শিরোনাম
Loading latest headlines...

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০

বেহেশতী জেওর - ভলিয়ম-০৩ (৮ম, ৯ম, ১০ম খন্ড)

বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

বেহেশতী জেওর বইয়ের বঙ্গানুবাদের প্রচ্ছদ
লেখক    মাওলানা আশরাফ আলী থানভী
অনুবাদক    মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)
দেশ    ভারত
ভাষা    উর্দু ভাষা
বিষয়    মাসয়ালা-মাসাইল
ধরন    ইসলামী বই
মিডিয়া ধরন    মুদ্রিত (হার্ডকভার)
পৃষ্ঠাসংখ্যা    ৫৫২ (১ থেকে ১১ খণ্ড)

বেহেশতী জেওর (উর্দু:

পুনর্নির্দেশ টেমপ্লেট:লিপি/নাস্তালিক‎‎"বেহেস্তি বা স্বর্গোদ্যানীয় অলঙ্কার") একটি বহুল পরিচিত ইসলামী বই। বইটির লেখক আশরাফ আলী থানভী। বইটি ফিকহ, ইসলামী অনুষ্ঠান ও নৈতিকতার একটি নির্দেশিকা। বইটি ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ বর্ণনা করে এবং অস্পষ্ট নীতিগুলি তুলে ধরে।

পরিচ্ছেদসমূহ
১    বিবরণ
২    অধ্যায়
৩    সংকলক নিয়ে বিতর্ক
৪    আরো দেখুন
৫    তথ্যসূত্র
৬    বহিঃসংযোগ
বিবরণ
দেশের প্রায় প্রতিটি মহিলা কওমি মাদ্রাসায় এ বই পড়ানো হয়। এটি মূলত উর্দু ভাষার বই। বাংলা অনুবাদ করেছেন মাওলানা শামছুল হক (রহ.) ফরিদপুরী। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে বেহেশতী জেওর বেশ জনপ্রিয় বই। মুসলিমদের ঘরে ঘরে এ বই বিদ্যমান। এটি মূলত মাসয়ালা-বিষয়ক বই। বাংলা সহ বেশ কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।[১][২]

অধ্যায়
আটটি অধ্যায়ে বইটিকে ভাগ করা হয়েছে:
"সত্য ঘটনা"
"বিশ্বাস"
"ভুল বিশ্বাস এবং কর্ম"
" সালাত ও তার গুণাবলী"
" রোযা, জাকাত, কুরবানী, হজ, শপথ, ধর্মত্যাগ, হালাল ও হারাম ইত্যাদি।"
"বিবাহ, তালাক, 'ইদদাহ, ভরপোষণ, কর্তৃত্ব, জীবিকার অধিকার এবং কুরআন মজীদ পড়া"
"ব্যবসা নীতি এবং সম্পদ খোঁজা"
"শিষ্টাচার, অন্তর কাজের নৈতিক সংস্কার এবং তার প্রতিফল, এবং কেয়ামতের চিহ্ন"
"বিশুদ্ধ নারীদের জীবন"
"স্বাস্থ্য বিষয়ক এবং শিষ্টাচার
সংকলক নিয়ে বিতর্ক
কথিত আছে আশরাফ আলী থানভী নামে ব্যাপক প্রচলন হলেও বইটির আসল সংকলক তিনি নন। “আহমদ আলী” নামে একজন আলেম এ বইয়ের আসল সংকলক। কিন্তু সংকলক হিসেবে আশরাফ আলী থানবীর নামে ভুলে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।[৩][৪] বইটির শেষে কিছু তাবিজ ও বিভিন্ন চিকিৎসার কথা লেখা আছে। এসব বিষয়ে কিছুটা বিতর্ক ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়।[৩][৪]


বেহেশতী জেওর - ভলিয়ম-০২ (৪র্থ , ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম খন্ড)

বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
বেহেশতী জেওর বইয়ের বঙ্গানুবাদের প্রচ্ছদবেহেশতী জেওর - ভলিয়ম-০২ (৪র্থ , ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম খন্ড)
লেখক    মাওলানা আশরাফ আলী থানভী
অনুবাদক    মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)
দেশ    ভারত
ভাষা    উর্দু ভাষা
বিষয়    মাসয়ালা-মাসাইল
ধরন    ইসলামী বই
মিডিয়া ধরন    মুদ্রিত (হার্ডকভার)
পৃষ্ঠাসংখ্যা    ৫৫২ (১ থেকে ১১ খণ্ড)

বেহেশতী জেওর (উর্দু:

পুনর্নির্দেশ টেমপ্লেট:লিপি/নাস্তালিক‎‎"বেহেস্তি বা স্বর্গোদ্যানীয় অলঙ্কার") একটি বহুল পরিচিত ইসলামী বই। বইটির লেখক আশরাফ আলী থানভী। বইটি ফিকহ, ইসলামী অনুষ্ঠান ও নৈতিকতার একটি নির্দেশিকা। বইটি ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ বর্ণনা করে এবং অস্পষ্ট নীতিগুলি তুলে ধরে।

পরিচ্ছেদসমূহ
১    বিবরণ
২    অধ্যায়
৩    সংকলক নিয়ে বিতর্ক
৪    আরো দেখুন
৫    তথ্যসূত্র
৬    বহিঃসংযোগ
বিবরণ
দেশের প্রায় প্রতিটি মহিলা কওমি মাদ্রাসায় এ বই পড়ানো হয়। এটি মূলত উর্দু ভাষার বই। বাংলা অনুবাদ করেছেন মাওলানা শামছুল হক (রহ.) ফরিদপুরী। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে বেহেশতী জেওর বেশ জনপ্রিয় বই। মুসলিমদের ঘরে ঘরে এ বই বিদ্যমান। এটি মূলত মাসয়ালা-বিষয়ক বই। বাংলা সহ বেশ কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।[১][২]

অধ্যায়
আটটি অধ্যায়ে বইটিকে ভাগ করা হয়েছে:

"সত্য ঘটনা"
"বিশ্বাস"
"ভুল বিশ্বাস এবং কর্ম"
" সালাত ও তার গুণাবলী"
" রোযা, জাকাত, কুরবানী, হজ, শপথ, ধর্মত্যাগ, হালাল ও হারাম ইত্যাদি।"
"বিবাহ, তালাক, 'ইদদাহ, ভরপোষণ, কর্তৃত্ব, জীবিকার অধিকার এবং কুরআন মজীদ পড়া"
"ব্যবসা নীতি এবং সম্পদ খোঁজা"
"শিষ্টাচার, অন্তর কাজের নৈতিক সংস্কার এবং তার প্রতিফল, এবং কেয়ামতের চিহ্ন"
"বিশুদ্ধ নারীদের জীবন"
"স্বাস্থ্য বিষয়ক এবং শিষ্টাচার
সংকলক নিয়ে বিতর্ক
কথিত আছে আশরাফ আলী থানভী নামে ব্যাপক প্রচলন হলেও বইটির আসল সংকলক তিনি নন। “আহমদ আলী” নামে একজন আলেম এ বইয়ের আসল সংকলক। কিন্তু সংকলক হিসেবে আশরাফ আলী থানবীর নামে ভুলে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।[৩][৪] বইটির শেষে কিছু তাবিজ ও বিভিন্ন চিকিৎসার কথা লেখা আছে। এসব বিষয়ে কিছুটা বিতর্ক ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়।[৩][৪]


বেহেশতী জেওর - ভলিয়ম-০১ (১ম,২য়,৩য় খন্ড)

বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২০ 2
বার দেখা হয়েছে

বেহেশতী জেওর (উর্দু:
পুনর্নির্দেশ টেমপ্লেট:লিপি/নাস্তালিক‎‎"বেহেস্তি বা স্বর্গোদ্যানীয় অলঙ্কার") একটি বহুল পরিচিত ইসলামী বই। বইটির লেখক আশরাফ আলী থানভী। বইটি ফিকহ, ইসলামী অনুষ্ঠান ও নৈতিকতার একটি নির্দেশিকা। বইটি ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ বর্ণনা করে এবং অস্পষ্ট নীতিগুলি তুলে ধরে।

