শিরোনাম
Loading latest headlines...

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯

ইসলামে-গোসলের-নিয়ম

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৭, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে


গোসল মানে পবিত্র পানি দ্বারা সমস্ত শরীর ভালোভাবে ধৌত করা। ইসলামে গোসল ৩ প্রকার  যথাঃ  
  • ফরজ গোসল
  •  সুন্নাত গোসল
  • মুস্তাহাব গোসল।
     আজ আমরা জানবো-
  • গোসল কখন ফরজ হয়
  • কখন গোসল করা সুন্নাত
  • কখন গোসল করা মুস্তাহাব
  • গোসলের ফরজ গুলো কি কি
  • গোসলের সুন্নাত গুলো কি কি
  • গোসলের মুস্তাহাব গুলো কি কি

   গোসল কখন ফরজ হয়

      এমন কিছু কারণ আছে যেগুলোর জন্য অবশ্যই গোসল করতে হবে বা গোসল করা ফরজ। এগুলো হলো-
  • স্বপ্নদোষ, যৌন উত্তেজনা বা অন্যকোন কারণে ইচ্চাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত বীর্যপাত হলে (পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্য প্রযোজ্য)।
  • স্ত্রীর সাথে গুপ্তাঙ্গের মাধ্যমে যৌন মিলন করলে বীর্যপাত হোক বা না হোক (স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের জন্য প্রযোজ্য)।
  • মেয়েদের হায়েজ ও নিফাস বন্ধ হলে গোসল করা ফরজ।

   কখন গোসল করা সুন্নাত

    সাধারণত ৪ টি উদ্দেশ্যে গোসল করা সুন্নাত। যথা-
  • শুক্রবার জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে গোসল করা সুন্নাত।
  • ঈদুর আযহা ও ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্য। অর্থাৎ দুই ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে।
  • হজ্জ করার পূর্বে ইহরাম বাঁধার উদ্দেশ্য গোসল করা।
  • হজ্জ শেষে আরাফার দিনে সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পরে গোসল করা সুন্নাত।

কখন গোসল করা মুস্তাহাব

বিভিন্ন কারণে গোসল করা মুস্তাহাব। যেসব কারণে গোসল করা মুস্তাহাব তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলোঃ-
  • কোন অমুসলিম মুসলমান হওয়ার পর গোসল করা মুস্তাহাব। তবে যদি সে অপবিত্র থাকে তাহলে গোসল করা ফরজ।
  • নাবালক বা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর।
  • মানসিক রোগী সুস্থ হওয়ার পর।
  • অজ্ঞান ব্যক্তির জ্ঞান ফেরে আসার পর।
  • নেশাকারী ব্যক্তির নেশা দূর হলে।
  • বগল ও গুপ্তাঙ্গের লোম কাটার পর।
  • শবে কদর বা শবে বরাতে ইবাদাতের পূর্বে।
  • মক্কা বা মদিনা শরীফে প্রবেশের জন্য।
  • গুনাহ হতে তওবা করার জন্য
  • বিপদ – আপদ ও মুসিবতের সময় নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে গোসল করা মুস্তাহাব।

ইসলামে গোসলের নিয়ম – কানুন

ইসলাম একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। সেই হিসাবে ইসলামে গোসলের নিয়ম – কানুন রয়েছে। এই বিধি-বিধানগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথাঃ গোসলের ফরজ, গোসলের সুন্নাত, গোসলের মুস্তাহাব। নিচে এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ-

গোসলের ফরজগুলো কি কি

গোসলের ফরজ ৩ টি যথাঃ-
  1. কুলি করা। উত্তমরূপে কুলি করার জন্য গড় গড়াসহ কুলি করতে হবে। তবে রোজা থাকা অবস্থায় গড় গড়া করার প্রয়োজন নেই।
  2. নাকে পানি দেওয়া। নাকে এমনভাবে পানি দিতে হবে যেন নাকের নরম হাড় পর্যন্ত পানি যায়।
  3. সমস্ত শরীর ভালোভাবে ধৌত করা। শরীর এমনভাবে ধৌত করতে হবে যেন সুঁচ পরিমাণ জায়গা শুকনা না থাকে।
যে ব্যক্তির উপর গোসল ফরজ হয়েছে তাকে অবশ্যই এই তিনটি শর্ত যথাযথভাবে পালন করতে হবে। অন্যথায় তার গোসল আদায় হবে না।

গোসলের সুন্নাতগুলো কি কি?

