর্বশেষ যুদ্ধ হয় ১৩৯৩ হিজরির ১০ রমজান। ফিলিস্তিনি বীর যোদ্ধারা অস্ত্র ও জনবলের দৈন্য সত্ত্বেও ইহুদিদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ ছাড়া আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এ রমজানে সংঘটিত হয়েছে।

প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আল্লামা ইবনে কাসির (১৩০১-১৩৭৩) তার অমর গ্রন্থ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে লিখেছেন, প্রসিদ্ধ চার আসমানী কিতাব পবিত্র রমজানে অবতীর্ণ হয়েছে।

পবিত্র তাওরাত গ্রন্থ নাজিল হয়েছে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের ওপর। এর ৪৮২ বছর পরে হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের ওপর নাজিল হয়েছে পবিত্র গ্রন্থ জাবুর। রমজানেই মহান আল্লাহ তার প্রিয় বান্দা ও নবী হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর নাজিল করেছেন পবিত্র ইনজিল গ্রন্থ। এবং সবশেষ আসমানী কিতাব মহাগ্রন্থ আল কুরআনও আখেরি নবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়েছে এই রমজানে।
 





বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০

রমজানের ২য় দশ দিন মাগফিরাত

বৃহস্পতিবার, মে ০৭, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ রিজওয়ান ।।
পবিত্র মাহে রমজানের রহমতের দশক অতিবাহিত হয়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে মাগফিরাতের দশক। মহান রাব্বুল আলামীন মহিমান্বিত রমজান মাসে বান্দার জন্য রেখেছেন তিনটি সুবর্ণ সুযোগ।
রাসুল সা. ইরশাদ করেন, রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত লাভের এবং তৃতীয় ১০ দিন নাজাত প্রাপ্তির।(মিশকাত শরীফ)
প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তিই এই রমজান মাসে সারা বছরের নেকি ও পূণ্যের ঘাটতি পূরণের প্রাণান্তকর চেষ্টা করে থাকেন। ইবাদতের মাধ্যমে রহমতের ১০ দিন অতিবাহিত করার পর মুমিন ব্যক্তিরা মাগফিরাত লাভের আশায় আল্লাহ পাকের দরবারে নিজেকে নতুন করে নিয়োজিত করে থাকেন।
বান্দা যেন তার সারা বছরের কৃত সব গুনাহ থেকে মুক্তি পেতে পারে, এই জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রমজান মাসের দ্বিতীয় দশককে মাগফিরাত তথা ক্ষমা লাভের দিন হিসেবে ধার্য করেছেন। মাগফিরাতের এই দশকে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য রেখেছেন অফুরন্ত ক্ষমার ভাণ্ডার।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করে বলেন (হে নবী) বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর জুলুম (গুনাহ) করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইও না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করেদিবেন। তিনি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (সুরা যুমার ৫৩)।
অন্য আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন তারা আল্লাহর কাছে তওবা করে না কেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে না কেন ? আল্লাহ যে ক্ষমাশীল দয়ালু। (সুরা মায়িদা৭৪)।
আল্লাহ পাক আরো ইরশাদ করেন, তোমরা তোমাদের প্রভূর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল।’ (সূরা নূহ: ১০)।
হাদিস শরীফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন ১০০ বার করে ইস্তেগফার করতেন। (তাবারানী, মুজামুল আওসাত)। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, হে আমার বান্দারা, তোমরা দিনরাত গুনাহ করে থাক। আমি তোমাদের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেব। তোমরা ইস্তেগফার করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেব। (মুসলিম শরীফ)।
তাছাড়া রাসূল সা. এ মাসে আমাদেরকে বেশি বেশি মাগফেরাত কামনা করার তাকীদও দিয়েছেন। যেমন, রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, ওই ব্যক্তির নাক ধূলায় ধুসরিত হোক, যার কাছে রমজান মাস এসে গেল অথচ তার পাপগুলো ক্ষমা করিয়ে নিতে পারলো না। (সুনানে তিরমিযী)।
অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল, অথচ গুনাহমুক্ত হতে পারলো না, তবে তার জন্য অকল্যাণ। (মুসতাদরাকে হাকেম)
উক্ত আয়াত ও হাদিস সমূহ দ্বারা মহান আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সা. আমাদেরকে যেন এটাই আশ্বস্ত করেছেন যে, রমজানের রহমতের দশক শেষ হয়েছে তো কী হয়েছে, আল্লাহর রহমত তো ফুরিয়ে যায়নি, তোমাদের জন্য রমজানের দ্বিতীয় দশকে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাধারণ ক্ষমার দিন হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সুতরাং তোমরা যদি যথাযথ এবাদত বন্দেগি করে রমজানের পরিপূর্ণ হক আদায় কর, তবে তামাদের সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে, কারণ আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
সুতরাং প্রত্যেক মুমিনেরই উচিত, মাগফিরাতের এই দশকে গুনাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করে, লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে এবং আর কখনো গুনাহে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাওবা করা এবং গোনাহ মাফের জন্য চোখের পানি ফেলে তাঁর কাছে বেশি বেশি রোনাজারি করা। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন আমীন।
লেখক: ইমাম ও খতিব, উত্তর আদাবর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুহাম্মদপুর ঢাকা।