পরিচ্ছেদসমূহ
১    বিবরণ
২    অধ্যায়
৩    সংকলক নিয়ে বিতর্ক
৪    আরো দেখুন
৫    তথ্যসূত্র
৬    বহিঃসংযোগ
বিবরণ
দেশের প্রায় প্রতিটি মহিলা কওমি মাদ্রাসায় এ বই পড়ানো হয়। এটি মূলত উর্দু ভাষার বই। বাংলা অনুবাদ করেছেন মাওলানা শামছুল হক (রহ.) ফরিদপুরী। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে বেহেশতী জেওর বেশ জনপ্রিয় বই। মুসলিমদের ঘরে ঘরে এ বই বিদ্যমান। এটি মূলত মাসয়ালা-বিষয়ক বই। বাংলা সহ বেশ কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।[১][২]

অধ্যায়
আটটি অধ্যায়ে বইটিকে ভাগ করা হয়েছে:

"সত্য ঘটনা"
"বিশ্বাস"
"ভুল বিশ্বাস এবং কর্ম"
" সালাত ও তার গুণাবলী"
" রোযা, জাকাত, কুরবানী, হজ, শপথ, ধর্মত্যাগ, হালাল ও হারাম ইত্যাদি।"
"বিবাহ, তালাক, 'ইদদাহ, ভরপোষণ, কর্তৃত্ব, জীবিকার অধিকার এবং কুরআন মজীদ পড়া"
"ব্যবসা নীতি এবং সম্পদ খোঁজা"
"শিষ্টাচার, অন্তর কাজের নৈতিক সংস্কার এবং তার প্রতিফল, এবং কেয়ামতের চিহ্ন"
"বিশুদ্ধ নারীদের জীবন"
"স্বাস্থ্য বিষয়ক এবং শিষ্টাচার
সংকলক নিয়ে বিতর্ক
কথিত আছে আশরাফ আলী থানভী নামে ব্যাপক প্রচলন হলেও বইটির আসল সংকলক তিনি নন। “আহমদ আলী” নামে একজন আলেম এ বইয়ের আসল সংকলক। কিন্তু সংকলক হিসেবে আশরাফ আলী থানবীর নামে ভুলে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।[৩][৪] বইটির শেষে কিছু তাবিজ ও বিভিন্ন চিকিৎসার কথা লেখা আছে। এসব বিষয়ে কিছুটা বিতর্ক ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়।[৩][৪]



প্রশ্ন: কোরবানী বলতে কী বুঝায়? কোরবানী করা কি ওয়াজিব না সুন্নত?

বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
আলহামদুলিল্লাহ।
কোরবানী:
ঈদুল আযহার দিনগুলোতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে আনআম শ্রেণীর (উট, গরু, ভেড়া বা ছাগল) প্রাণী জবাই করা।
কোরবানী ইসলামের একটি নিদর্শন। কোরবানীর বিধান আল্লাহর কিতাব, রাসূলের সুন্নাহ ও মুসলমানদের ইজমা দ্বারা সাব্যস্ত।

কিতাব:
১। আল্লাহ তাআলা বলেন: “কাজেই আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামায আদায় করুন এবং কুরবানী করুন”[সূরা কাউছার, আয়াত: ২]

২। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: “বলুন, আমার সালাত, আমার নুসুক (কুরবানী), আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ্‌রই জন্য”[সূরা আনআম, আয়াত: ১৬২] সাঈদ বিন যুবায়ের বলেন: নুসুক হচ্ছে- কুরবানী। কারো কারো মতে, নুসুক সকল ইবাদতকেই বুঝায়; এর মধ্যে কুরবানীও অন্তর্ভুক্ত। শেষোক্ত তাফসিরটি ব্যাপকতর।

৩। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর আমরা প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য ‘মানসাক’ এর নিয়ম করে দিয়েছি; যাতে তিনি তাদেরকে জীবনোপকরণস্বরূপ যেসব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন, সেসবের উপর তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। তোমাদেরর ইলাহ্‌ এক ইলাহ্‌, কাজেই তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণ কর এবং সুসংবাদ দিন বিনীতদেরকে।”[সূরা হাজ্জ, আয়াত: ৩৪]

সুন্নাহ:
১। সহিহ বুখারী (৫৫৫৮) ও সহিহ মুসলিমে (১৯৬৬) আনাস বিন মালেক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে এসেছে- “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদাকালো রঙের দুইটি মেষ দিয়ে কোরবানী দিয়েছেন। তিনি মেষের পাঁজরের উপর পা রেখে বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলে নিজ হাতে জবাই করেছেন।”

২। আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দশবছর মদিনাতে ছিলেন ও কোরবানী দিয়েছেন।”[মুসনাদে আহমাদ (৪৯৩৫), সুনানে তিরমিযি (১৫০৭), আলবানী ‘মিশকাতুল মাসাবীহ’ গ্রন্থে হাদিসটিকে ‘হাসান’ আখ্যায়িত করেছেন]

৩। উকবা বিন আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মাঝে কুরবানীর পশু বিতরণ করছিলেন। উকবার ভাগে একটি জিযআ (ছয় মাস বয়সী ভেড়া) পড়ল। উকবা বললেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি একটি জিযআ পেয়েছি। তিনি বললেন: এটি দিয়ে কোরবানী কর।”[সহিহ বুখারী (৫৫৪৭)]

৪। বারা বিন আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি (ঈদের) নামাযের পর জবাই করল তার নুসুক (ইবাদত) পূর্ণ হয়েছে এবং সে মুসলমানদের আদর্শ অনুসরণ করল।”[সহিহ বুখারী (৫৫৪৫)]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে কোরবানী করেছেন, তাঁর সাহাবীবর্গ কোরবানী করেছেন এবং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, কোরবানী করা মুসলমানদের আদর্শ।

তাই মুসলিম উম্মাহ ইজমা করেছে যে, কোরবানী শরয়ি বিধান। একাধিক আলেম এই ইজমা উদ্ধৃত করেছেন।
তবে, আলেমগণ কোরবানীর হুকুম নিয়ে মতভেদ করেন; কোরবানী করা কি ওয়াজিব নাকি সুন্নত?

জমহুর আলেমের মতে, কোরবানী করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এটি ইমাম শাফেয়ির মাযহাব এবং প্রসিদ্ধ বর্ণনানুযায়ী ইমাম মালেক ও ইমাম আহমাদের মাযহাব।

অপর একদল আলেমের মতে, কোরবানী করা ওয়াজিব। এটি ইমাম আবু হানিফার মাযহাব এবং এক বর্ণনাতে ইমাম আহমাদের মত হিসেবেও উল্লেখ আছে। ইবনে তাইমিয়া এই মতটিকে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন: এ মতটি ইমাম মালেকের মাযহাবের দুইটি অভিমতের একটি কিংবা তাঁর মাযহাবের সুস্পষ্ট অভিমত এটাই।[শাইখ উছাইমীনের ‘আহকামুল উদহিয়্যাহ ওয়ায যাকাত’ পুস্তিকা থেকে সমাপ্ত]

শাইখ মুহাম্মদ বিন উছাইমীন বলেন: “সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কোরবানী করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। অতএব, প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের পক্ষ থেকে ও পরিবারের পক্ষ থেকে কোরবানী দিবে।[ফাতাওয়াস শাইখ ইবনে উছাইমীন (২/৬৬১)]
আল্লাহই ভাল জানেন



বুধবার, ১০ জুন, ২০২০

রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থভাবে সিয়াম সাধনা করব কিভাবে?