গোসলের উল্লেখ্যযোগ্য সুন্নাতগুলো হলো-
  • দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত ধোয়া।
  • লজ্জাস্থান পরিষ্কার করা।
  • গোসলের পূর্বে অজু করা।
  • কাপড় বা শরীরের কোন স্থানে নাপাক কিছু লেগে থাকলে গোসলের আগে তা পরিষ্কার করা।
  • গোসলখানায় পানি বা কাদা বা ময়লা জমে থাকলে এক পাশে বা দূরে গিয়ে পা ধৌত করা।
  • সমস্ত শরীর ৩ বার ধৌত করা।

গোসলের মুস্তাহাবগুলো কি কি

  • গোসল করার জন্য নিয়ত করা।
  • গোসল করার জন্য ঠিক যতটুকু পানি প্রয়োজন ততটুকু ব্যবহার করা।
  • শরীরকে ভালোভাবে ঘোঁষে গোসল করা।
  • পর্দার আড়ালে বা কেউ যেন না দেখে এমনভাবে গোসল করা।
  • গোসলের সময় অযথা কারো সাথে কথা না বলা।
  • বিনা প্রয়োজনে গোসলে কারো সাহায্য না নেওয়া।
  • গোসল শেষে সমস্ত শরীরের পানি মুছে ফেলা।
গোসলের মাধ্যমে শরীর অপবিত্র থেকে পবিত্র হয়। এছাড়া এর মাধ্যমে শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। শরীর পরিষ্কারের জন্যে সাবান, শ্যাম্পু বা অন্য যেকোন পরিষ্কারক দ্রব্য ব্যবহার করা যাবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঠিক নিয়মে গোসল করার তৌফিক দান করুন। আমিন


বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৯

বই: মুক্তবাসিনী-2 (বেপর্দা ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনের বিষফল এবং সত্যাশ্রয়ী বিশ্লেষণ)

বুধবার, নভেম্বর ০৬, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে

যুগের চাহিদা ও প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে কলম ধরাই একজন লেখকের প্রধান কর্তব্য। সেই কর্তব্যবোধ থেকেই এই ব্যতিক্রমধর্মী লেখার উপস্থাপনা। অবশ্য এক হিসেবে এটাকে ব্যতিক্রমধর্মীও বলা যায় না। কেননা, বর্তমান সময়ে বেপর্দা, উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার, প্রেম, পরকীয়া, খুন, ধর্ষণের যে চিত্র মহামারী আকারে আত্মপ্রকাশ করেছে তাতে কারও বসে থাকার সুযোগ খুব কম। প্রত্যেককে যার যার অবস্থানে থেকে এ ব্যাপারে কাজ চালিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবি। এই অনুভূতিবোধ তো আছেই, সেই সঙ্গে আমার মাথায় কাজ করেছে আরেকটি বিষয়। সেটি হলো, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতকে নারীজাগরণের পথিকৃত বলা হয়। তার বড় কৃতিত্ব (?) ছিল পর্দাদ্রোহ! তিনি যে সময়ের মানুষ ছিলেন সে সময়টায় রক্ষণশীলতা কথাটা বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হতো। মুসলিম পরিবারগুলোও ছিল রক্ষণশীলতার প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল। স্বয়ং রোকেয়াও জন্মগ্রহণ করেছিলেন একটি রক্ষণশীল পরিবারে। কিন্তু রক্ষণশীলতা আর পর্দার বিরুদ্ধে তিনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। লড়াই আর দর্শনটাকে কথা এবং কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কলমের মাধ্যমেও তা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি রচনা করেন ‘অবরোধবাসিনী’ বইটি। স্বতঃস্ফূর্ত পর্দা পালন করতে গিয়ে কোন্ নারী কীভাবে বিড়ম্বনায় পড়ল সে সব কাহিনী তিনি চটকদার শব্দে বিদ্রূপাত্মক ভাষায় প্রকাশ করেছেন। পর্দার বিরুদ্ধে এলিট শ্রেণীর দৃষ্টিতে পর্দার বিরুদ্ধে লেখা তার এই বইটি যেন অনুপ্রেরণার আদর্শ গ্রন্থ! এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এসব লোকেরা পর্দার বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার সহযোদ্ধার দায়িত্ব পালন করে আসছে। এখনও আছে সেই ধারাবাহিকতা। বরং এখন সহযোদ্ধারা আরও শক্তিশালী হয়ে ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে। রোকেয়ার দর্শন ও আবেদনকে নারীর কানে কানে পৌঁছে দিয়ে নারীকে তারা ঘর ছাড়া করতে চাইছে।
তাদের এই সর্বনাশা পদক্ষেপ নারী জাতির কী পরিমাণ ধ্বংসসাধন করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নারী জাতি আজ দিকহারা ভ্রান্তপথিক, তাদের ইজ্জত-সম্ভ্রম ধূলোয় লুটোপুটি খায়। আজ তারা পালকহীন পাখির মতো, যার সম্ভ্রমটুকু কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে ফেলে রাখা হয়েছে পথে-ঘাটে, বাজারে, মার্কেটে। সরলতাকে পুঁজি বানিয়ে একেকজন একেকভাবে তাদেরকে ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক চক্র তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ধ্বংস করছে, চতুর ‘বণিকেরা’ তাদেরকে সস্তা পণ্য বানিয়ে মুনাফা করছে, লম্পটেরা বক্রপথে কামনা চরিতার্থ করছে আর এক শ্রেণীর মানুষ ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো কিছু না পেয়েই লাফাচ্ছে। কিছু না পাওয়া এই শ্রেণীই বেশি ভয়ানক। এদের মায়াকান্নাতেই নারীরা পঙ্গপালের মতো আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে। নিজের হাতে রচনা করছে নিজেদের ধ্বংসের পথ।
ছদ্মবেশী এসব দুশমনের অকল্যাণ থেকে নারী জাতিকে সতর্ক করার প্রয়াস হিসেবেই ‘মুক্তবাসিনী’ বইটি লেখা। এতে সমসাময়িক যে সব নারকীয়, দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়ে গেছে, সে সব ঘটনা উল্লেখ করে এর সত্যাশ্রয়ী বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনার অনেকগুলো এত মর্মান্তিক, যা পাঠক হৃদয়ে বেদনার ঝড় তুলবে বলে আমি মনে করি। কারণ, হৃদয় বলে যে শক্তি আছে সেই শক্তিও অনেক সময় নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় কোনও কোনও ঘটনার নির্মমতায়। এই অভিজ্ঞতা আমার আপনার সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
ডাউনলোড লিংক: মুক্তবাসিনী-২
মুক্তবাসিনী – ১





