শিরোনাম
Loading latest headlines...

শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০

বিনা অজুতে কোরআনের আয়াত স্পর্শ করা যাবে কি?

শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

প্রশ্ন : আমরা জানি যে, ওজু ছাড়া কোরআন শরিফ স্পর্শ করা জায়েজ নেই। কিন্তু জানার বিষয় হলোÑ পৃথক আয়াত কিংবা তাফসির এবং সিরাতের মতো কিতাবাদির ক্ষেত্রে এ হুকুম প্রজোয্য হবে কি না?
মো. আবদুল্লাহ, টাঙ্গাইল

উত্তর : পুরো কোরআন শরিফ যেমন ওজু ছাড়া স্পর্শ করা জায়েজ নেই, তেমিন পূর্ণ এক আয়াতও ওজু ছাড়া স্পর্শ করা জায়েজ নেই। তবে, পূর্ণ এক আয়াত না হয়ে আয়াতের অংশবিশেষ হলে ওজু ছাড়া স্পর্শ করা জায়েজ আছে। তদুপরি তাও ওজু অবস্থায় স্পর্শ করা উত্তম। আর তাফসিরের কিতাবে আয়াতের পরিমাণ বেশি ও তাফসিরের পরিমাণ কম হলে তা ওজু ছাড়া স্পর্শ করা মাকরুহ।

তবে যদি তাফসির বেশি হয়, আয়াত কম হয় তাহলে ওজু ছাড়া স্পর্শ করা জায়েজ। অবশ্য, যে স্থানে আয়াত লেখা থাকবে তা ওজু ছাড়া স্পর্শ করা যাবে না। আর সিরাত বা অন্যান্য কিতাবাদি ওজু ছাড়া স্পর্শ করা যাবে। তবে সে কিতাবে কোরআনের আয়াত থাকলে আয়াতের ওপর ওজু ছাড়া হাত লাগানো জায়েজ হবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/৩২০; তাহতাবি : ১৪৩-১৪৪)।

উত্তর দিয়েছেন- মুফতি হিফজুর রহমান, প্রধান মুফতি, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, ঢাকা
সংগ্রহ-অনলাইন ডেস্ক


কুরআনে বর্ণিত তাওবার বিস্ময়কর উপকারিতা

শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
কুরআনে বর্ণিত তাওবার বিস্ময়কর উপকারিতা
মুফতি মুহাম্মদ ইমদাদুল্লাহ

فوائد التوبة الغالية من القرآن الكريم
আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র কালাম কুরআন মজিদকে তাওবা ও ইস্তেগফারের আলোচনায় পূর্ণ করে রেখেছেন। বহু সূরা ও আয়াতে তিনি বারংবার এর কথা উল্লেখ করেছেন। পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণ কিভাবে তাঁদের উম্মতকে দরদমাখা কণ্ঠে তাওবার দাওয়াত দিয়েছেন তা-ও বর্ণনা করেছেন। তাওবার ফায়দা ও উপকারিতা এবং তাওবা না করার ক্ষতি ও অপকারিতার কথাও বিশদভাবে তুলে ধরেছেন।

তাওবা আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক নবায়ন করে এবং সুদৃঢ় করে। এর মাধ্যমে বান্দা রবের কাছে তার দীনতা হীনতা এবং মুখাপেক্ষিতার স্বীকারোক্তি দান করে। ফলে সে আল্লাহর অফুরন্ত ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি লাভ করে। যার দ্বারা সে ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ ও সফলতার হক্বদার হয়।

‘তাওবা’ শব্দটি আরবি। শাব্দিক অর্থ ফিরে আসা, প্রত্যাবর্তন করা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় তাওবা বলা হয়, কোনো পাপকাজ করে ফেললে আল্লাহর ভয়ে তা পরিহার করা। এরপর অনুতপ্তচিত্তে ভবিষ্যতে তা না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা এবং সংশোধিত জীবনে ফিরে আসা।

আমাদের মনে রাখতে হবে, তাওবা দ্বারা শুধু বান্দার গুনাহই মাফ হয় না; বরং কুরআন ও হাদীসে তাওবার বিস্ময়কর আরো অনেক ফায়দা ও উপকারিতার কথা উল্লেখিত হয়েছে। এখানে শুধু কুরআনে বর্ণিত তাওবার কিছু ফায়দা ও উপকারিতা উল্লেখ করছি।

১. তাওবা দ্বারা গুনাহ মাফ হয়:
গুনাহের একমাত্র প্রতিকার হচ্ছে, তাওবা ও ইস্তেগফার। মানুষ যত গুনাহই করুক না কেন, সঠিক পন্থায় তাওবা করলে আল্লাহ তাআলা তার সব গুনাহই মাফ করবেন। আল্লাহ তাআলা স্বয়ং কুরআন মাজিদে ইরশাদ করেছেন-

قُلۡ يَٰعِبَادِيَ ٱلَّذِينَ أَسۡرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ لَا تَقۡنَطُواْ مِن رَّحۡمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ

‘আপনি বলে দিন, [আল্লাহ বলেন] হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ; আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ [সূরা যুমার: ৫৩]

২. তাওবা দ্বারা আল্লাহর ভালোবাসা লাভ হয়:
তাওবা দ্বারা আল্লাহর সঙ্গে বান্দার মহব্বত ও ভালোবাসার সম্পর্ক কায়েম হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন-

إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلتَّوَّٰبِينَ وَيُحِبُّ ٱلۡمُتَطَهِّرِينَ

‘নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালবাসেন এবং তাদেরকেও ভালবাসেন যারা পবিত্র থাকে।’
[সূরা বাক্বারা: ২২২]

৩. তাওবা দ্বারা সফলতা লাভ হয়:

তাওবার মাধ্যমে মানুষ ইহকাল ও পরকালের সফলতা অর্জন করে। আল্লাহ তা’আলা বলেন-

وَتُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ

‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ [সূরা নূর: ৩১]

৪. গুনাহগুলো নেকী দ্বারা পরিবর্তিত হয়:
গুনাহ করার পর বান্দা যখন নিজের অপরাধ বুঝতে পেরে সত্যিকার তাওবা করে তখন আল্লাহ তা’আলা শুধু তার সেই গুনাহকেই ক্ষমা করেন না; বরং তার গুনাহকে নেকী দ্বারা পরিবর্তন করে দেন। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-

إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلٗا صَٰلِحٗا فَأُوْلَٰٓئِكَ يُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَيِّ‍َٔاتِهِمۡ حَسَنَٰتٖۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورٗا رَّحِيمٗا

‘তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, ফলে আল্লাহ্ তাদের গুণাহসমূহ নেকি দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। আর আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ [সূরা ফুরকান: ৭০]
 
৫. তাওবা দ্বারা জান্নাত লাভ হয়:
তাওবা জান্নাত লাভের একটি বিরাট মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা তাওবার বিনিময়ে জান্নাত দান করার ওয়াদা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে-

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ تُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ تَوۡبَةٗ نَّصُوحًا عَسَىٰ رَبُّكُمۡ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمۡ سَيِّ‍َٔاتِكُمۡ وَيُدۡخِلَكُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, খাঁটি তাওবা; আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করে দিবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত।’ [সূরা তাহরীম: ৮]
 
৬. দুনিয়াতে উত্তম জীবনোপকরণ লাভ হয়:
আল্লাহ তা’আলা তাওবাকারীকে দুনিয়াতেই নগদ পুরষ্কার স্বরূপ জীবন ধারণের উত্তম উপায় উপকরণ দান করবেন। ইরশাদ হয়েছে-