বুধবার, জুন ১০, ২০২০ 1
বার দেখা হয়েছে

চলছে পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস। রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি। এটি অবশ্যই একজন সুস্থ মুসলিম মানুষের জন্য ফরয কিন্তু অসুস্থ এবং ভ্রমণরত মানুষের জন্য এটি আবশ্যক নয়। তথাপি কিছু শারীরিক নিয়মাবলী মেনে স্থিতিশীল অসুস্থ ব্যক্তিরা ও রোজা রাখতে পারেন। তবে গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য রোজা না রাখাই উত্তম।কারণ, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের উচিৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সে অনুযায়ী রোজা রাখা। দীর্ঘমেয়াদী রোগের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা, লিভার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীরা কিছু বিশেষ স্বাস্থ্য পরামর্শ মেনে চললে সুস্থভাবে রোজা রাখতে পারবেন। এক্ষেত্রে  বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হল-

ডায়াবেটিস
রোজা রাখার ফলে এটি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, রক্তে চর্বির পরিমাণ কমে যাওয়া, খাদ্যনালী ও পাকস্থলীকে বিশ্রাম দেয়াসহ আরও অনেক উপকার করে। রোজা রাখার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খালি ও ভরা পেটে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাপ, লিপিড প্রোফাইল, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, লিভার ফাংশন ইত্যাদি পরীক্ষা করে যদি রিপোর্ট স্বাভাবিক আসে তবে নিয়ন্ত্রিত খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং জীবনযাপনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগীও রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থভাবে এবং নির্বিঘ্নে রোজা রাখতে পারবেন। এক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন তা হল-
  • ভাজা পোড়া খাবার ও চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।
  • প্রচুর পরিমাণ পানি পান করা।
  • পরিমাণ মত নিয়ন্ত্রিত ডায়েট মেনে চলুন।
  • শাকসবজি, ফলমূল এবং আঁশযুক্ত  খাবার খাবেন।
ইনসুলিন ও ঔষধের মাত্রা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে ইফতার ও সেহরির মাঝামাঝি সময়ে নিয়মিত পথ্য গ্রহণ করুন। যেহেতু এখন কোভিড-১৯ মহামারী চলছে এবং তারা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে তাই, এ সময় একেবারেই ঘরের বাইরে বের হওয়া উচিৎ হবে না, তবে ঘরেই হালকা শরীর চর্চা করতে হবে। 

হৃদরোগ
যেসব রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল অর্থাৎ বারবার ওষুধ খেতে হয় না, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট নেই তারা রোজা করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে কিছু ব্যপারে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে-

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খাবার সময় এবং ডোজ পরিবর্তন করতে হবে।
ধূমপান সর্বদাই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। রোজার বিধিনিষেধ মানার জন্য হলেও ধূমপান ত্যাগ করতে হবে।
নিয়মিত রোজা রাখার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
অবশ্যই ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার, চিনিযুক্ত খাবার বর্জন করে সহজপাচ্য, আঁশ জাতীয় খাবার, শাকসবজি, ফলমূল খেতে হবে। বিশেষ করে পানি খেতে হবে প্রচুর। এতে আপনার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্ত চাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। 
গ্যাস্ট্রিক জনিত সমস্যা
রমজানে একটি দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তা বেড়ে যেতে পারে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত খাবার দাবারে অবশ্যই সহজপাচ্য, আঁশ জাতীয় খাবার, শাকসবজি, ফলমূল পানি খেতে হবে এবং ভাজা পোড়া খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। খাবার তালিকায় অ্যাপেল সিডার ভিনেগার, আনারস, রঙ্গিন শাক সবজি রাখুন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যাদের পেপটিক আলসার, পাকস্থলীর প্রদাহজনিত রোগ, ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি আছে তারা রোজা রাখার মাধ্যমে উপকৃত হন। রোজা রাখার কারণে পাকস্থলীতে এসিড কম তৈরি হয়। নিয়মিত ওষুধ খাবেন এবং ধূমপান, চা, কফি পান ইত্যাদি থেকে বিরত থাকবেন।

নিম্ন রক্তচাপ

যাদের স্বভাবতই রক্তচাপ কম থাকে এবং কোন অসুবিধা অনুভব করেন না তাদের ক্ষেত্রে চিন্তার কিছু নেই। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে হঠাৎ রক্তচাপ বেশি কমে গেলে শারীরিক নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা যায়। রোজায় সবারই উচিৎ হবে একটি ব্যলেন্স ডায়েট নির্বাচন করা। এবং এতে অবশ্যই সঠিক মাত্রায় লবণ ও  বেশি পরিমাণে ফ্লুয়িড থাকতে হবে।

অন্যান্য
রমজানে অনেকেরই মাংসপেশিতে খিচুনি, অবসাদ ইত্যাদির সমস্যা দেখা দেয় তাদের পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এছাড়াও কিডনি ও লিভারের রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখতে হবে এবং ঔষধ সেবন করতে হবে। উপযুক্ত ডায়েট অনুসরণ করে খাবার খেতে হবে।

মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত অসুস্থ ব্যক্তিদের রোজা না রাখাই উত্তম এবং এ ক্ষেত্রে ধর্মেও শিথিলতার বিধান রয়েছে। বৈশ্বিক মহামারীতে ঘরে থাকুন এবং শারীরিক যে কোন সমস্যায় মায়াতে প্রশ্ন করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন অথবা ডিজিটাল সাবসক্রিপশন কিনে ডাক্তারের সাথে সরাসরি কথা বলুন।  সুস্থভাবে এবং নির্বিঘ্নে সিয়াম সাধনা পালনের জন্য মায়া আপনার পাশে রয়েছে। 


রোজা রাখার ৭টি স্বাস্থ্য উপকারিতা - বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বুধবার, জুন ১০, ২০২০ 2
বার দেখা হয়েছে



মূলকথা:
ইনসুলিন রেজিসটেন্স কমিয়ে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে।
রক্তচাপ, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কোলেস্টেরল লেভেল সঠিক রেখে আপনার হৃৎপিণ্ডকে ভাল রাখতে সহায়তা করতে পারে।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলতে এবং নিউরোডিজেনারেটিভ ডিসঅর্ডারগুলি রোধ করতে পারে। ইসলামিক ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে পবিত্র মাস  হিসেবে বিবেচিত হয় রমজান মাস। আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় এসময় মুসলিমরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া, ধূমপান এবং যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেন। 

১,৪০০ বছর আগে মুসলমানদের রমজানে রোজা রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, প্রাচীন গ্রীকরা শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আজকাল কিছু বিশেষজ্ঞ বৈজ্ঞানিকভাবে মানসিক ও শারীরিক উপকারীতা খুঁজে পাওয়ায় মানুষকে রোজা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা এসব বিষয়ে অনেক প্রশ্ন দেখতে পাচ্ছি। মায়ার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মোতাবেক রোজার অনেক উপকারীতার মধ্যে কয়েকটি এখানে তুলে ধরছি-

১। ইনসুলিন রেজিসটেন্স কমিয়ে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ
একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, একটানা রোজা রাখার ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হ্রাস পেয়ে আপনার দেহের ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যায় , ফলে এটি আপনার রক্ত ​​প্রবাহ থেকে আপনার কোষে আরও দক্ষতার সাথে গ্লুকোজ স্থানান্তর করতে সহায়তা করে।

২। ওজন নিয়ন্ত্রণ
রোজা ওজন হ্রাস করার একটি নিরাপদ উপায় হতে পারে কারণ অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে বিরতিহীন রোজা – উপবাস অন্যান্য স্বাভাবিক ডায়েটিং এর চেয়ে শরীরের চর্বি পোড়াতে আরও বেশী কার্যকর।একটানা না খেয়ে থাকার ফলে দেহ শর্করার পরিবর্তে শক্তির প্রাথমিক উৎস হিসাবে চর্বিকে ব্যবহার করে।

৩। রোজা বিপাকীয় শক্তি বাড়ায়
রোজা আপনার পাচনতন্ত্রকে বিশ্রাম দেয় এবং এর ফলে এটি আরও কার্যকরভাবে ক্যালরি পোড়াতে সহায়তা করে। যদি আপনার হজম শক্তি দুর্বল হয়, তবে এটি খাদ্য বিপাকে এবং চর্বি পোড়াতে আপনার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। একটানা না খেয়ে থাকার ফলে আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, আপনার পরিপাকতন্ত্র ভালভাবে কাজ করে এবং এভাবে আপনার বিপাকীয় শক্তিও বেড়ে যায়।

৪। রোজা ক্ষুধামন্দা রোধ করেঃ
একবার ভাবুনতো! আপনি যদি প্রতি ২-৪ ঘণ্টা পরপর খাবার খান তাহলে সত্যিকার অর্থে আপনার ক্ষুধা লাগবে কিভাবে?