রমজানের রহমতের জন্য কোন দোয়া বা আমল বেশি বেশি করা যায়?

বৃহস্পতিবার, মে ০৭, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
প্রশ্ন : রমজান মাসে কোন দোয়া বা আমল আমরা বেশি বেশি করতে পারি?
উত্তর : রমজান মাস পুরোটাই মূলত রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আল্লাহর বান্দারা দোয়া করবে। কারণ, আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা রমজান মাসটাকে রহমতের জন্য ভরপুর করে দিয়েছেন। তাই আমরা আল্লাহতায়ালার কাছে রহমত চাইতে পারি এবং মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে পারি।
‘আল্লাহুম মাগফিরলি ওয়াতুব আলাইয়া’ ধরনের দোয়া করতে পারেন,যেগুলোতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা হয়েছে, অথবা আসতাগফিরুল্লাহা… ওয়াতুব ইলাইহে, অথবা যেগুলোতে আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা রয়েছে, যেমন— লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদিরের মতো দোয়া করতে পারেন।
আর রাসুলুল্লাহ (সা.) শবে কদরের জন্য হজরত আয়েশাকে (রা.) যে দোয়াটি শিক্ষা দিয়েছেন, সেটি হচ্ছে— আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফু'উন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নি।
এই সব দোয়ার মধ্যে মূলত ক্ষমার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এই ধরনের রেওয়ায়েতগুলো সামনে রেখে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, এই সময়টা মূলত ক্ষমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই এই সময়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ক্ষমার জন্য বেশি বেশি দোয়া করতে পারেন। তবে দোয়ার জন্য শর্ত নয় যে দোয়া আরবিতে হতে হবে। আপনি দোয়া বাংলায় করতে পারেন, আরবিতেও করতে পারেন। যদি আরবি দোয়া আপনার জানা না থাকে, আপনি নিজের ভাষায় দোয়া করতে পারেন। সেটাও করা জায়েজ আছে। সে ক্ষেত্রে মাতৃভাষায় বুঝে দোয়া করা, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।