وَأَنِ ٱسۡتَغۡفِرُواْ رَبَّكُمۡ ثُمَّ تُوبُوٓاْ إِلَيۡهِ يُمَتِّعۡكُم مَّتَٰعًا حَسَنًا إِلَىٰٓ أَجَلٖ مُّسَمّٗى وَيُؤۡتِ كُلَّ ذِي فَضۡلٖ فَضۡلَهُ

‘আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও। তারপর তার কাছে তাওবা কর (ফিরে যাও), তাহলে তিনি তোমাদেরকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উত্তম ভোগ-উপকরণ দান করবেন। এবং তিনি প্রত্যেক গুণীজনকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দান করবেন।’[সূরা হূদ: ৩]
 
৭. প্রয়োজনের সময় বৃষ্টি ও শক্তি বৃদ্ধি হয়:
তাওবার অসীলায় আল্লাহ তা’আলা প্রয়োজনের সময় বৃষ্টি দান করেন এবং ঈমান আমল ও দুনিয়াবি কাজের শক্তিও বৃদ্ধি করে দেন। হযরত হুদ আ. এর ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, হুদ তার সম্প্রদায়ের লোকদের উদ্দেশ্যে বলেছিল-

وَيَٰقَوۡمِ ٱسۡتَغۡفِرُواْ رَبَّكُمۡ ثُمَّ تُوبُوٓاْ إِلَيۡهِ يُرۡسِلِ ٱلسَّمَآءَ عَلَيۡكُم مِّدۡرَارٗا وَيَزِدۡكُمۡ قُوَّةً إِلَىٰ قُوَّتِكُمۡ

‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও অতঃপর তার কাছে তাওবা কর, তাহলে তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি প্রেরণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির সাথে আরো শক্তি বৃদ্ধি করবেন।’ [সূরা হূদ: ৫২]
 
৮. তাওবা দ্বারা দু’আ কবুল হয়:
বান্দার তাওবার অসীলায় আল্লাহ তা’আলা তার দু’আ কবুল করেন। হযরত সালেহ আ. এর ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, সালেহ তার সম্প্রদায়ের লোকদের বলেছিল-

يَٰقَوۡمِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مَا لَكُم مِّنۡ إِلَٰهٍ غَيۡرُهُۥۖ هُوَ أَنشَأَكُم مِّنَ ٱلۡأَرۡضِ وَٱسۡتَعۡمَرَكُمۡ فِيهَا فَٱسۡتَغۡفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوٓاْ إِلَيۡهِۚ إِنَّ رَبِّي قَرِيبٞ مُّجِيبٞ
‘হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো (সত্য) মাবুদ নেই। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে এবং সেখানে তোমাদের জন্য আবাদের ব্যবস্থা করেছেন। সুতরাং তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাও, অতঃপর তাঁরই কাছে তাওবা কর। নিশ্চয় আমার রব অতি নিকটে এবং(বান্দার আহ্বানে) সাড়া দানকারী।’ [সূরা হূদ: ৬১]
 
৯. আল্লাহর আজাব ও বালা-মুসিবত দূরীভূত হয়:
তাওবা ও ইস্তেগফারের অসীলায় আল্লাহ তাআলা স্বীয় আজাব ও বালা-মুসিবত দূর করে দেন। ইরশাদ হয়েছে-

وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمۡ وَأَنتَ فِيهِمۡۚ وَمَا كَانَ ٱللَّهُ مُعَذِّبَهُمۡ وَهُمۡ يَسۡتَغۡفِرُونَ

‘আর আল্লাহ এমন নন যে, তাদেরকে আজাব দিবেন এ অবস্থায় যে, তুমি তাদের মাঝে বিদ্যমান এবং আল্লাহ তাদেরকে আজাব দানকারী নন এমতাবস্থায় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করছে।’ [সূরা আনফাল: ৩৩]

১০. পার্থিব ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি লাভ হয়:

তাওবা ও ইস্তেগফারের বরকতে আল্লাহ তা’আলা বান্দার পার্থিব প্রয়োজনাদি পূরণ করেন। তাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে সমৃদ্ধি দান করেন। হযরত নূহ আ. এর ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, নূহ তার সম্প্রদায়ের লোকদের বলেছিল-

اسۡتَغۡفِرُوۡا رَبَّکُمۡ ؕ اِنَّہٗ کَانَ غَفَّارًا. یُّرۡسِلِ السَّمَآءَ عَلَیۡکُمۡ مِّدۡرَارًا. وَّ یُمۡدِدۡکُمۡ بِاَمۡوَالٍ وَّ بَنِیۡنَ وَ یَجۡعَلۡ لَّکُمۡ جَنّٰتٍ وَّ یَجۡعَلۡ لَّکُمۡ اَنۡہٰرًا

‘তোমরা তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন। এবং তোমাদেরকে সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে। আর তোমাদের জন্য স্থাপন করবেন উদ্যান ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।’
[সূরা নূহ: ১০-১২]

১১. পেরেশানি ও বিপদ থেকে মুক্তি মেলে:

তাওবা ও ইস্তেগফার দ্বারা পেরেশানি দূর হয়, বিপদ থেকে মুক্ত লাভ হয় এবং রিযিক বৃদ্ধি পায়। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ

‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার (আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা) করবে, আল্লাহ তাকে প্রত্যেক বিপদ হতে মুক্তির ব্যবস্থা করবেন, সকল দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত করবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক্ব দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।’
[সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ১৫১৮]

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে নিয়মিত তাওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে সমূহ কল্যাণ লাভ করার এবং পাকসাফ জিন্দেগী বানানোর তাওফিক দান করুন।


লেখক, ফতোয়া বিভাগ
জামেয়া হাকিমুল উম্মত, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।


বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০

বেহেশতী জেওর - ভলিয়ম-০৩ (৮ম, ৯ম, ১০ম খন্ড)

বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

বেহেশতী জেওর বইয়ের বঙ্গানুবাদের প্রচ্ছদ
লেখক    মাওলানা আশরাফ আলী থানভী
অনুবাদক    মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)
দেশ    ভারত
ভাষা    উর্দু ভাষা
বিষয়    মাসয়ালা-মাসাইল
ধরন    ইসলামী বই
মিডিয়া ধরন    মুদ্রিত (হার্ডকভার)
পৃষ্ঠাসংখ্যা    ৫৫২ (১ থেকে ১১ খণ্ড)

বেহেশতী জেওর (উর্দু:

পুনর্নির্দেশ টেমপ্লেট:লিপি/নাস্তালিক‎‎"বেহেস্তি বা স্বর্গোদ্যানীয় অলঙ্কার") একটি বহুল পরিচিত ইসলামী বই। বইটির লেখক আশরাফ আলী থানভী। বইটি ফিকহ, ইসলামী অনুষ্ঠান ও নৈতিকতার একটি নির্দেশিকা। বইটি ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ বর্ণনা করে এবং অস্পষ্ট নীতিগুলি তুলে ধরে।

পরিচ্ছেদসমূহ
১    বিবরণ
২    অধ্যায়
৩    সংকলক নিয়ে বিতর্ক
৪    আরো দেখুন
৫    তথ্যসূত্র
৬    বহিঃসংযোগ
বিবরণ
দেশের প্রায় প্রতিটি মহিলা কওমি মাদ্রাসায় এ বই পড়ানো হয়। এটি মূলত উর্দু ভাষার বই। বাংলা অনুবাদ করেছেন মাওলানা শামছুল হক (রহ.) ফরিদপুরী। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে বেহেশতী জেওর বেশ জনপ্রিয় বই। মুসলিমদের ঘরে ঘরে এ বই বিদ্যমান। এটি মূলত মাসয়ালা-বিষয়ক বই। বাংলা সহ বেশ কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।[১][২]