বই: মুক্তবাসিনী-১ (বেপর্দা ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনের বিষফল এবং সত্যাশ্রয়ী বিশ্লেষণ)

বুধবার, নভেম্বর ০৬, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে

যুগের চাহিদা ও প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে কলম ধরাই একজন লেখকের প্রধান কর্তব্য। সেই কর্তব্যবোধ থেকেই এই ব্যতিক্রমধর্মী লেখার উপস্থাপনা। অবশ্য এক হিসেবে এটাকে ব্যতিক্রমধর্মীও বলা যায় না। কেননা, বর্তমান সময়ে বেপর্দা, উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার, প্রেম, পরকীয়া, খুন, ধর্ষণের যে চিত্র মহামারী আকারে আত্মপ্রকাশ করেছে তাতে কারও বসে থাকার সুযোগ খুব কম। প্রত্যেককে যার যার অবস্থানে থেকে এ ব্যাপারে কাজ চালিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবি। এই অনুভূতিবোধ তো আছেই, সেই সঙ্গে আমার মাথায় কাজ করেছে আরেকটি বিষয়। সেটি হলো, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতকে নারীজাগরণের পথিকৃত বলা হয়। তার বড় কৃতিত্ব (?) ছিল পর্দাদ্রোহ! তিনি যে সময়ের মানুষ ছিলেন সে সময়টায় রক্ষণশীলতা কথাটা বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হতো। মুসলিম পরিবারগুলোও ছিল রক্ষণশীলতার প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল। স্বয়ং রোকেয়াও জন্মগ্রহণ করেছিলেন একটি রক্ষণশীল পরিবারে। কিন্তু রক্ষণশীলতা আর পর্দার বিরুদ্ধে তিনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। লড়াই আর দর্শনটাকে কথা এবং কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কলমের মাধ্যমেও তা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি রচনা করেন ‘অবরোধবাসিনী’ বইটি। স্বতঃস্ফূর্ত পর্দা পালন করতে গিয়ে কোন্ নারী কীভাবে বিড়ম্বনায় পড়ল সে সব কাহিনী তিনি চটকদার শব্দে বিদ্রূপাত্মক ভাষায় প্রকাশ করেছেন। পর্দার বিরুদ্ধে এলিট শ্রেণীর দৃষ্টিতে পর্দার বিরুদ্ধে লেখা তার এই বইটি যেন অনুপ্রেরণার আদর্শ গ্রন্থ! এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এসব লোকেরা পর্দার বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার সহযোদ্ধার দায়িত্ব পালন করে আসছে। এখনও আছে সেই ধারাবাহিকতা। বরং এখন সহযোদ্ধারা আরও শক্তিশালী হয়ে ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে। রোকেয়ার দর্শন ও আবেদনকে নারীর কানে কানে পৌঁছে দিয়ে নারীকে তারা ঘর ছাড়া করতে চাইছে।
তাদের এই সর্বনাশা পদক্ষেপ নারী জাতির কী পরিমাণ ধ্বংসসাধন করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নারী জাতি আজ দিকহারা ভ্রান্তপথিক, তাদের ইজ্জত-সম্ভ্রম ধূলোয় লুটোপুটি খায়। আজ তারা পালকহীন পাখির মতো, যার সম্ভ্রমটুকু কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে ফেলে রাখা হয়েছে পথে-ঘাটে, বাজারে, মার্কেটে। সরলতাকে পুঁজি বানিয়ে একেকজন একেকভাবে তাদেরকে ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক চক্র তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ধ্বংস করছে, চতুর ‘বণিকেরা’ তাদেরকে সস্তা পণ্য বানিয়ে মুনাফা করছে, লম্পটেরা বক্রপথে কামনা চরিতার্থ করছে আর এক শ্রেণীর মানুষ ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো কিছু না পেয়েই লাফাচ্ছে। কিছু না পাওয়া এই শ্রেণীই বেশি ভয়ানক। এদের মায়াকান্নাতেই নারীরা পঙ্গপালের মতো আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে। নিজের হাতে রচনা করছে নিজেদের ধ্বংসের পথ।
ছদ্মবেশী এসব দুশমনের অকল্যাণ থেকে নারী জাতিকে সতর্ক করার প্রয়াস হিসেবেই ‘মুক্তবাসিনী’ বইটি লেখা। এতে সমসাময়িক যে সব নারকীয়, দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়ে গেছে, সে সব ঘটনা উল্লেখ করে এর সত্যাশ্রয়ী বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনার অনেকগুলো এত মর্মান্তিক, যা পাঠক হৃদয়ে বেদনার ঝড় তুলবে বলে আমি মনে করি। কারণ, হৃদয় বলে যে শক্তি আছে সেই শক্তিও অনেক সময় নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় কোনও কোনও ঘটনার নির্মমতায়। এই অভিজ্ঞতা আমার আপনার সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
ডাউনলোড লিংক: মুক্তবাসিনী-১
মুক্তবাসিনী – ১