রোজায় অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে আপনার শরীরে কিছু হরমোন নিঃসরণ হয় যা আপনাকে সত্যিকার ক্ষুধা অনুভব করতে সহায়তা করে। অতিরিক্ত মোটা যারা তারা খাওয়ার পরও অনেকসময় বুঝতে পারে না তাদের পেট ভর্তি হয়েছে নাকি।

রোজা রাখার ফলে শরীরের হরমোনগুলো সঠিক মাত্রায় নিঃসরণের ফলে ইফতারের পর আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার পেটভর্তি হয়েছে কিনা।

৫। রোজা আপনার খাদ্যাভাস ঠিক করে

যারা সঠিক খাদ্যাভাসের অভাবে ভুগছেন এবং যারা কাজ এবং অন্যান্য অগ্রাধিকারের কারণে সঠিক খাদ্যাভাস স্থাপন করতে অসুবিধা বোধ করছেন তাদের জন্য রোজা একটি সহায়ক অনুশীলন হতে পারে।

এর মাধ্যমে আপনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর ক্যালরি বুঝে ডায়েট প্লান করে খাবার খেতে পারেন এবং বাকিটা সময় আপনি না খেয়ে থাকবেন। এর ফলে আপনার বাজে খাবার যেমন- ফাস্ট ফুড, স্নাক্স ইত্যাদি খাবার অভ্যাসটাও পরিবর্তিত হয়ে যাবে।

৬। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি
রোজা রাখার ফলে মস্তিষ্ক থেকে নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (বিডিএনএফ) নামক একটি প্রোটিনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

বিডিএনএফ মস্তিষ্কের স্টেম সেলগুলিকে নতুন নিউরনে রূপান্তরিত করে সক্রিয় করতে, এবং স্নায়ুস্বাস্থ্যের উন্নতি করে এমন আরও অনেক কেমিক্যাল নিঃসরণ করে। এই প্রোটিন আপনার মস্তিষ্কের কোষগুলিকে আলঝাইমার এবং পার্কিনসন রোগের সাথে সম্পর্কিত পরিবর্তনগুলি থেকেও রক্ষা করে। 

৭। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
রোজা রাখার ফলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় কারণ এটি ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ প্রতিরোধ করে, প্রদাহজনিত অসঙ্গতিগুলো দূর করে এবং শরীরে ক্যান্সার কোষ তৈরিতে বাঁধা প্রদান করে। 

রোজা রাখার ফলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রতঙ্গ বিশ্রাম নিতে পারে। ফলে রোগ প্রতিরোধে এরা আরও দ্রুত এন্টিবডি তৈরিতে ভুমিকা রাখে।

এছাড়াও, খালি পেটে এবং সতেজ মস্তিস্কে আপনি আপনার কাজ এবং আশেপাশের পরিবেশে আরও বেশি মনোযোগী হতে পারবেন। আপনি দীর্ঘমেয়াদী কোন রোগে আক্রান্ত থাকলে আমার আগের লেখাটি পড়ে রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে রোজা রাখতে পারেন। এছাড়াও রোজায় সঠিক ডায়েট প্লান এবং শারীরিক ও মানসিক যে কোন সমস্যায় সমাধান পেতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ  নিন । রোজা রাখুন, সুস্থ থাকুন এবং আমাদের সাথেই থাকুন।  
 সংগ্রহ-মায়া 



বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০

তাহাজ্জুদ নামায ন্যুনতম কয় রাকাত? কত রাকাত করে নিয়ত করতে হয়?

বৃহস্পতিবার, জুন ০৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে


প্রশ্নঃ
তাহাজ্জুদ এর নামায কি নুন্যতম চার রাকাত? এই নামাযের নিয়ত চার রাকাত নামাযের নিয়তের মত নাকি দুই রাকাত নামাযের নিয়তের মত করা উচিত? জানালে উপকৃত হবো।

অনেক ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
জাওয়াব
আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আয়েশা রা. কে জিজ্ঞাসা করেন যে, রমযানে নবীজীর নামায কেমন হত? তিনি উত্তরে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে এবং রমযানের বাইরে এগার রাকাতের বেশি পড়তেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না! এরপর আরও চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা তো বলাই বাহুল্য! এরপর তিন রাকাত (বিতর) পড়তেন।–{সহীহ বুখারী ১/১৫৪, হাদীস ১১৪৭; সহীহ মুসলিম ১/২৫৪, হাদীস ৭৩৮; সুনানে নাসায়ী ১/২৪৮, হাদীস ১৬৯৭; সুনানে আবু দাউদ ১/১৮৯, হাদীস ১৩৩৫; মুসনাদে আহমদ ৬/৩৬, হাদীস ২৪০৭৩}

আব্দুল্লাহ ইবনে আবী কাইস বলেন-
قلت لعائشة : بكم كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يوتر؟ قالت: كان يوتر بأربع وثلاث, وست وثلاث, وثمان وثلاث, وعشر وثلاث, ولم يكن يوتر بأنقص من سبع, ولا بأكثر من ثلاث عشرة.

অর্থাৎ আমি হযরত আয়েশা রা.-এর কাছে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবীজী বিতরে কত রাকাত পড়তেন? উত্তরে তিনি বলেন, চার এবং তিন, ছয় এবং তিন, আট এবং তিন, দশ এবং তিন। তিনি বিতরে সাত রাকাতের কম এবং তের রাকাতের অধিক পড়তেন না। -{সুনানে আবু দাউদ ১/১৯৩, হাদীস ১৩৫৭ (১৩৬২); তহাবী শরীফ ১/১৩৯; মুসনাদে আহমদ ৬/১৪৯, হাদীস ২৫১৫৯}

তাহাউল্লেখিত বর্ণনা দ্বারা বুঝা গেল রাসূল সাঃ কখনো তাহাজ্জুদ নামায চার রাকাত পড়তেন, কখনো ছয় রাকাত পড়তেন। কখনো আট রাকাত পড়তেন। কখনো দশ রাকাত পড়তেন।

সুতরাং তাহাজ্জুদের নামায ১০ রাকাত পর্যন্ত পড়া রাসূল সাঃ থেকে আমরা সহীহ হাদীসে পাই। এর চে’বেশি পড়া যাবে না। এমন নয়। যেহেতু এটি নফল নামায তাই যত বেশি পড়া যায় ততই সওয়াব। তাই ইচ্ছেমত পড়া যায়।

সেই সাথে চার রাকাতের কম পড়লে তা তাহাজ্জুদ হবে না, বিষয়টি এমনও নয়। তাই দুই রাকাত পড়লেও তা তাহাজ্জুদ নামায হিসেবেই গণ্য হবে। সময় কম থাকলে দুই রাকাত পড়ে নিলেও তাহাজ্জুদ নামায পড়া হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে।

রাতের এবং দিনের নফল নামাযের নিয়ত চার রাকাত করেও নিয়ত করা যায়, এমনিভাবে দুই রাকাত করেও নিয়ত করা যায়। কোন সমস্যা নেই।

তাই আপনি তাহাজ্জুদ নামাযের নিয়ত চাইলে ২ রাকাতের নিয়ত করে ২ রাকাত ২ রাকাত করে পড়তে পারেন। অথবা ৪ রাকাত ৪ রাকাত নিয়ত করে ৪ রাকাত করে পড়তে পারেন। {ফাতওয়ায়ে শামী-২/৪৫৫, তাবয়ীনুল হাকায়েক-১/১৭২, আল বাহরুর রায়েক-২/৫৩, ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-১১/২৮৭}