অধ্যায়
আটটি অধ্যায়ে বইটিকে ভাগ করা হয়েছে:
"সত্য ঘটনা"
"বিশ্বাস"
"ভুল বিশ্বাস এবং কর্ম"
" সালাত ও তার গুণাবলী"
" রোযা, জাকাত, কুরবানী, হজ, শপথ, ধর্মত্যাগ, হালাল ও হারাম ইত্যাদি।"
"বিবাহ, তালাক, 'ইদদাহ, ভরপোষণ, কর্তৃত্ব, জীবিকার অধিকার এবং কুরআন মজীদ পড়া"
"ব্যবসা নীতি এবং সম্পদ খোঁজা"
"শিষ্টাচার, অন্তর কাজের নৈতিক সংস্কার এবং তার প্রতিফল, এবং কেয়ামতের চিহ্ন"
"বিশুদ্ধ নারীদের জীবন"
"স্বাস্থ্য বিষয়ক এবং শিষ্টাচার
সংকলক নিয়ে বিতর্ক
কথিত আছে আশরাফ আলী থানভী নামে ব্যাপক প্রচলন হলেও বইটির আসল সংকলক তিনি নন। “আহমদ আলী” নামে একজন আলেম এ বইয়ের আসল সংকলক। কিন্তু সংকলক হিসেবে আশরাফ আলী থানবীর নামে ভুলে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।[৩][৪] বইটির শেষে কিছু তাবিজ ও বিভিন্ন চিকিৎসার কথা লেখা আছে। এসব বিষয়ে কিছুটা বিতর্ক ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়।[৩][৪]


বেহেশতী জেওর - ভলিয়ম-০২ (৪র্থ , ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম খন্ড)

বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
বেহেশতী জেওর বইয়ের বঙ্গানুবাদের প্রচ্ছদবেহেশতী জেওর - ভলিয়ম-০২ (৪র্থ , ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম খন্ড)
লেখক    মাওলানা আশরাফ আলী থানভী
অনুবাদক    মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)
দেশ    ভারত
ভাষা    উর্দু ভাষা
বিষয়    মাসয়ালা-মাসাইল
ধরন    ইসলামী বই
মিডিয়া ধরন    মুদ্রিত (হার্ডকভার)
পৃষ্ঠাসংখ্যা    ৫৫২ (১ থেকে ১১ খণ্ড)

বেহেশতী জেওর (উর্দু:

পুনর্নির্দেশ টেমপ্লেট:লিপি/নাস্তালিক‎‎"বেহেস্তি বা স্বর্গোদ্যানীয় অলঙ্কার") একটি বহুল পরিচিত ইসলামী বই। বইটির লেখক আশরাফ আলী থানভী। বইটি ফিকহ, ইসলামী অনুষ্ঠান ও নৈতিকতার একটি নির্দেশিকা। বইটি ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ বর্ণনা করে এবং অস্পষ্ট নীতিগুলি তুলে ধরে।

পরিচ্ছেদসমূহ
১    বিবরণ
২    অধ্যায়
৩    সংকলক নিয়ে বিতর্ক
৪    আরো দেখুন
৫    তথ্যসূত্র
৬    বহিঃসংযোগ
বিবরণ
দেশের প্রায় প্রতিটি মহিলা কওমি মাদ্রাসায় এ বই পড়ানো হয়। এটি মূলত উর্দু ভাষার বই। বাংলা অনুবাদ করেছেন মাওলানা শামছুল হক (রহ.) ফরিদপুরী। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে বেহেশতী জেওর বেশ জনপ্রিয় বই। মুসলিমদের ঘরে ঘরে এ বই বিদ্যমান। এটি মূলত মাসয়ালা-বিষয়ক বই। বাংলা সহ বেশ কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।[১][২]

অধ্যায়
আটটি অধ্যায়ে বইটিকে ভাগ করা হয়েছে:

"সত্য ঘটনা"
"বিশ্বাস"
"ভুল বিশ্বাস এবং কর্ম"
" সালাত ও তার গুণাবলী"
" রোযা, জাকাত, কুরবানী, হজ, শপথ, ধর্মত্যাগ, হালাল ও হারাম ইত্যাদি।"
"বিবাহ, তালাক, 'ইদদাহ, ভরপোষণ, কর্তৃত্ব, জীবিকার অধিকার এবং কুরআন মজীদ পড়া"
"ব্যবসা নীতি এবং সম্পদ খোঁজা"
"শিষ্টাচার, অন্তর কাজের নৈতিক সংস্কার এবং তার প্রতিফল, এবং কেয়ামতের চিহ্ন"
"বিশুদ্ধ নারীদের জীবন"
"স্বাস্থ্য বিষয়ক এবং শিষ্টাচার
সংকলক নিয়ে বিতর্ক
কথিত আছে আশরাফ আলী থানভী নামে ব্যাপক প্রচলন হলেও বইটির আসল সংকলক তিনি নন। “আহমদ আলী” নামে একজন আলেম এ বইয়ের আসল সংকলক। কিন্তু সংকলক হিসেবে আশরাফ আলী থানবীর নামে ভুলে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।[৩][৪] বইটির শেষে কিছু তাবিজ ও বিভিন্ন চিকিৎসার কথা লেখা আছে। এসব বিষয়ে কিছুটা বিতর্ক ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়।[৩][৪]


বেহেশতী জেওর - ভলিয়ম-০১ (১ম,২য়,৩য় খন্ড)

বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২০ 2
বার দেখা হয়েছে

বেহেশতী জেওর (উর্দু:
পুনর্নির্দেশ টেমপ্লেট:লিপি/নাস্তালিক‎‎"বেহেস্তি বা স্বর্গোদ্যানীয় অলঙ্কার") একটি বহুল পরিচিত ইসলামী বই। বইটির লেখক আশরাফ আলী থানভী। বইটি ফিকহ, ইসলামী অনুষ্ঠান ও নৈতিকতার একটি নির্দেশিকা। বইটি ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ বর্ণনা করে এবং অস্পষ্ট নীতিগুলি তুলে ধরে।

পরিচ্ছেদসমূহ
১    বিবরণ
২    অধ্যায়
৩    সংকলক নিয়ে বিতর্ক
৪    আরো দেখুন
৫    তথ্যসূত্র
৬    বহিঃসংযোগ
বিবরণ
দেশের প্রায় প্রতিটি মহিলা কওমি মাদ্রাসায় এ বই পড়ানো হয়। এটি মূলত উর্দু ভাষার বই। বাংলা অনুবাদ করেছেন মাওলানা শামছুল হক (রহ.) ফরিদপুরী। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে বেহেশতী জেওর বেশ জনপ্রিয় বই। মুসলিমদের ঘরে ঘরে এ বই বিদ্যমান। এটি মূলত মাসয়ালা-বিষয়ক বই। বাংলা সহ বেশ কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।[১][২]

অধ্যায়
আটটি অধ্যায়ে বইটিকে ভাগ করা হয়েছে:

"সত্য ঘটনা"
"বিশ্বাস"
"ভুল বিশ্বাস এবং কর্ম"
" সালাত ও তার গুণাবলী"
" রোযা, জাকাত, কুরবানী, হজ, শপথ, ধর্মত্যাগ, হালাল ও হারাম ইত্যাদি।"
"বিবাহ, তালাক, 'ইদদাহ, ভরপোষণ, কর্তৃত্ব, জীবিকার অধিকার এবং কুরআন মজীদ পড়া"
"ব্যবসা নীতি এবং সম্পদ খোঁজা"
"শিষ্টাচার, অন্তর কাজের নৈতিক সংস্কার এবং তার প্রতিফল, এবং কেয়ামতের চিহ্ন"
"বিশুদ্ধ নারীদের জীবন"
"স্বাস্থ্য বিষয়ক এবং শিষ্টাচার
সংকলক নিয়ে বিতর্ক
কথিত আছে আশরাফ আলী থানভী নামে ব্যাপক প্রচলন হলেও বইটির আসল সংকলক তিনি নন। “আহমদ আলী” নামে একজন আলেম এ বইয়ের আসল সংকলক। কিন্তু সংকলক হিসেবে আশরাফ আলী থানবীর নামে ভুলে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।[৩][৪] বইটির শেষে কিছু তাবিজ ও বিভিন্ন চিকিৎসার কথা লেখা আছে। এসব বিষয়ে কিছুটা বিতর্ক ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়।[৩][৪]



প্রশ্ন: কোরবানী বলতে কী বুঝায়? কোরবানী করা কি ওয়াজিব না সুন্নত?

বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
আলহামদুলিল্লাহ।
কোরবানী:
ঈদুল আযহার দিনগুলোতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে আনআম শ্রেণীর (উট, গরু, ভেড়া বা ছাগল) প্রাণী জবাই করা।
কোরবানী ইসলামের একটি নিদর্শন। কোরবানীর বিধান আল্লাহর কিতাব, রাসূলের সুন্নাহ ও মুসলমানদের ইজমা দ্বারা সাব্যস্ত।

কিতাব:
১। আল্লাহ তাআলা বলেন: “কাজেই আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামায আদায় করুন এবং কুরবানী করুন”[সূরা কাউছার, আয়াত: ২]

২। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: “বলুন, আমার সালাত, আমার নুসুক (কুরবানী), আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ্‌রই জন্য”[সূরা আনআম, আয়াত: ১৬২] সাঈদ বিন যুবায়ের বলেন: নুসুক হচ্ছে- কুরবানী। কারো কারো মতে, নুসুক সকল ইবাদতকেই বুঝায়; এর মধ্যে কুরবানীও অন্তর্ভুক্ত। শেষোক্ত তাফসিরটি ব্যাপকতর।

৩। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর আমরা প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য ‘মানসাক’ এর নিয়ম করে দিয়েছি; যাতে তিনি তাদেরকে জীবনোপকরণস্বরূপ যেসব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন, সেসবের উপর তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। তোমাদেরর ইলাহ্‌ এক ইলাহ্‌, কাজেই তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণ কর এবং সুসংবাদ দিন বিনীতদেরকে।”[সূরা হাজ্জ, আয়াত: ৩৪]

সুন্নাহ:
১। সহিহ বুখারী (৫৫৫৮) ও সহিহ মুসলিমে (১৯৬৬) আনাস বিন মালেক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে এসেছে- “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদাকালো রঙের দুইটি মেষ দিয়ে কোরবানী দিয়েছেন। তিনি মেষের পাঁজরের উপর পা রেখে বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলে নিজ হাতে জবাই করেছেন।”

২। আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দশবছর মদিনাতে ছিলেন ও কোরবানী দিয়েছেন।”[মুসনাদে আহমাদ (৪৯৩৫), সুনানে তিরমিযি (১৫০৭), আলবানী ‘মিশকাতুল মাসাবীহ’ গ্রন্থে হাদিসটিকে ‘হাসান’ আখ্যায়িত করেছেন]

৩। উকবা বিন আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মাঝে কুরবানীর পশু বিতরণ করছিলেন। উকবার ভাগে একটি জিযআ (ছয় মাস বয়সী ভেড়া) পড়ল। উকবা বললেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি একটি জিযআ পেয়েছি। তিনি বললেন: এটি দিয়ে কোরবানী কর।”[সহিহ বুখারী (৫৫৪৭)]

৪। বারা বিন আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি (ঈদের) নামাযের পর জবাই করল তার নুসুক (ইবাদত) পূর্ণ হয়েছে এবং সে মুসলমানদের আদর্শ অনুসরণ করল।”[সহিহ বুখারী (৫৫৪৫)]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে কোরবানী করেছেন, তাঁর সাহাবীবর্গ কোরবানী করেছেন এবং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, কোরবানী করা মুসলমানদের আদর্শ।

তাই মুসলিম উম্মাহ ইজমা করেছে যে, কোরবানী শরয়ি বিধান। একাধিক আলেম এই ইজমা উদ্ধৃত করেছেন।
তবে, আলেমগণ কোরবানীর হুকুম নিয়ে মতভেদ করেন; কোরবানী করা কি ওয়াজিব নাকি সুন্নত?

জমহুর আলেমের মতে, কোরবানী করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এটি ইমাম শাফেয়ির মাযহাব এবং প্রসিদ্ধ বর্ণনানুযায়ী ইমাম মালেক ও ইমাম আহমাদের মাযহাব।

অপর একদল আলেমের মতে, কোরবানী করা ওয়াজিব। এটি ইমাম আবু হানিফার মাযহাব এবং এক বর্ণনাতে ইমাম আহমাদের মত হিসেবেও উল্লেখ আছে। ইবনে তাইমিয়া এই মতটিকে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন: এ মতটি ইমাম মালেকের মাযহাবের দুইটি অভিমতের একটি কিংবা তাঁর মাযহাবের সুস্পষ্ট অভিমত এটাই।[শাইখ উছাইমীনের ‘আহকামুল উদহিয়্যাহ ওয়ায যাকাত’ পুস্তিকা থেকে সমাপ্ত]

শাইখ মুহাম্মদ বিন উছাইমীন বলেন: “সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কোরবানী করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। অতএব, প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের পক্ষ থেকে ও পরিবারের পক্ষ থেকে কোরবানী দিবে।[ফাতাওয়াস শাইখ ইবনে উছাইমীন (২/৬৬১)]
আল্লাহই ভাল জানেন



বুধবার, ১০ জুন, ২০২০

রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থভাবে সিয়াম সাধনা করব কিভাবে?

বুধবার, জুন ১০, ২০২০ 1
বার দেখা হয়েছে

চলছে পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস। রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি। এটি অবশ্যই একজন সুস্থ মুসলিম মানুষের জন্য ফরয কিন্তু অসুস্থ এবং ভ্রমণরত মানুষের জন্য এটি আবশ্যক নয়। তথাপি কিছু শারীরিক নিয়মাবলী মেনে স্থিতিশীল অসুস্থ ব্যক্তিরা ও রোজা রাখতে পারেন। তবে গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য রোজা না রাখাই উত্তম।কারণ, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের উচিৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সে অনুযায়ী রোজা রাখা। দীর্ঘমেয়াদী রোগের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা, লিভার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীরা কিছু বিশেষ স্বাস্থ্য পরামর্শ মেনে চললে সুস্থভাবে রোজা রাখতে পারবেন। এক্ষেত্রে  বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হল-

