শিরোনাম
Loading latest headlines...

বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নূহ (আঃ) “৯৫০ বছর” — বিশদ বিশ্লেষণ পর্ব-০৩

বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে


 


কুরআনের আয়াত

সূরা আল-আনকাবুত (২৯:১৪):

“আর নিশ্চয়ই আমরা নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম। তিনি তাদের মধ্যে অবস্থান করেছিলেন এক হাজার বছর থেকে পঞ্চাশ বছর কম; অতঃপর তাদেরকে প্লাবন আঘাত করেছিল, যখন তারা ছিল জালিম।”

ব্যাখ্যা (ক্লাসিকাল তাফসীর থেকে)

  1. আক্ষরিক অর্থে সময়কাল

    • ইবন কাসীর, আল-তাবারি ও কুরতুবির মতো ক্লাসিক মুফাস্সিরীন সাধারণত এটি আক্ষরিক অর্থে নিয়েছেন।

    • তাদের মতে, নূহ (আঃ) তাঁর জাতিকে প্রায় ৯৫০ বছর ধরে দাওয়াত দিয়েছেন। এটি তাঁর মোট জীবনকাল নয়, বরং দাওয়াতের সময়কাল।

    • কিছু বর্ণনায় বলা হয়, তাঁর পুরো আয়ুষ্কাল ছিল ১০৫০ বছর বা তার বেশি (দাওয়াত-পূর্ব ও পরবর্তী সময়সহ)।

  2. জীবনকাল নির্দেশ করছে

    • কিছু আলেম মনে করেন, এটি তাঁর মোট আয়ুষ্কালকে বোঝায়। যদিও এখানে সংখ্যাটির সাথে “অবস্থান করেছিলেন” (labitha) শব্দটি যুক্ত, যা অধিকাংশ আলেম দাওয়াতের সময়কাল হিসেবে নেন।

  3. রূপক বা প্রতীকী অর্থ

    • কিছু আধুনিক গবেষকরা মনে করেন, “৯৫০ বছর” আসলে প্রতীকী সংখ্যা।

    • প্রাচীন সেমিটিক সাহিত্যে হাজার সংখ্যা অনেক সময় দীর্ঘতা বা অনন্তকাল বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। তাই এটি হয়তো “অত্যন্ত দীর্ঘ সময়” বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।


হাদীস ও অন্যান্য রেফারেন্স

  • সরাসরি “৯৫০ বছর” নিয়ে সহীহ হাদীসে অতিরিক্ত বিস্তারিত নেই।

  • তবে বর্ণনা আছে, নূহ (আঃ)-এর মৃত্যু সময়ে তিনি তাঁর সন্তানদের তাওহীদের উপদেশ দেন এবং দুনিয়াকে “একটি ছায়াঘর” হিসেবে বর্ণনা করেন (মুসলিম শরীফ, কিতাবুল ফিতান)।


তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি (বাইবেলিক টেক্সট)

  • বাইবেলে (Genesis 9:29) বলা আছে, নূহের আয়ুষ্কাল ছিল ৯৫০ বছর

  • তবে পার্থক্য হলো:

    • কুরআনে এই সময়কে “তাঁর জাতির মাঝে অবস্থান/দাওয়াত” হিসেবে বলা হয়েছে।

    • বাইবেলে সরাসরি এটি তাঁর জীবনকাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


আধুনিক গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি

  • অনেকে বলেন, প্রাচীন মানুষের আয়ুষ্কাল এখনকার তুলনায় বেশি হতে পারে।

  • জেনেটিক ও পরিবেশগত অবস্থার কারণে মানবজীবনের প্রাথমিক যুগে দীর্ঘায়ু সম্ভব ছিল—এমন তত্ত্ব কিছু ইসলামি চিন্তাবিদ তুলে ধরেছেন।

  • আধুনিক ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে প্রতীকী বা মিথোলজিকাল সময়রেখা বলা হয়, তবে মুসলিম আলেমগণ একে বাস্তব সত্য বলে মানেন।


শিক্ষণীয় দিক:

  • সংখ্যাটি যেভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক না কেন, আসল বার্তা হলো:

    • নূহ (আঃ) চরম ধৈর্য ও অধ্যবসায় নিয়ে শত শত বছর মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকতে থেকেছেন।

    • এটি দাওয়াতের কাজে ধৈর্যের চূড়ান্ত উদাহরণ।





নূহ (আঃ) — একটি গভীর, গবেষণাধর্মী জীবনী -পর্ব-০২

বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে

 



উদ্দেশ্য ও পরিধি:
এই নথিটি কোরআনীয় বর্ণনা, ক্লাসিকাল তাফসীর-রচনাগুলি (সনদের বিচারে নয় বরং বর্ণনামূলক), হাদীস সাহিত্যের সারসংক্ষেপ এবং ইস্রাঈলীয়াত/বাইবেলিক ঐতিহ্যের তুলনামূলক পর্যালোচনার আলোকে নুহ (আঃ)-এর জীবনীকে গবেষণামুখীভাবে উপস্থাপন করে। এখানে ইতিহাস, দার্শনিক ও থিওলজিকাল পাঠ, এবং আধুনিক বিতর্ক—সবকিছুই সংহতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। লক্ষ্য হলো কেবল গল্প বলা নয়, বরং উৎসসমূহ ও তাদের ব্যাখ্যার ভিন্নতা তুলে ধরা।


সূচিপত্র

  1. সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও কোরআনিক উৎস

  2. উৎস ও পাঠ্যভিত্তি (কোরআন, তাফসীর, হাদীস, ইস্রাঈলীয়াত)

  3. বংশপরিচয়, কালক্রম ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

  4. দাওয়াত: বিষয়বস্তু, পদ্ধতি ও প্রতিক্রিয়া

  5. "৯৫০ বছর"—অর্থ ও ব্যাখ্যা

  6. কিশ্তি/নৌকা: নির্দেশ, নির্মাণ ও যৌক্তিকতা

  7. মহাপ্লাবন: ঘটনা-প্রবাহ ও ফলাফল

  8. নোহের পরিবার ও যাদের রক্ষা/ধ্বংস

  9. কণ্ঠস্বরসমূহ: ক্লাসিকাল তাফসীরের বর্ণনা

  10. তুলনামূলক অধ্যায়—বাইবেল বনাম কোরআনিক বর্ণনা

  11. আধুনিক বিতর্ক ও বৈজ্ঞানিক প্রশ্নাবলী

  12. থিয়োলজিক্যাল পাঠ ও আইনি/নৈতিক প্রভাব

  13. উপসংহার

  14. পরামর্শিত পাঠ


1. সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও কোরআনিক উৎস

নুহ (আঃ) কোরআনে বারবার বর্ণিত একজন অনুপ্রেরিত রসূল—যাঁকে আল্লাহ বহু বৎসর ধরে তাঁর কওমকে তাওহীদে (একত্ববাদে) আহ্বান করতে পাঠিয়েছিলেন। কোরআনে নুহকে আল্লাহর কাছে সাবুর (ধৈর্যশীল) ও আলোচ্য দাইয়্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধান কোরআনিক সূরা-সমূহ যেখানে নোহের কাহিনী আসে: সূরা নূহ (৭১), সূরা হুদ (১১), সূরা আল-আনকাবুত (২৯ — বিশেষত আয়াত ১৪), সূরা আস-সাফফাত (৩৭), সূরা আল-কামার (৫৪) এবং সূরা আল-রূহ (উল্লেখযোগ্য অংশ)। এছাড়া নুহের ঘটনাক্রম সম্পর্কে হাদীস ও তফসীর-গ্রন্থগুলিতেও বিস্তৃত বর্ণনা পাওয়া যায়।

2. উৎস ও পাঠ্যভিতি (সংক্ষেপে)

  • কোরআন: মুখ্য ও অবিচলিত উৎস; বুনিয়াদী বিবরণ ও মূল বার্তা কোরআনে।

  • তাফসীর: ইবন কাসীর, আল-তাবারি, আল-কুরতুবি প্রভৃতি ক্লাসিকাল তাফসীর বিস্তৃত ব্যাখ্যা প্রদান করে—অনেকে কোরআনিক আয়াতের সাথে ইস্রাঈলীয়াত (প্রাচীন ইয়াহুদী/খ্রিস্টীয় রীতির কাহিনী) যোগ করে অতিরিক্ত বিবরণ যোগ করেছেন।

  • হাদীস সাহিত্য: সরাসরি নোহ সম্পর্কিত কয়েকটি হাদীস দেখা যায়—বিশেষত তাফসীরশ্রেণীতে উদ্ধৃত। হাদীসগুলো প্রধানত নৌকার অবতরণস্থল ও নুহের কিছু গুণের উপর আলোকপাত করে।

  • ইস্রাঈলীয়াত / বাইবেল: কেবল ইতিচ্ছুক তুলনামূলক বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত; বাইবেলে (জেনেসিস) নোহের গল্প আছে, তবে কোরআনিক বিবরণ ও বিবরণীর ভঙ্গি আল্লাহ-প্রেরিত নূর ও শাস্ত্রীয় দাবির আলাদা কাঠামো অনুসরণ করে।

3. বংশপরিচয়, কালক্রম ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

কোরআন সরাসরি নুহের ঐতিহাসিক তারিখ বা সমকালীন কাল নির্দিষ্ট করে না। মুসলিম ঐতিহ্যে প্রায়শই তাঁর পিতার নাম লামিক ইত্যাদি হিসেবে চিহ্নিত হয়—কিন্তু এগুলো মূল কোরআনিক তথ্য নয় এবং বিভিন্ন ঐতিহ্যভিত্তিক বর্ণনায় পরিবর্তিত হতে দেখা যায়। ঐতিহাসিক-প্যালিওলজিক্যাল (প্রাগৈতিহাসিক) প্রেক্ষাপট হিসেবে নুহকে সাধারণত প্রাচীন সময়ের একজন মহান রসূল হিসেবে ধরা হয়—যিনি সমাজের ব্যাপক শিরক-প্রবণতা (মূর্তিপূজা, বহু-ঋতুবাদী আচার) বিনষ্ট করতে আহ্বান করেন।

4. দাওয়াত: বিষয়বস্তু, পদ্ধতি ও প্রতিক্রিয়া

নুহের দাওয়াতের মূল অনুভূতিগুলি কোরআনে স্পষ্ট:

  • তাওহীদ (দিব্য একত্ববাদ): আল্লাহ বাদে আর কাউকে ইবাদতের যোগ্য নয়—এটাই তাঁর মূল আহ্বান।

  • নৈতিক সংস্কৃতি-সংস্কার: বিশৃঙ্খলতা, দুনিয়াবাদী আচরণ, অন্যায় প্রভৃতির বিরুদ্ধে আপত্তি।

  • ধৈর্য ও সততা: নুহ বারবার দীর্ঘকালীন ধৈর্য দেখান; কোরআন তার ত্যাগ ও মজবুত ইমানের কথা বারবার স্মরণ করে।

পদ্ধতি: গোপনে ও প্রকাশ্যে আহ্বান, যুক্তি-তর্ক, অভিজ্ঞতা-ঘটনার স্মরণ (পূর্বপুরুষদের অবস্থার বর্ণনা), এবং ধৈর্যশীলতা।

পার্থক্য/প্রতিক্রিয়া: একটি ক্ষুদ্র ঈমানদার সম্প্রদায় ছাড়া অধিকাংশ কওম তাঁকে প্রত্যাখ্যান করে—উপহাস, অবমাননা, এবং তৎপর বাধা।

5. "৯৫০ বছর"—অর্থ ও ব্যাখ্যা

কোরআন (সূরা আল-আনকাবুত 29:14) বলেছে (প্রাথমিক অনুবাদ): “আমরা নিশ্চিতভাবেই নূহকে তাঁর কওমের মাঝে প্রেরণ করেছিলাম; অতঃপর তিনি তাদের মাঝে এক হাজার বছর ঘটনাকাল (অর্থাৎ ৯৫০ বছর) অবস্থান করেছিলেন।”

ব্যাখ্যার ভিন্নতা:

  1. মিশন-দৈর্ঘ্য হিসেবে গ্রহণ: ক্লাসিকাল তাফসীর অনেকে বলেন এ সংখ্যা তাঁর দাওয়াতের মোট সময়কাল নির্দেশ করে—অর্থাৎ তিনি প্রায় ৯৫০ বছর পর্যন্ত প্রচার চালিয়েছিলেন।

  2. জীবনকাল হিসেবে ব্যাখ্যা: অনেকে এটিকে তাঁর মোট আয়ুষ্কাল বা একটি বড়াংশ হিসেবে দেখেন।

  3. রূপক বা ঐতিহাসিক রেকর্ড-সংকেত: কিছু আধুনিক পণ্ডিত সংখ্যা-টিকে আংশিক রূপকে বা ঐতিহাসিক রেকর্ডে ব্যবহৃত দীর্ঘ অনুসৃত কাল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

তাফসীরী ঐতিহ্য কোরআনিক সংখ্যাকে সাধারণত আক্ষরিকভাবে নেয় এবং নুহের ধৈর্য ও দীর্ঘকালীন প্রচেষ্টা প্রদর্শনের জন্য এটি উদ্ধৃত করে। ইতিহাসগত নির্দিষ্ট বছর-চক্র নির্ধারণ করা কোরআন থেকেই সরাসরি সম্ভব নয়—তাই বিবিধ ব্যাখ্যা আছে।

6. কিশ্তি/নৌকা: নির্দেশ, নির্মাণ ও যৌক্তিকতা

কোরআনীয় বর্ণনায় আল্লাহ নুহকে নৌকা বানানোর নির্দেশ দেন। কোরআন কিভাবে বানাতে হবে তা বিস্তারিত দেয় না—তবে হাদীস ও ইস্রাঈলীয়াতভিত্তিক তাফসীরে নৌকার উপকরণ, বৃহত্তর আকৃতি ও নির্মাণের উপায় সম্পর্কে প্রচলিত বর্ণনা প্রচলিত আছে।

কিছু গবেষণামূলক পয়েন্ট:

  • আদেশগত মূলনীতি: কোরআন নির্দেশ দেয়—নির্দেশ মেনে বানান, মানুষের উপহাস থাকুক বা না থাকুক তিনি অবশ্যই বানান।

  • প্রযুক্তিগত বাস্তবতা: কোরআন নৌকার নির্মাণকে অলৌকিক আদেশ-সম্পন্ন এক কর্ম হিসেবে উপস্থাপন করে—বিজ্ঞানের দিক থেকে এটি তত্ত্ব-পরীক্ষার বিষয় নয়; বরং এটি ঐতিহাসিক-ঐক্যবাদী বর্ণনা।

  • জীবজন্তু নিয়ে প্রবেশ: কোরআন বলেছে প্রত্যেক প্রজাতির থেকে জোড়া জোড়া নেয়া হয়—ক্লাসিক তফসীরে এটি ব্যাখ্যা করা হয় যে আল্লাহ উপায় করে দেন যাতে প্রয়োজনীয় প্রাণীরা জাহাজে পৌঁছাতে পারে।

7. মহাপ্লাবন: ঘটনা-প্রবাহ ও ফলাফল

কোরআনীয় বর্ণনা অনুসারে প্লাবনের প্রধান পয়েন্টগুলো:

  • আকাশ থেকে ভারী বর্ষণ।

  • মাটি থেকে উৎসের (ফোয়ারা) উদ্গীরণ—(কোরআনে আসমান ও আরজ উভয়ই পানি ছাড়ে বলা হয়)।

  • জাহাজ ভাসতে থাকে ও আল্লাহর নির্ধারিত অন্যান্য ব্যক্তিরাও তাতে উঠে যায়।

  • অপজ্ঞীনরা ডুবে যায়—এদের মধ্যে কোরআনীয় বিবরণে এমন এক পুত্র ও কিছু ঘনিষ্ঠ লোকও ছিলেন যারা ডুবে মারা যান।

  • শেষ পর্যায়ে জাহাজ জুডী পর্বতে থামে (কোরআনি বর্ণনা অনুযায়ী)।

এই ঘটনার উদ্দেশ্য কোরআনে হলো—দোষী জাতিকে শাস্তি, ঈমানদারগণের রক্ষা এবং আল্লাহর ক্ষমতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা।

8. নোহের পরিবার: রক্ষা ও ধ্বংস

কোরআন স্পষ্টভাবে জানায় যে নুহের সকল আত্মীয়রাই রক্ষা পায়নি—একজন পুত্র (কিছু তাফসীরে নামকরণ করা হয়, তবে কোরআনে নাম প্রদান নেই) যারা ডুবে যায় এবং ছিলেন অবিশ্বাসী। কিছু তফসীর ও ঐতিহ্যে তাঁর পত্নীও অবিশ্বাসীরূপে বর্ণিত হয়েছে—কিন্তু কোরআন প্রধানত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও ইমানের গুরুত্বকে জোর দেয়।

9. কোরআন ও তাফসীর: ক্লাসিকাল বর্ণনা ও ভিন্নমত

ক্লাসিকাল মুফাস্সিরীন (যেমন ইবন কাসীর, আল-তাবারি, আল-কুরতুবি) কাহিনীটিকে কোরআনকেন্দ্রিক রেখে ইস্রাঈলীয়াত থেকে অতিরিক্ত বিবরণ যোগ করেছেন—যেমন নৌকার ডাইমেনশন, প্রাণীর তালিকা, কুসংস্কারমুখী কওমের রাজনৈতিক-সামাজিক চিত্র ইত্যাদি। এই অতিরিক্ত বিবরণ কখনো কখনো তফসীরের মধ্যে বিতর্কিত; আধুনিক বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার সঙ্গে এগুলোর সরাসরি মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।

10. তুলনামূলক অধ্যায়: বাইবেল বনাম কোরআনিক বর্ণনা

  • সাদৃশ্য: উভয় সূত্রেই—দাওয়াত, প্রত্যাখ্যান, নৌকা, পশুপাখির জোড়া, প্লাবন ও নৌকার স্থলাভিষ্কার—মিল আছে।

  • ভিন্নতা: কোরআন কখনো কখনো নোহের ব্যক্তিগত জীবন বা নৌকার প্রযুক্তিগত বিবরণে সংক্ষিপ্ত; এটি মূলত নৈতিক ও ঈমান-সম্পর্কিত দিকগুলোতে গুরুত্ব দেয়। বাইবেলায় (জেনেসিস) কিছু অতিরিক্ত বিচিত্র নাম ও বিবরণের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

11. আধুনিক বিতর্ক ও বৈজ্ঞানিক প্রশ্নাবলী

  • গ্লোবাল বনাম লোকাল প্লাবন: ঐতিহ্যগত ইসলামী ব্যাখ্যাগুলোতে প্লাবনকে বিশ্বব্যাপী (global) ভাবা হয়েছিল; তবে আধুনিক আলোচনা-সমষ্টিতে কিছু পণ্ডিত লোকাল ভৌগোলিক প্লাবনও সম্ভাব্য বিবেচনা করেন—কিন্তু ধর্মীয় পাঠ্য নিজের দর্শনিক লক্ষ্যই প্রধানত।

  • নৌকার ভৌত বাস্তবতা: আধুনিক পূর্ণবৃন্তীয় নৌবিজ্ঞান থেকে নৌকার একাধিক বাস্তবিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়; কিন্তু অনেকে এটিকে অলৌকিক অলঙ্কার হিসেবে দেখেন—অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছায় ব্যবস্থা হয়।

  • আর্কিওলজিক্যাল অনুসন্ধান: বাইবেলের প্রেক্ষিতে আরাট/জুডি পর্বতের আশেপাশে নানা অনুসন্ধান হয়েছিল; মুসলিম বিশ্লেষকরা সতর্ক—কিন্তু সব অনুসন্ধান নির্ধারক প্রমাণ এনে দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

অতএব আধুনিক বৈজ্ঞানিক আলোচনা ও কোরআনিক আখ্যান একে অপরকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপন করে না—তারা ভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করে: কোরআন দার্শনিক-এথিক্যাল শাস্ত্র, আর বিজ্ঞান প্রাকৃতিক ব্যাখ্যা। অনেক মসনদে উভয় প্রশ্নকে আলাদা রেখে সংহত ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রচেষ্টা দেখা যায়।