বইঃ দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম

বুধবার, নভেম্বর ০৬, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে

বই: যাকাত অধ্যায়

আল্লাহ তা‘আলা আশরাফুল মাখলূকাত তথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানব জাতিকে তাদের সার্বিক জীবন পরিচালনার জন্য ইসলামকে একমাত্র দ্বীন হিসাবে মনোনীত করেছেন; যা পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত; এর অন্যতম স্তম্ভ হল যাকাত। শ্রেষ্ঠ ইবাদত ছালাতের পরেই যাকাতের স্থান। কুরআনুল কারীমের অধিকাংশ জায়গায় আল্লাহ তা‘আলা ছালাতের পরেই যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। ছালাত যেমন ফরয ইবাদত এবং তা অস্বীকারকারী কাফির; যাকাত তেমনি ফরয ইবাদত এবং তা অস্বীকারকারী কাফির। ছালাত যেমন মানুষকে যাবতীয় অশ্লীলতা ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে; যাকাত তেমনি মানুষকে কৃপণতার কালিমা থেকে মুক্ত করে, অর্জিত সম্পদকে পরিচ্ছন্ন ও পরিশুদ্ধ করে এবং অবৈধ ধনলিপ্সা দূর করে। অতএব যাকাতের বিধান ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে, যা আদায় করা সামর্থ্যবান সকলের উপর ফরয। আর এটাই দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান মাধ্যম। প্রত্যেক সমাজের ধনী ব্যক্তিরা যদি পূর্ণ মাত্রায় তাদের সম্পদের যাকাত বের করে এবং স্ব-স্ব সমাজের গরীবদের মাঝে সুষ্ঠু বণ্টন করে, তাহলে সমাজ থেকে দরিদ্রতা মুছে যাবে। সাথে সাথে গড়ে উঠবে মুসলমানদের পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধের শক্ত প্রাচীর। আর এর মাধ্যমেই ইহলৌকিক জীবনে নেমে আসবে অনাবিল শান্তি এবং পরলৌকিক জীবনে অর্জিত হবে জান্নাতের অফুরন্ত নে‘আমত।
বইটিতে কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর আলোকে যাকাতের যাবতীয় বিধি-বিধান সুন্দরভাবে আলোচিত হয়েছে।