ডায়াবেটিস
রোজা রাখার ফলে এটি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, রক্তে চর্বির পরিমাণ কমে যাওয়া, খাদ্যনালী ও পাকস্থলীকে বিশ্রাম দেয়াসহ আরও অনেক উপকার করে। রোজা রাখার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খালি ও ভরা পেটে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাপ, লিপিড প্রোফাইল, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, লিভার ফাংশন ইত্যাদি পরীক্ষা করে যদি রিপোর্ট স্বাভাবিক আসে তবে নিয়ন্ত্রিত খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং জীবনযাপনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগীও রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থভাবে এবং নির্বিঘ্নে রোজা রাখতে পারবেন। এক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন তা হল-
  • ভাজা পোড়া খাবার ও চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।
  • প্রচুর পরিমাণ পানি পান করা।
  • পরিমাণ মত নিয়ন্ত্রিত ডায়েট মেনে চলুন।
  • শাকসবজি, ফলমূল এবং আঁশযুক্ত  খাবার খাবেন।
ইনসুলিন ও ঔষধের মাত্রা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে ইফতার ও সেহরির মাঝামাঝি সময়ে নিয়মিত পথ্য গ্রহণ করুন। যেহেতু এখন কোভিড-১৯ মহামারী চলছে এবং তারা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে তাই, এ সময় একেবারেই ঘরের বাইরে বের হওয়া উচিৎ হবে না, তবে ঘরেই হালকা শরীর চর্চা করতে হবে। 

হৃদরোগ
যেসব রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল অর্থাৎ বারবার ওষুধ খেতে হয় না, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট নেই তারা রোজা করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে কিছু ব্যপারে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে-

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খাবার সময় এবং ডোজ পরিবর্তন করতে হবে।
ধূমপান সর্বদাই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। রোজার বিধিনিষেধ মানার জন্য হলেও ধূমপান ত্যাগ করতে হবে।
নিয়মিত রোজা রাখার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
অবশ্যই ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার, চিনিযুক্ত খাবার বর্জন করে সহজপাচ্য, আঁশ জাতীয় খাবার, শাকসবজি, ফলমূল খেতে হবে। বিশেষ করে পানি খেতে হবে প্রচুর। এতে আপনার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্ত চাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। 
গ্যাস্ট্রিক জনিত সমস্যা
রমজানে একটি দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তা বেড়ে যেতে পারে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত খাবার দাবারে অবশ্যই সহজপাচ্য, আঁশ জাতীয় খাবার, শাকসবজি, ফলমূল পানি খেতে হবে এবং ভাজা পোড়া খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। খাবার তালিকায় অ্যাপেল সিডার ভিনেগার, আনারস, রঙ্গিন শাক সবজি রাখুন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যাদের পেপটিক আলসার, পাকস্থলীর প্রদাহজনিত রোগ, ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি আছে তারা রোজা রাখার মাধ্যমে উপকৃত হন। রোজা রাখার কারণে পাকস্থলীতে এসিড কম তৈরি হয়। নিয়মিত ওষুধ খাবেন এবং ধূমপান, চা, কফি পান ইত্যাদি থেকে বিরত থাকবেন।

নিম্ন রক্তচাপ

যাদের স্বভাবতই রক্তচাপ কম থাকে এবং কোন অসুবিধা অনুভব করেন না তাদের ক্ষেত্রে চিন্তার কিছু নেই। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে হঠাৎ রক্তচাপ বেশি কমে গেলে শারীরিক নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা যায়। রোজায় সবারই উচিৎ হবে একটি ব্যলেন্স ডায়েট নির্বাচন করা। এবং এতে অবশ্যই সঠিক মাত্রায় লবণ ও  বেশি পরিমাণে ফ্লুয়িড থাকতে হবে।

অন্যান্য
রমজানে অনেকেরই মাংসপেশিতে খিচুনি, অবসাদ ইত্যাদির সমস্যা দেখা দেয় তাদের পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এছাড়াও কিডনি ও লিভারের রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখতে হবে এবং ঔষধ সেবন করতে হবে। উপযুক্ত ডায়েট অনুসরণ করে খাবার খেতে হবে।

মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত অসুস্থ ব্যক্তিদের রোজা না রাখাই উত্তম এবং এ ক্ষেত্রে ধর্মেও শিথিলতার বিধান রয়েছে। বৈশ্বিক মহামারীতে ঘরে থাকুন এবং শারীরিক যে কোন সমস্যায় মায়াতে প্রশ্ন করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন অথবা ডিজিটাল সাবসক্রিপশন কিনে ডাক্তারের সাথে সরাসরি কথা বলুন।  সুস্থভাবে এবং নির্বিঘ্নে সিয়াম সাধনা পালনের জন্য মায়া আপনার পাশে রয়েছে। 


রোজা রাখার ৭টি স্বাস্থ্য উপকারিতা - বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বুধবার, জুন ১০, ২০২০ 2
বার দেখা হয়েছে



মূলকথা:
ইনসুলিন রেজিসটেন্স কমিয়ে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে।
রক্তচাপ, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কোলেস্টেরল লেভেল সঠিক রেখে আপনার হৃৎপিণ্ডকে ভাল রাখতে সহায়তা করতে পারে।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলতে এবং নিউরোডিজেনারেটিভ ডিসঅর্ডারগুলি রোধ করতে পারে। ইসলামিক ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে পবিত্র মাস  হিসেবে বিবেচিত হয় রমজান মাস। আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় এসময় মুসলিমরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া, ধূমপান এবং যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেন। 

১,৪০০ বছর আগে মুসলমানদের রমজানে রোজা রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, প্রাচীন গ্রীকরা শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আজকাল কিছু বিশেষজ্ঞ বৈজ্ঞানিকভাবে মানসিক ও শারীরিক উপকারীতা খুঁজে পাওয়ায় মানুষকে রোজা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা এসব বিষয়ে অনেক প্রশ্ন দেখতে পাচ্ছি। মায়ার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মোতাবেক রোজার অনেক উপকারীতার মধ্যে কয়েকটি এখানে তুলে ধরছি-

১। ইনসুলিন রেজিসটেন্স কমিয়ে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ
একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, একটানা রোজা রাখার ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হ্রাস পেয়ে আপনার দেহের ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যায় , ফলে এটি আপনার রক্ত ​​প্রবাহ থেকে আপনার কোষে আরও দক্ষতার সাথে গ্লুকোজ স্থানান্তর করতে সহায়তা করে।

২। ওজন নিয়ন্ত্রণ
রোজা ওজন হ্রাস করার একটি নিরাপদ উপায় হতে পারে কারণ অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে বিরতিহীন রোজা – উপবাস অন্যান্য স্বাভাবিক ডায়েটিং এর চেয়ে শরীরের চর্বি পোড়াতে আরও বেশী কার্যকর।একটানা না খেয়ে থাকার ফলে দেহ শর্করার পরিবর্তে শক্তির প্রাথমিক উৎস হিসাবে চর্বিকে ব্যবহার করে।

৩। রোজা বিপাকীয় শক্তি বাড়ায়
রোজা আপনার পাচনতন্ত্রকে বিশ্রাম দেয় এবং এর ফলে এটি আরও কার্যকরভাবে ক্যালরি পোড়াতে সহায়তা করে। যদি আপনার হজম শক্তি দুর্বল হয়, তবে এটি খাদ্য বিপাকে এবং চর্বি পোড়াতে আপনার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। একটানা না খেয়ে থাকার ফলে আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, আপনার পরিপাকতন্ত্র ভালভাবে কাজ করে এবং এভাবে আপনার বিপাকীয় শক্তিও বেড়ে যায়।

৪। রোজা ক্ষুধামন্দা রোধ করেঃ
একবার ভাবুনতো! আপনি যদি প্রতি ২-৪ ঘণ্টা পরপর খাবার খান তাহলে সত্যিকার অর্থে আপনার ক্ষুধা লাগবে কিভাবে?