12. থিওলজিক্যাল পাঠ ও আইনি/নৈতিক প্রভাব

নুহ (আঃ)-এর গল্প থেকে ইসলামি তত্ত্ব ও আইন—বিশেষত দাওয়াত-ইলাল (دعوة), ধৈর্য, সম্প্রদায়গত ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রয়োগ, এবং আল্লাহর শাস্তি ও রহমতের সম্পর্ক—এগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পাঠ পাওয়া যায়। এ ছাড়া নুহের ধৈর্য ও অবিচলিত আমল দাওয়াতকর্মীদের জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণা।

13. উপসংহার

নুহ (আঃ)-এর কাহিনী কোরআনিক ন্যারেটিভে কেবল অতীতের এক ঘটনা নয়—এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎকেও হুমকি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে নির্দেশ দেয়: সমাজ যখন নৈতিক ও ধর্মীয় শৃঙ্খলা হারায়, তখন আল্লাহর নির্দেশ অনুসরণ করবে এমন ব্যক্তিদের রক্ষা ও দুষ্টদের পুনরায় সংশোধন বা শাস্তি—এই মৌলিক থিমগুলো বারবার উঠে আসে।

14. পরামর্শিত পাঠ (বৃহত্তর মনোযোগের জন্য)

  • কোরআন অধ্যয়ন (সূরা নূহ, সূরা হুদ, সূরা আল-আনকাবুত, সূরা আস-সাফফাত, সূরা আল-কামার) — আয়াতগুলোর তাফসীরসহ।

  • তাফসীর: Tafsir Ibn Kathir, Tafsir al-Tabari, Al-Qurtubi (AR্মান/ইংরেজি অনুবাদ পাওয়া গেলে)।

  • আধুনিক বিশ্লেষণ: কোরআন-তাফসীর ভিত্তিক সমকালের গবেষণা পত্র ও ইসলামী থিওলজি সংক্রান্ত গবেষণা।


চূড়ান্ত মন্তব্য

এই দস্তাবেজটি কোরআন-ভিত্তিক ব্যাখ্যা, ক্লাসিকাল তাফসীর ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব মিশ্রিতভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে—ইতিহাসিক/বৈজ্ঞানিক দাবি এখানে সরাসরি প্রমাণের দাবি করে না; বরং এটি ধর্মীয় পাঠ্য ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন স্তরকে আলোকপাত করে। আপনি চাইলে আমি কোনো নির্দিষ্ট অংশ (যেমন: কিশ্তি-নির্মাণ সম্পর্কিত তফসীর, ‘৯৫০ বছর’ এর পৃথক তফসীরসমূহ, অথবা বাইবেলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ) আরও গভীরভাবে প্রসারিত করে সূত্র-সহ উপস্থাপন করব।



নুহ (আঃ)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী (সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন) পর্ব-০১

বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে



নবী নুহ (আঃ) ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাসূল। কুরআন মাজীদে তাঁর কাহিনী বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

জন্ম ও পরিচয়
নুহ (আঃ)-এর পিতার নাম ছিল লামিক।

তিনি আদম (আঃ)-এর দশম পুরুষ বংশধর।

আল্লাহ তাঁকে এমন এক জাতির কাছে প্রেরণ করেছিলেন, যারা বহু দেব-দেবী পূজা করত। তারা ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক ও নাসর নামক মূর্তির পূজা করত (সূরা নূহ 71:23)।

দাওয়াত ও সংগ্রাম
নুহ (আঃ) তাঁর কওমকে আল্লাহর একত্ববাদে দাওয়াত দেন।

তিনি প্রায় ৯৫০ বছর মানুষকে দাওয়াত দিয়ে গেছেন (সূরা আনকাবুত 29:14)।

দিন-রাত, গোপনে-প্রকাশ্যে তিনি মানুষকে তাওহীদে আহ্বান করতেন।

কিন্তু অল্প কিছু মানুষ ব্যতীত অধিকাংশই তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে, তাঁকে উপহাস ও অবজ্ঞা করে।

নৌকা নির্মাণ
আল্লাহ নুহ (আঃ)-কে নির্দেশ দেন একটি নৌকা (কিশ্তি/জাহাজ) বানাতে।

কাফিররা তাঁকে নিয়ে উপহাস করত।
আল্লাহর নির্দেশে তিনি নৌকায় তাঁর পরিবার, ঈমানদারগণ এবং প্রত্যেক প্রাণীর জোড়া জোড়া তুলে নেন।

মহাপ্লাবন
অবশেষে আল্লাহ আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং ভূমি থেকে পানি উথলে ওঠে।

পুরো পৃথিবী প্লাবিত হয়।
নৌকায় যারা ছিল তারা রক্ষা পায়, আর যারা অবিশ্বাসী ছিল তারা সবাই ডুবে যায়।
এমনকি তাঁর এক পুত্র (কানআন) অবিশ্বাসের কারণে ডুবে মারা যায় (সূরা হুদ 11:42–43)।

প্লাবনের পর
পানি নেমে গেলে নৌকা জুদী পাহাড়ে (বর্তমান তুরস্কের আরারাত অঞ্চলে) থামে।
এরপর নুহ (আঃ) ও তাঁর অনুসারীরা নতুন করে মানব সভ্যতার সূচনা করেন।

মৃত্যুবরণ
নুহ (আঃ) দীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করার পর মৃত্যুবরণ করেন।

হাদীস অনুযায়ী, মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর সন্তানদের তাওহীদের দাওয়াত আঁকড়ে ধরার ও শিরক থেকে বাঁচার উপদেশ দিয়ে যান।

কুরআনে নুহ (আঃ)
কুরআনের বিভিন্ন সূরায় নুহ (আঃ)-এর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে:

সূরা হুদ (১১)
সূরা আশ-শু'আরা (২৬)
সূরা আল-আনকাবুত (২৯)
সূরা আস-সাফফাত (৩৭)
সূরা আল-কামার (৫৪)

সূরা নূহ (৭১)

✅ শিক্ষা:
নুহ (আঃ)-এর জীবনী থেকে আমরা শিখি—

সত্য পথে দৃঢ় থাকতে হবে।
দীর্ঘ ধৈর্য ও ত্যাগ ছাড়া দাওয়াতের কাজ সফল হয় না।
ঈমানদারদের রক্ষা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিশ্চিত, আর কাফিরদের পরিণতি ধ্বংস।

আপনি কি চান আমি তাঁর জীবনীটি গল্প আকারে শিশুদের জন্য সহজ ভাষায় লিখে দিই, নাকি গভীর গবেষণাধর্মীভাবে বিস্তারিত তুলে ধরি?


মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

আজকের নামাজের সময়সূচী

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
আজকের নামাজের সময়সূচী
বার দেখা হয়েছে .
Prayer Times
Imsak
Fajr
Dhuhr
Asr
Maghrib
Isha


সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

ইমাম মাহাদী আগমন বিস্তারিত বর্ণনা

সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে


ক্রম ঘটনা/আলামত বিস্তারিত বর্ণনা
পৃথিবীতে জুলুম ও ফিতনা মানুষ ধর্ম থেকে দূরে সরে যাবে, অন্যায় ও হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে, মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি।
আরব অঞ্চলে যুদ্ধ ও অস্থিরতা মক্কা, মদিনা ও সিরিয়ার চারপাশে বড় যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা।
খলিফার মৃত্যু ও উত্তরাধিকার বিরোধ একজন খলিফা মারা যাবে, উত্তরাধিকারের বিষয়ে মতভেদ ও বিবাদ সৃষ্টি হবে।
কালো পতাকা ও খোরাসান বাহিনী পূর্ব দিক থেকে কালো পতাকা উত্থিত হবে, যা ইমাম মাহদীর আগমনের সংকেত।
সাফিয়ানির আবির্ভাব সিরিয়ার একজন দুষ্ট নেতা (সাফিয়ানি) বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
ইমাম মাহদীর আগমন মক্কায় মানুষ তাঁকে বায়াত করবে, তিনি পৃথিবীতে ন্যায় ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করবেন।
দাজ্জালের আবির্ভাব দাজ্জাল ফিতনা ছড়াবে, মানুষের ঈমান নষ্ট করার চেষ্টা করবে।
নবী ঈসা (আ.)-এর অবতরণ ঈসা (আ.) আকাশ থেকে অবতরণ করবেন, মাহদীর পেছনে নামাজ আদায় করবেন এবং দাজ্জালকে পরাজিত করবেন।
শান্তি ও ন্যায়পরায়ণ শাসন পৃথিবীতে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সম্পদ সমৃদ্ধি। ইসলাম সর্বত্র বিস্তার লাভ করবে।
১০ শাসনকাল মাহদীর শাসনকাল সাধারণত ৭–৯ বছর, কিছু বর্ণনায় আরও বেশি।


দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়

সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে



হাদিসে খুব স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। নিচে মূল বিষয়গুলো দিলাম—


📖 ১. সূরা কাহফ পাঠ করা

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

    "যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে।"
    (সহিহ মুসলিম)

👉 অন্য বর্ণনায় আছে: সূরা কাহফের শেষের ১০ আয়াত পাঠ করলেও দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।

সূরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত (আরবি, উচ্চারণ ও অর্থসহ) দিচ্ছি। এগুলো মুখস্থ ও নিয়মিত পাঠ করলে দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।


📖 সূরা কাহফ (১৮:১-১০)

১.

ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ ٱلَّذِيٓ أَنزَلَ عَلَىٰ عَبۡدِهِ ٱلۡكِتَـٰبَ وَلَمۡ يَجۡعَل لَّهُۥ عِوَجَاۜ ١
উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আঞ্জালা ‘আলা ‘আবদিহিল কিতাবা, ওয়া লাম ইয়াজ‘আল লাহূ ‘ইওয়াজা।
অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।


২.

قَيِّمٗا لِّيُنذِرَ بَأۡسٗا شَدِيدٗا مِّن لَّدُنۡهُ وَيُبَشِّرَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٱلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ أَنَّ لَهُمۡ أَجۡرًا حَسَنٗا ٢
উচ্চারণ: কাইয়্যিমান লিইউনযিরা বা’সান শাদীদাম মিন লাদুনহু, ওয়া ইউবাশশিরাল মুমিনীনাল্লাযীনা ইয়ামালুনাস-সালিহাতি আন্না লাহুম আজরান হাসানা।
অর্থ: সোজাসাপ্টা (গ্রন্থ), যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে কঠিন শাস্তির সতর্কতা দিতে পারেন এবং সৎকর্মশীল মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিতে পারেন যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম পুরস্কার।


৩.