——————–
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
——————————–


শাওয়াল মাসের ছয় রোযার বিশেষ ফজীলত ও নিয়ম

বৃহস্পতিবার, জুন ০৪, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

রামাজানের রোযার পর শাওয়ালের ছয় রোযায় সারা বছরের রোযার ছাওয়াব

রামাজান মাসের পরের মাসের নাম হচ্ছে ‘শাওয়াল’। শাওয়ালের বিশেষ আমল হলো–শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা রাখা। শাওয়াল মাসের ১ তারিখ হচ্ছে ঈদুল ফিতর। সেদিন ঈদ হিসেবে রোযা রাখা যায় না। এর পরদিন থেকে শাওয়ালের সেই ছয় রোযা রাখা যায়। এ রোযাকে “শাওয়ালের ছয় রোযা” বলা হয়।

মাহে রামাজানের ফরজ রোযা পালনের পর শাওয়াল মাসে এ ছয়টি রোযা রাখা নফল বা মুস্তাহাব। তবে এ রোযা রাখা নফল বা মুস্তাহাব হলেও এর ফজীলতকে রামাজানের রোযার সাথে যুক্ত করে এক বছরের রোযার ছাওয়াবের কথা হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এ ছয় রোযার অনন্য ফজীলতের তথা রামাজানের রোযার ন্যায় ফজীলত লাভের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

শাওয়ালের এ ছয় রোযার ফজীলত সম্পর্কে হাদীস শরীফে রয়েছে–
عن أبي أيوب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من صام رمضان ثم أتبعه ستا من شوال كان كصيام الدهر
হযরত আবু আইয়ূব আনসারী (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন–“যে ব্যক্তি রামাজানের রোযা রাখল, অতঃপর তার পিছে পিছে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযা রাখল, তা পূর্ণবছর রোযা রাখার মতো গণ্য হবে। ”

(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬৪/ জামি‘ তিরমিযী, হাদীস নং ৭৫৯/ সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৩৩ প্রভৃতি)

অন্য হাদীসে রয়েছে–
عن ثوبان رضي الله عنه مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من صام ستة أيام بعد الفطر كان تمام السنة من جاء بالحسنة فله عشر أمثالها
হযরত ছাওবান (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাز) ইরশাদ করেন–“যে ব্যক্তি মাহে রামাজানের রোযা শেষ করে (শাওয়াল মাসে) ছয়দিন রোযা রাখবে, তা পুরো বছর রোযা গণ্য হবে। (আল্লাহ তা‘আলা বলেন,) যে ব্যক্তি নেক আমল করবে, তার জন্য সেই আমলের দশগুণ লাভ হবে।”

(মুসনাদে আহমাদ, ৫ম খণ্ড, ২৮০ পৃষ্ঠা/ সুনানে দারিমী, হাদীস নং ১৭)

অপর হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন–
صيام شهر رمضان بعشرة أشهر وصيام ستة أيام بشهرين فذلك صيام السنة
“রামাজানের রোযা ১০ মাসের রোযার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোযা দুই মাসের রোযার সমান। এই হলো এক বছরের রোযা।”

(সুনানে ইবনে মাজাহ)

এ হাদীসসমূহে বর্ণিত উক্ত রামাজান ও শাওয়ালের রোযাসমূহের ছাওয়াব এভাবে নির্ণিত হয় যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সূরাহ আন‘আমের ১৬০ নং আয়াতে ইরশাদ করেছেন–
من جاء بالحسنة فله عشر أمثالها
“যে ব্যক্তি নেক কর্ম করবে, তার জন্য তার দশ সমতুল্য প্রতিদান রয়েছে।”

সে হিসেবে রামাজানের ৩০ রোযায় ৩০০ রোযার বা রামাজানের ১ মাসে ১০ মাসের রোযার ছাওয়াব হয়। আর মাহে শাওয়ালের ছয় রোযায় ৬০ রোযার বা ২ মাসের রোযার ছাওয়াব লাভ হয়। এভাবে (রামাজানের ৩০ রোযা এবং শাওয়ালের ৬ রোযা মোট ৩৬ রোযা দশ দিয়ে গুণ দিলে) ৩৬০ রোযার সমান হয়ে যায়। আর চান্দ্র বর্ষ অনুযায়ী প্রায় ৩৬০ দিনে (বা ৩৫৪ দিনের কিছু বেশী) এক বছর হয়। সুতরাং এর মাধ্যমে পূর্ণ এক বছর রোযা রাখার ছাওয়াব লাভ হয় । অথবা এভাবে হিসাব করা যায় যে, রামাজানের এক মাসের রোযার দ্বাারা দশ মাসের রোযার ছাওয়াব লাভ হয় এবং শাওয়ালের ছয়দিনের রোযার দ্বারা দুই মাসের রোযার ছাওয়াব অর্জিত হয়। এভাবে সেই দুই আমল দ্বারা মোট ১২ মাস বা এক বছরের রোযার ছাওয়াব লাভ হয়।

তবে উল্লেখ্য যে, কেবল মাত্র তারাই শাওয়ালের ৬ রোযার ছাওয়াব পরিপূর্ণভাবে লাভ করবেন তথা রামাজানের রোযার পর শাওয়ালের রোযা রাখার দ্বারা একবছরের রোযার ছাওয়াব লাভ তারাই লাভ করবেন–যারা রামাজানের রোযা সঠিকভাবে পালন করে তারপর শাওয়ালের রোযা রাখবেন। হাদীস শরীফে ثُمَّ أَتْبَعَهُ বলে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাই যে ব্যক্তির রামাজানের রোযার কাজা আছে, তিনি প্রথমে রামাজানের সেই কাজা রোযা আদায় করে নিবেন। তারপর শাওয়ালের ছয় রোযা রাখবেন। তাহলেই উক্ত রোযার পরিপূর্ণ ফজীলত লাভ করবেন। তবে যদি কোন সঙ্গত উজরের কারণে তা সেভাবে আদায় করা সম্ভব না হয়, সেটা ভিন্ন কথা। সেই অবস্থায় শাওয়ালের রোযা এ শাওয়ালের ভিতরে রেখে রামাজানের কাজা রোযা অন্য মাসে রাখতে পারবেন। অবশ্য সেক্ষেত্রে সেই একবছরের রোযার ছাওয়াবের ফজীলত সেই কাজা রোযা আদায় পূর্ণ করার পর লাভ হবে।

শাওয়াল মাসে ঈদুল ফিতরের পরদিন থেকে নিয়ে পুরো মাসে যখন ইচ্ছা সেই ছয়টি নফল রোযা রাখা যায়। তবে উত্তম হল, উক্ত ছয় রোযাকে রামাজানের ঈদের পর পরই রাখা এবং লাগাতারভাবে রাখা। কেননা, এতে বর্ণিত হাদীসের উপর পুরোপুরিভাবে আমল হয়। তবে কেউ যদি রামাজানের ঈদের পর পরই না রেখে আরো পরে সেই রোযা রাখেন এবং ছয় রোযা একসঙ্গে না রেখে কিছুদিন পর পর করে বা পুরো শাওয়াল মাস ভরে রোযাগুলো রাখেন, তাতেও সেই ফজীলত লাভের আশা করা যায়।

মোট কথা, যার যার সুযোগ-সুবিধা মত এক সাথে ছয় রোযা বা আলাদা আলাদা করেও রাখা জায়িয আছে। অর্থাৎ শাওয়ালের ভিতরে ছয়টি রোযা রাখলেই হবে। অবশ্য শাওয়াল মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে, তখন সেই ছয় রোযা রাখলে, তাতে হাদীসে বর্ণিত ফজীলত পুরোপুরি লাভ হবে না। তবে কেউ তখন রাখলে, কুরআনের বর্ণনানুযায়ী প্রতিটি নেক আমলের ১০ গুণ ছাওয়াব হিসেবে ভিন্নভাবে ৬০টি রোযা রাখার ছাওয়াব লাভ হবে।

আর এ হিসেবেই রামাজান ও শাওয়ালের রোযা ছাড়াও প্রতিমাসে তিনদিন তথা চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে (আইয়্যামে বীজ-এর) রোযা রাখার দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে একবছরের রোযার সমান ছাওয়াব লাভ হবে বলে হাদীসে রয়েছে। তেমনিভাবে প্রতি সপ্তাহে দুইদিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখার বিশেষ ফজীলতের বর্ণনা হাদীস শরীফে রয়েছে।



বুধবার, ২০ মে, ২০২০

দোআ -সূরা আল বাকারা: ২০১‍

বুধবার, মে ২০, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াকিনা আযাবান্নার।

অর্থ: হে আমার প্রভু! আমাকে দুনিয়াতে সুখ দান কর, আখেরাতেও সুখ দান কর এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। -সূরা আল বাকারা: ২০১‍




সোমবার, ১৮ মে, ২০২০

কেন রমজানের শেষ দশক অধিক গুরুত্বপূর্ণ?