রোজায় অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে আপনার শরীরে কিছু হরমোন নিঃসরণ হয় যা আপনাকে সত্যিকার ক্ষুধা অনুভব করতে সহায়তা করে। অতিরিক্ত মোটা যারা তারা খাওয়ার পরও অনেকসময় বুঝতে পারে না তাদের পেট ভর্তি হয়েছে নাকি।

রোজা রাখার ফলে শরীরের হরমোনগুলো সঠিক মাত্রায় নিঃসরণের ফলে ইফতারের পর আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার পেটভর্তি হয়েছে কিনা।

৫। রোজা আপনার খাদ্যাভাস ঠিক করে

যারা সঠিক খাদ্যাভাসের অভাবে ভুগছেন এবং যারা কাজ এবং অন্যান্য অগ্রাধিকারের কারণে সঠিক খাদ্যাভাস স্থাপন করতে অসুবিধা বোধ করছেন তাদের জন্য রোজা একটি সহায়ক অনুশীলন হতে পারে।

এর মাধ্যমে আপনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর ক্যালরি বুঝে ডায়েট প্লান করে খাবার খেতে পারেন এবং বাকিটা সময় আপনি না খেয়ে থাকবেন। এর ফলে আপনার বাজে খাবার যেমন- ফাস্ট ফুড, স্নাক্স ইত্যাদি খাবার অভ্যাসটাও পরিবর্তিত হয়ে যাবে।

৬। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি
রোজা রাখার ফলে মস্তিষ্ক থেকে নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (বিডিএনএফ) নামক একটি প্রোটিনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

বিডিএনএফ মস্তিষ্কের স্টেম সেলগুলিকে নতুন নিউরনে রূপান্তরিত করে সক্রিয় করতে, এবং স্নায়ুস্বাস্থ্যের উন্নতি করে এমন আরও অনেক কেমিক্যাল নিঃসরণ করে। এই প্রোটিন আপনার মস্তিষ্কের কোষগুলিকে আলঝাইমার এবং পার্কিনসন রোগের সাথে সম্পর্কিত পরিবর্তনগুলি থেকেও রক্ষা করে। 

৭। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
রোজা রাখার ফলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় কারণ এটি ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ প্রতিরোধ করে, প্রদাহজনিত অসঙ্গতিগুলো দূর করে এবং শরীরে ক্যান্সার কোষ তৈরিতে বাঁধা প্রদান করে। 

রোজা রাখার ফলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রতঙ্গ বিশ্রাম নিতে পারে। ফলে রোগ প্রতিরোধে এরা আরও দ্রুত এন্টিবডি তৈরিতে ভুমিকা রাখে।

এছাড়াও, খালি পেটে এবং সতেজ মস্তিস্কে আপনি আপনার কাজ এবং আশেপাশের পরিবেশে আরও বেশি মনোযোগী হতে পারবেন। আপনি দীর্ঘমেয়াদী কোন রোগে আক্রান্ত থাকলে আমার আগের লেখাটি পড়ে রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে রোজা রাখতে পারেন। এছাড়াও রোজায় সঠিক ডায়েট প্লান এবং শারীরিক ও মানসিক যে কোন সমস্যায় সমাধান পেতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ  নিন । রোজা রাখুন, সুস্থ থাকুন এবং আমাদের সাথেই থাকুন।  
 সংগ্রহ-মায়া 



বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০

তাহাজ্জুদ নামায ন্যুনতম কয় রাকাত? কত রাকাত করে নিয়ত করতে হয়?

বৃহস্পতিবার, জুন ০৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে


প্রশ্নঃ
তাহাজ্জুদ এর নামায কি নুন্যতম চার রাকাত? এই নামাযের নিয়ত চার রাকাত নামাযের নিয়তের মত নাকি দুই রাকাত নামাযের নিয়তের মত করা উচিত? জানালে উপকৃত হবো।

অনেক ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
জাওয়াব
আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আয়েশা রা. কে জিজ্ঞাসা করেন যে, রমযানে নবীজীর নামায কেমন হত? তিনি উত্তরে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে এবং রমযানের বাইরে এগার রাকাতের বেশি পড়তেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না! এরপর আরও চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা তো বলাই বাহুল্য! এরপর তিন রাকাত (বিতর) পড়তেন।–{সহীহ বুখারী ১/১৫৪, হাদীস ১১৪৭; সহীহ মুসলিম ১/২৫৪, হাদীস ৭৩৮; সুনানে নাসায়ী ১/২৪৮, হাদীস ১৬৯৭; সুনানে আবু দাউদ ১/১৮৯, হাদীস ১৩৩৫; মুসনাদে আহমদ ৬/৩৬, হাদীস ২৪০৭৩}

আব্দুল্লাহ ইবনে আবী কাইস বলেন-
قلت لعائشة : بكم كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يوتر؟ قالت: كان يوتر بأربع وثلاث, وست وثلاث, وثمان وثلاث, وعشر وثلاث, ولم يكن يوتر بأنقص من سبع, ولا بأكثر من ثلاث عشرة.

অর্থাৎ আমি হযরত আয়েশা রা.-এর কাছে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবীজী বিতরে কত রাকাত পড়তেন? উত্তরে তিনি বলেন, চার এবং তিন, ছয় এবং তিন, আট এবং তিন, দশ এবং তিন। তিনি বিতরে সাত রাকাতের কম এবং তের রাকাতের অধিক পড়তেন না। -{সুনানে আবু দাউদ ১/১৯৩, হাদীস ১৩৫৭ (১৩৬২); তহাবী শরীফ ১/১৩৯; মুসনাদে আহমদ ৬/১৪৯, হাদীস ২৫১৫৯}

তাহাউল্লেখিত বর্ণনা দ্বারা বুঝা গেল রাসূল সাঃ কখনো তাহাজ্জুদ নামায চার রাকাত পড়তেন, কখনো ছয় রাকাত পড়তেন। কখনো আট রাকাত পড়তেন। কখনো দশ রাকাত পড়তেন।

সুতরাং তাহাজ্জুদের নামায ১০ রাকাত পর্যন্ত পড়া রাসূল সাঃ থেকে আমরা সহীহ হাদীসে পাই। এর চে’বেশি পড়া যাবে না। এমন নয়। যেহেতু এটি নফল নামায তাই যত বেশি পড়া যায় ততই সওয়াব। তাই ইচ্ছেমত পড়া যায়।

সেই সাথে চার রাকাতের কম পড়লে তা তাহাজ্জুদ হবে না, বিষয়টি এমনও নয়। তাই দুই রাকাত পড়লেও তা তাহাজ্জুদ নামায হিসেবেই গণ্য হবে। সময় কম থাকলে দুই রাকাত পড়ে নিলেও তাহাজ্জুদ নামায পড়া হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে।

রাতের এবং দিনের নফল নামাযের নিয়ত চার রাকাত করেও নিয়ত করা যায়, এমনিভাবে দুই রাকাত করেও নিয়ত করা যায়। কোন সমস্যা নেই।

তাই আপনি তাহাজ্জুদ নামাযের নিয়ত চাইলে ২ রাকাতের নিয়ত করে ২ রাকাত ২ রাকাত করে পড়তে পারেন। অথবা ৪ রাকাত ৪ রাকাত নিয়ত করে ৪ রাকাত করে পড়তে পারেন। {ফাতওয়ায়ে শামী-২/৪৫৫, তাবয়ীনুল হাকায়েক-১/১৭২, আল বাহরুর রায়েক-২/৫৩, ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-১১/২৮৭}