مَّـٰكِثِينَ فِيهِ أَبَدٗا ٣
উচ্চারণ: মাকিসীনা ফীহি আবাদা।
অর্থ: তারা তাতে চিরকাল অবস্থান করবে।


৪.

وَيُنذِرَ ٱلَّذِينَ قَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ وَلَدٗا ٤
উচ্চারণ: ওয়া ইউনযিরাল্লাযীনা কালূত্তাখাযাল্লাহু ওয়ালাদা।
অর্থ: এবং তিনি তাদের সতর্ক করবেন যারা বলে, "আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।"


৫.

مَّا لَهُم بِهِۦ مِنۡ عِلۡمٖ وَلَا لِأٓبَآئِهِمۡۚ كَبُرَتۡ كَلِمَةٗ تَخۡرُجُ مِنۡ أَفۡوَٲهِهِمۡۚ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبٗا ٥
উচ্চারণ: মা লাহুম বিহি মিন ‘ইলমিন ওয়া লা লিআবাইহিম; কাবুরাত কালিমাতান তাকহারুজু মিন আফওয়াহিহিম; ইন্যা কূলূনা ইল্লা কাজিবা।
অর্থ: এ ব্যাপারে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, আর তাদের পূর্বপুরুষদেরও ছিল না। তাদের মুখ থেকে যে কথা বের হয় তা গুরুতর মিথ্যা। তারা শুধু মিথ্যাই বলে।


৬.

فَلَعَلَّكَ بَـٰخِعٞ نَّفۡسَكَ عَلَىٰٓ ءَاثَـٰرِهِمۡ إِن لَّمۡ يُؤۡمِنُواْ بِهَـٰذَا ٱلۡحَدِيثِ أَسَفًا ٦
উচ্চারণ: ফা-লা‘আল্লাকা বাখিঅুন নাফসাকা ‘আলা আ’সারিহিম ইল্লাম ইউমিনূ বিহাযাল হাদীসি আসাফা।
অর্থ: (হে মুহাম্মদ ﷺ) হয়তো তুমি এ কথায় দুঃখে নিজের প্রাণ ধ্বংস করে ফেলবে যদি তারা এতে ঈমান না আনে।


৭.

إِنَّا جَعَلۡنَا مَا عَلَى ٱلۡأَرۡضِ زِينَةٗ لَّهَا لِنَبۡلُوَهُمۡ أَيُّهُمۡ أَحۡسَنُ عَمَلٗا ٧
উচ্চারণ: ইন্না জা‘আলনা মা ‘আলাল আরদি জীনাতাল্লাহা লিনাবলুয়াহুম আয়্যুহুম আহসানু ‘আমালা।
অর্থ: আমি পৃথিবীর যা কিছু আছে তা সৌন্দর্য করেছি, যাতে আমি পরীক্ষা করতে পারি তাদের মধ্যে কে উত্তম কাজ করে।


৮.

وَإِنَّا لَجَـٰعِلُونَ مَا عَلَيۡهَا صَعِيدٗا جُرُزًا ٨
উচ্চারণ: ওয়া ইন্না লাজা‘ইলূনা মা ‘আলাইহা সা‘ঈদান জুরুজা।
অর্থ: আর অবশ্যই আমি তাতে যা কিছু আছে সবকে একদিন ধূলিসাৎ করে দেব।


৯.

أَمۡ حَسِبۡتَ أَنَّ أَصۡحَـٰبَ ٱلۡكَهۡفِ وَٱلرَّقِيمِ كَانُواْ مِنۡ ءَايَـٰتِنَا عَجَبًا ٩
উচ্চারণ: আম হাসিবতা আন্না আসহাবাল কাহফি ওয়ার রাকীমি কাআনূ মিন আয়াতিনা ‘আজাবা।
অর্থ: তুমি কি মনে করো যে গুহাবাসী ও রাকীম আমার নিদর্শনসমূহের মধ্যে আশ্চর্যজনক ছিল?


১০.

إِذۡ أَوَى ٱلۡفِتۡيَةُ إِلَى ٱلۡكَهۡفِ فَقَالُواْ رَبَّنَآ ءَاتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحۡمَةٗ وَهَيِّئۡ لَنَا مِنۡ أَمۡرِنَا رَشَدٗا ١٠
উচ্চারণ: ইয আওয়াল ফিতইয়াতু ইলাল কাহফি ফাকালূ রাব্বানা আ-তিনা মিল্লাদুনকা রাহমাতাও ওয়া হাইই লানা মিন আমরিনা রাশাদা।
অর্থ: যখন ওই যুবকেরা গুহায় আশ্রয় নিল, তখন তারা বলল: “হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের প্রতি তোমার পক্ষ থেকে দয়া বর্ষণ কর এবং আমাদের ব্যাপারে সঠিক পথ প্রস্তুত করে দাও।”


🌿 এগুলো প্রতিদিন পড়া ও মুখস্থ করার চেষ্টা করলে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।


🤲 ২. দোয়া পাঠ করা

নবী করীম ﷺ প্রতিটি নামাজের শেষে (তাশাহ্‌হুদের পরে) এই দোয়া পড়তে বলেছেন—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

উচ্চারণ:
"আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিন ‘আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন ‘আযাবিল কবর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল।"

অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাই তোমার কাছে জাহান্নামের শাস্তি থেকে, কবরের শাস্তি থেকে, জীবিত থাকা ও মৃত্যুকালের ফিতনা থেকে, আর মসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে।

(সহিহ মুসলিম, সহিহ বুখারি)


🕋 ৩. মক্কা-মদিনায় দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না

  • রাসূল ﷺ বলেছেন, মদিনার পথে ফেরেশতারা পাহারা দেবে। তাই দাজ্জাল কখনোই মক্কা ও মদিনায় ঢুকতে পারবে না।

🛡 ৪. দৃঢ় ঈমান রাখা

  • দাজ্জাল মানুষের ঈমান নষ্ট করার চেষ্টা করবে। তাই আল্লাহর তাওহীদে দৃঢ় বিশ্বাসরাসূল ﷺ এর সুন্নাহ অনুসরণ করা সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

✨ সারকথা:
দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচতে চাইলে —

  • সূরা কাহফের প্রথম বা শেষ ১০ আয়াত পড়া/মুখস্থ রাখা
  • প্রতিদিন নামাজ শেষে দোয়া পড়া
  • দৃঢ় ঈমান বজায় রাখা


দাজ্জালের আগমন সম্পর্কিত কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত লক্ষণগুলো সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো

সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে



📌 দাজ্জালের বৈশিষ্ট্য

  1. এক চোখ অন্ধ থাকবে – হাদিসে এসেছে, তার ডান চোখ অন্ধ হবে এবং অন্য চোখ আঙুরের মতো বের হবে।
  2. কপালে লেখা থাকবে "কাফির (ك ف ر)" – মুমিনরা সেটা সহজেই চিনতে পারবে, অশিক্ষিত হলেও।
  3. বিশাল দেহ ও অস্বাভাবিক শক্তি থাকবে।
  4. অলৌকিক ক্ষমতা প্রদর্শন করবে – যেমন বৃষ্টি নামানো, ফসল ফলানো, বা মানুষকে ধন-সম্পদ দেওয়া।
  5. নিজেকে খোদা দাবি করবে।

📌 দাজ্জালের আগমনকালে অবস্থা

  1. পৃথিবীতে ভয়াবহ ফিতনা দেখা দেবে।
  2. খরা ও দুর্ভিক্ষ হবে – মানুষ পানীয় জল ও খাদ্যের জন্য কষ্ট পাবে।
  3. দাজ্জাল মানুষকে প্রতারণা করবে—যারা তার অনুসারী হবে তাদের খাওয়া-দাওয়া দিবে, আর যারা অস্বীকার করবে তাদের কষ্ট পেতে হবে।

📌 দাজ্জালের আগমন সম্পর্কিত স্থান

  • হাদিসে এসেছে, দাজ্জাল খোরাসান অঞ্চলের (বর্তমান ইরান/আফগানিস্তান) দিক থেকে বের হবে।
  • সে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করবে, মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না

📌 দাজ্জালের মৃত্যু

  • অবশেষে ঈসা (আঃ) পৃথিবীতে অবতীর্ণ হবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন।
  • স্থানটি হবে লুদ দ্বারে (বর্তমান ফিলিস্তিনে)।

🔖 হাদিস সূত্র:

  • সহিহ মুসলিম, সহিহ বুখারি, আবু দাউদ, তিরমিজি প্রভৃতি গ্রন্থে দাজ্জালের উল্লেখ আছে।

👉 সংক্ষেপে: দাজ্জাল এখনো আসেনি, তবে হাদিস অনুযায়ী তার আগমন হবে কিয়ামতের বড় নিদর্শনগুলোর একটি।



রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

কুরআন ও কুরআনের মর্যাদা

রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে


  • প্রসঙ্গ কথা
  • কুরআন ও কুরআনের মর্যাদা অনুধাবনের উপায়
  • কুরআনের মূল আলোচ্য
  • কুরআন অধ্যয়নের পদ্ধতি
  • কুরআনের প্রানসত্তা অনুধাবন  
  • কুরআনী দাওয়াতের বিশ্বজনীনতা
  • পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান
  • কুরআন শিক্ষাদানকারীর মর্যাদা
  • কুরআনের শিক্ষাদান দুনিয়ার সর্বোত্তম ধন-সম্পদের চেয়েও উত্তম
  • কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ
  • কুরআন না বুঝে পাঠ করলেও কল্যাণের অধিকারী হওয়া যায়
  • যার সাথে ঈর্ষা করা যায়
  • কুরআন মাজীদের সাথে মুমিনের সম্পর্ক
  • কুরআন হচ্ছে দুনিয়া ও আখিরাতের উন্নতি লাভের মাধ্যম
  •  কুরআন তেলাওয়াতের শব্দ শুনে ফেরেশতারা সমবেত হয়
  • কুরআন পাঠকারীদের উপর প্রশান্তি নাযিল হয়
  • সূরা ফাতিহার ফযিলত
  • ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পাঠ
  • কুরআনের সবচেয়ে বড় সূরা ফাতিহা
  • কুরআনের সাহায্যে বাড়ি ঘর সজীব রাখো            
  • কুরআন মাজীদ কিয়ামতের দিন শাফায়াৎকারী হবে
  • সূরা বাকারা ও আলে ইমরান
  • কুরআনের সবচেয়ে বড় আয়াত আয়াতুল কুরসী
  • আয়াতুল কুরসীর ফযিলত সম্পর্কে একটি বিস্ময়কর ঘটনা
  • দুটি নূর
  • সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফযিলত
  • সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াতের ফযিলত
  • সূরা মুমিনুনের ফযিলত
  • সূরা ইয়াসিনের ফযিলত
  • সূরা মুলকের ফযিলত
  • সূরা ইখলাছ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান
  • সূরা ইখলাছ আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম
  • সূরা ইখলাছের প্রতি আকর্ষণ বেহেশতে প্রবেশের কারন
  • সূরা ফালাক ও সূরা নাস- দুটি অতুলনীয় সূরা
  • কুরআনের শব্দগুলোর মধ্যেও বরকত রয়েছে
  • কুরআন, আমানাত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক
  • কুরআনের অধিকারী ব্যক্তির মর্যাদা
  • যার স্মৃতিপটে কুরআন নেই সে বিরান ঘর সমতুল্য
  • কুরআনের প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশ নেকী
  • কুরআন প্রতিটি যুগের ফিতনা থেকে রক্ষাকারী
  • কুরআন চর্চাকারীর পিতামাতাকে
  • কুরআনের হেফাজত না করা হলে তা দ্রুত ভুলে যাবে
  • কুরআন মুখস্থ করে তা ভুলে যাওয়া জঘন্য অপরাধ
  • কুরআন মুখস্থকারীর দৃষ্টান্ত
  • মনোনিবেশ সহকারে ও একাগ্র চিত্তে কুরআন পাঠ করো
  • রাসুলুল্লাহর কিরাত পাঠের পদ্ধতি
  • মহান নবীর সুললিত কণ্ঠে কুরআন পাঠ
  • যে ব্যক্তি কুরআনকে নিয়ে স্বয়ং
  • রাসুলুল্লাহ সাঃ, কুরআন এবং সত্যের সাক্ষ্যদান
  • কুরআনী ইলমের বরকতে উবাই ইবনে কা’বের মর্যাদা
  • কুরআনকে শত্রুর এলাকায় নিয়ে যেও না
  • আসহাবে সুফফার ফযিলত
  • সুমধুর স্বরে কুরআন পাঠ করো
  • কুরআন পড়া শিখে তা ভুলে যাওয়া বড়ই দুর্ভাগ্যের ব্যাপার
  • তিনদিনের কম সময়ে কুরআন খতম করোনা
  • প্রকাশ্যে অথবা নিরবে কুরআন পড়ার দৃষ্টান্ত
  • কুরআনের উপর কার ঈমান গ্রহণযোগ্য  
  • নবী ( সাঃ ) এর কিরআত পাঠের ধরন
  • কতিপয় লোক কুরআনকে দুনিয়া লাভের উপায় বানিয়ে নেবে
  • গান ও বিলাপের সুরে কুরআন পাঠ করোনা
  • সুমধুর সুরে কুরআন পাঠ সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে
  • সুকণ্ঠে কুরআন পড়ার অর্থ কি
  • কুরআনকে পরকালীন মুক্তির উপায় বানাও
  • প্রাথমিক পর্যায়ে আঞ্চলিক উচ্চারনে কুরআন পাঠের অনুমতি ছিল
  • দীনী ব্যাপারে মতবিরোধের সীমা এবং সৌজন্যবোধ
  • অবিচল ঈমানের অধিকারী সাহাবী
  • পঠন ভঙ্গির পার্থক্যের কারনে অর্থের কোন পার্থক্য হয় না
  • আঞ্চলিক ভাষায় কুরআন পড়ার অনুমতি
  • কুরআন পড়ে শুনানোর পারিশ্রমিক নেয়া অবৈধ
  • কুরআনকে জীবিকা অর্জনের উপায়ে পরিনতকারী অপমানিত
  • বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম দুই সুরাকে পৃথককারী
  • সাহাবাগন কতটা দায়িত্ব নিয়ে কুরআন মুখস্ত করেছেন
  • কুরআন মাজীদ কিভাবে একত্রে জমা করা হয়েছিলো
  • প্রসঙ্গ কথা
  • কুরআন ও কুরআনের মর্যাদা অনুধাবনের উপায়
  • কুরআনের মূল আলোচ্য
  • কুরআন অধ্যয়নের পদ্ধতি
  • কুরআনের প্রানসত্তা অনুধাবন  
  • কুরআনী দাওয়াতের বিশ্বজনীনতা
  • পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান
  • কুরআন শিক্ষাদানকারীর মর্যাদা
  • কুরআনের শিক্ষাদান দুনিয়ার সর্বোত্তম ধন-সম্পদের চেয়েও উত্তম
  • কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ
  • কুরআন না বুঝে পাঠ করলেও কল্যাণের অধিকারী হওয়া যায়
  • যার সাথে ঈর্ষা করা যায়
  • কুরআন মাজীদের সাথে মুমিনের সম্পর্ক
  • কুরআন হচ্ছে দুনিয়া ও আখিরাতের উন্নতি লাভের মাধ্যম
  •  কুরআন তেলাওয়াতের শব্দ শুনে ফেরেশতারা সমবেত হয়
  • কুরআন পাঠকারীদের উপর প্রশান্তি নাযিল হয়
  • সূরা ফাতিহার ফযিলত
  • ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পাঠ
  • কুরআনের সবচেয়ে বড় সূরা ফাতিহা
  • কুরআনের সাহায্যে বাড়ি ঘর সজীব রাখো            
  • কুরআন মাজীদ কিয়ামতের দিন শাফায়াৎকারী হবে
  • সূরা বাকারা ও আলে ইমরান
  • কুরআনের সবচেয়ে বড় আয়াত আয়াতুল কুরসী
  • আয়াতুল কুরসীর ফযিলত সম্পর্কে একটি বিস্ময়কর ঘটনা
  • দুটি নূর
  • সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফযিলত
  • সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াতের ফযিলত
  • সূরা মুমিনুনের ফযিলত
  • সূরা ইয়াসিনের ফযিলত
  • সূরা মুলকের ফযিলত
  • সূরা ইখলাছ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান
  • সূরা ইখলাছ আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম
  • সূরা ইখলাছের প্রতি আকর্ষণ বেহেশতে প্রবেশের কারন
  • সূরা ফালাক ও সূরা নাস- দুটি অতুলনীয় সূরা
  • কুরআনের শব্দগুলোর মধ্যেও বরকত রয়েছে
  • কুরআন, আমানাত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক
  • কুরআনের অধিকারী ব্যক্তির মর্যাদা
  • যার স্মৃতিপটে কুরআন নেই সে বিরান ঘর সমতুল্য
  • কুরআনের প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশ নেকী
  • কুরআন প্রতিটি যুগের ফিতনা থেকে রক্ষাকারী
  • কুরআন চর্চাকারীর পিতামাতাকে
  • কুরআনের হেফাজত না করা হলে তা দ্রুত ভুলে যাবে
  • কুরআন মুখস্থ করে তা ভুলে যাওয়া জঘন্য অপরাধ
  • কুরআন মুখস্থকারীর দৃষ্টান্ত
  • মনোনিবেশ সহকারে ও একাগ্র চিত্তে কুরআন পাঠ করো
  • রাসুলুল্লাহর কিরাত পাঠের পদ্ধতি
  • মহান নবীর সুললিত কণ্ঠে কুরআন পাঠ
  • যে ব্যক্তি কুরআনকে নিয়ে স্বয়ং
  • রাসুলুল্লাহ সাঃ, কুরআন এবং সত্যের সাক্ষ্যদান
  • কুরআনী ইলমের বরকতে উবাই ইবনে কা’বের মর্যাদা
  • কুরআনকে শত্রুর এলাকায় নিয়ে যেও না
  • আসহাবে সুফফার ফযিলত
  • সুমধুর স্বরে কুরআন পাঠ করো
  • কুরআন পড়া শিখে তা ভুলে যাওয়া বড়ই দুর্ভাগ্যের ব্যাপার
  • তিনদিনের কম সময়ে কুরআন খতম করোনা
  • প্রকাশ্যে অথবা নিরবে কুরআন পড়ার দৃষ্টান্ত
  • কুরআনের উপর কার ঈমান গ্রহণযোগ্য  
  • নবী ( সাঃ ) এর কিরআত পাঠের ধরন
  • কতিপয় লোক কুরআনকে দুনিয়া লাভের উপায় বানিয়ে নেবে
  • গান ও বিলাপের সুরে কুরআন পাঠ করোনা
  • সুমধুর সুরে কুরআন পাঠ সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে
  • সুকণ্ঠে কুরআন পড়ার অর্থ কি
  • কুরআনকে পরকালীন মুক্তির উপায় বানাও
  • প্রাথমিক পর্যায়ে আঞ্চলিক উচ্চারনে কুরআন পাঠের অনুমতি ছিল
  • দীনী ব্যাপারে মতবিরোধের সীমা এবং সৌজন্যবোধ
  • অবিচল ঈমানের অধিকারী সাহাবী
  • পঠন ভঙ্গির পার্থক্যের কারনে অর্থের কোন পার্থক্য হয় না
  • আঞ্চলিক ভাষায় কুরআন পড়ার অনুমতি
  • কুরআন পড়ে শুনানোর পারিশ্রমিক নেয়া অবৈধ
  • কুরআনকে জীবিকা অর্জনের উপায়ে পরিনতকারী অপমানিত
  • বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম দুই সুরাকে পৃথককারী
  • সাহাবাগন কতটা দায়িত্ব নিয়ে কুরআন মুখস্ত করেছেন
  • কুরআন মাজীদ কিভাবে একত্রে জমা করা হয়েছিলো



বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

ভালো আচার-আচরণ পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহ তা আলা শিখিয়েছেন

বুধবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে


ভালো আচার-ব্যবহার প্রতিটি মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিচে দেয়া ৭৫ টি ভালো আচার-আচরণ যা পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহ তা আলা শিখিয়েছেন:

১। কখনো মিথ্যা বলবে না - (২২:৩০)