সোমবার, মে ১৮, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

মিশকাত শরীফের হাদিস আমাদেরকে নিশ্চিত করে, রমজানের তিন দশক তিন ভাগে বিভক্ত: রহমত, মাগফেরাত ও নাজাত। তুলনামূলকভাবে রহমত ও মাগফেরাতের চেয়ে নাজাতের গুরুত্ব বেশি।

বাকি দুই দশকের সাথে নাজাতের পার্থক্য কী? নাজাতের বিশেষত্ব কী? নাজাতের বিশেষত্ব নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। তিনটি পয়েন্টে আমাদের এ আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকবে।

শবে কদরের নেয়ামত প্রাপ্তির সুযোগ
রমজানের শেষ দশক তথা নাজাতের দশ দিন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ববহ হবার প্রধান কারণ শবে কদর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিচ্ছেন, “তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল-কদর তালাশ করো”। (বুখারী শরীফ: ২০২০) আরও স্পষ্ট করেছেন অন্য বর্ণনায়, “তোমরা রমজানের শেষ দশকের বে-জোড় রাতসমূহে লাইলাতুল-কদর তালাশ করো”।

(বুখারী শরীফ: ২০১৭)বুখারী শরীফের বর্ণনার মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের জবান থেকে খোশ-খবর শোনা যায়, “যে ব্যক্তি লাইলাতুল-কদরের রাতে ইমান ও সোয়াবের আশা নিয়ে ইবাদত-বন্দেগী করবে তাঁর অতীতের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে”।

হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, শবে কদরের রাত নির্দিষ্ট নয়; তবে আমরা কীভাবে তালাশ করবো? কবে কদর তালাশ করতে আমাদের শেষ দশকে অধিকতর একনিষ্ঠতার সহিত বিরতিহীনভাবে ইবাদত-বন্দেগী করা জরুরী।

আরও স্পষ্ট করে বললে, রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি বে-জোড় রাত্রিতে আমাদের ইবাদতে লিপ্ত থাকা এক প্রকার আবশ্যক। সেজন্য, শবে কদরের মহা-মর্যাদাবান রাতের পূর্ণ ফযিলত হাসিল করতে আমাদেরকে অবশ্যই রমযানের শেষ দশকে ইবাদত এবং একনিষ্ঠতায় অধিক গুরুত্ব দেওয়া ব্যতীত গত্যান্তর নেই।

শেষ দশকে অধিক ইবাদত করা সুন্নত
রমজানের শেষ দশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য দশকের তুলনায় অধিক পরিমাণে ইবাদত করতেন। একাধিক হাদিস শরীফ থেকে রাসূলে খোদার এ সুন্নত প্রমাণিত। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন:“রমজানের শেষ দশকে প্রিয় নবী যত পরিশ্রম করতেন, অন্য দশকে তা করতেন না” অর্থাৎ, তিন দশকের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি পরিশ্রম করতেন শেষ দশকে, আর তা অবশ্যই ইবাদতের মাধ্যমে।

(মুসলিম শরীফ: ১১৭৫) আম্মাজান আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা অন্য বর্ণনায় ইরশাদ ফরমান: “শেষ দশক আরম্ভ হলে প্রিয় নবী পূর্ণরাত জেগে থাকতেন, পরিবারের সবাইকে ঘুম থেকে ডেকে দিতেন এবং নিজে কোমর-বেঁধে ইবাদতে মগ্ন হতেন”। (বুখারী শরীফ: ২০২৪)

উক্ত দু’টি হাদিস শরীফ থেকে অত্যন্ত প্রকট যে, শেষ দশকে অধিক পরিমাণে ইবাদত করা সুন্নত। আর প্রিয় নবী যা করেছেন তাতে যে বিশেষ মঙ্গল নিহিত আছে এ ব্যাপারে মুসলমান-মাত্রই নিঃসন্দিহান।

আমাদের অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে শেষ দশকে ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত এবং পরিবারের সদস্যদেরকে ও এ সুন্নতের বরকত অর্জনে শামিল করা উচিত।

নাজাতের সওগাত পেতে
রমযানের শেষ দশকে আল্লাহ তায়ালা অধিক পরিমাণে গুনাহগার বান্দাদেরকে ক্ষমা তথা নাজাত দেন বলেই মূলত এ দশকের নামকরণ ‘নাজাত’ হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা তো মাধ্যম বা কারণ ছাড়া কিছু করেন না।

তো এ সূত্রে আমাদেরকে অবশ্যই নাজাত পাবার জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে; রমজানের শেষ দশকে নাজাতী বান্দার পরিমাণ বেশি থাকে বলেই এ দশকে আমাদেরকে বেশি বেশি আল্লাহর ইবাদত করতে হবে এবং কায়মনো বাক্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

আর এ দশকের মধ্য দিয়েই রমজান আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেয়। পরবর্তী এক বছর পূর্বে আর রমজানের দেখা আর আমরা পাইনা। পরবর্তী রমজানে বেঁচে থাকবো কি-না সে নিশ্চয়তাও কারোরই নেই; সব মিলিয়ে রমজানকে বিদায় দেওয়ার দিনগুলোতে রমজানের প্রতি এক ধরনের আপ্লুতকর, মর্মস্পর্শী অনুভূতি আমাদের ধর্মবোধে প্রগাঢ় হয়।

এ প্রগাঢ় মর্মস্পর্শী অনুভূতির দাবিতেই রমজানকে সর্বোচ্চ একনিষ্ঠতাপূর্ণ ইবাদতের মাধ্যমে বিদায় জানানো উচিত। মুসনাদে আহমদের হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে খোশ-খবর দেন, “রমজান কেয়ামতে রোজাদারের জন্য সুপারিশ কারী হবে”। (মুসনাদে আহমদ: ৬৬২৬)। সূত্রঃ চ্যানেল আই। সম্পাদনা র/ভূঁ। ম ১৬০৫/২৫


শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

ইতিকাফের ফজিলত ও বিধান

শনিবার, মে ১৬, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে

আভিধানিক অর্থে ইতিকাফ
কোনোকিছুতে এঁটে থাকা ও তার মধ্যেই নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলা।

শরয়ী পরিভাষায় ইতিকাফ
আল্লাহ তাআলার ইবাদতের উদ্দেশে মসজিদে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলা
 
ইতিকাফের শরীয়তভুক্ত হওয়া
ইতিকাফ উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদতের মধ্যে একটি। আয়শা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে আমরণ ইতিকাফ করে গেছেন।’(বর্ণনায় বুখারী)

ইতিকাফ আমাদের জন্য ও আমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য আল্লাহ তাআলা বিধানভুক্ত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

(وَعَهِدۡنَآ إِلَىٰٓ إِبۡرَٰهِ‍ۧمَ وَإِسۡمَٰعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيۡتِيَ لِلطَّآئِفِينَ وَٱلۡعَٰكِفِينَ وَٱلرُّكَّعِ ٱلسُّجُودِ ١٢٥ )

{এবং (আদেশ দিলাম যে,) ‘তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর।’ আর আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে, ‘তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ‘ইতিকাফকারী ও রুকূকারী-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র কর।} [সূরা আল বাকারা:১২৫]
ইতিকাফের হুকুম

ইতিকাফ সারা বছরই সুন্নত তবে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করাই উত্তম। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশদিন সবসময় ইতিকাফ করে গেছেন।
ইতিকাফের শর্তসমূহ
১- নিয়ত

ইতিকাফকারী আল্লাহর ইবাদত ও সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশে মসজিদে অবস্থানের নিয়ত করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় নিয়তের ওপর আমলের নির্ভরতা।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
২- যে মসজিদে ইতিকাফ করা হবে তা জামে মসজিদ হতে হবে