——————–
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
——————————–


শাওয়াল মাসের ছয় রোযার বিশেষ ফজীলত ও নিয়ম

বৃহস্পতিবার, জুন ০৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

রামাজানের রোযার পর শাওয়ালের ছয় রোযায় সারা বছরের রোযার ছাওয়াব

রামাজান মাসের পরের মাসের নাম হচ্ছে ‘শাওয়াল’। শাওয়ালের বিশেষ আমল হলো–শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা রাখা। শাওয়াল মাসের ১ তারিখ হচ্ছে ঈদুল ফিতর। সেদিন ঈদ হিসেবে রোযা রাখা যায় না। এর পরদিন থেকে শাওয়ালের সেই ছয় রোযা রাখা যায়। এ রোযাকে “শাওয়ালের ছয় রোযা” বলা হয়।

মাহে রামাজানের ফরজ রোযা পালনের পর শাওয়াল মাসে এ ছয়টি রোযা রাখা নফল বা মুস্তাহাব। তবে এ রোযা রাখা নফল বা মুস্তাহাব হলেও এর ফজীলতকে রামাজানের রোযার সাথে যুক্ত করে এক বছরের রোযার ছাওয়াবের কথা হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এ ছয় রোযার অনন্য ফজীলতের তথা রামাজানের রোযার ন্যায় ফজীলত লাভের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

শাওয়ালের এ ছয় রোযার ফজীলত সম্পর্কে হাদীস শরীফে রয়েছে–
عن أبي أيوب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من صام رمضان ثم أتبعه ستا من شوال كان كصيام الدهر
হযরত আবু আইয়ূব আনসারী (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন–“যে ব্যক্তি রামাজানের রোযা রাখল, অতঃপর তার পিছে পিছে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযা রাখল, তা পূর্ণবছর রোযা রাখার মতো গণ্য হবে। ”

(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬৪/ জামি‘ তিরমিযী, হাদীস নং ৭৫৯/ সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৩৩ প্রভৃতি)

অন্য হাদীসে রয়েছে–
عن ثوبان رضي الله عنه مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من صام ستة أيام بعد الفطر كان تمام السنة من جاء بالحسنة فله عشر أمثالها
হযরত ছাওবান (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাز) ইরশাদ করেন–“যে ব্যক্তি মাহে রামাজানের রোযা শেষ করে (শাওয়াল মাসে) ছয়দিন রোযা রাখবে, তা পুরো বছর রোযা গণ্য হবে। (আল্লাহ তা‘আলা বলেন,) যে ব্যক্তি নেক আমল করবে, তার জন্য সেই আমলের দশগুণ লাভ হবে।”

(মুসনাদে আহমাদ, ৫ম খণ্ড, ২৮০ পৃষ্ঠা/ সুনানে দারিমী, হাদীস নং ১৭)

অপর হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন–
صيام شهر رمضان بعشرة أشهر وصيام ستة أيام بشهرين فذلك صيام السنة
“রামাজানের রোযা ১০ মাসের রোযার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোযা দুই মাসের রোযার সমান। এই হলো এক বছরের রোযা।”

(সুনানে ইবনে মাজাহ)

এ হাদীসসমূহে বর্ণিত উক্ত রামাজান ও শাওয়ালের রোযাসমূহের ছাওয়াব এভাবে নির্ণিত হয় যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সূরাহ আন‘আমের ১৬০ নং আয়াতে ইরশাদ করেছেন–
من جاء بالحسنة فله عشر أمثالها
“যে ব্যক্তি নেক কর্ম করবে, তার জন্য তার দশ সমতুল্য প্রতিদান রয়েছে।”

সে হিসেবে রামাজানের ৩০ রোযায় ৩০০ রোযার বা রামাজানের ১ মাসে ১০ মাসের রোযার ছাওয়াব হয়। আর মাহে শাওয়ালের ছয় রোযায় ৬০ রোযার বা ২ মাসের রোযার ছাওয়াব লাভ হয়। এভাবে (রামাজানের ৩০ রোযা এবং শাওয়ালের ৬ রোযা মোট ৩৬ রোযা দশ দিয়ে গুণ দিলে) ৩৬০ রোযার সমান হয়ে যায়। আর চান্দ্র বর্ষ অনুযায়ী প্রায় ৩৬০ দিনে (বা ৩৫৪ দিনের কিছু বেশী) এক বছর হয়। সুতরাং এর মাধ্যমে পূর্ণ এক বছর রোযা রাখার ছাওয়াব লাভ হয় । অথবা এভাবে হিসাব করা যায় যে, রামাজানের এক মাসের রোযার দ্বাারা দশ মাসের রোযার ছাওয়াব লাভ হয় এবং শাওয়ালের ছয়দিনের রোযার দ্বারা দুই মাসের রোযার ছাওয়াব অর্জিত হয়। এভাবে সেই দুই আমল দ্বারা মোট ১২ মাস বা এক বছরের রোযার ছাওয়াব লাভ হয়।

তবে উল্লেখ্য যে, কেবল মাত্র তারাই শাওয়ালের ৬ রোযার ছাওয়াব পরিপূর্ণভাবে লাভ করবেন তথা রামাজানের রোযার পর শাওয়ালের রোযা রাখার দ্বারা একবছরের রোযার ছাওয়াব লাভ তারাই লাভ করবেন–যারা রামাজানের রোযা সঠিকভাবে পালন করে তারপর শাওয়ালের রোযা রাখবেন। হাদীস শরীফে ثُمَّ أَتْبَعَهُ বলে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাই যে ব্যক্তির রামাজানের রোযার কাজা আছে, তিনি প্রথমে রামাজানের সেই কাজা রোযা আদায় করে নিবেন। তারপর শাওয়ালের ছয় রোযা রাখবেন। তাহলেই উক্ত রোযার পরিপূর্ণ ফজীলত লাভ করবেন। তবে যদি কোন সঙ্গত উজরের কারণে তা সেভাবে আদায় করা সম্ভব না হয়, সেটা ভিন্ন কথা। সেই অবস্থায় শাওয়ালের রোযা এ শাওয়ালের ভিতরে রেখে রামাজানের কাজা রোযা অন্য মাসে রাখতে পারবেন। অবশ্য সেক্ষেত্রে সেই একবছরের রোযার ছাওয়াবের ফজীলত সেই কাজা রোযা আদায় পূর্ণ করার পর লাভ হবে।

শাওয়াল মাসে ঈদুল ফিতরের পরদিন থেকে নিয়ে পুরো মাসে যখন ইচ্ছা সেই ছয়টি নফল রোযা রাখা যায়। তবে উত্তম হল, উক্ত ছয় রোযাকে রামাজানের ঈদের পর পরই রাখা এবং লাগাতারভাবে রাখা। কেননা, এতে বর্ণিত হাদীসের উপর পুরোপুরিভাবে আমল হয়। তবে কেউ যদি রামাজানের ঈদের পর পরই না রেখে আরো পরে সেই রোযা রাখেন এবং ছয় রোযা একসঙ্গে না রেখে কিছুদিন পর পর করে বা পুরো শাওয়াল মাস ভরে রোযাগুলো রাখেন, তাতেও সেই ফজীলত লাভের আশা করা যায়।