২। কখনো কারো উপর গুপ্তচরবৃত্তি করবে না - (৪৯:১২)

৩। বিজয়ী উচ্ছ্বাস দেখাবে না বা অনুভব করবে না - (২৮:৭৬)

৪। কাউকে অপমান করবে না - (৪৯:১১)

৫। কিছু নষ্ট করবে না - (১৭:২৬)

৬। অভাবীকে আহার করাও - (২২:৩৬)

৭। গীবত করো না - (৪৯:১২)

৮। সর্বদা নিজ শপথ রক্ষা করো - (৫:৮৯)

৯। কখনই ঘুষ খাবে না - (২৭:৩৬)

১০। আপন চুক্তিকে সম্মান করো - (৯:৪)

১১। রাগ নিয়ন্ত্রণ করো - (৩:১৩৪)

১২।পরচর্চা করো না - (২৪:১৫)

১৩। অন্যদের সম্পর্কে ভাল চিন্তা করো - (২৪:১২)

১৪। অতিথিদের প্রতি সদয় হও - (৫১:২৪ - ২৭)

১৫। বিশ্বাসীদের কষ্ট দিও না - (৩৩:৫৮)

১৬। পিতামাতার সাথে কখনো অভদ্র/রূঢ় ব্যবহার করবে না - (১৭:২৩)

১৭। ঘৃণা বা খারাপ কথাবার্তা থেকে দূরে থাকো - (২৩:৩)

১৮। মানুষের সাথে ঠাট্টা কোরো না - (৪৯:১১)

১৯। নম্রভাবে চলো - (২৫:৬৩)

২০। মন্দের জবাব ভালো দিয়ে দাও - (৪১:৩৪)

২১। যা তুমি করো না বা করতে পারো না তা বোলো না - (৬১:২)

২২। নিজের প্রতিশ্রুতি এবং বিশ্বাস রক্ষা করো - (২৩:৮)

২৩। অন্যের মিথ্যা দেবতাদের অপমান করো না - (৬:১০৮)

২৪। ব্যবসায় লোকদের সাথে প্রতারণা করো না - (৬:১৫২)

২৫। অধিকার ছাড়া জিনিস গ্রহণ কোরো না - (৩:১৬২)

২৬। অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করো না - (৫:১০১)

২৭। কৃপণতা বা বাড়াবাড়ি কোরো না - (২৫:৬৭)

২৮। অন্যকে খারাপ বা ডাকনামে ডেকো না - (৪৯:১১)

২৯। নিজেকে পবিত্র বলে দাবী করো না - (৫৩:৩২)

৩০। সুন্দরভাবে কথা বল, এমনকি অজ্ঞদের সাথেও - (২৫:৬৩)

৩১। অনুগ্রহের জন্য প্রতিদান (আর্থিক বা কিছু) চাইবে না - (৭৬:৯)

৩২। সমাবেশে অন্যদের জন্য জায়গা করে দিও - (৫৮:১১)

৩৩। শত্রু যদি শান্তি চায় তবে তা গ্রহণ করো - (৮:৬১)

৩৪। একটি ভাল পদ্ধতিতে একটি সম্ভাষন বা অভ্যর্থনার উত্তর দাও - (৪:৮৬)

৩৫। নিজ অনুগ্রহ অন্যকে স্মরণ করিয়ে দিও না - (২:২৬৪)

৩৬। যুদ্ধরত দলের মধ্যে শান্তি স্থাপন করো - (৪৯:৯)

৩৭। পরিমিত কথা বলো এবং আপন কণ্ঠস্বর নিচু করো - (৩১:১৯)

৩৮। ঘৃণার কারণে নিজেকে অন্যায় করতে দিও না - (৬:১০৮)

৩৯। অন্যের কাছ থেকে খুব বেশি অনুগ্রহ চাইবে না - (২:২৭৩)

৪০। অন্যের ঘরে প্রবেশ করার সময় সালাম দিও - (২৪:২৭)

৪১। সৎ হও, এমনকি আত্মীয় বা নিজের বিরুদ্ধেও - (৪:১৩৫)

৪২। ভদ্রভাবে কথা বল, এমনকি কাফেরদের নেতাদের সাথেও - (২০:৪৪)

৪৩। অন্যের ছোট অবদানের সমালোচনা কোরো না - (৯:৭৯)

৪৪। অন্যদেরকে যেভাবে ডাকো নবী (সাঃ)কে সেভাবে ডেকো না - (২৪:৬৩)

৪৫। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করো - (৪:১২৮)

৪৬। নবী (সাঃ)কে কখনই তার ঘরের বাইরে থেকে ডাকবে না - (৪৯:৪)

৪৭। দুর্নীতি ও নিপীড়ন হত্যার চেয়েও জঘন্য পাপ - (২:২১৭)

৪৮। অন্যকে বুদ্ধিমত্তা এবং ভাল পদ্ধতিতে শিক্ষা দাও - (১৬:১২৫)

৪৯। প্রমাণ ছাড়া অন্যদেরকে অনৈতিকতার অভিযোগ করবে না - (২৪:৪)

৫০। নবী (সাঃ) এর স্ত্রীদেরকে তোমাদের মায়ের মত মনে কোরো - (৩৩:৬)

৫১। নিজ কণ্ঠস্বর নবী (সাঃ) এর কণ্ঠের উপরে তুলবে না - (৪৯:২)

৫২। না জেনে কাউকে কাফের বলবে না - (৪:৯৪)

৫৩। কারো ঘরে প্রবেশ করার আগে অনুমতি নিও - (২৪:৫৯)

৫৪। খারাপের বদলা ভালোর দ্বারা দাও; শত্রু পরম বন্ধুতে পরিণত হবে - (৪১:৩৪)

৫৫। অসহায়দের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না - (৪:২৯)

৫৬। অহংকারী মানুষদের থেকে নিজেকে ফিরিয়ে নিও না - (৩১:১৮)

৫৭। অন্যকে ক্ষমা করো, যেমন তুমি চাও যে আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুক - (২৪:২২)

৫৮। নবী (সাঃ) এর সমাবেশ থেকে বের হওয়ার সময় তার অনুমতি নিও - (২৪:৬২)

৫৯। পাপের জন্য গোপন বৈঠক কোরো না, বরং নিষ্ঠা/ভক্তির জন্য কোরো - (৫৮:৯)

৬০। নিজে ভালো কাজ করতে ভুলে গিয়ে অন্যকে তা করার আদেশ দিও না - (২:৪৪)

৬১। নিজ শিক্ষকের সাথে ধৈর্য ধরো এবং তার নির্দেশাবলী অনুসরণ করো - (১৮:৬৭ - ৬৯)

৬২। যারা তোমার দিকে আসে তাদের ভ্রুকুটি করো না, মুখ ফিরিয়ে নিও না, বা অবহেলা কোরো না - (৮০:১০)

৬৩। যদি কোন গরীবকে সাহায্য করতে না পারো, অন্তত সুন্দর করে কথা বলো - (১৭:২৮)

৬৪। নিজ অধীনস্থদের প্রতি নম্র হও এবং সমস্যায় তাদের সাথে পরামর্শ করো - (৩:১৫৯)

৬৫। তথ্যের উপর কাজ করার আগে একটি খাঁটি উৎস থেকে তথ্যটা যাচাই করো - (৪৯:৬)

৬৬। খাবারের পর অপ্রয়োজনীয়ভাবে নবী (সাঃ) এর ঘরে অবস্থান করবে না - (৩৩:৫৩)

৬৭। যাদের সামর্থ আছে, তাদের উচিত কম ভাগ্যবানদের খরচ চালিয়ে যাওয়া - (২৪:২২)

৬৮।অনুমতি ছাড়া কারো বাড়িতে প্রবেশ কোরো না এবং প্রবেশ প্রত্যাখ্যান করলে ফিরে আসবে - (২৪:২৭ - ২৮)

৬৯। যারা ধর্ম নিয়ে উপহাস করে তাদের সাথে বোসো না যতক্ষণ না তারা বিষয় পরিবর্তন করে - (৪:১৪০)

৭০। ক্ষমা করা অভ্যাসে পরিণত করো, নেকির আদেশ করো, ও মূর্খদের অবহেলা করো - (৭:১৯৯)

৭১। প্রয়োজন হলে নবী(সাঃ)এর স্ত্রীদের জিজ্ঞাসা করো - (৩৩:৫৩)

৭২। নিজের স্ত্রীকে রেখে কষ্ট দেওয়ার পরিবর্তে নম্রভাবে তালাক দাও - (২:২৩১)

৭৩। ভারসাম্য ভাবে শাস্তি দাও যেভাবে তুমি আঘাত পেয়েছো অথবা ধৈর্য ধারণ করো - (১৬:১২৬)

৭৪। ভাষা ও বর্ণের পার্থক্য আল্লাহর নিদর্শন, এর অর্থ কোন প্রকার শ্রেষ্ঠত্ব নয় – (৪৯:১৩)

৭৫। ক্ষমতা বা বলপ্রয়োগ করে কোনো নারীকে গ্রহণ কোরো না, প্রকৃত কারণ ছাড়া বিয়ের উপহার ফিরিয়ে নিও না এবং তাদের সাথে সদয়ভাবে বসবাস করো - (৪:১৯)




শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫

ঈমান ও ইসলাম

শনিবার, আগস্ট ০৯, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে

ঈমান ও ইসলাম (ইতিক্বাদ নামা পুস্তুকের অনুবাদ) লেখে মাওলানা জিয়াউজিন খাকলদ আল বাগদাদী (আল্লাহ িায়াোর রহমিপ্রাপ্ত তবখযাি আকেম, তিতন সেে লেকে োকমে, ধমীয় বযাপাকর িার অসাধারন জ্ঞান, নযায় তবচাকরর েমিা রকয়কে এবং তিতন সিয পরায়ন)