জামে মসজিদ অর্থ এমন মসজিদ যাতে জুমার নামাজ পড়া হয় এবং যাতে যেকোনো এলাকার মুসাল্লীদের নামাজ আদায়ের অধিকার উন্মুক্ত থাকে।

৩ - বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন

অতএব জুনুবী ব্যক্তি এবং হায়েয ও নিফাসগ্রস্ত নারীর ক্ষেত্রে ইতিকাফ করা শুদ্ধ হবে না; কেননা এদের মসজিদে অবস্থান করা বৈধ নয়।
ইতিকাফের জন্য রোজা শর্ত নয়

ইতিকাফের জন্য রোজা শর্ত নয়; ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রাযি. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করে বললেন, ‘আমি জাহিলীযুগে মানত করেছিলাম যে একরাত মসজিদুল হারামে ইতিকাফ করব। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তুমি তোমার মানত পুরা করো।’ সে হিসেবে যদি রোজা রাখা শর্ত হতো তাহলে রাতের বেলায় ইতিকাফ শুদ্ধ হত না। কেননা রাতের ইতিকাফে কোনো রোজা নেই। এ ক্ষেত্রে আরেকটি দলিল এই যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাওয়ালের প্রথম দশদিন ইতিকাফ করেছেন বলে এক বর্ণনায় এসেছে। আর এটা সবার জানা যে, শাওয়ালের প্রথম দশদিনের মধ্যে ঈদের দিন রয়েছে, যাতে রোজা রাখা বৈধ নয়। আরেকটি বিষয় এই যে, রোজা ও ইতিকাফ দুটি ভিন্ন ইবাদত। কাজেই একটির জন্য অন্যটি শর্ত হবে না।
ইতিকাফের সময়

যেকোনো দিন ইতিকাফ করা শুদ্ধ। যেকোনো সময়সীমার জন্যও ইতিকাফ করা শুদ্ধ। তবে উত্তম হলো একদিন একরাতের কম না হওয়া; কেননা একদিন একরাতের কম ইতিকাফ করা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম কারও থেকেই প্রমাণিত নেই।
রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করা

এ দশদিন হলো ইতিকাফ করার সর্বোত্তম সময়; আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন। আমরণ তিনি তা করে গেছেন।

যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশদিনে ইতিকাফের নিয়ত করবে সে রমজানের একুশ তারিখে, যে মসজিদে ইতিকাফ করতে চায়, সে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়বে। এরপর ইতিকাফের জায়গায় প্রবেশ করবে। আয়শা রাযি. ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রমজানেই ইতিকাফ করতেন। তিনি যখন ফজরের নামাজ আদায় করতেন তখন ইতিকাফের স্থলে প্রবেশ করতেন।’ [বর্ণনায় বুখারী]

রমজানের শেষ দিনের সূর্যাস্ত যাওয়ার সাথে সাথে ইতিকাফ শেষ হয়ে যায়, তবে উত্তম হলো ঈদের দিন সকালে ইতিকাফ থেকে বের হওয়া। সালাফদের অনেকেই এরূপ করেছেন।

ইতিকাফকারীর জন্য যা বৈধ

১ - একান্ত প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হওয়া, যেমন খাওয়া ও পান করার প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হওয়া যদি তা মসজিদে হাজির করার জন্য কেউ না থাকে। পেশাব পায়খানার প্রয়োজনেও মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে। আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইতিকাফ করতেন, তিনি তাঁর মাথা আমার দিকে হেলিয়ে দিতেন, অতঃপর আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম। আর তিনি মানবিক প্রয়োজন ব্যতীত বাড়িতে প্রবেশ করতেন না।’(বর্ণনায় মুসলিম)

২ - চুল ভাঁজ করা ও আঁচড়ানো বৈধ; উল্লেখিত হাদীস এর প্রমাণ ।

৩ - মানুষের সাথে উপকারী কথাবার্তা বলা। তারা কেমন আছে না আছে ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করা। কিন্তু অতিমাত্রায় এসব কথাবার্তা বলা উচিত হবে না। কেননা তা ইতিকাফের উদ্দেশের সাথে সাংঘর্ষিক।

৪ – আত্মীয়স্বজন ইতিকাফকারীর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আসতে পারবে। এমনকি তাদেরকে বিদায় দেয়ার জন্য ইতিকাফের জায়গা থেকে বের হওয়াও বৈধ রয়েছে। সাফিইয়া বিনতে হুআই রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফরত অবস্থায় আমি তাঁর সাথে রাতের বেলায় সাক্ষাৎ করতে এলাম। আমি তার সাথে কথা বললাম। এরপর যখন চলে যাওয়ার উদ্দেশে দাঁড়ালাম তিনি আমাকে বিদায় দেয়ার জন্য দাঁড়ালেন।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
ইতিকাফ বাতিলকারী-বিষয়সমূহ

১ - প্রয়োজন ব্যতীত ইচ্ছাকৃতভাবে মসজিদ থেকে বের হওয়া, যদিও তা অল্প সময়ের জন্য হয়; আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবিক প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদ থেকে বের হতেন না।’

(বর্ণনায় মুসলিম) উপরন্তু মসজিদ থেকে বের হওয়ার অর্থ ইতিকাফস্থলে অবস্থান করার যে নীতি রয়েছে তা ভঙ্গ হওয়া। আর ইতিকাফস্থলে অবস্থান করা ইতিকাফের একটি রুকন।

২ - স্বামী-স্ত্রীর মিলন, যদিও তা রাতের বেলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:

( وَلَا تُبَٰشِرُوهُنَّ وَأَنتُمۡ عَٰكِفُونَ فِي ٱلۡمَسَٰجِدِۗ)

{আর তোমরা মাসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না।}
[সূরা আল বাকারা:১৮৭]

স্বামী-স্ত্রীর মিলনের সাথে যুক্ত হবে উত্তেজনাসহ যেকোনো উপায়ে বীর্যপাত ঘটানো, যেমন হস্তমৈথুন অথবা স্ত্রীর অন্যকোনো শরীরাংশে ঘর্ষণের মাধ্যমে বীর্যপাত|

৩ - ইতিকাফ ভঙ্গ করার দৃঢ় ইচ্ছা ব্যক্ত করা।
যদি কোনো মুসলিম সুনির্দিষ্ট দিনের ইতিকাফের নিয়ত করে, এরপর ইতিকাফ ভঙ্গ করে ফেলে তবে তার জন্য ইতিকাফ কাযা করা বৈধ হবে। আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইতিকাফের নিয়ত করতেন, তিনি ফজরের নামাজ পড়তেন, অতঃপর তিনি ইতিকাফস্থলে প্রবেশ করতেন। (একবার) তিনি তাঁর তাঁবু টানানোর নির্দেশ দিলেন, অতঃপর তাঁবু টানানো হলো - অর্থাৎ যখন তিনি রমজানের শেষ দশদিনের ইতিকাফ করার ইচ্ছা করলেন তখন- যয়নাব রাযি. তাঁর তাঁবু টানানোর নির্দেশ দিলেন, অতঃপর টানানো হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যান্য স্ত্রীগণও তাঁবু টানানোর নির্দেশ দিলেন, অতঃপর টানানো হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফজরের নামাজ পড়লেন, তিনি বহু তাঁবু দেখতে পেলেন। তিনি বললেন,‘তোমরা কি ভালো চাও? এরপর তিনি তাঁর তাঁবু গুটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন, অতঃপর তা গুটিয়ে ফেলা হলো। তিনি রমজানে ইতিকাফ করা ছেড়ে দিলেন এবং শাওয়ালের প্রথম দশদিন ইতিকাফ করলেন।’ অন্য এক বর্ণনা অনুযায়ী ‘শাওয়ালের শেষ দশদিন ইতিকাফ করলেন।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম )ইতিকাফকারী ব্যক্তি রোগী দেখতে যাবে না। জানাযায়ও শরীক হবে না, বরং সে আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশে ইতিকাফস্থলে অবস্থান করবে।


শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

যাকাত সম্পর্কিত কিছু হাদীস

শুক্রবার, মে ১৫, ২০২০ 0
বার দেখা হয়েছে
যাকাত সম্পর্কিত কিছু সহীহ হাদীস পেশ করা হলঃ-
সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান, হাদিস নাম্বার:৭
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، قَالَ أَخْبَرَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ ‏"‏‏.‏
উবায়দুল্লাহ্ ইবনু মূসা (রাঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি।
১। আল্লাহ্ ছাড়া ইলাহ্ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ আল্লাহ্‌র রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য দান।
২। সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করা।
৩। যাকাত দেওয়া।
৪। হাজ্জ (হজ্জ) করা এবং
৫। রামাদান এর সিয়াম পালন করা।

সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান, হাদিস নাম্বার:৫৫
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنِي قَيْسُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى إِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ‏.‏
৫৫। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) জারীর ইবনু আবদুল্লাহ আল বাজলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে বায়’আত গ্রহণ করেছি সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করার, যাকাত দেওয়ার এবং সকল মুসলিমের কল্যাণ কামনা করার।

সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান (বিশ্বাস), হাদিস নাম্বার:৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ ‏"‏‏.‏

وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى: }لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمْ الْمُتَّقُونَ{ وَقَوْلِهِ }قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ{ الآيَةَ.

আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘কোন পুণ্য নেই পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে; কিন্তু পুণ্য আছে কেউ ঈমান আনলে আল্লাহর উপর, আখিরাতের উপর, ফেরেশতাদের উপর, সকল কিতাবের উপর, আর সকল নাবী-রাসূলদের উপর, এবং অর্থ দান করলে আল্লাহ প্রেমে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, মিসকীন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী এবং দাস মুক্তির জন্য, সালাত কায়িম করলে, যাকাত দিলে, কৃত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করলে আর অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধ বিভ্রাটে ধৈর্যধারণ করলে। এরাই হল প্রকৃত সত্যপরায়ণ, আর এরাই মুত্তাকী’’- (আল-বাক্বারাহ ২/১৭৭)। ‘‘অবশ্যই সফলতা লাভ করেছে

 সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৩/ যাকাত, হাদিস নাম্বার:২১৪০
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ مَهْدِيٍّ - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لَيْسَ فِي حَبٍّ وَلاَ تَمْرٍ صَدَقَةٌ حَتَّى يَبْلُغَ خَمْسَةَ أَوْسُقٍ وَلاَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ وَلاَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ‏"‏ ‏.‏
২১৪০। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শস্য এবং খেজুরের পাঁচ ওয়াসাকের কমে যাকাত নেই, পাঁচ উটের কম সংখ্যায় যাকাত নেই এবং পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণে (রুপায়) যাকাত নেই।মুমিনগণ’’- (সূরাহ্ মুমিনূন ২৩/১)।

৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈমানের ষাটেরও অধিক শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা। (মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৫, আহমাদ ৯৩৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮)

গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৭/ যাকাত, হাদিস নাম্বার:৬৪২
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ الْعَامِلُ عَلَى الصَّدَقَةِ بِالْحَقِّ كَالْغَازِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى بَيْتِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَيَزِيدُ بْنُ عِيَاضٍ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ ‏.‏ وَحَدِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ أَصَحُّ ‏.‏
৬৪২. আহমাদ ইবনু মানী এবং মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ...... রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, বাড়িতে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথে যুদ্ধরত ব্যক্তির যে মর্যাদা, ন্যায়ভাবে যাকাত সংগ্রহকারী ব্যক্তিরও সেই মর্যদা রয়েছে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৭৯/ কূটকৌশল, হাদিস নাম্বার:৬৫০৮
উবায়াদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হমায়দ সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লুতাবিয়্যা নামে এক ব্যাক্তিকে বণী সুলায়ম গোত্রের যাকাত আদায়কারী নিয়োগ করলেন। যখন সে ফিরে এলো তখন তিনি তার কাছ থেকে হিসাব-নিকাশ গ্রহণ করলেন। সে বলল, এগুলো আপনাদের মাল, আর এগুলো (আমাকে দেয়া) উপঢৌকন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক তাহলে তোমার মা-বাবার ঘরে বসে থাকলে না কেন? সেখানেই তোমার কাছে উপঢৌকন এসে যেত। এরপর তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের কাউকে এমন কোন কাজে নিয়োগ করি, যার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আল্লাহ্আমাকে মনোনীত করেছেন। কিন্তু সে কাজ সম্পাদন করে এসে বলে, এ হল তোমাদের মাল। আর এ হল আমাকে দেয়া উপঢৌকন। তাহলে সে কোন তার মা-বাবার ঘরেই বসে রইল না, সেখানে এমনিতেই তার কাছে তার উপঢৌকন এসে যেত? আল্লাহর কসম! তোমরা যে কেউ অবৈধভাবে কোন কিছু গ্রহণ করবে, সে কিয়ামতের দিন তা বয়ে নিয়ে আল্লাহর সামনে হাযির হবে। আমি তোমাদের কাউকে ভালভাবেই চনব যে, সে আল্লাহর কাছে হাজির হবে উট বহন করে, আর উট আওয়াজ দিতে থাকবে। অথবা গাভী বহন করে, আর সেটা ডাকতে থাকবে। অথবা বকরি বহন করে, আর সেটা ডাকতে থাকবে। এরপর তিনি আপন হাতে দু’টি এতদূরে উত্তোলন করলেন যে, তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যাচ্ছিল। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? আমার চক্ষুযুগল সে অবস্থা অবলোকন করেছে এবং আমার কান শুনেছে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮৫/ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন, হাদিস নাম্বার:৬৭৮৭
৬৭৮৭ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন। আর তার পরে আবূ বকর (রাঃ)-কে খলীফা নির্বাচন করা হল এবং আরবের যারা কাফের হওয়ার তারা কাফের হরে গিয়েছিল। তখন উমর (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেনঃ আপনি কি করে লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মানুষেরসাথে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ- বলার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ করে যাওয়ার জন্য নির্দেশিত হয়েছি। অতএব যে ব্যাক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ- বলে ফেলল- সে তার জানো ও মাল আমার থেকে নিরাপদ ও সংরক্ষিত করে ফেলল। তবে ইসলামী বিধানের আওতায় পড়ে গেলে সে ভিন্নকথা। তাদের প্রকৃত হিসাব আল্লাহর কাছে হবে। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ যারা সালাত (নামায/নামাজ) ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে, আমি অবশ্যই তাদের সাথে যুদ্ধ করব। কেননা, যাকাত হল সম্পদের হক (অবশ্য পালনীয় বিধান)। আল্লাহর শপথ! যদি তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যা আদায় করত, এখন তা (সেভাবে) দিতে অস্বীকার করে, তাহলেও আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করব। উমর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি দেখছিলাম যে, যুদ্ধ করার ব্যাপারে আল্লাহ তা আলা আবূ বকরের সিনা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। সুতরাং আমি বুঝতে পারলাম এ সিদ্ধান্তই সঠিক।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৭৯/ কূটকৌশল, হাদিস নাম্বার:৬৪৮৮
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনু উবাদা আনসারী (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তাঁর মায়ের মানত সম্পর্কে ফতোয়া চাইলেন, যে মানত তার মায়ের যিম্মায় ছিল। কিন্তু তা আদায় করার পূর্বে তার মৃত্যু হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তার পক্ষ থেকে আদায় করে দাও। কোন কোন মনীষী বলেন, যখন উটের সংখ্যা বিশে পৌঁছে তখন তার যাকাত হবে চারটি ছাগল। কিন্তু যদি সে যাকাতথেকে রেহাই পাওয়ার উদ্দেশ্যে অথবা যাকাত এড়াবার কৌশল হিসেবে বছর পূর্ণ হওয়ার আগে ঐগুলো দান করে দেয় অথবা বিক্রি করে ফেলে, তাহলে তার উপর কিছু ওয়াজিব হবে না। তদ্রূপ যদি সে ঐগুলো ধ্বংস করে দেয় তারপর সে মারা যায় তাহলেও তার মালের উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।



ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png