রমজানের রহমতের ১০দিন

বৃহস্পতিবার, মে ০৭, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (স.) বলেন, ‘রমজানকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দশদিন আল্লাহর রহমত নাজিলের, দ্বিতীয় দশদিন গোনাহ মাফ তথা মাগফিরাতের এবং তৃতীয় দশদিন আল্লাহর আজাব থেকে নাজাতের জন্য নির্ধারিত।’
পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ মাহে রমজানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিবৃত করতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এটা এমন এক মাস যে প্রথম দশ দিন রহমতের বারিধারায় পরিপূর্ণ। মাঝের দশ দিন ক্ষমা ও মার্জনা লাভের জন্য নির্ধারিত এবং শেষ দশদিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের উপায়রূপে নির্দিষ্ট। রোজাদারদের মাঝে এমন এক শ্রেণীর লোক আছেন যারা তাকওয়া ও পরহেজগারী সম্পন্ন এবং পাপ ও বর্জনীয় কাজকর্ম থেকে বেঁচে থাকার জন্য সর্বদাই যত্নবান। তারা সিয়াম সাধনার মাঝে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে গেলে চেতনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তওবা ও এস্তাগফার করে নিজেদের সংশোধন ও ত্রুটিমুক্ত করে নেন। এ শ্রেণীর রোজাদারদের প্রতি রমজান মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রহমতের বারী বর্ষণ হতে থাকে। তারা যখন রোজার প্রথম দশদিন একান্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে অতিবাহিত করেন, তখন তারা আর সেই লোক থাকেন না। যেমনটি রোজা শুরু হওয়ার প্রাক্কালে ছিলেন। বরং তাদের মাঝে মুমিন সুলভ মহৎ গুণাবলী আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে যায়।
আমাদের মাঝে রমজানের প্রথম দশদিন শুরু হয়েছে। এ দশ দিন শেষ হতেই রমজানের রহমত বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর আসবে মাগফিরাত ও নাজাতের দশদিন করে বাকি ২০ দিন। রমজানের যখন প্রথম দিন শুরু হয় তখন রহমতের দিন আরম্ভ হয়। আর বান্দা যখন সঠিক নিয়তে রোজা রাখে, রমজানের সব হকগুলো আদায় করে, সঠিকভাবে সংযমী হয়, হালাল রুজি দ্বারা সেহেরী খায়, হালাল রুজি দ্বারা ইফতার করে, কাউকে গালি না দেয়, কারো হক নষ্ট না করে, ঘুষ না খায়, এভাবে সারাদিন কাটিয়ে দেয় এবং এভাবে সব রমজানের রোজা রাখার নিয়ত করে- তার জন্য রহমত প্রথম রমজান থেকেই শুরু হয়। যা রমজানের শেষ পর্যন্ত সে রহমত অবধারিত থাকে। এছাড়াও তার জন্য দ্বিতীয় দশদিন শুরুর সঙ্গে মাগফিরাত আরম্ভ হয়ে যায় এবং তার গুণাহগুলো মাফ হতে থাকে।
হযরত সাহাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (স.) বলেন, ‘জান্নাতের মধ্যে রাইয়ান নামক এক দরজা আছে, এ দরজা দিয়ে কেবলমাত্র কেয়ামতের দিন রোজাদার লোকেরা প্রবেশ করতে পারবেন। ঘোষণা দেয়া হবে রোজাদার লোকেরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে, তাদের প্রবেশের পরপরই দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে।’
হাদিসে বর্ণিত, যখন আল্লাহপাক কাউকে ভালবাসেন তখন জিব্রাঈলকে (আ.) বলেন, ও আমার প্রিয় ব্যক্তি, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাসো। জিব্রাঈল (আ.) তখন তাকে ভালোবাসতে থাকেন ও আসমানে ঘোষণা করে দেন যে, অমুক আল্লাহর প্রিয় বান্দা কাজেই তোমরা তাকে ভালোবাসতে থাক, তখন আসমানের বাসিন্দারা তাকে ভালোবাসতে থাকেন। অতঃপর জমিনবাসীর অন্তরে তার মহব্বত ঢেলে দেয়া হয় এবং সাধারণ নিয়মের ঊর্ধ্বে কাছে ও দূরের সবাই এমনকি সমুদ্রের বাসিন্দা ও নিবিড় জঙ্গলের বাসিন্দা পর্যন্তও তাকে ভালোবাসতে থাকে ও তার জন্য দোয়া করতে থাকে।
কুরআন মজিদে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা আমার ভালোবাসা পেতে হলে নবী করিম (স.) এর অনুসরণ কর।’
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত মুসলিম শরীফের এক হাদিসে বলা হয়েছে, যারা রমজানের চাঁদের প্রথম তারিখ থেকে শেষদিন পর্যন্ত রোজা রেখেছে তারা সে দিনের মতই নিষ্পাপ হয়ে যাবে, যেদিন তাদের মাতা তাদেরকে নিষ্পাপরূপে জন্ম দিয়েছিলেন। অর্থাৎ মাতৃগর্ভ থেকে মানুষ যেভাবে নিষ্পাপ অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয় রমজানের ৩০ দিন রোজা পালন করলে সে তেমন নিষ্কলুষ হয়ে যাবে।’


ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png