শুক্রবার, ২৩ মে, ২০২৫

আর রাহীকুল মাখতূম: একটি অনবদ্য সীরাত-গ্রন্থ

শুক্রবার, মে ২৩, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে
আর রাহীকুল মাখতূম: একটি অনবদ্য সীরাত-গ্রন্থ। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত পর্যালোচনায়, সীরাতের ঘটনামালার সুসংহত ও মনোজ্ঞ উপস্থাপনায় বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি সত্যিই এক নজিরবিহীন রচনা। আল কুরআনুল কারীম, হাদীসে নববী ও বিশুদ্ধ আছার এবং ঐতিহাসিক বর্ণনার নির্যাস বের করে প্রাজ্ঞ লেখক তাঁর এ বইটি সুবিন্যস্ত করেছেন। সীরাতবিষয়ে লিখিত প্রাচীন গ্রন্থাদি থেকেও তিনি বহু মণিমাণিক্য উপস্থাপন করেছেন যা ত্রুটিরহিত সংক্ষিপ্ততায়, সুখপাঠ্য দীর্ঘ আলোচনায়, অত্যন্ত চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। সে হিসেবে, বইটি, বন্ধ্যাত্বের এই আধুনিক যুগে পূর্ণাঙ্গ ও পর্যাপ্ত তথ্যসমৃদ্ধ হয়ে পাঠকের সামনে হাজির হয়েছে। বইটি নির্ভরযোগ্যতার সর্বোচ্চ মানদণ্ড রক্ষা করে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সীরাত উপস্থাপন করেছে, যা পাঠকের সামনে উজ্জ্বল করে দেয় সীরাতুল মুস্তাকীমের নিশানাসমগ্র। দেখিয়ে দেয় সীরাতুন্নাবী পাঠের সঠিক পদ্ধতি। এসব কারণে রাবেতায়ে আলামে ইসলামী কর্তৃক সীরাতুন্নবী গ্রন্থ-প্রতিযোগিতায় যুক্তিযুক্তভাবেই বইটি প্রথমস্থান অধিকার করে ১২৯৬ হি.সালে।

   



বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫

বেসামরিক নাগরিকদের উপর হামলা এবং কাফিরদের উপর ব্যাপক হামলার বিধান

বুধবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৫ 0
বার দেখা হয়েছে

সামরিক-বেসামরিক বলতে কী বোঝায়

  

সামরিক-বেসামরিক বলতে কী বোঝায়?

আমাদের আলোচ্য বিষয় বুঝতে হলে সর্বপ্রথম জানতে হবে সামরিক ও বেসামরিক বলতে কী বুঝায়? বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে কোনো দেশের সামরিক নাগরিক বলতে বোঝায় যারা সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য এবং দেশ রক্ষার কাজে নিয়োজিত তারা, এমনিভাবে যারা সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তারাও সামরিক। আর বাকি সাধারণ নাগরিক যারা রয়েছে তারা সবাই হলো বেসামরিক নাগরিক। এরা পুরুষ হোক নারী হোক, বৃদ্ধ বা শিশু হোক, সুস্থ-সবল হোক দুর্বল হোক অথবা অসুস্থ হোক, যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলে কিংবা কোনো সামরিক বাহিনীতে না থাকলে বেসামরিক বলেই গণ্য হয়। কিন্তু ইসলাম কি সামরিক-বেসামরিকের এই কনসেপ্ট গ্রহণ করেছে? বর্তমানে প্রচলনে সামরিক-বেসামরিক বলতে যেটা বোঝানো হয় সেটা কি মুসলিমরা মানতে বাধ্য? অসম্ভব, কখনোই নয়। ইসলাম স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বতন্ত্র দীন। ইসলামী শরীয়তে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে, যুদ্ধের সময় কাদেরকে হত্যা করা যাবে এবং কাদেরকে হত্যা করা যাবে না? আমাদের ফুকাহায়ে কিরাম কোন্ পরিস্থিতিতে কাকে হত্যা করা যাবে এবং কোন্ পরিস্থিতিতে কাকে হত্যা করা যাবে না তার সবকিছু নিয়েই খুলে খুলে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ইসলামেরও একটি নিজস্ব সামরিক-বেসামরিক সংজ্ঞা রয়েছে। এজন্য আমাদের প্রথমে জানতে হবে ইসলামের দৃষ্টিতে সামরিক কারা এবং বেসামরিক কারা? যুদ্ধের সময় কাদেরকে হত্যা করা যাবে এবং কাদেরকে হত্যা করা যাবে না? মূলত ফিকহের বড় বড় প্রায় সব কিতাবেই 'কিতাবুস সিয়ার' বা 'কিতাবুল জি হা দে' কাফেরদের মধ্যে কাদেরকে যুদ্ধের সময় হত্যা করা যাবে এবং কাদেরকে হত্যা করা যাবে না এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তবে অল্প জায়গায় খোলাসা উল্লেখ করে সবচেয়ে চমৎকার আলোচনা করেছেন ইমাম আলাউদ্দীন আল কাসানী রহিমাহুল্লাহ তার কালজয়ী ও অনবদ্য গ্রন্থ বাদায়িউস সানায়ি'তে। তিনি বলেন,

[فصل في بيان من يحل قتله من الكفرة ومن لا يحل] وأما بيان من يحل قتله من الكفرة ومن لا يحل، فنقول: الحال لا يخلو إما أن يكون حال القتال، أو حال ما بعد الفراغ من القتال، وهي ما بعد الأخذ والأسر؛


أما حال القتال فلا يحل فيها قتل امرأة ولا صبي، ولا شيخ فان، ولا مقعد ولا يابس الشق، ولا أعمى … ولو قاتل واحد منهم قتل، وكذا لو حرض على القتال، أو دل على عورات المسلمين، أو كان الكفرة ينتفعون برأيه، أو كان مطاعا، وإن كان امرأة أو صغيرا؛ لوجود القتال من حيث المعنى.


وقد روي «أن ربيعة بن رفيع السلمي – رضي الله عنه – أدرك دريد بن الصمة يوم حنين، فقتله وهو شيخ كبير كالقفة، لا ينفع إلا برأيه، فبلغ ذلك رسول الله – صلى الله عليه وسلم – ولم ينكر عليه»


والأصل فيه أن كل من كان من أهل القتال يحل قتله، سواء قاتل أو لم يقاتل، وكل من لم يكن من أهل القتال لا يحل قتله إلا إذا قاتل حقيقة أو معنى بالرأي والطاعة والتحريض، وأشباه ذلك على ما ذكرنا…

অর্থঃ “অধ্যায়: যেসব কা*ফেরকে হ*ত্যা করা জায়েয এবং যাদের হ*ত্যা করা জায়েয নয়ঃ


এ সম্পর্কে আমরা বলব, এক্ষেত্রে দুটি অবস্থা। যুদ্ধরত অবস্থা এবং যুদ্ধ থেকে ফারেগ হওয়ার পর গ্রেফতার ও বন্দী করা অবস্থা।


যুদ্ধ চলাকালে নারী, শিশু, অতিশয় বৃদ্ধ, বিকলাঙ্গ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং অন্ধকে… হ*ত্যা করা জায়েয নেই। তবে এদের কেউ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলে তাকে হ*ত্যা করা হবে। এমনিভাবে যদি তাদের কেউ যুদ্ধে উৎসাহ দেয়, মুসলমানদের বিপক্ষে গোয়েন্দাগিরি করে, কা*ফেররা তার মতামত দ্বারা লাভবান হয় অথবা সে অনুসরণীয় (নেতৃস্থানীয়) হয় -হোক সে নারী বা শিশু- (তাহলে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলেও) পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার কারণে তাকেও হ*ত্যা করা হবে।


এক বর্ণনায় এসেছে, হযরত রবিআ ইবনে রাফি আসসুলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু হুনাইন যুদ্ধের দিন দুরাইদ ইবনে সিম্মাহকে বাগে পেয়ে হত্যা করেন। অথচ তখন সে ছিল ক্ষীণকায় ও অতিশয় বৃদ্ধ। তার বুদ্ধি-পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে উপকৃত হওয়ার পথ তাদের ছিল না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি কোন আপত্তি করেননি।


এক্ষেত্রে মূলনীতি হল, যে কেউ যুদ্ধ করার উপযুক্ত, সে যুদ্ধ করুক বা না করুক- তাকে হ*ত্যা করা জায়েয। আর যে যুদ্ধের উপযুক্ত নয়, তাকে হ*ত্যা করা নাজায়েয। তবে যদি তারা সরাসরি যুদ্ধে আসে অথবা বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে, কিংবা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হওয়ার কারণে কিংবা উৎসাহ প্রদান প্রভৃতির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে লড়াইয়ে অংশ নেয়, তাহলে (সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলেও) তাদেরকে হ*ত্যা করা জায়েয। (বাদায়িউস সানায়ি’: ৯/৩৩৮-৩৪৮, প্রকাশনীঃ দারুল হাদীস)


এটাই হলো, ইসলামের সামরিক বেসামরিক কনসেপ্ট। ইসলাম অন্যদের থেকে ধার করে চলে না। অর্থাৎ ইসলামে সামরিক তারাই যারা যুদ্ধ করতে সক্ষম, সে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করুক বা না করুক। পক্ষান্তরে যারা যুদ্ধে অক্ষম তারাই হল বেসামরিক। যেমন নারী, শিশু, অতি বৃদ্ধ, এমন পাদ্রী যে সারাজীবন শুধু গির্জাতেই পড়ে থাকে এবং সাধারণ মানুষের সাথে মিশে না, এমন রোগাক্রান্ত ব্যক্তি যার পক্ষে কোনোভাবেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। তবে এ ধরণের ব্যক্তিরাও যদি যেকোনোভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তাহলে তাদেরকেও  হত্যা করা যাবে। এমনিভাবে যদি তারা এমন মেধাবী হয় যাদের দ্বারা যুদ্ধের কাজে সাহায্য নেওয়া যায় কিংবা পরামর্শ নেওয়া যায় অথবা সে সমাজের নেতা বা অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হয় তাহলে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলেও তাদেরকে হত্যা করা যাবে। এটাই ইসলামের সামরিক-বেসামরিক কনসেপ্ট। ফিকহের বড় বড় সব কিতাবেই এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সকল দলীল ও রেফারেন্স একত্র করতে গেলে বিশাল একটি গ্রন্থ হয়ে যাবে। তাই আপাতত সামান্য কয়েকটি উদাহরণ দেখুন,

আল হিদায়াঃ ২/৩৪০-৩৪১,প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল ফাতাহ (কম্পিউটার নুসখা) , আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়্যাহঃ ২/২১১, বাবু কাইফিয়্যাতিল কিতাল, প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল ইত্তিহাদ (দেওবন্দ), তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিমঃ ৩/৩৫-৩৬, প্রকাশনীঃ মাকতাবাতু দারিল উলুম, করাচী)