Download



বই: সহীহ আত-তিরমিযী

বুধবার, নভেম্বর ০৬, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে
বই: সহীহ আত-তিরমিযী
হাদীস গ্রন্থগুলোর মধ্যে জামি’ আত-তিরমিযী অন্যতম। হাদীস গ্রন্হ গুলোর মধ্যে জামি’ পর্যায়ের হাদীসগ্রন্থ দুটির মধ্যে এটি একটি এবং অন্যটি হলো সহীহ বুখারী। প্রখ্যাত ছয়টি হাদীস গ্রন্থগুলোর মধ্যে তৃতীয় স্থানের অধিকারী। এই হাদীস গ্রন্থটি সম্পর্কে ইমাম তিরমিযী বলেন, যার ঘরে এই কিতাবখানি থাকবে, মনে করা যাবে যে, তার ঘরে স্বয়ং নবী (সা) অবস্থান করছেন ও নিজে কথা বলছেন।
বইটি কয়েকটি প্রকাশনী হতে বাংলা ভাষায় অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এর তাহক্বীক সহ প্রকাশ করা হয় নি। হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী এ ব্যাপারে এগিয়ে এসেছে। এর তাহক্বীক করেছেন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী। অনুবাদ করেছেন হুসাইন বিন সোহরাব ও শাইখ মো: ঈসা মিঞা বিন খলিলুর রহমান।
বইটির অনন্য বৈশিষ্ট্য:
1. এটিতে জামি আত-তিরমিযী’র শুধুমাত্র সহীহ হাদীসগুলো সংকলিত হয়েছে। তাহক্বীক শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ) থেকে নেয়া হয়েছে।
2. হাদীস সম্পর্কিত ইমাম তিরমিযী’র মতামতও সংরক্ষিত রয়েছে।
3. একই হাদীস অন্য গ্রন্থে থাকলে তাও উল্লেখ করা হয়েছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে নম্বরও দেয়া হয়েছে।
4. শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী কোন গ্রন্থ হতে তাহক্বীক নেয়া হয়েছে তাওউল্লেখ করা হয়েছে। যেমন সিলসিলাহ সহীহাহ, ইরওয়াউল গালীল, আল কালিমুত তায়্যিব, সহীহুল জামে, রাওযুন নাযীর, তালীকুল রাগীব প্রভৃতি।
5. হাদীস উল্লেখিত কুরআনের আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে কুরআনের সূরা ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।
6. একই হাদীসের কোন অংশ সহীহ ও কোন অংশ যইফ তাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ডাউনলোড:





যদি সিজদায় ঘুমিয়ে পড়েন ??

বুধবার, নভেম্বর ০৬, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে

 যদি সিজদায় ঘুমিয়ে পড়েন
প্রশ্ন : কিছুদিন আগে আমাদের মহল্লার একজন লোক ফজরের নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সিজদায় ঘুমিয়ে পড়েন। ইমাম সালাম ফিরালে শব্দ শুনে তিনি সিজদা থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে সালাম ফিরিয়ে নেন, তাঁর ওই নামাজ কি সহিহ হয়েছে?
—আবদুল্লাহ, মুরাদনগর, কুমিল্লা।
উত্তর : লোকটির নামাজ হয়নি। কারণ শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পরিমাণ বসা ফরজ। এই ফরজ আদায় না হওয়ায় তাঁর নামাজ নষ্ট হয়ে গেছে। তাঁকে আবার ওই নামাজ পড়ে নিতে হবে।
সূত্র : কিতাবুল আসাল : ১/২০৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/৫১; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা : ১/৯২; আততাজনিস ওয়াল মাজিদ : ১/৪৫২; শরহুল
মুনায়া পৃষ্ঠা ৪৫৫