মোট কথা, যার যার সুযোগ-সুবিধা মত এক সাথে ছয় রোযা বা আলাদা আলাদা করেও রাখা জায়িয আছে। অর্থাৎ শাওয়ালের ভিতরে ছয়টি রোযা রাখলেই হবে। অবশ্য শাওয়াল মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে, তখন সেই ছয় রোযা রাখলে, তাতে হাদীসে বর্ণিত ফজীলত পুরোপুরি লাভ হবে না। তবে কেউ তখন রাখলে, কুরআনের বর্ণনানুযায়ী প্রতিটি নেক আমলের ১০ গুণ ছাওয়াব হিসেবে ভিন্নভাবে ৬০টি রোযা রাখার ছাওয়াব লাভ হবে।

আর এ হিসেবেই রামাজান ও শাওয়ালের রোযা ছাড়াও প্রতিমাসে তিনদিন তথা চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে (আইয়্যামে বীজ-এর) রোযা রাখার দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে একবছরের রোযার সমান ছাওয়াব লাভ হবে বলে হাদীসে রয়েছে। তেমনিভাবে প্রতি সপ্তাহে দুইদিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখার বিশেষ ফজীলতের বর্ণনা হাদীস শরীফে রয়েছে।



বুধবার, ২০ মে, ২০২০

দোআ -সূরা আল বাকারা: ২০১‍

বুধবার, মে ২০, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াকিনা আযাবান্নার।

অর্থ: হে আমার প্রভু! আমাকে দুনিয়াতে সুখ দান কর, আখেরাতেও সুখ দান কর এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। -সূরা আল বাকারা: ২০১‍




সোমবার, ১৮ মে, ২০২০

কেন রমজানের শেষ দশক অধিক গুরুত্বপূর্ণ?

সোমবার, মে ১৮, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

মিশকাত শরীফের হাদিস আমাদেরকে নিশ্চিত করে, রমজানের তিন দশক তিন ভাগে বিভক্ত: রহমত, মাগফেরাত ও নাজাত। তুলনামূলকভাবে রহমত ও মাগফেরাতের চেয়ে নাজাতের গুরুত্ব বেশি।

বাকি দুই দশকের সাথে নাজাতের পার্থক্য কী? নাজাতের বিশেষত্ব কী? নাজাতের বিশেষত্ব নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। তিনটি পয়েন্টে আমাদের এ আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকবে।

শবে কদরের নেয়ামত প্রাপ্তির সুযোগ
রমজানের শেষ দশক তথা নাজাতের দশ দিন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ববহ হবার প্রধান কারণ শবে কদর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিচ্ছেন, “তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল-কদর তালাশ করো”। (বুখারী শরীফ: ২০২০) আরও স্পষ্ট করেছেন অন্য বর্ণনায়, “তোমরা রমজানের শেষ দশকের বে-জোড় রাতসমূহে লাইলাতুল-কদর তালাশ করো”।

(বুখারী শরীফ: ২০১৭)বুখারী শরীফের বর্ণনার মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের জবান থেকে খোশ-খবর শোনা যায়, “যে ব্যক্তি লাইলাতুল-কদরের রাতে ইমান ও সোয়াবের আশা নিয়ে ইবাদত-বন্দেগী করবে তাঁর অতীতের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে”।

হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, শবে কদরের রাত নির্দিষ্ট নয়; তবে আমরা কীভাবে তালাশ করবো? কবে কদর তালাশ করতে আমাদের শেষ দশকে অধিকতর একনিষ্ঠতার সহিত বিরতিহীনভাবে ইবাদত-বন্দেগী করা জরুরী।

আরও স্পষ্ট করে বললে, রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি বে-জোড় রাত্রিতে আমাদের ইবাদতে লিপ্ত থাকা এক প্রকার আবশ্যক। সেজন্য, শবে কদরের মহা-মর্যাদাবান রাতের পূর্ণ ফযিলত হাসিল করতে আমাদেরকে অবশ্যই রমযানের শেষ দশকে ইবাদত এবং একনিষ্ঠতায় অধিক গুরুত্ব দেওয়া ব্যতীত গত্যান্তর নেই।

শেষ দশকে অধিক ইবাদত করা সুন্নত
রমজানের শেষ দশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য দশকের তুলনায় অধিক পরিমাণে ইবাদত করতেন। একাধিক হাদিস শরীফ থেকে রাসূলে খোদার এ সুন্নত প্রমাণিত। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন:“রমজানের শেষ দশকে প্রিয় নবী যত পরিশ্রম করতেন, অন্য দশকে তা করতেন না” অর্থাৎ, তিন দশকের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি পরিশ্রম করতেন শেষ দশকে, আর তা অবশ্যই ইবাদতের মাধ্যমে।

(মুসলিম শরীফ: ১১৭৫) আম্মাজান আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা অন্য বর্ণনায় ইরশাদ ফরমান: “শেষ দশক আরম্ভ হলে প্রিয় নবী পূর্ণরাত জেগে থাকতেন, পরিবারের সবাইকে ঘুম থেকে ডেকে দিতেন এবং নিজে কোমর-বেঁধে ইবাদতে মগ্ন হতেন”। (বুখারী শরীফ: ২০২৪)

উক্ত দু’টি হাদিস শরীফ থেকে অত্যন্ত প্রকট যে, শেষ দশকে অধিক পরিমাণে ইবাদত করা সুন্নত। আর প্রিয় নবী যা করেছেন তাতে যে বিশেষ মঙ্গল নিহিত আছে এ ব্যাপারে মুসলমান-মাত্রই নিঃসন্দিহান।

আমাদের অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে শেষ দশকে ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত এবং পরিবারের সদস্যদেরকে ও এ সুন্নতের বরকত অর্জনে শামিল করা উচিত।

নাজাতের সওগাত পেতে
রমযানের শেষ দশকে আল্লাহ তায়ালা অধিক পরিমাণে গুনাহগার বান্দাদেরকে ক্ষমা তথা নাজাত দেন বলেই মূলত এ দশকের নামকরণ ‘নাজাত’ হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা তো মাধ্যম বা কারণ ছাড়া কিছু করেন না।

তো এ সূত্রে আমাদেরকে অবশ্যই নাজাত পাবার জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে; রমজানের শেষ দশকে নাজাতী বান্দার পরিমাণ বেশি থাকে বলেই এ দশকে আমাদেরকে বেশি বেশি আল্লাহর ইবাদত করতে হবে এবং কায়মনো বাক্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

আর এ দশকের মধ্য দিয়েই রমজান আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেয়। পরবর্তী এক বছর পূর্বে আর রমজানের দেখা আর আমরা পাইনা। পরবর্তী রমজানে বেঁচে থাকবো কি-না সে নিশ্চয়তাও কারোরই নেই; সব মিলিয়ে রমজানকে বিদায় দেওয়ার দিনগুলোতে রমজানের প্রতি এক ধরনের আপ্লুতকর, মর্মস্পর্শী অনুভূতি আমাদের ধর্মবোধে প্রগাঢ় হয়।

এ প্রগাঢ় মর্মস্পর্শী অনুভূতির দাবিতেই রমজানকে সর্বোচ্চ একনিষ্ঠতাপূর্ণ ইবাদতের মাধ্যমে বিদায় জানানো উচিত। মুসনাদে আহমদের হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে খোশ-খবর দেন, “রমজান কেয়ামতে রোজাদারের জন্য সুপারিশ কারী হবে”। (মুসনাদে আহমদ: ৬৬২৬)। সূত্রঃ চ্যানেল আই। সম্পাদনা র/ভূঁ। ম ১৬০৫/২৫


ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png