পাঠক লক্ষ্য করে দেখুন, বর্তমানে প্রচলিত সামরিক-বেসামরিক কনসেপ্টের সাথে ইসলামী শরীয়তের সামরিক-বেসামরিক কনসেপ্টের বিশাল পার্থক্য। এই সহজ বিষয়টা অনেকেই  তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। প্রচলিত অর্থে বেসামরিক নাগরিক হলেই ইসলাম তাদেরকে হত্যা করতে নিষেধ করে এমন অনর্থক ও ফালতু কথা অনেক বড় বড় ব্যক্তিদেরকেও বলতে শোনা যায়! ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অথচ এটা ইসলামী শরীয়তের একটি প্রসিদ্ধ মাসআলা। ফিকহের একজন সাধারণ থেকে সাধারণ তালিবুল ইলমেরও এই মাসআলা হল (সমাধান) থাকা দরকার ছিলো! অথচ আমাদের পরিচিত ভালো ভালো মেধাবী বড় ভাইদেরও এক্ষেত্রে পদস্খলনের শিকার হতে দেখা যাচ্ছে। و إلى الله المشتكى


যাইহোক, এটা হলো স্বাভাবিক অবস্থার কথা। অর্থাৎ, ইচ্ছাকৃতভাবে কাদেরকে টার্গেট করে হত্যা করা যাবে এবং কাদেরকে হত্যা করা যাবে না তাদের আলোচনা। কিন্তু যদি কাফের নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ এমনকি মুসলিমরাও একত্রে একটা অঞ্চলে বা একটা জায়গায় থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে হামলা করা জায়েয আছে কি-না? অর্থাৎ আমরা নিশ্চিত যে হামলা করলে অনেক নারী শিশু এমনকি মুসলিমও মারা যেতে পারে এটা জানা সত্ত্বেও তাদেরকে টার্গেট না করে সেই অঞ্চলে বা জায়গায় ব্যাপক হামলা করা যাবে কি-না?


এক্ষেত্রে প্রথমেই আমরা উপমহাদেশের অন্যতম মান্যবর আলেম মুফতী তাকী উসমানী হাফিযাহুল্লাহর বক্তব্য তুলে ধরছি! তিনি তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিমে একটি হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন,

" لا بأس إذن في إصابة النساء و الصبيان. و ليس المراد إباحة قتلهم بطريق القصد إليهم، بل المراد: إذا لم يمكن الوصول إلى الآباء إلا بوطأ الذرية، فإذا أصيبوا لاختلاطهم بهم جاز قتلهم...

و به يؤخذ حكم قذف القنابل في زماننا, فإنه يجوز إذا لم يقصد بها النساء و الصبيان. بل أريد بها النكاية في العدو. فإن أصيب بها النساء و الصبيان من غير قصد فلا بأس بها."

অর্থঃ এমন অবস্থায় (অর্থাৎ হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী মুশরিকদের উপরে রাতে ব্যাপক ও অতর্কিত হামলার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে) নারী এবং শিশুদের হত্যা করলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এর উদ্দেশ্য এই নয় যে, তাদেরকে টার্গেট করে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা বৈধ। বরং উদ্দেশ্য হলো, যদি শিশুদেরকে হত্যা করা ছাড়া বড়দেরকে হত্যা করা সম্ভব না হয়, তাহলে একত্রে মিশে থাকার কারণে তাদেরকে হত্যা করা  হলে তা বৈধ হবে।...

এ থেকে আমাদের যুগে বোমা নিক্ষেপ করার হুকুম গ্রহণ করা যায়। কেননা, নারী ও শিশুদেরকে সরাসরি টার্গেট না করলে তা বৈধ রয়েছে। বরং, এক্ষেত্রে যদি উদ্দেশ্য হয় শত্রুকে পরাস্ত করা এবং এক্ষেত্রে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে নারী ও শিশুদেরকে হত্যা করা হয় তাহলে কোনো সমস্যা নেই। (তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিমঃ ৩/৩৫)


বক্তব্য একদম পরিষ্কার। ইসলামী শরীয়তে দৃষ্টিতে যারা বেসামরিক অর্থাৎ যাদেরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করে হত্যা করা বৈধ নয় তারাও যদি সামরিকদের সাথে (যাদেরকে ইসলামের দৃষ্টিতে সরাসরি যুদ্ধ না করলেও হত্যা করা বৈধ তাদের সাথে) একত্রে মিশে থাকে তাহলে তাদের উপরে ব্যাপকভাবে হামলা করা বৈধ। এতে যদি ইসলামের দৃষ্টিতে বেসামরিক নাগরিক মারাও যায় তাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে শর্ত হলো তাদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করে হত্যা করা যাবে না। এই মাসআলাটাও একদম প্রসিদ্ধ, গ্রহণযোগ্য ও স্বীকৃত মাসআলা। এমনকি ফুকাহায়ে কিরাম সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এমন অবস্থায় যদি কোনো মুসলিম বন্দি বা ব্যবসায়ীও কাফেরদের মাঝে থাকে তবুও ব্যাপকভাবে হামলা করা বৈধ আছে‌। এমনকি যদি তারা মুসলিমদেরকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে তাহলে সেক্ষেত্রে আগে মুসলিমকে হত্যা করে তারপর তাদেরকে হত্যা করা বৈধ। তবে উদ্দেশ্য থাকবে কাফেররা। মুসলিমরা উদ্দেশ্য থাকবে না। পরবর্তীতে এই হত্যার কারণে কোনো ধরনের কিসাস বা দিয়ত (রক্তপণ) আসবে না। আহলুল ইলম ও তালিবুল ইলমদের উদ্দেশ্যে ইমাম মারগীনানী রহিমাহুল্লাহর হিদায়ার ইবারত তুলে ধরছি,

" ولا بأس برميهم وإن كان فيهم مسلم أسير أو تاجر " لأن في الرمي دفع الضرر العام بالذب عن بيضة الإسلام وقتل الأسير والتاجر ضرر خاص ولأنه قلما يخلو حصن من مسلم فلو امتنع باعتباره لانسد بابه " وإن تترسوا بصبيان المسلمين أو بالأسارى لم يكفوا عن رميهم " لما بينا " ويقصدون بالرمي الكفار " لأنه إن تعذر التمييز فعلا فلقد أمكن قصدا والطاعة بحسب الطاقة. (الهداية: كتاب السير، باب كيفية القتال، ٣/٤٣٩)

আরো দেখুন,

শরহু মুখতাসারিত তহাবীঃ ৭/২১-২২, আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়্যাহঃ ২/২১০, বাদায়িউ সানায়ি': ৩/৩৪৭-৩৪৮


যাইহোক, এ ব্যাপারে সব হাওয়ালা দিতে গেলে পোস্ট আর পোস্ট থাকবে না! কিতাবে পরিণত হয়ে যাবে। পরিশেষে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহর চমৎকার আলোচনা উল্লেখ করছি,


المحرم إنما هو قصد قتلهن فأما إذا قصدنا قصد الرجال بالإغارة أو نرمي بمنجنيق أو فتح شق أو إلقاء نار فتلف بذلك نساء أو صبيان لم نأثم بذلك لحديث الصعب بن جثامة أنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن أهل الدار من المشركين يبيتون فيصاب الذرية فقال “هم منهم” متفق عليه ولأن النبي صلى الله عليه وسلم رمى أهل الطائف بالمنجنيق مع أنه قد يصيب المرأة والصبي وبكل حال فالمرأة الحربية غير مضمونة بقود ولا دية ولا كفارة لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يأمر من قتل المرأة في مغازيه بشيء من ذلك فهذا ما تفارق به المرأة الذمية


 وإذا قاتلت المرأة الحربية جاز قتلها بالاتفاق لأن النبي صلى الله عليه وسلم علل المنع من قتلها بأنها لم تكن تقاتل فإذا قاتلت وجد المقتضى لقتلها وارتفع المانع. اهـ


“নিষেধ হল- ইচ্ছাকৃত টার্গেট বানিয়ে মহিলাদের হ*ত্যা করা। সুতরাং যদি আমরা পুরুষদের উদ্দেশ্যে বা কোন অঞ্চল বিজয়ের জন্য অতর্কিত আক্রমণ করি বা মিনজানিক (প্রাচীন ক্ষেপণাস্ত্র) দিয়ে আগুন ইত্যাদি নিক্ষেপ করি, ফলে কিছু নারী বা শিশু ধ্বংসের শিকার হয়, এ কারণে আমরা গুনাহগার হব না। কেননা, সা’ব ইবনে জাসসামা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে এসেছে, তিনি মু*শরিকদের ভূমিতে অতর্কিত আক্রমণের ফলে নিহত শিশুদের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘ওরা ওদের (মু*শরিকদের)-ই অন্তর্ভুক্ত’। (সহীহ বুখারী ও সহীহ ‍মুসলিম)। এছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফ বাসীর উপর মিনজানিক হামলা করেছেন। অথচ এর দ্বারা অনেক সময় নারী-শিশু আক্রান্ত হয়ে থাকে।


সর্বোপরি কথা হল, হা*রবী মহিলার কোন কিসাস, দিয়ত বা কাফফারার বিধান নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুদ্ধসমূহে কোন ব্যক্তি কোন মহিলাকে হ*ত্যা করে থাকলে, তিনি তাকে এসব কিছুর হুকুম দেননি। এটাই হা*রবী ও যিম্মি নারীর পার্থক্য।


হা*রবী মহিলা যদি লড়াইয়ে লিপ্ত হয়, তাহলে সকলের ঐকমত্যে তাকে হ*ত্যা করা জায়েয। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হ*ত্যা করা নিষেধ হওয়ার কারণ এই বলেছেন যে, ‘সে তো কি*তাল করে না’। সুতরাং যখন সে কি*তালে লিপ্ত হবে, তখন হত্যার উপযুক্ত কারণ পাওয়া গেল এবং নিষেধাজ্ঞার কারণ বিলুপ্ত হয়ে গেল …।” –আসসারিমুল মাসলূল: ১০৪


যাইহোক বিষয়টি একদম সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার।  এখানে জলঘোলা করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি বিপরীত দাবী করে তাহলে তাকে আমরা বলবো,

هاتوا برهانكم ان كنتم صادقين



ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png