ইসলামে যাদের সঙ্গে বিয়ে বৈধ নয়

বুধবার, নভেম্বর ০৬, ২০১৯ 0
বার দেখা হয়েছে
ইসলামে যাদের সঙ্গে বিয়ে বৈধ নয়
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বংশ পরম্পরায় মানব প্রজন্মকে দুনিয়ায় টিকিয়ে রেখে দুনিয়াকে আবাদ রাখার জন্য বিবাহ বন্ধনকে বৈধ করেছেন। এটাকে আল্লাহ তাআলার একটা গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সিস্টেম। এ ছাড়া বিবাহের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন গঠন করা নবীদেরও সুন্নত।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّن قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً الرعد: ٣٨
অর্থাৎ, নিশ্চয় আপনার পুর্বে অনেক রাসুলকে প্রেরণ করেছি। আমি তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করেছি। (সুরা রা’দ ৩৮)
বিশ্বনবী মুহাম্মদ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদর্শ। আমাদের জীবনে আমরা কোন কাজ কিভাবে করব রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেটি দেখিয়ে দিয়ে গেছেন।
হাদীস শরীফে এসেছে:
عن أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ جَاءَ ثَلَاثَةُ رَهْطٍ إِلَى بُيُوتِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْأَلُونَ عَنْ عِبَادَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا أُخْبِرُوا كَأَنَّهُمْ تَقَالُّوهَا فَقَالُوا وَأَيْنَ نَحْنُ مِنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ قَالَ أَحَدُهُمْ أَمَّا أَنَا فَإِنِّي أُصَلِّي اللَّيْلَ أَبَدًا وَقَالَ آخَرُ أَنَا أَصُومُ الدَّهْرَ وَلَا أُفْطِرُ وَقَالَ آخَرُ أَنَا أَعْتَزِلُ النِّسَاءَ فَلَا أَتَزَوَّجُ أَبَدًا فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِمْ فَقَالَ أَنْتُمْ الَّذِينَ قُلْتُمْ كَذَا وَكَذَا أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لَأَخْشَاكُمْ لِلَّهِ وَأَتْقَاكُمْ لَهُ لَكِنِّي أَصُومُ وَأُفْطِرُ وَأُصَلِّي وَأَرْقُدُ وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীদের বাড়ীতে তিনজন লোক আসল। তারা রাসুল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইবাদাত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করল-তার ইবাদাত কেমন ছিল? তারা রাসুল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইবাদাত সম্পর্কে তাদেরকে জানালে তারা সেটাকে খুবই কম মনে করলেন। তারা বললেন: কোথায় নবী (মর্যাদার দিক থেকে) আর কোথায় আমরা? কারণ, আল্লাহ তাআলা নবীজী রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পুর্ব ও পরবর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের একজন বলল: আমি এখন থেকে সর্বদা সারারাত নামাজ পড়ব। দ্বিতীয়জন বলল: আমি এখন থেকে আজীবন (সাওমে দাহর) রোজা রাখতে থাকব। রোজা ভাঙ্গবো না। তৃতীয়জন বলল: আমি নারী সংগ থেকে দূরে থাকব আজীবন, বিবাহ করব না কখনো। অতঃপর রাসুল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে এসে বললেন: তোমরা এমন সব কথা বলছিলে! জেনে রাখ! আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের থেকে আল্লাহকে অনেক বেশী ভয় করি। এতদসত্ত্বেও আমি রোজা রাখি আবার রোজা ছেড়ে দিই, নামাজ পড়ি, ঘুমাই এবং বিবাহ করি। যে ব্যক্তি আমার এ সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে সে আমার উম্মত নয়। (বুখারী )
রাসুল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاء
হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যকার যে সামর্থবান সে যেন বিবাহ করে। কেননা, তা তার দৃষ্টি নিম্নগামী রাখতে ও লজ্জাস্থানকে হেফাজত করায় সহায়ক হয়। আর যে বিবাহের সামর্থ রাখে না, সে যেন (তার পরিবর্তে) রোজা রাখে। কেননা, তা তার জন্য ঢালস্বরূপ (অনেক অপরাধ হতে রক্ষা করে)। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারেমী, নাসায়ী, মুসনাদে আহমদ)
এবার আসুন! আমরা দেখে নিই কাদেরকে বিবাহ করা বৈধ এবং কাদেরকে বিবাহ করা বৈধ নয়।
আল্লাহ তায়ালা এ সম্বন্ধে কুরআন মজীদে বলেন:
অর্থাৎ, তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা,কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধমাতা, দুধ বোন, শাশুড়ী, দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে এমন স্ত্রীর অন্য ঘরের যে কন্যা তোমার লালন পালনে আছে; যদি তাদের সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত না হয় তাহলে, তাকে বিবাহ করাতে দোষ নেই। এ ছাড়া তোমাদের ঐরসজাত পুত্রের স্ত্রী, ও একত্রে দুই সহদরা বোনকে বিবাহাধীনে রাখা। তবে, আয়াত নাযিলের পুর্বে যা হয়ে গেছে তা আলাদা। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর (শরীয়ত সম্মত পন্থায় প্রাপ্ত) ক্রীতদাসী ব্যতিত বিবাহিতা (যে অন্যের বিবাহাধীনে আছে) মহিলাদেরকেও তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে। এদের বাইরে যে কোন (মুসলিম বা আহলে কিতাব) মহিলাকে তোমাদের জন্য বিবাহ করা বৈধ করা হয়েছে। এটা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট। (সুরা নিসা: ২৩-২৪)
যে সমস্ত মহিলাদেরকে বিবাহ করা হারাম তাদেরকে দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
• স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ মহিলা : তারা তিন শ্রেণীর।
ক.বংশগত কারণে নিষিদ্ধ: তারা হচ্ছেন- ১. মাতা
২. দাদী
৩. নানী
৪. নিজের মেয়ে, ছেলের মেয়ে, মেয়ের মেয়ে যত নিচেই যাক না কেন।
৫. আপন বোন, বৈমাত্রেয় বোন ও বৈপিত্রেয় বোন।
৬. নিজের ফুফু, পিতা, মাতা, দাদা, দাদী, নানা ও নানীর ফুফু।
৭. নিজের খালা, পিতা, মাতা, দাদা, দাদী, নানা ও নানীর খালা।
৮. আপন ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় ভাই ও তাদের অধঃতন ছেলেদের কন্যা।
৯. আপন বোন, বৈমাত্রেয় বোন ও বৈপিত্রেয় বোন ও তাদের অধঃতন মেয়েদের কন্যা।
খ. দুগ্ধ সম্বন্ধীয় কারণে নিষিদ্ধ:
বংশগত কারণে যাদেরকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ দুগ্ধ সম্বন্ধের কারণেও তারা নিষিদ্ধ। তবে, শর্ত হচ্ছে-
গ. বৈবাহিক সম্বন্ধের কারণে নিষিদ্ধ: ১. পিতা, দাদা ও নানা (যতই উপরে যাক না কেন) যাদেরকে বিবাহ করেছেন।
২. কোন পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হোক বা না হোক উক্ত পুরুষের পুত্র-পোত্র বা প্রপোত্রের সাথে মহিলার বিবাহ নিষিদ্ধ।
৩. কোন পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হোক বা না হোক উক্ত পুরুষের পিতা-দাদা বা নানার সাথে মহিলার বিবাহ নিষিদ্ধ।
৪. শাশুড়ী। মহিলার সাথে বিবাহ হলেই তার মাতা ও দাদী বা নানী হারাম হয়ে যাবে। দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হোক বা না হোক।
৫. স্ত্রীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হলেই তার কন্যা, তার পুত্রের কন্যা ইত্যদি হারাম হয়ে যাবে।
• সাময়িক ভাবে নিষিদ্ধ মহিলা:
সাময়িক কারণে কখনো কখনো মহিলাকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ হয়ে থাকে। উক্ত কারণ দূর হয়ে গেলে তাকে বিবাহ করা বৈধ হবে।
১. কোন মহিলাকে বিবাহ করলেই তার আপন বোন, ফুফু, খালাকে বিবাহ করা হারাম গণ্য হবে। তবে, তাকে যখন তালাক দিয়ে দেবে কিংবা, স্বামী মারা যাবে এবং সে ইদ্দত শেষ করবে, তখন তাকে সে বিবাহ করতে পারবে।
২. যে মহিলা অন্যের বিবাহাধীনে ছিল। তাকে স্বামী তালাক দিয়েছে কিংবা মারা গেছে এবং সে ইদ্দত পালন করছে; এমতাবস্থায় তাকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ। ইদ্দত শেষ হয়ে গেলেই বিবাহ করতে পারবে।
অনেকে জিজ্ঞাসা করে থাকেন যে,খালাতো,মামাতো,ফুফাতো বা চাচাতো বোনকে বিবাহ করা যাবে কিনা?
তার উত্তর হচ্ছে- আসলে আল্লাহ তায়ালা উপরোক্ত আয়াতে যাদের সাথে বিবাহ করা নিষিদ্ধ সকলের কথাই বলে দিয়েছেন। খালাতো,মামাতো,ফুফাতো বা চাচাতো বোন তাদের মধ্যকার কেউ নন। অতএব, তাদেরকে বিবাহ করা বৈধ।
এমনকি, চাচা মারা গেলে বা তালাক দিয়ে দিলে চাচীকে বিবাহ করার বৈধতাও ইসলাম দিয়েছে। তবে, তাদেরকে বিবাহ করবেন কি করবেন না সেটা আপনার ইচ্ছা।
পুরুষরা যেসব নারীকে বিয়ে করতে পারবে না : পুরুষরা এমন ১৪ শ্রেণির নারীর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে, যাদের সঙ্গে তাদের বিয়ে নিষিদ্ধ :
 (১) মা। 
(২) আপন দাদি, নানি ও তাঁদের ঊর্ধ্বতন নারীরা। 
(৩) সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন। 
(৪) আপন মেয়ে, ছেলের মেয়ে, মেয়ের মেয়ে ও তাদের গর্ভজাত যেকোনো কন্যাসন্তান ও আপন ছেলে-সন্তানদের স্ত্রী। 
(৫) যে স্ত্রীর সঙ্গে দৈহিক মিলন সংঘটিত হয়েছে, তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বামীর কন্যাসন্তান এবং স্ত্রীর মা অর্থাৎ শাশুড়ি, নানি শাশুড়ি ও দাদি শাশুড়ি। 
(৬) ফুফু অর্থাৎ পিতার সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন। 
(৭) খালা অর্থাৎ মায়ের সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন। 
(৮) ভাতিজি অর্থাৎ সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাইয়ের মেয়ে ও তাদের অধস্তন কন্যাসন্তান। 
(৯) ভাগ্নি অর্থাৎ সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে ও তাদের অধস্তন কন্যাসন্তান। 
(১০) দুধসম্পর্কীয় মেয়ে, মেয়ের মেয়ে, ছেলের মেয়ে ও তাদের অধস্তন কোনো কন্যাসন্তান এবং দুধসম্পর্কীয় ছেলের স্ত্রী। 
(১১) দুধসম্পর্কীয় মা, খালা, ফুফু, নানি, দাদি ও তাদের ঊর্ধ্বতন নারীরা। 
(১২) দুধসম্পর্কীয় বোন, দুধ বোনের মেয়ে, দুধ ভাইয়ের মেয়ে এবং তাদের গর্ভজাত যেকোনো কন্যাসন্তান। (১৩) যৌনশক্তিহীন এমন বৃদ্ধা, যার প্রতি পুরুষের কোনো প্রকার আকর্ষণ নেই। 
(১৪) অপ্রাপ্তবয়স্ক এমন বালিকা, যার প্রতি পুরুষের যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হয় না। 
উল্লেখ্য, ১৩ ও ১৪ নম্বরে বর্ণিত মেয়েদের সঙ্গে বিবাহ জায়েজ আছে। উপরোক্ত নারীরা ছাড়া পুরুষের জন্য অন্য কোনো নারীর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ জায়েজ নয়। (সুরা : নিসা : ২৩, তাফসিরে মাজহারি : ২/২৫৪, মাআরিফুল কোরআন : ২/৩৫৬-৩৬১)
যেসব পুরুষের সঙ্গে নারীদের বিয়ে বৈধ নয় : নারী এমন ১৪ শ্রেণির পুরুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে, যাদের সঙ্গে তাদের বিয়ে নিষিদ্ধ : (১) পিতা, দাদা, নানা ও তাঁদের ঊর্ধ্বতন পুরুষরা। (২) সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই। (৩) শ্বশুর, আপন দাদা শ্বশুর ও নানা শ্বশুর এবং তাঁদের ঊর্ধ্বতন পুরুষরা। (৪) ছেলে, ছেলের ছেলে, মেয়ের ছেলে ও তাদের ঔরসজাত পুত্রসন্তান। (৫) স্বামীর অন্য স্ত্রীর গর্ভজাত পুত্র। (৬) ভাতিজা অর্থাৎ সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাইয়ের ছেলে ও তাদের অধস্তন কোনো ছেলে। (৭) ভাগিনা অর্থাৎ সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোনের ছেলে ও তাদের অধস্তন কোনো ছেলে। (৮) চাচা অর্থাৎ বাপের সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই। (৯) মামা অর্থাৎ মায়ের সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই। (১০) দুধসম্পর্কীয় ছেলে, ছেলের ছেলে, দুধসম্পর্কীয় মেয়ের ছেলে ও তাদের ঔরসজাত যেকোনো পুত্রসন্তান এবং দুধসম্পর্কীয় মেয়েদের স্বামী। (১১) দুধসম্পর্কীয় বাপ, চাচা, মামা, দাদা, নানা ও তাঁদের ঊর্ধ্বতন পুরুষ। (১২) দুধসম্পর্কীয় ভাই, দুধ ভাইয়ের ছেলে, দুধ বোনের ছেলে এবং তাঁদের ঔরসজাত যেকোনো পুত্রসন্তান। (১৩) যৌনশক্তিহীন এমন বৃদ্ধ, যার নারীদের প্রতি কোনো আকর্ষণ নেই এবং তার প্রতি নারীদেরও কোনো আকর্ষণ নেই। (১৪) অপ্রাপ্তবয়স্ক এমন বালক, যার এখনো যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হয়নি। উল্লেখ্য, ১৩ ও ১৪ নম্বরে বর্ণিত পুরুষদের সঙ্গে বিয়ে জায়েজ আছে।
নারীর জন্য উপরোক্ত পুরুষেরা ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা জায়েজ নয়। সুতরাং চাচাতো ভাই, খালাতো ভাই, ফুফাতো ভাই, মামাতো ভাই, দেবর, ভাসুর, খালু, ফুফা, চাচাতো শ্বশুর, উকিলবাপ, ধর্মবাপ, ধর্মভাই, দুলাভাই, বেয়াই, ননদের জামাই প্রমুখের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা হারাম এবং তাদের সঙ্গে বিয়েশাদি জায়েজ। স্ত্রীর বর্তমানে বা তার ইদ্দতের সময় তার বোনকে বিয়ে করা হারাম। (সুরা : নূর : ৩১, তাফসিরে মাজহারি : ৬/৪৯৭-৫০২, মাআরিফুল কোরআন : ৬/৪০১-৪০৫, হেদায়া : ২/৩০৭, ফাতহুল কাদির : ২/১১৭)






ফটো গ্যালারী

1/6
ওহুদ যুদ্ধ - হযরত মহাম্মদ (সা:) এর বিপ্লবী জীবন
2/6
মুসলিম নারীর বিধান
3/6
ইসলামি অর্থনীতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা
4 / 6
ইসলামীক জিজ্ঞাসাঃ লাঠি হাতে নিয়ে জুমার খুতবা দেয়া কি সুন্নত?
5/6
মসজিদে নববী যিয়ারতের কিছু আদব-কায়দা
6/6
উম্মাতে মুসলিমার দায়িত্ব

Islam-icon Profile.png